নিমগাছ গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “নিমগাছ” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য নিমগাছ গল্পের MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
বনফুল ও নিমগাছ গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
বনফুলের প্রকৃত নাম কী?
বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
বনফুল কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
বনফুলের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহার গ্রাম।
বনফুলের পেশা কী ছিল?
তিনি পেশায় চিকিৎসক ছিলেন।
বনফুল কোন উপাধিতে সম্মানিত হন?
তিনি পদ্মভূষণ উপাধিতে সম্মানিত হন।
বনফুলের একটি গল্পগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ ‘বনফুলের গল্প’।
বনফুল কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
বনফুল কোন কলেজ থেকে এমবি পাশ করেন?
তিনি পাটনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবি পাশ করেন।
বনফুলের সাহিত্যজগতে প্রবেশ ঘটে কোন পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে?
১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে শনিবারের চিঠি পত্রিকায় ব্যঙ্গ-কবিতা ও প্যারোডি লিখে তাঁর সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ ঘটে।
বনফুল কোন পত্রিকায় ক্ষুদ্রাকৃতির গল্প লিখতেন?
প্রবাসী পত্রিকায় তিনি একপাতা-আধপাতার আকারে ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ গল্প লিখতেন।
নিচের কোনটি বনফুলের গল্পগ্রন্থ নয়?
তৃণখণ্ড বনফুলের একটি উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ নয়; বাকি তিনটি তাঁর গল্পগ্রন্থ।
বনফুল কোন সম্মানসূচক উপাধি লাভ করেন?
বিভিন্ন পুরস্কারসহ তিনি পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন।
নিমগাছ গল্পে বনফুল কোন সাহিত্যিক কৌশল ব্যবহার করে স্বল্প পরিসরে গভীর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন?
নিমগাছকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে এবং গল্পের একেবারে শেষে একটি চমকপ্রদ পঙক্তি দিয়ে বনফুল অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে গভীর সামাজিক বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
নিমগাছ গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘নিমগাছ’ গল্পটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
এটি ‘অদৃশ্যলোক’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
নিমগাছ কীভাবে ব্যবহারিক উপকার করে বলে গল্পে উল্লেখ আছে?
নিমের ছাল, পাতা, ডাল দিয়ে চর্মরোগের চিকিৎসা, যকৃতের উপকার ও দাঁতের যত্ন হয়।
বিজ্ঞরা নিমগাছ সম্পর্কে কী পরামর্শ দেন?
বাড়ির পাশে নিমগাছ থাকলে তা কাটতে নিষেধ করেন।
নিমগাছের প্রতি বাস্তবে মানুষের আচরণ কেমন?
প্রকৃত যত্ন কেউ নেয় না, গাছের চারপাশে আবর্জনা জমে বা লোকদেখানো শান বাঁধানো হয়।
একদিন কে এসে নিমগাছের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন?
একজন কবি এসে নিমগাছের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন।
কবি নিমগাছ দেখে কী করেন?
কবি ছাল-পাতা-ডাল স্পর্শ না করে শুধু মুগ্ধদৃষ্টিতে গাছটি দেখেন।
নিমগাছের ইচ্ছা কী ছিল, কবি চলে যাওয়ার সময়?
নিমগাছের ইচ্ছা হয় কবির সাথে যাওয়ার।
নিমগাছ কেন কবির সাথে যেতে পারে না?
গভীরে প্রোথিত শিকড় তাকে যেতে দেয় না।
নিমগাছ গল্পের শেষ বাক্যে কীসের প্রতীকী উন্মোচন ঘটে?
নিমগাছের দশা বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের দশারই প্রতিচ্ছবি বলে প্রকাশ পায়।
‘ছাল’ শব্দের অর্থ কী?
ছাল অর্থ বাকল।
গল্পটি কোন ধরনের গদ্যে লেখা?
গল্পটি কবিতার ছন্দে সাজানো গদ্যে লেখা।
নিমগাছকে গল্পে কীসের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে?
নিমগাছকে নারীর আত্মত্যাগ ও অবহেলার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘শান দিয়ে বাঁধানো’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
ইট-সিমেন্ট দিয়ে ঘেরা বা বাঁধানো।
গল্পটির গঠনশৈলী সম্পর্কে পাঠ-পরিচিতিতে কী বলা হয়েছে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই ক্ষুদ্র আকৃতির গল্পে বিপুল বক্তব্য উপস্থাপনের যে দক্ষতা লেখক দেখিয়েছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল।
গল্পটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের রচনা?
এটি একটি প্রতীকী গল্প— নিমগাছের প্রতীকের মাধ্যমে নারীর আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
নিমগাছের ছাল দিয়ে মানুষ কী করে?
