● Note

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আম-আঁটির ভেঁপু” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান ২৪ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রাম।

বিভূতিভূষণ কোন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন?

তিনি বনগ্রাম স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।

বিভূতিভূষণ কোন কলেজ থেকে আইএ ও বিএ ডিগ্রি লাভ করেন?

তিনি কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ ও বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

বিভূতিভূষণের একটি বিখ্যাত গল্পগ্রন্থের নাম লেখো।

তাঁর একটি বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ ‘মেঘমল্লার’।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নীলমণি রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী কোথায় বাস করছিলেন?

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি পুত্রকন্যা নিয়ে নিজ পিত্রালয়ে গিয়ে বাস করছিলেন, ফলে পাশের ভিটা জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছিল।

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?

‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘আম-আঁটির ভেঁপু’ রচনাটি কোন উপন্যাসের অংশ?

এটি ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের অংশ।

অপুর দিদির নাম কী?

অপুর দিদির নাম দুর্গা।

অপুর মায়ের নাম কী?

অপুর মায়ের নাম সর্বজয়া।

অপুর বাবার নাম কী?

অপুর বাবার নাম হরিহর।

দুর্গা কোথা থেকে আম চুরি করে আনে?

দুর্গা পটলদের বাগান থেকে আম চুরি করে আনে।

অপু সকালবেলা রোয়াকে বসে কী নিয়ে খেলছিল?

অপু তার টিনের বাক্সের জিনিসপত্র (কাঠের ঘোড়া, ভেঁপু-বাঁশি, পিস্তল, কড়ি, নাটা ফল প্রভৃতি) নিয়ে খেলছিল।

দুর্গার বয়স আনুমানিক কত?

দুর্গার বয়স আনুমানিক দশ-এগারো বছর।

হরিহরের পেশা কী?

হরিহর অন্নদা রায়ের বাড়িতে গোমস্তার কাজ করেন।

দশঘরার মাতবর হরিহরকে কী প্রস্তাব দেন?

দশঘরার মাতবর হরিহরকে সেই গ্রামে বসবাস করে মন্ত্র দেওয়ার (পুরোহিতের কাজ করার) প্রস্তাব দেন।

দুর্গা আম কীভাবে খাওয়ার উপযোগী করে?

দুর্গা কচি আম তেল-নুন দিয়ে জারিয়ে খাওয়ার উপযোগী করে।

সর্বজয়া আম খাওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে দুর্গা কী করে?

দুর্গা প্রশ্নটি এড়িয়ে যায়, সত্য কথা স্বীকার করে না।

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের শেষ দৃশ্যে দুর্গাকে কী করতে দেখা যায়?

গল্পের শেষে দুর্গাকে একা উঠানে বসে ফলের বিচি গুনতে ও অপুর জন্য ভাগ রাখতে দেখা যায়।

‘রোয়াক’ শব্দের অর্থ কী?

রোয়াক শব্দের অর্থ বারান্দা।

নিচের কোনটি তাঁর উপন্যাস নয়?

মেঘমল্লার তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ, উপন্যাস নয়; বাকিগুলো তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস।

আম-আঁটির ভেঁপু রচনার মূল উপজীব্য বিষয় কী?

গ্রামীণ প্রকৃতির কোলে দুই ভাইবোনের নির্মল আনন্দময় শৈশবই এই রচনার প্রাণকেন্দ্র।

অপু-দুর্গার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে কেমন ছিল?

তারা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান, যদিও এই দারিদ্র্য তাদের শৈশবের আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি।

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের শুরুতে অপু কোথায় বসে খেলা করছিল?

গল্প শুরু হয় অপু রোয়াকে বসে তার টিনের বাক্সের জিনিসপত্র নিয়ে খেলা করার দৃশ্য দিয়ে।

অপুর টিনের বাক্সে কোনটি ছিল না?

বাক্সে ছিল কাঠের ঘোড়া, ভেঁপু-বাঁশি, কড়ি, পিস্তল, নাটা ফল ও খাপরার কুচি — কোনো বই ছিল না।

অপুর ভেঁপু-বাঁশিটির দাম কত ছিল?

টেক্সটে বলা আছে, “চার পয়সা দামের একটা টোল-খাওয়া টিনের ভেঁপু-বাঁশি”।

বাক্সের পিস্তলটির দাম কত ছিল?

এটি ছিল “দু’পয়সা দামের একটা পিস্তল”।

কড়িগুলো অপু কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল?

