● Note

ঝরনার গান কবিতার নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

ঝরনার গান কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “ঝরনার গান” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য ঝরনার গান কবিতার MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও ঝরনার গান কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রাম।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন?

তিনি বিএ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কী উপাধিতে অভিহিত করা হয়?

তাঁকে ‘ছন্দের যাদুকর’ উপাধিতে অভিহিত করা হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি মৌলিক কাব্যের নাম লেখো।

তাঁর একটি মৌলিক কাব্য সবিতা।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদ-কাব্যের নাম লেখো।

তাঁর একটি অনুবাদ-কাব্য তীর্থরেণু।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি মাত্র ৪০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে)।

নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৌলিক কাব্য নয়?

তীর্থরেণু তাঁর একটি অনুবাদ-কাব্য; বাকি তিনটি তাঁর মৌলিক কাব্য।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন কোন ভাষার রচনা বাংলায় অনুবাদ করেন?

তিনি আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার অনেক উৎকৃষ্ট রচনা বাংলায় অনুবাদ করেন।

ঝরনা কোথায় তার চরণ (পদক্ষেপ) রাখে বলে বর্ণনা করে?

ঝরনা বলে, শিথিল সব শিলার ওপর সে তার দোদুল (দোলায়মান) মন-চরণ রাখে।

ঝরনা নিজের উৎস (জন্ম) সম্পর্কে কী কল্পনা করে?

ঝরনা কাব্যিক কল্পনায় ভাবে, হয়তো কোনো পাহাড়ের বরফাচ্ছাদিত চূড়া ঘেমে তার জন্ম হয়েছে, অথবা কোনো নাচের উৎসবে কোনো পরীর হার ছিঁড়ে গিয়েছিল।

ঝরনার গান কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘ঝরনার গান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

এটি বিদায়-আরতি কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

ঝরনার গান কবিতায় কে নিজেই কথক?

ঝরনা নিজেই কবিতায় কথক।

ঝরনা কেমন পায়ে ছুটে বেড়ায়?

ঝরনা চপল পায়ে ধাবমান।

নির্জন পরিবেশে ঝরনা কোন পোকার ডাক শুনতে পায়?

ঝিঁঝি পোকার ডাক শুনতে পায়।

পাহাড় ভয় দেখালে ঝরনার প্রতিক্রিয়া কী?

ঝরনা নির্ভীকভাবে এগিয়ে চলে।

ঝরনার গান কবিতায় কোন হরিণের কথা উল্লেখ আছে?

কালসার হরিণের কথা উল্লেখ আছে।

ঝরনার গান কবিতায় কোন কোন পাখির কথা উল্লেখ আছে?

শালিক ও শুক পাখির কথা উল্লেখ আছে।

ঝরনা মূলত কাদের জন্য ছোটে বলে ঝরনার গান কবিতায় বলা হয়েছে?

ঝরনা সৌন্দর্যপিয়াসীদের জন্য ছোটে, নিছক তৃষ্ণার্তদের জন্য নয়।

কবিতা কীভাবে শেষ হয়?

ঝরনার চিরন্তন, উচ্ছল, ঝলমলে গতির পুনরাবৃত্তিতে শেষ হয়।

‘বিভোল’ শব্দের অর্থ কী?

বিভোল অর্থ বিভোর বা বিহ্বল।

‘কূজন’ শব্দের অর্থ কী?

কূজন অর্থ পাখির ডাক।

‘চকোর’ শব্দের অর্থ কী?

চকোর অর্থ চাঁদের আলো পানকারী কাল্পনিক পাখি।

ঝরনার গান কবিতার মূল ভাব কী?

প্রকৃতির এক অবিরাম, আনন্দময়, নির্ভীক প্রাণশক্তির প্রতীক ঝরনার ছন্দোময় গতি ও সৌন্দর্যপ্রীতি।

ঝরনার গান কবিতায় কে কথক (বক্তা) হিসেবে নিজের কথা বলছে?

কবিতায় ঝরনা নিজেই কথক, যে নিজের চঞ্চল গতি ও অনুভূতির কথা বর্ণনা করছে।

কবিতাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে অদ্ভুত ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে অপূর্ব ভাব— এটিই কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

দুপুরবেলা কীসের ডাক শোনা যায় বলে ঝরনা বর্ণনা করে?

