বঙ্গবাণী কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বঙ্গবাণী” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বঙ্গবাণী কবিতার MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
আবদুল হাকিম ও বঙ্গবাণী কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
আবদুল হাকিম আনুমানিক কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি আনুমানিক ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
আবদুল হাকিমের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান সন্দ্বীপের সুধারামপুর গ্রাম।
আবদুল হাকিম কোন যুগের কবি?
তিনি মধ্যযুগের অন্যতম প্রধান কবি।
আবদুল হাকিমের বিখ্যাত কাব্যের নাম কী?
তাঁর বিখ্যাত কাব্য নূরনামা।
আবদুল হাকিম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
যারা বাংলাদেশে জন্মেও বঙ্গবাণীকে হিংসা করে, তাদের সম্পর্কে কবির মন্তব্য কী?
তাদের জন্ম-পরিচয় নির্ণয় করা যায় না বলে কবি মন্তব্য করেন।
নিচের কোনটি আবদুল হাকিমের কাব্য নয়?
মৈমনসিংহ গীতিকা দীনেশচন্দ্র সেন সংগৃহীত লোকসাহিত্য, কোনো ব্যক্তিবিশেষের রচনা নয়; বাকি তিনটি আবদুল হাকিমের কাব্য।
বঙ্গবাণী কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘বঙ্গবাণী’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
এটি নূরনামা কাব্য থেকে সংকলিত।
বঙ্গবাণী কবিতার শুরুতে কারা কবির কাছে মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে?
যাদের কিতাব পড়িতে অভ্যাস নেই, তারা কবির কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করে।
আরবি-ফারসি ভাষার প্রতি কবির মনোভাব কেমন?
কবির কোনো রাগ বা বিদ্বেষ নেই।
কবির মতে বিভিন্ন দেশের মানুষের বাক্য কে বোঝেন?
প্রভু (আল্লাহ) স্বয়ং সব ভাষা বোঝেন।
‘মারফত ভেদে যার নাহিক গমন’ পঙক্তিতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
যারা মরমি সাধনায় অগ্রসর হয়নি, তাদের কথা বলা হয়েছে।
কবির শেষ পঙক্তিতে কী বলা হয়েছে?
পূর্বপুরুষ ক্রমে বঙ্গে বসতি, তাই দেশি ভাষার উপদেশ মনে অত্যন্ত হিতকর।
‘হাবিলাষ’ শব্দের অর্থ কী?
হাবিলাষ অর্থ অভিলাষ বা প্রবল ইচ্ছা।
‘ছিফত’ শব্দের অর্থ কী?
ছিফত অর্থ গুণ।
‘বঙ্গবাণী’ শব্দের অর্থ কী?
বঙ্গবাণী অর্থ বাংলা ভাষা।
‘মারফত’ শব্দের অর্থ কী?
মারফত অর্থ মরমি সাধনা।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বঙ্গবাণী কবিতায় কোন দুটি ভাব একসাথে প্রকাশ পেয়েছে?
মাতৃভাষার প্রতি প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাব একসাথে প্রকাশ পেয়েছে।
দেশি ভাষে বুঝিতে কবির মতে কী?
দেশি ভাষায় বোঝাটাই সৌভাগ্যের বিষয়।
কবি বাংলা ভাষাকে কেমন বলে অভিহিত করেন?
কবি বলেন, ‘আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা’ (নূরনামায় ভাব অনুযায়ী)— বাংলা ভাষাকে তিনি মধুর বলে অভিহিত করেন।
বঙ্গবাণী কবিতার মূল বার্তা কী?
মধ্যযুগীয় প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর প্রেম ও অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রকাশ।
তাদের অনুরোধে কবি কী করেন?
সেই কাজে তিনি বাংলা ভাষায় রচনা করে নিজের পরিশ্রম দিয়ে সকলকে তুষ্ট করতে চান।
‘দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ’— পঙক্তিটির অর্থ কী?