অপু মায়ের অজ্ঞাতসারে লক্ষ্মীপূজার কড়ির চুপড়ি থেকে কড়িগুলো খুলে নিয়েছিল, আর ধরা পড়ার ভয়ে লুকিয়ে রাখত।

নাটা ফলগুলো কে কুড়িয়ে এনেছিল?

দেখতে ভালো লাগায় দুর্গা নাটা ফলগুলো কুড়িয়ে এনেছিল, তার কিছু অপুকে দিয়েছিল আর কিছু নিজের পুতুলের বাক্সে রেখেছিল।

খাপরার কুচিগুলো অপু কী খেলায় ব্যবহার করত?

গঙ্গা-যমুনা খেলায় খাপরাগুলোর লক্ষ্য অব্যর্থ হয় বলে বিশ্বাস থাকায় অপু সেগুলো যত্ন করে বাক্সে রাখত।

দুর্গা কী দিয়ে কচি আমগুলো নিয়ে এসেছিল?

দুর্গার হাতে ছিল একটা নারিকেলের মালা, তাতে করেই সে কচি আমগুলো এনেছিল।

দুর্গা কোথা থেকে কচি আম পেয়েছিল বলে জানিয়েছিল?

দুর্গা বলে, “পটলদের বাগানে সিঁদুরকৌটোর তলায় পড়ে ছিল”।

আমের কুশি জারাতে দুর্গা অপুর কাছে কী চেয়েছিল?

দুর্গা অপুকে বলে, “একটু তেল আর একটু নুন নিয়ে আসতে পারিস? আমের কুশি জারাবো”।

আম খাওয়ার পর দুর্গা মালাটি কোথায় ফেলে দিয়েছিল?

দুর্গা খালি মালাটি টান মেরে ভেরেণ্ডাকচার বেড়া পার করিয়ে নীলমণি রায়ের ভিটার দিকে জঙ্গলের মধ্যে ছুঁড়ে দেয়, যাতে চিহ্ন না থাকে।

হরিহরের বাড়ি থেকে সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশীর বাড়ি কতটা দূরে ছিল?

পাঁচ মিনিটের পথ গেলে তবে ভুবন মুখুয্যের বাড়ি পাওয়া যায়— তাদের বাড়ি ছিল বেশ নির্জন এলাকায়।

সর্বজয়া সকাল থেকে কী কাজে ব্যস্ত ছিলেন?

সর্বজয়া বলেন, “সকাল থেকে ক্ষার কেচে গা-গতর ব্যথা হয়ে গেল”— এতে তাঁর একার হাতে সংসার সামলানোর কষ্ট ফুটে ওঠে।

দুর্গা আম কোথায় পেয়েছে জিজ্ঞেস করায় সে মাকে কী বলেছিল?

দুর্গা মাকে বিভ্রান্ত করতে বলে, “এই তো এখন কাঁঠালতলায় দাঁড়িয়ে”— যদিও ঘটনাটি স্বর্ণ গোয়ালিনীর আগমনে চাপা পড়ে যায়।

দুর্গার দুধ দোয়ানো দেখতে যাওয়ার সময় অপুকে সে কী করেছিল?

বাইরের উঠানে পা দিতেই দুর্গা অপুর পিঠে এক কিল বসিয়ে বলে, “লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর”— আম খেয়ে দাঁত টকে গেছে বলাতেই তার এই রাগ।

হরিহর কার বাটিতে গোমস্তার কাজ করতেন?

হরিহর গ্রামের অন্নদা রায়ের বাটিতে গোমস্তার কাজ করতেন।

হরিহর দশঘরায় কী কাজে গিয়েছিলেন?

হরিহর দশঘরায় তাগাদার জন্য গিয়েছিলেন, যেখানে এক মাতবরের সাথে তাঁর দেখা হয়।

রায়বাড়ি থেকে হরিহর মাসে কত টাকা বেতন পেতেন?

সর্বজয়া বলেন, “ঐ রায়বাড়ির আটটা টাকা ভরসা”— তাও দুই-তিন মাস অন্তর পাওয়া যেত।

সেজ ঠাকুরুন সর্বজয়াকে ধার দেওয়া প্রসঙ্গে কী শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন?

সেজ ঠাকুরুন বলেন, “আমি বন্দক ছাড়া টাকা ধার দিই নে”— তাও সর্বজয়ার অনুরোধে ব্যতিক্রম করেছিলেন বলে জানান।

উঠানে ফিরে দুর্গা প্রথমে কোন দিকে গিয়েছিল?

