● Note

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “নিরীহ বাঙালি” প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ও নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রাম।

ছোটবেলায় কে রোকেয়াকে বাংলা শিক্ষায় সাহায্য করেন?

তাঁর বড় বোন করিমুন্নেসা বেগম তাঁকে বাংলা শিক্ষায় সাহায্য করেন।

রোকেয়া কার তত্ত্বাবধানে ইংরেজি শেখেন?

তিনি বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের তত্ত্বাবধানে ইংরেজি শেখেন।

বিয়ের পর রোকেয়া কী নামে পরিচিত হন?

বিয়ের পর তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নামে পরিচিত হন।

রোকেয়া কোন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন?

তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

রোকেয়ার একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম লেখো।

তাঁর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সুলতানার স্বপ্ন’।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন?

তিনি সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই-ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

নিচের কোনটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের গ্রন্থ নয়?

চোখের বালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা; বাকি তিনটি রোকেয়ার রচনা।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বিখ্যাত রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ কী বিষয়ে?

‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি, যেখানে তিনি নারীশাসিত এক কাল্পনিক আদর্শ সমাজের চিত্র কল্পনা করেছেন।

দরিদ্রদের অন্নাভাবে মৃত্যু নিয়ে লেখিকা কোন উদাসীন মনোভাবের সমালোচনা করেন?

লেখিকা তীব্র ব্যঙ্গের সাথে এই স্বার্থপর, উদাসীন মনোভাবের কথা তুলে ধরেন যা প্রকৃতপক্ষে কঠোর সমালোচনা।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি কী ধরনের রচনা?

এটি একটি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক রচনা।

ভারতবর্ষকে অট্টালিকা মনে করলে বঙ্গদেশ কী বলে লেখিকা বর্ণনা করেন?

বঙ্গদেশ সেই অট্টালিকার বৈঠকখানা।

লেখিকা বাঙালিকে কী বলে ব্যঙ্গার্থে অভিহিত করেছেন?

লেখিকা বাঙালিকে ব্যঙ্গার্থে ‘মূর্তিমতী কবিতা’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রবন্ধ অনুযায়ী বাঙালির ‘অন্যতম ব্যবসায়’ কী বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে?

‘পাস বিক্রয়’ (যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে) ব্যবসায়কে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

এম.এ. পাসের মূল্য কী বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে?

এম.এ. পাসের মূল্য ‘অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী’ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

লেখিকার মতে বাঙালিরা কৃষিকাজের চেয়ে কোনটিকে সহজ মনে করে?

তারা মুখস্থ বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদন (‘brain culture’)-কে সহজ মনে করে।

লেখিকা বাঙালিকে সবশেষে কী বলে অভিহিত করেন?

লেখিকা বলেন, ‘আমরা সকলেই কবি’।

প্রবন্ধ অনুযায়ী বাঙালির কাব্যে কোন রসের প্রাধান্য?

বীররসের চেয়ে করুণরসের প্রাধান্য।

‘হাওয়ার শাড়ি’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?

অতি সূক্ষ্ম সুতোর তৈরি পাতলা শাড়ি।

‘দিব্যাঙ্গনা’ শব্দের অর্থ কী?

দিব্যাঙ্গনা অর্থ স্বর্গের রূপসী বা হুরপরি।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধে নারীদের রান্নায় বাধ্য করার প্রবণতার বিরুদ্ধে লেখিকা কোন যুক্তি দেন?

পুরুষরা রৌদ্রতাপ সহ্য করতে না পারলে নারীরা কীভাবে আগুনের উত্তাপ সইবেন— এই যুক্তি দেন।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

ব্যঙ্গের মাধ্যমে বাঙালি নারী-পুরুষকে প্রকৃত সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করা।

লেখিকা বাঙালির প্রধান খাদ্যদ্রব্য হিসেবে কী কী উল্লেখ করেন?

পুঁইশাকের ডাঁটা, সজিনা, পুঁটি মাছের ঝোল, ঘি, দুধ, ছানা, নবনীত, ক্ষীর, সর, সন্দেশ, রসগোল্লা, আম ও কাঁঠাল— এসবই বাঙালির খাদ্যসামগ্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্যের গুণের সাথে শরীরের সম্পর্ক নিয়ে লেখিকা কী ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন?

লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, সজিনা বীজবহুল বলে বাঙালির ভুঁড়ি স্থূল হয়, আর নবনীতে কোমলতা বেশি বলে বাঙালির স্বভাবে ভীরুতাও বেশি— এটি একটি তীক্ষ্ণ শ্লেষ।

পুরুষদের পোশাক সম্পর্কে লেখিকা কী বলেন?

পুরুষেরা সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর পরেন, যাতে বায়ুসঞ্চালনে বাধা হয় না; মাঝেমধ্যে সভ্যতার অনুরোধে কোট-শার্টও ব্যবহার করেন।

লেখিকার মতে ধনবৃদ্ধির দুই উপায় কী?

ধনবৃদ্ধির দুই উপায় বাণিজ্য ও কৃষি বলে লেখিকা উল্লেখ করেন।

এই কারণে বাঙালির দোকানে কী পাওয়া যায় বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?

লেখিকা বলেন, দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস নেই, শুধু বিলাসদ্রব্য ও নকল জিনিস (নকল হীরার আংটি, রাঙা পিতলের অলংকার ইত্যাদি) মজুদ আছে।

নকল পণ্যের সংস্কৃতি নিয়ে লেখিকা কোন উদাহরণ দেন?

কেউ যত্ন করে ‘দীর্ঘকেশী’ তৈল প্রস্তুত করলে সাথে সাথেই ‘হ্রস্বকেশী’ তৈল বের করে অনুকরণ করার প্রবণতাকে লেখিকা ব্যঙ্গ করেছেন।

লেখিকা কোন ব্যবসাকে বাঙালির ‘অন্যতম ব্যবসায়’ বলে ব্যঙ্গ করেন?

লেখিকা তীব্র ব্যঙ্গ করে বলেন, বাঙালির অন্যতম ব্যবসায় হলো ‘পাস বিক্রয়’— অর্থাৎ শিক্ষিত পাত্র হিসেবে যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে করা।

এই ‘পাস বিক্রয়ে’ বিক্রেতা ও ক্রেতাকে কী বলা হয়?

এই ব্যঙ্গাত্মক ব্যবসায় পাস বিক্রেতাকে ‘বর’ এবং ক্রেতাকে ‘শ্বশুর’ বলা হয়।

বাঙালির ‘সহজ কাজের’ তালিকায় প্রথম উদাহরণ কী?

তালিকার প্রথম উদাহরণ— রাজ্য স্থাপন করার চেয়ে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করা সহজ।

দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণ নিয়ে কোন ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে?

দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করার চেয়ে আমেরিকার কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ বলে তীব্র ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

প্রহার লাভের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কী ব্যঙ্গ করা হয়েছে?

কারো কাছে প্রহার পেয়ে তৎক্ষণাৎ বাহুবলে প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে মানহানির মোকদ্দমা করা সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

রান্না করার অনুরোধ প্রসঙ্গে লেখিকা কোন যুক্তি দিয়ে পুরুষদের কটাক্ষ করেন?

লেখিকা কটাক্ষ করে বলেন, পুরুষরা রৌদ্রতাপ সহ্য করতে না পারলে নারীরা কীভাবে আগুনের উত্তাপ সইবেন— তাই নারীদের রান্নার কাজে বাধ্য করার প্রবণতাকে অন্যায্য বলে তুলে ধরেন।

যে নারীদের রান্না করতে বাধ্য করে, লেখিকা তার জন্য কী শাস্তির কথা (ব্যঙ্গার্থে) বলেন?

তীব্র ব্যঙ্গের স্বরে লেখিকা বলেন, এমন ব্যক্তির ত্রিবিধ দণ্ড হওয়া উচিত— তুষানলে দগ্ধ, জবেহ ও ফাঁসি— যা আসলে নারীদের প্রতি অসম আচরণের তীব্র সমালোচনা।

নিরীহ বাঙালি কবিতায় কোন কোন তুচ্ছ বিষয় বাদ যায় না বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?

লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, পদ্য লেখার সময় ‘ভগ্ন শূপ’, ‘জীর্ণ কাঁথা’, ‘পুরাতন চটিজুতা’— কিছুই পরিত্যাজ্য নয়, অর্থহীন বিষয় নিয়েও অতিরিক্ত ভাবালুতাপূর্ণ কবিতা লেখা হয়।

‘হাওয়ার শাড়ি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

হাওয়ার শাড়ি অর্থ অতি সূক্ষ্ম সুতোর তৈরি পাতলা শাড়ি।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধে পুরুষদের সম্পর্কে কী আলোচনা করা হয়েছে?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধে বাঙালি পুরুষদের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।

প্রবন্ধটি পাঠকদের কী শিক্ষা দেয়?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রবন্ধটি আমাদের ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা দেয়।

উদ্দীপক ও নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের মূল সাদৃশ্য কী?

উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ই কর্মস্পৃহা ও পরিশ্রমের অভাবে বাঙালির সম্ভাবনাময় গুণাবলি নষ্ট হয়ে যাওয়ার গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে— একদা যারা সমৃদ্ধ ছিল, আজ তারাই দীন।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

দরিদ্রদের অন্নাভাবে মৃত্যুর প্রতি বাঙালির উদাসীনতা নিয়ে লেখিকার সমালোচনা কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখিকা তীব্র ব্যঙ্গের সাথে দেখান, দুর্ভিক্ষ নিবারণে পরিশ্রম করার চেয়ে বিদেশি ভিক্ষা গ্রহণ করা এবং দরিদ্রদের দুঃখে উদাসীন থাকাকে বাঙালিরা সহজ মনে করে— এই স্বার্থপরতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কঠোর সমালোচনা এতে প্রকাশ পায়।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের ব্যঙ্গাত্মক ভাষারীতির মূল কৌশল কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখিকা সরাসরি সমালোচনা না করে ইতিবাচক, প্রশংসাসূচক ভাষায় বাঙালির নেতিবাচক গুণাবলি তুলে ধরেছেন। এই কৌশলে উপরে উপরে প্রশংসা মনে হলেও প্রতিটি বাক্যেই লুকিয়ে থাকে তীব্র শ্লেষ ও সমালোচনা।

খাদ্যগুণ ও শরীরের সম্পর্ক নিয়ে লেখিকার ব্যঙ্গাত্মক যুক্তির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

লেখিকা বলেন সজিনা বীজবহুল বলে বাঙালির ভুঁড়ি স্থূল হয়, নবনীতে কোমলতা বেশি বলে স্বভাবে ভীরুতা বেশি— এই হাস্যকর, অযৌক্তিক কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি বাঙালির অলসতা ও ভীরুতাকে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ করেছেন।

‘পাস বিক্রয়’ ব্যবসার রূপক দিয়ে লেখিকা কী সমালোচনা করেন— ব্যাখ্যা করো।

এই রূপকের মাধ্যমে লেখিকা যৌতুকপ্রথার নির্মম সমালোচনা করেছেন— শিক্ষিত পাত্রকে যৌতুকের বিনিময়ে ‘বিক্রয়’ করা হচ্ছে এই ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের এই কুপ্রথার অন্যায্যতা তুলে ধরা হয়েছে।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধে বর্ণিত আটটি ‘সহজ কাজের’ তালিকার মূল বার্তা কী— ব্যাখ্যা করো।

এই তালিকার মাধ্যমে লেখিকা দেখান, বাঙালিরা প্রকৃত পরিশ্রম ও অর্জনের বদলে উপাধি লাভ, লোকদেখানো সমবেদনা প্রকাশ, স্বাস্থ্যহানি করে ওষুধ-নির্ভরতা ইত্যাদি সহজ, অন্তঃসারশূন্য পথ বেছে নেয়— এই প্রবণতাই সমাজের অধঃপতনের মূল কারণ।

নারীদের রান্নায় বাধ্য করার প্রবণতার বিরুদ্ধে লেখিকার যুক্তি কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।

