ফুলের বিবাহ গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “ফুলের বিবাহ” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য ফুলের বিবাহ গল্পের নোট দেখুন।
ফুলের বিবাহ গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ফুলের বিবাহ গল্পের লেখক কে?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ২৬ জুন ১৮৩৮, কাঁঠালপাড়া, চব্বিশ পরগনা; মৃত্যু ৮ এপ্রিল ১৮৯৪)। পাশ্চাত্য ভাবাদর্শে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ। প্রথম উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)। প্রধান উপন্যাস: কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী; প্রবন্ধগ্রন্থ: কমলাকান্তের দপ্তর, লোকরহস্য, কৃষ্ণচরিত্র।
উৎস ও রূপ
কমলাকান্তের দপ্তর গ্রন্থের নবম রচনা, একটি হাস্যরসাত্মক লঘুরচনা— বিভিন্ন ফুলের প্রতীকে মানুষের বিবাহ-অনুষ্ঠানের কল্পিত বর্ণনা।
ফুলের বিবাহ গল্পের কাহিনি সংক্ষেপে
- মল্লিকা-কন্যার জন্য স্থলপদ্ম, জবা, গন্ধরাজের প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার পর ভ্রমর ঘটক হয়ে আসেন।
- সন্ধ্যাঠাকুরানী-দিদির স্নেহে কন্যা ঘোমটা খোলে; ঘটকালি নিয়ে দরকষাকষির পর বর গোলাপকে ঠিক করা হয়।
- কুলাচার্য গোলাপ বংশের কৌলীন্যের ব্যাখ্যা দেন; বিবাহের খবরে গোলাপ আহ্লাদিত হয়।
- বরযাত্রার আয়োজন— উচ্চিংড়ার বাদ্য, খদ্যোতের আলো, কোকিলের ডাক, বিভিন্ন ফুলের বরযাত্রী হয়ে আসা।
- বাতাস বাহকের দায়িত্ব পালন না করায় লেখক নিজেই বাহকের ভূমিকা নেন।
- মল্লিকাপুরে বিবাহের অনুষ্ঠান, স্ত্রী-আচার, কন্যাসম্প্রদান ও গাঁটছড়া বাঁধা।
- বাসরঘরের হাস্যরসাত্মক দৃশ্য— বিভিন্ন ফুলের রসিকতা ও আচরণ।
- কুসুমলতার ডাকে ঘোর ভাঙে— পুরো দৃশ্যটি লেখকের কল্পনা ছিল, বাস্তবে কুসুমলতা নিজেই একটি ফুলের মালা গেঁথেছিল।
ফুলের বিবাহ গল্পের মূল ভাব কী?
প্রকৃতির সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও অসাধারণ কল্পনাশক্তির সংমিশ্রণে বাঙালির পারিবারিক বিবাহ-অনুষ্ঠানের এক হাস্যরসাত্মক, কাব্যিক চিত্রায়ণ— পাশাপাশি সংসারের অনিত্যতা নিয়ে এক গভীর দার্শনিক ভাবনাও রচনার শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে।
ফুলের বিবাহ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
কন্যাভারগ্রস্ত (বিবাহযোগ্যা কন্যার অভিভাবক), পরিমল (সুগন্ধ), কুলাচার্য (বংশের প্রধান পুরোহিত), বাঞ্ছামালি (ইচ্ছামতো ফুল ফোটানো মালি), খদ্যোত (জোনাকি), এয়োগণ (সধবা নারী), অবগুণ্ঠনবর্তী (ঘোমটাপরা নারী)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৩৮
- খ. ১৮৩৭
- গ. ১৮৩৯
- ঘ. ১৮৩৬
উত্তর: ক। তিনি ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে জুন জন্মগ্রহণ করেন।
২। বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. নদীয়া
- খ. মেদিনীপুর
- গ. কাঁঠালপাড়া, চব্বিশ পরগনা
- ঘ. হুগলি
উত্তর: গ। পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। ১৮৫৮ সালে বঙ্কিমচন্দ্র কোন পদে নিযুক্ত হন?
- ক. ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট
- খ. সাংবাদিক
- গ. উকিল
- ঘ. শিক্ষক
উত্তর: ক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করার বছরই তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন।
৪। বঙ্কিমচন্দ্রের কোন কৃতিত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য?
