আমাদের নতুন গৌরবগাথা রচনার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আমাদের নতুন গৌরবগাথা” রচনা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে রচনার সারকথা ও ৪৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য আমাদের নতুন গৌরবগাথা রচনার নোট দেখুন।
আমাদের নতুন গৌরবগাথা রচনার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
রচনার ধরন
একটি সংকলিত রচনা (নির্দিষ্ট লেখকের নাম উল্লেখ নেই), ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত।
ঘটনাপ্রবাহ
- সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে আন্দোলন, কোটা বাতিল।
- ২০২৪ সালের শুরুতে কৌশলে পুরোনো কোটা পুনরায় চালু, ফলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে নতুন আন্দোলনের সূচনা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে ক্রমে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়া।
- ১৪ই জুলাই ছাত্রীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, ১৬ই জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের আত্মত্যাগ— আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকী মুহূর্ত।
- জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেওয়া, দীর্ঘদিনের সামাজিক ক্ষোভের সাথে মিশে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ।
- ৫ই আগস্ট (‘৩৬শে জুলাই’) জনতার গণভবন অভিমুখে যাত্রা ও সরকারপ্রধানের দেশত্যাগ।
- অভ্যুত্থানকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা, ভিন্নমত-সহিষ্ণুতার আহ্বান দিয়ে সমাপ্তি।
আমাদের নতুন গৌরবগাথা রচনার মূল ভাব কী?
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা নেতৃত্বের অধীনে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ডাকে সাড়া দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংঘটিত এক অভূতপূর্ব ঘটনা— যা দেশ পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে, যাকে সহিষ্ণুতা ও ন্যায্যতার সাথে রক্ষা করার আহ্বান রচনায় জানানো হয়েছে।
আমাদের নতুন গৌরবগাথা রচনার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
গ্রাফিতি (দেয়ালচিত্র), গণভবন (প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন), মূলোৎপাটন (সমূলে বিনাশ), কারফিউ (সান্ধ্য আইন), গণঅভ্যুত্থান (গণজাগরণ), প্রহসন (ব্যঙ্গ/বিদ্রূপ), সহিষ্ণু (সহনশীল), অভূতপূর্ব (পূর্বে ঘটেনি এমন)।
রচনা পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ রচনাটি কোন ধরনের লেখা?
- ক. একটি সংকলিত রচনা
- খ. একটি কাল্পনিক গল্প
- গ. একটি অনূদিত রচনা
- ঘ. একজন নির্দিষ্ট লেখকের আত্মজীবনী
উত্তর: ক। রচনাটির শেষে ‘[সংকলিত]’ উল্লেখ থাকায় বোঝা যায় এটি কোনো নির্দিষ্ট লেখকের রচনা নয়, বরং সংকলিত একটি লেখা।
২। রচনাটি মূলত কোন ঘটনা নিয়ে রচিত?
- ক. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
- খ. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
- গ. ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
- ঘ. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর: গ। রচনাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত।
৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই গণঅভ্যুত্থান কোন কোন পূর্ববর্তী গণঅভ্যুত্থান থেকে পৃথক বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. ১৯৬৯ বা ১৯৯০
- খ. ১৯৭১ ও ২০০৮
- গ. ১৯৫২ ও ১৯৭১
- ঘ. ১৯৪৭ ও ১৯৭১
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯ বা ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে পৃথক, কারণ এটি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে হয়নি।
আমাদের নতুন গৌরবগাথা রচনার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৪। রচনার শুরুতে কোন ঋতুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. বসন্ত
- খ. বর্ষা
- গ. গ্রীষ্ম
- ঘ. শীত
উত্তর: খ। রচনায় বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ফাল্গুন বা রৌদ্রদহনের কাল ছিল না, ছিল বাংলার নিজস্ব ঋতু— বর্ষা।
৫। রচনায় ‘৫ই আগস্ট, ২০২৪’ তারিখকে আর কী বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. ১৫ই জুলাই
- খ. ১লা আগস্ট
- গ. ৩৬শে জুলাই
- ঘ. নতুন বছরের প্রথম দিন
উত্তর: গ। রচনায় প্রতীকী অর্থে ৫ই আগস্টকে ‘৩৬শে জুলাই’ বলা হয়েছে, কারণ বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার যেন জুলাইয়েই থেমে গিয়েছিল বলে লেখক বর্ণনা করেছেন।
৬। ৫ই আগস্টের আগে দেশের পরিস্থিতি কেমন ছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. সম্পূর্ণ নিরুত্তাপ
- খ. অসহনীয় উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ
- গ. উৎসবমুখর
- ঘ. স্বাভাবিক ও শান্ত
উত্তর: খ। সমগ্র দেশ যেন এক অসহনীয় উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ হয়ে ছিল, সারা দুনিয়ার মানুষও আকাঙ্ক্ষা আর উদ্বেগ নিয়ে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে ছিল বলে রচনায় বর্ণিত হয়েছে।
৭। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা কোন দাবি পেশ করেছিল সেদিন?
