কপোতাক্ষ নদ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “কপোতাক্ষ নদ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য কপোতাক্ষ নদ কবিতার নোট দেখুন।
কপোতাক্ষ নদ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
কপোতাক্ষ নদ কবিতার কবি কে?
মাইকেল মধুসূদন দত্ত (জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৮২৪, সাগরদাঁড়ি, যশোর; মৃত্যু ২৯ জুন ১৮৭৩)। ১৮৪৩ সালে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে নামের আগে ‘মাইকেল’ যুক্ত করেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেট প্রবর্তক। অমর কীর্তি: মেঘনাদ-বধ কাব্য। অন্যান্য রচনা: তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, কৃষ্ণকুমারী (নাটক), একেই কি বলে সভ্যতা (প্রহসন)।
উৎস ও রূপ
চতুর্দশপদী কবিতাবলী থেকে গৃহীত একটি সনেট (Octave: ৮ চরণ, Sestet: ৬ চরণ; মিলবিন্যাস কখখক কখখক ঘঙঘ ঘঙঘ)।
কবিতার মূল ভাব-বিন্যাস
- **অষ্টক (প্রথম ৮ চরণ):** প্রবাসে (ফ্রান্সে) থেকেও কবি সতত জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদের কথা ভাবেন; কল্পনায় তার কলকল ধ্বনি শোনেন। বহু দেশের নদ দেখেও কপোতাক্ষের মতো স্নেহতৃষ্ণা মেটে না— নদ যেন জন্মভূমি-স্তনের দুগ্ধধারা।
- **ষটক (শেষ ৬ চরণ):** কবির মনে সংশয়— আর কি নদের দেখা মিলবে? নদ-সাগরের সম্পর্ককে প্রজা-রাজার কর প্রদানের সাথে তুলনা। কবির মিনতি, বন্ধুর মতো নদের নাম বাংলার মানুষের কাছে থেকে যাক— যা কবি নিজেই প্রবাসে বসে কবিতায় ধরে রেখেছেন।
কপোতাক্ষ নদ কবিতার মূল ভাব কী?
স্মৃতিকাতরতার আবরণে গভীর দেশপ্রেমের প্রকাশ— জন্মভূমির নদ-নদী, প্রকৃতির প্রতি মানুষের সহজাত, অবিচ্ছেদ্য মমত্ববোধই এই সনেটের কেন্দ্রীয় ভাব। প্রবাসে থেকেও নিজের শিকড়কে ভুলতে না পারার আকুতিই কবিতাকে করে তুলেছে চিরন্তন।
কপোতাক্ষ নদ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সতত (সর্বদা), বিরলে (নিরিবিলিতে), নিশা (রাত্রি), ভ্রান্তি (ভুল/বিভ্রম), বারি-রূপ কর (নদীর সাগরকে জলরূপ রাজস্ব প্রদান), চতুর্দশপদী কবিতা/সনেট (১৪ চরণের কবিতা, অষ্টক ও ষটকে বিভক্ত)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮২৪
- খ. ১৮২৫
- গ. ১৮২৩
- ঘ. ১৮২২
উত্তর: ক। তিনি ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
২। মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. কলকাতা
- খ. যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রাম
- গ. ফরিদপুর
- ঘ. ঢাকা
উত্তর: খ। যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে, কপোতাক্ষ নদের তীরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। মধুসূদন কোন কলেজে ভর্তি হয়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী হন?
- ক. হিন্দু কলেজ
- খ. সংস্কৃত কলেজ
- গ. স্কটিশ চার্চ কলেজ
- ঘ. প্রেসিডেন্সি কলেজ
উত্তর: ক। কলকাতার হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
৪। মধুসূদন কত খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
- ক. ১৮৪৪
- খ. ১৮৪৩
- গ. ১৮৪২
- ঘ. ১৮৪১
উত্তর: খ। ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন, তখন তাঁর নামের প্রথমে ‘মাইকেল’ যুক্ত হয়।
৫। প্রথম দিকে মধুসূদন কোন ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন?
- ক. বাংলা
- খ. ফরাসি
- গ. সংস্কৃত
- ঘ. ইংরেজি
উত্তর: ঘ। পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি প্রথমে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্বুদ্ধ হন।
৬। মধুসূদনের কবিপ্রতিভার প্রকৃত স্ফূর্তি ঘটে কীসের মাধ্যমে?