এর অর্থ, দেশি ভাষায় (বাংলায়) সম্পূর্ণরূপে বোধগম্য হওয়াটাই বরং সৌভাগ্যের বিষয়।
কবির মতে আরবি, ফারসি ও হিন্দি ভাষায় কী রচিত হতে পারে?
কবি বলেন, আরবি-ফারসি-হিন্দিতে যদি আল্লাহ ও নবির ছিফত (গুণগান) লেখা হয়, তাতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
‘নিরঞ্জন’ শব্দটি বঙ্গবাণী কবিতায় কার প্রতি ব্যবহৃত হয়েছে?
নিরঞ্জন অর্থ নির্মল, এখানে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
কবির মতে প্রভু কোন কোন ভাষা বোঝেন?
কবি বলেন, প্রভু সর্ববাক্যই বোঝেন— হিন্দুয়ানি হোক বা বঙ্গদেশী বাক্য, যত ভাষাই হোক না কেন।
মারফতে অগ্রসর না হওয়া মানুষেরা কী করে বলে কবি বলেন?
মরমি উপলব্ধির অভাবেই তারা বাংলা লিপির (হিন্দুর অক্ষর বলে ভুল ধারণা করে) প্রতি হিংসা পোষণ করে বলে কবি মনে করেন।
‘দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়’— এই পঙক্তির অর্থ কী?
এই পঙক্তির অর্থ, যাদের মন দেশি ভাষায় (বাংলায়) বিদ্যা অর্জনে সায় দেয় না বা যোগায় না।
যাদের মনে দেশি ভাষা বিদ্যা যোগায় না, কবি তাদের প্রতি কী প্রশ্ন তোলেন?
কবি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, নিজ দেশ ত্যাগ করে তারা কেন বিদেশে যায় না— অর্থাৎ যাদের নিজের ভাষার প্রতি ভালোবাসা নেই, তাদের এদেশে থাকারই বা কী অধিকার।
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে কবির মানসিকতার কোন দিকটি প্রকাশ পায়?
টীকা অনুযায়ী শিকড়হীন পরগাছা স্বভাবের এই মানুষদের প্রতি কবি তীব্র ক্ষোভে এই বলিষ্ঠ বাণী উচ্চারণ করেছেন।
বঙ্গবাণী কবিতার শেষ পঙক্তিতে কবি কী বলেন?
কবি বলেন, মাতা-পিতামহ ক্রমে বংশানুক্রমে বঙ্গে বসতি, তাই দেশি ভাষার উপদেশ মনে অত্যন্ত হিতকর মনে হয়।
কবির অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের প্রমাণ কী?
আরবি-ফারসির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেও বাংলা ভাষাকে ‘হিন্দুর ভাষা’ বলে অভিহিত করার প্রবণতাকে তিনি খণ্ডন করেছেন— এটাই তাঁর অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ।
সিফাতের এই প্রতিক্রিয়ার সাথে ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার কোন ভাবের মিল পাওয়া যায়?
আবদুল হাকিম যেমন বাংলা ভাষাকে হেয় করা মানুষদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, সিফাতও তেমনি নিজের মাতৃভাষার অবমূল্যায়নে কষ্ট পেয়েছে— উভয়ের মূলে রয়েছে মাতৃভাষাপ্রীতি।
কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত?
মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের প্রচলিত অক্ষরবৃত্ত বা পয়ার ছন্দে কবিতাটি রচিত, যা দুই পঙক্তির প্রতি জোড়ে অন্ত্যমিল বজায় রাখে।
বঙ্গবাণী কবিতায় ব্যবহৃত ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
কবিতায় মধ্যযুগীয় বাংলার প্রাচীন রূপ ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে ‘কিতাব’, ‘ছিফত’, ‘মারফত’-এর মতো আরবি-ফারসি শব্দের সাবলীল ব্যবহার লক্ষণীয়।
বঙ্গবাণী কবিতায় ‘দুই মত নাই’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে (আরবি-ফারসি-হিন্দি প্রসঙ্গে)?
