মমতাদি গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “মমতাদি” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য মমতাদি গল্পের নোট দেখুন।
মমতাদি গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মমতাদি গল্পের লেখক কে?
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; জন্ম ১৯০৮, সাঁওতাল পরগনা, বিহার; মৃত্যু ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬)। ২১ বছর বয়সে ‘দিবারাত্রির কাব্য’ রচনা। প্রধান রচনা: পদ্মা নদীর মাঝি, পুতুল নাচের ইতিকথা, জননী, চতুষ্কোণ।
মমতাদি গল্পের উৎস
সরীসৃপ (১৯৩৯) গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
মমতাদি গল্পের মূল চরিত্র কারা?
– **মমতা (মমতাদি)** — তেইশ বছর বয়সী দরিদ্র কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন গৃহকর্মী, স্বামীর বেকারত্বের কারণে প্রথমবার চাকরিতে আসে।
– **কথক (স্কুলপড়ুয়া ছেলে)** — যার চোখ দিয়ে গল্পটি বর্ণিত, মমতার সাথে গভীর স্নেহের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
– **মা** — সংবেদনশীল ও উদার মনের গৃহকর্ত্রী, মমতাকে শুধু কর্মী নয় আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেন।
মমতাদি গল্পের কাহিনি সংক্ষেপে
- মমতার আগমন, রাঁধুনির কাজের প্রস্তাব, পনের টাকা মাইনে নির্ধারণ।
- প্রথম দিনগুলোয় মমতার নীরব, দূরত্বপূর্ণ আচরণ— কথকের হতাশা।
- মিষ্টি চুরির ঘটনায় সস্নেহ বাধা দিয়ে বন্ধুত্বের সূচনা, ‘বামুনদি’র বদলে ‘দিদি’ ডাকার অনুরোধ।
- গালে চড়ের দাগ আবিষ্কার, মমতার অস্বীকার ও রহস্যময় উক্তি— ‘কারো কাছে যা পাই না তুমি তা দেবে কেন’।
- স্বামীর চাকরি হওয়ার খবর, মায়ের কাজ ছাড়ার প্রস্তাব, মমতার কাজ চালিয়ে যাওয়ার আকুতি ও কান্না, মিথ্যা নিয়ে অদ্ভুত প্রশ্ন।
- মমতার বাড়িতে (জীবনময় লেন) কথকের সফর— দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র, অসুস্থ ছেলে, আতিথেয়তা।
মমতাদি গল্পের মূল ভাব কী?
গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষদের প্রতি মানবিক ও শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণের গুরুত্ব— দারিদ্র্য সত্ত্বেও মমতাদির আত্মমর্যাদাবোধ ও নিঃস্বার্থ স্নেহ প্রমাণ করে, সামাজিক শ্রেণি মানবিক সম্পর্কের পথে বাধা হতে পারে না।
মমতাদি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
বাছা (স্নেহের সম্বোধন), পর্দা ঠেলে উপার্জন (প্রথা ভেঙে বাইরে কাজ করা), বামুনদি (ব্রাহ্মণ গৃহকর্মীর প্রচলিত ডাক), অপ্রতিভ (অপ্রস্তুত), হরির লুট (ছড়িয়ে দান করা), অনাড়ম্বর (জাঁকজমকহীন)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?
- ক. সুকুমার রায়
- খ. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- গ. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
- ঘ. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
উত্তর: গ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
২। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯০৯
- খ. ১৯০৬
- গ. ১৯০৮
- ঘ. ১৯০৭
উত্তর: গ। তিনি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
৩। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি কোথায়?
- ক. ঢাকা
- খ. ফরিদপুর
- গ. বরিশাল
- ঘ. মালবদিয়া, বিক্রমপুর, মুন্সীগঞ্জ
উত্তর: ঘ। তাঁর পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর অঞ্চলের মালবদিয়া গ্রাম; মায়ের বাড়ি একই অঞ্চলের গাঁওদিয়া গ্রাম।
৪। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন কলেজে বিএসসি ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন?
