অভাগীর স্বর্গ গল্পের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “অভাগীর স্বর্গ” গল্পের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য অভাগীর স্বর্গ গল্পের MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও অভাগীর স্বর্গ গল্পের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
শরৎচন্দ্রের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
আর্থিক সংকটের কারণে শরৎচন্দ্রের ছাত্রজীবন কোন শ্রেণিতে থেমে যায়?
তাঁর ছাত্রজীবন এফএ শ্রেণিতে থেমে যায়।
শরৎচন্দ্র কত সালে বার্মায় যান?
তিনি ১৯০৩ সালে বার্মায় যান।
শরৎচন্দ্র কত সালে কলকাতায় ফিরে আসেন?
তিনি ১৯১৬ সালে কলকাতায় ফিরে আসেন।
শরৎচন্দ্রের একটি বিখ্যাত উপন্যাসের নাম লেখো।
তাঁর একটি বিখ্যাত উপন্যাস ‘দেবদাস’।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
অভাগীর মৃত্যুর সময় কাঙালীর বয়স কত ছিল?
কাঙালীর বয়স পনেরো বছর ছিল।
মৃত্যুশয্যায় অভাগী কী কামনা করে?
সে স্বামীর পায়ের ধুলো ও ছেলের হাতের আগুন কামনা করে।
রসিক মৃত্যুকালে অভাগীর কাছে ফিরে এসে কী করে?
রসিক অনুতপ্ত হয়ে অভাগীকে পায়ের ধুলো দেয়।
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা নয়?
গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত রচনা।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের মাধ্যমে শরৎচন্দ্র মূলত কী তুলে ধরেছেন?
এই গল্পে শরৎচন্দ্র অমানবিক জাতিভেদ প্রথা এবং জমিদারি ব্যবস্থার শোষণ-নির্যাতনের ছবি এঁকেছেন।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের শুরুতে কার মৃত্যুর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে?
ধনী ঠাকুরদাস মুখুয্যের বর্ষীয়সী স্ত্রী সাতদিনের জ্বরে মারা যান, যা দিয়েই গল্পের সূচনা।
অভাগীর মৃত্যুর পর রসিক কী করতে গিয়েছিল?
রসিক উঠান-প্রাঙ্গণের একটি বেলগাছ (যা অভাগীর নিজের হাতে পোঁতা) কাটতে যায়, যাতে দাহের জন্য কাঠ পাওয়া যায়।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পটি কোন সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে?
এটি সুকুমার সেন সম্পাদিত ‘শরৎ সাহিত্যসমগ্র’ থেকে সংকলিত।
অভাগীর ছেলের নাম কী?
অভাগীর ছেলের নাম কাঙালী।
অভাগী কোন সম্প্রদায়ের সদস্য?
অভাগী দুলে সম্প্রদায়ের সদস্য।
অভাগীর স্বামীর নাম কী?
অভাগীর স্বামীর নাম রসিক।
অভাগীর স্বপ্ন কী ছিল, যা ধনী মুখুয্যে-গিন্নির শেষকৃত্য দেখে জাগে?
তার স্বপ্ন ছিল ছেলের হাতের আগুনে সম্মানজনক মৃত্যু ও স্বর্গলাভ।
দাহকাঠের জন্য কাঙালী কার কাছে প্রথম যায়?
কাঙালী দারোয়ানের কাছে যায়, যেখানে সে অপমানিত হয়।
জমিদারের গোমস্তার নাম কী?
জমিদারের গোমস্তার নাম অধর রায়।
অভাগীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কীভাবে সম্পন্ন হয়?
নদীর চরে গর্ত খুঁড়ে প্রতীকী খড়ের আঁটির আগুন দিয়ে সমাহিত করা হয়।
‘সগ্য’ শব্দের অর্থ কী?
সগ্য শব্দের অর্থ স্বর্গ।
‘হরিধ্বনি’ শব্দের অর্থ কী?
হরিধ্বনি অর্থ মৃতদেহ বহনকালে করা হরিনাম উচ্চারণ।
ঠাকুরদাস মুখুয্যে কোন ব্যবসায় সঙ্গতিপন্ন ছিলেন?
