● MCQ

মানুষ কবিতার MCQ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

মানুষ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “মানুষ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৫০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য মানুষ কবিতার নোট দেখুন।

মানুষ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

মানুষ কবিতার কবি কে?

কাজী নজরুল ইসলাম (জন্ম ২৪ মে ১৮৯৯, চুরুলিয়া, বর্ধমান; মৃত্যু ২৯ আগস্ট ১৯৭৬, ঢাকা)। ‘বিদ্রোহী কবি’ ও স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি। প্রধান কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, সাম্যবাদী কাব্য, চক্রবাক।

মানুষ কবিতার উৎস

সাম্যবাদী কাব্য থেকে সংকলিত কবিতা।

কবিতার মূল বিষয়বস্তু

  1. কবি সাম্যের গান গেয়ে ঘোষণা করেন— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, দেশ-কাল-ধর্ম-জাতির কোনো প্রকৃত ভেদ নেই।
  2. প্রথম কাহিনি— স্বপ্নাদিষ্ট পূজারী ক্ষুধার্ত ঠাকুরের আগমনের আশায় মন্দির খোলেন, কিন্তু প্রকৃত ক্ষুধার্ত পথিক এলে দুয়ার বন্ধ করে দেন।
  3. দ্বিতীয় কাহিনি— মসজিদে উদ্বৃত্ত খাবার থাকা সত্ত্বেও মোল্লা ক্ষুধার্ত মুসাফিরকে নমাজ না পড়ার অজুহাতে তাড়িয়ে দেন।
  4. উভয় ক্ষুধার্ত ব্যক্তিই ফিরে যেতে যেতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভণ্ডামির তীব্র সমালোচনা করেন— মন্দির-মসজিদ প্রভুর নয়, পূজারী-মোল্লার সম্পত্তি হয়ে উঠেছে।
  5. চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কালাপাহাড়ের নাম স্মরণ করে ভণ্ডদের তালাবদ্ধ দুয়ার ভাঙার আহ্বান।
  6. উপসংহার— ভজনালয়ের মিনারে ভণ্ডরা স্বার্থের জয়গান গায়, যা মানবতার চরম অবমাননা।

মানুষ কবিতার মূল ভাব কী?

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই— এই সাম্যবাদী চেতনা এবং ধর্মকে ব্যবহার করে মানবিকতার অবমাননাকারী ভণ্ডদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। কবিতাটি ধর্ম নয়, বরং ধর্মের অপব্যবহারকারীদের সমালোচনা করে, এবং প্রকৃত ধর্মীয়তা যে মানবিকতার মধ্যেই নিহিত তা প্রতিষ্ঠা করে।

মানুষ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

সাম্য (সমতা), মহীয়ান (অতি মহান), পান্থ (পথিক), ভুখারি (ক্ষুধার্ত ব্যক্তি), ক্ষুধার মানিক জ্বলে (জঠরজ্বালা), তেরিয়া (ক্রুদ্ধভাবে), গো-ভাগাড় (মৃত পশু ফেলার স্থান), চেঙ্গিস/গজনী মামুদ/কালাপাহাড় (ঐতিহাসিক ধ্বংসাত্মক ব্যক্তিত্ব, প্রতীকীভাবে আহ্বানকৃত)।

কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ

১। কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

  • ক. ১৮৯৭
  • খ. ১৮৯৯
  • গ. ১৮৯৮
  • ঘ. ১৯০০

উত্তর: খ। তিনি ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (২৪শে মে, ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন।

২। কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান কোথায়?

  • ক. চুরুলিয়া, আসানসোল, বর্ধমান
  • খ. ঢাকা
  • গ. ময়মনসিংহ
  • ঘ. কলকাতা

উত্তর: ক। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

৩। ছেলেবেলায় নজরুল কোন গানের দলে যোগ দেন?

  • ক. ভাটিয়ালি গানের দলে
  • খ. কীর্তন দলে
  • গ. লেটো গানের দলে
  • ঘ. যাত্রা গানের দলে

উত্তর: গ। ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।

৪। নজরুল কত খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?

  • ক. ১৯১৮
  • খ. ১৯১৭
  • গ. ১৯১৫
  • ঘ. ১৯১৬

উত্তর: খ। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে তিনি করাচি যান, সেখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা ঘটে।

৫। নজরুলকে কেন ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়?