পুরুষ ও নারী উভয়ই সমানভাবে কোমল, তাই পুরুষ রোদ সইতে না পারলে নারীকে আগুনের তাপ সইতে বাধ্য করা অন্যায্য— এই যুক্তির মাধ্যমে লেখিকা নারী-পুরুষের প্রতি সমাজের বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

‘আমরা সকলেই কবি’ উক্তির মাধ্যমে লেখিকা কী ব্যঙ্গ করেন— ব্যাখ্যা করো।

এই উক্তির মাধ্যমে লেখিকা বাঙালির অতিরিক্ত ভাবালুতাপূর্ণ, তুচ্ছ বিষয় (ভাঙা কুলা, জীর্ণ কাঁথা) নিয়ে অশ্রুসজল কবিতা রচনার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করেছেন, যেখানে বাস্তব কর্মের চেয়ে ভাবালুতাই বেশি প্রাধান্য পায়।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কীভাবে ব্যঙ্গের আড়ালে প্রকাশ পেয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

উপরে উপরে বাঙালির প্রশংসার ভান করলেও প্রবন্ধের প্রতিটি অংশে লেখিকা বাঙালির অলসতা, পরিশ্রমবিমুখতা ও বাগাড়ম্বরের প্রতি কঠোর সমালোচনা করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য বাঙালি নারী-পুরুষকে প্রকৃত কর্মমুখী জীবনযাপনের দিকে প্রণোদিত করা।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধে বর্ণিত নকল পণ্যের ব্যবসা প্রসঙ্গ সমাজের কোন প্রবণতা তুলে ধরে— ব্যাখ্যা করো।

‘দীর্ঘকেশী’ তেলের পাশে ‘হ্রস্বকেশী’ তেল বাজারজাত করার উদাহরণ দিয়ে লেখিকা দেখান, বাঙালিরা মৌলিক সৃষ্টিশীলতা বা কঠোর পরিশ্রমের বদলে নকল ও অনুকরণের সহজ পথে ব্যবসা চালায়, যা প্রকৃত উৎপাদনশীলতার অভাব নির্দেশ করে।

প্রবন্ধটি থেকে পাঠক কোন শিক্ষা নিতে পারেন— ব্যাখ্যা করো।

প্রবন্ধটি শেখায়, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আড়ালে হলেও সমাজের অলসতা ও অন্তঃসারশূন্যতা চিহ্নিত করে তার সমালোচনা করা প্রয়োজন। প্রকৃত জাতীয় উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা ও ইতিবাচক কর্মমুখী মানসিকতা অপরিহার্য।

নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধের শুরুতে ‘বাঙালি’ শব্দটিকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?

ব্যঙ্গার্থে লেখিকা বলেন, কুসুমের সৌকুমার্য, চন্দ্রের চন্দ্রিকা, মধুর মাধুরী প্রভৃতি বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য নিয়ে বাঙালি গঠিত হয়েছে— এই অতিরঞ্জিত প্রশংসাই আসলে শ্লেষ।

বাঙালিরা বাণিজ্যকে কীভাবে ‘সহজ’ করে নিয়েছে বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?

লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, বাণিজ্যে যে কঠিন পরিশ্রম আবশ্যক তা বর্জন করে বাঙালিরা একে সহজ ও স্বল্পায়াসসাধ্য করে নিয়েছে।

বাঙালিরা ধান্য-তণ্ডুলের (চাল-ধানের) ব্যবসা করে না কেন বলে লেখিকা ব্যঙ্গ করেন?

লেখিকা ব্যঙ্গ করে বলেন, ধান্য-তণ্ডুলের ব্যবসা করা হয় না কারণ তাতে পরিশ্রম আবশ্যক।

প্রতিবেশীর দুঃখ-কষ্টের তুলনায় কোনটিকে সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে?

প্রতিবেশী দরিদ্রদের শোক-দুঃখে ব্যথিত হওয়ার চেয়ে বিদেশি বড়লোকদের মৃত্যুদুঃখে শোকসভার সদস্য হওয়া সহজ বলে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে নিরীহ বাঙালি প্রবন্ধ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