- ক. পাশ্চাত্য ভাবাদর্শে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ
- খ. তিনি প্রথম বাংলা নাটক রচনা করেন
- গ. তিনি প্রথম বাংলা কবিতা রচনা করেন
- ঘ. তিনি প্রথম বাংলা অভিধান রচনা করেন
উত্তর: ক। পাশ্চাত্য ভাবাদর্শে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ হিসেবে তাঁর অসামান্য কৃতিত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
৫। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রথম বাংলা উপন্যাসের নাম কী?
- ক. দুর্গেশনন্দিনী
- খ. আনন্দমঠ
- গ. বিষবৃক্ষ
- ঘ. কপালকুণ্ডলা
উত্তর: ক। ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত দুর্গেশনন্দিনী তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস, যা বাংলা কথাসাহিত্যে নবদিগন্ত উন্মোচন করে।
৬। নিচের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস নয়?
- ক. রাজসিংহ
- খ. সীতারাম
- গ. চোখের বালি
- ঘ. আনন্দমঠ
উত্তর: গ। চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি বঙ্কিমচন্দ্রের রচনা।
৭। বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
- ক. সংস্কৃতি কথা
- খ. কমলাকান্তের দপ্তর
- গ. যুগবাণী
- ঘ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
উত্তর: খ। কমলাকান্তের দপ্তর, লোকরহস্য, কৃষ্ণচরিত্র তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ।
৮। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৮৯৩
- খ. ১৮৯৫
- গ. ১৮৯২
- ঘ. ১৮৯৪
উত্তর: ঘ। ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ফুলের বিবাহ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৯। ‘ফুলের বিবাহ’ রচনাটি কোন গ্রন্থের কততম রচনা?
- ক. কমলাকান্তের দপ্তর গ্রন্থের নবম সংখ্যক রচনা
- খ. কৃষ্ণচরিত্র গ্রন্থের পঞ্চম রচনা
- গ. লোকরহস্য গ্রন্থের প্রথম রচনা
- ঘ. আনন্দমঠের একটি অধ্যায়
উত্তর: ক। ‘ফুলের বিবাহ’ বঙ্কিমচন্দ্রের লঘুরচনা কমলাকান্তের দপ্তর গ্রন্থের নবম সংখ্যক লেখা।
১০। রচনাটি কোন ধরনের লেখা?
- ক. দুঃখের কাহিনি
- খ. ঐতিহাসিক বর্ণনা
- গ. গম্ভীর প্রবন্ধ
- ঘ. লঘুরচনা (হাস্যরসাত্মক)
উত্তর: ঘ। এটি একটি লঘুরচনা, যেখানে হাস্যরসের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের নাম ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।
১১। রচনাটিতে লেখক প্রকৃতপক্ষে কী তুলে ধরেছেন?
- ক. একটি ঐতিহাসিক বিবাহ
- খ. ফুলের বিচিত্র নাম ও রূপ, কল্পিত বিবাহের ছলে
- গ. একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান
- ঘ. প্রকৃত মানুষের বিবাহ
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই রচনায় হাস্যরসের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের নাম, গন্ধের তারতম্য, বর্ণের রকমফের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
১২। লেখক কোথায় বসে এই বিবাহ দেখেন বলে জানান?
- ক. একটি নদীর তীরে
- খ. একটি মন্দিরে
- গ. নসী বাবুর ফুলবাগানে
- ঘ. নিজের বাগানে
উত্তর: গ। লেখক ১লা বৈশাখে নসী বাবুর ফুলবাগানে বসে এই বিবাহ দেখেন।
১৩। লেখক এই বিবাহের বিবরণ কেন লিখে রাখছেন বলে জানান?
- ক. বন্ধুদের দেখানোর জন্য
- খ. ভবিষ্যৎ বরকন্যাদের শিক্ষার্থে
- গ. নিজের স্মৃতির জন্য
- ঘ. প্রকাশনার জন্য অর্থ পেতে
উত্তর: খ। লেখক রসিকতা করে বলেন, ভবিষ্যৎ বরকন্যাদের শিক্ষার্থে তিনি এই বিবরণ লিখে রাখছেন।
১৪। এই বিবাহে কনে কে?
