একুশের গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “একুশের” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য একুশের গল্পের নোট দেখুন।
একুশের গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
একুশের গল্পের লেখক কে?
জহির রায়হান (জন্ম ১৯ আগস্ট ১৯৩৫, মজুপুর, ফেনী; প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ)। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ ও শহিদ, লাশ পাওয়া যায়নি। মধ্যবিত্ত জীবনের রূপকার, খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার। প্রধান উপন্যাস: হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী।
উৎস ও প্রেক্ষাপট
গল্প-সমগ্র (১৯৭৯) থেকে সংকলিত, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ছোটগল্প, প্রথম পুরুষের বয়ানে বর্ণিত।
একুশের গল্পের মূল চরিত্র কারা?
কথক (নাম উল্লেখ নেই), রাহাত ও তপু— তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও হোস্টেল-সহপাঠী; তপুর স্ত্রী রেণু।
একুশের গল্পের কাহিনি সংক্ষেপে
- গল্প শুরু হয় রহস্যময়ভাবে— চার বছর আগে ভাষা আন্দোলনে নিহত তপু যেন ফিরে এসেছে, বন্ধুরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।
- অতীতের স্মৃতিচারণ— তিন বন্ধুর সহজ-সরল, হাসি-আনন্দে ভরা হোস্টেল জীবন, তপুর গল্প বলার দক্ষতা, তার সাধারণ জীবনের স্বপ্ন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগদান— তপুর হাতে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ প্ল্যাকার্ড, স্ত্রী রেণুর বাধা উপেক্ষা করে মিছিলে অংশগ্রহণ।
- হাইকোর্টের মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তপুর শহিদ হওয়া, মিলিটারি কর্তৃক মৃতদেহ ছিনিয়ে নেওয়া।
- চার বছর পরে হোস্টেলে নতুন রুমমেটের এনাটমি চর্চার সময় একটি কঙ্কাল আবিষ্কার— কপালের গর্ত ও বাঁ পায়ের ছোট হাড় মিলিয়ে বন্ধুরা নিশ্চিত হয় এটি তপুরই কঙ্কাল।
- গল্পের সমাপ্তি রাহাতের আবেগঘন উচ্চারণে— ‘তপু’।
একুশের গল্পের মূল ভাব কী?
ভাষা আন্দোলনে একজন প্রাণোচ্ছল, স্বপ্নবান তরুণের আত্মত্যাগ এবং কঙ্কাল হয়ে তার প্রতীকী প্রত্যাবর্তন— জাতীয় ইতিহাসে বীরদের প্রকৃত মৃত্যু নেই, তাঁরা বারবার ফিরে এসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রেরণা জোগান, এই গভীর বার্তাই গল্পের কেন্দ্রে।
একুশের গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
উদ্বিগ্ন (দুশ্চিন্তাগ্রস্ত), তন্দ্রা (আধো-ঘুম), এনাটমি (দেহতত্ত্ব), স্কেলিটন (কঙ্কাল), স্কাল (মাথার খুলি), বার্নাড’শ (জর্জ বার্নার্ড শ, আইরিশ নাট্যকার)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। জহির রায়হান কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯৩৬
- খ. ১৯৩৪
- গ. ১৯৩৫
- ঘ. ১৯৩৩
উত্তর: গ। তিনি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।
২। জহির রায়হানের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ফেনী জেলার মজুপুর গ্রাম
- খ. ঢাকা
- গ. কুমিল্লা
- ঘ. চট্টগ্রাম
উত্তর: ক। ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
- ক. মোহাম্মদ জহির আলম
- খ. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
- গ. মোহাম্মদ জহির উদ্দিন
- ঘ. মোহাম্মদ জহিরুল হক
উত্তর: খ। তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
৪। জহির রায়হান কোথা থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন?
- ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- খ. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- গ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘ. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: ক। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন।
৫। জহির রায়হান মূলত কোন জীবনের রূপকার?
- ক. উচ্চবিত্ত জীবনের
- খ. আদিবাসী জীবনের
- গ. রাজকীয় জীবনের
- ঘ. মধ্যবিত্ত জীবনের
উত্তর: ঘ। তিনি মূলত মধ্যবিত্ত জীবনের রূপকার, চারপাশের মানুষের সুখ-দুঃখ তাঁর রচনাকে সমৃদ্ধ করেছে।
৬। নিচের কোনটি জহির রায়হানের উপন্যাস নয়?
