● MCQ

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার MCQ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আমি কোনো আগন্তুক নই” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার নোট দেখুন।

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার কবি কে?

আহসান হাবীব (জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯১৭, শঙ্করপাশা, পিরোজপুর; মৃত্যু ১০ জুলাই ১৯৮৫)। পেশায় সাংবাদিক, গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদের কবি। প্রথম কাব্য রাত্রিশেষ; অন্যান্য কাব্য: ছায়াহরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি। বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক পুরস্কারপ্রাপ্ত।

উৎস ও রূপ

আধুনিক মুক্তক গদ্যছন্দে রচিত কবিতা, নির্দিষ্ট কাব্যগ্রন্থের উল্লেখ ছাড়া সংকলিত।

কবিতার মূল বিষয়বস্তু

  1. প্রকৃতির নানা উপাদান (তারা, ফুল, জোনাকি, মাছরাঙা)-কে সাক্ষী রেখে কবির নিজের অস্তিত্বের ঘোষণা— তিনি কোনো আগন্তুক নন।
  2. খর রৌদ্র, বাতাস, মেঘ, পাখিরা কবিকে চেনে; কার্তিকের ধানের মঞ্জরী, শিশির, নিশিন্দার ছায়াও সাক্ষী।
  3. কদম আলী ও জমিলার মায়ের মতো গ্রামীণ, দরিদ্র মানুষের সাথে কবির চিরচেনা স্বজন-সম্পর্ক।
  4. লাঙল-বৈঠায় কবির হাতের স্পর্শ, শরীরে মাটির সুবাস— শারীরিক-আত্মিক বন্ধনের প্রমাণ।
  5. উপসংহারে ধানক্ষেত, সরু পথ ও নদীর কিনার কবির অস্তিত্বে গাঁথা— নিজেকে নদীর মুগ্ধ অবোধ বালক বলে বর্ণনা।

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার মূল ভাব কী?

জন্মভূমির প্রকৃতি ও মানুষের সাথে মানুষের অবিচ্ছেদ্য, আত্মিক সম্পর্কের এক আন্তরিক ঘোষণা— দেশ মানে শুধু ভৌগোলিক পরিচয় নয়, বরং তার প্রতিটি উপাদানের সাথে গভীর একাত্মতা অনুভব করা, এই মানবিক সত্যই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

আসমান (আকাশ), জমিন (ভূমি), নিশিরাইত (গভীর রাত), অভ্যাগত (আগন্তুক/অতিথি), ধানের মঞ্জরী (ধানের শিষ), নিশিন্দা (একটি গ্রামীণ গাছ), স্নিগ্ধ মাটির সুবাস (মায়াবী গ্রামবাংলার প্রতীক)।

কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ

১। আহসান হাবীব কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

  • ক. ১৯১৫
  • খ. ১৯১৭
  • গ. ১৯১৮
  • ঘ. ১৯১৬

উত্তর: খ। তিনি ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২রা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।

২। আহসান হাবীবের জন্মস্থান কোথায়?

  • ক. পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রাম
  • খ. বরিশাল শহর
  • গ. খুলনা
  • ঘ. ফরিদপুর

উত্তর: ক। পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

৩। আহসান হাবীব কোথায় আইএ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন?

  • ক. বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ
  • খ. রাজশাহী কলেজ
  • গ. চট্টগ্রাম কলেজ
  • ঘ. ঢাকা কলেজ

উত্তর: ক। তিনি বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে আইএ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।

৪। কর্মজীবনে আহসান হাবীব কোন পেশা গ্রহণ করেন?

  • ক. সাংবাদিকতা
  • খ. শিক্ষকতা
  • গ. চিকিৎসা পেশা
  • ঘ. আইন পেশা

উত্তর: ক। কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

৫। আহসান হাবীবের কবিতাকে কী বিশিষ্ট ব্যঞ্জনা দান করেছে?

  • ক. গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদ
  • খ. রাজনৈতিক তীব্রতা
  • গ. ঐতিহাসিক তথ্য
  • ঘ. ধর্মীয় অনুশাসন

উত্তর: ক। গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদ তাঁর কবিতাকে বিশিষ্ট ব্যঞ্জনা দান করেছে।

৬। আহসান হাবীব কীসের বিরুদ্ধে ও কীসের পক্ষে বক্তব্য রাখেন?