দুর্গা সতর্কতার সাথে বাহিরের দুয়ারের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে পাঁচিলের পাশ দিয়ে বাহির বাটীর রোয়াকে ওঠে, যাতে বাবা-মায়ের চোখ এড়িয়ে ঘরে ঢুকতে পারে।

উঠানে বসে দুর্গা কী গুনছিল?

আঁচলের খুঁট খুলে দুর্গা শুকনো রড়া ফলের বিচি বের করে গুনতে শুরু করে, যার সংখ্যা ছাব্বিশটা হয়েছিল।

রড়া ফলের বিচিগুলো নিয়ে দুর্গা মনে মনে কী পরিকল্পনা করছিল?

দুর্গা মনে মনে বলে, “অপুকে এইগুলো দেবো — আর এইগুলো পুতুলের বাক্সে রেখে দেবো”— ভাইবোনের সরল স্নেহের একটি চিত্র এখানে ফুটে ওঠে।

‘নাটাফল’ বলতে কোন ফলকে বোঝানো হয়েছে?

নাটাফল হলো করঞ্জা ফল, যা দেখতে সুন্দর বলে দুর্গা কুড়িয়ে আনত।

‘আমের কুসি’ বলতে কী বোঝায়?

আমের কুসি অর্থ কচি আম, যা জারিয়ে (কুচি কুচি করে মাখিয়ে) খাওয়া হতো।

‘পিজরাপোলের আসামি’ বাগধারাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?

এই বাগধারাটি খাঁচায় পড়ে থাকা অবহেলিত আসামির মতো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে— এখানে অবহেলিত পড়ে-থাকা কাঠের ঘোড়াকে বোঝাতে।

‘কালমেঘ’ কী ধরনের গাছ?

কালমেঘ যকৃতের রোগে উপকারী একপ্রকার তিক্ত স্বাদের গাছ, যা হরিহরদের ভাঙা রোয়াকের ফাটলে জন্মেছিল— বাড়িটির জীর্ণ অবস্থার একটি ইঙ্গিত।

সর্বজয়ার ক্ষার কাচা ও একা সংসার সামলানোর বর্ণনা থেকে তাঁর জীবনের কোন দিকটি ফুটে ওঠে?

সর্বজয়ার একার হাতে ঘরকন্না, ঋণ, ছেলেমেয়ে সামলানোর বর্ণনায় একজন দরিদ্র গৃহিণীর নিরন্তর সংগ্রাম ফুটে উঠেছে, যা তাকে পল্লি-মায়ের চিরন্তন রূপ করে তুলেছে।

হরিহর মাতবরদের প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক রাজি না হয়ে “পরামর্শ করে দেখি” বলাটা তাঁর চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ করে?

দারিদ্র্যের মধ্যেও হরিহর তাড়াহুড়ো করে সস্তা প্রতিক্রিয়া দেখাতে চাননি, বরং নিজের সামাজিক মর্যাদা বজায় রেখে ধীরস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তাঁর মধ্যে দেখা যায়।

“আম খেয়ে দাঁত টকে” বলে অপুর অভিযোগ করাতে দুর্গার রাগের প্রতিক্রিয়া থেকে ভাইবোনের সম্পর্কের কোন দিকটি বোঝা যায়?

দুর্গা রাগ দেখিয়ে “লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর” বললেও সাথে সাথেই আবার ভালো আম এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়— এই খুনসুটির আড়ালেই তাদের গভীর ভাইবোনের বন্ধন প্রকাশ পায়।

রাহেলার চরিত্রের সাথে আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়?

দুর্গাও লুকিয়ে ফল সংগ্রহ করে অপুকে খাওয়ায়, আবার তাকে শাসনও করে— রাহেলার আচরণ দুর্গার চরিত্রেরই প্রতিফলন।

উদ্দীপক ও আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের এই সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণের মূল কারণ কী বলে মনে করা যায়?

উভয় ক্ষেত্রেই লুকিয়ে খাবার জোগাড় করা নিছক দুষ্টুমি নয়, বরং ভাইবোনের মধ্যকার সহজাত স্নেহ-মমতারই বহিঃপ্রকাশ।

করিম মিয়ার প্রতিক্রিয়ার সাথে আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে?

হরিহরও মাতবরদের বসবাসের প্রস্তাবে তাড়াহুড়ো না করে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন— করিম মিয়ার আচরণ ঠিক তারই প্রতিরূপ।

এ ধরনের সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে সাধারণত কোন মানসিকতা কাজ করে?