গল্পের শুরুতেই বলা হয়েছে, কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।
নিমপাতা কোন রোগের ‘অব্যর্থ মহৌষধ’ বলা হয়েছে?
নিমপাতাকে চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ বলা হয়েছে।
কচি নিমের ডাল কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
কচি ডাল ভেঙে চিবোলে দাঁত ভালো থাকে বলে কবিরাজরা এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা কী বলেন?
বিজ্ঞরা বলেন, ‘নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না’— তবে গাছটির প্রকৃত যত্ন তারা নেন না।
নিমগাছ না কাটলেও মানুষ তার প্রতি কেমন আচরণ করে?
গল্পে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না— চারপাশে আবর্জনা জমতে থাকে।
নিমগাছের চারপাশে কী জমে থাকে?
যত্নের অভাবে নিমগাছের চারিদিকে আবর্জনা জমে ওঠে।
একদিন কেমন ধরনের একজন লোক নিমগাছের কাছে আসে?
হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এসে মুগ্ধদৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে থাকে।
এই নতুন লোকটি নিমগাছের সাথে কী করেনি, যা অন্যরা করত?
সে ছাল তোলেনি, পাতা ছেঁড়েনি, ডাল ভাঙেনি— শুধু মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে থেকেছে, ব্যবহারিক প্রয়োজনে নয়।
লোকটি নিমগাছ দেখে কী মন্তব্য করে?
সে বলে ওঠে, ‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি… কী রূপ! থোকা-থোকা ফুলেরই বা কী বাহার…’— নিমগাছের নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করে, যা আগে কেউ করেনি।
এই লোকটি আসলে কে ছিল?
লেখক স্পষ্ট করে বলেন, ‘কবিরাজ নয়, কবি’— অর্থাৎ ব্যবহারিক উপকারিতার বদলে নিছক সৌন্দর্যের কদর করা একজন কবি।
নিমগাছটির মনে কী ইচ্ছা জাগে?
নিমগাছটার ইচ্ছা করতে থাকে লোকটার সঙ্গে চলে যায়— এই প্রথম কেউ তাকে নিছক সৌন্দর্যের জন্য মূল্য দিয়েছে।
নিমগাছ গল্পের আঙ্গিক (কবিতার মতো পঙক্তি বিভাজন) সম্পর্কে কী বলা যায়?
গল্পটি ছোট ছোট পঙক্তিতে বিভক্ত, যা কবিতার মতো ছন্দময় গতি সৃষ্টি করে— বনফুলের অনন্য গদ্যশৈলীর পরিচয় এতে স্পষ্ট।
নিমগাছ গল্পের বর্ণনায় ব্যবহারিক উপযোগিতা ও নান্দনিক সৌন্দর্যের মধ্যে কোন বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে?
গল্পের প্রথমাংশ জুড়ে শুধু নিমগাছের ব্যবহারিক উপকারিতার কথা বলা হয়, তার সৌন্দর্যের কথা কেউ বলে না— যতক্ষণ না কবি এসে তার রূপের প্রশংসা করেন, এই বৈপরীত্যই গল্পের মূল কাঠামো।
সালমার পরিস্থিতির সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?
সালমাও পরিবারে শুধু তার সাংসারিক কাজের জন্যই মূল্যবান, তার ব্যক্তিসত্তা বা প্রতিভা কারো নজরে পড়ে না— ঠিক যেমন নিমগাছের সৌন্দর্য কেউ দেখেনি, শুধু উপযোগিতাই দেখেছে।
সালমার বন্ধুর প্রশ্নটি নিমগাছ গল্পের কোন চরিত্রের ভূমিকার সাথে তুলনীয়?
বন্ধুটি সালমার মধ্যে তার ব্যবহারিক ভূমিকার বাইরে গিয়ে তার সৃজনশীল সত্তাকে চিনতে পেরেছে— ঠিক যেমন কবি নিমগাছের মধ্যে তার উপযোগিতার বাইরে গিয়ে সৌন্দর্য দেখেছিলেন।
নিমগাছ গল্পের একেবারে শেষ বাক্যটি হঠাৎ পাঠকের কাছে কী প্রভাব সৃষ্টি করে?
শেষ বাক্য পর্যন্ত পাঠক ভাবেন এটি নিছক একটি গাছের গল্প, কিন্তু শেষ পঙক্তিতে হঠাৎ প্রতীকী অর্থ উন্মোচিত হয়ে পুরো গল্পটিকেই নতুন আলোয় দেখায়— এই আকস্মিক চমকই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল।
‘নিমগাছ’ গল্পটি পাঠককে মূলত কোন বিষয়ে সচেতন করতে চায়?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী গল্পটি নারীর মানবিক মর্যাদা, তার পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার ইঙ্গিত দেয়।
নিমগাছের প্রতি মানুষের আচরণে কোন সামাজিক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়?
