● Note

মমতাদি গল্পের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

মমতাদি গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “মমতাদি” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য মমতাদি গল্পের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতাদি গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?

তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি কোথায়?

তাঁর পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর অঞ্চলের মালবদিয়া গ্রাম।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বয়সে ‘দিবারাত্রির কাব্য’ রচনা করেন?

তিনি একুশ বছর বয়সে ‘দিবারাত্রির কাব্য’ রচনা করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত উপন্যাসের নাম লেখো।

তাঁর একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন কলেজে বিএসসি ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন?

গণিতে অনার্স নিয়ে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসি ক্লাসে ভর্তি হন।

লেখালেখিতে মগ্ন থাকার কারণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী হয়নি?

লেখায় এতই মগ্ন থাকতেন যে অসাধারণ কৃতী এই ছাত্রের আর অনার্স পাশ করা হয়নি।

মাত্র একুশ বছর বয়সে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন বিখ্যাত রচনাটি লেখেন?

মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘দিবারাত্রির কাব্য’ রচনা করেন।

কোন দুটি রচনা লিখে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথাসাহিত্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন?

পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা লিখে তিনি বাংলা কথাসাহিত্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন।

মমতাদি গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘মমতাদি’ গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?

এটি ‘সরীসৃপ’ (১৯৩৯) গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

মমতার বয়স কত ছিল?

মমতার বয়স তেইশ বছর ছিল।

মমতা কেন প্রথমবার চাকরিতে আসে?

স্বামীর বেকারত্বের কারণে সে প্রথমবার চাকরিতে আসে।

মমতার মাসিক মাইনে কত নির্ধারিত হয়?

তার মাসিক মাইনে পনের টাকা নির্ধারিত হয়।

মমতা কার সাথে কাজ শুরুর প্রথম দিকে দূরত্ব বজায় রাখত?

সে কথক (স্কুলপড়ুয়া ছেলে)-এর সাথে দূরত্ব বজায় রাখত।

কোন ঘটনায় মমতা ও কথকের বন্ধুত্বের সূচনা হয়?

মিষ্টি চুরির ঘটনায় সস্নেহ বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের বন্ধুত্বের সূচনা হয়।

মমতা কী ডাকার পরিবর্তে ‘দিদি’ ডাকার অনুরোধ করে?

সে ‘বামুনদি’র বদলে ‘দিদি’ ডাকার অনুরোধ করে।

মমতার গালে চড়ের দাগ দেখে সে কী অজুহাত দেয়?

সে মশা মারার মিথ্যা অজুহাত দেয়।

মমতা কোন রহস্যময় উক্তি করে চড়ের দাগ নিয়ে?

সে বলে, ‘কারো কাছে যা পাই না তুমি তা দেবে কেন’।

স্বামীর চাকরি হওয়ার পর মমতা কী আকুতি জানায়?

সে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায় ও কান্নাকাটি করে।

মমতার বাড়ি কোন এলাকায় ছিল?

মমতার বাড়ি জীবনময় লেনে ছিল।

মমতার বাড়িতে গিয়ে কথক কী দেখতে পায়?

কথক দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র ও মমতার অসুস্থ ছেলেকে দেখতে পায়।

‘বামুনদি’ শব্দের অর্থ কী?

বামুনদি অর্থ ব্রাহ্মণ গৃহকর্মীর প্রচলিত ডাক।

গল্পটি কার দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে?

গল্পটি একজন স্কুলপড়ুয়া ছেলের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

মমতাদি গল্পের মূল বিষয়বস্তু কী?

গল্পে গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে।

মমতাদি গল্পের শুরুতে মমতা কী প্রস্তাব নিয়ে আসে?

মমতা এসেই সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তাদের রান্নার জন্য লোক লাগবে কিনা, সে ছোটো ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনাও করবে।

মমতার কপালে কী চিহ্ন ছিল?

তার কপালে আন্দাজে পরা টিপের মতো একটি ক্ষত-চিহ্ন ছিল।

মমতার এটি কততম চাকরি?

এটি ছিল মমতার প্রথম চাকরি— পর্দা ঠেলে উপার্জনের জন্য বাইরে আসার প্রথম অভিজ্ঞতা।

মাইনে শুনে মমতার প্রতিক্রিয়া কী হয়?

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মাইনে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় তার দুচোখ সজল হয়ে ওঠে, যদিও সে তা নীরবেই প্রকাশ করে।

প্রথম দিন কাজে যোগ দেওয়ার পর মমতা কেমন আচরণ করে?

সে নীরবে নতমুখে কাজ করে যায়, অনর্থক প্রশ্ন করে না, নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করে।

কথক মমতাকে প্রথমে কী নামে ডেকেছিল, যা তাকে আঘাত করে?

