আশা কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “আশা” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য আশা কবিতার MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
সিকান্দার আবু জাফর ও আশা কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
সিকান্দার আবু জাফর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
সিকান্দার আবু জাফরের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান খুলনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম।
কর্মজীবনে সিকান্দার আবু জাফর কী পেশায় ছিলেন?
তিনি সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন।
সিকান্দার আবু জাফর মুক্তিযুদ্ধের কোন বিখ্যাত গান রচনা করেন?
তিনি ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে’ গান রচনা করেন।
সিকান্দার আবু জাফরের একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ প্রসন্ন শহর।
সিকান্দার আবু জাফর কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?
তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
সিকান্দার আবু জাফর কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
নিচের কোনটি সিকান্দার আবু জাফরের কর্মস্থল পত্রিকা নয়?
সাপ্তাহিক সওগাত তাঁর কর্মস্থল ছিল না; বাকি তিনটি পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সিকান্দার আবু জাফরের লেখা কোন গান বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করে?
‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে’ গানটি স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।
সিকান্দার আবু জাফরের গণসংগীত ও কবিতা কীসের প্রেরণায় সমৃদ্ধ?
তাঁর গণসংগীত ও কবিতা মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রেরণায় সমৃদ্ধ।
সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য কোন কোন পুরস্কারে ভূষিত হন?
তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন।
আশা কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘আশা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
এটি মালব কৌশিক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
আশা কবিতার মূল বিষয় কী?
বিত্ত-বৈভবের মোহহীন, সহজ-সরল, মানবপ্রেমী দরিদ্র মানুষের জগতে হারিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
কবি কোন জগতে হারিয়ে যেতে চান?
যেখানে দরিদ্র মানুষেরা জীর্ণ ঘরে নির্ভাবনায় ঘুমায়, সেই জগতে হারিয়ে যেতে চান।
সেই জগতের মানুষ কী জমায় না বলে কবি বলেন?
তারা সোনা-রুপার পাহাড় জমায় না।
সেই জগতের মানুষ কীসের দুর্ভাবনায় আয়ু কমায় না?
তারা বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় আয়ু কমায় না।
সারাদিনের পরিশ্রমেও একদিনের আহার্য না জুটলে তাদের মনে কী থাকে না?
তাদের মনে দুরাশা, দীনতা বা সংশয় থাকে না।
সেই জগতের মানুষ প্রতিবেশীর দুঃখে কী করতে পারে?
তারা প্রতিবেশীর দুঃখে আলো জ্বালাতে পারে।
কবি কীসের অন্তরালে হারিয়ে যেতে চান?
কবি কান্না-হাসির অন্তরালে হারিয়ে যেতে চান।
‘নির্ভাবনায়’ শব্দের অর্থ কী?
নির্ভাবনায় অর্থ নিশ্চিন্তে।
‘বিত্ত’ শব্দের অর্থ কী?
বিত্ত অর্থ ধনসম্পদ।
‘দুরাশা’ শব্দের অর্থ কী?
দুরাশা অর্থ দূরাগত বা অসম্ভব আশা।
‘দীনতা’ শব্দের অর্থ কী?
দীনতা অর্থ দরিদ্রতা বা হীনম্মন্যতা।
আশা কবিতার মূল ভাব কী?
বিত্ত-বৈভবের মোহহীন, সরল, মানবপ্রেমী দরিদ্র মানুষদের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সুখ ও মনুষ্যত্ব নিহিত।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জাগতিক পৃথিবী সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জাগতিক এই পৃথিবী ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, মানুষ ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, মানুষে-মানুষে ব্যবধান বাড়ছে।
‘জীর্ণ বেড়ার ঘর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
জীর্ণ বেড়ার ঘর বলতে দরিদ্র মানুষের ভাঙা, সাধারণ বাসস্থান বোঝানো হয়েছে, যেখানেও মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।
কবি এই মানুষদের নির্ভাবনার ঘুমকে কীসের বিপরীতে স্থাপন করেছেন?
