নিমগাছ গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “নিমগাছ” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য নিমগাছ গল্পের নোট দেখুন।
নিমগাছ গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিমগাছ গল্পের লেখক কে?
বনফুল (প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়; জন্ম ১৯ জুলাই ১৮৯৯, মণিহার, পূর্ণিয়া, বিহার; মৃত্যু ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯, কলকাতা)। পেশায় চিকিৎসক, ক্ষুদ্রাকার অথচ তাৎপর্যপূর্ণ গল্পের জন্য বিখ্যাত। পদ্মভূষণ উপাধিপ্রাপ্ত। প্রধান গল্পগ্রন্থ: বনফুলের গল্প, বাহুল্য, বিন্দুবিসর্গ। প্রধান উপন্যাস: তৃণখণ্ড, কিছুক্ষণ, দ্বৈরথ।
উৎস ও রূপ
অদৃশ্যলোক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি অতি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর প্রতীকী গল্প, কবিতার ছন্দে সাজানো গদ্য।
গল্পের মূল কাঠামো
- নিমগাছের নানা ব্যবহারিক উপকারিতার বর্ণনা— ছাল, পাতা, ডাল দিয়ে চর্মরোগের চিকিৎসা, যকৃতের উপকার, দাঁতের যত্ন।
- বাড়ির পাশে থাকলে বিজ্ঞরা কাটতে নিষেধ করেন, কিন্তু প্রকৃত যত্ন কেউ নেয় না— আবর্জনা জমে, বা লোকদেখানো শান বাঁধানো হয়।
- একদিন এক কবি এসে গাছটির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন— ছাল-পাতা-ডাল স্পর্শ না করে শুধু মুগ্ধদৃষ্টিতে দেখেন।
- নিমগাছের ইচ্ছা হয় তার সাথে যাওয়ার, কিন্তু গভীরে প্রোথিত শিকড় তাকে যেতে দেয় না।
- শেষ বাক্যে প্রতীকী উন্মোচন— এই নিমগাছের দশা বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের দশারই প্রতিচ্ছবি।
নিমগাছ গল্পের মূল ভাব কী?
নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ ও পরিবারে তার প্রতি শুধু ব্যবহারিক উপযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা— তার প্রকৃত সৌন্দর্য, প্রতিভা ও মানবিক মর্যাদা প্রায়ই অস্বীকৃত থেকে যায়, আর সাংসারিক দায়বদ্ধতার শিকড় তাকে মুক্তভাবে বাঁচতে দেয় না।
নিমগাছ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
ছাল (বাকল), অব্যর্থ (নিশ্চিত ফলদায়ক), কবিরাজ (লোকচিকিৎসক), শান দিয়ে বাঁধানো (ইট-সিমেন্ট দিয়ে ঘেরা), শিকড় (প্রতীকীভাবে সাংসারিক দায়বদ্ধতা)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। বনফুলের প্রকৃত নাম কী?
- ক. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
- খ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- গ. প্রমথ চৌধুরী
- ঘ. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ক। বনফুল ছদ্মনামে লেখা এই লেখকের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
২। বনফুল কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৯৮
- খ. ১৮৯৯
- গ. ১৮৯৭
- ঘ. ১৯০০
উত্তর: খ। তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।
৩। বনফুলের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. মণিহার, পূর্ণিয়া, বিহার
- খ. কলকাতা
- গ. ঢাকা
- ঘ. পশ্চিমবঙ্গের হুগলি
উত্তর: ক। বিহারের পূর্ণিয়ার অন্তর্গত মণিহার গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৪। বনফুল কোন কলেজ থেকে এমবি পাশ করেন?
- ক. কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ
- খ. ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ
- গ. পাটনা মেডিক্যাল কলেজ
- ঘ. আরমানিটোলা মেডিক্যাল কলেজ
উত্তর: গ। তিনি পাটনা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবি পাশ করেন।
৫। বনফুলের কর্মজীবন কীভাবে শুরু হয়?
- ক. আইনজীবী হিসেবে
- খ. মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে
- গ. শিক্ষক হিসেবে
- ঘ. সাংবাদিক হিসেবে
উত্তর: খ। মেডিক্যাল অফিসার পদে চাকরির মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
৬। বনফুলের সাহিত্যজগতে প্রবেশ ঘটে কোন পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে?
