বই পড়া প্রবন্ধের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বই পড়া” প্রবন্ধ থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে প্রবন্ধের সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বই পড়া প্রবন্ধের নোট দেখুন।
বই পড়া প্রবন্ধের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বই পড়া প্রবন্ধের লেখক কে?
প্রমথ চৌধুরী (জন্ম ৭ আগস্ট ১৮৬৮, যশোর; মৃত্যু ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬, কলকাতা)। ছদ্মনাম বীরবল। সবুজপত্র (১৯১৪) সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতির প্রবর্তক। উল্লেখযোগ্য রচনা: বীরবলের হালখাতা, রায়তের কথা, চার-ইয়ারি কথা, আহুতি, নীললোহিত, সনেট পঞ্চাশৎ।
উৎস ও রূপ
প্রবন্ধ সংগ্রহ থেকে সংকলিত, মূলত একটি লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় পঠিত।
প্রবন্ধের মূল যুক্তিধারা
- বাঙালি জাতি শৌখিন নয়, তাই শখ হিসেবে বই পড়ার পরামর্শ দিতে চান না লেখক— কিন্তু শিক্ষার অংশ হিসেবে সাহিত্যচর্চা অপরিহার্য।
- ডেমোক্রেসির প্রভাবে সমাজ জ্ঞানের বদলে অর্থের সার্থকতা বোঝে; সাহিত্যের কোনো নগদ বাজারদর নেই বলে তা অবহেলিত।
- দর্শন-বিজ্ঞান মনের ভগ্নাংশ মাত্র, পুরো মানুষটির সাক্ষাৎ মেলে সাহিত্যেই— তাই সাহিত্যচর্চার জন্য লাইব্রেরি অপরিহার্য।
- লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চেয়ে কম নয়, স্কুল-কলেজের চেয়ে বেশি।
- শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না— সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত; শিক্ষক শুধু পথপ্রদর্শক।
- স্কুল-কলেজের নোটনির্ভর, জোরপূর্বক শিক্ষাপদ্ধতির তীব্র সমালোচনা— দুধ জোর করে খাওয়ানো ও বাজিকরের গুলি গেলা-উগরানোর উপমায়।
- ফরাসি উদাহরণ: “France was saved by her idlers”— পরীক্ষা-অকৃতকার্যরাই কখনো কখনো জাতির প্রকৃত রক্ষাকর্তা।
- মানুষের মনের তুষ্টির জন্য স্বেচ্ছাপ্রণোদিত পাঠ জরুরি; বাধ্য হয়ে পড়া বই প্রকৃত আনন্দ দেয় না।
- উপসংহার: যে জাতি নিরানন্দ, সে জাতি নির্জীব— সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া মানেই জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস।
বই পড়া প্রবন্ধের মূল ভাব কী?
প্রথাগত, পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও নোটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার তীক্ষ্ণ সমালোচনা এবং স্বতঃস্ফূর্ত পাঠাভ্যাস ও লাইব্রেরিভিত্তিক স্বশিক্ষার পক্ষে জোরালো যুক্তি— এই প্রবন্ধের মূল বার্তা।
বই পড়া প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
শৌখিন (রুচিবান), সন্দিহান (সন্দেহযুক্ত), ভাঁড়েও ভবানী (একেবারে শূন্য), স্বশিক্ষিত (নিজে নিজে শিক্ষিত), গলাধঃকরণ (গিলে ফেলা), গতাসু (মৃত), কারদানি (বাহাদুরি), দাতাকর্ণ (মহাভারতের দানশীল চরিত্র), কেতাবি (কেতাব অনুসরণকারী), উদরপূর্তি (পেট ভরানো)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। প্রমথ চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৬৯
- খ. ১৮৬৭
- গ. ১৮৬৬
- ঘ. ১৮৬৮
উত্তর: ঘ। তিনি ৭ই আগস্ট, ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। প্রমথ চৌধুরীর জন্মস্থান কোথায়?