  • ক. শিক্ষার বিরুদ্ধে
  • খ. নগরায়ণের পক্ষে
  • গ. সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও আর্তমানবতার পক্ষে
  • ঘ. প্রযুক্তির বিরুদ্ধে ও প্রকৃতির পক্ষে

উত্তর: গ। তিনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন।

৭। আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যের নাম কী?

  • ক. সারা দুপুর
  • খ. ছায়াহরিণ
  • গ. আশায় বসতি
  • ঘ. রাত্রিশেষ

উত্তর: ঘ। তাঁর প্রথম কাব্য রাত্রিশেষ।

৮। নিচের কোনটি আহসান হাবীবের ছোটোদের জন্য লেখা কবিতার বই?

  • ক. সারা দুপুর
  • খ. ছায়াহরিণ
  • গ. জোছনা রাতের গল্প
  • ঘ. রানী খালের সাঁকো

উত্তর: গ। জোছনা রাতের গল্প ও ছুটির দিন দুপুরে তাঁর ছোটোদের জন্য লেখা কবিতার বই।

৯। ‘রানী খালের সাঁকো’ কী ধরনের রচনা?

  • ক. একটি কাব্যগ্রন্থ
  • খ. একটি কিশোরপাঠ্য উপন্যাস
  • গ. একটি ভ্রমণকাহিনি
  • ঘ. একটি প্রবন্ধগ্রন্থ

উত্তর: খ। রানী খালের সাঁকো তাঁর কিশোরপাঠ্য উপন্যাস।

১০। আহসান হাবীব কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?

  • ক. স্বাধীনতা পুরস্কার
  • খ. বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক পুরস্কার
  • গ. নোবেল পুরস্কার
  • ঘ. জাতীয় অধ্যাপক সম্মাননা

উত্তর: খ। তিনি সাহিত্যকর্মের জন্য বাংলা একাডেমি ও একুশে পদক পুরস্কার লাভ করেন।

১১। আহসান হাবীব কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

  • ক. ১৯৮৪
  • খ. ১৯৮৬
  • গ. ১৯৮৩
  • ঘ. ১৯৮৫

উত্তর: ঘ। দৈনিক বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক থাকাকালে ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুলাই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

আমি কোনো আগন্তুক নই কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

১২। কবিতাটির মূল বিষয় কী?

  • ক. একটি ভ্রমণকাহিনি
  • খ. একটি প্রেমের কাহিনি
  • গ. জন্মভূমির প্রকৃতি ও মানুষের সাথে গভীর সম্পর্কের ঘোষণা
  • ঘ. একটি ঐতিহাসিক ঘটনা

উত্তর: গ। কবিতাটিতে জন্মভূমির প্রকৃতি ও মানুষের সাথে কবির গভীর, আত্মিক সম্পর্কের আন্তরিক ঘোষণা প্রকাশ পেয়েছে।

১৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় ‘দেশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

  • ক. শুধু রাজনৈতিক পরিচয়
  • খ. শুধু চারপাশের প্রকৃতি
  • গ. শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানা
  • ঘ. শুধু প্রকৃতি নয়, তাকে আপন সত্তায় অনুভব করা

উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দেশ মানে শুধু চারপাশের প্রকৃতি নয়, একে আপন সত্তায় অনুভব করা— আর দেশকে অনুভব করলেই দেশের মানুষকেও আপন মনে হয়।

১৪। কবিতার শুরুতে কবি কাদের সাক্ষী মেনে কথা বলেন?

  • ক. শুধু নদীকে
  • খ. শুধু পাখিদের
  • গ. আসমানের তারা, জমিনের ফুল, জোনাকি প্রভৃতি
  • ঘ. মানুষদের

উত্তর: গ। কবি আসমানের তারা, জমিনের ফুল, নিশিরাইতের বাঁশবাগানের জোনাকি প্রভৃতি প্রকৃতির উপাদানকে সাক্ষী মেনে কথা বলেন।

১৫। কোন পাখি কবিকে চেনে বলে বলা হয়েছে?

