বোশেখ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “বোশেখ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৫১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য বোশেখ কবিতার নোট দেখুন।
বোশেখ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বোশেখ কবিতার কবি কে?
আল মাহমুদ (প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ; জন্ম ১১ জুলাই ১৯৩৬, মোড়াইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া; মৃত্যু ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ ও ঐতিহ্যপ্রীতির জন্য খ্যাত। প্রধান কাব্য: লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালি কাবিন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত।
বোশেখ কবিতার উৎস
পাখির কাছে ফুলের কাছে কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- কালবৈশাখী ঝড়ের প্রচণ্ড শক্তির বর্ণনা— বুনোহাঁসের ঝাঁক ভাঙা, জেটের পাখা দুমড়ানো, টেলিগ্রাফের থাম নোয়ানো।
- কবির মিনতি— গরিব মাঝির পালের দড়ি, চাষির ঘরবাড়ি, টুনটুনি-বাবুই পাখির বাসা কেন ধ্বংস করা হয়।
- অভিযোগ— যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে, ঝড় তাদের একটি ইটও খসাতে পারে না।
- পৌরাণিক-সাহিত্যিক উপমা (হনুমান, মেঘদূত, রাজা সোলেমান, রবীন্দ্রনাথ)— বাতাসের ঐতিহ্যগত ন্যায়বিচারক ভাবমূর্তির সাথে বর্তমান বৈষম্যের তুলনা।
- উপসংহারে দৃঢ় আহ্বান— ধ্বংস করতেই হলে বিভেদকারী পরগাছাদের, শোষকদের অট্টালিকা ও অহংকার গুঁড়িয়ে দাও।
বোশেখ কবিতার মূল ভাব কী?
কালবৈশাখী ঝড়ের প্রতীকের মাধ্যমে সামাজিক অসাম্য ও শ্রেণিবৈষম্যের তীব্র সমালোচনা— প্রকৃতির আপাত-নিরপেক্ষ ধ্বংসলীলার আড়ালে যে দরিদ্ররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আর শোষকরা থেকে যায় নিরাপদ, এই অন্যায় বাস্তবতার বিরুদ্ধে কবির তীব্র প্রতিবাদ ও প্রকৃত ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।
বোশেখ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বুনোহাঁস (বন্য হাঁস), তিষ্ঠ (স্থির হও), অদরকারি (অপ্রয়োজনীয়), টেলিগ্রাফ (সংকেত-বার্তা প্রেরণের যন্ত্র), রামায়ণ (বাল্মীকি রচিত মহাকাব্য), মেঘদূত (কালিদাসের কাব্য), রাজা সোলেমান (ইসরাইলের তৃতীয় রাজা)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। আল মাহমুদ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯৩৪
- খ. ১৯৩৬
- গ. ১৯৩৭
- ঘ. ১৯৩৫
উত্তর: খ। তিনি ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।
২। আল মাহমুদের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রাম
- খ. ময়মনসিংহ
- গ. কুমিল্লা
- ঘ. নোয়াখালী
উত্তর: ক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?
- ক. মীর আবদুস সালাম
- খ. মীর আবদুল হক
- গ. মীর আবদুল করিম
- ঘ. মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
উত্তর: ঘ। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
৪। আল মাহমুদ কবি হিসেবে পরিচিত হলেও আর কোন কোন ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করেন?
- ক. ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশু সাহিত্যে
- খ. শুধু চিত্রকলায়
- গ. শুধু সংগীতে
- ঘ. শুধু নাট্যরচনায়
উত্তর: ক। কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং শিশু সাহিত্য রচনায়ও তিনি শিল্প-সাফল্য লাভ করেছেন।
৫। আল মাহমুদ দীর্ঘকাল কোন পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন?
- ক. চিকিৎসা পেশা
- খ. আইন পেশা
- গ. সাংবাদিকতা
- ঘ. শিক্ষকতা
উত্তর: গ। তিনি দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
৬। পরবর্তীতে আল মাহমুদ কোন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন?
- ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
- গ. জাতীয় জাদুঘর
- ঘ. বাংলা একাডেমি
উত্তর: খ। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
৭। স্বাধীনতার পর আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন?
- ক. দৈনিক ইত্তেফাক
- খ. সাপ্তাহিক সওগাত
- গ. দৈনিক গণকণ্ঠ
- ঘ. দৈনিক বাংলা
উত্তর: গ। স্বাধীনতার পর তিনি দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।
৮। আল মাহমুদের কবিতার বৈশিষ্ট্য কী?
- ক. শুধু বিদেশি শব্দের ব্যবহার
- খ. সম্পূর্ণ সংস্কৃতনির্ভর ভাষা
- গ. শুধু নাগরিক জীবনের বর্ণনা
- ঘ. লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ ও ঐতিহ্যপ্রীতি
উত্তর: ঘ। তাঁর কবিতায় লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ যেমন লক্ষণীয়, তেমনি রয়েছে ঐতিহ্যপ্রীতি।
৯। নিচের কোনটি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. চোখের বালি
- খ. লোক লোকান্তর
- গ. কালের কলস
- ঘ. সোনালি কাবিন
উত্তর: ক। চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ।
১০। আল মাহমুদের শিশুতোষ কবিতার বইয়ের নাম কী?
- ক. কাবিলের বোন
- খ. পাখির কাছে ফুলের কাছে
- গ. পানকৌড়ির রক্ত
- ঘ. উপমহাদেশ
উত্তর: খ। পাখির কাছে ফুলের কাছে তাঁর শিশুতোষ কবিতার বই।
১১। আল মাহমুদ কোন কোন পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. শুধু জাতীয় অধ্যাপক সম্মাননা
- খ. শুধু নোবেল পুরস্কার
- গ. বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার
- ঘ. শুধু আদমজী পুরস্কার
উত্তর: গ। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।
১২। আল মাহমুদ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ২০২০
- খ. ২০১৭
- গ. ২০১৯
- ঘ. ২০১৮
উত্তর: গ। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বোশেখ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১৩। ‘বোশেখ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. একচক্ষু হরিণ
- খ. লোক লোকান্তর
- গ. পাখির কাছে ফুলের কাছে
- ঘ. সোনালি কাবিন
উত্তর: গ। কবিতাটি আল মাহমুদের কবিতাসমগ্রের পাখির কাছে ফুলের কাছে কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
১৪। কবিতার মূল বিষয় কী?
- ক. ঝড় কেন শুধু দরিদ্রকেই আঘাত করে, এই প্রশ্ন ও ন্যায়বিচারের আহ্বান
- খ. প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনা
- গ. বৈশাখের উৎসব উদযাপন
- ঘ. ঋতু পরিবর্তনের বিজ্ঞান
উত্তর: ক। কবিতায় কবি প্রশ্ন তোলেন কালবৈশাখী ঝড়ের ধ্বংসলীলা কেন শুধু দরিদ্রকেই আঘাত করে, এবং শেষে প্রকৃত ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান।
১৫। কবিতার শুরুতে ঝড়ের শক্তি কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. এটি অত্যন্ত দুর্বল
- খ. এটি শুধু বৃষ্টি আনে
- গ. এর কোনো প্রভাব নেই
- ঘ. বুনোহাঁসের ঝাঁক ভাঙে, জেটের পাখা দুমড়ে দেয়, থাম নোয়ায়
উত্তর: ঘ। ঝড়ের প্রচণ্ড শক্তি বর্ণনা করা হয়েছে— এটি বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে দেয়, জেটের পাখা দুমড়ে আছাড় মারে, নদীর পানি শূন্যে তুলে ছড়িয়ে দেয়, টেলিগ্রাফের থাম নুইয়ে দেয়।
১৬। কবি এই শক্তিশালী বাতাসের কাছে কী মিনতি জানান?
