● MCQ

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার MCQ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “যাব আমি তোমার দেশে” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৫৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য যাব আমি তোমার দেশে কবিতার নোট দেখুন।

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার কবি কে?

জসীমউদ্দীন (জন্ম ১৯০৩, তাম্বুলখানা, ফরিদপুর; মৃত্যু ১৩ মার্চ ১৯৭৬, ঢাকা)। ‘পল্লিকবি’ নামে খ্যাত। প্রধান কাব্য: নকশী-কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, রাখালী, বালুচর, হাসু, এক পয়সার বাঁশি। বিশ্বভারতী থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট., একুশে পদকপ্রাপ্ত।

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার উৎস

ধানক্ষেত কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

কবিতার মূল বিষয়বস্তু

  1. কবি পল্লি-দুলালকে সম্বোধন করে তার গ্রামে যাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন— বনের শীর্ষে আকাশ, মেঘ-কনে, ডাহুকের ডাক।
  2. ধান-কাউনের ক্ষেতের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ বাঁকা পথ, গ্রাম্য মেয়ের কদম-কলি ছড়িয়ে চলা।
  3. পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে খেলাধুলা, ধল-দীঘিতে সাঁতার, শাপলা-হিজলের সান্নিধ্যে আনন্দ।
  4. মাটির পরশ, পাখির সাথে ভাব, অজানা ফুলের প্রতি মুগ্ধতা।
  5. পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে ঘুরে বেড়ানো, সাঁঝ-বাগানে ফুল তোলা, ঘাটে ফুলের মালা রেখে আসা।
  6. দীঘির কোলে বসে সন্ধ্যা নামা দেখা, রাতের আঁধারে চারপাশ ঘিরে যাওয়া দিয়ে কবিতার সমাপ্তি।

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার মূল ভাব কী?

গ্রামবাংলার অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সারল্যের প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ ও একাত্ম হওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা— ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, কাব্যিক বর্ণনার মাধ্যমে পল্লিবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের এক জীবন্ত চিত্র এই কবিতায় ফুটে উঠেছে।

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

পল্লি-দুলাল (পল্লি-মায়ের আদরের ছেলে), দীঘল (দীর্ঘ), পন্থ (পথ), দস্যি (দুরন্ত), উত্তরীয় (চাদর), কুন্তল (চুল), কুহেলী (কুয়াশা)।

কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ

১। জসীমউদ্দীন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

  • ক. ১৯০৪
  • খ. ১৯০২
  • গ. ১৯০১
  • ঘ. ১৯০৩

উত্তর: ঘ। তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

২। জসীমউদ্দীনের জন্মস্থান কোথায়?

  • ক. যশোর
  • খ. বরিশাল
  • গ. খুলনা
  • ঘ. ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রাম

উত্তর: ঘ। ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

৩। জসীমউদ্দীনকে কেন ‘পল্লিকবি’ বলা হয়?

  • ক. তিনি শুধু গ্রামে বাস করতেন বলে
  • খ. তিনি গ্রামে জন্মেছিলেন বলে
  • গ. পল্লিমানুষের জীবনচিত্র তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে বলে
  • ঘ. তাঁর কবিতা শুধু গ্রামের মানুষ পড়ত বলে

উত্তর: গ। পল্লির মাটি ও মানুষের জীবনচিত্র, তাদের আশা-স্বপ্ন-আনন্দ-বেদনা এমন আবেগ-মধুরভাবে তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে যে অন্য কোনো কবির কাব্যে তা খুঁজে পাওয়া ভার— এ কারণেই তিনি ‘পল্লিকবি’ নামে খ্যাত।

৪। কর্মজীবনের শুরুতে জসীমউদ্দীন কোথায় অধ্যাপনা করেন?

  • ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • খ. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  • গ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  • ঘ. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তর: ক। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কিছুকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

৫। জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতাটি কোন সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়?

  • ক. উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সংকলন
  • খ. প্রবেশিকা বাংলা সংকলন
  • গ. স্নাতক বাংলা সংকলন
  • ঘ. মাধ্যমিক বাংলা সংকলন

উত্তর: খ। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর রচিত ‘কবর’ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।

৬। নিচের কোনটি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ নয়?

  • ক. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  • খ. নকশী-কাঁথার মাঠ
  • গ. রাখালী
  • ঘ. ছাড়পত্র

উত্তর: ঘ। ছাড়পত্র সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ।

৭। জসীমউদ্দীনের কোন কাব্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে?