- ক. সবুজপত্র
- খ. কল্লোল
- গ. শনিবারের চিঠি
- ঘ. প্রবাসী
উত্তর: গ। ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে শনিবারের চিঠি পত্রিকায় ব্যঙ্গ-কবিতা ও প্যারোডি লিখে তাঁর সাহিত্য অঙ্গনে প্রবেশ ঘটে।
৭। বনফুল কোন পত্রিকায় ক্ষুদ্রাকৃতির গল্প লিখতেন?
- ক. প্রবাসী
- খ. ভারতী
- গ. সবুজপত্র
- ঘ. মোহাম্মদী
উত্তর: ক। প্রবাসী পত্রিকায় তিনি একপাতা-আধপাতার আকারে ক্ষুদ্র কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ গল্প লিখতেন।
৮। নিচের কোনটি বনফুলের গল্পগ্রন্থ নয়?
- ক. তৃণখণ্ড
- খ. বনফুলের গল্প
- গ. বিন্দুবিসর্গ
- ঘ. বাহুল্য
উত্তর: ক। তৃণখণ্ড বনফুলের একটি উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ নয়; বাকি তিনটি তাঁর গল্পগ্রন্থ।
৯। বনফুল কোন সম্মানসূচক উপাধি লাভ করেন?
- ক. জাতীয় অধ্যাপক
- খ. একুশে পদক
- গ. পদ্মভূষণ
- ঘ. স্বাধীনতা পুরস্কার
উত্তর: গ। বিভিন্ন পুরস্কারসহ তিনি পদ্মভূষণ উপাধি লাভ করেন।
১০। বনফুল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৭৮
- খ. ১৯৭৭
- গ. ১৯৮০
- ঘ. ১৯৭৯
উত্তর: ঘ। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিমগাছ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১১। ‘নিমগাছ’ গল্পটি বনফুলের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
- ক. অদৃশ্যলোক
- খ. বাহুল্য
- গ. বনফুলের গল্প
- ঘ. বিন্দুবিসর্গ
উত্তর: ক। ‘নিমগাছ’ গল্পটি বনফুলের অদৃশ্যলোক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
১২। গল্পটির গঠনশৈলী সম্পর্কে পাঠ-পরিচিতিতে কী বলা হয়েছে?
- ক. এটি একটি দীর্ঘ উপন্যাসধর্মী রচনা
- খ. এটি সাধারণ একটি বর্ণনা মাত্র
- গ. এটি সংলাপনির্ভর নাটক
- ঘ. সংক্ষিপ্ত অবয়বে বিপুল বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতা
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই ক্ষুদ্র আকৃতির গল্পে বিপুল বক্তব্য উপস্থাপনের যে দক্ষতা লেখক দেখিয়েছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল।
১৩। গল্পটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের রচনা?
- ক. একটি হাস্যরসাত্মক গল্প
- খ. একটি সরাসরি বর্ণনামূলক গল্প
- গ. একটি ঐতিহাসিক গল্প
- ঘ. একটি প্রতীকী গল্প
উত্তর: ঘ। এটি একটি প্রতীকী গল্প— নিমগাছের প্রতীকের মাধ্যমে নারীর আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে।
১৪। নিমগাছের ছাল দিয়ে মানুষ কী করে?
- ক. বিক্রি করে
- খ. ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করে
- গ. জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে
- ঘ. আসবাবপত্র বানায়
উত্তর: খ। গল্পের শুরুতেই বলা হয়েছে, কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে।
১৫। নিমপাতা কীভাবে ব্যবহৃত হয় বলে গল্পে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. শিলে পিষে বা গরম তেলে ভেজে
- খ. পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়
- গ. আগুনে পোড়ানো হয়
- ঘ. শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়
উত্তর: ক। কেউ পাতা ছিঁড়ে শিলে পেষে, কেউবা গরম তেলে ভাজে— খোস, দাদ, হাজা, চুলকানিতে লাগানোর জন্য।
১৬। নিমপাতা কোন রোগের ‘অব্যর্থ মহৌষধ’ বলা হয়েছে?
