একাত্তরের দিনগুলি রচনার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “একাত্তরের দিনগুলি” রচনা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে রচনার সারকথা ও ৫৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য একাত্তরের দিনগুলি রচনার নোট দেখুন।
একাত্তরের দিনগুলি রচনার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
একাত্তরের দিনগুলি রচনার লেখক কে?
জাহানারা ইমাম (জন্ম ১৯২৯, সুন্দরপুর, মুর্শিদাবাদ; মৃত্যু ১৯৯৪)। শহিদ জননী উপাধিপ্রাপ্ত — মুক্তিযুদ্ধে ছেলে রুমী ও স্বামী শরীফ দুজনকেই হারান। প্রধান গ্রন্থ: একাত্তরের দিনগুলি, গজকচ্ছপ, সাতটি তারার ঝিকিমিকি, ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস, প্রবাসের দিনগুলি। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত।
উৎস ও রূপ
দিনপঞ্জি আকারে রচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ।
মূল চরিত্র/ব্যক্তি
জাহানারা ইমাম (লেখিকা), শরীফ (স্বামী), রুমী (বড় ছেলে, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা), জামী (ছোট ছেলে), করিম (পরিচিত/সংবাদ বাহক)।
দিনপঞ্জির মূল ঘটনাগুলো (কালানুক্রমে)
- **১৩ এপ্রিল:** যুদ্ধভীতি, পাড়া ছাড়ার আলোচনা, নদীতে লাশ ভাসার আতঙ্কজনক গুজব।
- **১০ মে:** অবহেলিত বাগানের যত্ন — দুঃখ ভুলে থাকার এক অবলম্বন হিসেবে।
- **১২ মে:** সরকারি জোরাজুরি সত্ত্বেও পরিবারের সিদ্ধান্তে জামীর স্কুলে না যাওয়া।
- **১৭ মে:** বেয়নেটের মুখে ৫৫ জন বুদ্ধিজীবীর জোরপূর্বক বিবৃতি।
- **২৫ মে:** স্বাধীন বাংলা বেতারে নতুন কণ্ঠস্বর, ‘চরমপত্র’ কথিকা, গেরিলা তৎপরতার খবরে আশার সঞ্চার।
- **৫ সেপ্টেম্বর:** রুমীকে বাঁচাতে মার্সি পিটিশন করা হবে কিনা তা নিয়ে তীব্র দ্বিধা— শেষে না করার সিদ্ধান্ত।
- **১১ অক্টোবর:** শহিদ মতিউর রহমানের প্রসঙ্গ, স্বাধীন বাংলা বেতারের ছদ্মনামী কণ্ঠস্বরদের প্রকৃত পরিচয়।
- **১৬ ডিসেম্বর:** যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, নিয়াজীর আত্মসমর্পণ (৯৩ হাজার সৈন্য, বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে), জাতীয় বিজয়ের উল্লাসের মধ্যেই শরীফের কুলখানি — আনন্দ ও শোকের যুগপৎ উপস্থিতি।
একাত্তরের দিনগুলি রচনার মূল ভাব কী?
মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, সাধারণ মানুষের আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা, বুদ্ধিজীবী নির্যাতন, এবং একজন মায়ের সন্তান ও স্বামী হারানোর সীমাহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের বিজয় অর্জনের ইতিহাস।
একাত্তরের দিনগুলি রচনার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বিরান (পরিত্যক্ত), খুরপি (ছোট খন্তা), অবরুদ্ধ নিষ্ক্রিয়তা (আটক অবস্থায় কর্মহীনতা), কূটকৌশল (চতুরতা), বেয়নেট (সঙ্গিন), স্তম্ভিত (হতবাক), চরমপত্র (রেডিও কথিকা), মার্সি পিটিশন (প্রাণভিক্ষার আবেদন), গাজুরিয়া মাইর (শক্ত লাঠির মার), লহমায় (মুহূর্তে)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। জাহানারা ইমাম কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯২৮
- খ. ১৯২৯
- গ. ১৯২৭
- ঘ. ১৯৩০
উত্তর: খ। তিনি ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা মে জন্মগ্রহণ করেন।
২। জাহানারা ইমামের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ফরিদপুর
- খ. মুর্শিদাবাদের সুন্দরপুর গ্রাম
- গ. চট্টগ্রাম
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: খ। মুর্শিদাবাদের সুন্দরপুর গ্রামেই তাঁর জন্ম।
৩। জাহানারা ইমাম কোন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন?