টীকা অনুযায়ী সুখের চিন্তায় অনেক মানুষের রাতে ঘুম হয় না, কিন্তু এই দরিদ্র মানুষেরা সারাদিন কাজের পর শান্তির ঘুমে তৃপ্তি পায়— এই বৈপরীত্যই কবি তুলে ধরেছেন।
কবির কল্পিত জগতে মানুষ কী করে না?
সেই জগতে মানুষ সোনা-রুপায় পাহাড় জমায় না।
বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষের কী কমায় বলে কবি বলেন?
কবি বলেন, বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনায় মানুষ আয়ু কমায়— অর্থাৎ সম্পদের পেছনে ছুটে জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে।
টীকা অনুযায়ী বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনার প্রকৃত ফলাফল কী?
টীকা অনুযায়ী বিত্ত-সুখের দুর্ভাবনা মানুষকে সুখ দেয় না, বরং বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত করে অকালমৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
কবির কল্পিত জগতের মানুষ কীসে তুষ্ট থাকে?
কবি বলেন, সেই জগতে লোকে তুচ্ছ নিয়ে তুষ্ট থাকে— ছোট ছোট আনন্দেই তাদের জীবন কাটে।
এই মানুষেরা সারাদিন পরিশ্রম করেও কী খুঁজে পায় না?
কবি বলেন, সারাদিনের পরিশ্রমেও তারা একটি দিনের আহার্য-সঞ্চয় খুঁজে পায় না— চরম দারিদ্র্যের চিত্র।
এই দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাদের মনে কী নেই বলে কবি বলেন?
কবি বলেন, চরম দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাদের মনের কোণে দুরাশার গ্লানি নেই, দীনতা নেই, কোনো সংশয়ও নেই— এক গভীর মানসিক প্রশান্তির চিত্র।
এই মানুষেরা প্রতিবেশীর প্রতি কী করতে পারে?
কবি বলেন, তারা প্রতিবেশীর আঁধার ঘরে আলো জ্বালতে পারে— অর্থাৎ অন্যের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে এগিয়ে আসতে পারে।
টীকা অনুযায়ী প্রতিবেশীর দুঃখে এগিয়ে আসার মধ্যে কী নিহিত আছে?
টীকা অনুযায়ী মানবপ্রেম বা মানুষকে ভালোবাসতে পারার মাঝে জীবনের মহত্ত্ব নিহিত থাকে, প্রতিবেশীর দুঃখ দূর করার মাঝেও এক ধরনের তৃপ্তি আছে।
আশা কবিতার শেষে কবি আবার কী বলেন?
কবিতা শেষ হয় কবির পুনরাবৃত্ত আকাঙ্ক্ষায়— সেই জগতের কান্না-হাসির অন্তরালে তিনি হারিয়ে যেতে চান।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি কাদের সান্নিধ্য পেতে চান?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি সেসব মানুষের সান্নিধ্য পেতে চান যারা প্রকৃত অর্থেই মানুষ, মনুষ্যত্বের আলো জ্বালিয়ে রেখেছেন।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে কোন ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে গণমানুষের প্রতি একাত্মতা, মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের সুগভীর সংবেদনা প্রতিফলিত হয়েছে।
আশা কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত সুখ কীসের মধ্যে নিহিত?
কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত সুখ অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং সরলতা, তুষ্টি ও গভীর মানবিক সম্পর্কের মধ্যে নিহিত।
কবি ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে কোন বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন?
কবি দেখান, ধনীরা সম্পদ আহরণ ও সুখের দুশ্চিন্তায় নিদ্রাহীন রাত কাটায়, অথচ দরিদ্র মানুষেরা সারল্য ও তুষ্টির মধ্যে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে— এই বৈপরীত্যই কবিতার মূল ভাবনার কেন্দ্রে।
করিম মিয়ার চরিত্রের সাথে ‘আশা’ কবিতার কল্পিত জগতের মানুষদের কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?