কথক তাকে ‘বামুনদি’ বলে ডাকলে সে চমকে হাসি বন্ধ করে, যেন তাকে গাল দেওয়া হয়েছে এমনভাবে তাকায়।

মা হাসিমুখে মন্তব্য করার পর মমতার চোখে কী দেখা যায়?

মা তাকে অপমান না করে সহানুভূতিসহ কথা বলায় তার চোখ দিয়ে দুফোঁটা দুর্বোধ্য অশ্রু ঝরে পড়ে— অপমানে হয়তো চোখ শুকনোই থাকত, কিন্তু সম্মানের করুণামাখা ভাব তার সহ্য হয়নি।

কয়েকদিন পর কথক মমতার গালে কী লক্ষ করে?

কথক তার গালে আঙুলের মতো তিনটি দাগ দেখতে পায়, যা মাস্টারের চড়ে অবনীর গালে যেমন দাগ হয়েছিল তেমনি।

দাগের কারণ জিজ্ঞেস করলে মমতা প্রথমে কী বলে?

সে বলে, রাতে গালে মশা বসেছিল, রেগে নিজেই নিজের গালে চড় মেরেছে— একটি অবিশ্বাস্য অজুহাত।

কথক মমতার কথা বিশ্বাস না করার কারণ কী?

শুধু দাগ নয়, তার মুখ-চোখের ভাব ও কথার সুর সব মিলিয়ে কথকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে কেউ তাকে মেরেছে।

মমতা কথকের হাত টেনে বুকে চেপে ধরে কী বলে?

সে ফিসফিস করে বলে, ‘কারো কাছে যা পাই না, তুমি তা দেবে কেন’— এক গভীর রহস্যময় ও বেদনাদায়ক উক্তি।

স্বামীর চাকরি হলে কী করবে জিজ্ঞেস করায় মমতা প্রথমে কী উত্তর দেয়?

সে রসিকতার সুরে জিজ্ঞেস করে, কথক কী চায়— হরির লুট, নাকি সন্দেশ।

মা মমতাকে ডেকে কী প্রস্তাব দেন?

স্বামীর চাকরি হওয়ায় মা তাকে বলেন, তাকে আটকে রাখা হবে না, ইচ্ছে করলে এবেলাই কাজ ছাড়তে পারে, তাতে অসুবিধা হবে না।

মা মমতাকে আশ্বস্ত করে কী বলেন?

মা বলেন, তার শত্রুও তার কাজের সমালোচনা করতে পারবে না, বিষয়টি কাজ নিয়ে নয়— তার প্রতি মায়া বসে গেছে, তাই তার চলে যাওয়া তাদের কষ্ট দেবে।

মায়ের আন্তরিক কথা শুনে মমতা কী করে?

সে এক রকম পালিয়ে যায়; কথক পিছু নিয়ে দেখে সে রান্নাঘরে কাঁদছে।

কান্নার পর মমতা কথককে কোন অদ্ভুত প্রশ্ন করে?

সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, ‘মিথ্যে বললে কি হয় খোকা?’, এবং পরে জিজ্ঞেস করে গুরুনিন্দা বাঁচাতে মিথ্যা বললে কী হয়— যা ইঙ্গিত দেয় তার মনে কোনো গোপন কষ্ট বা লুকোনো সত্য রয়েছে।

মমতার বাড়ি যাওয়ার পথে গলিটির নাম কী ছিল?

গলিটির নাম ছিল জীবনময় লেন, যদিও তার নোংরা পরিবেশ দেখে কথকের মনে হয়েছিল কেউ যেন ঠাট্টা করে এই নাম রেখেছিল।

জীবনময় লেনের পরিবেশ কেমন ছিল?

গলিটি বিশ্রী নোংরা, দুদিকের বাড়ির চাপে অন্ধকার, আবর্জনাপূর্ণ এবং দূষিত চাপা গন্ধযুক্ত ছিল।

মমতাদের রান্নাঘরের বর্ণনা কেমন ছিল?

এক পাশে একশিট করোগেট আয়রনের ছাদ ও চটের বেড়ার অস্থায়ী রান্নাঘর ছিল, যার চটগুলো কয়লার ধোঁয়ায় কালো হয়ে গিয়েছিল।

মমতাদের শোবার ঘরে কথককে বসানো হয় কীসের ওপর?

মমতা কথককে শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে একটি টুলে বসায়।

ঘরে কথক আর কাকে দেখতে পায়?

ঘরে চৌকিতে মাদুরের ওপর উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে থাকা মমতার পাঁচ বছরের ছেলেকে কথক দেখতে পায়।

ছেলেটির অসুস্থতা সম্পর্কে মমতা কী বলে?