- ক. স্কটিশ চার্চ কলেজ
- খ. ইডেন কলেজ
- গ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
- ঘ. লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ
উত্তর: ঘ। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে তিনি বিএ পাশ করেন।
৪। জাহানারা ইমাম কোন স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন?
- ক. হলিক্রস স্কুল
- খ. সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল
- গ. ভিকারুননিসা নূন স্কুল
- ঘ. মনিপুর স্কুল
উত্তর: খ। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
৫। জাহানারা ইমাম কোথা থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
- ক. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: খ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বি.এড ও বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন এবং ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে অধ্যাপনা করেন।
৬। জাহানারা ইমামের প্রথম সন্তানের নাম কী?
- ক. শাফী ইমাম রুমী
- খ. করিম
- গ. শরীফ
- ঘ. জামী
উত্তর: ক। তাঁর প্রথম সন্তান শাফী ইমাম রুমী, যিনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে যুদ্ধের শেষদিকে শহিদ হন।
৭। মুক্তিযুদ্ধে সন্তান হারানোর কারণে জাহানারা ইমাম কী নামে পরিচিতি লাভ করেন?
- ক. দেশমাতা
- খ. বীরাঙ্গনা
- গ. মুক্তিসেনানী
- ঘ. শহিদ জননী
উত্তর: ঘ। সন্তান হারানোর এই আত্মত্যাগের জন্য তিনি ‘শহিদ জননী’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
৮। জাহানারা ইমামের রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
- ক. গজকচ্ছপ
- খ. আরণ্যক
- গ. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
- ঘ. ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস
উত্তর: খ। আরণ্যক আসলে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি জাহানারা ইমামের গ্রন্থ।
৯। জাহানারা ইমাম সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য কোন পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. একুশে পদক
- খ. স্বাধীনতা পুরস্কার
- গ. জাতীয় সাহিত্য পুরস্কার
- ঘ. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
উত্তর: ঘ। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
১০। জাহানারা ইমাম কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৯৩
- খ. ১৯৯৪
- গ. ১৯৯২
- ঘ. ১৯৯৫
উত্তর: খ। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ শে জুন এই মহীয়সী নারী পরলোকগমন করেন।
একাত্তরের দিনগুলি রচনার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১১। ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনাটি কোন ধরনের গ্রন্থ থেকে নেওয়া?
- ক. উপন্যাস
- খ. নাটক
- গ. দিনপঞ্জির আকারে রচিত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ
- ঘ. কবিতা সংকলন
উত্তর: গ। এটি একটি দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আকারে রচিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
১২। রচনায় জাহানারা ইমাম মূলত কীসের কথা তুলে ধরেছেন?
- ক. ব্যক্তিগত প্রেমের কাহিনি
- খ. শৈশবস্মৃতি
- গ. মুক্তিযুদ্ধে মানুষের অংশগ্রহণের ইতিহাস
- ঘ. রাজনৈতিক জীবনী
উত্তর: গ। এই রচনা মুক্তিযুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিক ও সামষ্টিক অংশগ্রহণের ইতিহাস তুলে ধরে।
১৩ই এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
১৩। ১৩ই এপ্রিলের এন্ট্রিতে কতদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল বলে বলা হয়েছে?
- ক. চার দিন
- খ. পাঁচ দিন
- গ. দুই দিন
- ঘ. তিন দিন
উত্তর: ক। টেক্সটে বলা আছে, “চারদিন ধরে বৃষ্টি”।
১৪। জামী কোন ছড়াটি কাটছিল?
- ক. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
- খ. রোদ হয় বৃষ্টি হয়, খেঁক-শিয়ালির বিয়ে হয়
- গ. আকাশে মেঘ জমেছে
- ঘ. আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
উত্তর: খ। জামী ছড়া কাটছিল, “রোদ হয় বৃষ্টি হয়, খেঁক-শিয়ালির বিয়ে হয়”।
১৫। করিম জাহানারা ইমামকে কী পরামর্শ দিতে এসেছিল?