- ক. রজনীগন্ধা
- খ. চাঁপা
- গ. মল্লিকা ফুল
- ঘ. গোলাপ
উত্তর: গ। মল্লিকা ফুলের বিবাহ নিয়েই এই রচনা— কলিকা-কন্যা বিবাহযোগ্যা হয়ে ওঠে।
১৫। মল্লিকা-কন্যার পিতার (বৃক্ষের) অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. বড়োলোক ও ধনী
- খ. ক্ষুদ্র, কন্যাভারগ্রস্ত বৃক্ষ
- গ. অসুস্থ
- ঘ. রাজকীয়
উত্তর: খ। কন্যার পিতা বড়োলোক নন, ক্ষুদ্র বৃক্ষ, তাতে আবার অনেকগুলো কন্যাভারগ্রস্ত।
১৬। প্রথমে কোন কোন পাত্রের কথা আলোচিত হয়, যা শেষে স্থির হয়নি?
- ক. কুরবক ও কুটজ
- খ. গোলাপ ও চাঁপা
- গ. করবী ও অশোক
- ঘ. স্থলপদ্ম, জবা ও গন্ধরাজ
উত্তর: ঘ। স্থলপদ্ম (ঘর বড়ো উঁচু), জবা (বড়ো রাগী) ও গন্ধরাজ (বড়ো দেমাগ)— এই তিন পাত্রের কথা আলোচিত হলেও কোনোটাই স্থির হয়নি।
১৭। ঘটকের ভূমিকা কে পালন করে?
- ক. ভ্রমররাজ (ভোমরা)
- খ. জোনাকি
- গ. প্রজাপতি
- ঘ. কোকিল
উত্তর: ক। ভ্রমররাজ ঘটক হয়ে মল্লিকা-বৃক্ষসদনে উপস্থিত হন।
১৮। ভ্রমর মল্লিকা-বৃক্ষের কাছে গিয়ে প্রথমে কী বলেন?
- ক. ‘গুন্ গুন্ গুন্, মেয়ে আছে?’
- খ. বিবাহের তারিখ ঠিক করেন
- গ. বরের কথা বলেন
- ঘ. যৌতুকের কথা বলেন
উত্তর: ক। ভ্রমর গুনগুন করে জিজ্ঞেস করেন, ‘মেয়ে আছে?’
১৯। মল্লিকা-কন্যা প্রথমে ঘোমটা খুলতে রাজি হয় না কেন?
- ক. আবহাওয়া খারাপ ছিল বলে
- খ. তার আগ্রহ ছিল না বলে
- গ. সে লজ্জাশীলা ছিল বলে
- ঘ. সে অসুস্থ ছিল বলে
উত্তর: গ। লজ্জাশীলা কন্যা কিছুতেই ঘোমটা খোলে না, বৃক্ষ বলেন তার মেয়েরা বড়ো লাজুক।
২০। কে মল্লিকা-কন্যাকে ঘোমটা খুলতে রাজি করায়?
- ক. তার পিতা
- খ. সন্ধ্যাঠাকুরানী-দিদি
- গ. ভ্রমর নিজে
- ঘ. কুসুমলতা
উত্তর: খ। সন্ধ্যাঠাকুরানী-দিদি (সন্ধ্যাকালকে দিদি বলে সম্বোধন) তাকে নানাভাবে বুঝিয়ে শেষে রাজি করান।
২১। মল্লিকা-কন্যা শেষে কীভাবে ঘোমটা খোলে?
- ক. জোর করে খোলানো হয়
- খ. পিতার আদেশে
- গ. উপহারের লোভে
- ঘ. সন্ধ্যার স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ হয়ে
উত্তর: ঘ। কতবার রাগ করলেও শেষে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ স্বভাবে মুগ্ধ হয়ে কন্যা মুখ খোলে।
২২। কন্যার মুখ দেখে ভ্রমর কী বলে মন্তব্য করেন?
- ক. সে সুন্দর নয়
- খ. তিনি বিভ্রান্ত হন
- গ. তিনি নিরাশ হন
- ঘ. তার গন্ধে মুগ্ধ হন
উত্তর: ঘ। কন্যার পরিমলে মুগ্ধ হয়ে ভ্রমর বলেন কন্যা গুণবতী বটে।
২৩। ভ্রমর কন্যাকর্তার কাছে কী জানতে চান?
