● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

ইপিজেড (EPZ) কী? বাংলাদেশের ইপিজেডসমূহ ও শিল্পোন্নয়নে ভূমিকা | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

ইপিজেড বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এমন একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে ওঠে। এই পোস্টে ইপিজেডের সংজ্ঞা, বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ইপিজেডের তালিকা, লক্ষ্যসমূহ এবং শিল্পোন্নয়নে এর ভূমিকা পাবেন, শুরুতে ‘এক নজরে’ সারাংশসহ।

Export Processing Zone (EPZ) বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হচ্ছে এমন একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল যেখানে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কোনরূপ হস্তক্ষেপ ছাড়াই পণ্য অবতরণ, বহন, উৎপাদন বা পুনঃসংযোজন ও পুনঃরপ্তানি করা যায়। ইপিজেড হচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানাদি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত বিশেষ এলাকা। এই অঞ্চলগুলো সাধারণত বাণিজ্যের জন্য ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক স্থান, যেমন: সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, জাতীয় সীমান্ত – প্রভৃতি এলাকায় গড়ে তোলা হয়। এটি এমন একটি এলাকা যেখানে কয়েকটি দেশ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য বাধাসমূহ কমাতে বা দূর করতে সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও EPZ: বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১৫ এপ্রিল ১৯৮১ তারিখে গঠন করা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ব্যবস্থাপনা ও এগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে।

এক নজরে EPZ:

  • EPZ এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Export Processing Zone.
  • বাংলাদেশের মোট ইপিজেড ১০ টি।
  • বাংলাদেশের চালুকৃত সরকারি ইপিজেড ৮টি।
  • বাংলাদেশের চালুকৃত বেসরকারি ইপিজেড ২টি।
  • বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড চট্টগ্রাম ইপিজেড।
  • দেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড উত্তরা (নীলফামারী) ইপিজেড।
  • ইপিজেড চালু শিল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হচ্ছে পোশাক শিল্পে।
  • EPZ নিয়ন্ত্রিত সংস্থার নাম BEPZA (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)।
  • BEPZA প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৮০ সালে।

বাংলাদেশের ইপিজেডসমূহ:

বাংলাদেশের সরকারি ইপিজেড ৮ টি। এগুলো হলো:-

  1. ১আদমজী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  2. ২ঈশ্বরদী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  3. ৩উত্তরা প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  4. ৪কর্ণফুলী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  5. ৫কুমিল্লা প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  6. ৬চট্টগ্রাম প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  7. ৭ঢাকা প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।
  8. ৮মংলা প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল।

এছাড়াও বাংলাদেশের বেসরকারি ইপিজেড দুইটি। যথা:

  1. ১REPZ (রাঙ্গুনিয়া ইপিজেড)
  2. ২KEPZ (কোরিয়ান ইপিজেড)

ইপিজেড-এর লক্ষ্যসমূহ: ইপিজেড-এর লক্ষ্যসমূহ হলো:

বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবমোচন
দ্রুত শিল্পায়ন বেকারত্ব দূরীকরণ
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি মূলধনের প্রাপ্যতা
প্রযুক্তি হস্তান্তর ত্বরান্বিতকরণ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা রোধ
বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন রপ্তানি সম্প্রসারণ

বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে EPZ এর ভূমিকা: নিম্নে সংক্ষেপে বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে ইপিজেড-এর ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

  • রপ্তানি শিল্পের প্রসার: EPZ গঠনের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পসমূহ নানা ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। ফলে রপ্তানি শিল্পের দ্রুত প্রসার এবং শিল্পোন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে।
  • বিনিয়োগ বৃদ্ধি: ইপিজেড আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করে শিল্পোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
  • বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি: EPZ এ শিল্প স্থাপনাকারীদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়। এতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়।
  • মানব সম্পদ উন্নয়ন: ইপিজেডে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
  • উপযুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা: EPZ এ যেহেতু শিল্পের বা কারখানার উৎপাদনের উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করে, সেহেতু দেশী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসে। ফলে রপ্তানিযোগ্য দ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে।
  • উৎপাদনের মান বৃদ্ধি: ইপিজেডের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
  • মূলধন প্রাপ্তি ও দক্ষ কারিগর: EPZ এর মাধ্যমে আমাদের দেশে বিদেশি মূলধন, উন্নত উৎপাদন কৌশল ও দক্ষ কারিগরদের আগমন ঘটে, যা আমাদের শিল্পোন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়োজন।
  • বিনিয়োগের নিরাপদ এলাকা: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য ইপিজেডকে অধিকতর নিরাপদ এলাকা বলে বিবেচনা করা হয়।
  • কর্মসংস্থান: EPZ এর ফলে প্রচুর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। ফলে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা অনেকটা সমাধান করা সম্ভব হয়।
  • বিনিয়োগ আকর্ষণ: আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ইপিজেড বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করে শিল্পোন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।
  • বৈদেশিক মুদ্রা আয়: EPZ প্রতিষ্ঠার ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।
  • জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি: EPZ এর মাধ্যমে আমাদের দেশীয় শ্রমিকরা বিদেশি দক্ষ শ্রমিকদের সংস্পর্শে দক্ষ হয়ে উঠে ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়।
  • অবকাঠামোগত উন্নয়ন: EPZ প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নতি সাধিত হয়। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত হয়।
  • প্রযুক্তির উন্নতি: ইপিজেডে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সাথে থাকে বিদেশি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। ফলে আমাদের স্থানীয় কারিগররা প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুবিধা পায় এবং দক্ষতা অর্জন করে।
  • নগরায়নে ভূমিকা: EPZ এর কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যেমন- দোকান-পাট, উন্নত হোটেল, পার্ক, সিনেমা হল ও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠে, যা নগরায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
  • শিল্পায়নের পরিবেশ: EPZ এর আশে-পাশে অনেক ছোট ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। ফলে শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত হয়।
  • শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকে বাংলাদেশে আকৃষ্ট করতে একটি ‘ওপেন ডোর নীতি’ গ্রহণ করেছে।

“বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