- ক. হাজার বছর ধরে
- খ. বরফ গলা নদী
- গ. আরেক ফাল্গুন
- ঘ. পথের পাঁচালী
উত্তর: ঘ। পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি জহির রায়হানের উপন্যাস।
৭। সাহিত্য ছাড়া জহির রায়হান আর কোন ক্ষেত্রে খ্যাতি অর্জন করেন?
- ক. চিত্রকলায়
- খ. চলচ্চিত্রে
- গ. স্থাপত্যে
- ঘ. সংগীতে
উত্তর: খ। বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
৮। জহির রায়হান কীভাবে নিখোঁজ হন?
- ক. অসুস্থতায়
- খ. বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে
- গ. একটি দুর্ঘটনায়
- ঘ. স্বাধীনতার অল্পকাল পরে ১৯৭২ সালে নিখোঁজ হন
উত্তর: ঘ। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের অল্পকাল পরে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ ও শহিদ হন; তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি।
একুশের গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৯। ‘একুশের গল্প’ কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?
- ক. বরফ গলা নদী
- খ. গল্প-সমগ্র (১৯৭৯)
- গ. হাজার বছর ধরে
- ঘ. আরেক ফাল্গুন
উত্তর: খ। গল্পটি জহির রায়হানের গল্প-সমগ্র (১৯৭৯) থেকে সংকলন করা হয়েছে।
১০। গল্পটি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত?
- ক. স্বদেশি আন্দোলন
- খ. মুক্তিযুদ্ধ
- গ. তেভাগা আন্দোলন
- ঘ. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
উত্তর: ঘ। গল্পটি ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
১১। গল্পটি কোন ভাষ্যরীতিতে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. চিঠির আকারে
- খ. প্রথম পুরুষের বয়ানে, কথক নিজেও একটি চরিত্র
- গ. তৃতীয় পুরুষের বয়ানে
- ঘ. নাটকীয় সংলাপের আকারে
উত্তর: খ। গল্পের কথক নিজেও একটি চরিত্র; ঘটনামালা প্রথম পুরুষের বয়ানে উপস্থাপিত হয়েছে।
১২। গল্পের তিন বন্ধু কে কে?
- ক. কথক, তপু ও অপু
- খ. তপু, রাহাত ও নাজিম
- গ. কথক, রাহাত ও তপু
- ঘ. তপু, সানু ও রাহাত
উত্তর: গ। গল্পের কথক, রাহাত ও তপু— এই তিনজন সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
১৩। তপু ‘একুশের গল্পে’র কী চরিত্র?
- ক. একটি বিরোধী চরিত্র
- খ. একটি গৌণ চরিত্র
- গ. প্রধান চরিত্র
- ঘ. একটি অনুল্লেখিত চরিত্র
উত্তর: গ। তপু ‘একুশের গল্পে’র প্রধান চরিত্র।
১৪। তপুর স্ত্রীর নাম কী?
- ক. রুণী
- খ. সানু
- গ. রেণু
- ঘ. নাজিমা
উত্তর: গ। তপুর স্ত্রীর নাম রেণু, যে সম্পর্কে তার আত্মীয়া ছিল।
১৫। গল্পের শুরুতে কথক কী নিয়ে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়?
- ক. রেণুর বিয়ে নিয়ে
- খ. রাহাতের অসুস্থতা নিয়ে
- গ. পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে
- ঘ. চার বছর পর তপু ফিরে আসায়
উত্তর: ঘ। চার বছর আগে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবার দেখা তপু আবার ফিরে এসেছে— এটাই কথকদের বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করে তোলে।
১৬। ফিরে আসা তপুকে দেখে সবার প্রতিক্রিয়া কেমন?
- ক. তারা উদাসীন থাকে
- খ. তারা তাকে সন্দেহ করে
- গ. তারা আনন্দিত হয়
- ঘ. তাকে চেনা যায় না, তার দিকে তাকাতে ভয় লাগে
উত্তর: ঘ। তাকে চেনাই যায় না; তার দিকে তাকাতে কথকের রক্ত হিম হয়ে আসে।
১৭। তপুর মা ও স্ত্রীর খোঁজ নিতে কাকে পাঠানো হয়েছিল?