তিনি ধানের কারবারে অতিশয় সঙ্গতিপন্ন (সম্পদশালী) ছিলেন।
মুখুয্যে গিন্নির শবযাত্রা কেমন ছিল?
পুষ্প, পত্র, গন্ধ, মাল্য, হরিধ্বনিতে এমন এক ধুমধামের আয়োজন হয়েছিল যে তা শোকের চেয়ে উৎসবের মতো মনে হচ্ছিল।
শ্মশানঘাটটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল?
গ্রামের একান্তে গরুড়-নদীর তীরে শ্মশান অবস্থিত ছিল।
চিতার ধোঁয়া দেখে অভাগীর মনে কী কল্পনা জাগে?
ধোঁয়ার মধ্যে অভাগী একখানি রথের চেহারা কল্পনা করে, যাতে মুখুয্যে গিন্নি স্বর্গে যাচ্ছেন বলে তার বিশ্বাস হয়।
অভাগী মনে মনে কী প্রার্থনা করে?
সে মনে মনে বলে, ভাগ্যিমানী মা, আমাকেও আশীর্বাদ করে যাও, আমিও যেন কাঙালীর হাতের আগুনটুকু পাই।
কাঙালী তখন কোন কাজ শিখছিল?
কাঙালী তখন সবেমাত্র বেতের কাজ শিখতে শুরু করেছিল।
অভাগীর স্বামী তাকে ছেড়ে যাওয়ার কারণ কী ছিল?
রসিকের অন্য এক বাঘিনী (উপপত্নী) ছিল, তাকে নিয়ে সে গ্রামান্তরে উঠে যায়, অভাগীকে ছেলেসহ ফেলে রেখে।
অভাগী কাঙালীকে খাওয়ানোর জন্য কী কৌশল অবলম্বন করত?
অভাগী নিজের ভাগের ভাত না খেয়ে হাঁড়িতে রেখে দিত এবং কাঙালীকে বলত তার ক্ষিদে নেই— এই ছলনায় সে বহুদিন কাঙালীকে ফাঁকি দিয়েছে।
কাঙালী মায়ের গা গরম দেখে কী প্রশ্ন করে?
কাঙালী প্রশ্ন করে কেন সে রোদে দাঁড়িয়ে মড়া-পোড়ানো দেখতে গিয়েছিল এবং কেন আবার স্নান করে এসেছে।
‘মড়া-পোড়ানো’ শব্দটি শুনে অভাগীর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
অভাগী শশব্যস্তে ছেলের মুখে হাত চাপা দিয়ে বলে, মড়া-পোড়ানো বলতে নেই, পাপ হয়— সতী-লক্ষ্মী মা-ঠাকরুন রথে করে স্বর্গে গেছেন।
বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের জন্য অভাগীকে কী সহ্য করতে হয়েছিল?
যখন সে কিছুতেই রাজি হয়নি, তখন তার প্রতি উৎপাত-উপদ্রবও কম হয়নি— এই স্মৃতি মনে করেই অভাগীর চোখে জল আসে।
গ্রামে কবিরাজ ডাকতে গিয়ে কাঙালী কী করে?
কবিরাজ অন্য গ্রামে থাকতেন, কাঙালী কান্নাকাটি করে ঘটি বাঁধা দিয়ে এক টাকা প্রণামী দেয়, কিন্তু কবিরাজ নিজে আসেননি, শুধু বড়ি পাঠান।
কবিরাজের পাঠানো বড়ি নিয়ে অভাগী কী করে?
অভাগী বড়িগুলো মাথায় ঠেকিয়ে উনুনে ফেলে দিয়ে বলে, বাগদি-দুলের ঘরে কেউ কখনো ওষুধ খেয়ে বাঁচে না।
প্রতিবেশীরা অভাগীর জন্য কী ধরনের চিকিৎসা নিয়ে আসে?
প্রতিবেশীরা হরিণের শিঙ-ঘষা জল, গেঁটে-কড়ি পুড়িয়ে মধুতে মাড়িয়ে খাওয়ানোর মতো নানা মুষ্টিযোগ (টোটকা) নিয়ে আসে।
ঈশ্বর নাপিত অভাগীর নাড়ি দেখে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
নাড়ি দেখে ঈশ্বর নাপিত মুখ গম্ভীর করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নেড়ে উঠে যায়— এই মৌনতাতেই সবাই বুঝে যায় পরিণতি কী হতে চলেছে।
কাঙালী প্রথমবার কী করার চেষ্টা করে, যা তার আগে কখনো করতে হয়নি?
