● Note

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “মানুষ মুহম্মদ (স.)” প্রবন্ধের (স.) জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ও মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান সাতক্ষীরা জেলার বাঁশদহ গ্রাম।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম লেখো।

তাঁর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মরুভাস্কর’।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুসংবাদে মদিনাবাসীদের শান্ত করেন কে?

আবু বকর (রা.) তাঁর গম্ভীর, বিচক্ষণ ভাষণে জনতাকে শান্ত করেন।

হজরত (স.)-এর মৃত্যুর পর গভীর শোকে আচ্ছন্ন হন কে?

বিবি আয়েশা (রা.) গভীর শোকে আচ্ছন্ন হন।

নিচের কোনটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর গ্রন্থ নয়?

বিষাদসিন্ধু মীর মশাররফ হোসেনের রচনা; বাকি তিনটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রচনা।

মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কত সালে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহে ফিরে আসেন?

স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহে ফিরে আসেন।

হজরতের মৃত্যুর খবর ছড়ালে মদিনায় প্রথম কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?

হজরতের মৃত্যুর কথা প্রচারিত হলে মদিনায় যেন আঁধার ঘনিয়ে আসে, কারও মুখে কথা সরে না, কেউ পাগলের মতো আচরণ শুরু করে।

হজরত ওমর (রা.) মৃত্যুসংবাদ শুনে কী প্রতিক্রিয়া দেখান?

বীরবাহু ওমর (রা.) উলঙ্গ তরবারি হাতে লাফিয়ে উঠে বলেন, যে বলবে হজরত মারা গেছেন, তার মাথা যাবে।

হজরত কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

তিনি মক্কার শ্রেষ্ঠ বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যদিও বংশগৌরব তাঁর সচেতন চিত্তে মুহূর্তের জন্যও স্থান পায়নি।

হজরতের মৃত্যুতে কার বক্ষ শোকে ভেঙে পড়ে বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

স্বামীর মহাপ্রয়াণে বিয়োগবিধুরা আয়েশা (রা.)-এর বক্ষ ভেদে শোকের মাতম ওঠে।

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

কোন আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটান?

অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটান।

লেখাপড়া ছাড়ার পর তিনি কোন পেশা গ্রহণ করেন?

তিনি সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করেন।

‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?

এটি ‘মরুভাস্কর’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

শৈশব থেকেই মুহম্মদ (স.) কী নামে পরিচিত ছিলেন?

তিনি ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) নামে পরিচিত ছিলেন।

হিজরতের পথে যাঁর বর্ণনায় হজরত (স.)-এর রূপ-সৌন্দর্যের চিত্র পাওয়া যায় তাঁর নাম কী?

উম্মে মা’বদের বর্ণনায় এই চিত্র পাওয়া যায়।

কোথায় হজরত (স.) নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও অত্যাচারীদের ক্ষমা করেন?

তায়েফে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি অত্যাচারীদের ক্ষমা করেন।

মক্কা বিজয়ের পর হজরত (স.) কী ঘোষণা দেন?

তিনি সবাইকে ক্ষমা করে মুক্ত ঘোষণা দেন।

সাফা পর্বতে ভীত ব্যক্তিকে হজরত (স.) কী বলে সান্ত্বনা দেন?

তিনি বলেন, “আমি রাজা নই, সম্রাট নই।”

হজরত (স.)-এর কোন সামান্য ভুলের কথা কুরআনের বাণীর মাধ্যমে প্রচারিত হয়?

একজন অন্ধ ব্যক্তির প্রতি তাঁর সামান্য বিরক্তির ত্রুটির কথা প্রচারিত হয়।

হজরত (স.) কেমন জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন?

তিনি স্বেচ্ছায় দারিদ্র্য বরণ করে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন।

‘আল-আমিন’ শব্দের অর্থ কী?

আল-আমিন অর্থ বিশ্বস্ত।

‘হিজরত’ শব্দের অর্থ কী?

হিজরত অর্থ মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় যাত্রা।

‘রাসুল’ শব্দের অর্থ কী?

রাসুল অর্থ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ।

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু কী?

হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি— বিনয়, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা ও সাধারণ জীবনযাপনের চিত্র।

নিচের কোনটি তাঁর কর্মস্থল পত্রিকা নয়?

