বন্দনা কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বন্দনা” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বন্দনা কবিতার নোট দেখুন।
বন্দনা কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বন্দনা কবিতার কবি কে?
শাহ মুহম্মদ সগীর (আনুমানিক ১৪-১৫ শতক)। মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রাচীনতম। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৯৩-১৪০৯) রাজত্বকালে ইউসুফ জোলেখা কাব্য রচনা করেন, যা ধর্মীয় পটভূমিতে হলেও মানবিক প্রেমোপাখ্যানে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী বলে অনুমিত (মুহম্মদ এনামুল হকের মতে)।
বন্দনা কবিতার উৎস
ইউসুফ জোলেখা কাব্যের ‘বন্দনা’ পর্ব থেকে গৃহীত, যেখানে শুধু গুরুজনদের প্রতি বন্দনার অংশটুকু সংকলিত হয়েছে।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- প্রথমে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা— মায়ের দয়ার হাতে জন্ম, পিঁপড়ার ভয়ে মাটিতে না রাখা, কোলে-বুকে লালন।
- পিতার প্রতি শ্রদ্ধা— নিজে না খেয়ে-পরে সন্তানকে খাওয়ানো-পরানো, দুঃখে বছর গুজরান করা, জীবন-যৌবন লালন করা।
- শিক্ষকের (ওস্তাদের) প্রতি শ্রদ্ধা— পিতার চেয়েও বেশি, কারণ তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে ‘দোসর-জনম’ (দ্বিতীয় জন্ম) দেন।
- নগরবাসী, ইষ্ট-মিত্র ও সভাসদগণের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদন।
- উপসংহারে কবি নিজেকে বিনম্রভাবে হীন ও পাপভারগ্রস্ত বলে বর্ণনা করে সবার কাছে বারবার দোয়া প্রার্থনা করেন।
বন্দনা কবিতার মূল ভাব কী?
জন্মদাতা পিতামাতা ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ— শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতাই যে মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম, মধ্যযুগীয় এই কবিতাংশে তারই এক আন্তরিক প্রকাশ ঘটেছে।
বন্দনা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
পুরবাসী (নগরবাসী), বন্দনা (স্তুতি), অশক্য (দুর্বল), গোঞাএ (অতিবাহিত করে), নেহায় (স্নেহে), ধারক কাহন (ঋণের পরিমাণ), সপুটে (করজোড়ে), মনোরথ (ইচ্ছা), দোসর-জনম (দ্বিতীয় জন্ম)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক কোন শতাব্দীর কবি?
- ক. ১৪-১৫ শতক
- খ. ১২-১৩ শতক
- গ. ১৮-১৯ শতক
- ঘ. ১৬-১৭ শতক
উত্তর: ক। তিনি আনুমানিক খ্রিস্টীয় ১৪-১৫ শতকের কবি।
২। শাহ মুহম্মদ সগীরকে কেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়?
- ক. তিনি প্রথম বাংলা মহাকাব্য রচনা করেন
- খ. তিনি রাজদরবারের প্রধান কবি ছিলেন
- গ. মুসলমান কবিদের মধ্যে তিনিই প্রাচীনতম
- ঘ. তিনি সবচেয়ে বেশি কাব্য রচনা করেছেন
উত্তর: গ। মুসলমান কবিদের মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রাচীনতম।
৩। শাহ মুহম্মদ সগীর কোন সুলতানের রাজত্বকালে ইউসুফ জোলেখা কাব্য রচনা করেন?
- ক. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
- খ. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
- গ. নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
- ঘ. রুকনউদ্দীন বারবক শাহ
উত্তর: ক। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৯৩-১৪০৯ খ্রিস্টাব্দ) তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
৪। কাব্যের রাজবন্দনায় ‘মহামতি গেছ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে বলে অনুমিত?
- ক. একজন ধর্মগুরু
- খ. সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
- গ. একজন সেনাপতি
- ঘ. একজন কবি
উত্তর: খ। কাব্যের রাজবন্দনায় ‘মহামতি গেছ’ বলতে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহকেই বোঝানো হয়েছে বলে অনুমিত।
৫। মুহম্মদ এনামুল হক শাহ মুহম্মদ সগীরকে কোন অঞ্চলের অধিবাসী বলে মনে করেন?