- ক. পেটের অসুখ
- খ. জ্বর
- গ. চর্মরোগ
- ঘ. মাথাব্যথা
উত্তর: গ। নিমপাতাকে চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ বলা হয়েছে।
১৭। কচি নিমপাতা কীভাবে খাওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
- ক. মিষ্টি বানিয়ে
- খ. শুধু কাঁচা
- গ. রান্না করে ভাতের সাথে
- ঘ. কাঁচা অথবা বেগুন-সহযোগে ভেজে
উত্তর: ঘ। কচি পাতা কাঁচাই খাওয়া হয়, কিংবা বেগুন-সহযোগে ভেজে খাওয়া হয়— যা যকৃতের জন্য উপকারী।
১৮। কচি নিমের ডাল কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
- ক. রান্নার কাজে
- খ. ঝাড়ু বানাতে
- গ. দাঁত ভালো রাখতে চিবানোর কাজে
- ঘ. ছাদ ছাওয়ার কাজে
উত্তর: গ। কচি ডাল ভেঙে চিবোলে দাঁত ভালো থাকে বলে কবিরাজরা এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
১৯। বাড়ির পাশে নিমগাছ গজালে বিজ্ঞরা কী বলেন?
- ক. এটা কেটে ফেলা উচিত
- খ. এটা সরিয়ে ফেলা দরকার
- গ. এটা বিপজ্জনক
- ঘ. নিমের হাওয়া ভালো, কেটো না
উত্তর: ঘ। বিজ্ঞরা বলেন, ‘নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না’— তবে গাছটির প্রকৃত যত্ন তারা নেন না।
২০। নিমগাছ না কাটলেও মানুষ তার প্রতি কেমন আচরণ করে?
- ক. নিয়মিত পানি দেয়
- খ. যত্নসহকারে পরিচর্যা করে
- গ. কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না
- ঘ. সার প্রয়োগ করে
উত্তর: গ। গল্পে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না— চারপাশে আবর্জনা জমতে থাকে।
২১। নিমগাছের চারপাশে কী জমে থাকে?
- ক. বালি
- খ. ফুল
- গ. আবর্জনা
- ঘ. জল
উত্তর: গ। যত্নের অভাবে নিমগাছের চারিদিকে আবর্জনা জমে ওঠে।
২২। কেউ কেউ নিমগাছের চারপাশে কী করে দেয়?
- ক. ফুলের বাগান করে
- খ. শান দিয়ে বাঁধিয়ে দেয়
- গ. আলো লাগিয়ে দেয়
- ঘ. বেড়া দিয়ে ঘেরে
উত্তর: খ। কেউ কেউ ইট-সিমেন্ট দিয়ে শান বাঁধিয়ে দেয়, যাকে লেখক ‘আর-এক আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেন— অর্থাৎ প্রকৃত যত্ন নয়, নিছক লোকদেখানো ব্যবস্থা।
২৩। একদিন কেমন ধরনের একজন লোক নিমগাছের কাছে আসে?
- ক. একজন কবিরাজ
- খ. একজন ব্যবসায়ী
- গ. মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এক নতুন লোক
- ঘ. একজন কাঠুরে
উত্তর: গ। হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এসে মুগ্ধদৃষ্টিতে নিমগাছের দিকে চেয়ে থাকে।
২৪। এই নতুন লোকটি নিমগাছের সাথে কী করেনি, যা অন্যরা করত?
- ক. ছাল তোলেনি, পাতা ছেঁড়েনি, ডাল ভাঙেনি
- খ. তার প্রশংসা করেনি
- গ. তাকে দেখেনি
- ঘ. তার কাছে যায়নি
উত্তর: ক। সে ছাল তোলেনি, পাতা ছেঁড়েনি, ডাল ভাঙেনি— শুধু মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে থেকেছে, ব্যবহারিক প্রয়োজনে নয়।
২৫। লোকটি নিমগাছ দেখে কী মন্তব্য করে?
- ক. এটি কেটে ফেলা উচিত
- খ. পাতা ও ফুলের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে
- গ. এটি অকেজো একটি গাছ
- ঘ. এটি দিয়ে ভালো ওষুধ হয়
উত্তর: খ। সে বলে ওঠে, ‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি… কী রূপ! থোকা-থোকা ফুলেরই বা কী বাহার…’— নিমগাছের নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করে, যা আগে কেউ করেনি।
২৬। ফুলের থোকাকে লোকটি কীসের সাথে তুলনা করে?