করিম মিয়া যেমন দারিদ্র্যের মধ্যেও নিশ্চিন্তে ঘুমান ও প্রতিবেশীকে সাহায্য করেন, কবিতার কল্পিত জগতের মানুষেরাও ঠিক এই একই গুণাবলি ধারণ করে— এখানেই তাদের মিল।
করিম মিয়ার জীবনযাত্রা আশা কবিতার কোন মূল বার্তাকে সমর্থন করে?
করিম মিয়ার জীবনযাত্রা প্রমাণ করে, বিত্তের প্রাচুর্য ছাড়াও মানবিকতা, সারল্য ও পরার্থপরতার মধ্য দিয়ে জীবনের প্রকৃত মহত্ত্ব অর্জন করা সম্ভব— এটাই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।
কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত?
কবিতাটি মুক্তক ছন্দে রচিত একটি আধুনিক গীতিকবিতা, যেখানে কবির ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও আবেগ সরাসরি প্রকাশিত হয়েছে।
আশা কবিতায় ‘ভাই’ সম্বোধনটি বারবার ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
‘ভাই’ সম্বোধনের মাধ্যমে কবি পাঠকের সাথে একটি আন্তরিক, ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি সংলাপের সুর তৈরি করেছেন, যা কবিতার আবেদনকে আরও হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
কবিতাটি কি দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করে, নাকি দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানবিক গুণাবলিকে?
কবিতাটি দারিদ্র্য নিজে নয়, বরং তার মধ্যেও টিকে থাকা মানবিকতা, সারল্য ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গুণকেই মহিমান্বিত করেছে— এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
কবিতাটির সুর কেমন— নৈরাশ্যবাদী নাকি আশাবাদী?
যদিও কবিতায় সমাজের জটিলতা ও আত্মকেন্দ্রিকতার প্রচ্ছন্ন সমালোচনা আছে, কবিতার সুর মূলত আশাবাদী— কবি বিশ্বাস করেন এমন একটি সরল, মানবিক জগৎ সত্যিই বিদ্যমান ও তার সন্ধানে তিনি আকুল।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
আশা কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
কবি কেন দরিদ্র মানুষের জগতে হারিয়ে যেতে চান— ব্যাখ্যা করো।
কবি মনে করেন এই জগতের মানুষ বস্তুগত মোহ থেকে মুক্ত, সরল ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল— জটিল, প্রতিযোগিতাপূর্ণ আধুনিক জীবনের বিপরীতে এই সারল্যই তাঁকে আকৃষ্ট করে।
‘সোনা-রুপার পাহাড় জমায় না’ পঙক্তির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই পঙক্তিতে সেই মানুষদের লোভহীনতা ও সরল জীবনদর্শন প্রকাশ পায়— তারা সম্পদ আহরণের প্রতিযোগিতায় নিমগ্ন নয়, বরং জীবনের সহজ আনন্দেই সন্তুষ্ট।
সারাদিনের পরিশ্রমেও আহার্য না জুটলেও মনে দুরাশা-দীনতা না থাকার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই বর্ণনায় সেই মানুষদের অসাধারণ মানসিক স্থৈর্য ও জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়— বস্তুগত অভাব সত্ত্বেও তাদের মানসিক প্রশান্তি অটুট থাকে।
প্রতিবেশীর দুঃখে আলো জ্বালানোর প্রতীকী অর্থ কী— ব্যাখ্যা করো।
এই পঙক্তিতে সেই সমাজের মানুষদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সাহায্যের মানসিকতা প্রকাশ পায়— নিজের অভাব সত্ত্বেও অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিকতাই কবির কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
কবি কেন কান্না-হাসি উভয়ের অন্তরালে হারিয়ে যেতে চান, শুধু আনন্দের মধ্যে নয়— ব্যাখ্যা করো।
কবি জীবনের সম্পূর্ণতা— সুখ ও দুঃখ উভয়কেই আলিঙ্গন করতে চান, কারণ প্রকৃত মানবিক জীবন শুধু আনন্দময় নয়, বরং সুখ-দুঃখের সহাবস্থানেই তার পূর্ণতা— এই গভীর জীবনবোধ কবিতায় প্রকাশ পায়।