- ক. বাঁকুড়া ওয়েসলিয় মিশন কলেজ
- খ. কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ
- গ. স্কটিশ চার্চ কলেজ
- ঘ. ঢাকা কলেজ
উত্তর: খ। গণিতে অনার্স নিয়ে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসি ক্লাসে ভর্তি হন।
৫। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখক জীবনের সূচনা কীভাবে হয়?
- ক. একটি কবিতা লিখে
- খ. বাজি ধরে লেখা ‘অতসীমামী’ গল্প প্রকাশের মাধ্যমে
- গ. একটি উপন্যাস লিখে
- ঘ. একটি প্রবন্ধ লিখে
উত্তর: খ। বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে লেখা ‘অতসীমামী’ গল্প বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তাঁর লেখক জীবনের যাত্রা শুরু হয়।
৬। লেখালেখিতে মগ্ন থাকার কারণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী হয়নি?
- ক. অনার্স পাশ
- খ. ম্যাট্রিক পাশ
- গ. চাকরি লাভ
- ঘ. আইএসসি পাশ
উত্তর: ক। লেখায় এতই মগ্ন থাকতেন যে অসাধারণ কৃতী এই ছাত্রের আর অনার্স পাশ করা হয়নি।
৭। মাত্র একুশ বছর বয়সে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোন বিখ্যাত রচনাটি লেখেন?
- ক. পদ্মা নদীর মাঝি
- খ. দিবারাত্রির কাব্য
- গ. পুতুল নাচের ইতিকথা
- ঘ. জননী
উত্তর: খ। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘দিবারাত্রির কাব্য’ রচনা করেন।
৮। কোন দুটি রচনা লিখে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথাসাহিত্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন?
- ক. চতুষ্কোণ ও সরীসৃপ
- খ. পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা
- গ. জননী ও চিহ্ন
- ঘ. শহরতলী ও অহিংস
উত্তর: খ। পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা লিখে তিনি বাংলা কথাসাহিত্যের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
৯। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৫৬
- খ. ১৯৫৫
- গ. ১৯৫৪
- ঘ. ১৯৫৭
উত্তর: ক। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মমতাদি গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। ‘মমতাদি’ গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
- ক. চতুষ্কোণ
- খ. অহিংস
- গ. সরীসৃপ
- ঘ. জননী
উত্তর: গ। ‘মমতাদি’ গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরীসৃপ (১৯৩৯) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
১১। গল্পের মূল বিষয়বস্তু কী?
- ক. রাজনৈতিক সংগ্রাম
- খ. গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ
- গ. ঐতিহাসিক ঘটনা
- ঘ. প্রেমের কাহিনি
উত্তর: খ। গল্পে গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে।
১২। গল্পের শুরুতে মমতা কী প্রস্তাব নিয়ে আসে?
- ক. রান্নার কাজের প্রস্তাব
- খ. সেলাইয়ের কাজের প্রস্তাব
- গ. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব
- ঘ. পড়ানোর প্রস্তাব
উত্তর: ক। মমতা এসেই সরাসরি জিজ্ঞেস করে, তাদের রান্নার জন্য লোক লাগবে কিনা, সে ছোটো ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনাও করবে।
১৩। মমতার বয়স আনুমানিক কত ছিল?
- ক. আঠাশ বছর
- খ. তেইশ বছর
- গ. একুশ বছর
- ঘ. পঁচিশ বছর
উত্তর: খ। তার বয়স আনুমানিক তেইশ বছর ছিল।
১৪। মমতার কপালে কী চিহ্ন ছিল?
- ক. একটি সিঁদুরের দাগ
- খ. একটি তিল
- গ. একটি ক্ষত-চিহ্ন, টিপের মতো
- ঘ. কোনো চিহ্ন ছিল না
উত্তর: গ। তার কপালে আন্দাজে পরা টিপের মতো একটি ক্ষত-চিহ্ন ছিল।
১৫। মমতার স্বামী কেন বেকার ছিলেন?