  • ক. চড়ুই
  • খ. কোকিল
  • গ. শালিক
  • ঘ. মাছরাঙা

উত্তর: ঘ। পুবের পুকুরের ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টিতে বসে থাকা মাছরাঙা কবিকে চেনে বলে বলা হয়েছে।

১৬। কবি নিজেকে কী নন বলে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন?

  • ক. একজন শিক্ষিত মানুষ নন
  • খ. একজন সাংবাদিক নন
  • গ. একজন কবি নন
  • ঘ. অভ্যাগত, ভিনদেশি পথিক বা আগন্তুক নন

উত্তর: ঘ। কবি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, তিনি কোনো অভ্যাগত (অতিথি) নন, খোদার কসম তিনি ভিনদেশি পথিক নন, তিনি কোনো আগন্তুক নন।

১৭। ‘এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা— সারা দেশে’ পঙক্তিটির অর্থ কী?

  • ক. কবি দেশের অন্য কোথাও যাননি
  • খ. এই একটি স্থানের সাথে সম্পর্কই কবিকে সমগ্র দেশের সাথে সংযুক্ত করে
  • গ. এর কোনো বিশেষ অর্থ নেই
  • ঘ. কবি একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই সীমাবদ্ধ

উত্তর: খ। এই পঙক্তিতে কবি বোঝাতে চান, তাঁর জন্মভূমির এই একটি ছোট স্থানের সাথে গভীর সম্পর্কই তাঁকে সমগ্র দেশের সাথে সংযুক্ত করে দেয়— স্থানীয় ও জাতীয় পরিচয়ের এই ঐক্য কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা।

১৮। খর রৌদ্র, জলজ বাতাস, মেঘ ও ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা কবি সম্পর্কে কী জানে?

  • ক. কবি একজন আগন্তুক
  • খ. কবি কোনো অনাত্মীয় নন
  • গ. কবি বিদেশ থেকে এসেছেন
  • ঘ. কবি তাদের চেনেন না

উত্তর: খ। খর রৌদ্র, জলজ বাতাস, মেঘ, ক্লান্ত বিকেলের পাখিরা কবিকে চেনে এবং জানে তিনি কোনো অনাত্মীয় (অ-আত্মীয়/অপরিচিত) নন।

১৯। কার্তিকের ধানের মঞ্জরী ছাড়া আর কী কী সাক্ষী বলে উল্লেখ করা হয়েছে?

  • ক. চিরল পাতার টলমল শিশির ও নিশিন্দার ছায়া
  • খ. শুধু বাতাস
  • গ. শুধু নদী
  • ঘ. শুধু আকাশ

উত্তর: ক। কার্তিকের ধানের মঞ্জরীর চিরল পাতার টলমল শিশির এবং জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা নিশিন্দার ছায়াও সাক্ষী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০। ‘ধানের মঞ্জরী’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?

  • ক. ধানের খড়
  • খ. ধানের শিকড়
  • গ. ধানের শিষ বা মুকুল
  • ঘ. ধানের তুষ

উত্তর: গ। ধানের মঞ্জরী অর্থ ধানের শিষ বা মুকুল।

২১। কদম আলী চরিত্রটি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

  • ক. তিনি একজন যুবক
  • খ. তিনি কবির শত্রু
  • গ. তিনি একজন ধনী ব্যক্তি
  • ঘ. তিনি অকাল বার্ধক্যে নত, ক্লান্ত চোখের অধিকারী

উত্তর: ঘ। কদম আলী অকাল বার্ধক্যে নত, তাঁর ক্লান্ত চোখে আঁধার— দারিদ্র্যক্লিষ্ট গ্রামীণ মানুষের এক প্রতিচ্ছবি।

২২। কবি কদম আলীর সাথে নিজের সম্পর্ক কীভাবে বর্ণনা করেন?

  • ক. তিনি তার চিরচেনা স্বজন
  • খ. তিনি তাকে চেনেন না
  • গ. তিনি তার সাথে অপরিচিত
  • ঘ. তিনি তার শত্রু

উত্তর: ক। কবি বলেন, তিনি কদম আলীকে চেনেন, তিনি তার চিরচেনা স্বজন একজন।

২৩। জমিলার মা কাদের প্রতিনিধিত্ব করেন বলে টীকায় বলা হয়েছে?