এই ভাষাগুলোর ব্যবহার নিয়ে কবির কোনো দ্বিমত নেই, বিশেষত যদি তাতে আল্লাহ-নবির গুণগান রচিত হয়।
বঙ্গবাণী কবিতায় ব্যবহৃত ‘কিতাব’ শব্দটি সাধারণত কী বোঝায়?
কিতাব সাধারণত ধর্মগ্রন্থ বা শাস্ত্রগ্রন্থ বোঝায়, বিশেষত আরবি-ফারসি ভাষায় রচিত ধর্মীয় গ্রন্থ।
বঙ্গবাণী কবিতার মূল বার্তা অনুযায়ী ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয়ের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?
কবিতার মূল বার্তা অনুযায়ী কোনো ভাষাই নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়— বাংলা ভাষা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল বাঙালির সাধারণ ভাষা।
বঙ্গবাণী কবিতায় প্রকাশিত ভাবের সাথে বর্তমান কালের কোন সামাজিক সমস্যার মিল খুঁজে পাওয়া যায়?
আজও অনেকে মাতৃভাষাকে অবহেলা করে বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ দেখান— কবিতার প্রায় চারশ বছর আগের এই সমালোচনা আজও প্রাসঙ্গিক।
মিতালির মানসিকতার সাথে ‘বঙ্গবাণী’ কবিতার কোন বক্তব্যের মিল সবচেয়ে বেশি?
কবি যেমন বলেছেন দেশি ভাষায় বোঝা ও প্রকাশ করাটাই ভাগ্যের বিষয় (‘দেশী ভাষে বুঝিতে ললাটে পুরে ভাগ’), মিতালিও তেমনি মাতৃভাষাকেই নিজের ভাবপ্রকাশের সবচেয়ে সহজ ও আপন মাধ্যম মনে করেন।
কবিতাটি পাঠ করে কোন শিক্ষা পাওয়া যায়?
কবিতাটি শেখায়, নিজের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখা প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় বোধ— এতে অন্য ভাষার প্রতি অসম্মান দেখানোর প্রয়োজন নেই।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
বঙ্গবাণী কবিতাের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
বাংলায় জন্মেও বঙ্গবাণীকে ঘৃণা করা মানুষদের প্রতি কবির মন্তব্যের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
কবি ক্ষোভের সাথে বলেন তাদের জন্ম-পরিচয় নির্ণয় করা যায় না— এই কঠোর মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকাশ করেন, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাহীন মানুষের প্রকৃত আত্মপরিচয় নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
কবি কেন মাতৃভাষা-বিদ্বেষীদের ‘জন্ম নির্ণয় না জানা’ বলে কটাক্ষ করেন?
কবির যুক্তি, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি— যে তা অস্বীকার করে, তার প্রকৃত শিকড় বা পরিচয় নিয়েই সংশয় জাগে।
বঙ্গবাণী কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
কবি কেন বাংলায় রচনা করার সিদ্ধান্ত নেন— ব্যাখ্যা করো।
যারা কিতাব (আরবি-ফারসি শাস্ত্র) পড়তে পারে না, তাদের অনুরোধেই কবি বাংলায় রচনা করে তাদের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দিতে চান— সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
আল্লাহ সকল ভাষা বোঝেন বলার মধ্য দিয়ে কবি কী প্রমাণ করতে চান— ব্যাখ্যা করো।
কবি প্রমাণ করতে চান, ভাষার সাথে ধর্মীয় বিশুদ্ধতার কোনো সম্পর্ক নেই— আল্লাহ হিন্দুয়ানি হোক বা বঙ্গদেশী, সব ভাষাই বোঝেন, তাই বাংলা ভাষাকে হেয় করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।
মারফত-সাধনায় অনগ্রসর মানুষদের সমালোচনা কেন করা হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।
মরমি উপলব্ধির অভাবেই এই মানুষেরা বাংলা লিপির প্রতি অহেতুক হিংসা পোষণ করে বলে কবি মনে করেন— প্রকৃত আধ্যাত্মিক জ্ঞান থাকলে ভাষার প্রতি এমন বিদ্বেষ থাকত না।
কবির চূড়ান্ত প্রশ্ন (‘তারা কেন দেশ ছেড়ে বিদেশে যায় না’) কোন মানসিকতা প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।