মায়ের নির্দেশে কাঙালী প্রথমবার অপটু হাতে ভাত রাঁধতে শুরু করে, ফ্যান ঝাড়তে বা ভাত বাড়তেও পারে না।
অভাগী কাঙালীকে দিয়ে কাকে ডেকে আনতে বলে?
অভাগী কাঙালীকে বলে তার বাবা রসিককে ডেকে আনতে, যাতে মৃত্যুর আগে তার পায়ের ধুলো পাওয়া যায়।
রসিক এসে অভাগীর পায়ের ধুলো দেওয়ার সময় তার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
জীবনে যে স্ত্রীকে সে কখনো ভালোবাসা দেয়নি, তার মৃত্যুকালে পায়ের ধুলো দিতে গিয়ে রসিক অপ্রত্যাশিতভাবে কেঁদে ফেলে।
বেলগাছ কাটতে গেলে কী ঘটে?
জমিদারের দারোয়ান ছুটে এসে রসিককে চড় মেরে কুড়াল কেড়ে নেয়, বলে এটা জমিদারের গাছ, তার কাটার অধিকার নেই।
ন্যায়বিচারের আশায় কাঙালী কোথায় ছুটে যায়?
পিয়াদারা ঘুষ নেয় শুনে কাঙালী বিশ্বাস করে কর্তার (জমিদারের) কাছে অভিযোগ জানালে সুবিচার পাবে, তাই কাছারি-বাড়িতে ছুটে যায়।
কাছারিতে গোমস্তা অধর রায়ের প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
কাঙালী মড়া ছুঁয়ে এসেছে জেনে অধর রায় বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে প্রাঙ্গণে গোবরজল ছড়াতে বলেন এবং কাঙালীর জাত জিজ্ঞাসা করেন।
অধর রায় গাছের কাঠের জন্য কত টাকা দাবি করেন?
অধর রায় বলেন, গাছের দাম পাঁচ টাকা আনতে পারলে তবেই কাঠ পাওয়া যাবে— যা কাঙালীর কাছে ছিল অসম্ভব একটি অঙ্ক।
অধর রায় শেষে কাঙালীকে কী পরামর্শ দেন?
অধর রায় বিরক্তিভরে বলেন, মাকে নিয়ে নদীর চড়ায় পুঁতে ফেলতে— এই অবজ্ঞাসূচক উক্তিতে জাতিভেদের নিষ্ঠুরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কাছারিতে অপমানের পর কাঙালী কার কাছে সাহায্য চাইতে যায়?
কাঙালী ঠাকুরদাস মুখুয্যের কাছে গিয়ে কাঠ চায়, যাঁর নিজের স্ত্রীর শ্রাদ্ধ মাত্র দুদিন পরেই হওয়ার কথা ছিল।
মুখুয্যের বড় ছেলে কাঙালীর আবেদন শুনে কী মন্তব্য করেন?
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “সব ব্যাটারাই এখন বামুন-কায়েত হতে চায়”— অর্থাৎ নিচু জাতের মানুষও উঁচু জাতের মতো আচার দাবি করছে বলে বিদ্রূপ করেন।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের একেবারে শেষ দৃশ্যে কাঙালী কী করছিল?
সবাই যখন অন্য কাজে ব্যস্ত, তখন কাঙালী শুধু পোড়া খড়ের আঁটির ক্ষীণ ধোঁয়ার দিকে ঊর্ধ্বদৃষ্টে স্তব্ধ হয়ে চেয়ে ছিল— যা মুখুয্যে-গিন্নির ধুমধামপূর্ণ চিতার ধোঁয়ার সাথে করুণ বৈপরীত্য তৈরি করে।
‘দুলে’ কাদের বলা হয়?