  • ক. নকশী-কাঁথার মাঠ
  • খ. হাসু
  • গ. রাখালী
  • ঘ. বালুচর

উত্তর: ক। তাঁর নকশী-কাঁথার মাঠ কাব্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

৮। জসীমউদ্দীনের ভ্রমণকাহিনির নাম কী?

  • ক. মাটির কান্না
  • খ. চলে মুসাফির
  • গ. এক পয়সার বাঁশি
  • ঘ. হাসু

উত্তর: খ। চলে মুসাফির তাঁর ভ্রমণকাহিনি।

৯। জসীমউদ্দীন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি লাভ করেন?

  • ক. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  • খ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  • গ. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  • ঘ. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

উত্তর: গ। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করে।

১০। জসীমউদ্দীন সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ কোন পুরস্কার লাভ করেন?

  • ক. নোবেল পুরস্কার
  • খ. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  • গ. একুশে পদক
  • ঘ. স্বাধীনতা পুরস্কার

উত্তর: গ। সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক লাভ করেন।

১১। জসীমউদ্দীন কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

  • ক. ১৯৭৪
  • খ. ১৯৭৬
  • গ. ১৯৭৭
  • ঘ. ১৯৭৫

উত্তর: খ। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই মার্চ ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

যাব আমি তোমার দেশে কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

১২। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

  • ক. নকশী-কাঁথার মাঠ
  • খ. ধানক্ষেত
  • গ. বালুচর
  • ঘ. রাখালী

উত্তর: খ। কবিতাটি কবির ধানক্ষেত কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।

১৩। কবিতায় কবি কাকে সম্বোধন করে কথা বলেছেন?

  • ক. একজন বন্ধুকে
  • খ. পল্লি-দুলালকে
  • গ. একজন কৃষককে
  • ঘ. একজন রাখালকে

উত্তর: খ। কবিতায় কবি ‘পল্লি-দুলাল’কে সম্বোধন করে কথা বলেছেন, যিনি পল্লিমায়ের আদরের ছেলে।

১৪। কবি কোথায় যেতে চান?

  • ক. পাহাড়ে
  • খ. পল্লি-দুলালের দেশে (গ্রামে)
  • গ. বিদেশে
  • ঘ. শহরে

উত্তর: খ। কবি পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ গ্রামে যেতে চান।

১৫। পল্লি-দুলালের দেশে আকাশ কোথায় থাকে বলে বর্ণিত হয়েছে?

  • ক. নদীর তীরে
  • খ. সমুদ্রের ওপর
  • গ. পাহাড়ের চূড়ায়
  • ঘ. বনের শীর্ষে

উত্তর: ঘ। সেই দেশের আকাশ বনের শীর্ষে থাকে, দিক-হারা মাঠ তার চরণ ঘেঁষে বিস্তৃত।

১৬। দূর দেশীয় মেঘ-কনেরা কী নিয়ে দাঁড়ায় বলে কল্পনা করা হয়েছে?

  • ক. ফুলের ডালি
  • খ. একটি বাদ্যযন্ত্র
  • গ. একটি প্রদীপ
  • ঘ. জলের ঝারি

উত্তর: ঘ। মেঘ-কনেরা মাথায় জলের ঝারি নিয়ে দাঁড়ায়, বিজলী-পেড়ে আঁচল নাড়িয়ে।

১৭। বেতস কেয়ার বনে কে আসর মাতায়?

  • ক. শালিক
  • খ. কোকিল
  • গ. ময়না
  • ঘ. ডাহুক মেয়ে

উত্তর: ঘ। বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়।

১৮। ধান-কাউনের ক্ষেতের ভেতর দিয়ে যাওয়া পথটিকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

  • ক. একটি ফিতার সাথে
  • খ. সরু সুতার আঁচড় ও হাবা মেয়ের সিঁথির সাথে
  • গ. একটি রশির সাথে
  • ঘ. একটি নদীর সাথে

উত্তর: খ। পথটিকে সরু সুতার আঁচড় এবং সরল মেয়ের এলোমাথার সিঁথির সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা কোথাও সিধা কোথাও বাঁকা।

১৯। পথটি আর কীসের সাথে তুলনীয় বলে বলা হয়েছে?