- ক. সানুকে
- খ. রাহাতকে
- গ. নাজিমকে
- ঘ. অপুকে
উত্তর: খ। ঠিকানা জোগাড় করে রাহাতকে তপুর মা ও স্ত্রীকে খবর দিতে পাঠানো হয়েছিল।
১৮। রাহাত ফিরে এসে কী খবর জানায়?
- ক. তারা শহর ছেড়ে চলে গেছে
- খ. তপুর মা মারা গেছেন, রেণু অন্যত্র বিয়ে করেছে
- গ. তারা কাউকে খুঁজে পায়নি
- ঘ. তারা দুজনই এসেছে
উত্তর: খ। রাহাত জানায়, তপুর মা মারা গেছেন এবং রেণু অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে।
১৯। তপু কলেজে ভর্তি হওয়ার কতদিন পরে বিয়ে করেন?
- ক. পাঁচ বছর পরে
- খ. এক বছরের মধ্যে
- গ. ভর্তির আগেই
- ঘ. তিন বছর পরে
উত্তর: খ। কলেজে ভর্তি হওয়ার বছরখানেক পরে তপু রেণুকে বিয়ে করেন।
২০। তপুর চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্য বন্ধুদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল?
- ক. সে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল না
- খ. সে ছিল গল্পের রাজা, হাসিখুশি স্বভাবের
- গ. সে ছিল রাগী ও অসামাজিক
- ঘ. সে ছিল অত্যন্ত চুপচাপ
উত্তর: খ। তপু ছিল গল্পের রাজা, যেমন হাসতে পারতো তেমনি গল্প করার ব্যাপারেও ছিল ওস্তাদ।
২১। তপুর স্বপ্ন কী ছিল?
- ক. শহরে বড় হাসপাতাল খোলা
- খ. রাজনীতিবিদ হওয়া
- গ. বিদেশে বসবাস করা
- ঘ. ডাক্তারি পাশ করে গাঁয়ে গিয়ে একটি ছোট্ট ডিসপেনসারি খোলা
উত্তর: ঘ। তপু স্বপ্ন দেখতো ডাক্তারি পাশ করে গাঁয়ে গিয়ে একটি ছোট্ট, সাদাসিধা ডিসপেনসারি খোলার।
২২। তপুর শারীরিক ত্রুটি কী ছিল?
- ক. সে অন্ধ ছিল
- খ. সে বধির ছিল
- গ. তার একটি হাত ছিল না
- ঘ. তার বাঁ পা ডান পার চেয়ে দুই ইঞ্চি ছোট ছিল
উত্তর: ঘ। তপু জন্মখোঁড়া ছিল— তার বাঁ পা ডান পার চেয়ে প্রায় দুই ইঞ্চি ছোট ছিল, বাঁ জুতোর হিল উঁচু করে তা লুকানো হতো।
২৩। তাদের দৈনন্দিন জীবন কেমন ছিল?
- ক. পুরোপুরি অনিয়মিত
- খ. যান্ত্রিক ও একঘেয়ে দৈনন্দিন রুটিন
- গ. সবসময় ব্যস্ত ও উদ্বিগ্ন
- ঘ. অলস ও অগোছালো
উত্তর: খ। তাদের জীবন ছিল যান্ত্রিক— কাক-ডাকা ভোরে ওঠা, তপুর তৈরি চা, ক্লাস, আর বিকেলে বেড়ানো।
২৪। তপু প্রতিদিন সকালে বন্ধুদের কীভাবে জাগাতো?
- ক. পানি ছিটিয়ে
- খ. জোরে চিৎকার করে
- গ. লেপ টেনে ফেলে ও জানালা খুলে দিয়ে
- ঘ. গান গেয়ে
উত্তর: গ। তপু গায়ের ওপর থেকে লেপ টেনে ফেলে দিয়ে, জানালা খুলে দিয়ে জোর করে বন্ধুদের ঘুম ভাঙাতো।
২৫। রেণু বিকেলে বেড়াতে গেলে তাদের সাথে কী নিয়ে যেত?