এই তীব্র প্রশ্নের মধ্য দিয়ে কবি মাতৃভাষা-বিদ্বেষীদের প্রতি তাঁর গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এবং শিকড়হীন, পরগাছা স্বভাবের মানুষদের সমালোচনা করেন যারা নিজের দেশের ভাষাকেই সম্মান করে না।
বঙ্গবাণী কবিতার উপসংহারে বংশানুক্রমিক বসতির উল্লেখের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
পূর্বপুরুষ থেকে বংশানুক্রমে বাংলায় বসতি হওয়ার কারণেই মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি স্বাভাবিক মমত্ববোধ থাকা উচিত বলে কবি যুক্তি দেন— এটি তাঁর মূল যুক্তির একটি শক্তিশালী উপসংহার।
কবিতাটিকে কেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক দুর্লভ নিদর্শন বলা হয়— ব্যাখ্যা করো।
মধ্যযুগীয় পরিবেশে যেখানে ধর্মীয় বিভাজন প্রকট ছিল, সেখানে কবি আরবি-ফারসির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেও বাংলা ভাষাকে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন— এই দৃষ্টিভঙ্গি সেই সময়ে সত্যিই বিরল ও অগ্রগামী ছিল।
কবিতাটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের চেতনার সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
যদিও ভিন্ন সময়ে রচিত, উভয়ের মূলে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও তার প্রতি ভালোবাসার একই চেতনা কাজ করে— এই কারণেই ‘বঙ্গবাণী’ কবিতাকে ভাষাপ্রেমের এক আদি নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।
বঙ্গবাণী কবিতায় ধর্ম ও ভাষার সম্পর্ক নিয়ে কবির মূল দর্শন কী— ব্যাখ্যা করো।
কবির মূল দর্শন হলো, কোনো ভাষাই নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়— বাংলা ভাষা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল বাঙালির সাধারণ ভাষা, এবং আল্লাহর কাছে সব ভাষার প্রার্থনাই সমান গ্রহণযোগ্য।
কবিতাটি আজকের পাঠকদের কী শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি শেখায়, নিজের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বজায় রাখা প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক বোধ, এবং এই ভালোবাসা কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।
মধ্যযুগীয় পরিবেশে এই কবিতাকে কেন দুর্লভ নিদর্শন বলা হয়?
মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী ও বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ঠ বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন সত্যিই দুর্লভ।
সিফাতের অনুভূতি ও কবির অনুভূতির মধ্যে মূল পার্থক্য কী বলে বিশ্লেষণ করা যায়?
আবদুল হাকিম সরাসরি ভাষাবিদ্বেষীদের জন্ম-পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন, যেখানে সিফাতের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই নীরব ও ব্যক্তিগত— এই তীব্রতার পার্থক্যই দুই প্রকাশভঙ্গির মূল ফারাক।
কবি কেন নিজেকে ‘পরিশ্রম’ করে সকলকে তুষ্ট করার কথা বলেন?
যারা কিতাব পড়তে পারে না তাদের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য, তাই বাংলায় রচনার এই পরিশ্রমকে তিনি সার্থক মনে করেন।
মিতালির সিদ্ধান্তকে বঙ্গবাণী কবিতার আলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
কবিতায় যেমন মাতৃভাষার প্রতি স্বাভাবিক টান ও গর্বকে মহিমান্বিত করা হয়েছে, মিতালির সিদ্ধান্তও সেই একই মূল্যবোধের প্রতিফলন— এটি কোনো অযৌক্তিকতা নয়, বরং শেকড়ের প্রতি সচেতন আনুগত্য।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে বঙ্গবাণী কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