- ক. পাবনা
- খ. কলকাতা
- গ. ফরিদপুর
- ঘ. যশোর
উত্তর: ঘ। তিনি যশোরে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পাবনা জেলার হরিপুর গ্রামে।
৩। প্রমথ চৌধুরী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
- ক. ইংরেজি সাহিত্য
- খ. বাংলা সাহিত্য
- গ. ইতিহাস
- ঘ. দর্শন
উত্তর: ক। ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
৪। বিলাত থেকে ফিরে প্রমথ চৌধুরী কোন পেশায় যোগ দেননি?
- ক. সাংবাদিকতা
- খ. ব্যারিস্টারি
- গ. সম্পাদনা
- ঘ. অধ্যাপনা
উত্তর: খ। ব্যারিস্টারি পড়তে বিলাত গেলেও ফিরে এসে তিনি সে পেশায় যোগ দেননি, বরং অধ্যাপনা ও পরে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।
৫। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিল?
- ক. নীললোহিত
- খ. ভানুসিংহ
- গ. বীরবল
- ঘ. পরশুরাম
উত্তর: গ। তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
৬। প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
- ক. প্রবাসী
- খ. ভারতী
- গ. সবুজপত্র
- ঘ. কল্লোল
উত্তর: গ। ১৯১৪ সালে তাঁর সম্পাদিত সবুজপত্র বাংলা সাহিত্যে চলতি ভাষারীতি প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
৭। নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরীর গ্রন্থ নয়?
- ক. নীললোহিত
- খ. বীরবলের হালখাতা
- গ. চার-ইয়ারি কথা
- ঘ. চোখের বালি
উত্তর: ঘ। চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি প্রমথ চৌধুরীর রচনা।
৮। প্রমথ চৌধুরী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৪৫
- খ. ১৯৪৭
- গ. ১৯৪৪
- ঘ. ১৯৪৬
উত্তর: ঘ। ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় তিনি পরলোকগমন করেন।
বই পড়া প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৯। ‘বই পড়া’ প্রবন্ধটি কোথায় প্রথম পঠিত হয়েছিল?
- ক. একটি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে
- খ. একটি সাহিত্য সম্মেলনে
- গ. একটি লাইব্রেরির বার্ষিক সভায়
- ঘ. একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধটি একটি লাইব্রেরির বার্ষিক সভায় পঠিত হয়েছিল।
১০। প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কী?
- ক. বই পড়া অর্থ উপার্জনের একমাত্র উপায়
- খ. স্কুল-কলেজই একমাত্র শিক্ষার মাধ্যম
- গ. বই পড়া শুধু বিনোদনের জন্য প্রয়োজন
- ঘ. বই পড়া ও লাইব্রেরি শিক্ষার জন্য অপরিহার্য
উত্তর: ঘ। প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, প্রথাগত শিক্ষা যথেষ্ট নয়; জাতির প্রকৃত মানসিক বিকাশের জন্য স্বেচ্ছায় বই পড়া ও লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম।
১১। লেখক শুরুতেই কেন কাউকে ‘শখ হিসেবে’ বই পড়তে পরামর্শ দিতে চান না?
- ক. বই পাওয়া যায় না বলে
- খ. বই পড়া খারাপ বলে
- গ. তিনি নিজে বই পড়েন না বলে
- ঘ. দরিদ্র দেশে শখ করার সময় নেই বলে
উত্তর: ঘ। লেখকের মতে, বাঙালিরা জাত হিসেবে শৌখিন নয় এবং রোগ-শোক, দুঃখ-দারিদ্র্যের দেশে শখ করার প্রস্তাব অনেকের কাছে অর্থহীন মনে হবে।
১২। লেখকের মতে বাঙালিরা শিক্ষার কাছে কী প্রত্যাশা করে?
- ক. আনন্দ ও বিনোদন
- খ. সামাজিক মর্যাদা
- গ. রাজনৈতিক ক্ষমতা
- ঘ. গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দূর করা
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, বাঙালিদের বিশ্বাস শিক্ষা তাদের গায়ের জ্বালা ও চোখের জল দুই-ই দূর করবে— যদিও তিনি একে সম্ভবত ‘দুরাশা’ বলে মনে করেন।
১৩। লেখকের মতে সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে মানুষের সন্দেহের মূল কারণ কী?
