ঝরনার গান কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “ঝরনার গান” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য ঝরনার গান কবিতার নোট দেখুন।
ঝরনার গান কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ঝরনার গান কবিতার কবি কে?
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (জন্ম ১৮৮২, নিমতা, কলকাতা; মৃত্যু ১৯২২, মাত্র ৪০ বছর বয়সে)। ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে খ্যাত। প্রধান কাব্য: সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবীর; অনুবাদ-কাব্য: তীর্থরেণু, তীর্থ-সলিল, ফুলের ফসল।
ঝরনার গান কবিতার উৎস
বিদায়-আরতি কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- ঝরনা নিজেই কথক— চপল পায়ে ধাবমান, পুলকিত, বিভোর প্রাণ নিয়ে ছুটে বেড়ায়।
- নির্জন পরিবেশে (পাখির ডাক নেই, শুধু ঝিঁঝির ডাক) একাকী গান গায়, একাই তাল বাজায়।
- পাহাড় ভয় দেখালেও ঝরনা নির্ভীকভাবে এগিয়ে চলে, নিজের রহস্যময় উৎস নিয়ে কাব্যিক কল্পনা করে।
- বন-প্রকৃতির নানা উপাদান (কালসার হরিণ, শালিক-শুক পাখি, পাথরের রং পরিবর্তন) বর্ণনার মধ্য দিয়ে ঝরনার যাত্রাপথ চিত্রিত।
- ঝরনা সৌন্দর্যপিয়াসীদের জন্যই ছোটে, নিছক ব্যবহারিক তৃষ্ণার্তদের জন্য নয়— সৌন্দর্যের প্রকৃত কদর নান্দনিক হৃদয়েই সম্ভব।
- কবিতা শেষ হয় ঝরনার চিরন্তন, উচ্ছল, ঝলমলে গতির পুনরাবৃত্তিতে।
ঝরনার গান কবিতার মূল ভাব কী?
প্রকৃতির এক অবিরাম, আনন্দময়, নির্ভীক প্রাণশক্তির প্রতীক ঝরনা— তার ধ্বনিব্যঞ্জনাময় ভাষা ও ছন্দোময় গতিতে ফুটে ওঠে জীবনের চঞ্চলতা, সৌন্দর্যপ্রীতি ও প্রকৃতির প্রতি গভীর মুগ্ধতা।
ঝরনার গান কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বিভোল (বিভোর/বিহ্বল), বিজন (নির্জন), কূজন (পাখির ডাক), ঝুম-পাহাড় (নীরব পাহাড়), আংরাখা (লম্বা ঢিলা পোশাক), চকোর (চাঁদের আলো পানকারী কাল্পনিক পাখি), তরল শ্লোক (লঘু কবিতা), ফটিক জল (স্বচ্ছ জল/চাতক পাখির ডাক)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৮০
- খ. ১৮৮২
- গ. ১৮৮১
- ঘ. ১৮৮৩
উত্তর: খ। তিনি ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
২। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রাম
- খ. ময়মনসিংহ
- গ. ঢাকা
- ঘ. যশোর
উত্তর: ক। কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন?
- ক. এমএ
- খ. আইএসসি
- গ. মেট্রিক
- ঘ. বিএ
উত্তর: ঘ। তিনি বিএ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
৪। নিচের কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৌলিক কাব্য নয়?
- ক. তীর্থরেণু
- খ. সবিতা
- গ. হোমশিখা
- ঘ. বেণু ও বীণা
উত্তর: ক। তীর্থরেণু তাঁর একটি অনুবাদ-কাব্য; বাকি তিনটি তাঁর মৌলিক কাব্য।
৫। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কোন কোন ভাষার রচনা বাংলায় অনুবাদ করেন?
- ক. শুধু সংস্কৃত
- খ. শুধু ইংরেজি
- গ. শুধু হিন্দি
- ঘ. আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি, ফরাসি
উত্তর: ঘ। তিনি আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার অনেক উৎকৃষ্ট রচনা বাংলায় অনুবাদ করেন।
৬। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কেন ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে পরিচিত?