- ক. মুক্তার সাথে
- খ. নেমে আসা নক্ষত্রের সাথে
- গ. সোনার সাথে
- ঘ. রংধনুর সাথে
উত্তর: খ। সে বলে, একঝাঁক নক্ষত্র যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে নেমে এসেছে— নিমফুলের অপরূপ সৌন্দর্যের এই কাব্যিক তুলনা।
২৭। এই লোকটি আসলে কে ছিল?
- ক. কৃষক
- খ. চিকিৎসক
- গ. কবি
- ঘ. কবিরাজ
উত্তর: গ। লেখক স্পষ্ট করে বলেন, ‘কবিরাজ নয়, কবি’— অর্থাৎ ব্যবহারিক উপকারিতার বদলে নিছক সৌন্দর্যের কদর করা একজন কবি।
২৮। নিমগাছটির মনে কী ইচ্ছা জাগে?
- ক. অন্য গাছে পরিণত হওয়ার
- খ. ফুল ফোটানো বন্ধ করার
- গ. লোকটার সঙ্গে চলে যাওয়ার
- ঘ. আরও বড় হওয়ার
উত্তর: গ। নিমগাছটার ইচ্ছা করতে থাকে লোকটার সঙ্গে চলে যায়— এই প্রথম কেউ তাকে নিছক সৌন্দর্যের জন্য মূল্য দিয়েছে।
২৯। নিমগাছ কেন লোকটার সঙ্গে যেতে পারল না?
- ক. শিকড় মাটির গভীরে চলে গিয়েছিল
- খ. তার মালিক অনুমতি দেয়নি
- গ. তার শক্তি ছিল না
- ঘ. লোকটি তাকে নিতে চায়নি
উত্তর: ক। নিমগাছের শিকড় মাটির গভীরে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল বলে সে চলে যেতে পারল না, আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল।
৩০। গল্পের শেষ বাক্যে নিমগাছের অবস্থাকে কার সাথে তুলনা করা হয়েছে?
- ক. একজন কৃষকের সাথে
- খ. গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউয়ের সাথে
- গ. একজন কবিরাজের সাথে
- ঘ. প্রতিবেশীর সাথে
উত্তর: খ। গল্পের শেষ বাক্যে বলা হয়, ‘ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা’— এখানেই গল্পের প্রতীকী অর্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
**৩১। নিমগাছের শিকড় নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে ও চারিদিকে বিস্তৃত হয়
ii. শিকড়টি প্রতীকীভাবে নারীর সাংসারিক দায়বদ্ধতার সাথে তুলনীয়
iii. শিকড় কেটে ফেললে নিমগাছ সহজেই স্থানান্তরিত হতে পারত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** টীকা অনুযায়ী প্রথম দুটি তথ্য সঠিক— শিকড়ের বিস্তৃতি নারীর সংসারের জালে আবদ্ধ হওয়ার প্রতীক। কিন্তু গল্পে শিকড় কাটার কোনো ইঙ্গিত নেই, বরং তা নিমগাছের চিরস্থায়ী বন্ধনকেই বোঝায়— তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৩২। ‘ছাল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. শিকড়
- খ. বাকল
- গ. পাতা
- ঘ. ফুল
উত্তর: খ। ছাল অর্থ বাকল— এখানে নিমগাছের বাকল বোঝানো হয়েছে।
৩৩। ‘অব্যর্থ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. যা বিফল হবে না
- খ. দুর্লভ
- গ. সাধারণ
- ঘ. অকার্যকর
উত্তর: ক। অব্যর্থ অর্থ যা বিফল হবে না— নিমপাতাকে চর্মরোগের অব্যর্থ ওষুধ বলা হয়েছে।
৩৪। ‘কবিরাজ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. যিনি কবিতা লেখেন
- খ. একজন সাহিত্য সমালোচক
- গ. গাছগাছালি দিয়ে চিকিৎসাকারী ব্যক্তি
- ঘ. একজন রাজা
উত্তর: গ। কবিরাজ হলেন তিনি, যিনি গাছগাছালি পরিশোধন করে মনুষ্যরোগের চিকিৎসা করেন— কবি শব্দের সাথে বিভ্রান্তি এড়াতে টীকায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
৩৫। ‘শান দিয়ে বাঁধানো’ বাক্যাংশের অর্থ কী?