মমতা বলে, আগের রাতে ছেলেটির পেটব্যথায় সে নিজেও ঘুমাতে পারেনি, ছেলেকেও ঘুমাতে দেয়নি।

মমতা কথককে কী খেতে দেয়?

পথে কেনা কমলা লেবু কথককে খেতে দেয়, বলে ঘরে মুড়ি ছাড়া কিছু নেই, দোকানের জিনিস দেবে না।

মমতা লেবু খাওয়ানোর পর কী মন্তব্য করে?

কথক আরেকটি লেবু চাইলে হেসে দিয়ে মমতা বলে, ‘কৃতার্থ হলাম। সবাই যদি তোমার মতো ভালোবাসত!’

মমতাদের ঘরে জানালা থাকা সত্ত্বেও কোন সমস্যা ছিল?

জানালা দুটির অবস্থান এমন ছিল যে আলো কিছুটা এলেও বাতাসের আসা-যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।

বাড়ি ফেরার আগে মমতা কথককে বাইরে বসিয়ে কী করে?

কথককে রোয়াকে মাদুর পেতে বসিয়ে মমতা কথা বলার সাথে সাথে ঘর ঝাঁট দেওয়া, কড়াই মাজা, পানি তোলা ও মশলা বাটার মতো সাংসারিক কাজ করে নেয়।

মমতাদি গল্পের শেষে মমতা কথককে কী বলে বাড়ি পাঠায়?

সে বলে, ‘তুমি এবার বাড়ি যাও ভাই। তোমার খিদে পেয়েছে।’

‘পর্দা ঠেলে উপার্জন’ বাক্যাংশের অর্থ কী?

এটি নারীদের অন্তঃপুরে থাকার প্রথাভঙ্গ করে বাইরে এসে উপার্জনের চেষ্টা করাকে বোঝায়— মমতার প্রথম চাকরির প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত।

‘হরির লুট’ বলতে কী বোঝায়?

হরির লুট অর্থ সংকীর্তনের পর হরির নামে যেভাবে বাতাসা ছড়ানো হয়, সেভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দান করা।

পাঠ-পরিচিতি অনুসারে মমতাদির মধ্যে কোন দিকটি সবসময় সমুন্নত ছিল?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মমতাদির আত্মমর্যাদাবোধ সবসময়ই সমুন্নত ছিল— সে নিজে যেমন সম্মান প্রত্যাশা করত, তেমনি অন্যকেও স্নেহ দিতে দ্বিধা করত না।

কথকের প্রতি মমতাদির স্নেহ প্রকাশের ধরন থেকে কী বোঝা যায়?

গল্প জুড়ে দেখা যায়, দারিদ্র্যের কারণে কাজ নিলেও কথকের প্রতি মমতাদির স্নেহ সম্পূর্ণ আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ— এটি সামাজিক শ্রেণির ঊর্ধ্বে মানবিক সম্পর্কের একটি দৃষ্টান্ত।

ফুলবানুর প্রাথমিক এড়িয়ে যাওয়ার আচরণের সাথে ‘মমতাদি’ গল্পের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়?

মমতাও গালের দাগ নিয়ে প্রথমে মিথ্যা অজুহাত (মশা মারার) দিয়েছিল, ফুলবানুও প্রথমে এড়িয়ে গিয়েছিল— নিজের কষ্ট বা পারিবারিক সমস্যা গোপন রাখার এই প্রবণতা উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন।

এই ধরনের প্রতিক্রিয়ার পেছনে সাধারণত কোন মানসিকতা কাজ করে?

ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কষ্ট প্রকাশ করলে করুণার পাত্র হতে হবে এই ভয় এবং আত্মসম্মানবোধ থেকেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা মমতা ও ফুলবানু উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

মমতাদি গল্পের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখক জীবনের সূচনা কীভাবে হয়?

বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা ‘অতসীমামী’ গল্প বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তাঁর লেখক জীবনের যাত্রা শুরু হয়।

মমতাদি গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

মমতার প্রথম দিকের দূরত্বপূর্ণ আচরণের কারণ কী হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

মমতা প্রথমবার চাকরিতে এসেছিল বলে সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য ও নতুন পরিবেশে অস্বস্তির কারণে সে দূরত্ব বজায় রাখে। এটি তার আত্মমর্যাদাবোধ ও নতুন সম্পর্কের প্রতি সতর্কতার প্রকাশ।

মিষ্টি চুরির ঘটনায় সস্নেহ বাধা দেওয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই ঘটনার মাধ্যমে মমতা ও কথকের মধ্যে প্রথম প্রকৃত মানবিক সংযোগ স্থাপিত হয়— মমতা কর্মী হিসেবে নয়, স্নেহময়ী বড় বোনের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়, যা তাদের সম্পর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