- ক. তিনি অনুবাদক ছিলেন বলে
- খ. তিনি সংগীত রচনা করতেন বলে
- গ. ছন্দ নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য
- ঘ. তিনি জাদু দেখাতেন বলে
উত্তর: গ। ছন্দ নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দেওয়ার জন্য তিনি ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে পরিচিত হন।
৭। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ৪০
- খ. ৪৫
- গ. ৩৫
- ঘ. ৩৮
উত্তর: ক। মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পরলোকগমন করেন।
ঝরনার গান কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৮। ‘ঝরনার গান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. বিদায়-আরতি
- খ. সবিতা
- গ. কুহু ও কেকা
- ঘ. অভ্র-আবীর
উত্তর: ক। কবিতাটি কবির বিদায় আরতি কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
৯। কবিতায় কে কথক (বক্তা) হিসেবে নিজের কথা বলছে?
- ক. একজন পর্বতারোহী
- খ. ঝরনা নিজেই
- গ. একজন পাখি
- ঘ. একজন পথিক
উত্তর: খ। কবিতায় ঝরনা নিজেই কথক, যে নিজের চঞ্চল গতি ও অনুভূতির কথা বর্ণনা করছে।
১০। কবিতাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
- ক. ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত ছন্দোময় সৌন্দর্য
- খ. রাজনৈতিক বক্তব্য
- গ. দীর্ঘ ঘটনাবহুল বর্ণনা
- ঘ. ঐতিহাসিক ঘটনা
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে অদ্ভুত ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে অপূর্ব ভাব— এটিই কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
১১। কবিতার শুরুতে ঝরনা নিজেকে কীভাবে বর্ণনা করে?
- ক. স্থির ও ধীর
- খ. ভীত ও সন্ত্রস্ত
- গ. চপল পায়ে ধাবমান, পরীর গান গাওয়া
- ঘ. দুঃখী ও ক্লান্ত
উত্তর: গ। ঝরনা বলে, চপল পায়ে সে শুধু ধায়, শুধু পরীর গান গায়— তার সারা গায়ে পুলক, সারা প্রাণ বিভোল।
১২। ঝরনা কোথায় তার চরণ (পদক্ষেপ) রাখে বলে বর্ণনা করে?
- ক. বালিতে
- খ. শিথিল শিলার (পাথরের) ওপর
- গ. ঘাসের ওপর
- ঘ. নরম মাটিতে
উত্তর: খ। ঝরনা বলে, শিথিল সব শিলার ওপর সে তার দোদুল (দোলায়মান) মন-চরণ রাখে।
১৩। দুপুরবেলা কীসের ডাক শোনা যায় বলে ঝরনা বর্ণনা করে?
- ক. পাখির ডাক
- খ. ঝিঁঝির ডাক
- গ. কোনো শব্দ শোনা যায় না
- ঘ. কুকুরের ডাক
উত্তর: খ। দুপুর-ভোর ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়, পথ ঝিমায়, বন ঘুমায়— এক নির্জন পরিবেশের বর্ণনা।
১৪। ঝরনার চারপাশের পরিবেশ কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. উৎসবমুখর
- খ. জনবহুল ও কোলাহলপূর্ণ
- গ. শহুরে
- ঘ. বিজন (নির্জন), পাখির ডাক নেই
উত্তর: ঘ। ঝরনা বলে, বিজন দেশ, কূজন (পাখির ডাক) নেই— সে নিজের পায়ে নিজেই তাল বাজায়, একলা গায়, একলা ধায়।
১৫। পাহাড় ঝরনাকে কীভাবে ভয় দেখায় বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. পাথর ছুঁড়ে
- খ. পথ আটকে
- গ. ঘাড় ঝুঁকিয়ে চোখ পাকিয়ে
- ঘ. গর্জন করে
উত্তর: গ। ঝুম-পাহাড় ঘাড় ঝুঁকিয়ে ভয় দেখায়, চোখ পাকায়— কিন্তু ঝরনার কোনো শঙ্কা নেই, সে টগর-ফুল-নূপুর পায়ে সমানভাবে চলতে থাকে।
১৬। ঝরনা নিজের উৎস (জন্ম) সম্পর্কে কী কল্পনা করে?