  • ক. তিনি যুদ্ধ করেছিলেন বলে
  • খ. সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য
  • গ. তিনি বিদেশে ছিলেন বলে
  • ঘ. তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন বলে

উত্তর: খ। সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।

৬। নিচের কোনটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ নয়?

  • ক. মেঘনাদ-বধ কাব্য
  • খ. চক্রবাক
  • গ. ছায়ানট
  • ঘ. অগ্নিবীণা

উত্তর: ক। মেঘনাদ-বধ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা; বাকি তিনটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ।

৭। কত বছর বয়সে নজরুল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান?

  • ক. একচল্লিশ
  • খ. তেতাল্লিশ
  • গ. চুয়াল্লিশ
  • ঘ. বিয়াল্লিশ

উত্তর: খ। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

৮। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর নজরুলকে কী মর্যাদায় ভূষিত করা হয়?

  • ক. স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত
  • খ. একুশে পদকপ্রাপ্ত
  • গ. জাতীয় কবি
  • ঘ. রাষ্ট্রীয় অতিথি

উত্তর: গ। অসুস্থ কবিকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

৯। নজরুল কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

  • ক. ১৯৭৬
  • খ. ১৯৭৭
  • গ. ১৯৭৫
  • ঘ. ১৯৭৪

উত্তর: ক। ২৯শে আগস্ট, ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মানুষ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

১০। ‘মানুষ’ কবিতাটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

  • ক. চক্রবাক
  • খ. সাম্যবাদী কাব্য
  • গ. অগ্নিবীণা
  • ঘ. বিষের বাঁশি

উত্তর: খ। কবিতাটি নজরুলের সাম্যবাদী কাব্য থেকে সম্পাদনা করে সংকলিত হয়েছে।

১১। কবিতার মূল বার্তা কী?

  • ক. যুদ্ধের প্রশংসা
  • খ. মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, ধর্মের নামে অবমাননার সমালোচনা
  • গ. ধর্মের প্রতি অবজ্ঞা
  • ঘ. রাজনৈতিক আন্দোলনের আহ্বান

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় মানুষের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না— এই সাম্যের বার্তা এবং ধর্মকে ব্যবহার করে মনুষ্যত্বের অবমাননার তীব্র সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে।

১২। কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কবি কী গাইবার কথা বলেন?

  • ক. বিরহের গান
  • খ. সাম্যের গান
  • গ. দেশপ্রেমের গান
  • ঘ. প্রেমের গান

উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘গাহি সাম্যের গান’— অর্থাৎ তিনি সাম্য বা সমতার গান গাইছেন।

১৩। কবির মতে মানুষের চেয়ে বড় বা মহীয়ান কী?

  • ক. রাষ্ট্র
  • খ. কিছুই নেই
  • গ. জাতি
  • ঘ. ধর্ম

উত্তর: খ। কবি স্পষ্ট বলেন, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই, কিছুই মহীয়ান নয়।

১৪। কবির মতে দেশ-কাল-পাত্র, ধর্ম-জাতির ভেদাভেদ সম্পর্কে কী সত্য?

  • ক. এসবের ভেদ নেই, সব মানুষ একে অপরের জ্ঞাতি
  • খ. এই ভেদাভেদ চিরন্তন
  • গ. ভেদাভেদই স্বাভাবিক
  • ঘ. ভেদাভেদ থাকা উচিত

উত্তর: ক। কবি বলেন, দেশ-কাল-পাত্রের কোনো ভেদ নেই, ধর্ম-জাতিও অভেদ— সব দেশে সব কালে ঘরে ঘরে মানুষ একে অপরের জ্ঞাতি (আত্মীয়)।

১৫। প্রথম কাহিনিতে পূজারী স্বপ্নে কী শোনেন?

  • ক. মন্দির বন্ধ রাখার নির্দেশ
  • খ. নতুন মন্দির নির্মাণের নির্দেশ
  • গ. তীর্থে যাওয়ার নির্দেশ
  • ঘ. দুয়ার খুলে ক্ষুধার্ত ঠাকুরকে পূজা করার আহ্বান

উত্তর: ঘ। পূজারী স্বপ্নে শোনেন, ‘দুয়ার খোলো, ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে, পূজার সময় হলো!’