- ক. তিনি কাজ করতে চাননি
- খ. তিনি অসুস্থ ছিলেন
- গ. তার চাকরি চার মাস ধরে ছিল না
- ঘ. তিনি অন্য শহরে ছিলেন
উত্তর: গ। মমতা জানায়, তার স্বামীর চাকরি চার মাস ধরে নেই, সংসার চলছে না।
১৬। মমতার এটি কততম চাকরি?
- ক. চতুর্থ
- খ. প্রথম
- গ. তৃতীয়
- ঘ. দ্বিতীয়
উত্তর: খ। এটি ছিল মমতার প্রথম চাকরি— পর্দা ঠেলে উপার্জনের জন্য বাইরে আসার প্রথম অভিজ্ঞতা।
১৭। মমতার মাইনে কত টাকা নির্ধারিত হয়েছিল?
- ক. আঠারো টাকা
- খ. বারো টাকা
- গ. দশ টাকা
- ঘ. পনের টাকা
উত্তর: ঘ। পনের টাকা মাইনে ঠিক হয়েছিল, যদিও সে বারো টাকা আশা করেছিল বলে অনুমান করা হয়।
১৮। মাইনে শুনে মমতার প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. সে দর কষাকষি করে
- খ. সে নির্বিকার থাকে
- গ. কৃতজ্ঞতায় তার দুচোখ সজল হয়ে ওঠে
- ঘ. সে অসন্তুষ্ট হয়
উত্তর: গ। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মাইনে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় তার দুচোখ সজল হয়ে ওঠে, যদিও সে তা নীরবেই প্রকাশ করে।
১৯। প্রথম দিন কাজে যোগ দেওয়ার পর মমতা কেমন আচরণ করে?
- ক. নীরবে দক্ষতার সাথে কাজ করে যায়
- খ. অত্যন্ত কথাবার্তা বলে
- গ. প্রায়ই ভুল করে
- ঘ. কাজে অমনোযোগী থাকে
উত্তর: ক। সে নীরবে নতমুখে কাজ করে যায়, অনর্থক প্রশ্ন করে না, নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করে।
২০। কথক (ছোটো ছেলেটি) কেন প্রথমদিকে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল?
- ক. মমতা তাকে বকেছিল বলে
- খ. মমতা দেরিতে এসেছিল বলে
- গ. মমতার রান্না ভালো লাগেনি বলে
- ঘ. মমতা তাকে বিশেষ স্নেহ দেখায়নি বলে
উত্তর: ঘ। মা বলেছিলেন মমতা তাকে খুব ভালোবাসবে, কিন্তু কয়েকদিন সে কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না— তাই কথক ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।
২১। মমতা কীভাবে কথকের সাথে প্রথম ভাব করে?
- ক. তাকে পড়া শিখিয়ে
- খ. মিষ্টি চুরি করতে দেখে সস্নেহে বাধা দিয়ে
- গ. তাকে গল্প শুনিয়ে
- ঘ. তাকে খেলনা দিয়ে
উত্তর: খ। কুটুমের আনা মিষ্টি চুরি করে খেতে গিয়ে ধরা পড়ে কথক; মমতা রাগ না দেখিয়ে সস্নেহে তাকে বেশি না খেতে বলে, এখান থেকেই তাদের ভাব শুরু হয়।
২২। মিষ্টি খাওয়া নিয়ে মমতার প্রতিক্রিয়া মায়ের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে কীভাবে ভিন্ন ছিল?
- ক. মমতা বিষয়টি মাকে জানিয়ে দেয়
- খ. মমতা আরও বেশি রাগ করত
- গ. মমতা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি
- ঘ. মমতার কথা ছিল ভর্ৎসনা নয়, বরং কোমল আবেদন
উত্তর: ঘ। মায়ের কাছে ধরা পড়লে বকুনি খেত, কিন্তু মমতার কথায় ছিল ভর্ৎসনার বদলে কোমল আবেদন, যা কথকের মন গলিয়ে দেয়।
২৩। কথক মমতাকে প্রথমে কী নামে ডেকেছিল, যা তাকে আঘাত করে?
