অভাগীর স্বর্গ গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “অভাগীর স্বর্গ” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য অভাগীর স্বর্গ গল্পের নোট দেখুন।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
অভাগীর স্বর্গ গল্পের লেখক কে?
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬, দেবানন্দপুর, হুগলি; মৃত্যু ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮)। আর্থিক সংকটে এফএ-তেই পড়াশোনা থেমে যায়; ১৯০৩ সালে বার্মায় চাকরি করার সময় সাহিত্য-সাধনা শুরু; ১৯১৬ সালে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন। উল্লেখযোগ্য রচনা: দেবদাস, শ্রীকান্ত, পরিণীতা, চরিত্রহীন, গৃহদাহ, পথের দাবী, পল্লিসমাজ ইত্যাদি।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের উৎস
সুকুমার সেন সম্পাদিত ‘শরৎ সাহিত্যসমগ্র’ থেকে সংকলিত ছোটগল্প।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের মূল চরিত্র কারা?
– **অভাগী (কাঙালীর মা)** — দরিদ্র দুলে বিধবা, স্বামীপরিত্যক্তা, ছেলের প্রতি গভীর মমতাময়ী, সম্মানজনক মৃত্যুর স্বপ্ন দেখেন কিন্তু জাতিভেদের কারণে তা পান না।
– **কাঙালী** — অভাগীর পনেরো বছরের ছেলে, মাতৃভক্ত, মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণে মরিয়া কিন্তু সমাজের কাছে বারবার প্রত্যাখ্যাত।
– **রসিক (দুলে)** — অভাগীর স্বামী, যে তাকে ছেড়ে গিয়েছিল, মৃত্যুকালে ফিরে এসে অনুতপ্ত হয়।
– **ঠাকুরদাস মুখুয্যে** — ধনী জমিদার-শ্রেণির মানুষ, যার স্ত্রীর মৃত্যুতে ধুমধাম, কিন্তু কাঙালীর প্রতি নির্মম।
– **অধর রায়** — জমিদারের গোমস্তা, জাতিভেদ ও ক্ষমতার নিষ্ঠুর প্রতিনিধি।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের কাহিনি সংক্ষেপে
- ধনী মুখুয্যে-গিন্নির ধুমধামপূর্ণ শেষকৃত্য দেখে অভাগীর মনে নিজের মৃত্যুর স্বপ্ন জাগে— ছেলের হাতের আগুনে স্বর্গলাভের আকাঙ্ক্ষা।
- অভাগীর অতীত— অভাগ্যজনক নামকরণ, স্বামীর পরিত্যাগ, ছেলের জন্য পুনর্বিবাহ প্রত্যাখ্যান।
- শ্মশানে দাঁড়িয়ে জ্বর বাধিয়ে ফেলা, অসুস্থতার বৃদ্ধি, জ্বরের ঘোরে কাঙালীকে স্বরচিত উপকথা শোনানো।
- মৃত্যুশয্যায় স্বামীর পায়ের ধুলো ও ছেলের হাতের আগুনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ।
- চিকিৎসার ব্যর্থ চেষ্টা, ঈশ্বর নাপিতের নির্বাক ইঙ্গিত, রসিকের আগমন ও অনুতপ্ত পদধূলি দান।
- অভাগীর মৃত্যু, দাহকাঠের জন্য কাঙালীর মরিয়া প্রচেষ্টা— দারোয়ানের হাতে অপমান, অধর রায়ের কাছে প্রত্যাখ্যান, মুখুয্যে ও ভট্টাচার্যের কাছেও ব্যর্থতা।
- শেষে নদীর চরে গর্ত খুঁড়ে প্রতীকী খড়ের আঁটির আগুন দিয়ে সমাহিতকরণ— প্রকৃত সৎকার অধরাই থেকে যায়।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের মূল ভাব কী?
