মানুষ কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “মানুষ” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মানুষ কবিতার MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
কাজী নজরুল ইসলাম ও মানুষ কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রাম।
কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
মানুষ কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
ছেলেবেলায় নজরুল কোন গানের দলে যোগ দেন?
তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
নজরুলকে কেন ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়?
সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।
নজরুলের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা।
‘মানুষ’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
এটি সাম্যবাদী কাব্য থেকে সংকলিত।
মানুষ কবিতার মূল বার্তা কী?
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, দেশ-কাল-ধর্ম-জাতির কোনো প্রকৃত ভেদ নেই।
প্রথম কাহিনিতে পূজারী কীসের আশায় মন্দির খোলেন?
স্বপ্নাদিষ্ট ক্ষুধার্ত ঠাকুরের আগমনের আশায় মন্দির খোলেন।
প্রকৃত ক্ষুধার্ত পথিক এলে পূজারী কী করেন?
পূজারী দুয়ার বন্ধ করে দেন।
দ্বিতীয় কাহিনিতে মসজিদে কী থাকা সত্ত্বেও মোল্লা মুসাফিরকে তাড়িয়ে দেন?
উদ্বৃত্ত খাবার থাকা সত্ত্বেও তাড়িয়ে দেন।
মোল্লা মুসাফিরকে তাড়ানোর অজুহাত কী দেন?
নমাজ না পড়ার অজুহাত দেন।
উভয় ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ফিরে যেতে যেতে কীসের সমালোচনা করেন?
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভণ্ডামির তীব্র সমালোচনা করেন।
মানুষ কবিতায় মন্দির-মসজিদ কার সম্পত্তি হয়ে উঠেছে বলা হয়েছে?
এগুলো প্রভুর নয়, পূজারী-মোল্লার সম্পত্তি হয়ে উঠেছে বলা হয়েছে।
মানুষ কবিতায় কোন তিনজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম স্মরণ করা হয়েছে?
চেঙ্গিস, গজনী মামুদ ও কালাপাহাড়ের নাম স্মরণ করা হয়েছে।
তাদের নাম স্মরণ করে কবি কোন আহ্বান জানান?
ভণ্ডদের তালাবদ্ধ দুয়ার ভাঙার আহ্বান জানান।
মানুষ কবিতার উপসংহারে ভণ্ডরা কোথায় কীসের জয়গান গায়?
ভজনালয়ের মিনারে স্বার্থের জয়গান গায়।
‘জ্ঞাতি’ শব্দের অর্থ কী?
জ্ঞাতি অর্থ রক্তসম্পর্কীয় বা আত্মীয়স্বজন।
‘তেরিয়া’ শব্দের অর্থ কী?
তেরিয়া অর্থ ক্রুদ্ধভাবে।
কবিতাটি কোন সাহিত্যিক আঙ্গিকে রচিত?
এটি দুটি সমান্তরাল কাহিনির মাধ্যমে বক্তব্য প্রতিষ্ঠাকারী আখ্যানধর্মী কবিতা।
নজরুল কত খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে তিনি করাচি যান, সেখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা ঘটে।
নিচের কোনটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ নয়?
মেঘনাদ-বধ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা; বাকি তিনটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ।
কত বছর বয়সে নজরুল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান?
মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর নজরুলকে কী মর্যাদায় ভূষিত করা হয়?
অসুস্থ কবিকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।
মানুষ কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কবি কী গাইবার কথা বলেন?
কবি বলেন, ‘গাহি সাম্যের গান’— অর্থাৎ তিনি সাম্য বা সমতার গান গাইছেন।
কবির মতে মানুষের চেয়ে বড় বা মহীয়ান কী?
কবি স্পষ্ট বলেন, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, কিছুই মহীয়ান নয়।
কবির মতে দেশ-কাল-পাত্র, ধর্ম-জাতির ভেদাভেদ সম্পর্কে কী সত্য?
কবি বলেন, দেশ-কাল-পাত্রের কোনো ভেদ নেই, ধর্ম-জাতিও অভেদ— সব দেশে সব কালে ঘরে ঘরে মানুষ একে অপরের জ্ঞাতি (আত্মীয়)।
প্রথম কাহিনিতে পূজারী স্বপ্নে কী শোনেন?