  • ক. শিক্ষিত শ্রেণির
  • খ. গরিব, অভাবী শ্রেণির
  • গ. ধনী শ্রেণির
  • ঘ. রাজনৈতিক শ্রেণির

উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী জমিলার মা গরিব, অভাবী শ্রেণির প্রতিনিধি।

২৪। জমিলার মায়ের রান্নাঘরের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

  • ক. আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত
  • খ. শূন্য খাঁ খাঁ, থালা শুকনো
  • গ. খাবারে ভরপুর
  • ঘ. পরিষ্কার ও সুন্দর

উত্তর: খ। জমিলার মায়ের রান্নাঘর শূন্য খাঁ খাঁ, থালাবাসন শুকনো— রান্নার উপকরণের অভাবে রান্না না হওয়ার করুণ চিত্র।

২৫। কবি ও জমিলার মায়ের সম্পর্ক কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

  • ক. তারা একে অপরকে চেনে না
  • খ. তাদের কোনো সম্পর্ক নেই
  • গ. তারা শত্রু
  • ঘ. উভয়েই একে অপরকে চেনে

উত্তর: ঘ। কবি বলেন তিনি জমিলার মায়ের সব চেনেন, আর সেও কবিকে চেনে— পারস্পরিক পরিচয় ও আত্মীয়তার গভীর বন্ধন।

২৬। কবি কোথায় হাত রাখতে বলেন যাতে তাঁর স্পর্শের প্রমাণ পাওয়া যায়?

  • ক. পানিতে
  • খ. বৈঠায় ও লাঙলে
  • গ. গাছের ডালে
  • ঘ. মাটিতে

উত্তর: খ। কবি বলেন, বৈঠায় লাঙলে হাত রাখতে, দেখতে তাঁর হাতের স্পর্শ কত গভীরভাবে লেগে আছে।

২৭। কবির শরীরে কী লেগে আছে বলে তিনি বলেন?

  • ক. কাদা
  • খ. ঘাম
  • গ. স্নিগ্ধ মাটির সুবাস
  • ঘ. ধুলাবালি

উত্তর: গ। কবি বলেন, তাঁর শরীরে লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস— গ্রামবাংলার প্রতি তাঁর গভীর, শারীরিক-আত্মিক বন্ধনের প্রকাশ।

২৮। ‘স্নিগ্ধ মাটির সুবাস’ বাক্যাংশের প্রতীকী অর্থ কী?

  • ক. একটি নির্দিষ্ট ঋতুর ইঙ্গিত
  • খ. কৃষিকাজের প্রতীক মাত্র
  • গ. মায়াবী ও আকর্ষণীয় গ্রামবাংলার প্রতীক
  • ঘ. আক্ষরিক মাটির গন্ধ মাত্র

উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী স্নিগ্ধ মাটির সুবাস বলতে মায়াবী ও আকর্ষণীয় গ্রামবাংলাকেই বোঝানো হয়েছে।

২৯। কবিতার শেষাংশে কবি নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে কী বলেন?

  • ক. তাঁর কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নেই
  • খ. ধানক্ষেত, সরু পথ ও নদীর কিনার তাঁর অস্তিত্বে গাঁথা
  • গ. তিনি শহুরে মানুষ
  • ঘ. তিনি প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন

উত্তর: খ। কবি বলেন, দু’পাশে ধানের খেত, সরু পথ, সামনে ধু ধু নদীর কিনার— সবকিছু তাঁর অস্তিত্বে গাঁথা।

৩০। কবি নিজেকে নদীর সাথে সম্পর্কে কী বলে বর্ণনা করেন?

  • ক. নদীর শত্রু
  • খ. একজন নাবিক
  • গ. একজন জেলে
  • ঘ. উধাও নদীর মুগ্ধ এক অবোধ বালক

উত্তর: ঘ। কবি নিজেকে এই উধাও (দূরপ্রসারী) নদীর মুগ্ধ এক অবোধ বালক বলে বর্ণনা করেন— শৈশবের সারল্য ও প্রকৃতির প্রতি নিরন্তর মুগ্ধতার প্রকাশ।

**৩১। কবিতায় ব্যবহৃত সাক্ষীদের নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান (তারা, ফুল, জোনাকি, পাখি) সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত
ii. গ্রামের সাধারণ মানুষও (কদম আলী, জমিলার মা) কবির পরিচয়ের সাক্ষী
iii. শুধু সরকারি নথিপত্রই কবির পরিচয়ের প্রকৃত সাক্ষী