- ক. সাহিত্যের ফলের কোনো নগদ বাজারদর নেই বলে
- খ. সাহিত্য বোঝা কঠিন বলে
- গ. সাহিত্য নিষিদ্ধ বলে
- ঘ. সাহিত্যচর্চার জন্য যোগ্যতা লাগে বলে
উত্তর: ক। লেখক বলেন, শিক্ষার এই ফল হাতে হাতে পাওয়া যায় না অর্থাৎ তার কোনো নগদ বাজারদর নেই— এ কারণেই মানুষ সাহিত্যচর্চার সার্থকতা নিয়ে সন্দিহান।
১৪। ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) সম্পর্কে লেখকের পর্যবেক্ষণ কী?
- ক. গুরুরা সমতা চাইলেও শিষ্যরা বড়ো হতে চায়
- খ. এটি শুধু পশ্চিমা দেশে প্রযোজ্য
- গ. এটি সবাইকে সমান করেছে
- ঘ. এটি সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করেছে
উত্তর: ক। লেখকের পর্যবেক্ষণ, ডেমোক্রেসির গুরুরা সবাইকে সমান করতে চাইলেও শিষ্যরা উলটো বুঝে প্রত্যেকে বড়োমানুষ হতে চায়— ফলে ডেমোক্রেসির দোষগুলোই আত্মসাৎ হয়েছে।
**১৫। জ্ঞান ও ধনের সম্পর্ক নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. লেখকের মতে জ্ঞানের ভাণ্ডার সরাসরি ধনের ভাণ্ডার নয়
ii. যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য, সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী (শূন্য)
iii. লেখক মনে করেন ধন ও জ্ঞানের মধ্যে কোনো সম্পর্কই নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে মেলে, কিন্তু লেখক আসলে বলেছেন ধনের সৃষ্টি জ্ঞানসাপেক্ষ— অর্থাৎ দুইয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে বলেই তিনি মনে করেন; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
১৬। লেখকের মতে সাহিত্যের জন্ম কীসের সমবায়ে হয়?
- ক. শুধু ধর্মের
- খ. মানুষের ভাব ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে
- গ. শুধু কল্পনার
- ঘ. শুধু ইতিহাসের
উত্তর: খ। লেখকের ভাষায়, মানুষের দর্শন, বিজ্ঞান, ধর্মনীতি, অনুরাগ-বিরাগ, আশা-নৈরাশ্য, অন্তরের স্বপ্ন ও সত্য— এসবের সমবায়ে সাহিত্যের জন্ম হয়।
১৭। দর্শন, বিজ্ঞান ইত্যাদিকে লেখক কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. পাহাড়ের সাথে
- খ. মরুভূমির সাথে
- গ. মনগঙ্গার তোলা জলের সাথে
- ঘ. সমুদ্রের সাথে
উত্তর: গ। লেখক বলেন, দর্শন-বিজ্ঞান হলো মনগঙ্গার তোলা জল মাত্র, যেখানে সাহিত্যের ভেতরেই মনের পূর্ণ স্রোত সোল্লাসে বয়ে চলে।
১৮। লেখকের মতে সাহিত্যের চর্চা কোথায় করা সম্ভব নয়?
- ক. মন্দিরে
- খ. লাইব্রেরিতে
- গ. ঘরে
- ঘ. কারখানা বা চিড়িয়াখানায়
উত্তর: ঘ। লেখক বলেন, ধর্মের চর্চা মন্দিরের বাইরেও, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে সম্ভব হলেও সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি— কারখানা বা চিড়িয়াখানায় তা সম্ভব নয়।
১৯। লেখকের মতে লাইব্রেরির সার্থকতা কীসের তুলনায় কেমন?
- ক. হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজের সমান
- খ. হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজের চেয়ে অনেক কম
- গ. হাসপাতালের চেয়ে কম, স্কুল-কলেজের চেয়েও কম
- ঘ. হাসপাতালের চেয়ে কিছু কম নয়, স্কুল-কলেজের চেয়ে একটু বেশি
উত্তর: ঘ। লেখকের মতে, লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি— এই বক্তব্যেই প্রবন্ধের মূল যুক্তি নিহিত।
২০। লেখক লাইব্রেরিকে কী নামে অভিহিত করেছেন?