- ক. মাসি
- খ. দিদি
- গ. খালা
- ঘ. বামুনদি
উত্তর: ঘ। কথক তাকে ‘বামুনদি’ বলে ডাকলে সে চমকে হাসি বন্ধ করে, যেন তাকে গাল দেওয়া হয়েছে এমনভাবে তাকায়।
২৪। ‘বামুনদি’ শব্দের বদলে মমতা কী বলে ডাকতে বলে?
- ক. দিদি
- খ. বৌদি
- গ. মাসিমা
- ঘ. আন্টি
উত্তর: ক। মমতা অনুরোধ করে, তাকে বামুনদি না বলে শুধু ‘দিদি’ বলে ডাকতে।
২৫। মা হঠাৎ ঘরে এসে মমতাকে ছেলেকে জড়িয়ে ধরতে দেখলে মমতার প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. সে রেগে যায়
- খ. সে কেঁদে ফেলে
- গ. সে স্বাভাবিক থাকে
- ঘ. বিব্রত ও ভীত হয়ে দ্রুত সামলে নেয়
উত্তর: ঘ। ধরা পড়া চোরের মতো হঠাৎ বিব্রত হয়ে ওঠে, চোখে ভয় দেখা দেয়, কিন্তু পরক্ষণেই কথকের কপালে চুম্বন করে মাকে বলে তার ছেলে কত কথা বলতে পারে।
২৬। মা হাসিমুখে মন্তব্য করার পর মমতার চোখে কী দেখা যায়?
- ক. আনন্দের ঝিলিক
- খ. দুফোঁটা দুর্বোধ্য অশ্রু
- গ. কোনো প্রতিক্রিয়া নেই
- ঘ. রাগ
উত্তর: খ। মা তাকে অপমান না করে সহানুভূতিসহ কথা বলায় তার চোখ দিয়ে দুফোঁটা দুর্বোধ্য অশ্রু ঝরে পড়ে— অপমানে হয়তো চোখ শুকনোই থাকত, কিন্তু সম্মানের করুণামাখা ভাব তার সহ্য হয়নি।
**২৭। মমতা ও কথকের প্রথম পরিচয়ের অধ্যায় নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. মমতা প্রথম দিন থেকেই কথকের সাথে গল্প করত
ii. মিষ্টি চুরির ঘটনার পর থেকে তাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়
iii. মমতা ‘বামুনদি’ ডাক শুনে খুশি হয়েছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. শুধু ii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** শুধু দ্বিতীয় তথ্যটি সঠিক— প্রথম সপ্তাহ মমতা সবাইকে উপেক্ষা করত, প্রথম দিন থেকে গল্প করেনি; আর ‘বামুনদি’ ডাকে সে আঘাত পেয়েছিল, খুশি হয়নি।
২৮। কয়েকদিন পর কথক মমতার গালে কী লক্ষ করে?
- ক. আঙুলের তিনটি দাগ
- খ. একটি ক্ষত
- গ. একটি ফোলা
- ঘ. একটি তিল
উত্তর: ক। কথক তার গালে আঙুলের মতো তিনটি দাগ দেখতে পায়, যা মাস্টারের চড়ে অবনীর গালে যেমন দাগ হয়েছিল তেমনি।
২৯। দাগের কারণ জিজ্ঞেস করলে মমতা প্রথমে কী বলে?
- ক. সত্যি কথা বলে দেয়
- খ. চুপ করে থাকে
- গ. কেঁদে ফেলে
- ঘ. মশা মারতে গিয়ে নিজের গালে চড় মেরেছে বলে
উত্তর: ঘ। সে বলে, রাতে গালে মশা বসেছিল, রেগে নিজেই নিজের গালে চড় মেরেছে— একটি অবিশ্বাস্য অজুহাত।
৩০। কথক মমতার কথা বিশ্বাস না করার কারণ কী?
- ক. মমতা নিজেই স্বীকার করে
- খ. তার গলার স্বর বদলে যায়
- গ. মুখ-চোখ ও কথার সুরে সত্যিটা ধরা পড়ে যায়
- ঘ. প্রতিবেশীরা জানিয়ে দেয়
উত্তর: গ। শুধু দাগ নয়, তার মুখ-চোখের ভাব ও কথার সুর সব মিলিয়ে কথকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে কেউ তাকে মেরেছে।
৩১। মমতা কথকের হাত টেনে বুকে চেপে ধরে কী বলে?