- ক. দুই দফা দাবি
- খ. এক দফা দাবি
- গ. পাঁচ দফা দাবি
- ঘ. তিন দফা দাবি
উত্তর: খ। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা এক দফা দাবি পেশ করেছিল।
৮। জনতা কোন স্থান ঘেরাও করার পরিকল্পনা করেছিল?
- ক. গণভবন
- খ. সংসদ ভবন
- গ. সচিবালয়
- ঘ. রাষ্ট্রপতির ভবন
উত্তর: ক। জনতা গণভবন (প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন) ঘেরাও করার পরিকল্পনা করেছিল।
৯। কারফিউ উপেক্ষা করে ঢাকার কোন কোন এলাকায় মানুষের সমাগম হতে থাকে?
- ক. শুধু মতিঝিলে
- খ. উত্তরা, যাত্রাবাড়ি ও সাভারে
- গ. শুধু ধানমন্ডিতে
- ঘ. শুধু গুলশানে
উত্তর: খ। কারফিউ উপেক্ষা করে উত্তরা, যাত্রাবাড়ি ও সাভারের পথে মানুষের ঢল নামতে থাকে।
১০। জনতা কখন গণভবনে পৌঁছায়?
- ক. সকালে
- খ. সন্ধ্যায়
- গ. দুপুর নাগাদ
- ঘ. মধ্যরাতে
উত্তর: গ। জনতা দুপুর নাগাদ গণভবনে পৌঁছে যায়।
১১। পতন অত্যাসন্ন টের পেয়ে সরকারপ্রধান কী করেন?
- ক. জনতার সাথে সংলাপ করেন
- খ. দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান
- গ. সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে বৈঠক করেন
- ঘ. পদত্যাগপত্র জমা দেন
উত্তর: খ। পতন অত্যাসন্ন টের পেয়ে সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
১২। আন্দোলনটি প্রথমে কোন ছোট দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল?
- ক. নির্বাচনের দাবি
- খ. সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের দাবি
- গ. বেতন বৃদ্ধির দাবি
- ঘ. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি
উত্তর: খ। আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের দাবি নিয়ে, কারণ কোটার ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছিল।
১৩। ২০১৮ সালে এই আন্দোলনে কী সাফল্য অর্জিত হয়?
- ক. কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি
- খ. সরকার কোটা পুনর্বিন্যাস করে
- গ. সরকার কোটাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়
- ঘ. সরকার কোটা বৃদ্ধি করে
উত্তর: গ। ২০১৮ সালে সরকার কোটাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়, যদিও আন্দোলনকারীরা তা যৌক্তিকভাবে কমানোর দাবি করেছিল।
১৪। ২০২৪ সালের শুরুতে কী ঘটে যা আন্দোলন পুনরায় শুরুর কারণ হয়?
- ক. শিক্ষার্থীরা বিদেশে চলে যায়
- খ. নির্বাচনের পর পুরোনো কোটা আবার চালু করা হয়
- গ. নতুন কোটা প্রবর্তিত হয়
- ঘ. সরকার পদত্যাগ করে
উত্তর: খ। ২০২৪ সালের শুরুতে প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের পর সরকার কৌশলে পুরোনো কোটা আবার চালু করে, ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করে।
১৫। ২০২৪ সালের নতুন আন্দোলনের নাম কী ছিল?
- ক. কোটা সংস্কার আন্দোলন
- খ. গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন
- গ. শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন
- ঘ. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
উত্তর: ঘ। এবার আন্দোলনের নাম দেওয়া হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যার মধ্যেই আন্দোলনের বৃহত্তর লক্ষ্যের দিশা ছিল।
১৬। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামকরণের মধ্য দিয়ে কী প্রকাশ পায়?