জাতিভেদ প্রথা ও জমিদারি শোষণের নিষ্ঠুরতম রূপ— একজন দরিদ্র মায়ের সবচেয়ে সরল, মানবিক শেষ ইচ্ছাও সমাজ ও ক্ষমতাবানদের অবজ্ঞায় অপূর্ণ থেকে যায়। গল্পটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে মানবিক হওয়ার শিক্ষা দেয়।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সগ্য (স্বর্গ), দুলে (নিচু জাতের সম্প্রদায়), হরিধ্বনি (মৃতদেহ বহনকালে হরিনাম), মুষ্টিযোগ (টোটকা চিকিৎসা), ভুক্তাবশেষ (উচ্ছিষ্ট খাবার), অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (সৎকার), সংস্কার (আজন্ম বিশ্বাস), শশব্যস্ত (তড়িঘড়ি ব্যস্ত)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৭৬
- খ. ১৮৭৭
- গ. ১৮৭৫
- ঘ. ১৮৭৪
উত্তর: ক। তিনি ১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
২। শরৎচন্দ্রের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. মেদিনীপুর
- খ. দেবানন্দপুর, হুগলি
- গ. বর্ধমান
- ঘ. নদীয়া
উত্তর: খ। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। আর্থিক সংকটের কারণে শরৎচন্দ্রের ছাত্রজীবন কোন শ্রেণিতে থেমে যায়?
- ক. মেট্রিক
- খ. এফএ
- গ. বিএ
- ঘ. এমএ
উত্তর: খ। এফএ শ্রেণিতে পড়ার সময় আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর ছাত্রজীবনের অবসান ঘটে।
৪। ভাগ্যের সন্ধানে শরৎচন্দ্র কত সালে বার্মা যান?
- ক. ১৯১০
- খ. ১৯০৩
- গ. ১৯০৫
- ঘ. ১৯০০
উত্তর: খ। ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) যান এবং রেঙ্গুনে অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের অফিসে কেরানি পদে চাকরি করেন।
৫। শরৎচন্দ্র কত সালে কলকাতায় ফিরে আসেন?
- ক. ১৯১৩
- খ. ১৯১৪
- গ. ১৯২০
- ঘ. ১৯১৬
উত্তর: ঘ। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন এবং নিয়মিতভাবে সাহিত্য-সাধনা করতে থাকেন।
৬। নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা নয়?
- ক. শ্রীকান্ত
- খ. গোরা
- গ. দেবদাস
- ঘ. পল্লিসমাজ
উত্তর: খ। গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস; বাকি তিনটি শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত রচনা।
৭। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৩৮
- খ. ১৯৩৭
- গ. ১৯৩৯
- ঘ. ১৯৩৬
উত্তর: ক। ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৮। ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?
- ক. গীতাঞ্জলি
- খ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
- গ. গল্পগুচ্ছ
- ঘ. শরৎ সাহিত্যসমগ্র
উত্তর: ঘ। সুকুমার সেন সম্পাদিত ‘শরৎ সাহিত্যসমগ্র’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে গল্পটি সংকলন করা হয়েছে।
৯। গল্পের মাধ্যমে শরৎচন্দ্র মূলত কী তুলে ধরেছেন?
- ক. ধর্মীয় উৎসব
- খ. জাতিভেদ ও শোষণের নিষ্ঠুরতা
- গ. প্রেমের কাহিনি
- ঘ. রাজনৈতিক আন্দোলন
উত্তর: খ। এই গল্পে শরৎচন্দ্র অমানবিক জাতিভেদ প্রথা এবং জমিদারি ব্যবস্থার শোষণ-নির্যাতনের ছবি এঁকেছেন।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। গল্পের শুরুতে কার মৃত্যুর ঘটনা বর্ণিত হয়েছে?
- ক. মুখুয্যে গিন্নির
- খ. অভাগীর
- গ. রসিক দুলের
- ঘ. কাঙালীর
উত্তর: ক। ধনী ঠাকুরদাস মুখুয্যের বর্ষীয়সী স্ত্রী সাতদিনের জ্বরে মারা যান, যা দিয়েই গল্পের সূচনা।
১১। ঠাকুরদাস মুখুয্যে কোন ব্যবসায় সঙ্গতিপন্ন ছিলেন?
- ক. ধানের কারবার
- খ. স্বর্ণ ব্যবসা
- গ. কাপড়ের ব্যবসা
- ঘ. জমি বেচাকেনা
উত্তর: ক। তিনি ধানের কারবারে অতিশয় সঙ্গতিপন্ন (সম্পদশালী) ছিলেন।
১২। মুখুয্যে গিন্নির শবযাত্রা কেমন ছিল?