- ক. জ্ঞানের ভাণ্ডার
- খ. শিক্ষার কারখানা
- গ. মনের হাসপাতাল
- ঘ. বিদ্যার মন্দির
উত্তর: গ। লেখক বলেন, আমাদের শিক্ষার বর্তমান অবস্থায় লাইব্রেরি হচ্ছে একরকম মনের হাসপাতাল।
২১। লেখকের বিশ্বাস অনুযায়ী শিক্ষা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
- ক. শিক্ষা টাকা দিয়ে কেনা যায়
- খ. শিক্ষা শুধু স্কুল-কলেজেই সম্ভব
- গ. সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত
- ঘ. শিক্ষা একজন আরেকজনকে দিতে পারে
উত্তর: গ। লেখকের দৃঢ় বিশ্বাস, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না; সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
২২। লেখকের মতে প্রকৃত শিক্ষকের ভূমিকা কী?
- ক. ছাত্রকে সরাসরি বিদ্যা দান করা
- খ. ছাত্রের কৌতূহল জাগানো
- গ. পরীক্ষায় পাশ করানো
- ঘ. শুধু নোট সরবরাহ করা
উত্তর: খ। যথার্থ গুরু শিষ্যের আত্মাকে উদ্বোধিত করেন ও তার প্রচ্ছন্ন শক্তিকে মুক্ত করেন; বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজেই করতে হয়, গুরু শুধু উত্তরসাধক।
**২৩। শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. শিক্ষক ছাত্রকে সরাসরি বিদ্যা দান করতে পারেন
ii. শিক্ষক ছাত্রের জ্ঞানপিপাসাকে জ্বলন্ত করতে পারেন
iii. বিদ্যার সাধনা শিষ্যকে নিজে করতে হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** লেখকের মতে শিক্ষক সরাসরি বিদ্যা দিতে পারেন না, শুধু পথ দেখাতে পারেন— তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের সাথে মেলে।
২৪। লেখক স্কুল-কলেজের শিক্ষাপদ্ধতিকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. একটি ফুল ফোটার সাথে
- খ. জোর করে শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সাথে
- গ. নদীর প্রবাহের সাথে
- ঘ. একজন মালীর গাছের যত্নের সাথে
উত্তর: খ। লেখক দেখান, যেভাবে মা জোর করে শিশুকে দুধ গেলান, স্কুল-কলেজও তেমনি ছেলেদের জোর করে বিদ্যা গেলায়— তারা তা হজম করতে পারুক আর না পারুক।
২৫। লেখকের মতে ছেলেরা নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় কী করে?
- ক. তা প্রয়োগ করে জীবনে
- খ. তা নিয়ে গবেষণা করে
- গ. তা ভুলে যায় সম্পূর্ণভাবে
- ঘ. তা খাতায় উগরে দেয়
উত্তর: ঘ। লেখক বাজিকরের গুলি-গোলা গিলে আবার উগরে দেওয়ার সাথে তুলনা করে বলেন, ছেলেরাও নোট গলাধঃকরণ করে পরীক্ষায় তা উদ্গীরণ করে দেয়, প্রকৃত হজম হয় না।
২৬। ‘বাজিকর’-এর উদাহরণ দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. পরীক্ষা পদ্ধতির উৎকর্ষ
- খ. মুখস্থবিদ্যা প্রকৃত জ্ঞান নয়
- গ. মজার একটি ঘটনা মাত্র
- ঘ. শিক্ষার্থীদের বিশেষ দক্ষতা
উত্তর: খ। বাজিকর যেমন গুলি-গোলা হজম না করেই উগরে দেয়, ছেলেরাও তেমনি নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় ঢেলে দেয়— প্রকৃত জ্ঞানার্জন হয় না, শুধু কষ্টকর অভ্যাস তৈরি হয়।
২৭। ফরাসি শিক্ষাশাস্ত্রীর উদ্ধৃতি অনুযায়ী ফ্রান্সকে কারা রক্ষা করেছিল?