১৬। ‘ক্ষুধার ঠাকুর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

  • ক. একটি উৎসবের নাম
  • খ. একটি বিশেষ দেবতা
  • গ. একটি মন্দিরের নাম
  • ঘ. ক্ষুধার্ত মানুষকে দেবতাজ্ঞানে দেখা

উত্তর: ঘ। ক্ষুধার্ত মানুষকে দেবতা জ্ঞান করে ‘ক্ষুধার ঠাকুর’ বলা হয়েছে, যেমন ‘অতিথি নারায়ণ’ ধারণায় অতিথিকে ঈশ্বরতুল্য মনে করা হয়।

১৭। স্বপ্ন দেখে পূজারীর মনে কী আশা জাগে?

  • ক. তিনি সুস্থ হবেন
  • খ. তিনি জ্ঞানী হবেন
  • গ. তার সন্তান হবে
  • ঘ. দেবতার বরে তিনি রাজা হয়ে যাবেন

উত্তর: ঘ। স্বপ্ন দেখে আকুল পূজারী ভাবেন, দেবতার আশীর্বাদে তিনি নিশ্চয়ই রাজা-টাজা হয়ে যাবেন।

১৮। মন্দিরের দুয়ারে প্রকৃতপক্ষে কে এসে দাঁড়ায়?

  • ক. একজন ধনী ব্যক্তি
  • খ. একজন সাধু
  • গ. জীর্ণ বস্ত্র পরা, ক্ষুধার্ত এক পথিক
  • ঘ. একজন রাজা

উত্তর: গ। জীর্ণ-বস্ত্র, শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় ক্ষীণকণ্ঠ এক পান্থ (পথিক) এসে দুয়ারে ডাকে, সাত দিন খায়নি বলে জানায়।

১৯। পথিকের কথা শুনে মন্দিরের কী প্রতিক্রিয়া হয়?

  • ক. দুয়ার আরও প্রশস্ত করে খোলা হয়
  • খ. সহসা মন্দির বন্ধ হয়ে যায়
  • গ. পূজারী তাকে খাবার দেন
  • ঘ. পূজারী তাকে ভেতরে ডাকেন

উত্তর: খ। পথিকের ডাক শুনে সহসা মন্দির বন্ধ হয়ে যায়, ক্ষুধার্ত পথিক ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

২০। ফিরে যাওয়ার সময় ভুখারি কী বলে চিৎকার করে?

  • ক. আশীর্বাদ কামনা করে
  • খ. ক্ষমা প্রার্থনা করে
  • গ. দেবতাকে ধন্যবাদ জানায়
  • ঘ. বলে এই মন্দির পূজারীর, দেবতার নয়

উত্তর: ঘ। ভুখারি ফুকারি বলে, ‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!’— এক তীব্র সমালোচনা।

২১। দ্বিতীয় কাহিনিতে মসজিদে কী অবশিষ্ট ছিল?

  • ক. কোনো খাবার ছিল না
  • খ. শুধু পানি ছিল
  • গ. শুধু ফল ছিল
  • ঘ. আগের দিনের প্রচুর গোস্ত-রুটি বেঁচে গিয়েছিল

উত্তর: ঘ। আগের দিনের শিরনি থেকে অঢেল গোস্ত-রুটি বেঁচে গিয়েছিল, যা দেখে মোল্লা সাহেব হাসিতে ফেটে পড়েন।

২২। মসজিদে কে সাহায্য চাইতে আসে?

  • ক. একজন সৈনিক
  • খ. একজন ধনী ব্যক্তি
  • গ. অসুস্থতার চিহ্নসহ এক ক্ষুধার্ত মুসাফির
  • ঘ. একজন আলেম

উত্তর: গ। গায়ে আজারির (রুগ্ণতার) চিহ্নসহ এক মুসাফির আসে, বলে সে সাত দিন ধরে ভুখা আছে।

২৩। মোল্লা মুসাফিরকে কী প্রশ্ন করেন?

  • ক. তার নাম কী
  • খ. সে নমাজ পড়ে কিনা
  • গ. সে কোথা থেকে এসেছে
  • ঘ. তার পরিবার কোথায়

উত্তর: খ। ক্রুদ্ধভাবে মোল্লা জিজ্ঞেস করেন, মুসাফির নমাজ পড়ে কিনা।

২৪। মুসাফির ‘না’ উত্তর দিলে মোল্লা কী বলেন?

