● Note

জুতা-আবিষ্কার কবিতার নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

জুতা-আবিষ্কার কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “জুতা-আবিষ্কার” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য জুতা-আবিষ্কার কবিতার MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জুতা-আবিষ্কার কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

তিনি ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয়?

চিন্তাতরঙ্গিণী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ।

ধুলার সমস্যা সমাধানে দ্বিতীয় পদক্ষেপ কী নেওয়া হয়?

একুশ লাখ ভিস্তি মশক (চামড়ার থলি) কাঁখে নিয়ে পানি ছিটাতে ছুটে যায়।

জুতা-আবিষ্কার কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

এটি কল্পনা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

জুতা-আবিষ্কার কবিতার রাজার নাম কী?

কবিতার রাজার নাম হবু (হুবু)।

রাজার মন্ত্রীর নাম কী?

রাজার মন্ত্রীর নাম গোবুরায়।

রাজার আজব বায়না কী ছিল?

রাজার পায়ে ধুলা লাগবে না, এমন তাৎক্ষণিক সমাধান চাই এই বায়না ছিল।

পণ্ডিতদের প্রথম আপত্তি কী ছিল?

মাটি না পেলে ফসল হবে কীভাবে, এই আপত্তি ছিল।

প্রথম প্রস্তাবিত সমাধান কী ছিল?

ঝাঁটা দিয়ে ধুলা ঝাড়ার প্রস্তাব ছিল।

প্রথম সমাধানের ফলাফল কী হয়?

এতে গোটা রাজ্য ধুলায় ঢেকে যায়।

দ্বিতীয় প্রস্তাবিত সমাধান কী ছিল?

পানি ছিটানোর প্রস্তাব ছিল।

দ্বিতীয় সমাধানের ফলাফল কী হয়?

জলাশয় শুকিয়ে কাদায় পরিণত হয়ে মহামারি দেখা দেয়।

তৃতীয় প্রস্তাব কী ছিল?

মাদুর/ফরাশ দিয়ে পৃথিবী ঢাকা বা রাজাকে ঘরবন্দি রাখার প্রস্তাব ছিল।

চতুর্থ প্রস্তাব কী ছিল?

চামড়া দিয়ে সমগ্র পৃথিবী মুড়িয়ে ফেলার প্রস্তাব ছিল।

চতুর্থ প্রস্তাব ব্যর্থ হয় কেন?

উপযুক্ত চামার বা চামড়া পাওয়া যায় না বলে।

সমস্যার প্রকৃত সমাধান কে দেন?

বৃদ্ধ চর্মকার-কুলপতি প্রকৃত সমাধান দেন।

চর্মকারের সমাধান কী ছিল?

রাজার নিজের পা দুটি চামড়ায় ঢেকে দেওয়া— এভাবেই জুতার আবিষ্কার হয়।

‘ভিস্তি’ শব্দের অর্থ কী?

ভিস্তি অর্থ জলবাহক।

‘ফরাশ’ শব্দের অর্থ কী?

ফরাশ অর্থ কার্পেট বা মাদুর।

জুতা-আবিষ্কার কবিতার মূল ভাব কী?

সাধারণ সমস্যার সহজ সমাধান জটিল করে তোলার প্রবণতার প্রতি ব্যঙ্গ এবং প্রান্তিক মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা।

জুতা-আবিষ্কার কবিতার মূল উপজীব্য বিষয় কী?

ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য।

কবিতাটির মধ্য দিয়ে লেখক কোন শিক্ষা দিতে চেয়েছেন?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সাধারণ সমস্যার সমাধান সাধারণ বুদ্ধিতেই করতে হয়; সাধারণের দ্বারাও অসাধারণ কৃত্য সম্পাদিত হতে পারে— এই শিক্ষাই কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে।

রাজা সারারাত কী নিয়ে ভেবেছিলেন?

রাজা সারারাত ভেবেছেন, শুধু মাটিতে পা ফেলা মাত্রই কেন মলিন ধুলা পায়ে লাগে।

রাজা মন্ত্রীদের কী অভিযোগ করেন?

রাজা অভিযোগ করেন, মন্ত্রীরা শুধু বেতন বাঁটেন, রাজার কাজে তাদের কোনো দৃষ্টি নেই।

রাজার কথা শুনে গোবুর প্রতিক্রিয়া কী হয়?