অভাবী হলেও তাড়াহুড়ো করে রাজি হলে সস্তা বলে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে— তাই আত্মমর্যাদা রক্ষার তাগিদেই এই সতর্কতা।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

‘আম-আঁটির ভেঁপু’ রচনাটিকে কেন গ্রামবাংলার শৈশবের প্রতিচ্ছবি বলা যায়— ব্যাখ্যা করো।

রচনায় অপু-দুর্গার আম চুরি করে খাওয়া, খেলনা নিয়ে খেলা, ভাইবোনের খুনসুটি ও প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠতা— এসব দিয়ে গ্রামবাংলার এক সহজ-সরল, দারিদ্র্যপীড়িত অথচ আনন্দময় শৈশবের ছবি ফুটে উঠেছে। তাই একে গ্রামবাংলার শৈশবের প্রতিচ্ছবি বলা যায়।

দুর্গা কেন লুকিয়ে আম সংগ্রহ করে— ব্যাখ্যা করো।

দুর্গাদের সংসারে দারিদ্র্য থাকায় তাদের নিজস্ব ফলের বাগান নেই, তাই সে প্রতিবেশীর বাগান থেকে লুকিয়ে আম সংগ্রহ করে। এতে তার দুরন্তপনা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি ভাইয়ের প্রতি স্নেহও প্রকাশ পায়, কারণ সে একা না খেয়ে অপুকেও ভাগ দেয়।

সর্বজয়ার চরিত্রে কোন গুণ প্রকাশ পেয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

সর্বজয়ার চরিত্রে দারিদ্র্যের মধ্যেও সংসার সামলানোর ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। অভাব-অনটন ও ধারের বোঝা সামলেও তিনি সন্তানদের যত্ন নেন, যা তাঁকে এক আদর্শ পল্লি-জননীর প্রতিরূপ করে তুলেছে।

হরিহর কেন মাতবরের প্রস্তাবে তাড়াহুড়ো করে রাজি হননি— ব্যাখ্যা করো।

হরিহর দরিদ্র হলেও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ। তাড়াহুড়ো করে রাজি হলে নিজেকে সস্তা বা অসহায় প্রতিপন্ন করা হবে ভেবে তিনি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন— এতে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ পায়।

অপু কেন দিদির ন্যাওটা বলে বর্ণিত হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

অপু বয়সে ছোট ও সরল স্বভাবের, দিদি দুর্গার সাথে তার গভীর সখ্য। দুর্গা যা আনে তাতেই অপু আনন্দিত হয়, দিদির ওপর নির্ভর করে— এই নিবিড় নির্ভরতা ও স্নেহের বন্ধনের কারণেই অপুকে দিদির ন্যাওটা বলা হয়েছে।

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পের শেষ দৃশ্যে দুর্গার একাকী বসে ফলের বিচি গোনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই দৃশ্যে দুর্গার সারল্য ও ভাইয়ের প্রতি নিঃস্বার্থ স্নেহ প্রকাশ পায়। একা ফল ভোগ না করে অপুর জন্য ভাগ রেখে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার মমতাময়ী মনের পরিচয় ফুটে ওঠে, যা গল্পের এক আবেগঘন সমাপ্তি রচনা করে।

‘আম-আঁটির ভেঁপু’ শিরোনামের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

আম-আঁটি দিয়ে তৈরি বাঁশি বা ভেঁপুকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ শিশুদের সহজ, প্রকৃতিনির্ভর খেলাধুলার প্রতীক হিসেবে এই শিরোনাম ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বস্তুগত দারিদ্র্যের মধ্যেও কল্পনাশক্তি দিয়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার শৈশবের প্রতীক।

দুর্গা সত্য গোপন করাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়— বিশ্লেষণ করো।

দুর্গা জানে আম চুরি করা অন্যায়, তাই মায়ের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে সত্য এড়িয়ে যায়। এটি নিছক মিথ্যা বলা নয়, বরং শাস্তির ভয় ও শৈশবসুলভ চতুরতার মিশ্র প্রকাশ, যা তার চরিত্রকে আরও বাস্তবসম্মত করে তোলে।

সর্বজয়ার সাংসারিক অভাব-অনটনের বর্ণনা আম-আঁটির ভেঁপু গল্পে কী ভূমিকা রাখে— ব্যাখ্যা করো।

সর্বজয়ার অভাব-অনটনের বর্ণনা গল্পের পটভূমিতে দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র প্রতিষ্ঠা করে, যার বিপরীতে অপু-দুর্গার সরল আনন্দ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে— দারিদ্র্য থাকা সত্ত্বেও শৈশবের আনন্দ ম্লান হয় না, এই বার্তাই ফুটে ওঠে।