  • ক. তাকে নমাজ শেখান
  • খ. তাকে গো-ভাগাড়ে গিয়ে মরতে বলে তাড়িয়ে দেন
  • গ. তাকে খাবার দেন
  • ঘ. তাকে ক্ষমা করেন

উত্তর: খ। মোল্লা তেরিয়া হয়ে বলেন, ক্ষুধার্ত থাকলে গো-ভাগাড়ে গিয়ে মরতে, এবং তাকে সোজা পথ দেখিয়ে গোস্ত-রুটি নিয়ে মসজিদে তালা দিয়ে দেন।

**২৫। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এই আচরণ নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মন্দিরের পূজারী ও মসজিদের মোল্লা উভয়েই ক্ষুধার্তকে ফিরিয়ে দেন
ii. শুধু মন্দিরের পূজারী ক্ষুধার্তকে ফিরিয়ে দেন, মোল্লা সাহায্য করেন
iii. উভয় ঘটনাতেই ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা আচারকে মানবিক সাহায্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য সঠিক— উভয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই ক্ষুধার্তকে ফিরিয়ে দেয়, তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল (উভয়েই সমানভাবে দোষী, শুধু একজন নয়)।

২৬। মসজিদ থেকে ফিরে যাওয়ার সময় ভুখারি কী বলে?

  • ক. সে আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করে
  • খ. সে চিরতরে বিশ্বাস ত্যাগ করে
  • গ. কখনো আল্লাহকে না ডাকলেও আল্লাহ তার অন্ন বন্ধ করেননি
  • ঘ. সে মোল্লাকে ক্ষমা করে দেয়

উত্তর: গ। ভুখারি বলে, আশি বছর ধরে সে আল্লাহকে ডাকেনি, তবু আল্লাহ তার ক্ষুধার অন্ন বন্ধ করেননি— তিনি (আল্লাহ) দয়ালু, কিন্তু তাঁর নামে যারা দ্বার বন্ধ করে তারা ভিন্ন।

২৭। ভুখারির মতে মসজিদ-মন্দিরে কীসের দাবি নেই?

  • ক. রাজার দাবি
  • খ. পুরোহিত-মোল্লার দাবি
  • গ. ধনীদের দাবি
  • ঘ. মানুষের দাবি

উত্তর: ঘ। ভুখারি বলে, মসজিদ-মন্দিরে প্রভুর কাছে মানুষের দাবি নেই, কারণ মোল্লা-পুরুত সব দুয়ারে নিজেদের চাবি লাগিয়ে রেখেছে।

২৮। ভুখারি কাদের নাম স্মরণ করে ভজনালয়ের তালা ভাঙার আহ্বান জানায়?

  • ক. আধুনিক নেতাদের
  • খ. চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কালাপাহাড়ের
  • গ. স্থানীয় কর্মকর্তাদের
  • ঘ. সাহিত্যিকদের

উত্তর: খ। ভুখারি প্রশ্ন করে, কোথায় চেঙ্গিস, কোথায় গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়— যাঁরা এসব ভণ্ডদের দ্বার ভেঙে দিতে পারতেন।

২৯। ভুখারির আহ্বান কী?

  • ক. নতুন ধর্ম প্রবর্তন করা
  • খ. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া
  • গ. নতুন মন্দির-মসজিদ নির্মাণ করা
  • ঘ. সব বন্ধ দুয়ার ভেঙে হাতুড়ি-শাবল চালানো

উত্তর: ঘ। ভুখারি আহ্বান জানায়, সব দ্বার খোলা রাখতে হবে, তালাবদ্ধ দরজা ভাঙতে হাতুড়ি-শাবল চালাতে হবে— খোদার ঘরে কেউ তালা দিতে পারে না।

৩০। কবিতার শেষ পঙক্তিতে ভজনালয়ের মিনারে কে জয়গান গায় বলে বর্ণিত হয়েছে?