সবুজপত্র প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা; বাকি তিনটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর কর্মস্থল ছিল।

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধে মূলত কী তুলে ধরা হয়েছে?

প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি— বিনয়, প্রেম, ক্ষমা ও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

শোকার্ত জনতাকে কে শান্ত করেন?

মহামতি আবু বকর (রা.) গম্ভীরভাবে জনতার মধ্যে দাঁড়িয়ে বাস্তবতা তুলে ধরেন এবং তাঁদের শান্ত করেন।

আবু বকর (রা.) জনতাকে কী বলে বোঝান?

আবু বকর (রা.) বলেন, যারা হজরতের পূজা করত তারা জানুক তিনি মারা গেছেন, আর যারা আল্লাহর উপাসক তারা জানুক আল্লাহ অমর, অবিনশ্বর।

হজরতের কোন গুণাবলি বিবি খাদিজা (রা.)-কে আকর্ষণ করেছিল?

তাঁর অসাধারণ যোগ্যতা, বুদ্ধি, বিচারশক্তি ও বলিষ্ঠ দেহ দেখে বিবি খাদিজা (রা.) আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

হিজরতের পথে হজরত কোন দম্পতির কুটিরে আশ্রয় নেন?

হিজরতের পথে তিনি পরহিতব্রতী দম্পতি আবু মা’বদ ও উম্মে মা’বদের কুটিরে আশ্রয় নেন।

উম্মে মা’বদ তাঁর স্বামীর কাছে হজরতের রূপের বর্ণনায় কী বলেছিলেন?

উম্মে মা’বদ বর্ণনা করেন, তিনি সুন্দর সুদর্শন পুরুষ, দীর্ঘ নন, খর্ব নন, কৃশ নন— এক অপূর্ব পুলকদীপ্তি তাঁর চোখেমুখে।

হজরতের চরিত্র সত্যের প্রশ্নে কেমন ছিল?

সত্যের প্রশ্নে তিনি বজ্রের মতো কঠিন ও পর্বতের মতো অটল ছিলেন, কিন্তু করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।

তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে হজরতকে কী সহ্য করতে হয়েছিল?

তায়েফে পথ চলতে শত্রুর প্রস্তরাঘাতে তিনি বারবার অবসন্ন হয়ে পড়েন, রক্তে তাঁর বসন ভিজে যায়, রক্ত পাদুকায় প্রবেশ করে জমে শক্ত হয়।

এই ভীষণ নির্যাতনের পরেও হজরতের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

তাঁর অন্তর ভেদ করে একটি মাত্র প্রার্থনার বাণী জাগে— “এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।”

অভিসম্পাত করতে অনুরুদ্ধ হয়ে হজরত কী বলেন?

তিনি বলেন, “না না, তাহা কখনই সম্ভব নয়। আমি ইসলামের বাহন, সত্যের প্রচারক”— বরং বলেন হয়তো আজকের বিরোধীদের বংশধরেরাই একদিন ইসলাম গ্রহণ করবে।

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় হজরত ও আবু বকর (রা.)-কে হত্যার জন্য কী ঘোষণা করা হয়েছিল?

তাঁদের ছিন্ন মুণ্ড আনার জন্য বিপুল পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে হিংস্র শত শত ঘাতক পাঠানো হয়েছিল।

বদর, ওহোদ ও আহজাব যুদ্ধে মক্কাবাসী ও তাদের মিত্ররা কী চেষ্টা করেছিল?

এই যুদ্ধগুলোতে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল ইসলাম ও মুসলিমের চিহ্নটুকু পর্যন্ত পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে।

খয়বরের যুদ্ধে হজরতের পরাজয়ের মিথ্যা সংবাদ শুনে বিরোধীরা কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?

হজরতের মৃত্যু সম্ভাবনার মিথ্যা সংবাদ শুনে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে।

হুদায়বিয়া সন্ধিতে কী ঘটেছিল?

হজরতের শান্তিপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে মুসলিমদের স্কন্ধে ঘোর অপমানের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তারপরও বিশ্বাসঘাতকতার চেষ্টা করা হয়েছিল।

মক্কা বিজয়ের দিনও কার সাথে হাঙ্গামা বাধানো হয়েছিল?

হজরত বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করার দিনও যুদ্ধকামনা করে খালিদ (রা.)-এর সঙ্গে হাঙ্গামা বাধানো হয়েছিল।

এই ঘটনা হজরতের কোন গুণ প্রকাশ করে?