- ক. ধুমধামপূর্ণ, উৎসবের মতো
- খ. গোপনীয়
- গ. বিলম্বিত
- ঘ. নিঃশব্দ ও সাদামাটা
উত্তর: ক। পুষ্প, পত্র, গন্ধ, মাল্য, হরিধ্বনিতে এমন এক ধুমধামের আয়োজন হয়েছিল যে তা শোকের চেয়ে উৎসবের মতো মনে হচ্ছিল।
১৩। কাঙালীর মা (অভাগী) কোন সম্প্রদায়ের ছিল?
- ক. ব্রাহ্মণ
- খ. দুলে (নিচু জাত বলে গণ্য)
- গ. বৈশ্য
- ঘ. কায়স্থ
উত্তর: খ। সে ছোটজাত, দুলের মেয়ে বলে শ্মশানের কাছে যেতে সাহস পায়নি, তফাতে দাঁড়িয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখেছিল।
১৪। শ্মশানঘাটটি কোন নদীর তীরে অবস্থিত ছিল?
- ক. গরুড় নদী
- খ. গঙ্গা
- গ. মেঘনা
- ঘ. পদ্মা
উত্তর: ক। গ্রামের একান্তে গরুড়-নদীর তীরে শ্মশান অবস্থিত ছিল।
১৫। চিতার ধোঁয়া দেখে অভাগীর মনে কী কল্পনা জাগে?
- ক. একটি প্রাসাদের
- খ. একটি রথের
- গ. একটি নৌকার
- ঘ. একটি পাখির
উত্তর: খ। ধোঁয়ার মধ্যে অভাগী একখানি রথের চেহারা কল্পনা করে, যাতে মুখুয্যে গিন্নি স্বর্গে যাচ্ছেন বলে তার বিশ্বাস হয়।
১৬। অভাগী মনে মনে কী প্রার্থনা করে?
- ক. ধনসম্পদ প্রার্থনা করে
- খ. রোগমুক্তি প্রার্থনা করে
- গ. কাঙালীর হাতের আগুন পাওয়ার প্রার্থনা করে
- ঘ. দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করে
উত্তর: গ। সে মনে মনে বলে, ভাগ্যিমানী মা, আমাকেও আশীর্বাদ করে যাও, আমিও যেন কাঙালীর হাতের আগুনটুকু পাই।
**১৭। শ্মশানের দৃশ্য নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. অভাগী শ্মশানের একদম কাছে গিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখেছিল
ii. অভাগী নিজের হাটে যাওয়ার কাজ ফেলে শ্মশানে চলে যায়
iii. চিতার আগুনে পুত্রহস্তের মন্ত্রপূত অগ্নি সংযোজিত হয়েছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** ছোটজাত বলে অভাগী শ্মশানের কাছে যেতে সাহস পায়নি, তফাতে দাঁড়িয়েছিল— তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; বাকি দুটি গল্পের বর্ণনার সাথে মেলে।
১৮। কাঙালীর বয়স কত ছিল?
- ক. ষোলো-সতেরো
- খ. চোদ্দ-পনেরো
- গ. বারো
- ঘ. তেরো-চোদ্দ
উত্তর: খ। কাঙালী বড়ো হয়ে সেদিন পনেরোয় পা দিয়েছে বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৯। কাঙালী তখন কোন কাজ শিখছিল?
- ক. কামারের কাজ
- খ. বেতের কাজ
- গ. মাছ ধরা
- ঘ. কৃষিকাজ
উত্তর: খ। কাঙালী তখন সবেমাত্র বেতের কাজ শিখতে শুরু করেছিল।
২০। অভাগীর নাম রাখার পেছনের কারণ কী ছিল?
- ক. মায়ের মৃত্যুতে বাবার রাগে দেওয়া নাম
- খ. জ্যোতিষীর পরামর্শ
- গ. তার সৌন্দর্যের কারণে
- ঘ. পারিবারিক রীতি
উত্তর: ক। তাকে জন্ম দিয়ে তার মা মারা যাওয়ায় বাবা রাগ করে তার নাম রাখে অভাগী।
২১। অভাগীর স্বামীর নাম কী ছিল?