দুলে হলো পালকি বহনকারী হিন্দু সম্প্রদায়বিশেষ, যাদের সমাজে নিচু জাত বলে গণ্য করা হতো।
অধর রায়, ঠাকুরদাস মুখুয্যে ও ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কী সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়?
তিনজনই ভিন্নভাবে হলেও একই সামাজিক মানসিকতার প্রতিনিধি— নিচু জাতের একজন মানুষের কষ্টের প্রতি সম্পূর্ণ ঔদাসীন্য ও অবজ্ঞা তাঁদের সবার আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।
মিনতির পরিস্থিতির সাথে ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কোন দিকটির মিল রয়েছে?
অভাগীর মতোই মিনতির ছেলেকেও দারিদ্র্য ও সামাজিক অবহেলার মধ্যে দিয়ে মায়ের সৎকারের ভার বহন করতে হয়— এই শ্রেণিবৈষম্যের চিত্রই দুটি ঘটনার মূল সাদৃশ্য।
এ ধরনের ঘটনা থেকে সমাজের কোন কাঠামোগত সমস্যা প্রকাশ পায়?
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শ্রেণি ও সামাজিক অবস্থানের বৈষম্য শুধু জীবদ্দশায় নয়, মৃত্যুর মতো সর্বজনীন মুহূর্তেও অব্যাহত থাকে— এটি একটি গভীর কাঠামোগত সামাজিক অসাম্যের প্রতিফলন।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
অভাগীর স্বর্গ গল্পের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
অভাগীর মৃত্যু-আকাঙ্ক্ষার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
ধনী মুখুয্যে-গিন্নির ধুমধামপূর্ণ শেষকৃত্য দেখে অভাগীর মনে নিজের ছেলের হাতে সম্মানজনক মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা জাগে। এটি একজন দরিদ্র মায়ের সবচেয়ে সরল, মানবিক শেষ ইচ্ছা, যা তার সামাজিক অবস্থানের কারণে অপূর্ণ থেকে যায়।
অভাগীর মৃত্যু-শয্যায় তার শেষ ইচ্ছা ও তা পূরণে সমাজের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে লেখক কী প্রকাশ করতে চেয়েছেন?
ধনী মুখুয্যে-গিন্নি যে সম্মান ও আড়ম্বর নিয়ে বিদায় নিলেন, অভাগী শুধু নিচু জাতের হওয়ায় তার সিকিভাগও পায়নি— এই বৈষম্যই গল্পের কেন্দ্রীয় বার্তা।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
অভাগীর নামকরণ অভাগীর স্বর্গ গল্পের সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
‘অভাগী’ নামের অর্থ দুর্ভাগা— জন্ম থেকেই তার জীবনে দুর্ভাগ্যের ছায়া, স্বামীর পরিত্যাগ, দারিদ্র্য, এবং শেষে মৃত্যুতেও সম্মানজনক সৎকার না পাওয়া— সবকিছুই তার নামের অর্থকে সার্থক করে তোলে।
কাঙালীর দাহকাঠের জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।
কাঙালী মায়ের প্রতি গভীর মমতা থেকে বারবার বিভিন্ন ক্ষমতাবানদের কাছে দাহকাঠ চেয়ে অপমানিত হয়। এই ঘটনা দরিদ্র মানুষের প্রতি সমাজের নিষ্ঠুরতা ও একজন সন্তানের মাতৃভক্তির মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরে।
অধর রায় ও ঠাকুরদাস মুখুয্যের আচরণ অভাগীর স্বর্গ গল্পে কোন সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে— ব্যাখ্যা করো।
তাদের নির্মম আচরণ জাতিভেদ প্রথা ও শ্রেণিবৈষম্যের নিষ্ঠুরতম রূপ প্রকাশ করে— ধনী ও ক্ষমতাবানরা দরিদ্র, নিম্নবর্ণের মানুষের মৌলিক মানবিক প্রয়োজনকেও উপেক্ষা করে, এমনকি মৃত্যুর মতো সর্বজনীন মুহূর্তেও।
রসিকের প্রত্যাবর্তন ও অনুতাপের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
