জীবন বিনিময় কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “জীবন বিনিময়” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জীবন বিনিময় কবিতার MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
গোলাম মোস্তফা ও জীবন বিনিময় কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
গোলাম মোস্তফা কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
গোলাম মোস্তফার জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান যশোর জেলার শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রাম।
গোলাম মোস্তফা কোন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন?
তিনি কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।
কর্মজীবনে গোলাম মোস্তফা কোন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন?
তিনি বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
গোলাম মোস্তফা তাঁর কাব্যচর্চায় কোন ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা লাভ করেন?
তিনি ইসলামি ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
গোলাম মোস্তফার একটি জীবনীগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি জীবনীগ্রন্থ বিশ্বনবী।
গোলাম মোস্তফা কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
জীবন বিনিময় কবিতার শেষে বাবরের মৃত্যু সম্পর্কে কবি কী মন্তব্য করেন?
এটি প্রকৃত মৃত্যু নয়, বাবর অমর হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।
নিচের কোনটি গোলাম মোস্তফার কাব্যগ্রন্থ নয়?
সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি গোলাম মোস্তফার কাব্যগ্রন্থ।
গোলাম মোস্তফার অনূদিত গ্রন্থ কোনটি?
কালামে ইকবাল, আল কুরআন, শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া তাঁর অনূদিত গ্রন্থ।
জীবন বিনিময় কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
এটি বুলবুলিস্তান কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
জীবন বিনিময় কবিতায় কোন মোগল সম্রাট ও তাঁর পুত্রের কথা বলা হয়েছে?
মোগল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুনের কথা বলা হয়েছে।
জীবন বিনিময় কবিতার শুরুতে বাবরের অবস্থা কেমন বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
বাবর কাঁদছেন, তাঁর চোখে ঘুম নেই।
একজন দরবেশ বাবরকে কী পরামর্শ দেন?
নিজের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করলে আল্লাহ পুত্রের প্রাণ বাঁচাবেন এই পরামর্শ দেন।
বাবর নিজের শ্রেষ্ঠ ধন কী বলে উপলব্ধি করেন?
নিজের প্রাণকেই তিনি শ্রেষ্ঠ ধন বলে উপলব্ধি করেন।
বাবর কী প্রার্থনা করেন?
নিজের প্রাণের বিনিময়ে পুত্রের প্রাণ ভিক্ষা চান।
হঠাৎ বাবর কী বলে চিৎকার করে ওঠেন?
‘নাহি ভয় নাহি ভয়’ বলে চিৎকার করে ওঠেন।
প্রার্থনার পর কার শরীরে রোগ-লক্ষণ দেখা দেয়?
বাবরের শরীরে রোগ-লক্ষণ দেখা দেয়।
হুমায়ুনের অবস্থার কী পরিবর্তন হয়?
হুমায়ুন ধীরে ধীরে নতুন জীবনে বাঁচিয়া ওঠেন।
জীবন বিনিময় কবিতার শেষ পঙক্তিতে কীসের কাছে মরণের পরাজয় ঘোষিত হয়েছে?
পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় ঘোষিত হয়েছে।
‘ভিষকবৃন্দ’ শব্দের অর্থ কী?
ভিষকবৃন্দ অর্থ চিকিৎসকগণ।
জীবন বিনিময় কবিতার মূল ভাব কী?
সন্তানের জন্য পিতার অসীম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ, যা মৃত্যুকেও পরাজিত করতে পারে।
কবিতাটির প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয়— এই বিষয়ই কবিতার প্রতিপাদ্য।
হুমায়ুনের চারপাশে কী ঘনিয়ে আসছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে?
হুমায়ুনের চারিধারে মরণ-অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
রাজ্যের কারা এসে হুমায়ুনের চিকিৎসায় নিয়োজিত হয়?
রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশ সবাই এসে চিকিৎসা-ব্যবস্থা দিতে থাকেন, সেবাযত্নে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি।
চিকিৎসার পরও হুমায়ুনের রোগের কী অবস্থা হয়?
যত দিন যায়, দুর্ভোগ ততই বাড়তে থাকে— হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ যেন অস্তগামী সূর্যের মতো নিভে আসছিল।
বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে চিকিৎসকদের কাছে কী জানতে চান?
বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন, সত্যি করে বলতে, এই রোগ থেকে হুমায়ুনের মুক্তি মিলবে কিনা।
চিকিৎসকরা এই প্রশ্নের কী উত্তর দেন?
চিকিৎসকরা নতমস্তকে নীরব থাকেন, কোনো কথা বলেন না— তাঁদের এই নিষ্ঠুর নীরবতাই যেন মুখর হয়ে বাবরের বুকে শেলের মতো বিঁধে যায়।
দরবেশের কথা শুনে বাবরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
বাবর শঙ্কাহীনভাবে বলেন, তাই যদি হয়, তিনি সেই কোরবানি দিতে প্রস্তুত, তিনি জানেন তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন কী।
প্রার্থনার সময় বাবরের অবস্থা কেমন ছিল?
তাঁর প্রার্থনারত দুই হাত জোড়া ছিল, চোখে ছিল অশ্রুজল।
রোগ-লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর বাবরের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
বাবর হৃষ্টচিত্তে (আনন্দিত মনে) মরণের শয্যা গ্রহণ করেন, কারণ তিনি জানতেন এর বিনিময়ে তাঁর পুত্র বাঁচবে।
জীবন বিনিময় কবিতায় ‘ধর্ম’ ও ‘পিতৃস্নেহ’-এর মধ্যে কোন সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে?
কবিতায় প্রার্থনা ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই বাবরের পিতৃস্নেহের গভীরতা প্রকাশিত হয়েছে— ধর্মীয় বিশ্বাস এখানে পিতৃত্বের আত্মত্যাগকে প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সেলিনা বেগমের প্রার্থনার সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাবরের প্রার্থনার কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
বাবর যেমন পুত্র হুমায়ুনের জীবন রক্ষার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিতে প্রার্থনা করেছিলেন, সেলিনা বেগমও তেমনি মেয়ের সুস্থতার জন্য নিজের জীবনের বিনিময়ে প্রার্থনা করছেন— সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম পিতৃ-মাতৃস্নেহের এই আত্মত্যাগী রূপই উভয়ের মিল।
এ ধরনের আত্মত্যাগমূলক প্রার্থনা থেকে অভিভাবক-সন্তান সম্পর্কের কোন সর্বজনীন সত্য প্রকাশ পায়?
এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, প্রকৃত পিতা-মাতার ভালোবাসা সীমাহীন ও নিঃস্বার্থ— সন্তানের কল্যাণের জন্য তাঁরা নিজের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকেন, যা কালে-কালে, সমাজ-নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন মানবিক সত্য।
কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত?
কবিতাটি মিত্রাক্ষর (অন্ত্যমিলযুক্ত) ছন্দে রচিত, প্রতিটি স্তবক তিন পঙক্তির (ত্রিপদী) বিন্যাসে সাজানো, যা আখ্যানকাব্যের জন্য উপযোগী গতিময়তা তৈরি করে।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
জীবন বিনিময় কবিতাের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
বাবরের মৃত্যুকে ‘অমরত্ব লাভ’ বলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
কবি বলতে চান, আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত মৃত্যু সাধারণ মৃত্যু নয়— এটি এক মহৎ আত্মদানের ফল, যা বাবরকে চিরকালের জন্য মানুষের স্মৃতিতে অমর করে রাখে।
জীবন বিনিময় কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
চিকিৎসকদের নীরবতা বাবরের বুকে শেলের মতো বেঁধার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
চিকিৎসকদের নতমস্তকে নীরবতা বাবরকে বুঝিয়ে দেয় যে তাঁর পুত্রের সুস্থ হওয়ার আশা ক্ষীণ— এই নীরবতাই কথার চেয়ে বেশি বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে, যা একজন অসহায় পিতার হৃদয়ে গভীর আঘাত হানে।
দরবেশের পরামর্শের পেছনে কোন দার্শনিক ধারণা কাজ করে— ব্যাখ্যা করো।