- ক. দ্রুত চলে যেতে
- খ. আরও শক্তিশালী হতে
- গ. আরও ধ্বংস করতে
- ঘ. স্থির হতে (তিষ্ঠ হতে)
উত্তর: ঘ। কবি বাতাসের কাছে মিনতি জানান, ‘তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী’— অর্থাৎ স্থির হতে অনুরোধ করেন।
১৭। কবি প্রশ্ন তোলেন গরিব মাঝির কী ছিঁড়ে কী লাভ?
- ক. তার বাড়ি
- খ. তার জাল
- গ. তার নৌকা
- ঘ. তার পালের দড়ি
উত্তর: ঘ। কবি প্রশ্ন তোলেন, ‘গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?’
১৮। বাতাস কাদের বাসা ছিঁড়ে ফেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. টুনটুনিদের
- খ. কাকের
- গ. চড়ুইয়ের
- ঘ. শালিকের
উত্তর: ক। বেগুন পাতায় তৈরি টুনটুনি পাখিদের বাসা ছিঁড়ে ফেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯। ঝড়ে দুঃখী মায়ের কী উল্টে যায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. তার বিছানা
- খ. তার কাপড়
- গ. তার ভাতের হাঁড়ি
- ঘ. তার আসবাবপত্র
উত্তর: গ। দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উল্টে যায় বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
২০। কবি কোন পাখির ঘর ওড়ানো নিয়ে দেবতার কাছে প্রশ্ন তোলেন?
- ক. চড়ুই পাখির
- খ. দোয়েল পাখির
- গ. বাবুই পাখির
- ঘ. ময়না পাখির
উত্তর: গ। কবি প্রশ্ন তোলেন, বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে দেওয়ায় দেবতার কী আনন্দ বা মজা।
২১। কবি বাতাসকে কোন পৌরাণিক চরিত্রের সাথে সম্পর্কিত করে প্রশ্ন করেন?
- ক. লক্ষ্মণের
- খ. রাবণের
- গ. হনুমানের
- ঘ. রামের
উত্তর: গ। কবি প্রশ্ন করেন, রামায়ণে যার কীর্তিগাথা পড়া হয়, সেই মহাবীর হনুমানের পিতা কি বাতাস নিজেই?
২২। রামায়ণ কী ধরনের রচনা?
- ক. একটি প্রবন্ধ
- খ. পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি
- গ. একটি নাটক
- ঘ. একটি উপন্যাস
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী রামায়ণ পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি, রচয়িতা বাল্মীকি।
২৩। কবি বাতাসকে কালিদাসের কোন কাব্যের সাথে সম্পর্কিত করেন?
- ক. অভিজ্ঞানশকুন্তলম
- খ. রঘুবংশম
- গ. মেঘদূত
- ঘ. কুমারসম্ভবম
উত্তর: গ। কবি জিজ্ঞেস করেন, কালিদাসের মেঘদূত কাব্যে যার কথা আছে, বাতাস কি সেই দয়ালু মেঘেরই সাথী।
২৪। কালিদাস কে ছিলেন?
- ক. একজন রাজা
- খ. সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন
- গ. একজন ঐতিহাসিক
- ঘ. একজন বাংলা কবি
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী কালিদাস সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন, যাঁর অমর রচনা মেঘদূতম্ কাব্য।
২৫। মহাবীর হনুমান ও দয়ালু মেঘের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কবি কী তুলনা করতে চান?
- ক. বাতাসের শক্তি ও দুর্বলতা
- খ. বিভিন্ন ভাষার তুলনা
- গ. বিভিন্ন ধর্মের তুলনা
- ঘ. মেঘের মহৎ রূপের সাথে বর্তমান নিষ্ঠুরতার বৈপরীত্য
উত্তর: ঘ। কবি পৌরাণিক ও সাহিত্যিক ঐতিহ্যে বাতাস বা মেঘের মহৎ, উপকারী ভূমিকার সাথে বর্তমান কালবৈশাখীর নিষ্ঠুরতার তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরতে চান।
২৬। কবির মতে ঝড় গরিব চাষির ঘরের কী উড়িয়ে নেয়?