- ক. ইংরেজি রচনার মাধ্যমে
- খ. সংস্কৃত রচনার মাধ্যমে
- গ. বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মাধ্যমে
- ঘ. ফরাসি রচনার মাধ্যমে
উত্তর: গ। জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর ভুল ভাঙার পর বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়েই তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
৭। মধুসূদনের অমর কীর্তি কোনটি?
- ক. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
- খ. বীরাঙ্গনা কাব্য
- গ. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- ঘ. মেঘনাদ-বধ কাব্য
উত্তর: ঘ। মেঘনাদ-বধ কাব্য তাঁর অমর কীর্তি, বাংলা ভাষায় মহাকাব্যের সফলতম রূপ।
৮। নিচের কোনটি মধুসূদনের নাটক?
- ক. চন্দ্রগুপ্ত
- খ. নীলদর্পণ
- গ. কৃষ্ণকুমারী
- ঘ. শাজাহান
উত্তর: গ। কৃষ্ণকুমারী মধুসূদনের নাটক; বাকিগুলো যথাক্রমে দীনবন্ধু মিত্র ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচনা।
৯। মধুসূদনের রচিত প্রহসন কোনটি?
- ক. একেই কি বলে সভ্যতা
- খ. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (শুধু একটি সঠিক থাকবে বলে বিকল্প মেলানো)
- গ. সধবার একাদশী
- ঘ. প্রফুল্ল
উত্তর: ক। ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ মধুসূদনের রচিত প্রহসন; সধবার একাদশী দীনবন্ধু মিত্রের।
১০। মধুসূদন বাংলা কাব্যে কী প্রবর্তন করেন?
- ক. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
- খ. অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও সনেট
- গ. চলিত ভাষারীতি
- ঘ. পয়ার ছন্দ
উত্তর: খ। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা) প্রবর্তন করে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করেন।
১১। মধুসূদন কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৮৭৪
- খ. ১৮৭৩
- গ. ১৮৭২
- ঘ. ১৮৭১
উত্তর: খ। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন তিনি পরলোকগমন করেন।
কপোতাক্ষ নদ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১২। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত?
- ক. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- খ. বীরাঙ্গনা কাব্য
- গ. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
- ঘ. মেঘনাদ-বধ কাব্য
উত্তর: গ। কবিতাটি কবির চতুর্দশপদী কবিতাবলী থেকে গৃহীত।
১৩। কবিতাটি রচনাকালে কবি কোন দেশে বসবাস করতেন?
- ক. ইংল্যান্ড
- খ. যুক্তরাষ্ট্র
- গ. ইতালি
- ঘ. ফ্রান্স
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি যখন ফ্রান্সে বসবাস করতেন, তখন জন্মভূমির স্মৃতি তাঁর মনে কাতরতা জাগায়।
১৪। কবিতার মূল বিষয় কী?
- ক. ধর্মীয় ভাবনা
- খ. প্রেমের কথা
- গ. যুদ্ধের বর্ণনা
- ঘ. স্মৃতিকাতরতার আবরণে দেশপ্রেম
উত্তর: ঘ। কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম এই কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে।
১৫। কবিতাটি কোন কাব্যরূপে রচিত?
- ক. গীতিকবিতা (সাধারণ)
- খ. সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা
- গ. অমিত্রাক্ষর মহাকাব্য
- ঘ. মহাকাব্য
উত্তর: খ। ‘কপোতাক্ষ নদ’ একটি চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট।
১৬। চতুর্দশপদী কবিতা কয়টি চরণ নিয়ে গঠিত?
- ক. দশ
- খ. ষোলো
- গ. চৌদ্দ
- ঘ. বারো
উত্তর: গ। চতুর্দশপদী কবিতা চৌদ্দ চরণ নিয়ে গঠিত, ভাবসংহত ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোবিশিষ্ট।
১৭। চতুর্দশপদী কবিতার প্রথম আট চরণের স্তবককে কী বলে?