- ক. যারা পরীক্ষায় সবচেয়ে ভালো ফল করেছিল
- খ. যারা পাশ করতে পারেনি বা চায়নি (idlers)
- গ. যারা শিক্ষকতা করেছিল
- ঘ. যারা বিদেশে পড়াশোনা করেছিল
উত্তর: খ। উদ্ধৃতি অনুযায়ী, “France was saved by her idlers”— যারা পাশ করেনি বা চায়নি তারাই ফ্রান্সকে রক্ষা করেছিল, কারণ তাদের মনের বল অক্ষুণ্ণ ছিল।
২৮। লেখক পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে কী পার্থক্য দেখান?
- ক. পাশ করা আর শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়
- খ. দুটো একই বিষয়
- গ. পাশ করাই একমাত্র শিক্ষা
- ঘ. শিক্ষিত হওয়ার জন্য পাশ করা জরুরি নয় বলে তিনি মনে করেন না
উত্তর: ক। লেখক স্পষ্ট বলেন, পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়— এই সত্য স্বীকার করতে আমরা কুণ্ঠিত হই বলে তিনি আক্ষেপ করেন।
২৯। লেখকের মতে লাইব্রেরিকে স্কুল-কলেজের ওপরে স্থান দেওয়ার মূল কারণ কী?
- ক. স্বেচ্ছায় নিজের রুচিমতো শেখার সুযোগ মেলে
- খ. লাইব্রেরিতে বই বিনামূল্যে পাওয়া যায়
- গ. লাইব্রেরিতে পরীক্ষা হয় না
- ঘ. লাইব্রেরি সরকারি প্রতিষ্ঠান
উত্তর: ক। লেখক বলেন, লাইব্রেরিতে লোকে স্বেচ্ছায় স্বচ্ছন্দচিত্তে নিজের শক্তি ও রুচি অনুসারে জ্ঞানের পথে এগিয়ে যেতে পারে— এটাই তার শ্রেষ্ঠত্বের মূল কারণ।
৩০। লেখক মুসলমান ধর্মের কোন শ্রেণিবিভাগের উল্লেখ করেন?
- ক. নগরবাসী ও গ্রামবাসী
- খ. কেতাবি ও অকেতাবি
- গ. ধনী ও দরিদ্র
- ঘ. শিক্ষিত ও অশিক্ষিত
উত্তর: খ। মুসলমান ধর্মে মানবজাতিকে কেতাবি (কেতাব অনুসরণকারী) ও অ-কেতাবি— এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে বলে লেখক উল্লেখ করেন।
৩১। লেখকের মতে বাংলার শিক্ষিত সমাজ সাধারণত কখন বই পড়ে?
- ক. শুধু বাধ্য হয়ে, পেটের দায়ে
- খ. অন্যদের দেখানোর জন্য
- গ. অবসর সময়ে বিনোদনের জন্য
- ঘ. স্বেচ্ছায় আনন্দের জন্য
উত্তর: ক। লেখক বলেন, ছেলেরা নোট পড়ে আর বাবারা নজির পড়েন— দুই-ই বাধ্য হয়ে, অর্থাৎ পেটের দায়ে, স্বেচ্ছায় নয়।
**৩২। লেখকের মতে মানুষের প্রকৃত মনস্তুষ্টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য চিহ্নিত করো —**
i. শুধু উদরপূর্তিতেই মানুষের সম্পূর্ণ মনস্তুষ্টি হয়
ii. মনের দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না
iii. স্বেচ্ছায় না করা কাজে মানুষের মনের সন্তোষ থাকে না
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** লেখক স্পষ্ট বলেন একমাত্র উদরপূর্তিতে মানুষের সম্পূর্ণ মনস্তুষ্টি হয় না— তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; দ্বিতীয় ও তৃতীয় তথ্য দুটি প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।
৩৩। লেখকের মতে যে জাতি যত নিরানন্দ, সে জাতি তত কী?