পূজারী স্বপ্নে শোনেন, ‘দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে, পূজার সময় হলো!’
‘ক্ষুধার ঠাকুর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক্ষুধার্ত মানুষকে দেবতা জ্ঞান করে ‘ক্ষুধার ঠাকুর’ বলা হয়েছে, যেমন ‘অতিথি নারায়ণ’ ধারণায় অতিথিকে ঈশ্বরতুল্য মনে করা হয়।
স্বপ্ন দেখে পূজারীর মনে কী আশা জাগে?
স্বপ্ন দেখে আকুল পূজারী ভাবেন, দেবতার আশীর্বাদে তিনি নিশ্চয়ই রাজা-টাজা হয়ে যাবেন।
মন্দিরের দুয়ারে প্রকৃতপক্ষে কে এসে দাঁড়ায়?
জীর্ণ-বস্ত্র, শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় ক্ষীণকণ্ঠ এক পান্থ (পথিক) এসে দুয়ারে ডাকে, সাত দিন খায়নি বলে জানায়।
পথিকের কথা শুনে মন্দিরের কী প্রতিক্রিয়া হয়?
পথিকের ডাক শুনে সহসা মন্দির বন্ধ হয়ে যায়, ক্ষুধার্ত পথিক ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
ফিরে যাওয়ার সময় ভুখারি কী বলে চিৎকার করে?
ভুখারি ফুকারি বলে, ‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’— এক তীব্র সমালোচনা।
মসজিদে কে সাহায্য চাইতে আসে?
গায়ে আজারির (রুগ্ণতার) চিহ্নসহ এক মুসাফির আসে, বলে সে সাত দিন ধরে ভুখা আছে।
মোল্লা মুসাফিরকে কী প্রশ্ন করেন?
ক্রুদ্ধভাবে মোল্লা জিজ্ঞেস করেন, মুসাফির নমাজ পড়ে কিনা।
মুসাফির ‘না’ উত্তর দিলে মোল্লা কী বলেন?
মোল্লা তেরিয়া হয়ে বলেন, ক্ষুধার্ত থাকলে গো-ভাগাড়ে গিয়ে মরতে, এবং তাকে সোজা পথ দেখিয়ে গোস্ত-রুটি নিয়ে মসজিদে তালা দিয়ে দেন।
ভুখারির মতে মসজিদ-মন্দিরে কীসের দাবি নেই?
ভুখারি বলে, মসজিদ-মন্দিরে প্রভুর কাছে মানুষের দাবি নেই, কারণ মোল্লা-পুরুত সব দুয়ারে নিজেদের চাবি লাগিয়ে রেখেছে।
ভুখারি কাদের নাম স্মরণ করে ভজনালয়ের তালা ভাঙার আহ্বান জানায়?
ভুখারি প্রশ্ন করে, কোথায় চেঙ্গিস, কোথায় গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়— যাঁরা এসব ভণ্ডদের দ্বার ভেঙে দিতে পারতেন।
ভুখারির আহ্বান কী?
ভুখারি আহ্বান জানায়, সব দ্বার খোলা রাখতে হবে, তালাবদ্ধ দরজা ভাঙতে হাতুড়ি-শাবল চালাতে হবে— খোদার ঘরে কেউ তালা দিতে পারে না।
মানুষ কবিতার শেষ পঙক্তিতে ভজনালয়ের মিনারে কে জয়গান গায় বলে বর্ণিত হয়েছে?
কবিতা শেষ হয় এই আক্ষেপে যে, ভজনালয়ের মিনারে চড়ে ভণ্ডরা স্বার্থের জয়গান গায়— ধর্মকে ব্যবহার করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
‘ক্ষুধার মানিক জ্বলে’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
এই বাক্যাংশ ক্ষুধার্ত ব্যক্তির তীব্র জঠরজ্বালা বা পেটের যন্ত্রণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
‘গজনী মামুদ’ কে ছিলেন?
