● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

দারিদ্র্য বিমোচন: সরকার ও এনজিওর গৃহীত পদক্ষেপ | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

দারিদ্র্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, যা মানুষকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত করে। এই পোস্টে দারিদ্র্য বিমোচনের সংজ্ঞা এবং সরকার ও এনজিওর গৃহীত পদক্ষেপগুলো পাবেন, যা এই প্রশ্নের দুটি রূপ—‘সরকার’ ও ‘সরকার ও এনজিও’—দুটোতেই কাজে লাগবে।

দারিদ্র্য হল একটি সামাজিক সমস্যা যা বিশ্বের বহু দেশকে গ্রাস করে আছে। দারিদ্র্য মানুষের জীবনযাত্রার মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। দারিদ্র্যের কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় না। তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান, নিরাপত্তা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হয়।

দারিদ্র্য বিমোচন: দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে অর্থনৈতিক ও মানবিক এমন কতগুলো পদক্ষেপের সমষ্টি যা মানুষকে স্থায়ী ভাবে দারিদ্র্যের হাত থেকে তুলে আনতে প্রচেষ্টা চালায়। হেনরি জর্জ দারিদ্র্য বিমোচনের কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেছেন তার ‘উন্নতি ও দারিদ্র্য’ গ্রন্থে। তবে দারিদ্র্য বিমোচন কেবল নির্দিষ্ট কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি ফল। দরিদ্র জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোও দারিদ্র্য বিমোচনের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশ ও দারিদ্র্য বিমোচন: অনুন্নত ও তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশসমূহের বিশেষ করে বাংলাদেশের অনুন্নয়নের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। দারিদ্র্যের দিক থেকে শীর্ষ স্থানীয় ১৩টি দেশের একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান বিশ্বে ‘দারিদ্র্য বিমোচন’ (Poverty Alleviation) একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্যের হার: (উৎস – অর্থনৈতিক সমীক্ষা)

জরিপ বছর দারিদ্র্যের হার অতি দারিদ্র্যের হার
জরিপ ২০০০ ৪৮.৯ ৩৪.৩
জরিপ ২০০৫ ৪০ ২৫.১
জরিপ ২০১০ ৩১.৫ ১৭.৬
জরিপ ২০১৬ ২৪.৩ ১২.৯
জরিপ ২০২২ ১৮.৭ ৫.৬

বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজে পিছিয়ে পড়া সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আর এর মাধ্যমেই বৈষম্যহীন, ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দারিদ্র্য হ্রাসকরণের লক্ষ্য:

দারিদ্র্যের রেখা ২০২১ ২০২২ ২০২৩ ২০২৪ ২০২৫
মধ্যম দারিদ্র্য হ্রাসকরণ
প্রবৃদ্ধি-দারিদ্র্য স্থিতিস্থাপকতা — — ১.২০ ১.২০ ১.২০
দারিদ্র্যের উচ্চ সীমারেখা (জনসংখ্যার %) ২৩.০ ২০.০ ১৮.৫ ১৭.০ ১৫.৬
চরম দারিদ্র্য হ্রাসকরণ
প্রবৃদ্ধি-দারিদ্র্য স্থিতিস্থাপকতা — — ১.৪০ ১.৪০ ১.৪০
দারিদ্র্যের উচ্চ সীমারেখা (জনসংখ্যার %) ১২.০ ১০.০ ৯.১০ ৮.৩০ ৭.৪০

দারিদ্র্য বিমোচনে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হার ছিল ৭২.৪%। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৮.৭%। এই অগ্রগতির পেছনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নিম্নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ

  • সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি: দুঃস্থ, অসহায়, বৃদ্ধ, অক্ষম, বিধবা, এতিম এদের জন্য ভাতা, অবসর ভাতা, ভবিষ্যৎ তহবিল, কল্যাণ তহবিল, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ, মাতৃত্ব সুবিধা প্রভৃতি কার্যক্রম সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।
  • নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি: দেশের অতি দরিদ্র লোকজনের জন্য বাজেটে নিরাপত্তা বেষ্টনী নামে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভিজিডি, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, টি আর ডিপি, জি আর, টি আর প্রভৃতি কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা চলছে।
  • বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি: ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর হতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করা হয়। শুরুতে প্রতি মাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হতো। পর্যায়ক্রমে ভাতাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫৮ লাখ ১ হাজার জন, যারা প্রত্যেকে মাসিক ৬০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।
  • বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত দুঃস্থ মহিলা ভাতা কার্যক্রম: দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনগ্রসর নারীর সামাজিক সুরক্ষা ও তাদের ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা’ কর্মসূচি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৫ লাখ ৭৫ হাজার জন, যারা প্রত্যেকে মাসিক ৫৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।
  • দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা: ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান চালু করা হয়। আগে মাসিক ৫০০ টাকা হারে এ ভাতা প্রদান করা হতো। বর্তমানে দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন মাসিক ভাতা ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ভাতা প্রদানের মেয়াদও ২৪ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৩৬ মাস করা হয়েছে।
  • কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল: ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। আগে একজন মা মাসে ৫০০ টাকা করে ২৪ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা পেতেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছর হতে ভাতার পরিমাণ ও মেয়াদ দুইটেই বৃদ্ধি করা হয়েছে। একজন মা মাসে ৮০০ টাকা করে ৩৬ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা পান।
  • মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা: জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা মাসিক ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
  • অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা: ২০০৫-০৬ অর্থবছরে চালু করা হয় অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৯ লাখ জন উপকারভোগী মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।
  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ উপকারভোগীকে প্রাথমিক স্তরে মাসিক ৯০০ টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৯৫০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৩০০ টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
  • বেসরকারি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট: সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধীকৃত বেসরকারি এতিমখানায় ন্যূনতম ১০ জন এতিম অবস্থানকৃত প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এতিমের লালন পালনের জন্য জনপ্রতি ২ হাজার টাকা হিসেবে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট দেয়া হয়।
  • হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা: ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫,৭৪৫ জন হিজড়াকে সহায়তার লক্ষ্যে ৫.৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
  • বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি: ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাইলট হিসেবে দেশের ৭টি জেলা যথাক্রমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, যশোর, নওগাঁ ও হবিগঞ্জ জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। বর্তমানে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে মোট ৬৪ জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
  • গৃহায়ন তহবিল: দরিদ্র লোকদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য গৃহায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
  • কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি: এ কর্মসূচির অধীনে যখন মানুষের কাজকর্মের অভাব দেখা যায়, তখন সরকার তার বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে দারিদ্র্য লোকদের নিয়োগ করে বিনিময়ে খাদ্য প্রদান করে থাকে।
  • মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম: সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, শিশুদের জন্য দিবযত্ন কেন্দ্র, কর্মজীবী মহিলাদের জন্য বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালিত করছে।
  • শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি: দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের কাজে নিয়োগের পরিবর্তে বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদেরকে বিভিন্ন হারে উপবৃত্তিও প্রদান করা হচ্ছে।
  • আশ্রয়ণ প্রকল্প: চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল সুবিধা এবং আয়ের পথ উন্মুক্ত করার জন্য সরকার এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যেমন- ‘গুচ্ছ গ্রাম’ ‘একটি বাড়ি একটি খামার’।
  • পল্লি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচি: স্থানীয় সরকার ও পল্লিউন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন এ অধিদপ্তর বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে বিশেষ করে পল্লি অঞ্চলে গ্রামীণ সড়ক, গ্রোথ সেন্টার, বাঁধ নির্মাণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এতে করে পল্লি অঞ্চলে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে।
  • একটি ঘর একটি খামার: দারিদ্র্যতা দূরীকরণের জন্য প্রতিটি বাড়িতে একটি খামার গড়ে তোলার নিমিত্তে ২০০৯ সালে একটি খামার একটি বাড়ি প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।
  • আবাসন প্রকল্প: বাংলাদেশের ৬৫ হাজার ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল মহিলাদের জন্য মোট ৬৫৭.২০ কোটি টাকার ব্যয় সম্বলিত আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
  • জিটুপি পদ্ধতিতে ভাতা: সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমানে ভাতাভোগীদের সুবিধার্থে সব ব্যক্তিকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় জিটুপি পদ্ধতিতে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার জন ভাতাভোগী এমএফএস প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’, ‘বিকাশ’ এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে ভাতা গ্রহণ করছে।
  • পল্লি উন্নয়ন একাডেমি: বাংলাদেশ পল্লিউন্নয়ন একাডেমি কুমিল্লা, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী জেলার ১৯টি প্রত্যন্ত থানাসহ ২২টি থানার ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন শ্রমিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
  • সমাজসেবা: দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক সমাজসেবা কার্যক্রম হচ্ছে চালু করা হয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিশু কল্যাণ, গ্রামীণ ও শহর সমাজসেবা, নারী কল্যাণ, হাসপাতাল সমাজসেবা, যুব কল্যাণ, প্রতিবন্ধী কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি কার্যক্রমসমূহ।
  • পল্লিউন্নয়ন বোর্ড (BARD): সমগ্র দেশব্যাপী সমবায় ও group network এর মাধ্যমে ও BRDB বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পল্লিউন্নয়ন বিশেষ করে পল্লি দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম শুরু করেছে। দারিদ্র্যের target group এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র কৃষক, বিত্তহীন পুরুষ, মহিলা, এছাড়া ঋণ প্রশিক্ষণকার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচি।
  • কর্মসংস্থান ব্যাংক: মূলত যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য এই ব্যাংক স্থাপিত হয়। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায় এ ব্যাংক তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যুবকদের এরা স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্য কাজ করছে।
  • সর্বশেষ বলা যায় আমাদের দেশে বর্তমানে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

এনজিওর পদক্ষেপ

দারিদ্র্য বিমোচনে এনজিওগুলোর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ: বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এনজিওগুলোর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করা হলো:

  • পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন: ১৯৯০ সালে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক দারিদ্র্যের ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে আসছে। ঋণ প্রদান কার্যক্রমের মধ্যে ডাঁড়া, নার্সারি, বেতের কাজ, গরু মোটাতাজাকরণ, হাঁসমুরগি পালন, রিকশা ও ভ্যান ক্রয় এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য।
  • BRAC: ১৯৭২ সালে ত্রাণ কার্যক্রমে গঠন করা ব্র্যাক আজ বহুমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণ প্রদান শিশু ও বয়স্কদের জন্য অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, মহিলাদের অধিকার সম্পর্কীয় আইনগত পরামর্শ দান। ডিসেম্বর ৯৮ পর্যন্ত এটি ২৭.৯০ লক্ষ পরিবারকে ঋণ প্রদান করেছে, কয়েক হাজার মহিলাকে ধাত্রীপ্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং কয়েক হাজার প্রাথমিক স্কুল স্থাপন করেছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