কবিতাটি আধুনিক, বস্তুবাদী জীবনযাত্রার প্রতি কী সমালোচনা করে— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি ইঙ্গিতে বস্তুবাদী, সম্পদকেন্দ্রিক আধুনিক জীবনযাত্রার সমালোচনা করে— যেখানে সম্পদ আহরণই মুখ্য লক্ষ্য, সেই জীবনের বিপরীতে দরিদ্র মানুষের সরল, মানবিক জীবনকেই কবি অধিক মূল্যবান মনে করেন।
কবির সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে পরিচয়ের সাথে এই আশা কবিতার ভাবের কী সম্পর্ক থাকতে পারে— ব্যাখ্যা করো।
সিকান্দার আবু জাফরের গণসংগীত ও কবিতা যেমন মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রেরণায় সমৃদ্ধ, তেমনি এই কবিতাতেও সাধারণ, দরিদ্র মানুষের জীবন ও মূল্যবোধের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ প্রতিফলিত হয়েছে।
কবিতাটি কীভাবে বাংলা সাহিত্যের সামাজিক-মানবিক চেতনাধারার সাথে সংগতিপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
‘মমতাদি’, ‘অভাগীর স্বর্গ’-এর মতো রচনাগুলোর মতোই এই কবিতাও প্রান্তিক, দরিদ্র মানুষের প্রতি মানবিক সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা প্রকাশের বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ ঐতিহ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
কবিতার শিরোনাম ‘আশা’-র তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
শিরোনামটি কবির নিজের গভীর আকাঙ্ক্ষা বা আশাকে নির্দেশ করে— বস্তুগত জটিলতা থেকে মুক্ত হয়ে সরল, মানবিক জীবনের সাথে একাত্ম হওয়ার এই আশাই কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব।
কবিতাটি থেকে পাঠক জীবনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে কী শিক্ষা নিতে পারেন— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি পাঠককে শেখায়, জীবনে মানবিক সম্পর্ক, সারল্য ও পরার্থপরতা কখনো কখনো বস্তুগত সমৃদ্ধির চেয়েও অধিক মূল্যবান ও অর্থবহ হতে পারে— এটিই কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জীবনশিক্ষা।
‘কান্না-হাসির অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া’ বাক্যাংশটি কী নির্দেশ করে?
এই বাক্যাংশ জীবনের সুখ-দুঃখ উভয় অভিজ্ঞতার সাথে সম্পূর্ণভাবে একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নির্দেশ করে, নিছক পলায়ন নয়।
কবির মতে এই দরিদ্র মানুষেরা কেন প্রকৃত অর্থে ‘মানুষ’?
কবি মনে করেন, দারিদ্র্যের মধ্যেও যারা মানুষকে ভালোবাসতে পারে ও প্রতিবেশীকে সাহায্য করে, তারাই প্রকৃত অর্থে মানুষ— বিত্ত নয়, মানবিকতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
আশা কবিতায় ধনী ও দরিদ্রের তুলনা করার মধ্য দিয়ে কবি কোন সামাজিক বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত দেন?
কবিতার মাধ্যমে কবি ইঙ্গিত দেন যে, বস্তুগত সমৃদ্ধি ও প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি সবসময় একসাথে আসে না— বরং কখনো কখনো সরলতা ও অল্পে তুষ্টিই প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি।
আশা কবিতায় ‘আধুনিক নাগরিক জীবন’ সম্পর্কে কোনো প্রত্যক্ষ সমালোচনা না থাকলেও, কীভাবে পরোক্ষ সমালোচনা ফুটে উঠেছে?
বিত্ত-আসক্ত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত জীবনযাত্রার বিপরীতে সরল, তুষ্ট, মানবিক জীবনের প্রশংসার মধ্য দিয়েই কবি পরোক্ষভাবে আধুনিক আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার সমালোচনা করেছেন।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে আশা কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