‘বামুনদি’র বদলে ‘দিদি’ ডাকার অনুরোধের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই অনুরোধ প্রমাণ করে মমতা শুধু একজন গৃহকর্মী হিসেবে পরিচিত হতে চায় না, বরং পরিবারের একজন আপনজন হিসেবে গৃহীত হতে চায়— এটি তার আত্মমর্যাদাবোধ ও প্রকৃত সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।

মমতার গালের চড়ের দাগ ও তার অস্বীকৃতি কী ইঙ্গিত দেয়— ব্যাখ্যা করো।

এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় মমতা তার পারিবারিক জীবনে (সম্ভবত স্বামীর দ্বারা) নির্যাতনের শিকার, কিন্তু আত্মসম্মানবোধ থেকে তা প্রকাশ করতে চায় না— তার নীরব যন্ত্রণা ও সহনশীলতার এক মর্মস্পর্শী চিত্র এতে ফুটে ওঠে।

‘কারো কাছে যা পাই না তুমি তা দেবে কেন’ উক্তিটির গভীর অর্থ কী— ব্যাখ্যা করো।

এই উক্তির মাধ্যমে মমতা ইঙ্গিত দেয় সে জীবনে কখনো প্রকৃত স্নেহ বা সহানুভূতি পায়নি, তাই কথকের কাছ থেকেও তা আশা করে না— একটি গভীর, বেদনাদায়ক জীবন-দর্শনের প্রকাশ এতে নিহিত।

স্বামীর চাকরি হওয়ার পরও মমতার কাজ চালিয়ে যাওয়ার আকুতির কারণ কী হতে পারে— ব্যাখ্যা করো।

এই আকুতির পেছনে হয়তো আর্থিক নিরাপত্তার চিন্তা, অথবা এই পরিবারের সাথে গড়ে ওঠা গভীর মানবিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে না চাওয়ার ইচ্ছাই কাজ করেছে— তার প্রকৃত কারণ অস্পষ্ট রেখে লেখক পাঠকের কল্পনার জন্য জায়গা রাখেন।

মমতার বাড়িতে কথকের সফরের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই সফর কথককে (ও পাঠককে) মমতার প্রকৃত জীবনযাত্রার দারিদ্র্য ও কষ্ট প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দেয়, যা তার আগের রহস্যময় আচরণ ও কথাবার্তার প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে।

মমতাদি গল্পে সামাজিক শ্রেণির প্রতি লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখক দেখান, দারিদ্র্য ও সামাজিক শ্রেণির পার্থক্য সত্ত্বেও প্রকৃত মানবিক সম্পর্ক ও স্নেহ গড়ে উঠতে পারে— মমতা ও এই পরিবারের সম্পর্ক প্রমাণ করে শ্রেণিভেদ মানবিকতার পথে চূড়ান্ত বাধা নয়।

মমতার আত্মমর্যাদাবোধ মমতাদি গল্পের কোন কোন ঘটনায় প্রকাশ পায়— ব্যাখ্যা করো।

চড়ের দাগ নিয়ে মিথ্যা অজুহাত দেওয়া, নিজের কষ্ট গোপন রাখা, এবং করুণার পাত্র হতে না চাওয়ার প্রবণতায় মমতার গভীর আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ পায়— দারিদ্র্যের মধ্যেও সে নিজের সম্মান বজায় রাখতে সচেষ্ট।

গল্পটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

গল্পটি শেখায়, গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষদের প্রতি মানবিক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করা উচিত। তাদের বাহ্যিক পরিচয়ের বাইরেও তাদের নিজস্ব যন্ত্রণা, আত্মমর্যাদা ও ভালোবাসার জগৎ আছে, যা উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

মমতার স্বামী কেন বেকার ছিলেন?

মমতা জানায়, তার স্বামীর চাকরি চার মাস ধরে নেই, সংসার চলছে না।

কথক (ছোটো ছেলেটি) কেন প্রথমদিকে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল?

মা বলেছিলেন মমতা তাকে খুব ভালোবাসবে, কিন্তু কয়েকদিন সে কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না— তাই কথক ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।

মমতা কীভাবে কথকের সাথে প্রথম ভাব করে?

কুটুমের আনা মিষ্টি চুরি করে খেতে গিয়ে ধরা পড়ে কথক; মমতা রাগ না দেখিয়ে সস্নেহে তাকে বেশি না খেতে বলে, এখান থেকেই তাদের ভাব শুরু হয়।

মিষ্টি খাওয়া নিয়ে মমতার প্রতিক্রিয়া মায়ের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে কীভাবে ভিন্ন ছিল?

মায়ের কাছে ধরা পড়লে বকুনি খেত, কিন্তু মমতার কথায় ছিল ভর্ৎসনার বদলে কোমল আবেদন, যা কথকের মন গলিয়ে দেয়।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে মমতাদি গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