- ক. অষ্টক
- খ. চতুষ্ক
- গ. ষটক
- ঘ. পঞ্চক
উত্তর: ক। প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক (Octave) বলে।
১৮। চতুর্দশপদী কবিতার শেষ ছয় চরণের স্তবককে কী বলে?
- ক. নবক
- খ. সপ্তক
- গ. অষ্টক
- ঘ. ষটক
উত্তর: ঘ। শেষ ছয় চরণের স্তবককে ষটক (Sestet) বলে।
১৯। অষ্টকে সাধারণত কী থাকে?
- ক. ভাবের প্রবর্তনা
- খ. উপসংহার
- গ. প্রশ্ন
- ঘ. ভাবের পরিণতি
উত্তর: ক। অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা থাকে।
২০। ষটকে সাধারণত কী থাকে?
- ক. ভাবের পরিণতি
- খ. চরিত্র পরিচিতি
- গ. ভাবের প্রবর্তনা
- ঘ. পটভূমি বর্ণনা
উত্তর: ক। ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে।
২১। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার মিলবিন্যাস কেমন?
- ক. কখকখ কখকখ গঘগঘ গঘ
- খ. কখগঘ কখগঘ গঘঙ গঘঙ
- গ. কখখক কখখক ঘঙঘ ঘঙঘ
- ঘ. কককক কককক ঘঘঘ ঘঘঘ
উত্তর: গ। এই কবিতার মিলবিন্যাস কখখক কখখক ঘঙঘ ঘঙঘ।
২২। ইংরেজি ‘Sonnet’-এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?
- ক. গীতিকবিতা
- খ. চতুর্দশপদী কবিতা
- গ. অমিত্রাক্ষর কবিতা
- ঘ. মহাকাব্য
উত্তর: খ। ইংরেজি Sonnet-এর বাংলা প্রতিশব্দ চতুর্দশপদী কবিতা।
২৩। কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কবি নদকে কী বলে সম্বোধন করেন?
- ক. হে নদ
- খ. হে সখা
- গ. হে জননী
- ঘ. হে বন্ধু
উত্তর: ক। কবি নদকে সরাসরি ‘হে নদ’ বলে সম্বোধন করে বলেন, সে সবসময় তাঁর মনে পড়ে।
২৪। কবি কখন নদের কথা ভাবেন বলে উল্লেখ করেছেন?
- ক. শুধু রাতে
- খ. শুধু কাজের ফাঁকে
- গ. একান্ত নিরিবিলিতে (বিরলে)
- ঘ. শুধু ছুটির দিনে
উত্তর: গ। কবি বলেন, তিনি সতত এই বিরলে (নিরিবিলিতে) নদের কথা ভাবেন।
২৫। কবি নিজের অবস্থাকে কার সাথে তুলনা করেছেন, যে রাতের স্বপ্নে মায়া-মন্ত্রধ্বনি শোনে?
- ক. একজন পথিকের সাথে
- খ. নিশার স্বপনে মায়া-মন্ত্রধ্বনি শোনা একজনের সাথে
- গ. একজন শিশুর সাথে
- ঘ. একজন সাধুর সাথে
উত্তর: খ। কবি বলেন, রাতের স্বপ্নে মানুষ যেমন মায়া-মন্ত্রধ্বনি শোনে, তেমনি ভ্রান্তির ছলনায় তিনি নদের কলকল ধ্বনি শুনে কান জুড়ান।
২৬। কবি নদের শব্দকে কী বলে বর্ণনা করেছেন?
- ক. নীরবতা
- খ. চিৎকার
- গ. গর্জন
- ঘ. কলকল ধ্বনি
উত্তর: ঘ। কবি নদের ধ্বনিকে ‘কলকল’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি কল্পনায় শুনতে পান।
২৭। কবি কয়টি দেশে নদ-নদী দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন?
- ক. এক দেশে
- খ. দুই দেশে
- গ. বহু দেশে
- ঘ. তিন দেশে
উত্তর: গ। কবি বলেন, তিনি বহু দেশে বহু নদ-দল দেখেছেন।
২৮। বহু নদ দেখা সত্ত্বেও কবির কোন তৃষ্ণা মেটে না?