- ক. এটি মানুষের তৈরি
- খ. এটি একটি সাধারণ ঘটনা
- গ. গিরির হিম ললাট ঘামা বা পরীর হার ছেঁড়ার কল্পনা
- ঘ. এটি সমুদ্র থেকে এসেছে
উত্তর: গ। ঝরনা কাব্যিক কল্পনায় ভাবে, হয়তো কোনো পাহাড়ের বরফাচ্ছাদিত চূড়া ঘেমে তার জন্ম হয়েছে, অথবা কোনো নাচের উৎসবে কোনো পরীর হার ছিঁড়ে গিয়েছিল।
১৭। ঝরনার উৎস নিয়ে নিজের মনোভাব সম্পর্কে সে কী বলে?
- ক. সে এই রহস্য জানতে আগ্রহী
- খ. কোনো খেয়াল নেই, শুধু লীলায় ছুটে বেড়ায়
- গ. সে দুঃখিত বোধ করে
- ঘ. সে ভীত হয়ে পড়ে
উত্তর: খ। ঝরনা বলে, তার এই নিয়ে কোনো খেয়াল নেই, কোনো সংবাদই পায়নি— সে শুধু লীলাচঞ্চলভাবে ছুটে বেড়ায়, বুলবুলির সুর সাধতে সাধতে।
১৮। বন-ঝাউয়ের ঝোপে কোন প্রাণী চরে বেড়ায় বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. গরু
- খ. ছাগল
- গ. কালসার (এক ধরনের হরিণ/মৃগ) দল
- ঘ. হরিণ
উত্তর: গ। বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলোয় কালসারের (কৃষ্ণসার হরিণজাতীয় প্রাণী) দল চরে বেড়ায় বলে বর্ণিত হয়েছে।
১৯। পাথরের গায়ে কোন রং ধরে বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. সাদা
- খ. নীল
- গ. ডালচিনির রং
- ঘ. লাল
উত্তর: গ। শিং শিলার গায়ে ঘষা খেয়ে পাথরের গায়ে ডালচিনির রং ধরে বলে কবি বর্ণনা করেছেন।
২০। ঝরনার গতিবিধি কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. একঘেয়ে ও পুনরাবৃত্তিমূলক
- খ. ধীর ও স্থির
- গ. ঝাঁপিয়ে, লাফিয়ে, দুলিয়ে, নাড়িয়ে, বাড়িয়ে চলা
- ঘ. থেমে থেমে
উত্তর: গ। ঝরনা ঝাঁপিয়ে যায়, লাফিয়ে ধায়, দুলিয়ে যায় তার অচল ঠাঁট, নাড়িয়ে-বাড়িয়ে যায়— এক প্রাণবন্ত গতিশীলতার চিত্র।
২১। ‘ডালিম-ফাট’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. একটি পাখির ডাক
- খ. একটি ফলের নাম
- গ. একটি রঙের নাম
- ঘ. জলকণা ছিটকে ডালিম ফাটার মতো দৃশ্য
উত্তর: ঘ। টিলার গায়ে ছিটকে পড়া জলের কণাগুলোকে ডালিম ফাটার দৃশ্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে— একটি অপূর্ব দৃশ্যকল্প।
২২। শালিক ও শুক পাখি কোথায় মুখ বুলায় বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. পাথরে
- খ. গাছের পাতায়
- গ. জলে
- ঘ. থল-ঝাঁঝির মখমলে (শেওলাচ্ছাদিত জমিনে)
উত্তর: ঘ। শালিক ও শুক পাখি থল-ঝাঁঝির মখমলের মতো নরম শেওলাচ্ছাদিত জমিনে মুখ বুলায়।
২৩। ঝরনা নিজের অঙ্গকে কীসের সাথে তুলনা করেছে?