- ক. রসিক দুলে (রসিক বাঘ)
- খ. ঠাকুরদাস
- গ. অধর রায়
- ঘ. ঈশ্বর নাপিত
উত্তর: ক। তার স্বামীর নাম রসিক (রসিক বাঘ/রসিক দুলে), যে অন্য এক নারীকে নিয়ে গ্রামান্তরে চলে যায়।
২২। অভাগীর স্বামী তাকে ছেড়ে যাওয়ার কারণ কী ছিল?
- ক. আর্থিক দুরবস্থা
- খ. অসুস্থতা
- গ. অন্য নারীকে নিয়ে চলে যাওয়া
- ঘ. পারিবারিক কলহ
উত্তর: গ। রসিকের অন্য এক বাঘিনী (উপপত্নী) ছিল, তাকে নিয়ে সে গ্রামান্তরে উঠে যায়, অভাগীকে ছেলেসহ ফেলে রেখে।
২৩। অভাগী কাঙালীকে খাওয়ানোর জন্য কী কৌশল অবলম্বন করত?
- ক. অতিরিক্ত রান্না করত
- খ. প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করত
- গ. নিজে না খেয়ে ভাত জমিয়ে রাখত
- ঘ. কাঙালীকে একাই রান্না করতে দিত
উত্তর: গ। অভাগী নিজের ভাগের ভাত না খেয়ে হাঁড়িতে রেখে দিত এবং কাঙালীকে বলত তার ক্ষিদে নেই— এই ছলনায় সে বহুদিন কাঙালীকে ফাঁকি দিয়েছে।
২৪। কাঙালী মায়ের গা গরম দেখে কী প্রশ্ন করে?
- ক. কেন মড়া-পোড়ানো দেখতে গেলে?
- খ. তুমি কি অসুস্থ মা?
- গ. তুমি কি খেয়েছ?
- ঘ. তুমি কোথায় ছিলে?
উত্তর: ক। কাঙালী প্রশ্ন করে কেন সে রোদে দাঁড়িয়ে মড়া-পোড়ানো দেখতে গিয়েছিল এবং কেন আবার স্নান করে এসেছে।
২৫। ‘মড়া-পোড়ানো’ শব্দটি শুনে অভাগীর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
- ক. মুখ চেপে ধরে বলে পাপ হয়
- খ. সে উদাসীন থাকে
- গ. সে সম্মত হয়
- ঘ. সে হাসে
উত্তর: ক। অভাগী শশব্যস্তে ছেলের মুখে হাত চাপা দিয়ে বলে, মড়া-পোড়ানো বলতে নেই, পাপ হয়— সতী-লক্ষ্মী মা-ঠাকরুন রথে করে স্বর্গে গেছেন।
২৬। অভাগী কেন পুনরায় বিয়ে (নিকে) করেনি?
- ক. তার কেউ প্রস্তাব দেয়নি বলে
- খ. সামাজিক নিয়মের কারণে
- গ. আর্থিক কারণে
- ঘ. ছেলের কথা ভেবে
উত্তর: ঘ। অভাগী বিশ্বাস করত কাঙালী বাঁচলে তার দুঃখ ঘুচবে, তাই বহু চাপ সত্ত্বেও সে আবার বিয়ে করতে রাজি হয়নি।
২৭। বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের জন্য অভাগীকে কী সহ্য করতে হয়েছিল?
- ক. গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল
- খ. উৎপাত-উপদ্রব সহ্য করতে হয়েছিল
- গ. পুরস্কৃত হয়েছিল
- ঘ. কোনো সমস্যা হয়নি
উত্তর: খ। যখন সে কিছুতেই রাজি হয়নি, তখন তার প্রতি উৎপাত-উপদ্রবও কম হয়নি— এই স্মৃতি মনে করেই অভাগীর চোখে জল আসে।
২৮। জ্বরের ঘোরে অভাগী কাঙালীকে কী শোনায়?