- ক. তার ফসল
- খ. তার গবাদি পশু
- গ. তার জমি
- ঘ. তার ঘরের খুঁটি
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, ঝড় গরিব চাষির ঘরের খুঁটি উড়িয়ে নেয়।
২৭। কবির অভিযোগ অনুযায়ী ঝড় কাদের ক্ষতি করতে পারে না?
- ক. দরিদ্র মানুষদের
- খ. চাষিদের
- গ. যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে
- ঘ. পাখিদের
উত্তর: গ। কবির তীব্র অভিযোগ, যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে, তাদের একটি ইটও ঝড় খসাতে পারে না— ধনী-দরিদ্রের প্রতি প্রকৃতির এই বৈষম্যপূর্ণ (মনে হওয়া) আচরণের প্রতি কবির ক্ষোভ।
**২৮। কবিতায় ঝড়ের ধ্বংসলীলা নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. ঝড় গরিব মাঝি ও চাষির ক্ষতি করে
ii. ঝড় বাবুই ও টুনটুনি পাখির বাসাও ক্ষতিগ্রস্ত করে
iii. ঝড় ধনীদের প্রাসাদও সমানভাবে ধ্বংস করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবির অভিযোগ অনুযায়ী ঝড় প্রকৃতপক্ষে ধনীদের প্রাসাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
২৯। কবি বাতাসকে কোন ঐতিহাসিক/ধর্মীয় রাজার বাহন বলে উল্লেখ করেন?
- ক. রাজা আকবরের
- খ. রাজা দাউদের
- গ. রাজা অশোকের
- ঘ. রাজা সোলেমানের
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, বাতাস নাকি রাজা সোলেমানের বাহন।
৩০। রাজা সোলেমান সম্পর্কে টীকায় কী বলা হয়েছে?
- ক. তিনি একজন সাধারণ প্রজা ছিলেন
- খ. তিনি একজন কবি ছিলেন
- গ. তিনি ডেভিডের পুত্র, ইসরাইলের তৃতীয় রাজা
- ঘ. তিনি একজন বণিক ছিলেন
উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী রাজা সোলেমান ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা, একজন বীর ও দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন।
৩১। রাজা সোলেমানের তলোয়ার কী করত বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. এটি ব্যবহারই হতো না
- খ. অত্যাচারীর মাথা কাটত, অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিত
- গ. শুধু প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হতো
- ঘ. এটি শুধু যুদ্ধে ব্যবহৃত হতো
উত্তর: খ। কবিতায় বলা হয়েছে, রাজা সোলেমানের তলোয়ার অত্যাচারীর মাথা কাটত এবং অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিত— প্রকৃত ন্যায়বিচারের প্রতীক।
৩২। কবি কোন বিখ্যাত কবিকে বাতাসের সামনে করজোড়ে দাঁড়ানো বলে উল্লেখ করেন?
- ক. কাজী নজরুল ইসলাম
- খ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. জীবনানন্দ দাশ
উত্তর: গ। কবি বলেন, কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ বাতাসের কাছে করজোড়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
৩৩। রবীন্দ্রনাথ বাতাসের কাছে কী চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. পুরানো, মরা, অদরকারি যা কিছু উড়িয়ে দিতে
- খ. তাকে ধ্বংস না করতে
- গ. একটি নতুন কবিতা লেখার প্রেরণা
- ঘ. তার জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করতে
উত্তর: ক। কবি বলেন, রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন যা পুরানো, শুষ্ক, মরা, অদরকারি তা কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে— পরিবর্তন ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে কালবৈশাখীকে দেখার এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।
৩৪। কবিতার শেষ স্তবকে কবি ঝড়ের কাছে কী আহ্বান জানান?