- ক. স্কুলে ভর্তি করাতে
- খ. পাড়া ছেড়ে চলে যেতে
- গ. রেডিও শুনতে
- ঘ. বাগানে কাজ করতে
উত্তর: খ। করিম বলে, “এ পাড়ার অনেকেই চলে যাচ্ছে বাড়ি ছেড়ে। আপনারা কোথাও যাবেন না?”
১৬। জাহানারা ইমাম পাড়া ছেড়ে না যাওয়ার কারণ হিসেবে কী বলেন?
- ক. তাঁর সাহস আছে বলে
- খ. অন্ধ, বুড়ো শ্বশুরকে নিয়ে যাওয়া কঠিন বলে
- গ. বাড়ি বিক্রি হয়নি বলে
- ঘ. তাঁর কোনো আত্মীয় নেই বলে
উত্তর: খ। তিনি বলেন, “অন্ধ, বুড়ো শ্বশুরকে নিয়ে কেমন করে যাব?”
১৭। শান্তিনগর ও এলিফ্যান্ট রোডের মানুষদের নিয়ে কথোপকথনে কী বিদ্রূপাত্মক সত্য উঠে আসে?
- ক. দুই এলাকায় কোনো যোগাযোগ নেই
- খ. দুই এলাকাতেই কোনো ভয় নেই
- গ. দুই এলাকার মানুষই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে
- ঘ. উভয় এলাকার মানুষ একে অপরের এলাকায় যাচ্ছে
উত্তর: ঘ। শান্তিনগরের মানুষ এলিফ্যান্ট রোডে আসছে নিরাপত্তার জন্য, আবার এলিফ্যান্ট রোডের মানুষ শান্তিনগরে যেতে চাইছে— এতে বোঝা যায় ভয়টা আসলে মনের, বাস্তব নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা কোথাও নেই।
১৮। করিমের কাছ থেকে নদীতে ভেসে যাওয়া লাশ সম্পর্কে কী শোনা যায়?
- ক. লাশগুলো বিদেশি সেনাদের
- খ. লাশগুলো শনাক্ত করা হয়েছে
- গ. লাশগুলো সব সমাহিত করা হয়েছে
- ঘ. লাশগুলোর পেছনে হাত বাঁধা ও গুলিতে মরা
উত্তর: ঘ। করিম জানায়, নদীতে প্রচুর লাশ ভেসে যাচ্ছে, যাদের পেছনে হাত বাঁধা, গুলিতে মরা।
১০ই মে, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
১৯। ১০ই মে জাহানারা ইমাম বাগানে কী কাজে গিয়েছিলেন?
- ক. পানি দিতে
- খ. ফুল কাটতে
- গ. নতুন গাছ লাগাতে
- ঘ. অবহেলিত গোলাপ গাছের যত্ন নিতে
উত্তর: ঘ। গত দুই মাস অযত্নে থাকা হাই-ব্রিড টি-রোজ গাছগুলোর যত্ন নিতে তিনি বাগানে যান।
২০। মাখনের মতো রঙের গোলাপটির নাম কী?
- ক. ল্যাভেন্ডার
- খ. বনি প্রিন্স
- গ. পাস্কালি
- ঘ. পিস্ (শান্তি)
উত্তর: ঘ। ‘পিস্’ অর্থাৎ ‘শান্তি’ নামের গোলাপটির রং মাখনের মতো বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
২১। জাহানারা ইমামের কাছে বাগান করা কী হিসেবে কাজ করে?
- ক. সামাজিক মর্যাদার প্রতীক
- খ. দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকার নেশা
- গ. সময় নষ্ট করার কাজ
- ঘ. আয়ের উৎস
উত্তর: খ। তিনি লেখেন, “বাগান করা একটা নেশা। এ নেশায় দুঃখ-কষ্ট খানিকক্ষণ ভুলে থাকা যায়।”
১২ই মে, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
২২। সরকার কোন তারিখে প্রাইমারি স্কুল খোলার হুকুম দেয়?
- ক. নয় তারিখে
- খ. এক তারিখে
- গ. পাঁচ তারিখে
- ঘ. পনেরো তারিখে
উত্তর: খ। এক তারিখে প্রাইমারি স্কুল, নয় তারিখে মাধ্যমিক স্কুল খোলার হুকুম হয়েছিল।
২৩। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামী স্কুলে যাচ্ছিল কি?