- ক. খবরের কাগজ
- খ. বই
- গ. বাসা থেকে ভাজা ডালমুট
- ঘ. ফুল
উত্তর: গ। রেণু মাঝে মাঝে তাদের জন্য বাসা থেকে ডালমুট ভেজে আনতো, যা তারা হাঁটতে হাঁটতে চিবাতো।
২৬। একদিন লাল মাটির পথ নিয়ে তপু কী বলে?
- ক. পথটি বিপজ্জনক
- খ. পথটি বদলানো উচিত
- গ. পথটি খুব খারাপ
- ঘ. এই পথের যেন কখনো শেষ না হয়
উত্তর: ঘ। তপু স্বপ্নালু কণ্ঠে বলে, এই আঁকাবাঁকা লালমাটির পথের যদি কোনোদিন শেষ না হতো, অনন্তকাল ধরে যদি এমনি চলতে পারতাম।
২৭। হোস্টেলের বাইরের মাঠে সেদিন কী দেখা যায়?
- ক. একটি উৎসব
- খ. একটি বিয়ের অনুষ্ঠান
- গ. প্ল্যাকার্ড ও রক্তাক্ত জামা হাতে ক্রুদ্ধ জনতার সমাবেশ
- ঘ. একটি খেলার আয়োজন
উত্তর: গ। ভোর থেকে ক্রুদ্ধ ছেলে-বুড়োরা প্ল্যাকার্ড, স্লোগানের চোঙা ও লাঠিতে ঝোলানো রক্তাক্ত জামা নিয়ে জমায়েত হয়েছিল সেখানে।
২৮। তপু কথককে কী করতে বলে?
- ক. পুলিশে খবর দিতে
- খ. পালিয়ে যেতে
- গ. মিছিলে যোগ দিতে
- ঘ. ঘরে ফিরতে
উত্তর: গ। তপু হাত ধরে টান দিয়ে কথককে মিছিলে যোগ দিতে বলে।
২৯। রেণু মিছিলে এসে তপুকে কী অনুরোধ করে?
- ক. তার সাথে যোগ দিতে
- খ. বাড়ি ফিরে যেতে
- গ. প্ল্যাকার্ড ধরতে
- ঘ. স্লোগান দিতে
উত্তর: খ। রেণু হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে এসে তপুর হাত চেপে ধরে বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করে।
৩০। তপু রেণুর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে কী বলে?
- ক. সে ভয় পাচ্ছে
- খ. তুমিও আমাদের সাথে চলো
- গ. সে দেরি করতে চায় না
- ঘ. সে অসুস্থ
উত্তর: খ। তপু হাত ছাড়িয়ে নিয়ে উলটো রেণুকে তাদের সাথে যোগ দিতে বলে; রেণু অস্বীকার করলে রাহাত রেগে যায়।
৩১। তপুর হাতে প্ল্যাকার্ডে কী লেখা ছিল?
- ক. রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই
- খ. মুক্তি চাই
- গ. স্বাধীনতা চাই
- ঘ. ন্যায়বিচার চাই
উত্তর: ক। তপুর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লাল কালিতে লেখা ছিল, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’।
৩২। মিছিলটি কোথায় পৌঁছালে গুলি চলে?
- ক. কার্জন হলের সামনে
- খ. মেডিকেল কলেজের গেটে
- গ. হাইকোর্টের মোড়ে
- ঘ. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
উত্তর: গ। মিছিলটি হাইকোর্টের মোড়ে পৌঁছালে অকস্মাৎ গোলাগুলি শুরু হয়।
৩৩। তপুর কোথায় গুলি লাগে?
- ক. হাতে
- খ. বুকে
- গ. পায়ে
- ঘ. কপালের মাঝখানে
উত্তর: ঘ। তপুর কপালের ঠিক মাঝখানটায় গোল একটা গর্ত হয়ে যায়, যা দিয়ে নির্ঝরের মতো রক্ত ঝরতে থাকে।
৩৪। তপুর মৃতদেহ কারা তুলে নিয়ে যায়?
- ক. তার বন্ধুরা
- খ. দুজন মিলিটারি
- গ. পুলিশ
- ঘ. তার পরিবার
উত্তর: খ। দুজন মিলিটারি ছুটে এসে তপুর মৃতদেহ তুলে নিয়ে যায়, বন্ধুরা বাধা দিতে পারেনি।
৩৫। তপুর মৃত্যুর পর রাহাত কথককে কী বলে?