- ক. ধ্বংস বন্ধ করতে
- খ. শুধু ধনীদের ক্ষতি করতে
- গ. আরও দরিদ্রদের ক্ষতি করতে
- ঘ. যদি ধ্বংস করতেই হয়, তবে বিভেদকারী পরগাছাদের ধ্বংস করতে
উত্তর: ঘ। কবি আহ্বান জানান, ধ্বংস যদি করতেই হয়, তবে যেন বিভেদকারী পরগাছাদের ধ্বংস করা হয়।
৩৫। কবি কাদের ‘বিভেদকারী পরগাছা’ বলে অভিহিত করেন?
- ক. পাখিদের
- খ. দরিদ্র কৃষকদের
- গ. যারা পরের শ্রমে মস্ত দালান গড়ে
- ঘ. মাঝিদের
উত্তর: গ। যারা পরের শ্রমে মস্ত দালান গড়ে, কবি তাদেরই ‘বিভেদকারী পরগাছা’ বলে অভিহিত করেন।
৩৬। কবিতার শেষ পঙক্তিতে কবি কী গুঁড়িয়ে ফেলার আহ্বান জানান?
- ক. দরিদ্রের কুঁড়েঘর
- খ. প্রকৃতির সৌন্দর্য
- গ. শোষকদের বাড়তি বাহাদুরি
- ঘ. সাধারণ মানুষের স্বপ্ন
উত্তর: গ। কবিতা শেষ হয় এই আহ্বানে যে, ঝড় যেন শোষকদের বাড়তি বাহাদুরি (অহংকার) গুঁড়িয়ে ফেলে।
৩৭। ‘বুনোহাঁস’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. গৃহপালিত হাঁস
- খ. একটি খেলনা
- গ. একটি পাখির প্রজাতি মাত্র
- ঘ. যে হাঁস গৃহপালিত নয়, বনে থাকে
উত্তর: ঘ। বুনোহাঁস অর্থ যে হাঁস গৃহপালিত নয়, বনে থাকে।
৩৮। ‘তিষ্ঠ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ফিরে যাও
- খ. স্থির হও
- গ. এগিয়ে যাও
- ঘ. দ্রুত চলো
উত্তর: খ। তিষ্ঠ অর্থ স্থির হও।
৩৯। ‘অদরকারি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. যার প্রয়োজন নেই
- খ. মূল্যবান
- গ. দুর্লভ
- ঘ. প্রয়োজনীয়
উত্তর: ক। অদরকারি অর্থ যার প্রয়োজন নেই।
৪০। ‘টেলিগ্রাফ’ কী?
- ক. একটি পরিবহন ব্যবস্থা
- খ. একটি পত্রিকা
- গ. একটি বাদ্যযন্ত্র
- ঘ. সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের যন্ত্র
উত্তর: ঘ। টীকা অনুযায়ী টেলিগ্রাফ সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র, যা ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত আধুনিক রূপ লাভ করে।
৪১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৈশাখ মাসকে কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. একটি পরাক্রমশালী মাস, রুদ্র সংহারক রূপে আবির্ভূত
- খ. একটি উৎসবমুখর মাস মাত্র
- গ. একটি শান্ত মাস
- ঘ. একটি সাধারণ মাস
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৈশাখ বাংলাদেশের একটি পরাক্রমশালী মাস, যা ঋতুপরিক্রমায় বারবার রুদ্র সংহারক রূপে আবির্ভূত হয়।
৪২। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৈশাখের নিষ্ঠুরতার শিকার সাধারণত কারা হয়?
- ক. ধনী ব্যক্তিরা
- খ. শহরের মানুষ
- গ. রাজনীতিবিদরা
- ঘ. দুঃখী দরিদ্র মানুষ বা অসহায় প্রাণী
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুঃখী দরিদ্র মানুষ বা অসহায় কোনো প্রাণী শিকার হয়।
৪৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি শেষে বৈশাখের কাছে কী আহ্বান জানান?
- ক. প্রকৃতি রক্ষা করতে
- খ. ধ্বংস সম্পূর্ণ বন্ধ করতে
- গ. শ্রমজীবীকে শোষণ করে গড়া অট্টালিকা ধ্বংস করে দিতে
- ঘ. শুধু গরিবদের সাহায্য করতে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি বৈশাখের কাছে আহ্বান জানান, ধ্বংস করতেই হলে যেন সেইসব অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় যা শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে গড়ে উঠেছে।
৪৪। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় কীসের প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করা হয়েছে?