- ক. শান্তিপ্রিয়
- খ. উন্নত
- গ. নির্জীব
- ঘ. ধনী
উত্তর: গ। লেখকের ভাষায়, যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব— একমাত্র আনন্দের স্পর্শেই মানুষের মনপ্রাণ সজীব ও সতেজ হয়ে ওঠে।
৩৪। লেখকের মতে সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ কী?
- ক. সময় নষ্ট করা
- খ. জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস করা
- গ. সামাজিক মর্যাদা হারানো
- ঘ. অর্থনৈতিক ক্ষতি করা
উত্তর: খ। লেখকের মতে সাহিত্যচর্চার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে জাতির জীবনীশক্তি হ্রাস করা— কোনো নীতির অনুসারেই তা কর্তব্য হতে পারে না।
৩৫। প্রবন্ধ অনুযায়ী কাব্যের প্রতি আমাদের অরুচির জন্য প্রকৃত দায়ী কে/কী?
- ক. অর্থনৈতিক দুরবস্থা
- খ. আমাদের শিক্ষার দোষ
- গ. কবিদের দোষ
- ঘ. আমাদের নিজেদের দোষ
উত্তর: খ। লেখক স্পষ্ট বলেন, কাব্যামৃতে আমাদের অরুচি ধরা আমাদের দোষ নয়, আমাদের শিক্ষার দোষ।
৩৬। ‘শৌখিন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. দরিদ্র
- খ. রুচিবান
- গ. কৃপণ
- ঘ. অলস
উত্তর: খ। শৌখিন অর্থ রুচিবান, শখ-পছন্দসম্পন্ন।
৩৭। ‘সন্দিহান’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নিশ্চিত
- খ. উদাসীন
- গ. সন্দেহযুক্ত
- ঘ. আগ্রহী
উত্তর: গ। সন্দিহান অর্থ সন্দেহযুক্ত।
৩৮। ‘ভাঁড়েও ভবানী’ বাগধারাটির অর্থ কী?
- ক. দেবীর আরাধনা
- খ. রহস্যময়
- গ. প্রাচুর্যপূর্ণ
- ঘ. একেবারে রিক্ত, শূন্য
উত্তর: ঘ। ভাঁড়েও ভবানী অর্থ একেবারে রিক্ত বা শূন্য অবস্থা।
৩৯। ‘স্বশিক্ষিত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নিজে নিজে শেখা
- খ. শিক্ষকের কাছ থেকে শেখা
- গ. বিদেশে শিক্ষা লাভ করা
- ঘ. পরীক্ষায় পাশ করা
উত্তর: ক। স্বশিক্ষিত অর্থ নিজে নিজে শিক্ষিত, অর্থাৎ নিজ চেষ্টায় জ্ঞানার্জনকারী।
৪০। ‘গলাধঃকরণ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. চিবিয়ে খাওয়া
- খ. উগরে দেওয়া
- গ. গিলে ফেলা
- ঘ. হজম করা
উত্তর: গ। গলাধঃকরণ অর্থ গিলে ফেলা— বাজিকরের বন্দুকের গুলি গেলার প্রসঙ্গে ব্যবহৃত।
৪১। ‘দাতাকর্ণ’ কে ছিলেন?
- ক. একজন ইংরেজ শিক্ষাবিদ
- খ. একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি
- গ. মহাভারতের দানবীর কর্ণ
- ঘ. একজন গ্রিক দার্শনিক
উত্তর: গ। দাতাকর্ণ হলেন মহাভারতের বিশিষ্ট চরিত্র কুন্তীপুত্র কর্ণ, যিনি দানের জন্য প্রবাদতুল্য মানুষ হিসেবে পরিচিত।
৪২। লেখকের সামগ্রিক যুক্তিধারা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
- ক. তিনি শুধু বিনোদনের জন্য বই পড়া সমর্থন করেন
- খ. পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার সমালোচনা করে স্বাধীন পাঠাভ্যাসের পক্ষে যুক্তি দেন
- গ. তিনি স্কুল-কলেজ পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে
- ঘ. তিনি লাইব্রেরিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন
উত্তর: খ। পুরো প্রবন্ধ জুড়ে লেখক দেখান, জোরপূর্বক নোটনির্ভর শিক্ষা প্রকৃত জ্ঞান দেয় না; বরং স্বতঃস্ফূর্ত, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত পাঠাভ্যাসই প্রকৃত মানসিক বিকাশ ঘটায়— এই যুক্তির পক্ষেই তিনি লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
৪৩। ‘বাজিকরের গুলি-গোলা গেলা ও উগরে দেওয়া’ এবং ‘ছাত্রদের নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় লেখা’র মধ্যে লেখক যে সাদৃশ্য দেখান, তার মূল উদ্দেশ্য কী?