- ক. তপু না মরে সে মরলেই ভালো হতো
- খ. সে ভীষণ ভয় পেয়েছে
- গ. সে তপুকে দোষারোপ করে
- ঘ. সে খুশি যে সে বেঁচে আছে
উত্তর: ক। রাহাত ফিসফিস করে বলে, তপু না মরে সে মরলেই ভালো হতো— একসাথে থেকেও শুধু তপুরই কপালে গুলি লাগল এই আক্ষেপ তার মধ্যে গভীর।
৩৬। তপুর মৃত্যুর রাতে তার মায়ের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি বিশ্বাস করেননি
- খ. তিনি গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলেন
- গ. তিনি রাগ করেছিলেন
- ঘ. তিনি শান্ত ছিলেন
উত্তর: খ। তপুর মা এসে গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলেন।
৩৭। তপুর মৃত্যুর রাতে রেণুর আচরণ কেমন ছিল?
- ক. সে রাগ করে চলে গিয়েছিল
- খ. সে অবিশ্বাস প্রকাশ করেছিল
- গ. সে বন্ধুদের সাথে কথা বলেছিল
- ঘ. পলকহীন চোখে কেঁদেছিল, কথা বলেনি
উত্তর: ঘ। রেণুর পলকহীন চোখ থেকে অশ্রুর ফোয়ারা নামলেও সে বন্ধুদের দিকে তাকায়নি, কোনো কথাও বলেনি।
৩৮। চার বছর পরে রেণু একদিন কী নিতে আসে?
- ক. তপুর মালপত্র নিতে আসে
- খ. তার নিজের জিনিসপত্র
- গ. পুরনো চিঠিপত্র
- ঘ. তার বাচ্চাকে
উত্তর: ক। রেণু এসে তপুর মালপত্র— দুটো স্যুটকেস, একটা বইয়ের ট্রাংক ও একটা বেডিং— নিয়ে যায়।
৩৯। রেণু সেদিন বন্ধুদের কাছে কী জানতে চায়?
- ক. মৃত্যুর কারণ
- খ. মৃত্যুর সঠিক সময়
- গ. তপুর শেষ কথা কী ছিল
- ঘ. তপুর একটা গরম কোটের কথা
উত্তর: ঘ। রেণু শুধু রাহাতের কাছে জানতে চায় তপুর একটা গরম কোট কোথায়— এটুকুই তার প্রশ্ন।
৪০। তপুর মৃত্যুর পর তার খালি সিট দেখে বন্ধুদের কেমন অনুভূতি হতো?
- ক. মাঝেমধ্যে মনে হতো কেউ যেন গায়ে হাত দিয়ে জাগাচ্ছে
- খ. তারা স্বস্তি বোধ করত
- গ. তারা ভুলে যেত
- ঘ. তারা উদাসীন থাকত
উত্তর: ক। রাত শেষ হয়ে এলে মাঝেমধ্যে মনে হতো কেউ যেন গায়ে হাত দিয়ে ডাকছে— ‘ওঠো, আর ঘুমিও না’— কিন্তু চোখ মেলে কাউকে দেখা যেত না।
৪১। তপুর সিটে কতজন নতুন রুমমেট আসে গল্পের এই সময়কালে?
- ক. একজন
- খ. দুইজন
- গ. তিনজন
- ঘ. চারজন
উত্তর: খ। প্রথমে একজন ছেলে আসে (প্রায় তিন বছর ছিল), তারপর আসে আরেকজন হাসিখুশি নতুন রুমমেট।
৪২। নতুন রুমমেট কোন বিষয় পড়াশোনা করছিল সেদিন সকালে?
- ক. ফার্মাকোলজি
- খ. ফিজিওলজি
- গ. প্যাথলজি
- ঘ. এনাটমি
উত্তর: ঘ। নতুন রুমমেট এনাটমির পাতা উলটাচ্ছিল এবং স্কেলিটনের স্কাল বের করে বইয়ের সাথে মিলিয়ে দেখছিল।
৪৩। নতুন রুমমেট রাহাতকে কী দেখতে বলে?