- ক. আমাকে ক্ষমা করো
- খ. কারো কাছে যা পাই না, তুমি তা দেবে কেন
- গ. আমাকে সাহায্য করো
- ঘ. তুমি আমার ভাই
উত্তর: খ। সে ফিসফিস করে বলে, ‘কারো কাছে যা পাই না, তুমি তা দেবে কেন’— এক গভীর রহস্যময় ও বেদনাদায়ক উক্তি।
৩২। স্বামীর চাকরি হলে কী করবে জিজ্ঞেস করায় মমতা প্রথমে কী উত্তর দেয়?
- ক. সে চুপ করে থাকে
- খ. রসিকতা করে হরির লুট দেওয়ার কথা বলে
- গ. সে সরাসরি উত্তর দেয়
- ঘ. সে কেঁদে ফেলে
উত্তর: খ। সে রসিকতার সুরে জিজ্ঞেস করে, কথক কী চায়— হরির লুট, নাকি সন্দেশ।
৩৩। মমতার স্বামীর চাকরি হয়েছে শুনে কথকের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. সে পুলকিত হয়ে মাকে সংবাদ জানায়
- খ. সে বিশ্বাস করে না
- গ. সে উদাসীন থাকে
- ঘ. সে দুঃখ পায়
উত্তর: ক। স্বামীর চাকরির জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল কথক, তাই খবরটি শুনে পুলকিত হয়ে মাকে জানিয়ে দেয়।
৩৪। মা মমতাকে ডেকে কী প্রস্তাব দেন?
- ক. অন্য কাজ দেওয়ার প্রস্তাব
- খ. বাড়িতে থাকার প্রস্তাব
- গ. মাইনে বাড়ানোর প্রস্তাব
- ঘ. চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ দেন
উত্তর: ঘ। স্বামীর চাকরি হওয়ায় মা তাকে বলেন, তাকে আটকে রাখা হবে না, ইচ্ছে করলে এবেলাই কাজ ছাড়তে পারে, তাতে অসুবিধা হবে না।
৩৫। মমতা কী উত্তর দেয়?
- ক. সে তৎক্ষণাৎ চাকরি ছেড়ে দেয়
- খ. সে অন্য একটি কাজে যোগ দেয়
- গ. সে কাজ চালিয়ে যেতে চায়
- ঘ. সে সিদ্ধান্ত নিতে সময় চায়
উত্তর: গ। মমতা বলে, স্বামীর সামান্য চাকরিতে সংসার চলবে না, তাই তাকে যেন কাজ থেকে ছাড়ানো না হয়, এবং জিজ্ঞেস করে তার কাজ ভালো হচ্ছে কিনা।
৩৬। মা মমতাকে আশ্বস্ত করে কী বলেন?
- ক. তাকে আরও কাজ দেওয়া হবে
- খ. তার সাথে কোনো আলোচনা হয়নি
- গ. তার বেতন বাড়ানো হবে
- ঘ. তার প্রতি তাদের মায়া বসেছে বলে জানান
উত্তর: ঘ। মা বলেন, তার শত্রুও তার কাজের সমালোচনা করতে পারবে না, বিষয়টি কাজ নিয়ে নয়— তার প্রতি মায়া বসে গেছে, তাই তার চলে যাওয়া তাদের কষ্ট দেবে।
৩৭। মায়ের আন্তরিক কথা শুনে মমতা কী করে?
- ক. খুশি হয়ে ধন্যবাদ জানায়
- খ. তর্ক করতে শুরু করে
- গ. পালিয়ে গিয়ে রান্নাঘরে কাঁদে
- ঘ. নির্বিকার থাকে
উত্তর: গ। সে এক রকম পালিয়ে যায়; কথক পিছু নিয়ে দেখে সে রান্নাঘরে কাঁদছে।
৩৮। কান্নার পর মমতা কথককে কোন অদ্ভুত প্রশ্ন করে?