  • ক. একটি পাখির ডানার সাথে
  • খ. একটি নক্ষত্রের সাথে
  • গ. একটি ফুলের পাপড়ির সাথে
  • ঘ. গরুর গায়ের ক্ষত-রেখার সাথে

উত্তর: ঘ। পথটি গরুর গায়ে ক্ষতচিহ্নের রেখার মতোও দেখতে বলা হয়েছে— কোথাও সিধা কোথাও বাঁকা।

২০। পথ ধরে কে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে যায়?

  • ক. পল্লি-দুলাল
  • খ. একটি গ্রাম্য মেয়ে
  • গ. ডাহুক
  • ঘ. কবি নিজে

উত্তর: খ। সেই পথ দিয়ে মুঠি ছড়িয়ে কদম-কলি হাতে একটি গ্রাম্য মেয়ে হেঁটে চলে যায়।

২১। কবি কাদের সাথে দল বেঁধে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন?

  • ক. পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে
  • খ. রাখাল ছেলেদের সাথে
  • গ. শহরের ছেলেদের সাথে
  • ঘ. চাষির ছেলেদের সাথে

উত্তর: ক। কবি পাড়ার দস্যি (দুরন্ত) ছেলেদের সাথে দল বেঁধে হেথায় সেথায় খেলে বেড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

২২। ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে কবি কী তুলে আনার কথা বলেন?

  • ক. কচুরিপানা
  • খ. রক্ত-কমল
  • গ. শামুক
  • ঘ. মাছ

উত্তর: খ। ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে কবি রক্ত-কমল (লাল পদ্ম) তুলে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

২৩। শাপলা লতায় জড়িয়ে কবি কী করার কথা বলেন?

  • ক. দৌড়ানোর
  • খ. ঢেউয়ের সাথে দোল খাওয়ার
  • গ. মাছ ধরার
  • ঘ. ঘুমানোর

উত্তর: খ। শাপলা লতায় চরণ জড়িয়ে ঢেউয়ের সাথে দোল খাওয়ার কথা কবি বলেন।

২৪। গায়ের বরণ রঙিন হওয়ার কারণ হিসেবে কবি কী উল্লেখ করেন?

  • ক. রোদের তাপ
  • খ. ফুলের রেণু
  • গ. হিজল-ঝরা জলের ছিটা
  • ঘ. রঙের প্রলেপ

উত্তর: গ। হিজল-ঝরা জলের ছিটায় গায়ের বরণ রঙিন হবে বলে কবি বর্ণনা করেন।

**২৫। কবিতায় গায়ের রং রঙিন হওয়া নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে
ii. হিজল ঝরা জলের ছিটায়
iii. ঝিলিমিলি ঢেউ খেলিয়ে

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ঘ।** তিনটি তথ্যই কবিতায় গায়ের বরণ রঙিন হওয়া এবং দীঘির আনন্দময় পরিবেশ বর্ণনায় উল্লেখিত হয়েছে।

২৬। কবি সেই মাটিতে পা ফেলে কী অনুভব করতে চান?

  • ক. শীতলতা
  • খ. তীব্র উত্তাপ
  • গ. কাঁটার খোঁচা
  • ঘ. মাটি-মায়ের পরশ

উত্তর: ঘ। কবি সেই পথে চরণ ফেলে মাটি-মায়ের পরশ অনুভব করতে চান— মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধের প্রকাশ।

২৭। কবি পাখির সাথে কী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন?

  • ক. পাখি ধরার
  • খ. পাখি শিকার করার
  • গ. পাখির ডাকে ডাকা ও তাদের সাথে ভাব করার
  • ঘ. পাখির বাসা ভাঙার

উত্তর: গ। কবি পাখির ডাকে ডাকতে চান এবং পাখির সাথে ভাব করতে চান।

২৮। অজানা ফুলের রূপ দেখে কবি কী করবেন বলে বলেন?

  • ক. তা বিক্রি করবেন
  • খ. তা ছিঁড়ে ফেলবেন
  • গ. তাকে বিয়ের কনে বলে মানবেন
  • ঘ. তা এড়িয়ে যাবেন

উত্তর: গ। অজানা ফুলের রূপ দেখে কবি তাকে কল্পনায় বিয়ের কনে বলে মেনে নেবেন— প্রকৃতির প্রতি কবির কাব্যিক ভালোবাসার প্রকাশ।

২৯। চলার পথে কী কবির উত্তরীয়তে জড়িয়ে যাবে বলে বলা হয়েছে?