দরবেশের পরামর্শে ইঙ্গিত থাকে যে ত্যাগ ও আত্মবিসর্জনের মাধ্যমেই মানুষ ঐশ্বরিক করুণা লাভ করতে পারে— নিঃস্বার্থ কোরবানিই সবচেয়ে বড় প্রার্থনা, এই বিশ্বাসই এখানে প্রতিফলিত।
বাবরের নিজের প্রাণকে শ্রেষ্ঠ ধন হিসেবে চেনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই উপলব্ধি দেখায় বাবর বুঝতে পেরেছিলেন যে জাগতিক সম্পদের চেয়ে নিজের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু— এবং সেই সর্বোচ্চ মূল্যবান বস্তুই তিনি পুত্রের জন্য উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হন।
প্রার্থনার সময়ের নীরব, রাত্রিকালীন পরিবেশের বর্ণনা কী প্রভাব তৈরি করে— ব্যাখ্যা করো।
স্তব্ধ-নীরব গৃহতল ও গভীর রজনীর বর্ণনা প্রার্থনার পবিত্রতা ও গাম্ভীর্যকে আরও তীব্র করে তোলে, যা পাঠকের মনে এক গভীর, আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
বাবরের আকস্মিক আনন্দময় চিৎকারের নাটকীয় তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও নিরাশার পর এই আকস্মিক আনন্দ প্রার্থনার কবুল হওয়ার আশ্বাস প্রকাশ করে— নাটকীয় এই মোড় কবিতায় আশা-নিরাশার দোলাচলকে চরমে নিয়ে যায়।
কবিতাটি পিতৃস্নেহ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সংযোগ কীভাবে দেখায়— ব্যাখ্যা করো।
কবিতায় প্রার্থনা ও বিশ্বাসের মাধ্যমেই বাবরের পিতৃস্নেহের গভীরতা প্রকাশিত হয়েছে— ধর্মীয় বিশ্বাস এখানে পিতৃত্বের আত্মত্যাগকে প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
জীবন বিনিময় কবিতার নাটকীয় কাঠামো (আশা-নিরাশার দোলাচল) কী প্রভাব ফেলে— ব্যাখ্যা করো।
হতাশা থেকে আশা, আশা থেকে আত্মত্যাগ, আত্মত্যাগ থেকে বিজয়ের এই নাটকীয় উত্থান-পতন কবিতার আবেগময় তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং পাঠককে বাবরের মানসিক যন্ত্রণা ও পরিণত সিদ্ধান্তের সাথে গভীরভাবে একাত্ম করে।
কবিতাটি কেন আজও পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করে— ব্যাখ্যা করো।
যুগ-যুগান্তরে পিতামাতার সন্তানের প্রতি যে সীমাহীন, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মানুষ প্রত্যক্ষ করে, কবিতাটি তারই এক চিরন্তন, সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব করে বলেই তা আজও পাঠকের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে।
কবিতাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি শেখায়, প্রকৃত পিতৃস্নেহ ও ভালোবাসা কোনো সীমা মানে না— সন্তানের কল্যাণের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করাই মহৎ পিতৃত্বের পরিচয়, যা মৃত্যুকেও পরাজিত করতে পারে।
বাবর আনন্দে কী করতে থাকেন পুত্রের প্রার্থনার সাড়া পেয়ে?
বাবর পুলকে পুত্রের চারিপাশে ঘুরতে থাকেন, তাঁর নিরাশ হৃদয় যেন আশার দৃপ্ত জয়োল্লাসে ভরে ওঠে।
বাবরের আনন্দকে কবি কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
কবি বাবরের আনন্দকে তিমির রাতের তোরণে ঊষার পূর্বাভাসের সাথে তুলনা করেছেন— অন্ধকার রাতের অবসান ঘোষণা করে ভোরের আগমনের মতোই এই আনন্দ।
‘সবচেয়ে যে শ্রেষ্ঠ ধন’ বাক্যাংশটি কী নির্দেশ করে?
টীকা অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের কাছে নিজের জীবনই তার শ্রেষ্ঠ ধন হিসেবে বিবেচিত।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি কী প্রকাশ করে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি সন্তানের প্রতি পিতার অপরিসীম ভালোবাসা ও গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে জীবন বিনিময় কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