- ক. মাটি দিয়ে ঢাকা
- খ. কাঠ দিয়ে ঘেরা
- গ. ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো
- ঘ. লোহার বেড়া দেওয়া
উত্তর: গ। শান দিয়ে বাঁধানো অর্থ ইট ও সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো— যা প্রকৃত যত্নের বদলে লোকদেখানো ব্যবস্থার প্রতীক।
৩৬। গল্পে নিমগাছ প্রতীক হিসেবে কাকে বোঝায়?
- ক. একজন কবিকে
- খ. পরিবারের আত্মত্যাগী নারীকে
- গ. একজন কৃষককে
- ঘ. একজন কবিরাজকে
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে বনফুল দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ, যার মানবিক মর্যাদা প্রতিদিনের ব্যবহারিক উপকারিতার আড়ালে চাপা পড়ে যায়।
৩৭। কবিরাজ ও সাধারণ মানুষের নিমগাছ ব্যবহারকে গল্পে প্রতীকীভাবে কীসের সাথে তুলনা করা যায়?
- ক. চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে
- খ. গ্রামীণ জীবনযাত্রার সাথে
- গ. প্রকৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসার সাথে
- ঘ. নারীকে শুধু উপযোগিতার দৃষ্টিতে দেখার সাথে
উত্তর: ঘ। যেভাবে মানুষ নিমগাছকে শুধু তার ঔষধি উপকারিতার জন্যই ব্যবহার করে, প্রকৃত সৌন্দর্য বা মূল্য দেয় না, একইভাবে পরিবারে নারীকেও প্রায়ই শুধু তার সাংসারিক কাজের উপযোগিতার নিরিখেই মূল্যায়ন করা হয়, তার ব্যক্তিসত্তার নয়।
৩৮। কবি চরিত্রটি গল্পে প্রতীকীভাবে কী বোঝায়?
- ক. পরিবারের একজন সদস্য
- খ. যে নারীর মূল্য উপযোগিতার বাইরেও উপলব্ধি করে
- গ. একজন সাধারণ পথচারী মাত্র
- ঘ. একজন সমালোচক
উত্তর: খ। কবি চরিত্রটি সেই বিরল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক, যে নারীকে (বা নিমগাছকে) নিছক উপযোগিতার বাইরে গিয়ে তার প্রকৃত সৌন্দর্য ও মূল্যে দেখতে পারে— যদিও এই স্বীকৃতি বাস্তবে তার মুক্তি আনতে পারে না।
৩৯। নিমগাছের শিকড় মাটির গভীরে থাকার কারণে যেতে না পারাটি প্রতীকীভাবে কী বোঝায়?
- ক. প্রকৃতির নিয়ম
- খ. আর্থিক বাধা
- গ. আইনি বাধা
- ঘ. সাংসারিক দায়বদ্ধতা নারীকে মুক্ত হতে দেয় না
উত্তর: ঘ। সৌন্দর্যের স্বীকৃতি পেলেও নিমগাছ (নারী) তার সাংসারিক দায়বদ্ধতার শিকড় থেকে মুক্ত হতে পারে না— এটাই গল্পের সবচেয়ে করুণ ও গভীর তাৎপর্য।
৪০। গল্পের আঙ্গিক (কবিতার মতো পঙক্তি বিভাজন) সম্পর্কে কী বলা যায়?
- ক. কবিতার আকারে সাজানো গদ্য
- খ. এটি সংলাপনির্ভর
- গ. এটি সাধারণ গদ্যে লেখা
- ঘ. এটি নাটকীয় সংলাপ
উত্তর: ক। গল্পটি ছোট ছোট পঙক্তিতে বিভক্ত, যা কবিতার মতো ছন্দময় গতি সৃষ্টি করে— বনফুলের অনন্য গদ্যশৈলীর পরিচয় এতে স্পষ্ট।
৪১। গল্পের বর্ণনায় ব্যবহারিক উপযোগিতা ও নান্দনিক সৌন্দর্যের মধ্যে কোন বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে?