  • ক. ঘাস
  • খ. লতা
  • গ. পাতা
  • ঘ. ময়না কাঁটা

উত্তর: ঘ। চলতে পথে ময়না কাঁটায় কবির উত্তরীয় জড়িয়ে যাবে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

৩০। ইঁটেল মাটির হোঁচট লেগে কী ঘটবে বলে কবি বলেন?

  • ক. তিনি ফিরে যাবেন
  • খ. তার পথ হারিয়ে যাবে
  • গ. তিনি পড়ে যাবেন
  • ঘ. আঁচল থেকে ফুল ছড়িয়ে পড়বে

উত্তর: ঘ। ইঁটেল মাটিতে হোঁচট লেগে আঁচল থেকে ফুল ছড়িয়ে পড়বে বলে কবি কল্পনা করেন।

৩১। কবি পল্লি-দুলালের সাথে কীভাবে ফিরবেন বলে বলেন?

  • ক. দ্রুত পায়ে
  • খ. তার কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে
  • গ. আলাদা পথে
  • ঘ. দৌড়ে

উত্তর: খ। কবি পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে ফেরার কথা বলেন— এক নিবিড় বন্ধুত্বের চিত্র।

৩২। সাঁঝ-বাগানে কবি কী দেখবেন বলে বলেন?

  • ক. অন্ধকার
  • খ. একটি নদী
  • গ. মেঘ-তুলিকার টানে হাজার রঙের ফুল
  • ঘ. একটি পাখির বাসা

উত্তর: গ। বনের পাতার ফাঁকে ফাঁকে সাঁঝ-বাগানে মেঘ-তুলিকার (মেঘের তুলি) নিখুঁত টানে হাজার রঙের ফোটা ফুল দেখবেন বলে কবি বর্ণনা করেন।

৩৩। কবি কীভাবে সেই ফুল সংগ্রহ করবেন?

  • ক. মই ব্যবহার করে
  • খ. সাহায্য নিয়ে
  • গ. গাছের শাখা দুলিয়ে
  • ঘ. গাছে চড়ে

উত্তর: গ। কবি গাছের শাখা দুলিয়ে মনের আশে সেই ফুল পাড়বেন বলে বলেন।

৩৪। কবি ফুলের মালা কোথায় রেখে আসবেন বলে বলেন?

  • ক. পল্লি-দুলালের বাড়িতে
  • খ. একটি মন্দিরে
  • গ. দীঘির মাঝখানে
  • ঘ. পল্লিবালাদের কলস ভরার ঘাটের ধারে

উত্তর: ঘ। যে ঘাটে গাঁয়ের বিভোল পল্লিবালারা কলস ভরে, কবি সেই ঘাটের এক ধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন বলে বলেন।

৩৫। মালাটি কে খুঁজে পাবে বলে কবি কল্পনা করেন?

  • ক. কলস ভরতে আসা কোনো অজানা পল্লিবালা
  • খ. কেউ পাবে না
  • গ. পল্লি-দুলাল নিজে
  • ঘ. একজন নির্দিষ্ট মেয়ে

উত্তর: ক। কলস ভরাতে আসা কোনো এক অজানা পল্লিবালা পথে-পাওয়া মালাটি কুড়িয়ে পাবে, ভাববে কে যেন তা রেখে গেছে।

৩৬। মালা খুঁজে পাওয়া মেয়েটি কী করতে পারে বলে কবি কল্পনা করেন?

  • ক. তা ফেলে দেবে
  • খ. তা পুলিশে জমা দেবে
  • গ. না চিনেই হয়তো তা গলায় পরবে
  • ঘ. তা বিক্রি করে দেবে

উত্তর: গ। মেয়েটি কার মালা তা না চিনেই হয়তো সেটি নিজের গলায় পরবে বলে কবি কল্পনা করেন।

৩৭। কবি ও পল্লি-দুলাল কোথায় বসে থাকবেন বলে বলা হয়েছে?

  • ক. একটি মাঠে
  • খ. একটি বাড়ির উঠানে
  • গ. একটি গাছের নিচে
  • ঘ. ঢেউ দোলা দীঘির কোলে

উত্তর: ঘ। তাঁরা দুজন ঢেউ দোলা দীঘির কোলে বসে থাকবেন বলে কবি বর্ণনা করেন।

৩৮। দীঘির চারপাশে কী দেখা যাবে বলে বর্ণিত হয়েছে?