- ক. একটি পাথরের সাথে
- খ. একটি সাধারণ পোশাকের সাথে
- গ. একটি গাছের সাথে
- ঘ. জরির জাল আংরাখার সাথে, যা ঝলমলে
উত্তর: ঘ। ঝরনা বলে তার অঙ্গ জরির জাল আংরাখার (সোনালি জরিদার লম্বা পোশাক) মতো ঝলমলে।
২৪। নিচে নামার পথে ঝরনা কী শুনতে পায়?
- ক. কেউ ‘ফটিক জল’ বলে হাঁকছে
- খ. একটি কান্না
- গ. একটি ঘণ্টাধ্বনি
- ঘ. একটি গান
উত্তর: ক। ঝরনা নিচে নামতে নামতে শুনতে পায় কেউ ‘ফটিক জল’ বলে হাঁকছে— যা চাতক পাখির ডাকের অনুরূপ।
২৫। যার তৃষ্ণা শুধু কণ্ঠাগত (সাধারণ পিপাসা), তার জন্য ঝরনার পরামর্শ কী?
- ক. তারও ঝরনার জল পান করা উচিত
- খ. সে যেন পাঁক ছেঁকে জল নেয়, ঝরনার প্রয়োজন নেই
- গ. তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা দরকার
- ঘ. তার তৃষ্ণা মেটানো অসম্ভব
উত্তর: খ। ঝরনা বলে, যার তৃষ্ণা শুধু সাধারণ (কণ্ঠাগত), সে যেন পাঁক ছেঁকে জল নেয়— ঝরনার সৌন্দর্যের প্রয়োজন তার নেই।
২৬। যার শুধু জল সেচার প্রয়োজন, তাকে ঝরনা কোথায় যেতে বলে?
- ক. নদীতে
- খ. পাতকুয়ায়
- গ. সমুদ্রে
- ঘ. পুকুরে
উত্তর: খ। যার প্রয়োজন শুধু জল সেচা (ব্যবহারিক প্রয়োজন), সে যেন পাতকুয়ায় যায়।
২৭। ঝরনা প্রকৃতপক্ষে কাদের জন্য ছুটে যায় বলে বলে?
- ক. যারা তাকে ডাকে না
- খ. যাদের সাধারণ তৃষ্ণা আছে
- গ. যাদের সৌন্দর্যের তৃষ্ণা আছে
- ঘ. যারা তার কাছে আসে না
উত্তর: গ। ঝরনা বলে, যার সুন্দরের তৃষ্ণা আছে, তারই আশায় সে ছুটে যায়— অর্থাৎ ঝরনার প্রকৃত মূল্য বোঝে যে সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষ।
২৮। ঝরনার প্রকৃত অনুসন্ধান কী নিয়ে?
- ক. বিশ্রামের সন্ধান
- খ. সৌন্দর্যপ্রেমী, মুগ্ধ-চোখের মানুষের সন্ধান
- গ. জল সরবরাহের প্রয়োজন
- ঘ. খাদ্যের সন্ধান
উত্তর: খ। ঝরনা বলে, তার খোঁজে বিরাম নেই— সে সৌন্দর্যপ্রেমী, মুগ্ধ-চোখের মানুষের সন্ধানেই তার গান ও তরল শ্লোক বিলিয়ে বেড়ায়।
২৯। কবি ঝরনার সৌন্দর্যপিয়াসাকে কোন পাখির সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. চকোর পাখির সাথে, যে চাঁদের আলো পান করে
- খ. ময়ূরের সাথে
- গ. বুলবুলির সাথে
- ঘ. কোকিলের সাথে
উত্তর: ক। কবি-কল্পনায় চকোর পাখি চাঁদের আলো পান করে; ঠিক তেমনি ঝরনাও মুগ্ধ-চোখের সন্ধানে ছুটে বেড়ায়— একটি সুন্দর উপমা।
৩০। কবিতার শেষ স্তবকে ঝরনা নিজের গতিকে আবার কীভাবে বর্ণনা করে?