- ক. বৃষ্টির প্রতীকের মাধ্যমে
- খ. সূর্যের প্রতীকের মাধ্যমে
- গ. চাঁদের প্রতীকের মাধ্যমে
- ঘ. বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মাধ্যমে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন।
৪৫। কবিতায় পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক উপমা (হনুমান, মেঘদূত, সোলেমান, রবীন্দ্রনাথ) ব্যবহারের কাব্যিক উদ্দেশ্য কী?
- ক. ঝড়ের ঐতিহ্যগত ন্যায়বিচারক ভাবমূর্তির সাথে বর্তমান বৈষম্যের বৈপরীত্য তুলে ধরা
- খ. পাঠককে বিভ্রান্ত করা
- গ. এলোমেলোভাবে তথ্য যোগ করা
- ঘ. শুধু পাণ্ডিত্য প্রদর্শন
উত্তর: ক। এই উপমাগুলো ব্যবহার করে কবি বাতাস/ঝড়ের ঐতিহ্যগত শক্তিশালী ও ন্যায়বিচারক ভাবমূর্তির সাথে বর্তমান কালের বৈষম্যমূলক (দরিদ্রের প্রতি নিষ্ঠুর, ধনীর প্রতি নিরীহ) আচরণের তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন।
৪৬। কবিতাটি কোন সামাজিক বাস্তবতার প্রতি ইঙ্গিত দেয়, প্রকৃতির আচরণের রূপকে?
- ক. সমাজেও দরিদ্ররাই বেশি বিপর্যয়ের শিকার হয়, ধনীরা নিরাপদ থাকে
- খ. প্রকৃতির কোনো সামাজিক তাৎপর্য নেই
- গ. ধনী-দরিদ্র সমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- ঘ. প্রকৃতি সবসময় ন্যায্য
উত্তর: ক। প্রকৃতির আচরণের রূপকে কবি প্রকৃতপক্ষে সমাজের এক গভীর বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেন— দুর্যোগ ও বিপর্যয়ে দরিদ্ররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে ধনীরা প্রায়শই তুলনামূলক সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকে।
৪৭। কবিতার শেষ আহ্বান (‘বিভেদকারী পরগাছাদের ধ্বংস করো’) কী ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে?
- ক. সহিংস বিপ্লবের প্রকৃত আহ্বান
- খ. কোনো বিশেষ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে না
- গ. প্রতীকীভাবে শোষণ ও অসাম্যের অবসান এবং ন্যায্যতার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা
- ঘ. প্রকৃতির প্রতি প্রতিশোধ
উত্তর: গ। এই আহ্বান মূলত প্রতীকী— এটি প্রকৃত সহিংসতার আহ্বান নয়, বরং শোষণ, অসাম্য ও অন্যায় সম্পদ আহরণের অবসান এবং একটি ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠার গভীর আকাঙ্ক্ষারই কাব্যিক প্রকাশ।
৪৮। কবিতাটি ‘নিরীহ বাঙালি’ বা ‘একুশের গল্প’-এর মতো সামাজিক-চেতনামূলক রচনার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ক. সবগুলোই একই বিষয় নিয়ে লেখা
- খ. সবগুলোই হাস্যরসাত্মক রচনা
- গ. সবগুলোই সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে সাহিত্যিক প্রতিবাদ প্রকাশ করে
- ঘ. এদের মধ্যে কোনো মিল নেই
উত্তর: গ। ‘বোশেখ’ কবিতাটি ‘নিরীহ বাঙালি’ বা ‘একুশের গল্প’-এর মতোই বাংলা সাহিত্যের সামাজিক-চেতনামূলক ধারার অংশ— ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে হলেও প্রতিটি রচনাই সামাজিক অসাম্য, বৈষম্য বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহিত্যিক প্রতিবাদ প্রকাশ করে।
৪৯। কবিতাটির ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. সরাসরি, প্রশ্নধর্মী, তীব্র আবেগময় ভাষায় সামাজিক প্রতিবাদ প্রকাশ
- খ. সম্পূর্ণ বর্ণনামূলক, কোনো আবেগ নেই
- গ. সংলাপনির্ভর নাটকীয়
- ঘ. অত্যন্ত জটিল ও দুর্বোধ্য
উত্তর: ক। কবিতার ভাষা সরাসরি, বারবার প্রশ্ন উত্থাপনকারী এবং তীব্র আবেগময়— এই ভাষারীতির মাধ্যমেই কবি তাঁর সামাজিক প্রতিবাদ কার্যকরভাবে প্রকাশ করেছেন।
৫০। কবিতাটি থেকে পাঠক সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে কোন গভীর প্রশ্নে ভাবিত হন?