শুনে গোবু ভাবিয়া হলো খুন (হতবাক), দারুণ ত্রাসে তার সারা শরীরে ঘাম বইতে থাকে।

রাজার আদেশে রাজ্যে কী অবস্থা তৈরি হয়?

রাজার আদেশে সারা রাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে— পণ্ডিতের মুখ চুন হয়, পাত্রদের রাতে ঘুম হয় না, রান্নাঘরে হাঁড়ি চড়ে না, কান্নাকাটি শুরু হয়।

গোবু কাঁদতে কাঁদতে রাজাকে কী প্রশ্ন করে?

গোবু কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞেস করে, পায়ে ধুলা না লাগলে পদধূলি (রাজার প্রতি শ্রদ্ধাসূচক পায়ের ধুলি) পাওয়ার উপায় কী।

রাজার নির্দেশ পালনে মন্ত্রী কাদের ডেকে আনেন?

মন্ত্রী যত্নভরে দেশে-বিদেশের সকল জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত ও যন্ত্রীদের (প্রকৌশলী) ডেকে আনেন।

পণ্ডিতেরা কতগুলো নস্যের পিপে শেষ করেন চিন্তা করতে গিয়ে?

গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে তারা উনিশ পিপে নস্য শেষ করে ফেলেন।

পণ্ডিতেরা প্রথমে কী আপত্তি তোলেন?

পণ্ডিতেরা বলেন, মাটি গেলে ধরায় তবে কোথায় শস্য হবে— অর্থাৎ মাটি সরানো অবাস্তব।

ঝাঁটা দিয়ে ধুলা ঝাড়ার ফলে কী হয়?

ঝাঁটার ধুলায় রাজার মুখ-বক্ষ ভরে যায়, সূর্য ঢাকা পড়ে, মানুষ কাশতে কাশতে মারা যায়, নগর ধুলায় অদৃশ্য হয়ে যায়।

এই বিপর্যয় দেখে রাজা কী মন্তব্য করেন?

রাজা বলেন, ধুলা দূর করতে গিয়ে জগৎ উলটে ধুলায় ভরপুর হয়ে গেছে— একটি তীব্র ব্যঙ্গোক্তি।

পানি ছিটানোর ফলে কী বিপর্যয় ঘটে?

এত পানি ব্যবহারে পুকুর-বিলে শুধু কাদা অবশিষ্ট থাকে, নদীর জল শুকিয়ে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, জলের প্রাণী জল ছাড়া মারা যায়, ডাঙার প্রাণী সাঁতারের চেষ্টা করে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

এই বিপর্যয়ের ফলে দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যের কী অবস্থা হয়?

কাদার তলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায় এবং সর্দিজ্বরের মহামারিতে দেশ প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।

আরেকজন কী পরামর্শ দেন, যাতে ধুলা পায়ে না লাগে?

কেউ পরামর্শ দেয়, রাজাকে ঘরে বন্ধ রাখতে হবে, যাতে কোথাও কোনো রন্ধ্র (ছিদ্র) না থাকে— তাহলে ধুলার মাঝে পা না দিলে পায়ে ধুলা লাগবে না।

রাজা এই প্রস্তাবে কী আপত্তি জানান?

রাজা বলেন, মাটির (ধুলার) ভয়ে দিবারাত্রি ঘরে বন্ধ থাকলে রাজ্যই মাটি (বিনষ্ট) হয়ে যাবে— অর্থাৎ শাসনকার্য ব্যাহত হবে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে কী সমস্যা দেখা দেয়?

রাজার দূতেরা সর্বত্র খুঁজেও যোগ্যমতো চামার বা উপযুক্ত বিপুল পরিমাণ চামড়া কোথাও খুঁজে পান না।

শেষ পর্যন্ত সমাধান কে দেন?

একজন বৃদ্ধ চর্মকার-কুলপতি ঈষৎ হেসে এসে সহজ সমাধানের কথা বলেন।

বৃদ্ধ চর্মকার কী সমাধান প্রস্তাব করেন?

বৃদ্ধ চর্মকার বলেন, শুধু নিজের দুটি পা ঢেকে ফেললেই হয়, তাহলে আর সমগ্র ধরণী ঢাকার প্রয়োজন নেই।

মন্ত্রী প্রথমে চর্মকারের প্রতি কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

লজ্জা ও অপ্রস্তুত হয়ে মন্ত্রী প্রথমে বলেন, তাকে শূলে বিঁধিয়ে কারাগারে বন্ধ করে রাখা হোক— একটি নির্মম ও হাস্যকর প্রতিক্রিয়া।

শেষ পর্যন্ত কী ঘটে?