- ক. নিয়মিত যাচ্ছিল
- খ. যাচ্ছিল না
- গ. মাঝে মাঝে যাচ্ছিল
- ঘ. অন্য স্কুলে ভর্তি হয়েছিল
উত্তর: খ। শরীফ, জাহানারা, রুমী ও জামী চারজনে আগেই ঠিক করেছিল স্কুল খুললেও জামী স্কুলে যাবে না, কারণ দেশে তখন যুদ্ধাবস্থা।
২৪। জামী তখন কোন শ্রেণির ছাত্র ছিল?
- ক. অষ্টম
- খ. নবম
- গ. দশম
- ঘ. একাদশ
উত্তর: গ। জামী তখন দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
২৫। জামীকে পড়াশোনায় সাহায্য করার দায়িত্ব প্রথমে কার ওপর ছিল?
- ক. প্রতিবেশীর
- খ. জাহানারা ইমামের
- গ. শরীফের
- ঘ. রুমীর
উত্তর: ঘ। রুমী যতদিন বাড়িতে ছিল, ততদিন সে জামীকে সাহায্য করত; তারপর শরীফ আর জাহানারা যতটা পারতেন।
**২৬। জামীর স্কুলে না যাওয়া প্রসঙ্গে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. জামী তখন দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল
ii. পরিবারের সবাই মিলে আগেই ঠিক করে রেখেছিল স্কুলে যাওয়া হবে না
iii. জামী একাই বাড়িতে পড়াশোনা করত, বন্ধুদের সাথে নয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য ঠিক, কিন্তু জামী আসলে দুই-তিনজন বন্ধুর সাথে একসঙ্গে বসে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, একা নয় — তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
১৭ই মে, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
২৭। ১৭ই মে-র এন্ট্রিতে কতজন বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীর নামে বিবৃতি বেরোয়?
- ক. ৫০ জন
- খ. ৬০ জন
- গ. ৪৫ জন
- ঘ. ৫৫ জন
উত্তর: ঘ। আজকের কাগজে ৫৫ জন বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীর নাম দিয়ে এক বিবৃতি বেরিয়েছিল।
২৮। জাহানারা ইমামের ধারণায় বুদ্ধিজীবীরা কীভাবে ঐ বিবৃতিতে সই করতে বাধ্য হয়েছিলেন?
- ক. বেয়নেটের মুখে বাধ্য হয়ে
- খ. টাকার লোভে
- গ. স্বেচ্ছায় ও আনন্দের সাথে
- ঘ. রাজনৈতিক পদের লোভে
উত্তর: ক। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বেশিরভাগ বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী বেয়নেটের মুখে সই দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
২৯। এই বিবৃতির প্রসঙ্গে জাহানারা ইমাম কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন?
- ক. গোয়েবলস
- খ. চার্চিল
- গ. মুসোলিনি
- ঘ. হিটলার
উত্তর: ক। তিনি লেখেন, এমন নির্লজ্জ মিথ্যাভাষণে ভরা বিবৃতি স্বয়ং গোয়েবলসও লিখতে পারতেন কিনা সন্দেহ— গোয়েবলস ছিলেন হিটলারের প্রচারণা-সহযোগী।
২৫শে মে, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
৩০। ২৫শে মে কোন কবির জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছিল?
- ক. জীবনানন্দ দাশ
- খ. সুকান্ত ভট্টাচার্য
- গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: ঘ। আজ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী পালিত হচ্ছিল।
৩১। স্বাধীন বাংলা বেতারে নতুন কণ্ঠস্বরের ছদ্মনাম কী ছিল?
- ক. আলী যাকের
- খ. রথীন্দ্রনাথ রায়
- গ. সালেহ আহমদ
- ঘ. হাসান ইমাম
উত্তর: গ। নতুন কণ্ঠস্বরটি নিজেকে সালেহ আহমদ নামে পরিচয় দিচ্ছিল, যদিও এটি আসলে ছদ্মনাম ছিল।
৩২। ‘চরমপত্র’ নামক কথিকাটি কোন ভাষায় শেষ করা হয়েছিল?