- ক. শুধু চাকরির দাবি
- খ. শুধু শিক্ষা সংস্কারের দাবি
- গ. সামগ্রিক বৈষম্য নিরসনের আকাঙ্ক্ষা
- ঘ. রাজনৈতিক ক্ষমতার দাবি
উত্তর: গ। এই নামকরণে কেবল চাকরি নয়, দেশে বিদ্যমান হাজারো বৈষম্য নিরসনের একটি বৃহত্তর আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছিল।
১৭। আন্দোলন প্রথম দিকে কোথায় সীমিত ছিল?
- ক. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
- খ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে
- গ. সারা দেশে
- ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর: খ। প্রথম দিকে আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে সীমিত ছিল, পরে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিতে থাকে।
১৮। জুলাইয়ের কোন সপ্তাহ থেকে আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে?
- ক. তৃতীয় সপ্তাহ
- খ. দ্বিতীয় সপ্তাহ
- গ. চতুর্থ সপ্তাহ
- ঘ. প্রথম সপ্তাহ
উত্তর: ক। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের সীমানা ছাড়িয়ে গণআন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে।
১৯। এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
- ক. শুধু পুরুষ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
- খ. ছাত্রীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ
- গ. শুধু শিক্ষকদের অংশগ্রহণ
- ঘ. শুধু বিদেশি সহায়তা
উত্তর: খ। এ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল ছাত্রীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ।
২০। ১৪ই জুলাই রাতে কী ঘটনা ঘটে?
- ক. একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়
- খ. আন্দোলন স্থগিত হয়
- গ. হল থেকে ছাত্রীরা মিছিল করে বেরিয়ে আসেন
- ঘ. সরকার দাবি মেনে নেয়
উত্তর: গ। ১৪ই জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে প্রায় সব ছাত্রী মিছিল করতে করতে বেরিয়ে আসেন, যা আন্দোলনের এক অভূতপূর্ব সর্বজনীনতা প্রতিষ্ঠা করে।
২১। ১৬ই জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে কার্যকর ও পরিচিত ছবিটি কোথায় পাওয়া যায়?
- ক. রংপুরে
- খ. খুলনায়
- গ. ঢাকায়
- ঘ. চট্টগ্রামে
উত্তর: ক। ১৬ই জুলাই রংপুরে ঘটনাটি ঘটে, যা আন্দোলনের সবচেয়ে কার্যকর ও পরিচিত ছবি হয়ে ওঠে।
২২। রংপুরে কী ঘটনা ঘটেছিল?
- ক. একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়
- খ. একটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়
- গ. আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে পুলিশের গুলির সামনে এগিয়ে যান
- ঘ. একটি সংঘর্ষ এড়ানো হয়
উত্তর: গ। রংপুরে আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে পুলিশের গুলির সামনে এগিয়ে যান— এই দৃশ্যই আন্দোলনের সবচেয়ে পরিচিত ও প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
২৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ হওয়ার পর আন্দোলনে কারা এগিয়ে আসে?
- ক. শুধু সরকারি কর্মচারীরা
- খ. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা
- গ. শুধু বিদেশি শিক্ষার্থীরা
- ঘ. শুধু ব্যবসায়ীরা
উত্তর: খ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ হওয়ার পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসেন।
২৪। রচনা অনুযায়ী সমাজের অন্যান্য মানুষের আন্দোলনে যুক্ত হতে কেন অসুবিধা হয়নি?
- ক. সমাজে ক্ষোভ আগে থেকেই বিরাজ করছিল বলে
- খ. তারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ছিল বলে
- গ. সরকার তাদের উৎসাহিত করেছিল বলে
- ঘ. তাদের কোনো অন্য কাজ ছিল না বলে
উত্তর: ক। দীর্ঘ দুঃশাসনের ফলে সমাজে ক্ষোভের এই অবস্থা আগে থেকেই বিরাজ করছিল বলে সাধারণ মানুষের আন্দোলনে যুক্ত হতে কোনো অসুবিধা হয়নি।
২৫। রচনায় কোন কোন সামাজিক সমস্যার উল্লেখ আছে যা মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছিল?