- ক. তোমার নাম কী?
- খ. তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
- গ. মিথ্যে বললে কি হয়, খোকা?
- ঘ. তুমি কি বড় হয়ে কী হবে?
উত্তর: গ। সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, ‘মিথ্যে বললে কি হয় খোকা?’, এবং পরে জিজ্ঞেস করে গুরুনিন্দা বাঁচাতে মিথ্যা বললে কী হয়— যা ইঙ্গিত দেয় তার মনে কোনো গোপন কষ্ট বা লুকোনো সত্য রয়েছে।
৩৯। মমতার বাড়ি যাওয়ার পথে গলিটির নাম কী ছিল?
- ক. জীবনানন্দ লেন
- খ. জীবনতারা লেন
- গ. জীবনদয়াল লেন
- ঘ. জীবনময় লেন
উত্তর: ঘ। গলিটির নাম ছিল জীবনময় লেন, যদিও তার নোংরা পরিবেশ দেখে কথকের মনে হয়েছিল কেউ যেন ঠাট্টা করে এই নাম রেখেছিল।
৪০। জীবনময় লেনের পরিবেশ কেমন ছিল?
- ক. সবুজে ঘেরা
- খ. পরিষ্কার ও খোলামেলা
- গ. নোংরা, অন্ধকার, আবর্জনাপূর্ণ, দুর্গন্ধযুক্ত
- ঘ. প্রশস্ত ও আলোকিত
উত্তর: গ। গলিটি বিশ্রী নোংরা, দুদিকের বাড়ির চাপে অন্ধকার, আবর্জনাপূর্ণ এবং দূষিত চাপা গন্ধযুক্ত ছিল।
৪১। মমতার বাড়ি কত তলা ছিল?
- ক. তিনতলা
- খ. দোতলা, তবে অত্যন্ত ক্ষুদ্র
- গ. একতলা
- ঘ. চারতলা
উত্তর: খ। বাড়িটি দোতলা ছিল, কিন্তু যতটা ক্ষুদ্র দোতলা হওয়া সম্ভব, ততটাই ছোট।
৪২। মমতাদের রান্নাঘরের বর্ণনা কেমন ছিল?
- ক. আধুনিক ও সুসজ্জিত
- খ. টিনের ছাদ ও চটের বেড়ার রান্নাঘর
- গ. একটি পাকা ঘর
- ঘ. খোলা আকাশের নিচে
উত্তর: খ। এক পাশে একশিট করোগেট আয়রনের ছাদ ও চটের বেড়ার অস্থায়ী রান্নাঘর ছিল, যার চটগুলো কয়লার ধোঁয়ায় কালো হয়ে গিয়েছিল।
৪৩। মমতাদের শোবার ঘরে কথককে বসানো হয় কীসের ওপর?
- ক. একটি টুলে
- খ. মেঝেতে
- গ. একটি খাটে
- ঘ. একটি চেয়ারে
উত্তর: ক। মমতা কথককে শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে একটি টুলে বসায়।
৪৪। ঘরে কথক আর কাকে দেখতে পায়?
- ক. একজন প্রতিবেশীকে
- খ. মমতার শাশুড়িকে
- গ. মমতার স্বামীকে
- ঘ. মমতার ঘুমন্ত পাঁচ বছরের ছেলেকে
উত্তর: ঘ। ঘরে চৌকিতে মাদুরের ওপর উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে থাকা মমতার পাঁচ বছরের ছেলেকে কথক দেখতে পায়।
৪৫। ছেলেটির অসুস্থতা সম্পর্কে মমতা কী বলে?
- ক. পেটব্যথায় সারারাত ঘুমাতে পারেনি ছেলে
- খ. সে সুস্থ আছে
- গ. সে সবসময় অসুস্থ থাকে
- ঘ. তার জ্বর হয়েছিল
উত্তর: ক। মমতা বলে, আগের রাতে ছেলেটির পেটব্যথায় সে নিজেও ঘুমাতে পারেনি, ছেলেকেও ঘুমাতে দেয়নি।
৪৬। মমতা কথককে কী খেতে দেয়?