- ক. ঝড় কীভাবে সৃষ্টি হয়
- খ. প্রকৃতির শক্তি কতটা
- গ. প্রকৃতির আপাত-নিরপেক্ষতার আড়ালে সামাজিক বৈষম্য কীভাবে গভীর হয়
- ঘ. পৌরাণিক কাহিনির সত্যতা কতটা
উত্তর: গ। কবিতাটি পাঠককে এই গভীর প্রশ্নে ভাবিয়ে তোলে যে, প্রকৃতি বা ভাগ্যের আপাত-নিরপেক্ষতার আড়ালে কীভাবে বিদ্যমান সামাজিক অসাম্য ও বৈষম্য আরও গভীরভাবে প্রতিফলিত ও প্রকট হয়ে ওঠে— এবং প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কী প্রয়োজন।
গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক করিম মিয়ার একমাত্র ঘরটি বন্যায় ভেসে যায়, অথচ একই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর অবৈধভাবে গড়া বিশাল বাড়িটি নদীর তীর দখল করে থাকা সত্ত্বেও অক্ষত থাকে। গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বলে, ‘দুর্যোগও যেন গরিবকেই বেশি চেনে!’
৫১। গ্রামবাসীর এই ক্ষোভের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার কবির অভিযোগের কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
- ক. ধনীদের প্রতি শ্রদ্ধা
- খ. কোনো মিল নেই
- গ. প্রকৃতির প্রশংসা
- ঘ. দুর্যোগ বৈষম্যমূলকভাবে দরিদ্রদেরই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে, এই পর্যবেক্ষণ
উত্তর: ঘ। কবি যেমন প্রশ্ন তোলেন কালবৈশাখী কেন শুধু গরিবের ঘর ভাঙে অথচ ধনীর প্রাসাদ অক্ষত থাকে, গ্রামবাসীও তেমনি একই পর্যবেক্ষণ করে যে দুর্যোগ যেন বৈষম্যমূলকভাবে দরিদ্রদেরই বেশি আঘাত করে— উভয় ক্ষেত্রেই এই একই সামাজিক অসংগতির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
৫২। কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ের আলোকে কী সামাজিক সত্য উঠে আসে?
- ক. দুর্যোগের প্রভাব সামাজিক অসাম্য দ্বারা নির্ধারিত হয়, ক্ষমতা মানুষকে রক্ষা করে
- খ. প্রকৃতি সবসময় ন্যায্য বিচার করে
- গ. দরিদ্ররাই সবচেয়ে নিরাপদ
- ঘ. দুর্যোগের কোনো সামাজিক মাত্রা নেই
উত্তর: ক। কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ই দেখায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব আসলে অনেকাংশে বিদ্যমান সামাজিক অসাম্য দ্বারা নির্ধারিত হয়— অবৈধ সম্পদ, প্রভাব ও ক্ষমতা প্রায়ই মানুষকে দুর্যোগের প্রকৃত পরিণতি থেকেও রক্ষা করে, যেখানে দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত থেকে যায়।