গজনী মামুদ ছিলেন গজনির সুলতান মাহমুদ, যিনি সতেরোবার ভারতবর্ষ আক্রমণ করে ধ্বংসলীলা চালান; কবিতায় তাঁকে ভণ্ড ধর্মীয় কর্তাদের ধ্বংসের জন্য প্রতীকীভাবে স্মরণ করা হয়েছে।
‘কালাপাহাড়’ সম্পর্কে টীকায় কী বলা হয়েছে?
টীকা অনুযায়ী কালাপাহাড় মূলত ব্রাহ্মণ ছিলেন, পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বহু দেবালয় ধ্বংস করেন; পবিত্র উপাসনালয়ের দরজা বন্ধকারীদের ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে কবিতায় তাঁকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষ ধর্মগ্রন্থের প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষ ধর্মগ্রন্থগুলোকে খুবই শ্রদ্ধা করে, ধর্মের জন্য জীবনবাজিও রাখে।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষ কবিতায় প্রকৃতপক্ষে কার সমালোচনা করা হয়েছে?
কবিতায় ধর্ম নিজে নয়, বরং যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিরন্ন অসহায় মানুষকে অন্ন দান করে না এবং ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করে, তাদের হৃদয়হীনতা ও ভণ্ডামির সমালোচনা করা হয়েছে।
পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ধর্মও কোন কথা বলে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষের চেয়ে বড় কিছু যে হতে পারে না, ধর্মও সে কথাই বলে— অথচ ধর্মকে ব্যবহার করে অনেকে তার বিপরীত আচরণ করে।
মন্দির ও মসজিদের দুই কাহিনির মধ্যে কাঠামোগত মিল কী?
উভয় কাহিনিতেই দেখা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মন্দির/মসজিদ) নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান বা নিয়মের দোহাই দিয়ে প্রকৃত মানবিক প্রয়োজনকে (ক্ষুধার্তের অন্ন) উপেক্ষা করে— এই কাঠামোগত সমান্তরালতাই কবিতার মূল কৌশল।
মানুষ কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত ধর্মীয়তা কীসের মধ্যে নিহিত?
কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত ধর্মীয়তা নিহিত মানুষের প্রতি মানবিকতা ও সহানুভূতিতে, নিছক আচার-অনুষ্ঠান পালনে নয়— কারণ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।
রহিম সাহেবের চরিত্রের সাথে ‘মানুষ’ কবিতার কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?
রহিম সাহেব যেমন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অর্থ ব্যয় করেও প্রকৃত মানবিক দায়িত্ব (শ্রমিকদের প্রতি) পালন করেন না, কবিতার পূজারী ও মোল্লাও তেমনি ধর্মীয় নিয়ম পালন করলেও ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করেছেন।
মানুষ কবিতার আলোকে রহিম সাহেবের আচরণের মূল সমস্যা কী?
কবিতার মূল বার্তা অনুযায়ী, ধর্মীয় আচার পালন করা সত্ত্বেও মানুষের প্রতি প্রকৃত মানবিক দায়িত্ব পালন না করাই সবচেয়ে বড় সমস্যা— কারণ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
মানুষ কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
মানুষ কবিতায় দুটি সমান্তরাল কাহিনি (মন্দির ও মসজিদ) ব্যবহারের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
দুটি ভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ভণ্ডামি দেখিয়ে কবি প্রমাণ করেন যে এই সংকীর্ণতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সমস্যা নয়, বরং এটি মানুষের সাধারণ দুর্বলতা— এভাবে কবিতাটি অসাম্প্রদায়িক সমালোচনার এক নিরপেক্ষ কাঠামো তৈরি করে।
পূজারীর স্বপ্ন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কীভাবে ভণ্ডামি উন্মোচন করে— ব্যাখ্যা করো।
পূজারী স্বপ্নে যে দেবতার আগমনের প্রত্যাশা করেন, বাস্তবে সেই দেবতাই এক ক্ষুধার্ত মানুষের রূপে আসেন, কিন্তু পূজারী তা চিনতে ব্যর্থ হন— এই বৈপরীত্যই দেখায় ধর্মীয় আচার কীভাবে প্রকৃত মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