- ক. রাজশাহী
- খ. চট্টগ্রাম
- গ. সিলেট
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: খ। কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু শব্দের ব্যবহার লক্ষ করে মুহম্মদ এনামুল হক তাঁকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে মনে করেন।
৬। শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর কাব্যে কী রচনা করতে চেয়েছিলেন?
- ক. একটি ঐতিহাসিক দলিল
- খ. একটি ভ্রমণকাহিনি
- গ. একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ
- ঘ. দেশি ভাষায় একটি ধর্মীয় উপাখ্যান
উত্তর: ঘ। তিনি দেশি ভাষায় একটি ধর্মীয় উপাখ্যান বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন।
৭। ইউসুফ জোলেখা কাব্য পরিণত হয়েছে কীসে?
- ক. একটি ঐতিহাসিক জীবনী
- খ. একটি রাজনৈতিক দলিলে
- গ. একটি মানবিক প্রেমোপাখ্যানে
- ঘ. একটি বিশুদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থে
উত্তর: গ। ধর্মীয় পটভূমি থাকলেও কাব্যটি হয়ে উঠেছে একটি মানবিক প্রেমোপাখ্যান।
বন্দনা কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৮। ‘বন্দনা’ কবিতাংশটি কোন কাব্যের কোন অংশ থেকে গৃহীত?
- ক. একটি পৃথক কাব্য থেকে
- খ. ইউসুফ জোলেখা কাব্যের প্রধান কাহিনি অংশ থেকে
- গ. ইউসুফ জোলেখা কাব্যের উপসংহার থেকে
- ঘ. ইউসুফ জোলেখা কাব্যের ‘বন্দনা’ পর্ব থেকে
উত্তর: ঘ। কবিতাংশটি ইউসুফ জোলেখা কাব্যের ‘বন্দনা’ পর্ব থেকে গৃহীত।
৯। সংকলিত কবিতাংশে কাদের প্রতি বন্দনা প্রকাশ করা হয়েছে?
- ক. শুধু বন্ধুদের প্রতি
- খ. শুধু রাজার প্রতি
- গ. শুধু আল্লাহর প্রতি
- ঘ. জন্মদাতা পিতামাতা ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি
উত্তর: ঘ। সংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতা ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
১০। কবি মূল কাব্যের প্রারম্ভে কার প্রশংসা করেছেন (যা এই সংকলনে নেই)?
- ক. একজন সাধুর
- খ. সুলতানের
- গ. নিজের পিতার
- ঘ. সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর
উত্তর: ঘ। কবি মূল কাব্যের প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন, যা এই সংকলিত অংশে অন্তর্ভুক্ত নয়।
১১। কবি ‘দ্বিতীয়ে’ কার পায়ে প্রণাম করার কথা বলেছেন?
- ক. বন্ধুদের
- খ. সুলতানের
- গ. শিক্ষকের
- ঘ. মা-বাপের
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করো মাও বাপ পাএ’— অর্থাৎ আল্লাহর পরে মা-বাবার পায়ে প্রণাম করা উচিত।
১২। কার দয়ার হাতে কবির জন্ম হয়েছে বলে বলা হয়েছে?
- ক. পিতার
- খ. রাজার
- গ. শিক্ষকের
- ঘ. মায়ের
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, মায়ের দয়ার হাতেই তাঁর জন্ম হয়েছে পৃথিবীতে।
১৩। মা কীসের ভয়ে সন্তানকে মাটিতে রাখেননি বলে কবি বলেন?
- ক. মশার ভয়ে
- খ. পিঁপড়ার ভয়ে
- গ. ঠান্ডার ভয়ে
- ঘ. পোকার ভয়ে
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘পিঁপড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত’— পিঁপড়ার ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেননি।
১৪। ‘পিঁপড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত’ পঙক্তির তাৎপর্য কী?
- ক. মায়ের অতুলনীয় স্নেহ ও সদাজাগ্রত দৃষ্টির প্রকাশ
- খ. মায়েরা পিঁপড়া অপছন্দ করেন
- গ. এটি একটি সাধারণ পারিবারিক নিয়ম
- ঘ. শিশুরা মাটিতে খেলতে পারে না
উত্তর: ক। টীকা অনুযায়ী এই পঙক্তিতে মায়ের স্নেহ-মমতা ও সন্তানের প্রতি তাঁর সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টিকেই বড় করে তুলে ধরা হয়েছে।
১৫। মা সন্তানকে কীভাবে লালন করেছেন বলে বলা হয়েছে?