- ক. যৌতুকের পরিমাণ
- খ. পরিবারের ইতিহাস
- গ. কন্যার শিক্ষা
- ঘ. কন্যার বয়স
উত্তর: ক। ভ্রমর জিজ্ঞেস করেন, ‘ঘরে মধু কত?’— যৌতুক বা সম্পদের পরিমাণ জানতে চান।
২৪। ভ্রমর নিজের জন্য কী দাবি করেন?
- ক. একটি ভ্রমণ
- খ. একটি সম্মাননা
- গ. একটি উপহার
- ঘ. ঘটকালির জন্য আগাম নগদ দান
উত্তর: ঘ। ভ্রমর ঘটকালির জন্য কিছু আগাম নগদ দানের দাবি করেন, যাতে বৃক্ষ বিরক্ত হয়ে ওঠে।
২৫। বৃক্ষ বিরক্ত হয়ে কী জানতে চায়?
- ক. বিবাহের তারিখ
- খ. ঘটকালির পরিমাণ
- গ. আগে বরের পরিচয়— বর কে
- ঘ. অতিথিদের সংখ্যা
উত্তর: গ। বিরক্ত হয়ে বৃক্ষ সব শাখা নাড়িয়ে বলে, আগে বরের কথা বলো— বর কে?
২৬। বর কে বলে প্রকাশ পায়?
- ক. গোলাপ
- খ. চাঁপা
- গ. স্থলপদ্ম
- ঘ. জবা
উত্তর: ক। গোলাপ ফুলই এই বিবাহের বর।
২৭। কুলাচার্য গোলাপ বংশকে কেন কুলীন বলে বর্ণনা করেন?
- ক. তারা সবচেয়ে সুগন্ধি বলে
- খ. তারা বড় আকারের বলে
- গ. বাঞ্ছামালির স্বহস্তরোপিত বলে
- ঘ. তাদের বেশি সংখ্যা আছে বলে
উত্তর: গ। কুলাচার্য বলেন, গোলাপ বংশ কুলীন কারণ তারা ‘ফুলে’ মেল এবং সাক্ষাৎ বাঞ্ছামালির (ইচ্ছামতো ফুল ফোটাতে পারা মালি) স্বহস্তরোপিত সন্তান।
২৮। গোলাপের কাঁটা নিয়ে কুলাচার্য কী যুক্তি দেন?
- ক. কাঁটা থাকা সাধারণ বিষয়
- খ. কাঁটা দূর করা প্রয়োজন
- গ. গোলাপে কোনো কাঁটা নেই
- ঘ. কাঁটা থাকা লজ্জাজনক
উত্তর: ক। কুলাচার্য বলেন, কেউ যদি বলে এ ফুলে কাঁটা আছে, তবে প্রশ্ন ওঠে কোন কুলে বা কোন ফুলে কাঁটা নেই— অর্থাৎ এটি ত্রুটি নয়, স্বাভাবিক বিষয়।
২৯। সম্বন্ধ স্থির হওয়ার পর ভ্রমর কোথায় খবর দিতে যান?
- ক. চাঁপার বাড়িতে
- খ. গোলাপ বাবুর বাড়িতে
- গ. মল্লিকার বাড়িতে
- ঘ. স্থলপদ্মের বাড়িতে
উত্তর: খ। সম্বন্ধ স্থির করে ভ্রমর উড়ে গিয়ে গোলাপ বাবুর বাড়িতে খবর দেন।
৩০। খবর শুনে গোলাপের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. সে চিন্তিত হয়
- খ. আহ্লাদিত হয়ে বয়স জিজ্ঞেস করে
- গ. সে অস্বীকার করে
- ঘ. সে উদাসীন থাকে
উত্তর: খ। বিবাহের নাম শুনে গোলাপ আহ্লাদিত হয়ে কন্যার বয়স জিজ্ঞেস করে; ভ্রমর বলে ‘আজি কালি ফুটিবে’।
৩১। বিবাহযাত্রায় নহবত (বাদ্য) বাজানোর দায়িত্ব কার?