মোল্লার নমাজের অজুহাতে মুসাফিরকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কী সমালোচনা করে— ব্যাখ্যা করো।
এই ঘটনা দেখায়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কঠোর পালনকে মানবিক সাহায্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা কতটা অমানবিক হতে পারে— প্রকৃত ধর্মীয়তা মানবসেবাতেই নিহিত, শুধু আচারে নয়।
‘জ্ঞাতি’ শব্দের ব্যবহার দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন— ব্যাখ্যা করো।
কবি বলেন সব দেশে সব কালে মানুষ একে অপরের জ্ঞাতি (আত্মীয়)— অর্থাৎ ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতিই একে অপরের আত্মীয়, এই সর্বজনীন মানবিক বন্ধনের কথাই কবি বলতে চেয়েছেন।
মন্দির-মসজিদ প্রভুর নয়, পূজারী-মোল্লার সম্পত্তি হয়ে ওঠার অভিযোগের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই অভিযোগের মাধ্যমে কবি দেখান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই তাদের প্রকৃত আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হয়, যা মূল ধর্মীয় শিক্ষার পরিপন্থী।
চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কালাপাহাড়ের নাম স্মরণ করে দুয়ার ভাঙার আহ্বানের প্রতীকী অর্থ কী— ব্যাখ্যা করো।
এই আহ্বান আক্ষরিক ধ্বংসের চেয়ে বেশি প্রতীকী— ধর্মের নামে মানবতাকে বন্দি করে রাখা ভণ্ডামির কাঠামো ভেঙে প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বানই এখানে মুখ্য বার্তা।
কবিতাটি ধর্মের সমালোচনা করে না ধর্মের অপব্যবহারের— এই পার্থক্য কেন গুরুত্বপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি ধর্মকে আক্রমণ করে না, বরং যারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভক্ত করে ও ক্ষুধার্তদের ফিরিয়ে দেয়, তাদের ভণ্ডামিকে আক্রমণ করে— এই সূক্ষ্ম পার্থক্য কবিতাকে ধর্মবিরোধী নয়, বরং মানবতাবাদী রচনা করে তোলে।
মানুষ কবিতার আখ্যানধর্মী কাঠামো (দুটি সমান্তরাল গল্প) এর বার্তাকে কীভাবে শক্তিশালী করে— ব্যাখ্যা করো।
একই ধরনের ঘটনা দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখানোর মাধ্যমে কবি প্রমাণ করেন যে এই সমস্যাটি সার্বজনীন, কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের একচেটিয়া সমস্যা নয়— এই পুনরাবৃত্তিমূলক কাঠামো বার্তাকে আরও জোরালো করে তোলে।
কবিতাটির সামগ্রিক দর্শন কী— ব্যাখ্যা করো।
কবিতার সামগ্রিক দর্শন হলো মানবতাই সর্বোচ্চ ধর্ম— ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়ানোই প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা, এই বার্তাই কবিতার কেন্দ্রীয় দর্শন।
কবিতাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি শেখায়, ধর্মীয় পরিচয় বা আচারের চেয়ে মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও মানবিকতাই বড়— ক্ষুধার্ত বা অসহায় মানুষকে সাহায্য করাই প্রকৃত ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব, ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে অমানবিকতা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
কবি কেন দুটি ভিন্ন ধর্মের (হিন্দু ও মুসলিম) উদাহরণ ব্যবহার করেছেন?
উভয় ধর্মের সমান্তরাল উদাহরণ দেখিয়ে কবি প্রমাণ করেছেন, ধর্মের নামে মানবিকতার অবমাননা কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের সমস্যা নয়— এটি এক সর্বজনীন মানবিক ব্যর্থতা, যার সমাধান সাম্যের চেতনায়।
মানুষ কবিতার উপসংহারে ব্যবহৃত ‘হাতুড়ি শাবল চালা’ আহ্বানের প্রতীকী অর্থ কী?
এই আহ্বান আক্ষরিক ধ্বংসের চেয়ে বেশি প্রতীকী— ধর্মের নামে মানবতাকে বন্দি করে রাখা ভণ্ডামির কাঠামো ভেঙে প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বানই এখানে মুখ্য।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে মানুষ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