মহামহিমার মাঝেও নিজের সামান্যতা সম্পর্কে সচেতনতা তাঁর চরিত্রকে সুন্দর ও স্বচ্ছ রেখেছিল— এটি তাঁর গভীর বিনয়ের পরিচায়ক।

মজলিসে একজন অন্ধ ব্যক্তি হজরতের বক্তৃতায় বাধা দিলে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হয়?

বাধা পেয়ে হজরতের মুখে সামান্য বিরক্তির আভাস দেখা যায়, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল।

এই ঘটনায় হজরতের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়?

নিজের সামান্যতম দোষটুকুও কোনো দ্বিধা ছাড়াই জনসমক্ষে স্বীকার করার এই সততা তাঁর মহিমান্বিত জীবনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

হজরতের গৃহে কেমন অবস্থা বিরাজ করত বলে বর্ণনা করা হয়েছে?

তিনি স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট মাথায় পরেছিলেন— তাঁর গৃহে সব সময় অন্ন জুটত না, রাতে প্রদীপ জ্বালাবার তেলটুকুও মিলত না।

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের শেষে লেখক হজরতের কোন কোন গুণের সমাহারের কথা বলেছেন?

লেখক বলেন, ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও সমদর্শন— এতগুলো গুণের সমাহার সচরাচর দেখা যায় না।

হজরত আবু বকর (রা.) কে ছিলেন?

আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা এবং ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম পুরুষ ব্যক্তি, হজরতের হিজরতকালীন সঙ্গী ও বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন।

হজরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কী সংকল্প নিয়েছিলেন?

ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ওমর (রা.) মহানবিকে হত্যা করার সংকল্প নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ভগ্নীর কণ্ঠে কুরআনের বাণী শুনে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের সাথে কোন ঘটনার স্মৃতি জড়িয়ে আছে?

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী বিবি হাজেরা শিশুপুত্র ইসমাইলের পিপাসা নিবারণের জন্য এই দুই পাহাড়ের মধ্যে ছোটাছুটি করেছিলেন, সেই স্মৃতিতেই আজও হজব্রতীরা দৌড়ে থাকেন।

অন্ধ ব্যক্তির ঘটনা ও তাঁর স্বেচ্ছা দারিদ্র্য বরণের মধ্যে কোন সাধারণ সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়?

উভয় ক্ষেত্রেই তিনি নিজের মানবিক সীমাবদ্ধতা ও সাধারণত্বকে গোপন না রেখে অকপটে মেনে নিয়েছেন— এটাই তাঁর মহত্ত্বের গভীরতম দিক।

রফিক সাহেবের চরিত্রের সাথে মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের হজরতের কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?

হজরতও বিপুল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েও নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করতেন, নিজের ত্রুটি প্রকাশ্যে স্বীকার করতেন এবং বিরোধীদের প্রতিও সহনশীল ছিলেন— এই গুণগুলোই রফিক সাহেবের চরিত্রে প্রতিফলিত।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

‘আল-আমিন’ উপাধি প্রাপ্তির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

শৈশব থেকেই মুহম্মদ (স.)-এর সততা ও বিশ্বস্ততার কারণে তিনি ‘আল-আমিন’ উপাধি পান, যা প্রমাণ করে তাঁর চরিত্রের মহত্ত্ব নবুওয়াত লাভের আগে থেকেই সমাজে স্বীকৃত ছিল।

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

আবু বকর (রা.)-এর ভাষণের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

হজরত (স.)-এর মৃত্যুসংবাদে মদিনায় শোক ও বিহ্বলতা ছড়িয়ে পড়লে আবু বকর (রা.) গম্ভীর, বিচক্ষণ ভাষণে জনতাকে বোঝান যে হজরত (স.) রাসুল হলেও তিনি মানুষ, তাই মরণশীল। এই ভাষণ মানুষের অতিরিক্ত আবেগকে বাস্তবতার আলোকে স্থিতিশীল করে।

তায়েফের নির্যাতনের পরও ক্ষমা প্রার্থনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

তায়েফে নিষ্ঠুরভাবে আহত হওয়ার পরও হজরত (স.) অত্যাচারীদের জন্য প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা ও জ্ঞান প্রার্থনা করেন— এটি তাঁর অসাধারণ সহনশীলতা ও মহানুভবতার প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