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবিতায় সরকারি নথিপত্রের কোনো উল্লেখ নেই— বরং প্রকৃতি ও মানুষের অন্তরঙ্গ পরিচয়ই এখানে প্রকৃত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয়েছে; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।

৩২। ‘আসমান’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. মাটি
  • খ. পাহাড়
  • গ. সমুদ্র
  • ঘ. আকাশ

উত্তর: ঘ। আসমান অর্থ আকাশ।

৩৩। ‘জমিন’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. পানি
  • খ. আকাশ
  • গ. ভূমি
  • ঘ. বাতাস

উত্তর: গ। জমিন অর্থ ভূমি।

৩৪। ‘নিশিরাইত’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. দুপুরবেলা
  • খ. সন্ধ্যাবেলা
  • গ. ভোরবেলা
  • ঘ. গভীর রাত (নিশীথ রাত্রির গ্রামীণ কথ্যরূপ)

উত্তর: ঘ। নিশিরাইত ‘নিশীথ রাত্রি’র গ্রামীণ কথ্যরূপ, যা গভীর রাত বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

৩৫। ‘অভ্যাগত’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. একজন প্রতিবেশী
  • খ. একজন আত্মীয়
  • গ. স্থায়ী বাসিন্দা
  • ঘ. গৃহে আসা ব্যক্তি, আগন্তুক, নিমন্ত্রিত অতিথি

উত্তর: ঘ। অভ্যাগত অর্থ গৃহে এসেছে এমন ব্যক্তি, অর্থাৎ আগন্তুক বা নিমন্ত্রিত অতিথি।

৩৬। ‘নিশিন্দা’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. একটি ফুল
  • খ. একটি পাখি
  • গ. গ্রামীণ এক ধরনের গাছ
  • ঘ. একটি নদী

উত্তর: গ। নিশিন্দা গ্রামীণ এক ধরনের গাছ।

৩৭। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জন্মভূমির সাথে মানুষের সম্পর্ক কেমন?

  • ক. আজীবনের, তুলনাহীন
  • খ. গুরুত্বহীন
  • গ. শুধু আইনি সম্পর্ক
  • ঘ. সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী

উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আজীবনের এবং এই অনুভূতি তুলনাহীন।

৩৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দেশকে অনুভব করলে কী হয়?

  • ক. কোনো পরিবর্তন হয় না
  • খ. দেশের মানুষকেও আপন মনে হয়
  • গ. দেশ ত্যাগের ইচ্ছা জাগে
  • ঘ. দেশের প্রতি উদাসীনতা বাড়ে

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দেশকে অনুভব করলেই দেশের মানুষকেও আপন মনে হয়।

৩৯। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি কাদের মতো মানুষের চিরচেনা স্বজন?

  • ক. শুধু সাহিত্যিকদের
  • খ. শুধু শহরের মানুষদের
  • গ. কদম আলী, জমিলার মায়ের মতো গ্রামীণ মানুষদের
  • ঘ. শুধু ধনী ব্যক্তিদের

উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি কদম আলী, জমিলার মায়ের মতো মানুষের চিরচেনা স্বজন।

৪০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি কোন গভীর সত্যকে তুলে ধরে?

  • ক. মানুষ প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন
  • খ. মানবজীবন জন্মভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত
  • গ. মানুষের কোনো স্থায়ী পরিচয় নেই
  • ঘ. দেশপ্রেমের কোনো ব্যবহারিক গুরুত্ব নেই

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি এই সত্য তুলে ধরে যে মানবজীবন জন্মভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

৪১। কবিতাটির কাব্যরীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?

  • ক. এটি আধুনিক মুক্তক গদ্যছন্দে রচিত, নির্দিষ্ট অন্ত্যমিল নেই
  • খ. এটি একটি সনেট
  • গ. এটি অমিত্রাক্ষর মহাকাব্যিক ছন্দে রচিত
  • ঘ. এটি পয়ার ছন্দে রচিত

উত্তর: ক। কবিতাটি আধুনিক মুক্তক গদ্যছন্দে রচিত, যেখানে নির্দিষ্ট অন্ত্যমিল বা প্রথাগত ছন্দবিন্যাসের কড়াকড়ি নেই, বরং ভাবের স্বাভাবিক প্রবাহ অনুসরণ করা হয়েছে।

৪২। কবিতায় ‘সাক্ষী’ শব্দটির বারবার ব্যবহারের কাব্যিক উদ্দেশ্য কী?