- ক. উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে
- খ. উপযোগিতা স্বীকৃত হলেও সৌন্দর্য উপেক্ষিত থাকে
- গ. কোনো বৈপরীত্য নেই
- ঘ. নান্দনিক সৌন্দর্যই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর: খ। গল্পের প্রথমাংশ জুড়ে শুধু নিমগাছের ব্যবহারিক উপকারিতার কথা বলা হয়, তার সৌন্দর্যের কথা কেউ বলে না— যতক্ষণ না কবি এসে তার রূপের প্রশংসা করেন, এই বৈপরীত্যই গল্পের মূল কাঠামো।
সালমা প্রতিদিন সংসারের সব কাজ একা হাতে সামলায়— রান্না, সন্তান লালন, বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা। পরিবারের সবাই তার কাজের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু কেউ কখনো তাকে জিজ্ঞেস করে না সে কেমন আছে বা তার স্বপ্ন কী। একদিন তার পুরনো এক বন্ধু এসে বলে, ‘তুমি এত সুন্দর কবিতা লিখতে, এখনো কি লেখো?’ কথাটা শুনে সালমার চোখে জল আসে।
৪২। সালমার পরিস্থিতির সাথে ‘নিমগাছ’ গল্পের কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?
- ক. নিমগাছের ঔষধি ব্যবহারের সাথে
- খ. উপযোগিতা স্বীকৃত হলেও সৌন্দর্য উপেক্ষিত থাকার সাথে
- গ. নিমগাছের শিকড়ের গঠনের সাথে
- ঘ. কবির নিমগাছ দেখার দৃশ্যের সাথে
উত্তর: খ। সালমাও পরিবারে শুধু তার সাংসারিক কাজের জন্যই মূল্যবান, তার ব্যক্তিসত্তা বা প্রতিভা কারো নজরে পড়ে না— ঠিক যেমন নিমগাছের সৌন্দর্য কেউ দেখেনি, শুধু উপযোগিতাই দেখেছে।
৪৩। সালমার বন্ধুর প্রশ্নটি গল্পের কোন চরিত্রের ভূমিকার সাথে তুলনীয়?
- ক. কবির ভূমিকার সাথে
- খ. কোনো চরিত্রের সাথেই তুলনীয় নয়
- গ. লক্ষ্মী বউয়ের ভূমিকার সাথে
- ঘ. কবিরাজের ভূমিকার সাথে
উত্তর: ক। বন্ধুটি সালমার মধ্যে তার ব্যবহারিক ভূমিকার বাইরে গিয়ে তার সৃজনশীল সত্তাকে চিনতে পেরেছে— ঠিক যেমন কবি নিমগাছের মধ্যে তার উপযোগিতার বাইরে গিয়ে সৌন্দর্য দেখেছিলেন।
৪৪। গল্পে বর্ণিত কবিরাজ ও কবির দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
- ক. উভয়েই একই দৃষ্টিতে দেখেন
- খ. কবিরাজ গাছটির সৌন্দর্য দেখেন, কবি উপযোগিতা দেখেন
- গ. কবিরাজ গাছটির উপযোগিতা দেখেন, কবি তার সৌন্দর্য দেখেন
- ঘ. কবিরাজ ও কবি উভয়েই গাছটিকে অবহেলা করেন
উত্তর: গ। কবিরাজ ও সাধারণ মানুষ নিমগাছকে শুধু তার ঔষধি উপযোগিতার নিরিখে দেখে, আর কবি তার সৌন্দর্যকে মূল্য দেন— এই বৈপরীত্যই গল্পের কেন্দ্রীয় ভাবনা।
৪৫। গল্পে ‘লক্ষ্মী বউ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে লেখক কী ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন?
- ক. তিনি ধনী পরিবারের সদস্য
- খ. গৃহকর্মে দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ নারী বোঝানো
- গ. তার নাম লক্ষ্মী
- ঘ. তিনি দেবীর পূজারিণী
উত্তর: খ। ‘লক্ষ্মী বউ’ বলতে এমন একজন নারীকে বোঝানো হয়েছে, যিনি গৃহকর্মে অত্যন্ত দক্ষ ও সংসারের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ উৎসর্গ করেছেন— বাংলা সমাজে প্রচলিত একটি প্রশংসাসূচক অথচ সীমাবদ্ধ পরিচয়।
৪৬। গল্পের একেবারে শেষ বাক্যটি হঠাৎ পাঠকের কাছে কী প্রভাব সৃষ্টি করে?