- ক. চপল পায়ে ধাবমান, পাথরের আঘাতে ঝিলিক দেওয়া
- খ. স্থির ও ক্লান্ত
- গ. দুঃখী ও নিরাশ
- ঘ. ভীত ও সংকুচিত
উত্তর: ক। কবিতার শেষে ঝরনা আবার বলে, চপল পায়ে সে শুধু ধায়, পাথরের আঘাতে (উপল-ঘায়) ঝিলিক দেয়, মন দোলায়, চারিদিকে ঝিলমিল করে।
৩১। ‘দিগ্বিদিক ঝিলমিলাই’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
- ক. শুধু একদিকে আলো ছড়ানো
- খ. স্থির থাকা
- গ. চারদিকে আলোকিত ও ঝলমল করা
- ঘ. অন্ধকার হয়ে যাওয়া
উত্তর: গ। এর অর্থ, ঝরনা চারদিকে (সকল দিকে) আলোকিত ও ঝলমল করে বেড়ায়— তার ব্যাপ্ত, প্রাণবন্ত উপস্থিতির প্রকাশ।
৩২। ‘বিভোল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. দুঃখী
- খ. অচেতন, বিভোর, বিহ্বল
- গ. সচেতন
- ঘ. রাগান্বিত
উত্তর: খ। বিভোল অর্থ অচেতন, বিভোর বা বিহ্বল অবস্থা।
৩৩। ‘কূজন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. জলের শব্দ
- খ. পাথরের শব্দ
- গ. বাতাসের শব্দ
- ঘ. পাখির ডাক
উত্তর: ঘ। কূজন অর্থ পাখির ডাক।
৩৪। ‘ঝুম-পাহাড়’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. নীরব, নির্জন পাহাড়
- খ. বরফাবৃত পাহাড়
- গ. আগ্নেয় পাহাড়
- ঘ. উঁচু পাহাড়
উত্তর: ক। ঝুম-পাহাড় অর্থ নীরব বা নির্জন পাহাড়।
৩৫। ‘আংরাখা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. লম্বা ও ঢিলা পোশাকবিশেষ
- খ. একটি বাদ্যযন্ত্র
- গ. একটি জুতার নাম
- ঘ. একটি অলংকার
উত্তর: ক। আংরাখা অর্থ লম্বা ও ঢিলা এক ধরনের পোশাক।
৩৬। ‘চকোর’ পাখি সম্পর্কে কবি-কল্পনায় কী বিশ্বাস করা হয়?
- ক. এটি চাঁদের আলো পান করে
- খ. এটি শুধু ফল খায়
- গ. এটি কখনো ওড়ে না
- ঘ. এটি রাতে ঘুমায় না
উত্তর: ক। কবি-কল্পনা অনুযায়ী চকোর পাখি চাঁদের আলো পান করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
৩৭। ‘তরল শ্লোক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- ক. ভারী, গম্ভীর কবিতা
- খ. লঘু বা হালকা চালের কবিতা
- গ. ধর্মীয় স্তোত্র
- ঘ. দীর্ঘ মহাকাব্য
উত্তর: খ। তরল শ্লোক অর্থ লঘু বা হালকা চালের কবিতা— ঝরনার চঞ্চল, প্রাণবন্ত সুরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
৩৮। ‘ফটিক জল’ শব্দের সাথে কোন পাখির ডাকের মিল আছে বলে টীকায় উল্লেখ আছে?