- ক. আঞ্চলিক নোয়াখালী ভাষায়
- খ. সাধু ভাষায়
- গ. শুদ্ধ চলিত ভাষায়
- ঘ. খাঁটি ঢাকাইয়া ভাষায়
উত্তর: ঘ। শুদ্ধ ভাষায় শুরু করলেও শেষের দিকে এক্কেবারে খাঁটি ঢাকাইয়া ভাষাতে দুটো লাইন বলে কথিকাটি শেষ করা হয়েছিল।
৩৩। ঐদিনের সম্প্রচারে ঢাকার কয়টি জায়গায় গ্রেনেড ফাটার কথা বলা হয়?
- ক. চার জায়গায়
- খ. ছয় জায়গায়
- গ. সাত জায়গায়
- ঘ. পাঁচ জায়গায়
উত্তর: খ। সম্প্রচারে বলা হয়, ঢাকার ছ’জায়গায় গ্রেনেড ফেটেছে— যা শুনে জাহানারা ইমামের সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
৩৪। ৫ই সেপ্টেম্বরের এন্ট্রিতে কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা দেখা যায়?
- ক. রুমীর জন্য মার্সি পিটিশন করা নিয়ে
- খ. জামীর স্কুল নিয়ে
- গ. বাড়ি বদলানো নিয়ে
- ঘ. বাগান বিক্রি নিয়ে
উত্তর: ক। রুমীকে মুক্ত করতে সামরিক সরকারের কাছে মার্সি পিটিশন (প্রাণভিক্ষার আবেদন) করা হবে কিনা— এই নিয়েই শরীফ ও জাহানারা দ্বিধায় ভুগছিলেন।
৩৫। বাঁকা ও ফকির কী পরামর্শ দিয়েছিল?
- ক. রুমীকে ভুলে যেতে
- খ. রুমীর জন্য মার্সি পিটিশন করতে
- গ. দেশ ছেড়ে চলে যেতে
- ঘ. পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে
উত্তর: খ। বাঁকা ও ফকির মনে করেছিল, শরীফকে দিয়ে রুমীর প্রাণভিক্ষা চেয়ে মার্সি পিটিশন করালে রুমী হয়তো ছাড়া পেতে পারে।
৩৬। শরীফ কেন মার্সি পিটিশন করতে রাজি হননি?
- ক. তাঁর কাছে টাকা ছিল না বলে
- খ. এতে রুমীর আদর্শের অপমান হবে ভেবে
- গ. সরকার তা গ্রহণ করবে না ভেবে
- ঘ. সময় ছিল না বলে
উত্তর: খ। শরীফের মতে, যে সরকারের বিরুদ্ধে রুমী যুদ্ধে গেছে তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া মানেই রুমীর আদর্শকে অপমান করা।
**৩৭। মার্সি পিটিশনের দ্বিধা প্রসঙ্গে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. জাহানারা ইমাম শুরুতে মার্সি পিটিশনের পক্ষে ছিলেন
ii. শরীফ প্রথম থেকেই দৃঢ়ভাবে রাজি ছিলেন
iii. শেষ পর্যন্ত মার্সি পিটিশন না করার সিদ্ধান্ত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** জাহানারা প্রথম চোটে পিটিশনের পক্ষে বললেও শরীফ দ্বিধায় ভুগছিলেন, দৃঢ়ভাবে রাজি ছিলেন না— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল; প্রথম ও তৃতীয়টি ঠিক।
১১ই অক্টোবর, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
৩৮। শরীফ কার কাছ থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের কথা শোনেন?
- ক. মঞ্জুরের কাছ থেকে
- খ. ডা. রাব্বির কাছ থেকে
- গ. করিমের কাছ থেকে
- ঘ. বাঁকার কাছ থেকে
উত্তর: খ। শরীফ তাদের বন্ধু সুজা সাহেবের ভাগ্নে ডা. ফজলে রাব্বির কাছ থেকে এই কথা শোনেন।
৩৯। মতিউর রহমানের চল্লিশা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
- ক. মিরপুরে
- খ. উত্তরায়
- গ. গুলশানে মতিউরের শ্বশুরবাড়িতে
- ঘ. ধানমন্ডিতে
উত্তর: গ। মতিউর রহমানের শ্বশুর গুলশানের এক বাড়িতে থাকতেন, সেখানেই তাঁর চল্লিশা হয়েছিল।
৪০। মতিউর রহমানের স্ত্রী কার শ্যালিকা ছিলেন?