- ক. অন্যের হাতে সঁপে দিয়ে
- খ. কোলে ও বুকে নিয়ে
- গ. দূরে রেখে
- ঘ. অবহেলা করে
উত্তর: খ। মা সন্তানকে কোলে দিয়ে বুকে দিয়ে জগতে বিদিত (পরিচিত) করে তুলেছেন।
১৬। কবি নিজের শৈশব সম্পর্কে কী বলেন?
- ক. তিনি অশক্ত ও দুর্বল শিশু ছিলেন
- খ. তার শৈশব সম্পর্কে কিছু বলেননি
- গ. তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান শিশু ছিলেন
- ঘ. তিনি খুব শক্তিশালী শিশু ছিলেন
উত্তর: ক। কবি বলেন, ‘অশক্য আছিলুঁ মুই দুর্বল ছাবাল’— তিনি অশক্ত, দুর্বল সন্তান ছিলেন।
১৭। কার দয়ার হাতে কবির দেহ বিশাল (পূর্ণাঙ্গ) হয়ে উঠেছে?
- ক. শিক্ষকের
- খ. মায়ের
- গ. রাজার
- ঘ. পিতার
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, পিতার দয়ার হাতে তাঁর এই দেহ বিশাল হয়ে উঠেছে।
১৮। পিতা সম্পর্কে কবি কী বলেন যা পিতৃত্বের আত্মত্যাগ বোঝায়?
- ক. পিতা নিজে খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান না
- খ. নিজে না খেয়ে-পরে সন্তানকে খাওয়ান-পরান
- গ. পিতা সন্তানের সাথে সময় কাটান না
- ঘ. পিতা শুধু অর্থ উপার্জন করেন
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ’— পিতা নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান, নিজে না পরে সন্তানকে পরান।
**১৯। ‘না খাই খাওয়াএ পিতা’ পঙক্তিতে প্রকাশিত ভাব নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. এই পঙক্তিতে অপত্যস্নেহ প্রকাশ পেয়েছে
ii. এই পঙক্তিতে সন্তান বাৎসল্য প্রকাশ পেয়েছে
iii. এই পঙক্তিতে পিতার স্বার্থপরতা প্রকাশ পেয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** এই পঙক্তিতে পিতার অপত্যস্নেহ ও সন্তান বাৎসল্য প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু এটি স্বার্থপরতার বিপরীত— নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রকাশ, তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
২০। পিতা কষ্টের মধ্যে দিয়ে কীভাবে বছর পার করেন বলে কবি বলেন?
- ক. আনন্দের সাথে
- খ. কত দুঃখে একে একে বছর গুজরান করেন
- গ. উদাসীনভাবে
- ঘ. অভিযোগ করতে করতে
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ’— পিতা কষ্টের মধ্যে একে একে বছর পার করেন।
২১। পিতার স্নেহে সন্তানের কী নিহিত থাকে বলে কবি বলেন?
- ক. শুধু খাদ্য
- খ. শুধু শিক্ষা
- গ. জীবন, জীবিকা ও যৌবন
- ঘ. শুধু সম্পদ
উত্তর: গ। কবি বলেন, ‘পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন’— পিতার স্নেহেই সন্তানের জীবন ও যৌবন লালিত হয়।
২২। পিতার এই ঋণ কে শোধ করতে পারে বলে কবি প্রশ্ন তোলেন?
- ক. কেউই এই ঋণ পুরোপুরি শোধ করতে পারে না
- খ. শিক্ষক
- গ. রাজা
- ঘ. সমাজ
উত্তর: ক। কবি প্রশ্ন তোলেন, ‘কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন’— পিতার এই অপরিমেয় ঋণ কেউই পুরোপুরি শোধ করতে পারে না।
২৩। কবি কার প্রতি প্রণাম নিবেদন করেন, যাঁর অবদান পিতার চেয়েও বেশি বলে বর্ণনা করেন?
- ক. বন্ধুর
- খ. শিক্ষকের (ওস্তাদের)
- গ. রাজার
- ঘ. মায়ের
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘ওস্তাদে প্রণাম করো পিতা হস্তে বাড়’— শিক্ষকের অবদান পিতার চেয়েও বেশি বলে তাঁকে প্রণাম করার কথা বলেন।
২৪। শিক্ষক সম্পর্কে কবি কোন বিশেষ কথা বলেন?