- ক. ছাত্রদের প্রশংসা করা
- খ. বাজিকরদের কৌশল শেখানো
- গ. মুখস্থবিদ্যা প্রকৃত আত্তীকরণ ছাড়াই পুনরুৎপাদন মাত্র
- ঘ. পরীক্ষা পদ্ধতির প্রশংসা করা
উত্তর: গ। এই তীক্ষ্ণ উপমার মাধ্যমে লেখক দেখাতে চান, নোটনির্ভর শিক্ষায় ছাত্ররা জ্ঞান প্রকৃতপক্ষে আত্মস্থ করে না, শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় তা ঢেলে দেয়— এতে প্রকৃত মানসিক বিকাশ হয় না।
৪৪। ‘আত্মার মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয় না’ — এই মন্তব্য দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. আত্মার মৃত্যু বলে কিছু নেই
- খ. এটি নিছক একটি রসিকতা
- গ. মৃত্যুর কোনো হিসাব রাখা উচিত নয়
- ঘ. মানসিক ক্ষতি দৃশ্যমান না হওয়ায় তা অগোচরে থেকে যায়
উত্তর: ঘ। দেহের মৃত্যুর রেজিস্ট্রি থাকলেও আত্মার (মনের সজীবতার) মৃত্যুর কোনো হিসাব রাখা হয় না বলে ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাপদ্ধতির প্রকৃত ক্ষতি সমাজের চোখে ধরা পড়ে না— এই গভীর সত্যই লেখক তুলে ধরেছেন।
“পড়িলে বই আলোকিত হই, না পড়িলে বই অন্ধকারে রই” — একটি পরিচিত বাংলা প্রবাদ।
৪৫। এই প্রবাদের ভাবার্থ ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের কোন মূল বক্তব্যের সাথে সবচেয়ে বেশি সংগতিপূর্ণ?
- ক. বাংলার শিক্ষিত সমাজ বাধ্য না হলে বই স্পর্শ করেন না
- খ. জ্ঞানের ভাণ্ডার ধনের ভাণ্ডার নয়
- গ. শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না
- ঘ. সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত
উত্তর: ঘ। প্রবাদের কথা— বই পড়লে আলোকিত হওয়া, না পড়লে অন্ধকারে থাকা— মূলত বলছে জ্ঞানার্জন নিজের চেষ্টাতেই হয়, যা প্রবন্ধের ‘সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’ বক্তব্যের সাথে সরাসরি মিলে যায়।
৪৬। এই প্রবাদ ও প্রবন্ধের মূল বক্তব্য মিলিয়ে দেখলে কী উপসংহার টানা যায়?
- ক. বই পড়া শুধু বিনোদনের জন্য
- খ. জ্ঞানার্জন একটি ব্যক্তিগত ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া
- গ. বই ছাড়াও জ্ঞানার্জন সম্ভব
- ঘ. শিক্ষকই জ্ঞানের একমাত্র উৎস
উত্তর: খ। উভয় ক্ষেত্রেই বোঝা যায়, প্রকৃত জ্ঞান বা আলোকপ্রাপ্তি ব্যক্তির নিজস্ব পাঠ ও প্রচেষ্টার ফল, যা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না— এটাই লেখকের মূল দর্শন।
রাহাত তার ছেলেকে প্রতিদিন নতুন নতুন গণিতের নিয়ম মুখস্থ করাতেন, পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই তিনি খুশি হতেন। কিন্তু ছেলেটি আসলে গণিতের মূলনীতি বুঝত না, শুধু নিয়মগুলো মুখস্থ রাখত পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার পর সব ভুলে যেত।
৪৭। রাহাতের ছেলের শিক্ষাপদ্ধতির সাথে ‘বই পড়া’ প্রবন্ধের কোন সমালোচনার মিল রয়েছে?