- ক. শুধু বেকারত্ব
- খ. নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, গুম-খুন
- গ. শুধু শিক্ষার মান
- ঘ. শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা
উত্তর: খ। নির্বাচনে অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, গুম-খুন ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যার উল্লেখ রচনায় আছে যা মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়েছিল।
**২৬। সামাজিক অসন্তোষ নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হতে দেখেছে মানুষ
ii. জাল সনদধারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা যায়
iii. রচনা অনুযায়ী সরকার সব অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিয়েছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য রচনার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু রচনা অনুযায়ী সরকার এসব সংবাদের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনই বোধ করেনি— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
২৭। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব মূলত কাদের ছিল?
- ক. একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের
- খ. বিদেশি শক্তির
- গ. সামরিক বাহিনীর
- ঘ. শিক্ষার্থীদের
উত্তর: ঘ। রচনা অনুযায়ী এই অভ্যুত্থান কোনো দলের নেতৃত্বে হয়নি, মূলত শিক্ষার্থীদের ডাকে সবাই অংশ নিয়েছিলেন।
২৮। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কোন বৈচিত্র্যের উল্লেখ আছে?
- ক. সব শ্রেণি ও পটভূমির মানুষ
- খ. শুধু তরুণ প্রজন্ম
- গ. শুধু বিরোধীদলীয় নেতারা
- ঘ. শুধু শহুরে মানুষ
উত্তর: ক। ধনী-গরিব-মধ্যবিত্ত, শহর-গ্রামের মানুষ, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থী— সকলেই একত্রে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে রচনায় উল্লেখ আছে।
২৯। আন্দোলনের সময় গড়ে ওঠা নতুন ভাষার মূল কথা কী ছিল?
- ক. একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রাধান্য
- খ. শুধু ছাত্রদের অধিকার
- গ. ভিন্নমত নিয়েও দেশের মুক্তির জন্য কাজ করা যায়
- ঘ. একটি নির্দিষ্ট দলের প্রাধান্য
উত্তর: গ। সেই নতুন ভাষার মূল কথা ছিল, পারস্পরিক ভিন্নমত নিয়েও দেশের জন্য ও দেশের মানুষের মুক্তির জন্য একসাথে কাজ করা যায়।
৩০। রচনার শেষাংশে গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে কী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. একটি ব্যর্থতা
- খ. একটি সুযোগ— দেশ নতুনভাবে গড়ার সুযোগ
- গ. একটি সাধারণ ঘটনা মাত্র
- ঘ. চূড়ান্ত সমাপ্তি
উত্তর: খ। রচনায় বিজয়কে একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে— সমস্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ও নতুনভাবে দেশ গড়ার সুযোগ।
৩১। লেখক অতীতে এমন সুযোগ সম্পর্কে কী বলেন?
- ক. এমন সুযোগ আগে কখনো আসেনি
- খ. ভবিষ্যতে আর কখনো সুযোগ আসবে না
- গ. অতীতে সবসময় সুযোগের সদ্ব্যবহার হয়েছে
- ঘ. অতীতেও সুযোগ এসেছিল, ধরে রাখা যায়নি
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, অতীতে এমন সুযোগ দেশে আরও কয়েকবার এসেছে, কিন্তু তা ব্যবহার বা ধরে রাখা যায়নি— এবারের সুযোগ তাই রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩২। রচনার শেষে গণঅভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা হিসেবে কী তুলে ধরা হয়েছে?
- ক. ভিন্নমত ও ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা
- খ. বিদেশি হস্তক্ষেপ আমন্ত্রণ জানানো
- গ. একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা
- ঘ. প্রতিহিংসা গ্রহণ করা
উত্তর: ক। রচনার শেষে বলা হয়েছে, শহিদদের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানোই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শিক্ষা।
৩৩। ‘গ্রাফিতি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি স্থাপত্যরীতি
- খ. দেয়ালে আঁকা ছবি বা কথা
- গ. একটি কবিতা
- ঘ. একটি সংগীত
উত্তর: খ। গ্রাফিতি অর্থ দেয়ালে আঁকা ছবি বা কথা, যা সময়ের চিত্র তুলে ধরে।
৩৪। ‘গণভবন’ কী?