- ক. তার আঁকা ছবি
- খ. স্কালের কপালের মাঝখানে একটা গর্ত কেন
- গ. তার নোট
- ঘ. একটি নতুন বই
উত্তর: খ। নতুন রুমমেট জিজ্ঞেস করে, তার স্কালের কপালের মাঝখানটায় একটা গর্ত কেন— এই প্রশ্নেই রহস্য উন্মোচনের সূচনা।
৪৪। কথক কোন শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কথা মনে করে বিড়বিড় করে বলেন?
- ক. দাঁতের গঠনের কথা
- খ. উচ্চতার কথা
- গ. চুলের রঙের কথা
- ঘ. বাঁ পায়ের হাড় দুই ইঞ্চি ছোট থাকার কথা
উত্তর: ঘ। কথক বিড়বিড় করে বলেন, বাঁ পায়ের হাড়টা দুই ইঞ্চি ছোট ছিল তপুর— এই সূত্র ধরেই সত্য উদ্ঘাটিত হয়।
৪৫। রাহাত হাড় পরীক্ষা করে কী নিশ্চিত হন?
- ক. এটি একটি অজ্ঞাত কঙ্কাল
- খ. হাড়গুলো ভুল ক্রমে সাজানো
- গ. বাঁ পায়ের টিবিয়া-ফিবুলা সত্যিই দুই ইঞ্চি ছোট
- ঘ. এটি তপুর কঙ্কাল নয়
উত্তর: গ। রাহাত উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে বলেন, বাঁ পায়ের টিবিয়া-ফিবুলা সত্যিই দুই ইঞ্চি ছোট— যা নিশ্চিত করে এটি তপুরই কঙ্কাল।
৪৬। গল্পের শেষ পঙক্তিতে রাহাত কী বলে ওঠেন?
- ক. এটি অন্য কারো
- খ. আমরা ভুল করছি
- গ. এটি অসম্ভব
- ঘ. তপু
উত্তর: ঘ। কঙ্কালটি দুহাতে তুলে ধরে গলা ধরে আসা কণ্ঠে রাহাত শুধু বলেন, ‘তপু’।
৪৭। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী তপুর কঙ্কাল হয়ে ফিরে আসার মধ্যে কী তাৎপর্য নিহিত?
- ক. এর কোনো গভীর অর্থ নেই
- খ. বীরদের মৃত্যু নেই, তাঁরা বারবার ফিরে আসেন
- গ. এটি একটি কাকতালীয় ঘটনা
- ঘ. এটি একটি ভীতিকর ঘটনা মাত্র
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী তপুর কঙ্কাল হয়ে ফিরে আসা প্রতীকী অর্থ বহন করে— জাতীয় ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই, তাঁরা বারবার ফিরে এসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রেরণা জোগান।
৪৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে কী হয়ে ওঠে?
- ক. শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা
- খ. বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রধান প্রেরণা
- গ. একটি বিস্মৃত ঘটনা
- ঘ. রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রধান প্রেরণা হয়ে ওঠে।
৪৯। তপুর মতো আত্মত্যাগের মাধ্যমে কী অর্জিত হয়েছে বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?
- ক. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
- খ. বাংলা ভাষার অধিকার
- গ. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
- ঘ. রাজনৈতিক ক্ষমতা
উত্তর: খ। তপুর মতো অনেক প্রাণের বিসর্জন ও নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমেই বাংলা ভাষার অধিকার অর্জিত হয়েছে।
৫০। ‘উদ্বিগ্ন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নিরাসক্ত
- খ. ক্লান্ত
- গ. আনন্দিত
- ঘ. দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, উৎকণ্ঠিত
উত্তর: ঘ। উদ্বিগ্ন অর্থ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা উৎকণ্ঠিত।
৫১। ‘তন্দ্রা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বিস্মর নিদ্রার আবেশ বা ঘুমঘুম ভাব
- খ. অনিদ্রা
- গ. গভীর ঘুম
- ঘ. স্বপ্ন
উত্তর: ক। তন্দ্রা অর্থ বিস্মর নিদ্রার আবেশ বা ঘুমঘুম ভাব।
৫২। ‘বার্নাড’শ’ কে ছিলেন?