বৃদ্ধ রাজার পায়ের কাছে বসে চর্ম-আবরণে তাঁর পা ঢেকে দেন— সেদিন থেকেই জুতা পরার প্রচলন শুরু হয়, এভাবেই ‘জুতা আবিষ্কার’ হয়।

মন্ত্রী শেষে কী বলে নিজের অপ্রস্তুত ভাব ঢাকার চেষ্টা করেন?

মন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে বলেন, এই বুদ্ধি তারও মনে ছিল, শুধু বেটা (চামার) কীভাবে সেটা জানতে পারল তা তিনি ভেবে অবাক হন— এক তীব্র শ্লেষাত্মক পরিসমাপ্তি।

জুতা-আবিষ্কার কবিতার শেষে ‘গোবু বাঁচিল, রক্ষা পেল ধরা’— এই পঙক্তির অর্থ কী?

জুতা আবিষ্কারের মাধ্যমে মন্ত্রী গোবু রাজরোষ থেকে বাঁচেন এবং পৃথিবীও (ধরা) অর্থহীন ধ্বংসাত্মক প্রকল্পগুলো (মাদুরে ঢাকা, চামড়ায় মোড়া ইত্যাদি) থেকে রক্ষা পায়।

কবিতাটি মূলত কোন সামাজিক বাস্তবতার প্রতি ব্যঙ্গ করে?

কবিতাটি রাজা-মন্ত্রী-পণ্ডিতদের জটিল, অবাস্তব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ক্ষমতাবানদের খামখেয়ালি আদেশের প্রতি তীব্র ব্যঙ্গ করে।

কবিতাটি থেকে সমাজে ‘পদমর্যাদা’ সম্পর্কে কোন শিক্ষা পাওয়া যায়?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি প্রমাণ করে, সমস্যা সমাধানে পদস্থ জনই যে অনিবার্য তা নয়, সাধারণের দ্বারাও অসাধারণ কৃত্য সম্পাদিত হতে পারে।

উদ্দীপকের তরুণ উকিলের সাথে ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

তরুণ উকিল যেমন জটিল আইনি সমস্যার একটি সহজ, বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান দিয়েছিলেন, বৃদ্ধ চর্মকারও তেমনি জটিল রাজকীয় সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান খুঁজে দিয়েছিলেন— উভয়ের বুদ্ধিমত্তার ধরন একই রকম।

সোহেলের ভূমিকা জুতা-আবিষ্কার কবিতার কোন চরিত্রের সাথে তুলনীয়?

সোহেল যেমন প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাহীন অবস্থায় থেকেও দ্রুত ব্যবহারিক সমাধান দিয়েছে, বৃদ্ধ চর্মকারও তেমনি সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থেকে রাজকীয় সমস্যার সহজ সমাধান দিয়েছিলেন— উপেক্ষিতদের হাতেই গুরুত্বপূর্ণ সমাধান আসতে পারে, এটাই উভয়ের সাদৃশ্য।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

জুতা-আবিষ্কার কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

রাজার আজব বায়নার মধ্য দিয়ে কবি কী ব্যঙ্গ করেছেন— ব্যাখ্যা করো।

রাজার অবাস্তব ও খামখেয়ালি দাবির মাধ্যমে কবি ক্ষমতাবানদের অযৌক্তিক আবদার এবং তা পূরণ করতে গিয়ে অধস্তনদের বিড়ম্বনার চিত্র ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন।

পণ্ডিতদের প্রথম আপত্তি রাজার কাছে অগ্রাহ্য হওয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এটি দেখায় ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা প্রায়ই যুক্তিসংগত আপত্তি বা বাস্তবতা উপেক্ষা করে নিজেদের খামখেয়ালি দাবিতে অটল থাকেন, যার ফলে আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়।

একের পর এক ব্যর্থ সমাধানের (ঝাঁটা, পানি, ফরাশ, চামড়া) ধারাবাহিকতা কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।

এই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা আমলাতান্ত্রিক ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ সমাধানের অসারতা তুলে ধরে— জটিল, বড় মাপের সমাধান খোঁজার প্রবণতা প্রায়ই মূল সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।