- ক. খ্যাতির তৃষ্ণা
- খ. পানির তৃষ্ণা
- গ. স্নেহের তৃষ্ণা
- ঘ. জ্ঞানের তৃষ্ণা
উত্তর: গ। কবি প্রশ্ন তোলেন, এই স্নেহের তৃষ্ণা আর কোন নদের জলে মেটে— অর্থাৎ কপোতাক্ষ ছাড়া অন্য কোনো নদ তাঁর এই আবেগময় তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।
২৯। কবি কপোতাক্ষ নদকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. একটি রাজপথের সাথে
- খ. একটি রত্নের সাথে
- গ. একটি সোনার খনির সাথে
- ঘ. জন্মভূমি-স্তনের দুগ্ধ-স্রোতের সাথে
উত্তর: ঘ। কবি নদকে জন্মভূমি-স্তনের দুগ্ধ-স্রোতরূপে কল্পনা করেছেন— মাতৃস্নেহের প্রতীক হিসেবে।
**৩০। কবিতার অষ্টক অংশে (প্রথম আট চরণ) কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. কবি সতত নদের কথা ভাবেন
ii. কবি বহু দেশের নদ দেখেও কপোতাক্ষের তুলনা খুঁজে পাননি
iii. কবি নদের সাথে সাগরের তুলনা করেছেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য অষ্টক অংশের সাথে সংগতিপূর্ণ, কিন্তু নদ-সাগরের ‘রাজা-প্রজা’ তুলনাটি আসে ষটক অংশে (শেষ ছয় চরণে), অষ্টকে নয়— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল প্রসঙ্গে বসানো হয়েছে।
৩১। ষটক অংশে কবির মনে কোন প্রশ্ন জাগে?
- ক. নদটি কোথা থেকে উৎপন্ন
- খ. নদটি কতটা গভীর
- গ. নদটির নাম কী
- ঘ. আর কি নদের দেখা হবে
উত্তর: ঘ। কবির মনে সংশয় জাগে— ‘আর কি হে হবে দেখা?’— অর্থাৎ তিনি আর কখনো এই নদের দেখা পাবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।
৩২। কবি নদ ও সাগরের সম্পর্ককে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
- ক. শিক্ষকের সাথে ছাত্রের সম্পর্ক
- খ. বন্ধুর সাথে বন্ধুর সম্পর্ক
- গ. প্রজার রাজাকে কর দেওয়ার সম্পর্ক
- ঘ. শত্রুর সাথে শত্রুর সম্পর্ক
উত্তর: গ। প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয়, কপোতাক্ষ নদও তেমনি সাগরকে জলরূপ কর (বারি-রূপ কর) দিয়ে যাচ্ছে বলে কবি কল্পনা করেছেন।
৩৩। কবি কী ‘মিনতি’ জানান, যা বঙ্গজ জনের কানে গাইবে?
- ক. নদকে রক্ষা করার মিনতি
- খ. দেশে ফেরার মিনতি
- গ. ক্ষমা প্রার্থনার মিনতি
- ঘ. নদের নাম যেন মানুষের মুখে মুখে থাকে
উত্তর: ঘ। কবির মিনতি, নদের নাম যেন বন্ধুর মতো আপনভাবে বাংলার মানুষের কানে কানে থেকে যায়।
৩৪। প্রবাসে থেকেও কবি কীভাবে নদের নাম বাংলার সংগীতে বাঁচিয়ে রেখেছেন?