- ক. নিজের বানানো রূপকথা
- খ. পুরনো ধর্মগ্রন্থের কাহিনি
- গ. গ্রামের ইতিহাস
- ঘ. নিজের শৈশবের কথা
উত্তর: ক। জ্বরের ঘোরে অভাগী রাজপুত্র, কোটালপুত্র ও পক্ষীরাজ ঘোড়ার কথা দিয়ে গল্প শুরু করে, যা ক্রমে তার নিজের সৃষ্ট উপকথায় পরিণত হয়।
**২৯। অভাগীর শেষ ইচ্ছা সম্পর্কে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. সে চায় কাঙালী তার স্বামীকে ডেকে আনুক
ii. সে চায় মৃত্যুর আগে স্বামীর পায়ের ধুলো নিতে
iii. সে চায় ছেলের হাতের আগুনে তার দাহ হোক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ঘ।** তিনটি ইচ্ছাই অভাগীর মুখে গল্পে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে— স্বামীর পায়ের ধুলো ও ছেলের হাতের আগুন, দুটোই স্বর্গে যাওয়ার শর্ত বলে সে বিশ্বাস করত।
৩০। গ্রামে কবিরাজ ডাকতে গিয়ে কাঙালী কী করে?
- ক. নিজে চিকিৎসা করে
- খ. প্রতিবেশীর সাহায্য নেয়
- গ. কবিরাজকে বাড়িতে নিয়ে আসে
- ঘ. ঘটি বাঁধা দিয়ে এক টাকা প্রণামী দেয়
উত্তর: ঘ। কবিরাজ অন্য গ্রামে থাকতেন, কাঙালী কান্নাকাটি করে ঘটি বাঁধা দিয়ে এক টাকা প্রণামী দেয়, কিন্তু কবিরাজ নিজে আসেননি, শুধু বড়ি পাঠান।
৩১। কবিরাজের পাঠানো বড়ি নিয়ে অভাগী কী করে?
- ক. মাথায় ঠেকিয়ে ফেলে দেয়
- খ. প্রতিবেশীকে দিয়ে দেয়
- গ. সংরক্ষণ করে রাখে
- ঘ. খেয়ে নেয়
উত্তর: ক। অভাগী বড়িগুলো মাথায় ঠেকিয়ে উনুনে ফেলে দিয়ে বলে, বাগদি-দুলের ঘরে কেউ কখনো ওষুধ খেয়ে বাঁচে না।
৩২। প্রতিবেশীরা অভাগীর জন্য কী ধরনের চিকিৎসা নিয়ে আসে?
- ক. হোমিওপ্যাথি
- খ. টোটকা চিকিৎসা
- গ. আধুনিক ওষুধ
- ঘ. আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা
উত্তর: খ। প্রতিবেশীরা হরিণের শিঙ-ঘষা জল, গেঁটে-কড়ি পুড়িয়ে মধুতে মাড়িয়ে খাওয়ানোর মতো নানা মুষ্টিযোগ (টোটকা) নিয়ে আসে।
৩৩। ঈশ্বর নাপিত অভাগীর নাড়ি দেখে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. সে আশ্বস্ত করে বলে ভালো হয়ে যাবে
- খ. মাথা নেড়ে চলে যায়
- গ. সে হাসে
- ঘ. সে ওষুধ দেয়
উত্তর: খ। নাড়ি দেখে ঈশ্বর নাপিত মুখ গম্ভীর করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নেড়ে উঠে যায়— এই মৌনতাতেই সবাই বুঝে যায় পরিণতি কী হতে চলেছে।
৩৪। কাঙালী প্রথমবার কী করার চেষ্টা করে, যা তার আগে কখনো করতে হয়নি?
- ক. টাকা রোজগার করা
- খ. মাছ ধরা
- গ. ভাত রান্না করা
- ঘ. বেতের কাজ করা
উত্তর: গ। মায়ের নির্দেশে কাঙালী প্রথমবার অপটু হাতে ভাত রাঁধতে শুরু করে, ফ্যান ঝাড়তে বা ভাত বাড়তেও পারে না।
৩৫। অভাগী কাঙালীকে দিয়ে কাকে ডেকে আনতে বলে?