- ক. জোনাকির
- খ. মৌমাছির
- গ. কোকিলের
- ঘ. উচ্চিংড়ার
উত্তর: ঘ। উচ্চিংড়া নহবৎ বাজাতে আরম্ভ করে।
৩২। সানাইয়ের বায়না নিয়েও কে যেতে পারেনি?
- ক. উচ্চিংড়া
- খ. কোকিল
- গ. খদ্যোত
- ঘ. মৌমাছি (রাতকানা বলে)
উত্তর: ঘ। মৌমাছি সানাইয়ের বায়না নিয়েছিল, কিন্তু রাতকানা বলে সঙ্গে যেতে পারেনি।
৩৩। ঝাড় বা আলোর ব্যবস্থা কারা করে?
- ক. তারারা
- খ. খদ্যোতেরা (জোনাকিরা)
- গ. চাঁদ
- ঘ. সূর্য
উত্তর: খ। খদ্যোতেরা (জোনাকিরা) ঝাড় ধরে, আকাশে তারাবাজির মতো আলো ছড়ায়।
৩৪। বরযাত্রায় স্থলপদ্ম কেন আসতে পারেননি?
- ক. সন্ধ্যা তাঁর জন্য অসুস্থকর বলে
- খ. তাঁর নিমন্ত্রণ ছিল না
- গ. তিনি অসুস্থ ছিলেন
- ঘ. তিনি রাগান্বিত ছিলেন
উত্তর: ক। স্থলপদ্ম (পদ্মফুল) দিবাবসান বা সন্ধ্যাকালে অসুস্থকর বলে (কারণ পদ্ম দিনে ফোটে, রাতে বন্ধ হয়) আসতে পারেননি।
৩৫। কোন ফুলের দল সেকেলে রাজাদের মতো উঁচু ডালে চড়ে এসেছিল?
- ক. করবী
- খ. চাঁপা
- গ. জবা
- ঘ. অশোক
উত্তর: ক। করবীদের দল সেকেলে রাজাদের মতো বড়ো উঁচু ডালে চড়ে এসে উপস্থিত হয়।
৩৬। অশোকের সাথে কারা মোসায়েব (সহচর) হয়ে আসে?
- ক. পিঁপড়া
- খ. প্রজাপতি
- গ. জোনাকি
- ঘ. মৌমাছি
উত্তর: ক। অশোক নেশায় লাল হয়ে আসে, সঙ্গে একপাল পিঁপড়া মোসায়েব হয়ে আসে, যারা হুল ফুটিয়ে প্রায়ই বিবাদ বাধায়।
৩৭। বরযাত্রায় বাহকের (বহনকারীর) দায়িত্ব কার নেওয়ার কথা ছিল?
- ক. বাতাসের
- খ. উচ্চিংড়ার
- গ. কোকিলের
- ঘ. খদ্যোতের
উত্তর: ক। বাতাস বাহকের বায়না নিয়েছিলেন, কাজের সময় হুঁ-হুম করে বড়াই করলেও তখন লুকিয়ে যান।
৩৮। বাতাস না থাকায় কী সমস্যা দেখা দেয়?
- ক. বিবাহ বাতিল হয়
- খ. মল্লিকা রেগে যায়
- গ. সবাই স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকে
- ঘ. অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ হয়ে যায়
উত্তর: গ। বাতাস অনুপস্থিত থাকায় বর, বরযাত্রী সকলে অবাক হয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ এগোতে পারেন না।
৩৯। শেষ পর্যন্ত কে বাহকের দায়িত্ব নেয়?
- ক. স্বয়ং লেখক
- খ. ভ্রমর
- গ. খদ্যোত
- ঘ. কোকিল
উত্তর: ক। মল্লিকাদের কুল যায় দেখে লেখক নিজেই বাহকের কাজ স্বীকার করে বর-বরযাত্রীদের নিয়ে মল্লিকাপুরে যান।
৪০। মল্লিকাপুরে পৌঁছে লেখক কী দৃশ্য দেখেন?