- ক. গান রচনা করে
- খ. এই কবিতা রচনার মাধ্যমে, প্রেমভাবে মজে থেকে
- গ. চিঠি লিখে
- ঘ. অর্থ দান করে
উত্তর: খ। কবি বলেন, প্রবাসে প্রেম-ভাবে মজে থেকে তিনি নিজেই কপোতাক্ষের নাম বাংলার সংগীতে (কবিতায়) ধারণ করে রেখেছেন।
৩৫। ‘সতত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. মাঝে মাঝে
- খ. সর্বদা
- গ. কখনো না
- ঘ. দ্রুত
উত্তর: খ। সতত অর্থ সর্বদা।
৩৬। ‘বিরলে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. রাজদরবারে
- খ. উৎসবে
- গ. একান্ত নিরিবিলিতে
- ঘ. জনসমাগমে
উত্তর: গ। বিরলে অর্থ একান্ত নিরিবিলিতে বা একাকী অবস্থায়।
৩৭। ‘নিশা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সন্ধ্যা
- খ. সকাল
- গ. রাত্রি
- ঘ. দিন
উত্তর: গ। নিশা অর্থ রাত্রি।
৩৮। ‘ভ্রান্তি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. জ্ঞান
- খ. ভুল বা বিভ্রম
- গ. সত্য
- ঘ. স্মৃতি
উত্তর: খ। ভ্রান্তি অর্থ ভুল বা বিভ্রম— কল্পনার ছলনায় নদের ধ্বনি শোনার প্রসঙ্গে ব্যবহৃত।
৩৯। ‘বারি-রূপ কর’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
- ক. জলরূপ রাজস্ব, যা নদী সাগরকে দেয়
- খ. পানি সংরক্ষণ
- গ. একটি প্রাচীন কর ব্যবস্থা
- ঘ. বৃষ্টির পানি
উত্তর: ক। প্রজা যেমন রাজাকে কর দেয়, তেমনি নদ সাগরকে জলরূপ কর দেয়— এই ভাবনা থেকেই ‘বারি-রূপ কর’ শব্দবন্ধ ব্যবহৃত হয়েছে।
৪০। কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে কোন ভূমিকায় কল্পনা করা হয়েছে?
- ক. প্রিয় বন্ধু ও মাতৃস্নেহের প্রতীক হিসেবে
- খ. একটি বাধা হিসেবে
- গ. শত্রু হিসেবে
- ঘ. একটি ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে
উত্তর: ক। কবিতায় কপোতাক্ষকে প্রিয় বন্ধু (সখা) ও জন্মভূমির মাতৃস্নেহের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
৪১। কবিতায় ব্যক্তি-মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে কোন বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে?
- ক. প্রতিযোগিতার মনোভাব
- খ. দেশমাতৃকার প্রতি অকুণ্ঠ প্রেম
- গ. ভ্রমণপিপাসা
- ঘ. অর্থলিপ্সা
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দেশমাতৃকার প্রতি অকুণ্ঠ প্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, যা এই কবিতায় ধরা পড়েছে।
৪২। কবি কেন বহু দেশের নদী দেখেও কপোতাক্ষকে ভুলতে পারেন না?
- ক. এটি জন্মভূমির নদ, মাতৃস্নেহের সাথে যুক্ত বলে
- খ. কপোতাক্ষ সবচেয়ে বড় নদ বলে
- গ. এটি সবচেয়ে সুন্দর নদ বলে
- ঘ. এতে মূল্যবান সম্পদ আছে বলে
উত্তর: ক। জন্মভূমির সাথে সংযুক্ত এই নদ মায়ের স্নেহডোরে কবিকে বেঁধে রেখেছে বলেই তিনি একে ভুলতে পারেন না, তা সে যত বড় বা বিখ্যাত নদই বিদেশে দেখুন না কেন।
৪৩। কবিতায় সময়ের সাথে সাথে কী ঘটতে থাকবে বলে কবি উল্লেখ করেন?
- ক. নদ শুকিয়ে যাবে
- খ. নদ দিক পরিবর্তন করবে
- গ. নদ নতুন নাম পাবে
- ঘ. নদ সাগরকে জলরূপ কর দিতে থাকবে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, যত দিন যাবে, নদ প্রজারূপে রাজরূপ সাগরকে জলরূপ কর দিতেই থাকবে— এটি প্রকৃতির নিয়মেরই ইঙ্গিত।
৪৪। কবিতায় ‘সখে’ ও ‘সখা-রীতে’ শব্দ দুটির ব্যবহার কী প্রকাশ করে?