  • ক. এটি নিছক পুনরাবৃত্তি
  • খ. এটি শুধু ছন্দ মেলানোর জন্য
  • গ. এর কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই
  • ঘ. এটি কবির দাবিকে আইনি সাক্ষ্যের মতো নিশ্চিত করে তোলে

উত্তর: ঘ। ‘সাক্ষী’ শব্দের বারংবার ব্যবহার কবির দাবিকে জোরালো ও প্রায় আইনি সাক্ষ্যের মতো নিশ্চিত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে— তিনি সত্যিই এই মাটির সন্তান, এই দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

৪৩। কবিতায় প্রকৃতি ও মানুষ উভয়কেই সাক্ষী মানার মধ্য দিয়ে কোন গভীরতর ভাবনা প্রকাশ পায়?

  • ক. শুধু মানুষই প্রকৃত সাক্ষী হতে পারে
  • খ. প্রকৃতি ও মানুষ উভয়ই পরিচয় ও শিকড়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ
  • গ. প্রকৃতি মানুষের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
  • ঘ. প্রকৃতি ও মানুষ সম্পূর্ণ পৃথক সত্তা

উত্তর: খ। প্রকৃতি ও মানুষ উভয়কেই সাক্ষী মানার মধ্য দিয়ে কবি প্রকাশ করেন যে, একজন ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ও শিকড় শুধু মানুষের সাথে সম্পর্কেই নয়, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের সাথেও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

৪৪। কদম আলী ও জমিলার মায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করার মাধ্যমে কবিতায় কোন সামাজিক বাস্তবতা প্রকাশ পায়?

  • ক. শহুরে জীবনের প্রশংসা
  • খ. গ্রামীণ দারিদ্র্য ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি সহমর্মিতা
  • গ. গ্রামীণ জীবনের সমৃদ্ধি
  • ঘ. রাজনৈতিক বিভাজন

উত্তর: খ। কদম আলীর ক্লান্ত চোখ ও জমিলার মায়ের শূন্য রান্নাঘরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কবি গ্রামীণ দারিদ্র্য ও প্রান্তিক মানুষের কষ্টের প্রতি তাঁর গভীর সহমর্মিতা ও তাদের সাথে তাঁর নিজের অভিন্ন পরিচয়বোধ প্রকাশ করেছেন।

৪৫। কবিতাটি বনফুলের ‘নিমগাছ’ বা জসীমউদ্দীনের ‘যাব আমি তোমার দেশে’-র মতো অন্যান্য প্রকৃতিবিষয়ক রচনা থেকে কীভাবে ভিন্ন?

  • ক. এটি একটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধ
  • খ. এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, প্রকৃতির সাথে কোনো সম্পর্ক নেই
  • গ. এটি নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের দাবি প্রতিষ্ঠার আত্মপরিচয়মূলক রচনা
  • ঘ. এটি একটি অনুবাদ কবিতা

উত্তর: গ। যেখানে অন্যান্য প্রকৃতিবিষয়ক কবিতা মূলত বর্ণনাত্মক, সেখানে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ প্রকৃতির বর্ণনার পাশাপাশি নিজের পরিচয়, অস্তিত্ব ও শিকড়ের দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করার একটি ব্যক্তিগত, আত্মপরিচয়মূলক রচনা— এটি তাকে অনন্য করে তোলে।

শহরে বহু বছর কাটানোর পর রফিক তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেলে প্রতিবেশীরা প্রথমে তাকে চিনতে পারে না। কিন্তু যখন সে পুরনো পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে ছেলেবেলার বন্ধুদের নাম ধরে ডাকে, মাটির গন্ধ শুঁকে চোখ বন্ধ করে, তখন গ্রামের বৃদ্ধরা বলে ওঠে, ‘আরে, এ তো আমাদেরই ছেলে!’