- ক. চাতক পাখির
- খ. ময়ূরের
- গ. বুলবুলির
- ঘ. কোকিলের
উত্তর: ক। টীকা অনুযায়ী চাতক পাখি ডাকলে তা ‘ফটিক জল’ শব্দের মতো শোনা যায়।
৩৯। কবিতায় ব্যবহৃত ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. এটি সহজ, সরল গদ্যভাষা
- খ. এটি বিদেশি ভাষার মিশ্রণ
- গ. এটি জটিল সংস্কৃত ভাষা
- ঘ. এটি অত্যন্ত ছন্দোময়, ধ্বন্যাত্মক ও সংগীতধর্মী
উত্তর: ঘ। কবিতাটির ভাষা অত্যন্ত ছন্দোময়, ধ্বন্যাত্মক শব্দ (চপল, চঞ্চল, ঝিলমিল, খিলখিলাই) ও অন্ত্যানুপ্রাসে ভরপুর— যা সত্যেন্দ্রনাথের ‘ছন্দের যাদুকর’ পরিচয়ের প্রমাণ।
**৪০। কবিতায় ব্যবহৃত ধ্বন্যাত্মক শব্দ ও পুনরাবৃত্তি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. কবিতায় ‘চপল’, ‘চঞ্চল’, ‘ঝিলমিল’-এর মতো ধ্বন্যাত্মক শব্দের ব্যাপক ব্যবহার আছে
ii. কবিতায় কোনো অন্ত্যমিল বা ছন্দমাধুর্য নেই
iii. কবিতাটি ঝরনার গতির সাথে সংগতিপূর্ণ দ্রুতলয়ের ছন্দে রচিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য কবিতার বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে, কিন্তু কবিতায় প্রকৃতপক্ষে সুস্পষ্ট অন্ত্যমিল ও ছন্দমাধুর্য বিদ্যমান, যা কবিকে ‘ছন্দের যাদুকর’ উপাধি এনে দিয়েছে— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৪১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ঝরনার জলধারার সৌন্দর্য ও স্বাদ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
- ক. এটি বিপজ্জনক
- খ. এটি তুলনারহিত
- গ. এটি সহজলভ্য নয়
- ঘ. এটি সাধারণ মানের
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই জলধারার সৌন্দর্য এবং অমিয় স্বাদ তুলনারহিত।
৪২। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরে আঘাত হেনে কী সৃষ্টি করে বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?
- ক. ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি
- খ. বিপজ্জনক পরিস্থিতি
- গ. অপূর্ব সৌন্দর্য, চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়া
- ঘ. শব্দদূষণ
উত্তর: গ। পাহাড় থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে, যা সত্যিই মনোহর।
৪৩। কবিতায় ঝরনার চরিত্রের মধ্যে কোন মানবিক গুণাবলি আরোপিত হয়েছে?
- ক. আলস্য ও নিষ্ক্রিয়তা
- খ. লোভ ও স্বার্থপরতা
- গ. ভীরুতা ও দুর্বলতা
- ঘ. স্বাধীনতা, নির্ভীকতা, আনন্দময়তা ও সৌন্দর্যপ্রীতি
উত্তর: ঘ। ঝরনাকে একজন স্বাধীন, নির্ভীক, চিরপ্রাণবন্ত ও সৌন্দর্যপ্রেমী সত্তা হিসেবে মানবীকরণ (personification) করা হয়েছে, যে পাহাড়ের ভয় উপেক্ষা করে নিজের পথে চলে।
৪৪। ঝরনার নির্ভীকতা কোন পঙক্তিতে সবচেয়ে স্পষ্ট?
- ক. ‘চপল পায় কেবল ধাই’
- খ. ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’
- গ. ‘তার খোঁজেই বিরাম নেই’
- ঘ. ‘বিজন দেশ, কূজন নাই’
উত্তর: খ। ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’ পঙক্তিতে পাহাড়ের ভয় দেখানো সত্ত্বেও ঝরনার নির্ভীক, অবিচল গতির কথা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
৪৫। ঝরনা সাধারণ তৃষ্ণার্তদের প্রতি যে মনোভাব দেখায়, তা থেকে কবিতার কোন গভীরতর বার্তা পাওয়া যায়?