- ক. একটি বিবাদ
- খ. কন্যাকুল ঘোমটা খুলে হাসছে
- গ. একটি ঝড়
- ঘ. শূন্য বাগান
উত্তর: খ। কন্যাকুল, সকল ভগিনী আহ্লাদে ঘোমটা খুলে মুখ ফুটিয়ে, পরিমল ছড়িয়ে সুখের হাসি হাসছিল।
৪১। কোন ফুলেরা স্ত্রী-আচার করে বরণ করে?
- ক. অশোক ও কুরবক
- খ. যূথী, মালতী, বকুল, রজনীগন্ধা
- গ. জবা ও করবী
- ঘ. চাঁপা ও গন্ধরাজ
উত্তর: খ। যূথী, মালতী, বকুল, রজনীগন্ধা প্রভৃতি এয়োগণ (সধবা নারী) স্ত্রী-আচার করে বর বরণ করে।
৪২। বিয়েতে পুরোহিতের সহায়ক হিসেবে কে সূচ-সুতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে?
- ক. সন্ধ্যাঠাকুরানী-দিদি
- খ. নসী বাবুর কন্যা কুসুমলতা
- গ. মল্লিকা নিজে
- ঘ. গোলাপ নিজে
উত্তর: খ। নসী বাবুর নবমবর্ষীয়া কন্যা (জীবন্ত কুসুমরূপিণী) কুসুমলতা সূচ-সুতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
৪৩। বাসর-ঘরে টগর ঠাকুরানীদিদি কী করেন?
- ক. তিনি রাগ করেন
- খ. রসিকতা করতে করতে শুকিয়ে ওঠেন
- গ. তিনি কাঁদতে থাকেন
- ঘ. তিনি নীরব থাকেন
উত্তর: খ। প্রাচীনা টগর ঠাকুরানীদিদি রসিকতা করতে করতে শুকিয়ে ওঠেন— বাসরঘরের চিরাচরিত হাস্যরসিকতার চিত্র।
৪৪। বর গোলাপ রজনীগন্ধাকে কী বলে তামাসা করেন?
- ক. তাকে অন্ধ বলে
- খ. তাকে ছোট বলে
- গ. তাকে বোবা বলে
- ঘ. তাকে তাড়কা রাক্ষসী বলে
উত্তর: ঘ। বর রজনীগন্ধাকে তাড়কা রাক্ষসী (রামায়ণের একটি রাক্ষসী চরিত্র) বলে তামাসা করেন, সম্ভবত তার উচ্চতা বা আকৃতি নিয়ে।
৪৫। বকুল কেন এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে?
- ক. রূপ কম বলে সংকোচবোধ করে
- খ. সে রাগান্বিত
- গ. তাকে অবহেলা করা হয়েছে
- ঘ. সে অসুস্থ
উত্তর: ক। বকুল বালিকা, তার যত গুণ তত রূপ নয় বলে সে সংকোচে এক কোণে চুপ করে বসে থাকে।
৪৬। রচনার শেষে গোটা বিবাহ-দৃশ্যটি কীভাবে শেষ হয়?
- ক. হঠাৎ বৃষ্টি নেমে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়
- খ. একটি বাস্তব অনুষ্ঠান হিসেবে চলতে থাকে
- গ. একটি ঝগড়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ হয়
- ঘ. এটি লেখকের স্বপ্ন ছিল বলে জানা যায়
উত্তর: ঘ। কুসুমলতা ‘কমলকাকা, ওঠ, বাড়ি যাই’ বলে লেখকের গা ঠেলে ডেকে তোলে; চমক ভাঙলে দেখা যায় কিছুই নেই— পুরো দৃশ্যটি লেখকের কল্পনা।
৪৭। স্বপ্নভঙ্গের পর লেখকের মনে কোন দার্শনিক ভাবনা জাগে?
- ক. তিনি আনন্দিত হন
- খ. সংসার অনিত্য, সব শেষে মিলিয়ে যাবে
- গ. তিনি ভীত হন
- ঘ. তিনি রাগান্বিত হন
উত্তর: খ। লেখকের মনে হয় সংসার অনিত্যই বটে— এই আছে এই নাই; রাজা-প্রজা, পর্বত-সমুদ্র, গ্রহ-নক্ষত্র সবই একদিন ধ্বংসপুরে মিলিয়ে যাবে, এই বিবাহের মতোই সব শূন্যে মিশে যাবে।
৪৮। কুসুমলতা লেখককে জিজ্ঞেস করলে তিনি কী উত্তর দেন তিনি কী করছিলেন?