  • ক. ভণ্ডরা, স্বার্থের জয়গান গায়
  • খ. প্রকৃত ভক্তরা
  • গ. পথিকরা
  • ঘ. সাধারণ মানুষ

উত্তর: ক। কবিতা শেষ হয় এই আক্ষেপে যে, ভজনালয়ের মিনারে চড়ে ভণ্ডরা স্বার্থের জয়গান গায়— ধর্মকে ব্যবহার করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।

৩১। ‘সাম্য’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. বিভাজন
  • খ. সমতা
  • গ. বৈষম্য
  • ঘ. যুদ্ধ

উত্তর: খ। সাম্য অর্থ সমতা।

৩২। ‘মহীয়ান’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. ক্ষুদ্র
  • খ. অতি মহান
  • গ. তুচ্ছ
  • ঘ. দুর্বল

উত্তর: খ। মহীয়ান অর্থ অতি মহান।

৩৩। ‘পান্থ’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. পুরোহিত
  • খ. ব্যবসায়ী
  • গ. পথিক
  • ঘ. রাজা

উত্তর: গ। পান্থ অর্থ পথিক।

৩৪। ‘ভুখারি’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. ধার্মিক ব্যক্তি
  • খ. ধনী ব্যক্তি
  • গ. ক্ষুধার্ত ব্যক্তি
  • ঘ. পথপ্রদর্শক

উত্তর: গ। ভুখারি অর্থ ক্ষুধার্ত ব্যক্তি।

৩৫। ‘ক্ষুধার মানিক জ্বলে’ বাক্যাংশের অর্থ কী?

  • ক. একটি ধর্মীয় প্রতীক
  • খ. একটি আলোকসজ্জা
  • গ. একটি রত্ন পাওয়া
  • ঘ. ক্ষুধার্ত ব্যক্তির জঠরজ্বালা

উত্তর: ঘ। এই বাক্যাংশ ক্ষুধার্ত ব্যক্তির তীব্র জঠরজ্বালা বা পেটের যন্ত্রণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

৩৬। ‘তেরিয়া’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. বিনয়ীভাবে
  • খ. করুণভাবে
  • গ. শান্তভাবে
  • ঘ. উদ্ধতভাবে, ক্রুদ্ধভাবে

উত্তর: ঘ। তেরিয়া অর্থ উদ্ধতভাবে বা ক্রুদ্ধভাবে— মোল্লার আচরণ বর্ণনায় ব্যবহৃত।

৩৭। ‘গো-ভাগাড়’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. গোয়ালঘর
  • খ. একটি বাজার
  • গ. মৃত গরু ফেলার নির্দিষ্ট স্থান
  • ঘ. একটি মন্দির

উত্তর: গ। গো-ভাগাড় অর্থ মৃত গরু ফেলার নির্দিষ্ট স্থান।

৩৮। ‘গজনী মামুদ’ কে ছিলেন?

  • ক. একজন ধর্মীয় নেতা
  • খ. একজন স্থপতি
  • গ. একজন কবি
  • ঘ. গজনির সুলতান মাহমুদ, বহুবার ভারত আক্রমণকারী

উত্তর: ঘ। গজনী মামুদ ছিলেন গজনির সুলতান মাহমুদ, যিনি সতেরোবার ভারতবর্ষ আক্রমণ করে ধ্বংসলীলা চালান; কবিতায় তাঁকে ভণ্ড ধর্মীয় কর্তাদের ধ্বংসের জন্য প্রতীকীভাবে স্মরণ করা হয়েছে।

৩৯। ‘কালাপাহাড়’ সম্পর্কে টীকায় কী বলা হয়েছে?

  • ক. ব্রাহ্মণ থেকে ইসলাম গ্রহণকারী, দেবালয় ধ্বংসকারী
  • খ. তিনি সবসময় মুসলিম ছিলেন
  • গ. তিনি একজন সম্রাট ছিলেন
  • ঘ. তিনি একজন কবি ছিলেন

উত্তর: ক। টীকা অনুযায়ী কালাপাহাড় মূলত ব্রাহ্মণ ছিলেন, পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বহু দেবালয় ধ্বংস করেন; পবিত্র উপাসনালয়ের দরজা বন্ধকারীদের ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে কবিতায় তাঁকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

৪০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষ ধর্মগ্রন্থের প্রতি কেমন মনোভাব পোষণ করে?

  • ক. অবজ্ঞাপূর্ণ মনোভাব
  • খ. উদাসীন মনোভাব
  • গ. গভীর শ্রদ্ধা, ধর্মের জন্য জীবনও বাজি রাখে
  • ঘ. সন্দিহান মনোভাব

উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষ ধর্মগ্রন্থগুলোকে খুবই শ্রদ্ধা করে, ধর্মের জন্য জীবনবাজিও রাখে।

৪১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতায় প্রকৃতপক্ষে কার সমালোচনা করা হয়েছে?