- ক. শরীফের
- খ. মনিরুজ্জামানের
- গ. রাব্বির
- ঘ. সুজার
উত্তর: খ। মিসেস মতিউর ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের শালী।
৪১। স্বাধীন বাংলা বেতারে ‘সালেহ আহমদ’ ছদ্মনামের আসল ব্যক্তি কে ছিলেন?
- ক. আলমগীর কবির
- খ. আবদুল জব্বার
- গ. আলী যাকের
- ঘ. হাসান ইমাম
উত্তর: ঘ। প্রথমে চিনতে না পারলেও পরে জাহানারা ইমাম বুঝতে পারেন সেই কণ্ঠ আসলে হাসান ইমামের।
৪২। ইংরেজি খবর ও ভাষ্য প্রচারকারী আবু মোহাম্মদ আলী ও আহমেদ চৌধুরী আসলে কারা ছিলেন?
- ক. হাসান ইমাম ও রাজু আহমেদ
- খ. আলী যাকের ও আলমগীর কবির
- গ. সৈয়দ আলী আহসান ও কামরুল হাসান
- ঘ. রথীন্দ্রনাথ রায় ও অজিত রায়
উত্তর: খ। ছদ্মনামে ইংরেজি খবর প্রচারকারী দুজন প্রকৃতপক্ষে ছিলেন আলী যাকের ও আলমগীর কবির।
১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ তারিখের দিনলিপি থেকে:
৪৩। সকালে ঘোষিত আকাশযুদ্ধ-বিরতি বিকেলে কত পর্যন্ত বাড়ানো হয়?
- ক. দুইটা পর্যন্ত
- খ. চারটা পর্যন্ত
- গ. পাঁচটা পর্যন্ত
- ঘ. তিনটা পর্যন্ত
উত্তর: ঘ। সকাল নটা পর্যন্ত নির্ধারিত যুদ্ধ-বিরতি বিকেল তিনটে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।
৪৪। কারফিউ উপেক্ষা করে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে কী স্লোগান দিচ্ছিল?
- ক. স্বাধীনতা চাই
- খ. আমরা স্বাধীন
- গ. বিজয় দিবস
- ঘ. জয় বাংলা
উত্তর: ঘ। দলে দলে লোক ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি তুলে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছিল।
৪৫। মঞ্জুর কী নিয়ে জাহানারা ইমামের কাছে আসেন?
- ক. রেডিও নিয়ে
- খ. খাবার নিয়ে
- গ. একটি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে
- ঘ. চিঠি নিয়ে
উত্তর: গ। মঞ্জুর গাড়ির ভেতরে বাংলাদেশের পতাকা বিছিয়ে এসেছিলেন এবং যাওয়ার সময় পতাকাটি জাহানারা ইমামকে দিয়ে যান।
৪৬। ‘আজ শরীফের কুলখানি’ — এই লাইনটি থেকে কী বোঝা যায়?
- ক. শরীফ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন
- খ. শরীফের জন্মদিন আজ
- গ. শরীফও ইতিমধ্যে মারা গেছেন
- ঘ. শরীফ বিদেশ ভ্রমণে গেছেন
উত্তর: গ। কুলখানি মৃত ব্যক্তির স্মরণে চল্লিশ দিন পর অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান— এই লাইন থেকে বোঝা যায় বিজয়ের দিনটিতে জাহানারা ইমাম তাঁর স্বামী শরীফকেও হারিয়েছিলেন, যা তাঁর ত্যাগকে আরও গভীর ও মর্মস্পর্শী করে তোলে।
৪৭। জেনারেল নিয়াজী কত হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন?
- ক. ৮৫ হাজার
- খ. ৮০ হাজার
- গ. ৯৩ হাজার
- ঘ. ৯০ হাজার
উত্তর: গ। জেনারেল নিয়াজী তিরানব্বই হাজার (৯৩,০০০) পাকিস্তানি সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
৪৮। নিয়াজীর আত্মসমর্পণ ঠিক কোন সময়ে হয়েছিল?