- ক. সংসদ ভবন
- খ. রাষ্ট্রপতির বাসভবন
- গ. বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন
- ঘ. জনগণের বিনোদনের স্থান
উত্তর: গ। গণভবন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন।
৩৫। ‘মূলোৎপাটন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. রক্ষা করা
- খ. মূলোচ্ছেদ, শিকড়সমেত তুলে ফেলা
- গ. সংস্কার করা
- ঘ. পরিবর্তন করা
উত্তর: খ। মূলোৎপাটন অর্থ মূলোচ্ছেদ বা শিকড়সমেত সমূলে বিনাশ করা।
৩৬। ‘কারফিউ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি নির্বাচনী পদ্ধতি
- খ. সান্ধ্য আইন, চলাচলের বিধিনিষেধ
- গ. একটি সরকারি দপ্তর
- ঘ. একটি উৎসব
উত্তর: খ। কারফিউ অর্থ সান্ধ্য আইন— সন্ধ্যার সময় বা পরে লোক চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ।
৩৭। ‘প্রহসন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি ঐতিহাসিক দলিল
- খ. হাস্যরসপ্রধান নাটক, ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ
- গ. একটি আইনি প্রক্রিয়া
- ঘ. একটি গুরুগম্ভীর নাটক
উত্তর: খ। প্রহসন অর্থ হাস্যরসপ্রধান নাটক বা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ— এখানে নির্বাচনের প্রহসনমূলক প্রকৃতি বোঝাতে ব্যবহৃত।
৩৮। ‘সহিষ্ণু’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সহনশীল, ধৈর্যশীল
- খ. অসহনশীল
- গ. রাগান্বিত
- ঘ. উদাসীন
উত্তর: ক। সহিষ্ণু অর্থ সহনশীল বা ধৈর্যশীল।
৩৯। ‘অভূতপূর্ব’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সাধারণ
- খ. প্রত্যাশিত
- গ. পুরাতন
- ঘ. যা পূর্বে হয়নি বা ঘটেনি এমন
উত্তর: ঘ। অভূতপূর্ব অর্থ যা পূর্বে হয়নি বা ঘটেনি এমন।
৪০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী আন্দোলনের প্রাথমিক দাবিনামায় কী ছিল না?
- ক. শিক্ষার্থীদের দাবি
- খ. কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি
- গ. কোনো রাজনৈতিক দাবি
- ঘ. চাকরির দাবি
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী আন্দোলনের দাবিনামায় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো রাজনৈতিক দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
৪১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকার কী পরিচালনা করে?
- ক. সংলাপ
- খ. চরম দমননীতি ও হত্যাযজ্ঞ
- গ. সংস্কার কর্মসূচি
- ঘ. জনমত জরিপ
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকার চরম দমননীতি ও হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধে এগিয়ে আসে।
**৪২। রচনায় বর্ণিত ঘটনাক্রম নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. ২০১৮ সালে কোটাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল হয়
ii. ২০২৪ সালের শুরুতে কোটা আবার চালু করা হয়
iii. আন্দোলন শুরু থেকেই ব্যাপক গণঅংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য সঠিক, কিন্তু আন্দোলন প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত পরিসরে শুরু হয়ে ক্রমে গণআন্দোলনে রূপ নেয়, শুরু থেকেই ব্যাপক গণঅংশগ্রহণ ছিল না— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
সময়টা ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাস। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কবলে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দাম, জ্বালানি-ওষুধ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে তীব্র ঘাটতি এবং সরকারি দলের দমন-পীড়ন নীতির কারণে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নেমে আসে রাজপথে। সরকার কারফিউ জারি করেও তা দমাতে ব্যর্থ হয়; অবশেষে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
৪৩। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ রচনার কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
- ক. গণআন্দোলনের চাপে সরকারপ্রধানের দেশত্যাগ
- খ. উভয়ই একই সময়ে ঘটেছে
- গ. উভয়ই সামরিক অভ্যুত্থান
- ঘ. কোনো সাদৃশ্য নেই
উত্তর: ক। উভয় ক্ষেত্রেই জনদুর্ভোগ ও দমননীতি সত্ত্বেও ব্যাপক গণআন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন— এই কাঠামোগত সাদৃশ্যই উভয় ঘটনার মিল।
৪৪। উদ্দীপক ও রচনার এই সাদৃশ্য সত্ত্বেও কোন পার্থক্য লক্ষণীয়?