  • ক. একটি রাস্তা
  • খ. বনের সারি, শাখার এলিয়ে পড়া কুন্তল-ভার
  • গ. খালি মাঠ
  • ঘ. একটি বাজার

উত্তর: খ। দীঘির চারপাশে বনের সারি, গাছের শাখার এলিয়ে পড়া কুন্তল-ভার (চুলের মতো ঝুলে থাকা ডালপালা) দেখা যাবে।

৩৯। সন্ধ্যা নামলে বনে কে ডাকবে বলে বলা হয়েছে?

  • ক. শালিক
  • খ. কোকিল
  • গ. চড়ুই
  • ঘ. ডাহুক

উত্তর: ঘ। বনের মাঝে ডাহুক ডাকবে, ঘুঘু নিজের বাসায় ফিরবে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

৪০। ‘দিনের পিদীম ঢুলবে ঘুমে’ পঙক্তিটির অর্থ কী?

  • ক. প্রদীপ নেভানো হবে
  • খ. একটি প্রদীপ প্রজ্বলিত হবে
  • গ. রাত শেষ হবে
  • ঘ. দিনের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে সন্ধ্যা নামবে

উত্তর: ঘ। এই পঙক্তিতে দিনের আলো (পিদীম/প্রদীপের প্রতীকে) ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে সন্ধ্যা নামার কাব্যিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

৪১। কবিতার শেষে চারপাশে কী বেড়া বাঁধবে বলে বলা হয়েছে?

  • ক. রাতের আঁধারের বেড়া
  • খ. একটি বাগান
  • গ. একটি প্রাচীর
  • ঘ. বনের বেড়া

উত্তর: ক। চার ধারে বন জুড়িয়ে রাতের আঁধার বেড়া বাঁধবে, সেই কুহেলীর কালো কারায় দীঘির জলও ঘেরা পড়বে বলে কবিতা শেষ হয়।

৪২। ‘পল্লি-দুলাল’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. পল্লি-মায়ের আদরের ছেলে
  • খ. একজন শহুরে ছেলে
  • গ. একজন যোদ্ধা
  • ঘ. একজন রাজপুত্র

উত্তর: ক। পল্লি-দুলাল অর্থ পল্লি-মায়ের আদরের ছেলে— পল্লির অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ছেলেকে কবি এই নামে সম্বোধন করেছেন।

৪৩। ‘দীঘল’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. সংক্ষিপ্ত
  • খ. দীর্ঘ
  • গ. সরু
  • ঘ. প্রশস্ত

উত্তর: খ। দীঘল অর্থ দীর্ঘ।

৪৪। ‘পন্থ’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. গন্তব্য
  • খ. দূরত্ব
  • গ. যাত্রী
  • ঘ. পথ

উত্তর: ঘ। পন্থ অর্থ পথ।

৪৫। ‘দস্যি’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. দুষ্ট, দুরন্ত
  • খ. ভীতু
  • গ. অলস
  • ঘ. শান্ত

উত্তর: ক। দস্যি অর্থ দুষ্ট বা দুরন্ত।

৪৬। ‘উত্তরীয়’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. একটি টুপি
  • খ. একটি জুতা
  • গ. চাদর, গায়ের কাপড়
  • ঘ. একটি অলংকার

উত্তর: গ। উত্তরীয় অর্থ চাদর বা গায়ের কাপড়।

৪৭। ‘কুন্তল’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. ফুল
  • খ. পাতা
  • গ. চুল
  • ঘ. ডাল

উত্তর: গ। কুন্তল অর্থ চুল।

৪৮। ‘কুহেলী’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. বৃষ্টি
  • খ. মেঘ
  • গ. রোদ
  • ঘ. কুয়াশা

উত্তর: ঘ। কুহেলী অর্থ কুয়াশা।

৪৯। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় প্রকৃতি কীভাবে চিত্রিত হয়েছে?

  • ক. একটি বাধা হিসেবে
  • খ. পল্লিগ্রামকে ঘিরে থাকা মমতাময় সঙ্গী হিসেবে
  • গ. গুরুত্বহীন পটভূমি হিসেবে
  • ঘ. ভয়ংকর ও প্রতিকূল হিসেবে

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পল্লিগ্রামকে প্রকৃতি যেন ঘিরে রেখেছে— আকাশ, মাঠ, বন, দীঘি, পাখি সব মিলিয়ে এক নিবিড়, মমতাময় সহাবস্থান তৈরি হয়েছে।

৫০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটির সামগ্রিক যাত্রাপথ কেমন?