- ক. ডেমোক্রেসির সমালোচনা
- খ. নোট মুখস্থ করে পরীক্ষায় উগরে দেওয়ার সমালোচনা
- গ. সাহিত্যচর্চার প্রশংসা
- ঘ. লাইব্রেরির গুরুত্ব
উত্তর: খ। রাহাতের ছেলে যেমন না বুঝে শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষায় লিখছে, প্রবন্ধেও লেখক ঠিক এই প্রবণতাকে বাজিকরের গুলি গেলা-উগরানোর সাথে তুলনা করে সমালোচনা করেছেন।
৪৮। এই ধরনের শিক্ষাপদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কী বলে প্রবন্ধ থেকে অনুমান করা যায়?
- ক. কোনো ক্ষতি হয় না
- খ. শিক্ষার্থী দ্রুত পাশ করে
- গ. শিক্ষার্থীর সময় বাঁচে
- ঘ. শিক্ষার্থীর স্বশিক্ষিত হবার শক্তি নষ্ট হয়ে যায়
উত্তর: ঘ। লেখকের মতে এই পদ্ধতি ছাত্রদের স্বশিক্ষিত হবার সুযোগই শুধু কেড়ে নেয় না, স্বশিক্ষিত হবার শক্তি পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়— যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির জন্য ক্ষতিকর।
৪৯। লেখকের মতে যে জিনিস বাধ্য হয়ে করা হয়, তাতে মানুষের কেমন অনুভূতি হয়?
- ক. মনের সন্তোষ থাকে না
- খ. দ্রুত সাফল্য আসে
- গ. আত্মবিশ্বাস বাড়ে
- ঘ. গভীর তৃপ্তি হয়
উত্তর: ক। লেখক স্পষ্ট বলেন, যে জিনিস স্বেচ্ছায় না করা যায়, তাতে মানুষের মনের সন্তোষ থাকে না— বাধ্য হয়ে বই পড়া তাই প্রকৃত জ্ঞানার্জনের পথ নয়।
৫০। ‘জীর্ণ’ শব্দের অর্থ কী, যা প্রবন্ধে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. হজম
- খ. পুরনো
- গ. ক্লান্ত
- ঘ. দুর্বল
উত্তর: ক। এখানে জীর্ণ শব্দটি হজম করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে— শিক্ষা গেলানো হলেও ছাত্র তা জীর্ণ (হজম) করতে পারুক বা না পারুক, এই প্রসঙ্গে।
৫১। প্রবন্ধ অনুযায়ী কোন শ্রেণির মানুষ হাজারখানা ল-রিপোর্ট কিনলেও একখানা কাব্যগ্রন্থ কিনতে রাজি নন?
- ক. কৃষকেরা
- খ. শিক্ষকেরা
- গ. পেশাদার আইনজীবীরা
- ঘ. ছাত্ররা
উত্তর: গ। লেখক বলেন, যাঁরা হাজারখানা ল-রিপোর্ট কেনেন তাঁরা একখানা কাব্যগ্রন্থও কিনতে প্রস্তুত নন, কারণ ব্যবসায় তাতে কোনো সুসার (লাভ) নেই।
৫২। এই আইনজীবী-উদাহরণ দিয়ে লেখক প্রকৃতপক্ষে কী সমালোচনা করছেন?
- ক. আইন পেশার গুরুত্বহীনতা
- খ. আইনজীবীদের অসততা
- গ. মুনাফাকেন্দ্রিক মানসিকতা যা সাহিত্যের মূল্য বোঝে না
- ঘ. কাব্যচর্চার অপ্রয়োজনীয়তা
উত্তর: গ। এই উদাহরণের মাধ্যমে লেখক দেখান, সমাজ যা কিছু সরাসরি অর্থ বা বাস্তব ফল দেয় না তাকেই মূল্যহীন মনে করে— এটাই সাহিত্যচর্চার প্রতি অবহেলার মূল কারণ।