- ক. দুপুর ১২টায়
- খ. বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে
- গ. সন্ধ্যা ৬টায়
- ঘ. রাত ৯টায়
উত্তর: খ। টেক্সটে সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে, বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে আত্মসমর্পণ ঘটে।
**৪৯। ১৬ই ডিসেম্বরের ঘটনাবলি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. জেনারেল নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন
ii. আজই ছিল শরীফের কুলখানি
iii. পালাতে থাকা পাকিস্তানি সেনা ও বিহারিরা রাস্তায় গুলি চালায়নি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য সঠিক, কিন্তু পালাতে থাকা সেনারা আসলে পথেঘাটে এলোপাথাড়ি গুলি করে বহু মানুষ জখম করেছিল— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৫০। ‘বিরান’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সুরক্ষিত
- খ. জনমানবহীন, পরিত্যক্ত
- গ. সমৃদ্ধ
- ঘ. পবিত্র
উত্তর: খ। বিরান অর্থ জনমানবহীন, পরিত্যক্ত, ফাঁকা— বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর অবস্থা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
৫১। ‘খুরপি’ কী?
- ক. বাগানের বেড়া
- খ. রান্নার সরঞ্জাম
- গ. সেলাইয়ের যন্ত্র
- ঘ. মাটি খোঁড়ার ছোট খন্তা
উত্তর: ঘ। খুরপি হলো মাটি খোঁড়ার জন্য ব্যবহৃত একপ্রকার ছোট খন্তা— বাগানের কাজে ব্যবহৃত হতো।
৫২। ‘অবরুদ্ধ নিষ্ক্রিয়তা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. আনন্দময় অবসর
- খ. অতিরিক্ত ব্যস্ততা
- গ. রুদ্ধ বা আটক অবস্থায় কর্মহীনতা
- ঘ. স্বাধীনভাবে কাজ করা
উত্তর: গ। এর অর্থ রুদ্ধ বা আটক অবস্থায় কর্মহীনতা— বন্ধু-বান্ধবদের সাথে পড়াশোনার ব্যবস্থা এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিত।
৫৩। ‘চরমপত্র’ কী?
- ক. একটি সংবাদপত্রের নাম
- খ. একটি চিঠি
- গ. একটি বই
- ঘ. এম. আর. আকতার মুকুল রচিত হাস্যরসাত্মক কথিকা
উত্তর: ঘ। স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে প্রচারিত এম. আর. আকতার মুকুল রচিত হানাদার বাহিনীর অপকীর্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্য নিয়ে হাস্যরসাত্মক কথিকাই ‘চরমপত্র’ নামে পরিচিত।
৫৪। ‘মার্সি পিটিশন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. চাকরির আবেদন
- খ. ক্ষতিপূরণের আবেদন
- গ. জামিনের আবেদন
- ঘ. শাস্তি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন
উত্তর: ঘ। মার্সি পিটিশন অর্থ শাস্তি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন— রুমীকে বাঁচাতে এমন আবেদনের কথাই আলোচনায় এসেছিল।
৫৫। ‘গোয়েবলস্’ কে ছিলেন?
- ক. একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ
- খ. একজন মার্কিন সাংবাদিক
- গ. একজন পাকিস্তানি জেনারেল
- ঘ. হিটলারের সহযোগী, মিথ্যা রটনার প্রবর্তক
উত্তর: ঘ। গোয়েবলস (১৮৯৭-১৯৪৫) ছিলেন জার্মান বংশোদ্ভূত হিটলারের সহযোগী, রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও মিথ্যা রটনার প্রবর্তক।
৫৬। বুদ্ধিজীবীদের জোরপূর্বক বিবৃতি প্রদানের ঘটনায় জাহানারা ইমামের প্রতিক্রিয়া থেকে কী বোঝা যায়?
- ক. তিনি সরকারের পক্ষে ছিলেন
- খ. তিনি নিপীড়িত বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন
- গ. তিনি বিষয়টি নিয়ে উদাসীন ছিলেন
- ঘ. তিনি বিবৃতিতে বিশ্বাস করতেন
উত্তর: খ। তিনি স্পষ্ট বোঝেন বুদ্ধিজীবীরা বাধ্য হয়ে সই করেছেন, এবং তাঁদের অসহায় অবস্থার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন, সরকারের প্রচারণাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন।
৫৭। মার্সি পিটিশন নিয়ে শরীফের দ্বিধা ও শেষ সিদ্ধান্ত থেকে তাঁর চরিত্রের কোন দিকটি প্রকাশ পায়?