যে নিয়মিত উপকার করে যায়, তাকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে বা তার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে— এই বিদ্রূপাত্মক সত্যই গল্পের কেন্দ্রে।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
নিমগাছ গল্পের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
বনফুলের কর্মজীবন কীভাবে শুরু হয়?
মেডিক্যাল অফিসার পদে চাকরির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
নিমগাছ গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
নিমগাছের ব্যবহারিক উপকারিতার বর্ণনা দিয়ে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন— ব্যাখ্যা করো।
নিমগাছের চর্মরোগ, যকৃত ও দাঁতের যত্নে ব্যবহারের বর্ণনা দিয়ে লেখক দেখান, এই গাছ প্রতিনিয়ত মানুষের উপকার করে চলে— এটি নারীর নিরলস, নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীকী প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে।
নিমগাছের প্রতি অবহেলা কোন সামাজিক প্রবণতা প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।
যে জিনিস বা মানুষ প্রতিনিয়ত উপকার করে, তাকেই প্রায়ই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়— এই বিদ্রূপাত্মক সামাজিক সত্যই নিমগাছের প্রতি মানুষের উদাসীন আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
কবি চরিত্রের ভূমিকা নিমগাছ গল্পে কী তাৎপর্য বহন করে— ব্যাখ্যা করো।
কবি নিমগাছের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং প্রশংসা করেন, কিন্তু তা নিমগাছের প্রকৃত পরিস্থিতি বদলাতে পারে না। এর মাধ্যমে লেখক দেখান, প্রকৃত মূল্যায়ন বা প্রশংসা পেলেও তা বাস্তব মুক্তি বা পরিবর্তন আনতে নাও পারে।
নিমগাছের কবির সাথে যেতে না পারার প্রতীকী অর্থ কী— ব্যাখ্যা করো।
নিমগাছের গভীরে প্রোথিত শিকড় তাকে যেতে দেয় না— এই শিকড় প্রতীকীভাবে সাংসারিক দায়বদ্ধতাকে বোঝায়, যা নারীকে চাইলেও মুক্তভাবে নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে দেয় না।
গল্পের শেষ বাক্যের চমক (নিমগাছ = গৃহকর্ম-নিপুণা বউ) কী কার্যকারিতা রাখে— ব্যাখ্যা করো।
পুরো গল্প জুড়ে নিমগাছের কথা বলা হলেও শেষ বাক্যে হঠাৎ প্রকাশ পায় এটি আসলে একজন নারীর রূপক বর্ণনা— এই আকস্মিক উন্মোচন পাঠকের মনে গভীর দার্শনিক প্রভাব ফেলে এবং গল্পের প্রকৃত বার্তা স্পষ্ট করে।
নিমগাছ গল্পে নারীর প্রতি পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে সমালোচিত হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।
নিমগাছের মতোই পরিবারে নারীকেও শুধু তার ব্যবহারিক উপযোগিতার (রান্না, সেবা, গৃহকর্ম) ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়, তার প্রকৃত সৌন্দর্য, অনুভূতি বা ব্যক্তিত্বের প্রতি কোনো মনোযোগ দেওয়া হয় না— এই সমালোচনাই গল্পের কেন্দ্রীয় বার্তা।
নিমগাছ গল্পের সংক্ষিপ্ত আকার তার বার্তা প্রকাশে কীভাবে সহায়ক হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে, কবিতার ছন্দে সাজানো গদ্যে লেখা এই গল্প কোনো দীর্ঘ ব্যাখ্যা ছাড়াই একটি গভীর সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে— এই সংক্ষিপ্ততাই গল্পের প্রতীকী শক্তিকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে।
নিমগাছের চারপাশে আবর্জনা জমা বা লোকদেখানো শান বাঁধানোর দৃশ্য কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।
এই দৃশ্য দেখায়, মানুষ প্রকৃত যত্নের বদলে ঊর্ধ্বতন আনুষ্ঠানিকতা বা লোকদেখানো ব্যবস্থা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে— প্রকৃত মূল্যায়নের বদলে ভাসাভাসা সম্মান প্রদর্শনের এই প্রবণতা নারীর প্রতি সমাজের আচরণেরও প্রতিফলন।
গল্পটি কোন সাহিত্যিক কৌশলের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি রূপক বা প্রতীকী আখ্যানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত— একটি সাধারণ প্রাকৃতিক বস্তু (নিমগাছ) দিয়ে জটিল সামাজিক বাস্তবতা (নারীর অবস্থান) প্রকাশ করার কৌশলই গল্পটিকে সাহিত্যিকভাবে অসাধারণ করে তুলেছে।
গল্পটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি শেখায়, যারা নিঃস্বার্থভাবে পরিবার বা সমাজের সেবা করে যায়, তাদের প্রকৃত মূল্যায়ন ও মর্যাদা দেওয়া উচিত— শুধু ব্যবহারিক উপযোগিতার দৃষ্টিতে না দেখে তাদের মানবিক সত্তাকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।
নিমপাতা কীভাবে ব্যবহৃত হয় বলে নিমগাছ গল্পে বর্ণিত হয়েছে?