- ক. চা
- খ. কমলা লেবু
- গ. মুড়ি
- ঘ. মিষ্টি
উত্তর: খ। পথে কেনা কমলা লেবু কথককে খেতে দেয়, বলে ঘরে মুড়ি ছাড়া কিছু নেই, দোকানের জিনিস দেবে না।
৪৭। মমতা লেবু খাওয়ানোর পর কী মন্তব্য করে?
- ক. ‘সবাই যদি তোমার মতো ভালোবাসত’
- খ. সে ক্লান্ত বোধ করছে
- গ. তার আফসোস হচ্ছে
- ঘ. সে আরও লেবু আনবে
উত্তর: ক। কথক আরেকটি লেবু চাইলে হেসে দিয়ে মমতা বলে, ‘কৃতার্থ হলাম। সবাই যদি তোমার মতো ভালোবাসত!’
৪৮। মমতাদের ঘরে জানালা থাকা সত্ত্বেও কোন সমস্যা ছিল?
- ক. জানালা ছিল না
- খ. বাতাস চলাচল প্রায় অসম্ভব ছিল
- গ. জানালাগুলো ভাঙা ছিল
- ঘ. জানালা দিয়ে আলো আসত না
উত্তর: খ। জানালা দুটির অবস্থান এমন ছিল যে আলো কিছুটা এলেও বাতাসের আসা-যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।
৪৯। বাড়ি ফেরার আগে মমতা কথককে বাইরে বসিয়ে কী করে?
- ক. ঘুমিয়ে পড়ে
- খ. প্রতিবেশীর সাথে গল্প করে
- গ. কথা বলতে বলতে ঘরের টুকিটাকি কাজ সেরে নেয়
- ঘ. বিশ্রাম নেয়
উত্তর: গ। কথককে রোয়াকে মাদুর পেতে বসিয়ে মমতা কথা বলার সাথে সাথে ঘর ঝাঁট দেওয়া, কড়াই মাজা, পানি তোলা ও মশলা বাটার মতো সাংসারিক কাজ করে নেয়।
৫০। গল্পের শেষে মমতা কথককে কী বলে বাড়ি পাঠায়?
- ক. অন্ধকার হয়ে আসছে বলে
- খ. মা ডাকছেন বলে
- গ. তার পড়া বাকি আছে বলে
- ঘ. তার ক্ষিদে পেয়েছে বলে
উত্তর: ঘ। সে বলে, ‘তুমি এবার বাড়ি যাও ভাই। তোমার খিদে পেয়েছে।’
৫১। ‘বামুনদি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একটি সম্মানসূচক উপাধি মাত্র
- খ. একটি নেতিবাচক শব্দ
- গ. একটি আঞ্চলিক শব্দ
- ঘ. গৃহকর্মে নিয়োজিত ব্রাহ্মণকন্যাদের প্রচলিত ডাক
উত্তর: ঘ। বামুনদি ব্রাহ্মণদিদির সংক্ষিপ্ত কথ্যরূপ— আগে রান্না বা গৃহকর্মে নিয়োজিত ব্রাহ্মণকন্যাদের এই নামে ডাকা হতো।
৫২। ‘পর্দা ঠেলে উপার্জন’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
- ক. পর্দা সেলাই করার কাজ
- খ. পর্দা তৈরি করে বিক্রি করা
- গ. অন্তঃপুরের প্রথা ভেঙে বাইরে আয়-রোজগার করা
- ঘ. একটি নাটকীয় পরিভাষা
উত্তর: গ। এটি নারীদের অন্তঃপুরে থাকার প্রথাভঙ্গ করে বাইরে এসে উপার্জনের চেষ্টা করাকে বোঝায়— মমতার প্রথম চাকরির প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত।
৫৩। ‘হরির লুট’ বলতে কী বোঝায়?
- ক. হরির নামে বাতাসা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো দান করা
- খ. একটি খাবারের নাম
- গ. চুরি করা
- ঘ. একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র
উত্তর: ক। হরির লুট অর্থ সংকীর্তনের পর হরির নামে যেভাবে বাতাসা ছড়ানো হয়, সেভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দান করা।
৫৪। পাঠ-পরিচিতি অনুসারে মমতাদির মধ্যে কোন দিকটি সবসময় সমুন্নত ছিল?
