১ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল২বাংলাদেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতি৩নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি৪সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রম
“
“ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত জাতীয় নীতি নেই। যদিও একটি ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ শহর নির্মাণে এ ধরনের একটি সমন্বিত জাতীয় নীতি প্রণয়ন আবশ্যক।” – গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিকভাবে তিনটি প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল—সিলেট-ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-আরাকান ফল্ট এবং মধুপুর ফল্টের মধ্যে অবস্থান করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হতে পারে। তাই ভূমিকম্প মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
বড় ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটুকু: বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি অত্যন্ত দুর্বল। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ হলো- অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জরুরি সেবার দুর্বলতা, সচেতনতার অভাব ইত্যাদি। এর জন্য দরকার বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, সিসমিক ম্যাপিং, উদ্ধার কর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিকল্পনা ইত্যাদি। বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকা। ঢাকার অধিকাংশ ভবন রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের নিয়মানুযায়ী নির্মিত নয়। এর ফলে এসব ভবন বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হলে সহজেই ধসে পড়বে। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও অনেক ভবন সহ্য করতে পারবে না। যার ফলে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকায় অনেক পুরোনো ভবন রয়েছে, যেগুলোর নির্মাণকাল অনেক আগের। এ ধরনের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনে অত্যন্ত অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং কোনো শক্তিশালী কম্পনে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। আমাদের দেশের ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতার অভাবও ব্যাপক।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতি
“
“সবার আগে ভূমিকম্পে সচেতনতা জরুরি। ঢাকা শহরে বেশিরভাগ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য ভবনগুলো ভূমিকম্প নিরোধক কিংবা মজবুত করা প্রয়োজন। ভূমিকম্পের সময় নিজেকে নিরাপদ রাখার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে শুকনো খাবার, পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ করা দরকার।” – ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব অঞ্চলের মাটির গঠন এবং পাহাড়ি এলাকার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ভূমিকম্পের সময় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করে। ঢাকা শহরও এই ঝুঁকির বাইরে নয়। কারণ এটি একটি সিল্টি বেসিনের ওপর অবস্থিত। ভূমিকম্প হলে এ এলাকার মাটি সহজেই কম্পনের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছোট পরিসরে হলেও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি বেশকিছু হালকা ও মাঝারি ধরনের ভূকম্পন এ ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। তাই ভূমিকম্প মোকাবিলায় বাংলাদেশের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিচে বাংলাদেশের ভূমিকম্পজনিত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হলো-
নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি
- ১নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি: বাংলাদেশে ২০১২ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের মাধ্যমে ভূমিকম্পসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য একটি সুসংগঠিত নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
- ২বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়: ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের তদারকি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় সংস্থার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি গ্রহণের ব্যবস্থা করার সময় এখনই।
- ৩ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স: ভূমিকম্পের সময় দ্রুত উদ্ধার কাজ ও আহতদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও রেসকিউ অপারেশনের জন্য কর্মীদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে তারা বহুতল বা জটিল ভবন থেকে নিরাপদে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হন।
- ৪ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নীতি: বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুযায়ী ২০০৬ সাল থেকে নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনগুলিকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ডিজাইন ও নির্মাণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এখনো নীতি এড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
- ৫পুরনো ভবন সংস্কার ও শক্তিশালীকরণ: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে চিহ্নিত করে, সেগুলির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পর্যাপ্ত বাজেট, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও হাসপাতাল নিরাপদ থাকে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে হবে সকলকেই।
- ৬সেতু ও ফ্লাইওভার: মহাসড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভারগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ প্রকৌশল নিরীক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে সেগুলিকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, বিশেষ করে ঢাকার ফ্লাইওভারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা দরকার।
- ৭উদ্ধার ও চিকিৎসা টিম: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবী দলের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার ও চিকিৎসা টিম ভূমিকম্পের সময় দ্রুত উদ্ধার অভিযান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সিমুলেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও দক্ষতা অর্জনের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
- ৮প্রাথমিক চিকিৎসা ও আশ্রয়কেন্দ্র: ভূমিকম্পের পর অবিলম্বে আহত রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য প্রতিটি হাসপাতালে জরুরি ইউনিট ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিকেল স্টাফ এবং প্রাথমিক খাদ্য ও পানীয় সহ অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
- ৯জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা: ভূমিকম্পের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও রেডিও যোগাযোগ ব্যাহত হলে বিকল্প স্যাটেলাইট ফোন, HF রেডিও ও অন্যান্য ব্যাকআপ সিস্টেম স্থাপনের পাশাপাশি ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে জরুরি অবস্থায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে।
- ১০স্কুল, কলেজ ও অফিসে মহড়া: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ভূমিকম্পকালীন নিরাপত্তা মহড়ার মাধ্যমে ‘ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড’ কৌশল শেখানো হয়, যা শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সঠিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
- ১১সচেতনতামূলক প্রচারণা: টেলিভিশন, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে ভূমিকম্প প্রতিরোধ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা দরকার, যাতে জনগণ বিপদের মুহূর্তে সচেতন ও প্রস্তুত থাকে।
- ১২ভূমিকম্প সতর্কীকরণ ব্যবস্থা: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরকে আধুনিক সেন্সর, স্যাটেলাইট, ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে সতর্কবার্তা প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে, এবং গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নির্ভুল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা দরকার।
- ১৩ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্বাসন: ভূমিকম্পের পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অবিলম্বে জরিপ ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে, তাৎক্ষণিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা, বিশেষ ঋণ সুবিধা ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশদ পরিকল্পনা করা আবশ্যক।
- ১৪আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণ: বৃহৎ ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ, রেড ক্রস ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা গ্রহণের জন্য পূর্বনির্ধারিত চুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে বিদেশি রেসকিউ টিম ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সাহায্যে স্থানীয় উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রম
বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রম: ভূমিকম্প সহনীয় স্থাপনা নির্মাণ এবং ভূমিকম্প সহনশীল নগরায়ণে সরকার কাজ করছে। ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভূমিকম্পসহ সব দুর্যোগের সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের করণীয় নির্ধারণ ও দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি, ২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর অধীন দুর্যোগকালীন কার কী করণীয় তা নিরূপণ করা হয়েছে। উক্ত নীতিমালার অধীন উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। উক্ত স্থায়ী আদেশাবলির অধীন মাঠ পর্যায়ে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যন্ত অংশীজনের করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে মোতাবেক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অধিকন্তু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে জরুরি প্রতিক্রিয়া সংস্থাগুলোর জন্য জাতীয় কন্টিনজেন্সি প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুমোদন লাভ করেছে। ইতোমধ্যে ভূমিকম্পপরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধারস্ত সরঞ্জাম ক্রয়পূর্বক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি হলেও, এখনও প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়। ভূমিকম্পে ক্ষতি নিরসনে মানুষকে সচেতন করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্কুলভিত্তিক নানা কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো যায়। প্রতিটি কমিউনিটিতে প্রচার চালাতে যেতে পারে। যেহেতু ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, তাই সচেতনতাই আমাদের একমাত্র সমাধান। ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ করা না গেলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। ভূমিকম্প ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ তার সক্ষমতা প্রমাণ করবে- সেটাই আশা।
আরও পড়ুন
- সুনীল অর্থনীতি কী? বাংলাদেশের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও সরকারি উদ্যোগ→
- হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা ও জীবনমান উন্নয়নের উপায়→
- বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার→
- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের নিয়ামকসমূহ→
- ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক: বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য কাঠামো→