- ক. তার স্বামী রসিককে
- খ. জমিদারকে
- গ. কবিরাজকে
- ঘ. গ্রামের প্রধানকে
উত্তর: ক। অভাগী কাঙালীকে বলে তার বাবা রসিককে ডেকে আনতে, যাতে মৃত্যুর আগে তার পায়ের ধুলো পাওয়া যায়।
৩৬। রসিক এসে অভাগীর পায়ের ধুলো দেওয়ার সময় তার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
- ক. উদাসীন থাকে
- খ. হতবুদ্ধি হয়ে কেঁদে ফেলে
- গ. বিরক্ত হয়
- ঘ. রাগ করে চলে যায়
উত্তর: খ। জীবনে যে স্ত্রীকে সে কখনো ভালোবাসা দেয়নি, তার মৃত্যুকালে পায়ের ধুলো দিতে গিয়ে রসিক অপ্রত্যাশিতভাবে কেঁদে ফেলে।
৩৭। অভাগীর মৃত্যুর পর রসিক কী করতে গিয়েছিল?
- ক. পুরোহিত ডাকতে
- খ. বেলগাছ কেটে কাঠ জোগাড় করতে
- গ. খাবার আনতে
- ঘ. খবর ছড়াতে
উত্তর: খ। রসিক উঠান-প্রাঙ্গণের একটি বেলগাছ (যা অভাগীর নিজের হাতে পোঁতা) কাটতে যায়, যাতে দাহের জন্য কাঠ পাওয়া যায়।
৩৮। বেলগাছ কাটতে গেলে কী ঘটে?
- ক. গ্রামবাসীরা সাহায্য করে
- খ. রসিক নিজেই কাটতে অস্বীকার করে
- গ. দারোয়ান তাকে চড় মারে
- ঘ. গাছটি এমনিতেই পড়ে যায়
উত্তর: গ। জমিদারের দারোয়ান ছুটে এসে রসিককে চড় মেরে কুড়াল কেড়ে নেয়, বলে এটা জমিদারের গাছ, তার কাটার অধিকার নেই।
৩৯। দারোয়ান কাঙালীকে মারতে গিয়েও কেন থেমে যায়?
- ক. অশৌচের ভয়ে
- খ. গ্রামবাসীরা বাধা দেয় বলে
- গ. জমিদার নিষেধ করেন বলে
- ঘ. কাঙালী ক্ষমা চায় বলে
উত্তর: ক। কাঙালী তার মায়ের মৃতদেহ স্পর্শ করে বসেছিল বলে অশৌচের (অপবিত্রতার) ভয়ে দারোয়ান তার গায়ে হাত দেয়নি।
৪০। ন্যায়বিচারের আশায় কাঙালী কোথায় ছুটে যায়?
- ক. পুরোহিতের কাছে
- খ. থানায়
- গ. মন্দিরে
- ঘ. জমিদারের কাছারি-বাড়িতে
উত্তর: ঘ। পিয়াদারা ঘুষ নেয় শুনে কাঙালী বিশ্বাস করে কর্তার (জমিদারের) কাছে অভিযোগ জানালে সুবিচার পাবে, তাই কাছারি-বাড়িতে ছুটে যায়।
৪১। কাছারিতে গোমস্তা অধর রায়ের প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
- ক. তাৎক্ষণিক বিচার করেন
- খ. সহানুভূতিশীল হন
- গ. কাঙালীকে টাকা দেন
- ঘ. বিরক্ত হয়ে গোবরজল ছড়াতে বলেন
উত্তর: ঘ। কাঙালী মড়া ছুঁয়ে এসেছে জেনে অধর রায় বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে প্রাঙ্গণে গোবরজল ছড়াতে বলেন এবং কাঙালীর জাত জিজ্ঞাসা করেন।
৪২। অধর রায় গাছের কাঠের জন্য কত টাকা দাবি করেন?
- ক. তিন টাকা
- খ. দশ টাকা
- গ. দুই টাকা
- ঘ. পাঁচ টাকা
উত্তর: ঘ। অধর রায় বলেন, গাছের দাম পাঁচ টাকা আনতে পারলে তবেই কাঠ পাওয়া যাবে— যা কাঙালীর কাছে ছিল অসম্ভব একটি অঙ্ক।
৪৩। অধর রায় শেষে কাঙালীকে কী পরামর্শ দেন?