- ক. তিনি বিয়ে দিচ্ছিলেন বলেন
- খ. তিনি পড়াশোনা করছিলেন বলেন
- গ. তিনি ঘুমাচ্ছিলেন বলেন
- ঘ. তিনি কিছু বলেন না
উত্তর: ক। কুসুম জিজ্ঞেস করলে লেখক বলেন, ‘দূর পাগলি, আমি বিয়ে দিচ্ছিলাম।’
৪৯। কুসুমলতা নিজে কী করেছিল বলে জানায়?
- ক. সে খেলছিল
- খ. সে ফুল তুলেছিল
- গ. সেও ফুলের মালা গেঁথেছিল
- ঘ. সে ঘুমিয়ে পড়েছিল
উত্তর: গ। কুসুমলতা বলে সেও ফুলের বিয়ে দিয়েছে— তার গাঁথা মালাতেই লেখকের কল্পনার বর-কনে (ফুল) রয়েছে।
৫০। ‘কন্যাভারগ্রস্ত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. কন্যা বিবাহের দায়িত্ব বহনকারী
- খ. ধনী ব্যক্তি
- গ. একজন পুরোহিত
- ঘ. অবিবাহিত পুরুষ
উত্তর: ক। কন্যাভারগ্রস্ত অর্থ বিবাহযোগ্যা কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বহনকারী।
৫১। ‘পরিমল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. শব্দ
- খ. সুগন্ধ
- গ. আকার
- ঘ. রং
উত্তর: খ। পরিমল অর্থ সুগন্ধ।
৫২। ‘কুলাচার্য’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. বংশের প্রধান পুরোহিত
- খ. একজন অতিথি
- গ. একজন ঘটক
- ঘ. একজন রাজা
উত্তর: ক। কুলাচার্য অর্থ কুলের আচার্য বা বংশের প্রধান পুরোহিত।
৫৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী লেখক কী কৌশলে বাঙালির গার্হস্থ্য অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেছেন?
- ক. সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে
- খ. ঐতিহাসিক দলিলের আকারে
- গ. পরিসংখ্যান ব্যবহার করে
- ঘ. ব্যক্তির বদলে ফুলের উল্লেখ করে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বিবাহ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এমন নানা ব্যক্তির পরিবর্তে বিভিন্ন ফুলের উল্লেখ করে অসাধারণ দক্ষতায় বঙ্কিমচন্দ্র বাঙালির গার্হস্থ্য অনুষ্ঠানকে আরও আনন্দদায়ক করে উপস্থাপন করেছেন।
৫৪। রচনাটি পাঠকের মধ্যে কোন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়ক বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?
- ক. রাজনৈতিক সচেতনতা
- খ. ধর্মীয় ভক্তি
- গ. অর্থনৈতিক দক্ষতা
- ঘ. কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ‘ফুলের বিবাহ’ গদ্যটি কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়ক।
মিনু একদিন বাগানে বসে বিভিন্ন প্রজাপতি ও মৌমাছিকে ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াতে দেখে কল্পনা করে, প্রজাপতিরা যেন একটি রাজদরবারে নিমন্ত্রিত অতিথি, আর প্রতিটি ফুল যেন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের মানুষ— কেউ গম্ভীর রাজা, কেউ হাসিখুশি শিশু।
৫৫। মিনুর এই কল্পনাশক্তির সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ রচনার লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
- ক. কোনো মিল নেই
- খ. উভয়ই বাস্তব ঘটনা বর্ণনা করেছে
- গ. উভয়ই বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করেছে
- ঘ. প্রকৃতিকে মানবিক রূপে কল্পনার ক্ষমতা
উত্তর: ঘ। বঙ্কিমচন্দ্র যেমন ফুলদের মানুষের বিবাহ-অনুষ্ঠানের চরিত্রে রূপ দিয়েছেন, মিনুও তেমনি প্রজাপতি-মৌমাছি-ফুলকে মানবিক চরিত্রে কল্পনা করছে— প্রকৃতিকে সৃজনশীল কল্পনার মাধ্যমে দেখার এই ক্ষমতাই উভয়ের মিল।