  • ক. রাষ্ট্রের সমালোচনা
  • খ. দরিদ্র মানুষদের সমালোচনা
  • গ. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অন্ন দান না করাদের সমালোচনা
  • ঘ. ধর্মের নিজের সমালোচনা

উত্তর: গ। কবিতায় ধর্ম নিজে নয়, বরং যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিরন্ন অসহায় মানুষকে অন্ন দান করে না এবং ধর্মকে ব্যবহার করে স্বার্থ হাসিল করে, তাদের হৃদয়হীনতা ও ভণ্ডামির সমালোচনা করা হয়েছে।

৪২। পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ধর্মও কোন কথা বলে?

  • ক. ধর্মই সবচেয়ে বড়
  • খ. মানুষের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না
  • গ. পুরোহিত-মোল্লাই সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী
  • ঘ. ধন-সম্পদই মুখ্য

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মানুষের চেয়ে বড় কিছু যে হতে পারে না, ধর্মও সে কথাই বলে— অথচ ধর্মকে ব্যবহার করে অনেকে তার বিপরীত আচরণ করে।

৪৩। মন্দির ও মসজিদের দুই কাহিনির মধ্যে কাঠামোগত মিল কী?

  • ক. একটি কাহিনি সত্য, অন্যটি কাল্পনিক
  • খ. উভয় কাহিনিই ভিন্ন বার্তা দেয়
  • গ. দুই কাহিনির মধ্যে কোনো মিল নেই
  • ঘ. উভয় কাহিনিতেই আচার-অনুষ্ঠান মানবিকতার চেয়ে প্রাধান্য পায়

উত্তর: ঘ। উভয় কাহিনিতেই দেখা যায়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মন্দির/মসজিদ) নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান বা নিয়মের দোহাই দিয়ে প্রকৃত মানবিক প্রয়োজনকে (ক্ষুধার্তের অন্ন) উপেক্ষা করে— এই কাঠামোগত সমান্তরালতাই কবিতার মূল কৌশল।

৪৪। কবি কেন দুটি ভিন্ন ধর্মের (হিন্দু ও মুসলিম) উদাহরণ ব্যবহার করেছেন?

  • ক. পাঠকদের বিভ্রান্ত করতে
  • খ. একটি ধর্মকে অন্যটির চেয়ে ভালো দেখাতে
  • গ. ভণ্ডামি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সমস্যা নয়, সর্বজনীন প্রমাণ করতে
  • ঘ. ধর্মীয় বিভাজন বাড়াতে

উত্তর: গ। উভয় ধর্মের সমান্তরাল উদাহরণ দেখিয়ে কবি প্রমাণ করেছেন, ধর্মের নামে মানবিকতার অবমাননা কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের সমস্যা নয়— এটি এক সর্বজনীন মানবিক ব্যর্থতা, যার সমাধান সাম্যের চেতনায়।

৪৫। কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত ধর্মীয়তা কীসের মধ্যে নিহিত?

  • ক. শুধু আচার-অনুষ্ঠান পালনে
  • খ. মানুষের প্রতি মানবিকতা ও সহানুভূতিতে
  • গ. ধর্মীয় নেতাদের আনুগত্যে
  • ঘ. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বৃদ্ধিতে

উত্তর: খ। কবিতার সামগ্রিক দর্শন অনুযায়ী প্রকৃত ধর্মীয়তা নিহিত মানুষের প্রতি মানবিকতা ও সহানুভূতিতে, নিছক আচার-অনুষ্ঠান পালনে নয়— কারণ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।

রহিম সাহেব একজন ধনী ব্যবসায়ী, নিয়মিত মসজিদে দান করেন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দরিদ্র শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেন না, তাদের অসুস্থতায়ও কোনো সাহায্য করেন না।

৪৬। রহিম সাহেবের চরিত্রের সাথে ‘মানুষ’ কবিতার কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?