৪৬। রফিকের অভিজ্ঞতার সাথে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার কবির অনুভূতির কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?

  • ক. জন্মভূমির সাথে গভীর সম্পর্ক ও পরিচয়ের দাবি
  • খ. শহুরে জীবনের প্রতি আকর্ষণ
  • গ. গ্রামের প্রতি উদাসীনতা
  • ঘ. প্রতিবেশীদের প্রতি অবিশ্বাস

উত্তর: ক। কবি যেমন প্রকৃতি ও মানুষকে সাক্ষী রেখে নিজের অবিচ্ছেদ্য পরিচয় দাবি করেন, রফিকও তেমনি পুরনো স্মৃতি ও পরিচিত পরিবেশের সাথে নিজেকে যুক্ত করে প্রমাণ করে সে সত্যিই সেই গ্রামেরই সন্তান— উভয়ের মধ্যেই জন্মভূমির সাথে এই গভীর, অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের বোধ কাজ করে।

৪৭। এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে শিকড় ও পরিচয়ের সম্পর্ক নিয়ে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?

  • ক. প্রকৃত পরিচয় ও শিকড় সময় ও দূরত্বেও হারিয়ে যায় না
  • খ. মানুষের পরিচয় ক্রমাগত পরিবর্তনশীল
  • গ. মানুষের পরিচয় শুধু বর্তমান অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল
  • ঘ. জন্মভূমির প্রতি কোনো দায় থাকা উচিত নয়

উত্তর: ক। এই ধরনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, প্রকৃত পরিচয় ও শিকড় সময় বা দূরত্বের সাথে হারিয়ে যায় না, বরং তা মানুষের সত্তার গভীরে চিরকাল বাঁধা থাকে— যেকোনো সময় তা পুনরায় জাগ্রত হতে পারে।

৪৮। কবিতায় বারবার ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ পঙক্তিটির পুনরাবৃত্তির কাব্যিক প্রভাব কী?

  • ক. এর কোনো বিশেষ প্রভাব নেই
  • খ. এটি নিছক শব্দচয়নের দুর্বলতা
  • গ. এটি কেন্দ্রীয় দাবিকে দৃঢ় করে সংগীতময় ছন্দ তৈরি করে
  • ঘ. এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করে

উত্তর: গ। এই পঙক্তির পুনরাবৃত্তি কবিতার কেন্দ্রীয় দাবিকে (তিনি এই মাটিরই সন্তান) দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং একইসাথে একটি সংগীতময়, তাগিদপূর্ণ ছন্দ তৈরি করে, যা কবিতাকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।

৪৯। কবিতাটি ব্যক্তিগত পরিচয় ও সামষ্টিক দেশাত্মবোধের মধ্যে কীভাবে সেতুবন্ধন তৈরি করে?

  • ক. শুধু সামষ্টিক পরিচয়ই গুরুত্বপূর্ণ
  • খ. নিজের ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা দিয়েই দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন
  • গ. এই দুইয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই
  • ঘ. ব্যক্তিগত পরিচয় দেশপ্রেমের বিপরীত

উত্তর: খ। কবি তাঁর নিজের অত্যন্ত ব্যক্তিগত, ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা (নিজের গ্রামের পুকুর, মাছরাঙা, প্রতিবেশী) বর্ণনার মধ্য দিয়েই সমগ্র দেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেন— ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দেশপ্রেমের এই সেতুবন্ধনই কবিতার একটি বিশেষ কাব্যিক কৌশল।

৫০। কবিতাটি সামগ্রিকভাবে পাঠকের মনে কোন প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে?

  • ক. গ্রাম ও শহরের মধ্যে কোনটি ভালো
  • খ. নিজের শিকড়ের সাথে সম্পর্ক কতটা গভীর তা নিয়ে আত্মজিজ্ঞাসা
  • গ. দেশ ত্যাগ করা উচিত কিনা
  • ঘ. প্রকৃতির গুরুত্ব আছে কিনা

উত্তর: খ। কবিতাটি পাঠকের মনে এই গভীর আত্মজিজ্ঞাসা জাগিয়ে তোলে যে, নিজের শিকড়, জন্মভূমি ও তার মানুষের সাথে নিজের সম্পর্ক আসলে কতটা গভীর ও অবিচ্ছেদ্য।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