- ক. তার শিক্ষাগত যোগ্যতা
- খ. তার আত্মমর্যাদাবোধ
- গ. তার রন্ধনশৈলী
- ঘ. তার আর্থিক অবস্থা
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী মমতাদির আত্মমর্যাদাবোধ সবসময়ই সমুন্নত ছিল— সে নিজে যেমন সম্মান প্রত্যাশা করত, তেমনি অন্যকেও স্নেহ দিতে দ্বিধা করত না।
৫৫। কথকের প্রতি মমতাদির স্নেহ প্রকাশের ধরন থেকে কী বোঝা যায়?
- ক. এটি নিছক পেশাগত সৌজন্য ছিল
- খ. এটি শুধু বেতন বৃদ্ধির কৌশল ছিল
- গ. কাজ নিলেও তার স্নেহবোধ ছিল আন্তরিক
- ঘ. তার কোনো প্রকৃত স্নেহ ছিল না
উত্তর: গ। গল্প জুড়ে দেখা যায়, দারিদ্র্যের কারণে কাজ নিলেও কথকের প্রতি মমতাদির স্নেহ সম্পূর্ণ আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ— এটি সামাজিক শ্রেণির ঊর্ধ্বে মানবিক সম্পর্কের একটি দৃষ্টান্ত।
৫৬। গল্পের শিক্ষা কী?
- ক. শুধু অর্থের বিনিময়েই সম্পর্ক টেকে
- খ. গরিব মানুষদের প্রতি করুণা দেখানো উচিত নয়
- গ. সামাজিক শ্রেণি মানবিক সম্পর্কে বাধা নয়
- ঘ. গৃহকর্মীদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত
উত্তর: গ। গল্পটি শেখায়, সামাজিক শ্রেণি মানবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না— যে কোনো পেশার মানুষকেই শ্রদ্ধা ও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে হবে।
রুমা তাদের বাসায় কাজ করা গৃহকর্মী ফুলবানুর সাথে সবসময় সমান আচরণ করে, তাকে ‘আপা’ বলে ডাকে, তার সন্তানের খোঁজ নেয়। একদিন ফুলবানুর হাতে কালশিটে দাগ দেখে রুমা জিজ্ঞেস করলে ফুলবানু প্রথমে এড়িয়ে যায়, পরে জানা যায় তার স্বামী তাকে মেরেছে।
৫৭। ফুলবানুর প্রাথমিক এড়িয়ে যাওয়ার আচরণের সাথে ‘মমতাদি’ গল্পের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়?
- ক. মমতার মিথ্যা অজুহাত দেওয়ার দৃশ্যের সাথে
- খ. মমতার বেতন গ্রহণের দৃশ্যের সাথে
- গ. মমতার লেবু কেনার দৃশ্যের সাথে
- ঘ. মমতার বাড়ি দেখানোর দৃশ্যের সাথে
উত্তর: ক। মমতাও গালের দাগ নিয়ে প্রথমে মিথ্যা অজুহাত (মশা মারার) দিয়েছিল, ফুলবানুও প্রথমে এড়িয়ে গিয়েছিল— নিজের কষ্ট বা পারিবারিক সমস্যা গোপন রাখার এই প্রবণতা উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন।
৫৮। এই ধরনের প্রতিক্রিয়ার পেছনে সাধারণত কোন মানসিকতা কাজ করে?
- ক. মিথ্যা বলার অভ্যাস
- খ. আক্রমণাত্মক মনোভাব
- গ. লজ্জা, আত্মসম্মানবোধ ও পারিবারিক সমস্যা প্রকাশে দ্বিধা
- ঘ. উদাসীনতা
উত্তর: গ। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কষ্ট প্রকাশ করলে করুণার পাত্র হতে হবে এই ভয় এবং আত্মসম্মানবোধ থেকেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা মমতা ও ফুলবানু উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