কেউ পাতা ছিঁড়ে শিলে পেষে, কেউবা গরম তেলে ভাজে— খোস, দাদ, হাজা, চুলকানিতে লাগানোর জন্য।
ফুলের থোকাকে লোকটি কীসের সাথে তুলনা করে?
সে বলে, একঝাঁক নক্ষত্র যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে নেমে এসেছে— নিমফুলের অপরূপ সৌন্দর্যের এই কাব্যিক তুলনা।
নিমগাছ কেন লোকটার সঙ্গে যেতে পারল না?
নিমগাছের শিকড় মাটির গভীরে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল বলে সে চলে যেতে পারল না, আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল।
গল্পের শেষ বাক্যে নিমগাছের অবস্থাকে কার সাথে তুলনা করা হয়েছে?
গল্পের শেষ বাক্যে বলা হয়, ‘ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা’— এখানেই গল্পের প্রতীকী অর্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গল্পে নিমগাছ প্রতীক হিসেবে কাকে বোঝায়?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে বনফুল দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ, যার মানবিক মর্যাদা প্রতিদিনের ব্যবহারিক উপকারিতার আড়ালে চাপা পড়ে যায়।
কবিরাজ ও সাধারণ মানুষের নিমগাছ ব্যবহারকে গল্পে প্রতীকীভাবে কীসের সাথে তুলনা করা যায়?
যেভাবে মানুষ নিমগাছকে শুধু তার ঔষধি উপকারিতার জন্যই ব্যবহার করে, প্রকৃত সৌন্দর্য বা মূল্য দেয় না, একইভাবে পরিবারে নারীকেও প্রায়ই শুধু তার সাংসারিক কাজের উপযোগিতার নিরিখেই মূল্যায়ন করা হয়, তার ব্যক্তিসত্তার নয়।
কবি চরিত্রটি নিমগাছ গল্পে প্রতীকীভাবে কী বোঝায়?
কবি চরিত্রটি সেই বিরল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক, যে নারীকে (বা নিমগাছকে) নিছক উপযোগিতার বাইরে গিয়ে তার প্রকৃত সৌন্দর্য ও মূল্যে দেখতে পারে— যদিও এই স্বীকৃতি বাস্তবে তার মুক্তি আনতে পারে না।
নিমগাছের শিকড় মাটির গভীরে থাকার কারণে যেতে না পারাটি প্রতীকীভাবে কী বোঝায়?
সৌন্দর্যের স্বীকৃতি পেলেও নিমগাছ (নারী) তার সাংসারিক দায়বদ্ধতার শিকড় থেকে মুক্ত হতে পারে না— এটাই গল্পের সবচেয়ে করুণ ও গভীর তাৎপর্য।
নিমগাছ গল্পে বর্ণিত কবিরাজ ও কবির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
কবিরাজ ও সাধারণ মানুষ নিমগাছকে শুধু তার ঔষধি উপযোগিতার নিরিখে দেখে, আর কবি তার সৌন্দর্যকে মূল্য দেন— এই বৈপরীত্যই গল্পের কেন্দ্রীয় ভাবনা।
নিমগাছ গল্পে ‘লক্ষ্মী বউ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে লেখক কী ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন?
‘লক্ষ্মী বউ’ বলতে এমন একজন নারীকে বোঝানো হয়েছে, যিনি গৃহকর্মে অত্যন্ত দক্ষ ও সংসারের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করেছেন— বাংলা সমাজে প্রচলিত একটি প্রশংসাসূচক অথচ সীমাবদ্ধ পরিচয়।
নিমগাছ গল্পের কবি চরিত্রটি খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে লেখক কী ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন?
কবি নিমগাছের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলেও তা নিমগাছের প্রকৃত পরিস্থিতি বদলাতে পারে না— স্বীকৃতি পেলেও নিমগাছ (নারী) তার শিকড়ে (দায়বদ্ধতায়) বাঁধা থেকেই যায়, এই করুণ বাস্তবতাই লেখক দেখিয়েছেন।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে নিমগাছ গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
