● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়—প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার। এই পোস্টে প্রতিটি ধাপের কৌশল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে।

১) প্রতিরোধ (Prevention)

৩) সাড়াদান (Response)

২) পূর্ব প্রস্তুতি (Prepardness)

৪) পুনরুদ্ধার (Recovery)

বাংলাদেশের সকল প্রকার দুর্যোগ প্রশমনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তার যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে পারলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধান চারটি কৌশলসমূহ। নিম্নরূপ:

  1. ১প্রতিরোধ (Prevention): কথায় আছে ‘প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ উত্তম’। প্রাকৃতিক দুর্যোগের করাল গ্রাসে নিঃস্ব হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যাপারে আমরা অনেকটা অসহায়। একে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলা করা খুবই ব্যয়বহুল। এটি অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টকর। অবকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধে স্বল্প ব্যয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ:

ক. বেড়িবাঁধ নির্মাণ: দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে জানমাল রক্ষায় উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। সাধারণত নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে বেশি পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা বেড়িবাঁধের উপর নির্ভর করে। তাই তাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে হবে।

খ. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ: দুর্যোগ হচ্ছে একটি মারাত্মক পরিস্থিতি। দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে সাধারণত ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী, বন্যা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। এসব থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে।

গ. ঘরবাড়ি নির্মাণ পদ্ধতি: ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে যেরকম কাঠের বাড়ি নির্মাণ করা হয় আমাদের দেশে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলেও তেমন বাড়ি নির্মাণ করলে চলবে না। উপকূলীয় ও প্লাবন ভূমি এলাকায় বাড়ির ভিত অনেক উঁচু করে নির্মাণ করতে হবে যেন বন্যার পানি ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। উঁচু স্থানে ও নিরাপদ জায়গায় ঘরবাড়ি তৈরির জন্য পরামর্শ দিতে হবে।

ঘ. নদী খনন: উপকূলীয় নদী প্রচুর পরিমাণে পলি বহন করে। পলির কারণে দিন দিন নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যেসব এলাকা প্রতিবছর বন্যার দ্বারা প্লাবিত হয়ে খাল-বিল, নদ-নদী, পলি-বালি, কাদায় ভরে যায় সেসব এলাকার নদ-নদী খনন বা ড্রেজিং করে নদীর প্রবাহ সচল রাখার ব্যবস্থা করতে হয়, যেন বন্যার সময় নদী বেশি পানি ধারণ করতে পারে।

ঙ. প্রশিক্ষণ প্রদান: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বেশি। যেহেতু দুর্যোগ প্রতিরোধ একটি দুর্যোগ পূর্ববর্তী মোকাবিলা ব্যবস্থা, তাই দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের জনগণকে

পূর্ব থেকেই দুর্যোগের ভয়াবহতা ও দুর্যোগকালীন সময়ে কি কি করণীয় সে সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখতে হবে। জনগণ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত থাকলে দুর্যোগের সময় তাদের করণীয় কী সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।

দুর্যোগ পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ:

  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পূর্বে সংস্কার করা।
  • দুর্যোগ প্রশমনে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি জ্ঞানের উন্নয়ন ঘটানো।
  • প্রয়োজনীয় নথিপত্রের কপি নিরাপদে সংগ্রহ করে রাখা।
  • স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক শনাক্তকরণ স্থাপন ও পানি সেন্সি অ্যালার্ম স্থাপন করা।
  • দুর্যোগের পরে বন্যার পানি যাতে সহজে নেমে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করা।
  • দুর্যোগপ্রবণ এলাকার লাইব্রেরি ও আর্কাইভের জন্য বীমা করে রাখা।

২. প্রস্তুতি (Preparedness):

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো এক প্রকারের ক্ষতিকর প্রাকৃতিক ঘটনা। এতে মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষতি হয়ে থাকে। দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের ব্যবস্থাকে বুঝায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায় তা হলো-

ক. ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতিতে প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করতে হবে। যদি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করা যায় তাহলে দুর্যোগের আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হ্রাস করা যাবে।

খ. দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন: যেহেতু দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে আনা যায় সেহেতু এই মাত্রাকে আরো কমিয়ে আনতে দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা দরকার। দুর্যোগের পূর্বে দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে দুর্যোগের পরবর্তী কার্যক্রম সহজ হয়। তাই এমনভাবে দুর্যোগ পরিকল্পনা করতে হবে যাতে দুর্যোগের পর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী তাদের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে।

গ. সম্পদ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ: দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সম্পদ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণকে দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হয়। এতে জনগণের সম্পদ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়। সরকারি এবং ব্যক্তিগত সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ করা দরকার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে পদক্ষেপসমূহ

  • পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি একত্রে রাখা হয় যেন প্রয়োজনের সময় দ্রুত সরবরাহ করা যায়।
  • স্বেচ্ছাসেবক গ্রুপ তৈরি করে তার সদস্যের নাম ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংরক্ষণ করা। যাতে দুর্যোগকালীন সময়ে এদেরকে কাজে লাগানো যায়।
  • দুর্যোগ মোকাবিলায় যে সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা সাহায্য করতে পারে এমন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও গ্রুপ সমূহের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তালিকা তৈরি করে রাখা। সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করতে হবে।
  • জরুরি প্রয়োজনে অর্থায়ন করা ও বীমার কপি নিরাপদে রাখা।
  • দুর্যোগের সময় ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, পানীয় ইত্যাদির যেন অভাব না পড়ে সেজন্য পূর্বেই এগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

৩. সাড়াদান (Response):

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংগঠনের সময়কালকে সাড়াদান সময়কাল বলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাড়াদানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করা হয়। দুর্যোগের পরপরই সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়াদানের ব্যবস্থা করলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে যায়। সাড়াদানের কার্যক্রমগুলো হলো-

ক. নিরাপদ স্থানে অপসারণ: দুর্যোগের সময় উপকূলের নিচু এলাকা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে নিরাপদ স্থানে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। দুর্যোগকালীন সময়ে এ সকল জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ স্থানে নিতে না পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও জীবজন্তুকে যতটুকু সম্ভব নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে হবে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব হবে।

খ. তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা: দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতিতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে তাদের মাধ্যমে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দুর্যোগের সময় মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় নিজগৃহের চালে বা ছাদে অথবা গাছে অবস্থান করে। তাছাড়া ভূমিকম্পের সময় ভাঙা ঘরবাড়ির মধ্যেও মানুষ আটকে যায়। এ রকম অবস্থা থেকে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে হবে। এ পর্যায়ে শুধু মানুষ না, জীবজন্তুও তল্লাশি করে উদ্ধার করতে হয়।

গ. ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নিরূপণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হওয়া সম্পদের পরিমাণ কতটুকু তা নিরূপণ করা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাড়াদান কার্যক্রমে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। দুর্যোগে কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কত, কি পরিমাণ জীবজন্তু মারা গেছে এবং অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত ইত্যাদি হিসেবে করে তার তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

ঘ. ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম: ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাড়াদান প্রক্রিয়া স্তরে নেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাড়াদান প্রক্রিয়া। যেসব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, দুস্থ ও গরিব জনসাধারণের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসনে কাজ করা হয়। পুনর্বাসনের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রক্রিয়াসমূহ

  • স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে ডোনেশন সংগ্রহ করা হয়।
  • দুর্যোগ এলাকার জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হলে অর্থের ব্যবহার নমনীয় করে অর্থদান নিশ্চিত করা হয়।
  • এসময় শুকনো খাবারের জোগান দেওয়া হয়।
  • পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়।
  • বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

৪. পুনরুদ্ধার (Recovery):

এ সময়টা হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগপরবর্তী সময়কাল। এই স্তরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। দুর্যোগে যেসব সম্পদ, মানুষ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে।

ক. বাড়িঘর নির্মাণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণ করা হয়, কখনো সংস্কার করা হয়। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সকলের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যেই বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়।

খ. গো-মহিষ সরবরাহ করা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের গো-মহিষের প্রাণহানি হয় তাদেরকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে গরু মহিষ সরবরাহ করা হয়। দুর্যোগ পূর্বকালীন আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য এগুলো সরবরাহ করা হয়।

গ. বীজ সরবরাহ: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষিখাতকে সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে তাদেরকে বীজ সরবরাহ করা হয়।

তাছাড়াও আরও কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে-

  • পুকুরের পানি লবণাক্ত হয়ে গেলে পুরো পানি ফেলে দিয়ে লবণাক্ততা থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়।
  • স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
  • দুর্যোগে যে সকল মানুষ নিহত হন তাদের সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়।
  • গর্ভবতী মহিলাদের অধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ঘ. প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান: প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার পরে আহতদের সর্ব প্রথম প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তারপর গুরুতর আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ চারটি কার্যক্রম ছাড়াও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশমন বা Mitigation কেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুর্যোগের দীর্ঘ স্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগের প্রস্তুতিকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাতিষ্ঠানিক গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছরই নানা প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংঘটিত হওয়া এসকল দুর্যোগে জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও দরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে সাথে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, ধৈর্য্য, সাহস ও বিচক্ষণতার সাথে দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারলে দেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