- ক. তিনি কবির আত্মীয়
- খ. তিনি একজন রাজকর্মচারী
- গ. তিনি কবিকে দ্বিতীয় জন্ম দিয়েছেন
- ঘ. তিনি শুধু জ্ঞান দেন
উত্তর: গ। কবি বলেন, শিক্ষকই তাঁকে ‘দোসর-জনম’ বা দ্বিতীয় জন্ম দিয়েছেন— জ্ঞানের মাধ্যমে যেন নতুন করে জন্ম হয়েছে তাঁর।
২৫। ‘দোসর-জনম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি সামাজিক প্রথা
- খ. একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান
- গ. জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে মানুষ হিসেবে দ্বিতীয়বার গড়ে ওঠা
- ঘ. শারীরিক জন্ম
উত্তর: গ। দোসর-জনম বলতে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে শিক্ষকের হাতে মানুষ হিসেবে দ্বিতীয়বার গড়ে ওঠাকে বোঝানো হয়েছে— জৈবিক জন্ম পিতা-মাতা দিলেও প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পথ দেখান শিক্ষক।
২৬। পিতামাতা ও শিক্ষকের পর কবি আর কাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান?
- ক. শুধু রাজাকে
- খ. শুধু প্রতিবেশীদের
- গ. নগরবাসী, ইষ্ট-মিত্র ও সভাসদগণকে
- ঘ. শুধু আত্মীয়দের
উত্তর: গ। কবি নগরবাসী (পুরবাসী), ইষ্ট-মিত্র ও সভাসদগণের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
২৭। কবি সবার পায়ে কী নিবেদন করেন বলে জানান?
- ক. উপহার
- খ. অর্থ
- গ. বহুল ভক্তি ও করজোড়ে প্রণাম
- ঘ. একটি কবিতা
উত্তর: গ। কবি বলেন, ‘তান সভান পদে মোহার বহুল ভকতি। সপুটে প্রণাম মোহার মনোরথ গতি’— সবার পায়ে তাঁর বহুল ভক্তি ও করজোড়ে প্রণামই তাঁর মনের ইচ্ছা।
২৮। কবি নিজেকে কীভাবে বর্ণনা করেন কবিতার শেষে?
- ক. হীন ও বহু পাপের ভারবাহী হিসেবে
- খ. একজন রাজপুরুষ হিসেবে
- গ. একজন নিখুঁত মানুষ হিসেবে
- ঘ. একজন মহান ব্যক্তি হিসেবে
উত্তর: ক। কবি বলেন, ‘মুহম্মদ সগীর হীন বহোঁ পাপ ভার’— নিজেকে হীন ও বহু পাপের ভারবাহী বলে বিনম্রভাবে বর্ণনা করেন।
২৯। কবিতার শেষে কবি সবার কাছে কী প্রার্থনা করেন?
- ক. সম্মান
- খ. দোয়া (আশীর্বাদ), বারবার
- গ. ক্ষমতা
- ঘ. অর্থ
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘সভানক পদে দোয়া মাগোঁ বার বার’— সবার পায়ে বারবার দোয়া প্রার্থনা করেন, সম্ভবত তাঁর কাব্যরচনার সাফল্যের জন্য।
৩০। ‘পুরবাসী’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নগরবাসী
- খ. আত্মীয়
- গ. গ্রামবাসী
- ঘ. প্রতিবেশী
উত্তর: ক। পুরবাসী অর্থ নগরবাসী।
৩১। ‘বন্দনা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্তুতি, প্রশংসা
- খ. আমন্ত্রণ
- গ. অভিযোগ
- ঘ. বিদায়
উত্তর: ক। বন্দনা অর্থ স্তুতি বা প্রশংসা।
৩২। ‘অশক্য’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অশক্ত, দুর্বল
- খ. বুদ্ধিমান
- গ. শক্তিশালী
- ঘ. সাহসী
উত্তর: ক। অশক্য অর্থ অশক্ত বা দুর্বল।
৩৩। ‘গোঞাএ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্মরণ করে
- খ. উপার্জন করে
- গ. গুজরান করে, অতিবাহিত করে
- ঘ. উপভোগ করে
উত্তর: গ। গোঞাএ অর্থ গুজরান করে বা অতিবাহিত করে।
৩৪। ‘নেহায়’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. রাগে
- খ. ভয়ে
- গ. দুঃখে
- ঘ. স্নেহে
উত্তর: ঘ। নেহায় অর্থ স্নেহে।
৩৫। ‘ধারক কাহন’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
- ক. একটি প্রশংসাসূচক শব্দ
- খ. একটি স্থানের নাম
- গ. একটি উপহার
- ঘ. ঋণের পরিমাণ (টাকা)
উত্তর: ঘ। ধারক কাহন বলতে ঋণের পরিমাণ বা ঋণের টাকা বোঝানো হয়েছে (কাহন = ষোলোপণ, একটি প্রাচীন মুদ্রার একক)।
৩৬। ‘সপুটে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. চুপিসারে
- খ. করজোড়ে
- গ. ধীরে
- ঘ. দ্রুত
উত্তর: খ। সপুটে অর্থ করজোড়ে।
৩৭। ‘মনোরথ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি প্রার্থনা
- খ. একটি বাহন
- গ. ইচ্ছা, অভিলাষ
- ঘ. একটি উৎসব
উত্তর: গ। মনোরথ অর্থ ইচ্ছা বা অভিলাষ।
৩৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পিতামাতা কীভাবে সন্তানকে বড় করে তোলেন?