রসিক অভাগীকে পরিত্যাগ করেছিল, কিন্তু মৃত্যুকালে ফিরে এসে অনুতপ্ত হয়ে পায়ের ধুলো দেয়— এটি মানুষের মধ্যে থাকা বিলম্বিত হলেও প্রকৃত অনুশোচনা ও ভালোবাসার এক মর্মস্পর্শী প্রকাশ, যদিও তা অভাগীর জীবদ্দশায় কোনো প্রকৃত সাহায্যে আসেনি।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের শেষে প্রতীকী খড়ের আঁটির আগুন দিয়ে সৎকারের দৃশ্যটি কী বার্তা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
এই দৃশ্য দেখায় অভাগীর সম্মানজনক মৃত্যুর স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে যায়— প্রকৃত দাহকাঠের বদলে প্রতীকী আগুনেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়, যা সমাজের নিষ্ঠুরতা ও দরিদ্রের করুণ নিয়তির প্রতীক।
গল্পের নামকরণ ‘অভাগীর স্বর্গ’ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ— ব্যাখ্যা করো।
‘স্বর্গ’ এখানে আক্ষরিক অর্থে নয়, বরং অভাগীর সহজ, মানবিক আকাঙ্ক্ষা (ছেলের হাতের আগুনে মৃত্যু)-কে বোঝায়, যা তার কাছে স্বর্গলাভের সমতুল্য। কিন্তু বাস্তবে এই সামান্য স্বপ্নও অধরা থেকে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শিরোনামটি এক করুণ বিদ্রুপাত্মক তাৎপর্য বহন করে।
অভাগীর জ্বরের ঘোরে কাঙালীকে উপকথা শোনানোর দৃশ্যের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই দৃশ্য অভাগীর মাতৃস্নেহের গভীরতা প্রকাশ করে— মৃত্যুশয্যায় থেকেও সে ছেলেকে আনন্দ দিতে চায়, নিজের কষ্টের চেয়ে সন্তানের ভালোলাগাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
গল্পটি কোন সামাজিক প্রথার সমালোচনা করে— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি জাতিভেদ প্রথা ও জমিদারি শোষণব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে, যেখানে নিম্নবর্ণের দরিদ্র মানুষদের প্রতি সমাজ ও ক্ষমতাবানদের অমানবিক, বৈষম্যমূলক আচরণ উন্মোচিত হয়েছে।
গল্পটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
গল্পটি শেখায়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ করা উচিত। একজন মানুষের সবচেয়ে মৌলিক ও মর্যাদাপূর্ণ শেষ ইচ্ছাও যখন সামাজিক বৈষম্যের কারণে অপূর্ণ থেকে যায়, তা সমাজের গভীর নৈতিক ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে।
অভাগী কেন পুনরায় বিয়ে (নিকে) করেনি?
অভাগী বিশ্বাস করত কাঙালী বাঁচলে তার দুঃখ ঘুচবে, তাই বহু চাপ সত্ত্বেও সে আবার বিয়ে করতে রাজি হয়নি।
দারোয়ান কাঙালীকে মারতে গিয়েও কেন থেমে যায়?
কাঙালী তার মায়ের মৃতদেহ স্পর্শ করে বসেছিল বলে অশৌচের (অপবিত্রতার) ভয়ে দারোয়ান তার গায়ে হাত দেয়নি।
মুখুয্যে কাঙালীর অনুরোধ কীভাবে প্রত্যাখ্যান করেন?
মুখুয্যে বিরক্ত হয়ে বলেন, তাঁর নিজেরই কত কাঠের দরকার, কাল বাদে পরশু তাঁর নিজের অনুষ্ঠান— তাই কাঙালীকে ফিরিয়ে দেন।
গল্পের শিরোনাম ‘অভাগীর স্বর্গ’-এর মধ্যে কোন বিদ্রূপাত্মক তাৎপর্য লুকিয়ে আছে?
শিরোনামের ‘স্বর্গ’ আসলে বিদ্রূপাত্মক— অভাগী যে সম্মানজনক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে স্বর্গে যাওয়ার শর্ত মনে করেছিল, বাস্তবে জাতিভেদের নিষ্ঠুরতায় তার ভাগ্যে তা জোটেনি, তাই তার নামের (অভাগী) মতোই তার পরিণতিও অভাগ্যপূর্ণ।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে অভাগীর স্বর্গ গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