দুপুর-ভোর ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়, পথ ঝিমায়, বন ঘুমায়— এক নির্জন পরিবেশের বর্ণনা।

ঝরনার চারপাশের পরিবেশ কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

ঝরনা বলে, বিজন দেশ, কূজন (পাখির ডাক) নেই— সে নিজের পায়ে নিজেই তাল বাজায়, একলা গায়, একলা ধায়।

ঝরনার উৎস নিয়ে নিজের মনোভাব সম্পর্কে সে কী বলে?

ঝরনা বলে, তার এই নিয়ে কোনো খেয়াল নেই, কোনো সংবাদই পায়নি— সে শুধু লীলাচঞ্চলভাবে ছুটে বেড়ায়, বুলবুলির সুর সাধতে সাধতে।

বন-ঝাউয়ের ঝোপে কোন প্রাণী চরে বেড়ায় বলে বর্ণিত হয়েছে?

বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলোয় কালসারের (কৃষ্ণসার হরিণজাতীয় প্রাণী) দল চরে বেড়ায় বলে বর্ণিত হয়েছে।

পাথরের গায়ে কোন রং ধরে বলে বর্ণিত হয়েছে?

শিং শিলার গায়ে ঘষা খেয়ে পাথরের গায়ে ডালচিনির রং ধরে বলে কবি বর্ণনা করেছেন।

‘ডালিম-ফাট’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

টিলার গায়ে ছিটকে পড়া জলের কণাগুলোকে ডালিম ফাটার দৃশ্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে— একটি অপূর্ব দৃশ্যকল্প।

শালিক ও শুক পাখি কোথায় মুখ বুলায় বলে বর্ণিত হয়েছে?

শালিক ও শুক পাখি থল-ঝাঁঝির মখমলের মতো নরম শেওলাচ্ছাদিত জমিনে মুখ বুলায়।

নিচে নামার পথে ঝরনা কী শুনতে পায়?

ঝরনা নিচে নামতে নামতে শুনতে পায় কেউ ‘ফটিক জল’ বলে হাঁকছে— যা চাতক পাখির ডাকের অনুরূপ।

যার তৃষ্ণা শুধু কণ্ঠাগত (সাধারণ পিপাসা), তার জন্য ঝরনার পরামর্শ কী?

ঝরনা বলে, যার তৃষ্ণা শুধু সাধারণ (কণ্ঠাগত), সে যেন পাঁক ছেঁকে জল নেয়— ঝরনার সৌন্দর্যের প্রয়োজন তার নেই।

যার শুধু জল সেচার প্রয়োজন, তাকে ঝরনা কোথায় যেতে বলে?

যার প্রয়োজন শুধু জল সেচা (ব্যবহারিক প্রয়োজন), সে যেন পাতকুয়ায় যায়।

ঝরনা প্রকৃতপক্ষে কাদের জন্য ছুটে যায় বলে বলে?

ঝরনা বলে, যার সুন্দরের তৃষ্ণা আছে, তারই আশায় সে ছুটে যায়— অর্থাৎ ঝরনার প্রকৃত মূল্য বোঝে যে সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষ।

ঝরনার প্রকৃত অনুসন্ধান কী নিয়ে?

ঝরনা বলে, তার খোঁজে বিরাম নেই— সে সৌন্দর্যপ্রেমী, মুগ্ধ-চোখের মানুষের সন্ধানেই তার গান ও তরল শ্লোক বিলিয়ে বেড়ায়।

‘দিগ্বিদিক ঝিলমিলাই’ বাক্যাংশের অর্থ কী?

এর অর্থ, ঝরনা চারদিকে (সকল দিকে) আলোকিত ও ঝলমল করে বেড়ায়— তার ব্যাপ্ত, প্রাণবন্ত উপস্থিতির প্রকাশ।

‘ঝুম-পাহাড়’ বলতে কী বোঝায়?

ঝুম-পাহাড় অর্থ নীরব বা নির্জন পাহাড়।

‘চকোর’ পাখি সম্পর্কে কবি-কল্পনায় কী বিশ্বাস করা হয়?

কবি-কল্পনা অনুযায়ী চকোর পাখি চাঁদের আলো পান করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

‘ফটিক জল’ শব্দের সাথে কোন পাখির ডাকের মিল আছে বলে টীকায় উল্লেখ আছে?

টীকা অনুযায়ী চাতক পাখি ডাকলে তা ‘ফটিক জল’ শব্দের মতো শোনা যায়।

ঝরনার গান কবিতায় ব্যবহৃত ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?

কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত ছন্দোময়, ধ্বন্যাত্মক শব্দ (চপল, চঞ্চল, ঝিলমিল, খিলখিলাই) ও অন্ত্যানুপ্রাসে ভরপুর— যা সত্যেন্দ্রনাথের ‘ছন্দের যাদুকর’ পরিচয়ের প্রমাণ।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ঝরনার জলধারার সৌন্দর্য ও স্বাদ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই জলধারার সৌন্দর্য এবং অমিয় স্বাদ তুলনারহিত।

গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরে আঘাত হেনে কী সৃষ্টি করে বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?

পাহাড় থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে, যা সত্যিই মনোহর।

ঝরনার গান কবিতায় ঝরনার চরিত্রের মধ্যে কোন মানবিক গুণাবলি আরোপিত হয়েছে?

ঝরনাকে একজন স্বাধীন, নির্ভীক, চিরপ্রাণবন্ত ও সৌন্দর্যপ্রেমী সত্তা হিসেবে মানবীকরণ (personification) করা হয়েছে, যে পাহাড়ের ভয় উপেক্ষা করে নিজের পথে চলে।

ঝরনার নির্ভীকতা কোন পঙক্তিতে সবচেয়ে স্পষ্ট?

‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’ পঙক্তিতে পাহাড়ের ভয় দেখানো সত্ত্বেও ঝরনার নির্ভীক, অবিচল গতির কথা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

ঝরনা সাধারণ তৃষ্ণার্তদের প্রতি যে মনোভাব দেখায়, তা থেকে ঝরনার গান কবিতার কোন গভীরতর বার্তা পাওয়া যায়?

ঝরনা যেমন সাধারণ পিপাসার্তদের কুয়া বা পাঁকে পাঠিয়ে দেয় আর সৌন্দর্যপিয়াসীদের কাছে নিজেই ছুটে যায়, তেমনি প্রকৃতির সৌন্দর্যের গভীর উপলব্ধি নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন হৃদয়েই সম্ভব— এই ইঙ্গিতই কবিতায় নিহিত।

চঞ্চলা মেয়েটির চরিত্রের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনার চরিত্রের কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?

ঝরনাও যেমন পাহাড়ের ভয় উপেক্ষা করে নিজের চঞ্চল, আনন্দময় গতিতে অবিরাম ছুটে চলে, চঞ্চলা মেয়েটিও তেমনি কোনো বাধা বা শাসনের তোয়াক্কা না করে নিজের প্রাণশক্তি নিয়ে ছুটে বেড়ায়— উভয়ের মধ্যে একই অদম্য চঞ্চলতার প্রতিফলন।

ঝরনার গান কবিতায় ‘পুলক মোর সকল গায়’ পঙক্তিটি ঝরনার কোন অনুভূতি প্রকাশ করে?

এই পঙক্তিতে ঝরনার সমগ্র সত্তা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তীব্র আনন্দ ও রোমাঞ্চের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, যা কবিতার সুরকে শুরু থেকেই উচ্ছল করে তোলে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

ঝরনার গান কবিতাের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কেন ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে পরিচিত?

ছন্দ নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেওয়ার জন্য তিনি ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে পরিচিত হন।

ঝরনার গান কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

ঝরনাকে নিজেই কথক হিসেবে উপস্থাপনের কাব্যিক তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

ঝরনাকে সরাসরি কথক করে তোলার মধ্য দিয়ে কবি তার নিজস্ব অনুভূতি, চঞ্চলতা ও আনন্দ প্রথম পুরুষে প্রকাশ করার সুযোগ পান, যা পাঠকের কাছে ঝরনার জীবন্ত সত্তাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।

নির্জন পরিবেশে একাকী গান গাওয়ার বর্ণনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই বর্ণনা ঝরনার স্বতঃস্ফূর্ত, স্বনির্ভর সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করে— কারো উপস্থিতি বা প্রশংসার অপেক্ষা না করেই সে নিজের আনন্দে গান গায় ও তাল বাজায়, যা প্রকৃতির নিজস্ব সৃজনশীলতার প্রতীক।

পাহাড়ের ভয় দেখানো সত্ত্বেও ঝরনার নির্ভীক এগিয়ে চলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই বর্ণনা ঝরনার অদম্য সাহস ও বাধা অতিক্রম করার প্রাণশক্তি প্রকাশ করে— প্রতিকূলতা যতই থাকুক, ঝরনা তার নিজস্ব পথে এগিয়ে চলে, যা জীবনের প্রতি একটি ইতিবাচক দর্শনের প্রতীক।

প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের (পাখি, হরিণ, পাহাড়, পাথর) সমাহার থেকে কী বোঝা যায়— ব্যাখ্যা করো।