- ক. ঝরনার জল বিষাক্ত
- খ. ঝরনা স্বার্থপর ও অহংকারী
- গ. সৌন্দর্যের কদর তারাই করে যাদের নান্দনিক তৃষ্ণা আছে
- ঘ. সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার নেই
উত্তর: গ। ঝরনা যেমন সাধারণ পিপাসার্তদের কুয়া বা পাঁকে পাঠিয়ে দেয় আর সৌন্দর্যপিয়াসীদের কাছে নিজেই ছুটে যায়, তেমনি প্রকৃতির সৌন্দর্যের গভীর উপলব্ধি নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন হৃদয়েই সম্ভব— এই ইঙ্গিতই কবিতায় নিহিত।
চঞ্চলা মেয়েটি সবসময় হাসিখুশি, দৌড়ে বেড়ায়, কারো বাধা বা শাসনের তোয়াক্কা করে না। তার চোখেমুখে সবসময় এক অদম্য প্রাণশক্তি খেলা করে, যেন কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারে না।
৪৬। চঞ্চলা মেয়েটির চরিত্রের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনার চরিত্রের কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
- ক. তার দুঃখবোধ
- খ. তার ক্লান্তি
- গ. তার নীরবতা
- ঘ. তার চঞ্চলতা, নির্ভীকতা ও অদম্য প্রাণশক্তি
উত্তর: ঘ। ঝরনাও যেমন পাহাড়ের ভয় উপেক্ষা করে নিজের চঞ্চল, আনন্দময় গতিতে অবিরাম ছুটে চলে, চঞ্চলা মেয়েটিও তেমনি কোনো বাধা বা শাসনের তোয়াক্কা না করে নিজের প্রাণশক্তি নিয়ে ছুটে বেড়ায়— উভয়ের মধ্যে একই অদম্য চঞ্চলতার প্রতিফলন।
৪৭। এই সাদৃশ্য থেকে কবিতার কোন সর্বজনীন বার্তা পাওয়া যায়?
- ক. জীবনীশক্তি ও আনন্দময়তা প্রকৃতি ও মানুষ উভয়েরই সৌন্দর্যের উৎস
- খ. মানুষের চঞ্চলতা অস্বাভাবিক
- গ. চঞ্চলতা সবসময় ক্ষতিকর
- ঘ. শুধু প্রকৃতিই সুন্দর হতে পারে
উত্তর: ক। ঝরনার চঞ্চল, নির্ভীক জীবনীশক্তি যেমন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য, তেমনি মানুষের মধ্যেও এই একই ধরনের নির্ভীক প্রাণশক্তি সৌন্দর্য ও মুগ্ধতার উৎস হতে পারে— এটাই কবিতার সর্বজনীন বার্তা।
৪৮। কবিতায় ‘পুলক মোর সকল গায়’ পঙক্তিটি ঝরনার কোন অনুভূতি প্রকাশ করে?
- ক. ভয় ও উদ্বেগ
- খ. রাগ ও ক্ষোভ
- গ. আনন্দ ও রোমাঞ্চ, সমগ্র সত্তায় ছড়িয়ে থাকা
- ঘ. ক্লান্তি ও অবসাদ
উত্তর: গ। এই পঙক্তিতে ঝরনার সমগ্র সত্তা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তীব্র আনন্দ ও রোমাঞ্চের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, যা কবিতার সুরকে শুরু থেকেই উচ্ছল করে তোলে।
৪৯। কবিতায় প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের (পাখি, প্রাণী, পাহাড়, পাথর) সমাহার থেকে কী বোঝা যায়?
- ক. ঝরনার যাত্রাপথ ঘিরে সজীব প্রাকৃতিক চিত্র নির্মাণ
- খ. এই উপাদানগুলোর কোনো তাৎপর্য নেই
- গ. কবিতাটি শুধু বৈজ্ঞানিক বর্ণনা
- ঘ. কবি শুধু ঝরনার কথাই বলতে চেয়েছেন
উত্তর: ক। পাখি, প্রাণী, পাহাড়, পাথরের রঙিন ও বৈচিত্র্যময় উপস্থিতির মাধ্যমে কবি ঝরনার যাত্রাপথ ঘিরে একটি সজীব, সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জগতের চিত্র নির্মাণ করেছেন।
৫০। সামগ্রিকভাবে কবিতাটি পাঠককে কী উপলব্ধি করতে সাহায্য করে?
- ক. প্রকৃতি মানুষের নিয়ন্ত্রণের অধীন হওয়া উচিত
- খ. প্রকৃতির মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রাণবন্ত সৌন্দর্য
- গ. প্রকৃতি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই
- ঘ. প্রকৃতি ভীতিকর ও প্রতিকূল
উত্তর: খ। কবিতাটি পাঠককে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে যে, প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষুদ্র উপাদানের (ঝরনার প্রতিটি লাফ, প্রতিটি ধ্বনি) মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর প্রাণবন্ত সৌন্দর্য ও সংগীতময়তা, যা মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