- ক. উদাসীনভাবে
- খ. শুধু অর্থের বিনিময়ে
- গ. অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে
- ঘ. অন্যের সাহায্যে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন।
৩৯। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী শিক্ষকের ভূমিকা কী?
- ক. শুধু পরীক্ষা নেওয়া
- খ. শুধু তথ্য প্রদান করা
- গ. জ্ঞানদান করে সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা
- ঘ. শুধু শৃঙ্খলা শেখানো
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী শিক্ষক জ্ঞানদান করে সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন, তাই তাঁর প্রতিও অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে।
৪০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা কীসের প্রধান ধর্ম?
- ক. অর্থনীতির
- খ. মনুষ্যত্বের
- গ. রাজনীতির
- ঘ. ধর্মীয় আচারের
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম, কবিতাংশে এটাই প্রকাশিত হয়েছে।
৪১। কবিতার ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. মধ্যযুগীয় বাংলার প্রাচীন রূপ ও আঞ্চলিক শব্দে সমৃদ্ধ
- খ. এটি সংস্কৃতনির্ভর সাধু ভাষা
- গ. এটি সম্পূর্ণ আধুনিক চলিত ভাষা
- ঘ. এটি সম্পূর্ণ আরবি-ফারসি শব্দবহুল
উত্তর: ক। কবিতার ভাষা মধ্যযুগীয় বাংলার প্রাচীন রূপ, যাতে ‘মুই’, ‘তান’, ‘আছিলুঁ’-এর মতো আঞ্চলিক শব্দ ও ক্রিয়াপদের বিশেষ রূপ লক্ষণীয়।
৪২। কবিতায় শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্রম কী?
- ক. নগরবাসী, পিতামাতা, শিক্ষক
- খ. পিতামাতা, শিক্ষক, নগরবাসী/ইষ্ট-মিত্র
- গ. শিক্ষক, পিতামাতা, নগরবাসী
- ঘ. শুধু পিতামাতা
উত্তর: খ। কবিতায় প্রথমে পিতামাতা (মা তারপর বাবা), পরে শিক্ষক, এবং শেষে নগরবাসী ও ইষ্ট-মিত্রদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্রম অনুসরণ করা হয়েছে।
**৪৩। কবিতায় মা ও বাবার প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মায়ের দয়ার হাতে কবির জন্ম হয়েছে
ii. পিতার দয়ার হাতে কবির দেহ পূর্ণাঙ্গ হয়েছে
iii. কবি মায়ের চেয়ে বাবাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবি প্রথমে মাকে এবং তারপর বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন— উভয়কেই গুরুত্ব দিয়েছেন, কাউকে কম-বেশি করেননি; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
অমর্ত্য সেন নোবেল পুরস্কার লাভ করে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। হাজারো কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ছুটে যান শৈশবের বিদ্যাপীঠে, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তাঁর দীক্ষাগুরুদের, যাঁদের কাছে তিনি হাতেখড়ি নিয়েছিলেন।
৪৪। উদ্দীপকের অমর্ত্য সেনের মধ্যে ‘বন্দনা’ কবিতার কবির চেতনার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
- ক. স্বদেশপ্রেম
- খ. স্মৃতিকাতরতা
- গ. স্বাজাত্যবোধ
- ঘ. গুরুভক্তি
উত্তর: ঘ। অমর্ত্য সেনের শৈশবের বিদ্যাপীঠে ফিরে গিয়ে দীক্ষাগুরুদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে গুরুভক্তির যে চেতনা প্রকাশ পায়, তা ‘বন্দনা’ কবিতায় কবির শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
৪৫। কবির উল্লিখিত এই চেতনা কোন চরণে সবচেয়ে স্পষ্ট?