  • ক. ভুখারি চরিত্রের সাথে
  • খ. পূজারী ও মোল্লার মতো আচার পালন করলেও মানবিকতা না দেখানো
  • গ. পান্থের চরিত্রের সাথে
  • ঘ. দেবতার চরিত্রের সাথে

উত্তর: খ। রহিম সাহেব যেমন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অর্থ ব্যয় করেও প্রকৃত মানবিক দায়িত্ব (শ্রমিকদের প্রতি) পালন করেন না, কবিতার পূজারী ও মোল্লাও তেমনি ধর্মীয় নিয়ম পালন করলেও ক্ষুধার্ত মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করেছেন।

৪৭। কবিতার আলোকে রহিম সাহেবের আচরণের মূল সমস্যা কী?

  • ক. ধর্মীয় আচার প্রাধান্য পেলেও মানবিক দায়িত্ব পালিত হয় না
  • খ. তিনি যথেষ্ট দান করেন না
  • গ. তিনি ব্যবসায় ব্যস্ত থাকেন
  • ঘ. তার অর্থের অভাব আছে

উত্তর: ক। কবিতার মূল বার্তা অনুযায়ী, ধর্মীয় আচার পালন করা সত্ত্বেও মানুষের প্রতি প্রকৃত মানবিক দায়িত্ব পালন না করাই সবচেয়ে বড় সমস্যা— কারণ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই।

৪৮। কবিতায় ‘জ্ঞাতি’ শব্দের ব্যবহার দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

  • ক. শুধু একই ধর্মের মানুষ আত্মীয়
  • খ. জ্ঞাতি মানে শত্রু
  • গ. রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় মাত্র
  • ঘ. সকল মানুষ একে অপরের আত্মীয়, ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে

উত্তর: ঘ। কবি বলেন, সব দেশে সব কালে ঘরে ঘরে মানুষ একে অপরের জ্ঞাতি (আত্মীয়)— অর্থাৎ ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতিই একে অপরের আত্মীয়, এই সর্বজনীন মানবিক বন্ধনের কথাই কবি বলতে চেয়েছেন।

৪৯। কবিতায় স্বপ্ন ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?

  • ক. স্বপ্ন সবসময় সত্য প্রমাণিত হয়
  • খ. বাস্তবতা কবিতায় অনুপস্থিত
  • গ. স্বপ্নের কোনো গুরুত্ব নেই কবিতায়
  • ঘ. কল্পিত দেবতা ও বাস্তবের ক্ষুধার্ত মানুষের বৈপরীত্য দেখিয়ে ভণ্ডামি উন্মোচন

উত্তর: ঘ। পূজারী স্বপ্নে যে ‘দেবতা’র আগমনের প্রত্যাশা করেন, বাস্তবে সেই দেবতাই এক ক্ষুধার্ত মানুষের রূপে আসেন— কিন্তু পূজারী তা চিনতে ব্যর্থ হন, এই বৈপরীত্যই কবিতার ভণ্ডামি-উন্মোচনের মূল কৌশল।

৫০। কবিতাটি কোন সাহিত্যিক আঙ্গিকে রচিত?

  • ক. একটি গীতিকবিতা মাত্র
  • খ. দুটি সমান্তরাল কাহিনির মাধ্যমে বক্তব্য প্রতিষ্ঠাকারী আখ্যানকবিতা
  • গ. একটি সনেট
  • ঘ. নিছক বর্ণনামূলক কবিতা

উত্তর: খ। কবিতাটি দুটি সমান্তরাল, কাঠামোগতভাবে সদৃশ কাহিনি (মন্দির ও মসজিদের ঘটনা) ব্যবহার করে একটি সর্বজনীন মানবিক বার্তা প্রতিষ্ঠা করেছে— এটি একটি আখ্যানধর্মী প্রতীকী কবিতা।

৫১। কবিতার উপসংহারে ব্যবহৃত ‘হাতুড়ি শাবল চালা’ আহ্বানের প্রতীকী অর্থ কী?

  • ক. একটি নির্মাণকাজের বর্ণনা
  • খ. প্রকৃত সহিংসতার আহ্বান
  • গ. মন্দির-মসজিদ ধ্বংসের সরাসরি নির্দেশ
  • ঘ. ভণ্ডামির প্রতিষ্ঠান ভেঙে মানবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীকী আহ্বান

উত্তর: ঘ। এই আহ্বান আক্ষরিক ধ্বংসের চেয়ে বেশি প্রতীকী— ধর্মের নামে মানবতাকে বন্দি করে রাখা ভণ্ডামির কাঠামো ভেঙে প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বানই এখানে মুখ্য।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