হরিহর ও সর্বজয়ার চরিত্রের মধ্যে কী পার্থক্য লক্ষ করা যায়— ব্যাখ্যা করো।

হরিহর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দূরদর্শী, সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন; সর্বজয়া বাস্তববাদী ও দায়িত্বশীল, সংসারের প্রতিদিনের অভাব তাঁকে বেশি চিন্তিত করে। এই পার্থক্যই দুজনের চরিত্রকে পরিপূরক করে তোলে।

প্রকৃতির সাথে অপু-দুর্গার সম্পর্ক কেমন— ব্যাখ্যা করো।

অপু-দুর্গা প্রকৃতির কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা শিশু— আম, নাটা ফল, খাপরার কুচি ইত্যাদি প্রকৃতির উপকরণই তাদের খেলার সামগ্রী। প্রকৃতিই তাদের আনন্দের প্রধান উৎস, যা গ্রামীণ শৈশবের এক সজীব রূপ তুলে ধরে।

আম-আঁটির ভেঁপু গল্পে ‘পল্লি-জননী’ প্রতিচ্ছবি বলতে কী বোঝানো হয়— ব্যাখ্যা করো।

সর্বজয়া চরিত্রে দারিদ্র্য সত্ত্বেও ধৈর্য, সহনশীলতা ও সন্তানের প্রতি গভীর মমতার যে প্রকাশ ঘটেছে, তাকেই ‘পল্লি-জননী’ প্রতিচ্ছবি বলা হয়— যা গ্রামবাংলার আদর্শ মাতৃমূর্তির প্রতিনিধিত্ব করে।

দুর্গার আচরণে স্নেহ ও দুষ্টুমির মিশ্রণ কীভাবে প্রকাশ পায়— ব্যাখ্যা করো।

দুর্গা একদিকে লুকিয়ে আম চুরি করে যা দুষ্টুমির লক্ষণ, অন্যদিকে সেই আম ভাইকে ভাগ দিয়ে খাওয়ায় ও তাকে শাসনও করে— এই দ্বৈততাই তার চরিত্রে স্নেহ ও দুষ্টুমির স্বাভাবিক শৈশবসুলভ মিশ্রণ প্রকাশ করে।

রচনাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

রচনাটি শেখায়, বস্তুগত দারিদ্র্য শৈশবের আনন্দ ও পারিবারিক স্নেহবন্ধনকে ম্লান করতে পারে না। সাধারণ, ক্ষুদ্র বিষয়ের মধ্যেও জীবনের গভীর আনন্দ ও মানবিক সম্পর্কের সৌন্দর্য নিহিত থাকতে পারে।

‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পাংশটি কেন পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়— ব্যাখ্যা করো।

এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধ্রুপদি রচনার অংশ, যেখানে সহজ ভাষায় গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা, শৈশবের সারল্য ও পারিবারিক মূল্যবোধ নিখুঁতভাবে চিত্রিত হয়েছে— তাই এটি শিক্ষামূলক ও সাহিত্যিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্গার রং অপুর তুলনায় কেমন ছিল?

দুর্গার “রং অপুর মতো অতটা ফর্সা নয়, একটু চাপা”, তবে মুখের গড়ন ও চোখ দুজনেরই প্রায় একরকম বর্ণনা করা হয়েছে।

অপু তেলের ভাঁড় ছুঁতে দ্বিধা করছিল কেন?

অপু বলে, “তেলের ভাঁড় ছুঁলে মা মারবে যে?”— মায়ের শাসনের ভয়েই সে ইতস্তত করছিল।

দুর্গা কেন চুপি চুপি ঘরে ঢুকতে চেয়েছিল?

দুয়ার খোলা পেলে ও মা ঘুমিয়ে থাকলে সে চুপি চুপি ঢুকে একটু শুয়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু বাবা-মায়ের সামনে দিয়ে ঢুকতে সাহস পায়নি।

দুর্গা প্রথমেই অপুকে জিজ্ঞেস করেছিল, “মা ঘাট থেকে আসে নি তো?”— এই প্রশ্নটি কী প্রকাশ করে?

যেহেতু দুর্গা অনুমতি ছাড়া বাগান থেকে আম কুড়িয়ে এনেছিল, মা ফিরে এলে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাতেই তার সুর সতর্ক ও নিচু ছিল।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে আম-আঁটির ভেঁপু গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