- ক. একজন চিকিৎসক
- খ. একজন রাজনীতিবিদ
- গ. জর্জ বার্নার্ড শ, বিখ্যাত নাট্যকার
- ঘ. একজন বাঙালি কবি
উত্তর: গ। বার্নাড’শ (George Bernard Shaw) একজন আইরিশ নাট্যকার ও সমালোচক, যাঁর নাম তপুর গল্পে রসিকতাচ্ছলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
**৫৩। গল্পের কাঠামোয় সময়ের কালানুক্রম নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. গল্প শুরু হয় তপুর কঙ্কাল আবিষ্কারের বর্ণনা দিয়ে, তারপর অতীতের স্মৃতিচারণ হয়
ii. ভাষা আন্দোলনের মিছিল ও তপুর মৃত্যুর ঘটনা অতীত-স্মৃতি হিসেবে বর্ণিত
iii. গল্পটি সরল কালানুক্রমিক ধারায়, কোনো ফ্ল্যাশব্যাক ছাড়াই বর্ণিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য গল্পের কাঠামোর সাথে সংগতিপূর্ণ, কিন্তু গল্পটি আসলে জটিল সময়-কাঠামোয় (কঙ্কাল আবিষ্কার থেকে শুরু করে অতীতের স্মৃতিচারণে ফিরে যাওয়া) রচিত, সরল কালানুক্রমিক নয়— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৫৪। গল্পের এই অ-কালানুক্রমিক (ফ্ল্যাশব্যাক-নির্ভর) কাঠামো কী প্রভাব ফেলে?
- ক. এর কোনো বিশেষ প্রভাব নেই
- খ. প্রথমে রহস্য তৈরি করে, পরে গভীরতা উন্মোচন করে
- গ. এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করে মাত্র
- ঘ. এটি গল্পকে দুর্বল করে
উত্তর: খ। কঙ্কাল আবিষ্কারের রহস্যময় দৃশ্য দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অতীতের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে লেখক প্রথমে রহস্য ও উত্তেজনা তৈরি করেন, পরে তিন বন্ধুর গভীর সম্পর্ক ও তপুর আত্মত্যাগের মর্মস্পর্শী তাৎপর্য ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়।
শাহেদ তার দাদার কাছে শুনেছে, একাত্তরে তাঁর বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন, লাশ কখনো পাওয়া যায়নি। বহু বছর পর একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সময় মাটি খুঁড়ে কিছু হাড়গোড় পাওয়া যায়, যা পরীক্ষা করে বোঝা যায় সেগুলো সেই শহিদদেরই, যাঁদের মধ্যে শাহেদের দাদার ভাইও ছিলেন।
৫৫। শাহেদের পারিবারিক ইতিহাসের সাথে ‘একুশের গল্পে’র কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
- ক. দুটোই কাল্পনিক ঘটনা
- খ. উভয় ক্ষেত্রেই লাশ জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে
- গ. কোনো মিল নেই
- ঘ. বছর পর দেহাবশেষে হারানো শহিদের পরিচয় উন্মোচিত হওয়া
উত্তর: ঘ। ‘একুশের গল্পে’ যেমন চার বছর পর কঙ্কাল আবিষ্কারের মাধ্যমে তপুর আত্মত্যাগের স্মৃতি প্রতীকীভাবে ফিরে আসে, শাহেদের পারিবারিক ঘটনায়ও তেমনি বহু বছর পর দেহাবশেষ আবিষ্কারের মাধ্যমে হারানো শহিদের আত্মত্যাগ পুনরায় স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
৫৬। এ ধরনের ঘটনা থেকে জাতীয় স্মৃতি সম্পর্কে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
- ক. শহিদদের ভুলে যাওয়া উচিত
- খ. শুধু জীবিত ব্যক্তিদের সম্মান জানানো উচিত
- গ. ইতিহাস অপ্রাসঙ্গিক
- ঘ. শহিদদের আত্মত্যাগ হারিয়ে যায় না, ফিরে আসে
উত্তর: ঘ। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, শহিদদের আত্মত্যাগ সময়ের সাথে হারিয়ে যায় না— তা বিভিন্ন প্রতীকী রূপে ফিরে এসে জাতিকে তাদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়।