- ক. রচনায় সরকার দমননীতি প্রয়োগ করেনি
- খ. কোনো পার্থক্য নেই
- গ. রচনায় শিক্ষার্থী-দাবি থেকে, উদ্দীপকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু
- ঘ. উদ্দীপকে কোনো বিক্ষোভ হয়নি
উত্তর: গ। রচনায় বর্ণিত আন্দোলনের সূচনা হয় কোটাব্যবস্থা সংস্কারের একটি নির্দিষ্ট দাবি থেকে যা পরে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়, অন্যদিকে উদ্দীপকের আন্দোলন মূলত তীব্র অর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ভূত— এই উৎসগত পার্থক্য লক্ষণীয়।
৪৫। রচনায় ‘জনবিচ্ছিন্ন সরকার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. জনগণের কল্যাণে নিবেদিত সরকার
- খ. একটি জনপ্রিয় সরকার
- গ. একটি নতুন গঠিত সরকার
- ঘ. জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন সরকার
উত্তর: ঘ। ‘জনবিচ্ছিন্ন সরকার’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন সরকার যা জনগণের প্রকৃত মনোভাব ও চাহিদা থেকে বিচ্ছিন্ন, সাধারণ মানুষের সাথে যার সম্পর্কহীনতা তৈরি হয়েছে।
৪৬। রচনায় উল্লেখিত ‘হিতে বিপরীত’ হওয়ার ঘটনাটি কী ছিল?
- ক. ছাত্রসংগঠন দিয়ে দমনের চেষ্টা আন্দোলন আরও তীব্র করে
- খ. সরকারের দাবি মেনে নেওয়া
- গ. একটি সফল সংলাপ
- ঘ. আন্দোলনকারীদের পিছু হটা
উত্তর: ক। সরকার নিজেদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে বর্বর কৌশলে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করলে তা উলটো ফল দেয়— আন্দোলন আরও তীব্রভাবে দেশবাসীর হৃদয় স্পর্শ করে।
৪৭। রচনার ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. সংলাপনির্ভর নাটকীয়
- খ. অত্যন্ত জটিল ও প্রতীকী
- গ. সরাসরি, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতাসুলভ বর্ণনাত্মক গদ্য
- ঘ. কাব্যিক ও ছন্দোময়
উত্তর: গ। রচনাটি সরাসরি, তথ্যনির্ভর এবং সাংবাদিকতাসুলভ বর্ণনাত্মক গদ্যে রচিত, যা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
৪৮। রচনায় আন্দোলনের ব্যাপকতা বোঝাতে কোন চিত্রকল্প ব্যবহার করা হয়েছে?
- ক. একটি খালি রাস্তার চিত্র
- খ. ‘যতদূর চোখ যায়, কেবল মানুষ আর মানুষ’
- গ. একটি ছোট মিছিলের চিত্র
- ঘ. একটি নীরব শহরের চিত্র
উত্তর: খ। আন্দোলনের ব্যাপকতা বোঝাতে ‘যতদূর চোখ যায়, কেবল মানুষ আর মানুষ’— এই চিত্রকল্প ব্যবহার করা হয়েছে, যা জনসমুদ্রের বিশালতা তুলে ধরে।
৪৯। রচনার শিরোনাম ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’-র তাৎপর্য কী?
- ক. গণঅভ্যুত্থানকে গর্বের অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করা
- খ. এটি একটি সমালোচনা
- গ. এটি একটি সতর্কবার্তা মাত্র
- ঘ. এটি নিছক একটি ঐতিহাসিক বিবরণ
উত্তর: ক। শিরোনামের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানকে জাতির জন্য একটি নতুন, গর্বের ও স্মরণীয় অর্জন (গৌরবগাথা) হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও একইসাথে ভবিষ্যতে এই অর্জন রক্ষা করার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
৫০। রচনাটি থেকে নাগরিক সমাজের কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথা উঠে আসে?
- ক. রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা
- খ. পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া
- গ. বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করা
- ঘ. সম্মিলিতভাবে ন্যায্য সমাজ গড়ার দায়িত্ব পালন করা
উত্তর: ঘ। রচনা অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সতর্কতার সাথে দেশ ও দশের প্রতি নজর রেখে অর্জিত সুযোগকে সংরক্ষণ করে একটি ন্যায্য, সহনশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।