চর্মকারের সমাধান কেন এত সহজ অথচ কার্যকর ছিল— ব্যাখ্যা করো।

চর্মকার সমস্যাটিকে সরাসরি ও ব্যবহারিক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন— সমগ্র পৃথিবী পরিবর্তনের বদলে শুধু রাজার পা ঢেকে দেওয়াই যথেষ্ট, এই সহজ উপলব্ধিই তাঁর সমাধানকে কার্যকর করে তোলে।

চর্মকার-কুলপতির চরিত্রের মাধ্যমে কবি কোন সামাজিক বার্তা দেন— ব্যাখ্যা করো।

সমাজের প্রান্তিক, অবহেলিত পেশার মানুষও অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হতে পারে— পণ্ডিত বা ক্ষমতাবানদের চেয়ে তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান কখনো কখনো অনেক বেশি কার্যকর, এই বার্তাই কবি দেন।

কবিতাটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার প্রতি কী সমালোচনা করে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি দেখায় কীভাবে সহজ সমস্যাকে অতিরিক্ত পাণ্ডিত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দিয়ে জটিল ও ব্যয়বহুল প্রকল্পে পরিণত করা হয়, যা বাস্তবে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি ও ক্ষতি ডেকে আনে।

জুতা-আবিষ্কার কবিতার হাস্যরসাত্মক শৈলী এর সামাজিক সমালোচনাকে কীভাবে কার্যকর করে তোলে— ব্যাখ্যা করো।

কৌতুকপূর্ণ ও অতিরঞ্জিত ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে কবি গুরুতর সামাজিক সমালোচনা (ক্ষমতার অপব্যবহার, আমলাতান্ত্রিক অসারতা) সহজবোধ্য ও উপভোগ্যভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

কবিতাটির শিরোনাম ‘জুতা-আবিষ্কার’ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।

শিরোনামটি সরাসরি কাহিনির চূড়ান্ত পরিণতি নির্দেশ করে, এবং একইসাথে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ইঙ্গিত দেয় যে একটি অতি সাধারণ আবিষ্কারের পেছনে কতটা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে।

কবিতাটি ক্ষমতা ও জ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে কী প্রশ্ন তোলে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি প্রশ্ন তোলে, প্রকৃত জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা কি সবসময় ক্ষমতা বা প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত? চর্মকারের উদাহরণ প্রমাণ করে, প্রকৃত সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা প্রায়ই প্রান্তিক অবস্থানের মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

কবিতাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি শেখায়, জটিল সমস্যার সমাধান প্রায়ই সহজ ও ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই নিহিত থাকে— অহেতুক জটিলতা তৈরি না করে সরল, কার্যকর সমাধান খোঁজা এবং সব শ্রেণির মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

রাজা মন্ত্রীকে কী নির্দেশ দেন?

রাজা নির্দেশ দেন শীঘ্র প্রতিকার (সমাধান) করতে হবে, নইলে কারো রক্ষা নেই।

রাজা কেন এত বৈজ্ঞানিক ভৃত্য পোষণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন?

রাজা বলেন, ধুলা-অভাবে পদধুলা না পেলে তারা মিথ্যা মাহিনা খাচ্ছে, তাহলে এত উপাধিধারী বৈজ্ঞানিক ভৃত্য পোষার কোনো মানে নেই।

পণ্ডিতেরা প্রথম সমাধান হিসেবে কী কেনার সিদ্ধান্ত নেন?

পণ্ডিতেরা সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাঁটা কেনার সিদ্ধান্ত নেন, ধুলা ঝাড়ু দিয়ে দূর করার জন্য।

পণ্ডিত-বিজ্ঞানীরা বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও একজন সাধারণ চর্মকার সহজ সমাধান দিতে পারলেন কেন বলে মনে হয়?

পণ্ডিতরা সমস্যাটিকে জটিল তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে দেখেছিলেন, কিন্তু চর্মকার তাঁর ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা দিয়ে সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে পেয়েছিলেন— এখানেই কবিতার মূল শিক্ষা নিহিত।

উভয় ঘটনায় প্রকাশিত সাধারণ শিক্ষা কী?

উভয় ঘটনাতেই দেখা যায়, প্রচলিত জ্ঞানী-গুণীরা যে জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজে পাননি, তার একেবারে সহজ ও বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান এসেছে অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে জুতা-আবিষ্কার কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