- ক. ইষ্ট মিত্র আদি জথ সভাসদগণ
- খ. দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আম্মার
- গ. কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত
- ঘ. যান দয়া হস্তে জন্ম হৈল বসুধায়
উত্তর: খ। ‘দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আম্মার’ চরণে শিক্ষকের প্রতি কবির গভীরতম শ্রদ্ধা ও গুরুভক্তি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামির মা এক রাতে পানি খেতে চান। ঘরে পানি না থাকায় তা বাহির থেকে সংগ্রহ করে ফিরে এসে দেখেন মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পানির পাত্র হাতে বায়েজিদ সারারাত মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে ঘুম থেকে জাগলেই মাকে পানি দিতে পারেন।
৪৬। ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতার চেয়েও কাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে?
- ক. শিক্ষককে (ওস্তাদকে)
- খ. প্রতিবেশীকে
- গ. রাজাকে
- ঘ. বন্ধুকে
উত্তর: ক। কবিতায় বলা হয়েছে, ‘ওস্তাদে প্রণাম করো পিতা হস্তে বাড়’— অর্থাৎ পিতার চেয়েও শিক্ষককে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে।
৪৭। উদ্দীপকের বায়েজিদের আচরণে ‘বন্দনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?
- ক. পিতৃভক্তি
- খ. গুরুভক্তি
- গ. মাতৃভক্তি ও অকৃপণ সেবাপরায়ণতা
- ঘ. স্বদেশপ্রেম
উত্তর: গ। বায়েজিদের এই আত্মত্যাগমূলক আচরণ মাতৃভক্তি ও সন্তানের অকৃপণ সেবাপরায়ণতার প্রকাশ, যা ‘বন্দনা’ কবিতায় মায়ের প্রতি কবির শ্রদ্ধা নিবেদনের ভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।
৪৮। প্রকাশিত এই দিকটিই কি ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র উপজীব্য?
- ক. কবিতায় শুধু পিতার কথা আছে
- খ. এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়
- গ. হ্যাঁ, এটিই একমাত্র বিষয়
- ঘ. না, মা-বাবা, শিক্ষক ও সমাজের প্রতিও শ্রদ্ধা প্রকাশিত
উত্তর: ঘ। না, উদ্দীপকে শুধু মাতৃভক্তির প্রকাশ থাকলেও কবিতায় মা ও বাবা উভয়ের প্রতি, শিক্ষকের প্রতি (যাঁকে পিতার চেয়েও বেশি শ্রদ্ধার পাত্র বলা হয়েছে), এবং নগরবাসী-ইষ্ট-মিত্রদের প্রতিও শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়েছে— তাই এই একটি দিকই কবিতার একমাত্র উপজীব্য নয়।
৪৯। কবিতায় শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্রমটি (মা-বাবা-শিক্ষক-সমাজ) কী নির্দেশ করে?
- ক. এটি গুরুত্বহীন একটি বিন্যাস
- খ. এটি এলোমেলোভাবে সাজানো
- গ. নিকটতম সম্পর্ক থেকে সমাজের দিকে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ
- ঘ. এটি শুধু ছন্দের প্রয়োজনে
উত্তর: গ। কবিতার এই ক্রম ব্যক্তিগত সবচেয়ে নিকটতম সম্পর্ক (মা-বাবা) থেকে শুরু করে ক্রমে জ্ঞানদাতা শিক্ষক ও শেষে বৃহত্তর সমাজের (নগরবাসী, বন্ধু, সভাসদ) দিকে সম্প্রসারিত হওয়ার একটি সুচিন্তিত সামাজিক-নৈতিক কাঠামো নির্দেশ করে।
৫০। কবিতাটি আজকের পাঠকদের কী শিক্ষা দেয়?
- ক. যাঁরা গড়ে তুলেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে
- খ. অতীতের রীতিনীতি অনুসরণ করতে
- গ. শুধু ধর্মীয় আচার পালন করতে
- ঘ. শুধু রাজার প্রতি আনুগত্য দেখাতে
উত্তর: ক। কবিতাটি শেখায়, জীবনে যাঁরা আমাদের গড়ে তুলেছেন— পিতামাতা, শিক্ষক ও সমাজের মানুষ— তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