- ক. উদাসীনতা
- খ. আত্মকেন্দ্রিকতা
- গ. ভীরুতা
- ঘ. নীতিবোধ ও আদর্শের প্রতি অবিচলতা
উত্তর: ঘ। সন্তানের জীবনের ঝুঁকি জেনেও নীতির প্রশ্নে আপস না করার সিদ্ধান্ত শরীফের দৃঢ় আদর্শবোধকেই প্রকাশ করে।
৫৮। ১৬ই ডিসেম্বরের এন্ট্রিতে বিজয়ের আনন্দ ও ব্যক্তিগত শোক একসাথে উপস্থিত হওয়া থেকে রচনার কোন গভীর তাৎপর্য ফুটে ওঠে?
- ক. বিজয় দিবস একটি সাধারণ দিন মাত্র
- খ. যুদ্ধের বিজয় সবসময় নিরঙ্কুশ আনন্দের
- গ. যুদ্ধ কখনো ব্যক্তিগত ক্ষতি বয়ে আনে না
- ঘ. জাতীয় মুক্তির আনন্দের মধ্যেও ব্যক্তিগত ত্যাগের মূল্য লুকিয়ে থাকে
উত্তর: ঘ। একই দিনে দেশের বিজয় ও নিজের স্বামীর কুলখানি একসাথে ঘটায় বোঝা যায়, জাতীয় মুক্তির বিশাল আনন্দের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবনে কতটা মূল্য দিতে হয়েছে অনেককে।
করিম চাচা যুদ্ধের সময় প্রতিদিন গ্রামের মানুষের কাছ থেকে খবর সংগ্রহ করে পরিবারকে জানাতেন— কোথায় হামলা হয়েছে, কারা পালিয়েছে, কারা শহিদ হয়েছে। তাঁর মুখেই পরিবারটি বাইরের জগতের অনেক কিছু জানত, যদিও অনেক খবরই গুজব ছিল।
৫৯। করিম চাচার এই ভূমিকার সাথে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ রচনার কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
- ক. রুমী
- খ. শরীফ
- গ. করিম
- ঘ. মঞ্জুর
উত্তর: গ। রচনার করিমও জাহানারা ইমামের কাছে এসে পাড়ার খবর, লাশ ভাসার গুজব ইত্যাদি জানাত— বাইরের জগতের খবর আনার এই ভূমিকাটি উদ্দীপকের করিম চাচার সাথে মিলে যায়।
৬০। এ ধরনের অনানুষ্ঠানিক খবর আদান-প্রদানের প্রবণতা যুদ্ধকালীন সমাজে কী প্রতিফলিত করে?
- ক. তথ্যের অবাধ প্রবাহ
- খ. সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি, অনিশ্চয়তা ও পারস্পরিক নির্ভরতা
- গ. সরকারের প্রতি আস্থা
- ঘ. গণমাধ্যমের শক্তিশালী অবস্থান
উত্তর: খ। যুদ্ধকালে সরকারি সংবাদমাধ্যমে আস্থা না থাকায় মানুষ মুখে মুখে খবর ছড়াত— এতে ভয়, অনিশ্চয়তা আর একে অপরের ওপর নির্ভরতা প্রতিফলিত হয়।
শহিদুল ইসলাম রেডিওতে খবর শুনে প্রতিবেশীদের জানাতেন, কিন্তু নিজের ছেলে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর তাঁর মধ্যে উৎকণ্ঠা ও গর্ব একসাথে কাজ করত— ছেলের নিরাপত্তার ভয়, আবার দেশের জন্য তার আত্মত্যাগে গর্ব।
৬১। শহিদুল ইসলামের এই মিশ্র অনুভূতির সাথে রচনার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য সবচেয়ে বেশি?
- ক. মতিউর রহমান
- খ. মঞ্জুর
- গ. জাহানারা ইমাম
- ঘ. করিম
উত্তর: গ। জাহানারা ইমামও রুমীর যুদ্ধে যোগ দেওয়া নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা ও ভয়ের পাশাপাশি তার আদর্শ ও আত্মত্যাগের প্রতি গর্ববোধ করতেন— এই দ্বৈত অনুভূতি রচনা জুড়েই প্রকাশ পেয়েছে।