- ক. কোনো বিশেষ প্রভাব ফেলে না
- খ. পাঠককে বিভ্রান্ত করে
- গ. গল্পটিকে সমাপ্ত না করেই রেখে দেয়
- ঘ. গল্পের অর্থ আকস্মিকভাবে পুনর্বিন্যস্ত করে
উত্তর: ঘ। শেষ বাক্য পর্যন্ত পাঠক ভাবেন এটি নিছক একটি গাছের গল্প, কিন্তু শেষ পঙক্তিতে হঠাৎ প্রতীকী অর্থ উন্মোচিত হয়ে পুরো গল্পটিকেই নতুন আলোয় দেখায়— এই আকস্মিক চমকই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল।
**৪৭। নিমগাছ সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. নিমগাছের ছাল, পাতা ও ডাল সবই মানুষের ব্যবহারিক প্রয়োজনে লাগে
ii. নিমগাছের প্রতি বাড়ির মানুষদের কোনো অবহেলা নেই
iii. কবি ছাড়া অন্য কেউ নিমগাছের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেনি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য সঠিক, কিন্তু বাড়ির মানুষেরা আসলে নিমগাছের প্রতি উদাসীন ছিল— কাটেনি ঠিকই, কিন্তু যত্নও নেয়নি, আবর্জনা জমতে দিয়েছে— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৪৮। গল্পে বনফুল কোন সাহিত্যিক কৌশল ব্যবহার করে স্বল্প পরিসরে গভীর বক্তব্য প্রকাশ করেছেন?
- ক. একাধিক কাহিনির সমান্তরাল বিন্যাস
- খ. প্রতীক ও চমকপ্রদ শেষ পঙক্তির ব্যবহার
- গ. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্মাণ
- ঘ. দীর্ঘ বর্ণনা ও সংলাপ
উত্তর: খ। নিমগাছকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে এবং গল্পের একেবারে শেষে একটি চমকপ্রদ পঙক্তি দিয়ে বনফুল অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে গভীর সামাজিক বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
৪৯। ‘নিমগাছ’ গল্পটি পাঠককে মূলত কোন বিষয়ে সচেতন করতে চায়?
- ক. নারীর মানবিক মর্যাদা উপলব্ধি করা
- খ. কবিতা রচনার কৌশল
- গ. চিকিৎসাশাস্ত্রের গুরুত্ব
- ঘ. পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী গল্পটি নারীর মানবিক মর্যাদা, তার পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার ইঙ্গিত দেয়।
৫০। নিমগাছের প্রতি মানুষের আচরণে কোন সামাজিক প্রবণতা প্রতিফলিত হয়?
- ক. প্রকৃতিকে ধ্বংস করার প্রবণতা
- খ. প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
- গ. সব কিছুর প্রতি সমান যত্ন নেওয়ার প্রবণতা
- ঘ. যে উপকার করে, তাকেই বেশি অবহেলা করা হয়
উত্তর: ঘ। যে নিয়মিত উপকার করে যায়, তাকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে বা তার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে— এই বিদ্রূপাত্মক সত্যই গল্পের কেন্দ্রে।
৫১। গল্পের কবি চরিত্রটি খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে লেখক কী ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন?
- ক. মূল্যায়ন পেলেও তা বাস্তব মুক্তি আনতে নাও পারে
- খ. কবির কোনো গুরুত্ব নেই
- গ. কবিরা সবসময় ব্যস্ত থাকেন
- ঘ. কবিরা দায়িত্বহীন
উত্তর: ক। কবি নিমগাছের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলেও তা নিমগাছের প্রকৃত পরিস্থিতি বদলাতে পারে না— স্বীকৃতি পেলেও নিমগাছ (নারী) তার শিকড়ে (দায়বদ্ধতায়) বাঁধা থেকেই যায়, এই করুণ বাস্তবতাই লেখক দেখিয়েছেন।