- ক. নদের প্রতি অবজ্ঞা
- খ. নদের প্রতি কবির অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্বোধন
- গ. নদের প্রতি কবির ভীতি
- ঘ. নদের প্রতি ঔদাসীন্য
উত্তর: খ। ‘সখে’ ও ‘সখা-রীতে’ শব্দ দুটি নদের প্রতি কবির গভীর, অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্বোধন প্রকাশ করে— নদ যেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
তুমি মিশেছ মোর দেহের সনে, তুমি মিলেছ মোর প্রাণে মনে, তোমার ওই শ্যামবরণ কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা।
৪৫। উদ্দীপকের ভাব ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কোন ভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
- ক. বিহ্বলতা
- খ. স্বাজাত্যবোধ
- গ. ভীতি
- ঘ. স্মৃতিকাতরতা ও স্বদেশপ্রীতি
উত্তর: ঘ। উদ্দীপকে দেহ-প্রাণ-মনের সাথে মিশে থাকা যে গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে, তা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতা ও স্বদেশপ্রীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
৪৬। উদ্দীপকের ভাবের প্রতিফলন কবিতার কোন পঙক্তিতে সবচেয়ে বেশি খুঁজে পাওয়া যায়?
- ক. প্রজারূপে রাজরূপ সাগরেরে দিতে
- খ. দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে
- গ. আর কি হে হবে দেখা?
- ঘ. সখে, সখা-রীতে
উত্তর: খ। ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে’ পঙক্তিতে নদের সাথে কবির অস্তিত্বগত, প্রায় শারীরিক-আত্মিক সংযোগের যে গভীর ভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা উদ্দীপকের ভাবের সবচেয়ে কাছাকাছি।
৪৭। উদ্দীপক ও কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই প্রকাশিত ভাবের মূল উৎস কী?
- ক. জন্মভূমি বা প্রিয় বিষয়ের সাথে গভীর আত্মিক সংযোগ
- খ. সামাজিক প্রতিযোগিতা
- গ. রাজনৈতিক আনুগত্য
- ঘ. আর্থিক লাভ
উত্তর: ক। উভয় ক্ষেত্রেই জন্মভূমি বা অতি প্রিয় কোনো বিষয়ের সাথে গভীর আত্মিক ও অবিচ্ছেদ্য সংযোগের ভাবই মূল প্রেরণা।
৪৮। কবি কেন কপোতাক্ষ নদকে সম্বোধন করে সরাসরি কথা বলার রীতি (Apostrophe) ব্যবহার করেছেন?
- ক. পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য শুধু
- খ. এটি সহজবোধ্য করার জন্য
- গ. নদকে জীবন্ত বন্ধু কল্পনা করে আবেগ প্রকাশের জন্য
- ঘ. এটি নিছক কাব্যিক রীতি অনুসরণ মাত্র
উত্তর: গ। নদকে সরাসরি সম্বোধন করে (‘হে নদ’) কবি তাকে একজন জীবন্ত, প্রিয় সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা তাঁর আবেগের গভীরতা ও ঘনিষ্ঠতাকে আরও কার্যকরভাবে প্রকাশ করে।
৪৯। কবিতায় ‘জন্মভূমি-স্তনে দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ উপমাটি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কবি নদের সাথে কার সম্পর্ক বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. একজন শিক্ষকের সাথে ছাত্রের সম্পর্ক
- খ. একজন মায়ের সাথে সন্তানের লালন-পালনের সম্পর্ক
- গ. দুই বন্ধুর সাধারণ সম্পর্ক
- ঘ. একজন রাজার সাথে প্রজার সম্পর্ক
উত্তর: খ। এই উপমার মাধ্যমে কবি নদকে মাতৃস্নেহের প্রতীক করে তুলেছেন— যেমন মা সন্তানকে দুধ দিয়ে লালন করেন, তেমনি জন্মভূমি এই নদের মাধ্যমে কবিকে লালন করেছে বলে তিনি অনুভব করেন।
৫০। কবিতাটি কেন আজও প্রবাসী বাঙালিদের কাছে বিশেষভাবে অনুভূতিপ্রবণ?
- ক. এতে কোনো জটিল শব্দ নেই বলে
- খ. এটি ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে বলে
- গ. প্রবাসে জন্মভূমির স্মৃতিকাতরতার সর্বজনীন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে বলে
- ঘ. এটি সংক্ষিপ্ত বলে সহজে মুখস্থ করা যায়
উত্তর: গ। প্রবাসে থেকে নিজ জন্মভূমি ও তার স্মৃতির জন্য কাতরতার যে সর্বজনীন মানবিক অনুভূতি কবি এই কবিতায় ধরেছেন, তা যুগে যুগে প্রবাসী মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতার সাথে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