মক্কা বিজয়ের পর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

যাঁরা একদা তাঁকে নির্যাতন করেছিল, বিজয়ের পর তাদের সবাইকে ক্ষমা করে মুক্ত ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে হজরত (স.) প্রতিশোধের বদলে প্রেম ও ক্ষমার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন— একে ‘প্রেমপূর্ণ প্রতিশোধ’ বলা যায়।

সাফা পর্বতে ভীত ব্যক্তিকে দেওয়া উত্তরের মধ্য দিয়ে হজরত (স.)-এর কোন গুণ প্রকাশ পায়— ব্যাখ্যা করো।

“আমি রাজা নই, সম্রাট নই” এই উক্তির মাধ্যমে তাঁর গভীর বিনয় প্রকাশ পায়— বিপুল ক্ষমতা ও প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবেই উপস্থাপন করতেন।

অন্ধ ব্যক্তির প্রতি সামান্য বিরক্তির ঘটনা কুরআনে প্রচারিত হওয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

নিজের সামান্য ত্রুটিও লুকিয়ে না রেখে প্রকাশ্যে প্রচার হতে দেওয়া হজরত (স.)-এর অসাধারণ আত্মসমালোচনা ও সততার পরিচয় দেয়— এটি দেখায় তিনি নিজের ভুল স্বীকারেও কুণ্ঠাবোধ করতেন না।

হজরত (স.)-এর স্বেচ্ছায় দারিদ্র্য বরণের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

বিপুল ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি সাধারণ মানুষের মতো সাদাসিধা জীবনযাপন বেছে নেন, যা প্রমাণ করে তাঁর কাছে বস্তুগত ঐশ্বর্যের চেয়ে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি।

মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধে হজরত (স.)-কে কীভাবে ‘মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

প্রবন্ধের শিরোনাম ও বিষয়বস্তু জুড়ে হজরত (স.)-এর ঐশ্বরিক মর্যাদার পাশাপাশি তাঁর মানবিক গুণাবলি— বিনয়, ক্ষমা, সহনশীলতা, আত্মসমালোচনা— তুলে ধরা হয়েছে, যা তাঁকে একজন অনুকরণীয় মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে, শুধু দূরবর্তী পূজনীয় সত্তা হিসেবে নয়।

প্রবন্ধটি কীভাবে নেতৃত্বের একটি আদর্শ উপস্থাপন করে— ব্যাখ্যা করো।

ক্ষমতা ও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জনের পরও বিনয়, সততা ও সহনশীলতা বজায় রাখাই প্রকৃত নেতৃত্বের মহত্ত্ব— হজরত (স.)-এর জীবন থেকে এই শিক্ষাই প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে, যা যেকোনো যুগের নেতাদের জন্য অনুকরণীয়।

প্রবন্ধটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

প্রবন্ধটি শেখায়, প্রকৃত মহত্ত্ব বাহ্যিক ক্ষমতা বা সম্পদে নয়, বরং বিনয়, ক্ষমাশীলতা, সততা ও মানবিকতায় নিহিত। হজরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবন এই সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অনুসরণযোগ্য।

উম্মে মা’বদ হজরতের তৃষ্ণা কীভাবে দূর করেন?

উম্মে মা’বদ ছাগদুগ্ধ দিয়ে হজরতের তৃষ্ণা দূর করেছিলেন।

এই তুচ্ছ ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত কোথায় এসেছিল?

কুরআনের একটি বাণীতে এই তুচ্ছতম ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত আসে, যা হজরত নিজেই বিনা দ্বিধায় সকলের কাছে প্রচার করেন।

হাজার হাজার মুসলিম ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও হজরত নিজেকে কীভাবে গণ্য করতেন?

অসংখ্য মুসলিম তাঁর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ জোগাতে উৎসুক থাকলেও তিনি নিজেকে দশজন মানুষের মধ্যে একজন হিসেবেই গণ্য করতেন।

এ ধরনের নেতৃত্বের গুণ কেন সমাজে অনুকরণীয় বলে বিবেচিত হয়?

প্রবন্ধ থেকে যেমন শেখা যায়, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির মধ্যে থেকেও বিনয়, সততা ও সহনশীলতা বজায় রাখাই প্রকৃত নেতৃত্বের মহত্ত্ব— এটিই সমাজে সবচেয়ে অনুকরণীয় আদর্শ।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