  • ক. শুধু একটি সরল বর্ণনা
  • খ. শুধু রাতের বর্ণনা
  • গ. শুধু বর্ষাকালের বর্ণনা
  • ঘ. দিন থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্লিজীবনের ধারাবাহিক চিত্রায়ণ

উত্তর: ঘ। কবিতাটি দিনের বিভিন্ন মুহূর্ত (পথচলা, খেলাধুলা, দীঘিতে সাঁতার, ফুল তোলা) থেকে শুরু করে সন্ধ্যা নামা পর্যন্ত পল্লিজীবনের ধারাবাহিক, কাব্যিক চিত্রায়ণ উপস্থাপন করে।

**৫১। কবিতায় ব্যবহৃত উপমা ও চিত্রকল্প নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মেঘকে কনের সাথে তুলনা করা হয়েছে
ii. পথকে মেয়ের সিঁথির সাথে তুলনা করা হয়েছে
iii. দীঘিকে সমুদ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি উপমা কবিতায় সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু দীঘিকে সমুদ্রের সাথে তুলনা করার কোনো উল্লেখ কবিতায় নেই— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।

৫২। কবিতায় ব্যবহৃত ভাষা ও চিত্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য কী?

  • ক. সংস্কৃতঘেঁষা কঠিন ভাষা
  • খ. শুধু আধুনিক নাগরিক শব্দভান্ডার
  • গ. গ্রামীণ জীবনের সূক্ষ্ম বিবরণে সমৃদ্ধ সহজ ভাষা
  • ঘ. জটিল ও দুর্বোধ্য

উত্তর: গ। কবিতার ভাষা সহজ-সরল, অথচ গ্রামীণ জীবনের সূক্ষ্ম, ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিবরণে (দৃশ্য, ঘ্রাণ, স্পর্শ) সমৃদ্ধ, যা জসীমউদ্দীনের পল্লিকবি হিসেবে খ্যাতির সাক্ষ্য বহন করে।

৫৩। কবিতাটি সামগ্রিকভাবে কোন আবেগ প্রকাশ করে?

  • ক. গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি আকুল আকাঙ্ক্ষা
  • খ. রাগ ও ক্ষোভ
  • গ. দুঃখ ও হতাশা
  • ঘ. ভয় ও উদ্বেগ

উত্তর: ক। কবিতাটি সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ প্রকৃতি, তার সারল্য ও নির্মলতার প্রতি কবির গভীর আকর্ষণ ও তাতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।

শহরে বেড়ে ওঠা রুদ্র তার নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে প্রথমবার নদীতে সাঁতার কাটে, গাছ থেকে আম পাড়ে, গ্রামের বন্ধুদের সাথে মাঠে ছুটে বেড়ায়। ফিরে এসে সে বলে, ‘এই কয়দিন যেন আমি অন্য এক জগতে ছিলাম, প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়েছিলাম।’

৫৪। রুদ্রের অভিজ্ঞতার সাথে ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কবির আকাঙ্ক্ষার কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?

  • ক. শহুরে জীবনের প্রতি আসক্তি
  • খ. প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ
  • গ. নগরায়ণের প্রশংসা
  • ঘ. গ্রামীণ প্রকৃতি ও সারল্যের সাথে একাত্ম হওয়ার আনন্দ

উত্তর: ঘ। কবি যেমন পল্লি-দুলালের দেশে গিয়ে প্রকৃতির সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে সাঁতার কাটা, ফুল তোলা, পাখির সাথে ভাব করার কল্পনা করেন, রুদ্রও তেমনি গ্রামে গিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার এক নতুন জগতের অভিজ্ঞতা লাভ করে— উভয়ের মধ্যেই গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি এই সহজাত আকর্ষণ একই রকম।

৫৫। এই ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষের জীবনে কী গুরুত্ব বহন করে?

  • ক. এর কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই
  • খ. এটি শুধু শিশুদের জন্য প্রযোজ্য
  • গ. এটি নিছক বিনোদন মাত্র
  • ঘ. প্রকৃতির সান্নিধ্য মনে প্রশান্তি এনে দেয়

উত্তর: ঘ। প্রকৃতির সান্নিধ্য ও গ্রামীণ সারল্যের সংস্পর্শ মানুষের মনে গভীর প্রশান্তি এনে দেয় এবং যান্ত্রিক নাগরিক জীবনের বাইরে জীবনের প্রতি এক নতুন, সমৃদ্ধ উপলব্ধি জাগিয়ে তোলে— এটাই এ ধরনের অভিজ্ঞতার প্রকৃত গুরুত্ব।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