পাখি, প্রাণী, পাহাড়, পাথরের রঙিন ও বৈচিত্র্যময় উপস্থিতির মাধ্যমে কবি ঝরনার যাত্রাপথ ঘিরে একটি সজীব, সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জগতের চিত্র নির্মাণ করেছেন।

ঝরনা সৌন্দর্যপিয়াসীদের জন্যই ছোটে— এই ধারণার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই পঙক্তিতে বোঝানো হয়েছে সৌন্দর্যের প্রকৃত কদর শুধু ব্যবহারিক প্রয়োজনে (তৃষ্ণা মেটানো) নয়, বরং নান্দনিক হৃদয়েই সম্ভব— যারা সৌন্দর্য অনুভব করতে জানে, ঝরনা তাদের জন্যই প্রকৃত অর্থবহ।

ঝরনার গান কবিতায় ব্যবহৃত ধ্বনিব্যঞ্জনা ও ছন্দের ভূমিকা কী— ব্যাখ্যা করো।

কবিতার দ্রুত, চঞ্চল ছন্দ ও ধ্বনিময় শব্দচয়ন ঝরনার নিজস্ব গতি ও কলকল ধ্বনিকে অনুকরণ করে, যা কবিতাকে পড়ার সময় পাঠক যেন সরাসরি ঝরনার সুর অনুভব করতে পারেন।

ঝরনার গান কবিতার শেষে ঝরনার গতির পুনরাবৃত্তি কী বার্তা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

এই পুনরাবৃত্তি ঝরনার চিরন্তন, অবিরাম প্রকৃতি নির্দেশ করে— তার আনন্দময় যাত্রা কখনো থামে না, যা জীবনের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ ও প্রাণশক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।

কবিতাটি প্রকৃতির প্রতি কোন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি প্রকৃতিকে নিছক নিষ্প্রাণ দৃশ্য হিসেবে না দেখে একটি জীবন্ত, অনুভূতিশীল সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করে, যার নিজস্ব আনন্দ, সাহস ও সৌন্দর্যবোধ আছে— এই সজীব দৃষ্টিভঙ্গিই কবিতাকে বিশেষ করে তোলে।

সামগ্রিকভাবে কবিতাটি পাঠককে কী উপলব্ধি করতে সাহায্য করে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি পাঠককে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে যে প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষুদ্র উপাদানের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর প্রাণবন্ত সৌন্দর্য ও সংগীতময়তা, যা মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলেই উপলব্ধি করা সম্ভব।

কবিতাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি শেখায়, প্রকৃতির সূক্ষ্ম সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে হলে মন ও দৃষ্টি সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন— জীবনের বাধা-বিপত্তির মধ্যেও ঝরনার মতো নির্ভীক, আনন্দময় ও সৃষ্টিশীল থাকা যায়।

ঝরনার গান কবিতার শুরুতে ঝরনা নিজেকে কীভাবে বর্ণনা করে?

ঝরনা বলে, চপল পায়ে সে শুধু ধায়, শুধু পরীর গান গায়— তার সারা গায়ে পুলক, সারা প্রাণ বিভোল।

পাহাড় ঝরনাকে কীভাবে ভয় দেখায় বলে বর্ণিত হয়েছে?

ঝুম-পাহাড় ঘাড় ঝুঁকিয়ে ভয় দেখায়, চোখ পাকায়— কিন্তু ঝরনার কোনো শঙ্কা নেই, সে টগর-ফুল-নূপুর পায়ে সমানভাবে চলতে থাকে।

ঝরনার গতিবিধি কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?

ঝরনা ঝাঁপিয়ে যায়, লাফিয়ে ধায়, দুলিয়ে যায় তার অচল ঠাঁট, নাড়িয়ে-বাড়িয়ে যায়— এক প্রাণবন্ত গতিশীলতার চিত্র।

ঝরনা নিজের অঙ্গকে কীসের সাথে তুলনা করেছে?

ঝরনা বলে তার অঙ্গ জরির জাল আংরাখার (সোনালি জরিদার লম্বা পোশাক) মতো ঝলমলে।

কবি ঝরনার সৌন্দর্যপিয়াসাকে কোন পাখির সাথে তুলনা করেছেন?

কবি-কল্পনায় চকোর পাখি চাঁদের আলো পান করে; ঠিক তেমনি ঝরনাও মুগ্ধ-চোখের সন্ধানে ছুটে বেড়ায়— একটি সুন্দর উপমা।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে ঝরনার গান কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