- ক. অপেক্ষা করতে
- খ. অন্য গ্রামে যেতে
- গ. মাকে নদীর চড়ায় পুঁতে ফেলতে
- ঘ. পুলিশে অভিযোগ জানাতে
উত্তর: গ। অধর রায় বিরক্তিভরে বলেন, মাকে নিয়ে নদীর চড়ায় পুঁতে ফেলতে— এই অবজ্ঞাসূচক উক্তিতে জাতিভেদের নিষ্ঠুরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৪৪। কাছারিতে অপমানের পর কাঙালী কার কাছে সাহায্য চাইতে যায়?
- ক. পুরোহিতের কাছে
- খ. প্রতিবেশীদের কাছে
- গ. ঠাকুরদাস মুখুয্যের কাছে
- ঘ. গ্রামপ্রধানের কাছে
উত্তর: গ। কাঙালী ঠাকুরদাস মুখুয্যের কাছে গিয়ে কাঠ চায়, যাঁর নিজের স্ত্রীর শ্রাদ্ধ মাত্র দুদিন পরেই হওয়ার কথা ছিল।
৪৫। মুখুয্যে কাঙালীর অনুরোধ কীভাবে প্রত্যাখ্যান করেন?
- ক. নিজের প্রয়োজনের কথা বলে
- খ. অর্থ দিয়ে
- গ. অন্য ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে
- ঘ. সমবেদনা জানিয়ে
উত্তর: ক। মুখুয্যে বিরক্ত হয়ে বলেন, তাঁর নিজেরই কত কাঠের দরকার, কাল বাদে পরশু তাঁর নিজের অনুষ্ঠান— তাই কাঙালীকে ফিরিয়ে দেন।
৪৬। ভট্টাচার্য মহাশয় কাঙালীকে কী পরামর্শ দেন?
- ক. অন্য গ্রামে যেতে
- খ. নদীর চড়ায় মাটি দিতে
- গ. অপেক্ষা করতে
- ঘ. জমিদারের কাছে আবার যেতে
উত্তর: খ। ভট্টাচার্য বলেন, তাদের জাতে কেউ আসলে দাহ করে না, তাই মুখে একটু নুড়ো জ্বেলে নদীর চড়ায় মাটি দিতেই বলেন— জাতিভেদের নিষ্ঠুর সামাজিক মনোভাবের আরেকটি দৃষ্টান্ত।
৪৭। মুখুয্যের বড় ছেলে কাঙালীর আবেদন শুনে কী মন্তব্য করেন?
- ক. ব্যঙ্গ করে চলে যান
- খ. রাগ করেন
- গ. সমবেদনা জানান
- ঘ. সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন
উত্তর: ক। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “সব ব্যাটারাই এখন বামুন-কায়েত হতে চায়”— অর্থাৎ নিচু জাতের মানুষও উঁচু জাতের মতো আচার দাবি করছে বলে বিদ্রূপ করেন।
৪৮। শেষ পর্যন্ত অভাগীর সৎকার কীভাবে সম্পন্ন হয়?
- ক. জমিদার শেষে কাঠ দেন
- খ. পূর্ণ ধর্মীয় বিধি মেনে দাহ করা হয়
- গ. নদীর চরে মাটি দিয়ে খড়ের আঁটি জ্বালানো হয়
- ঘ. মন্দিরে সৎকার করা হয়
উত্তর: গ। নদীর চরে গর্ত খুঁড়ে অভাগীকে শোয়ানো হয়, রাখালের মা কাঙালীর হাতে একটা খড়ের আঁটি জ্বালিয়ে তার মায়ের মুখে ছুঁইয়ে দেয়, তারপর মাটি চাপা দেওয়া হয়— প্রকৃত দাহ সম্ভব হয়নি।
৪৯। গল্পের একেবারে শেষ দৃশ্যে কাঙালী কী করছিল?
- ক. গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছিল
- খ. বাবার সাথে কথা বলছিল
- গ. কাঁদছিল
- ঘ. ধোঁয়ার দিকে চেয়ে ছিল
উত্তর: ঘ। সবাই যখন অন্য কাজে ব্যস্ত, তখন কাঙালী শুধু পোড়া খড়ের আঁটির ক্ষীণ ধোঁয়ার দিকে ঊর্ধ্বদৃষ্টে স্তব্ধ হয়ে চেয়ে ছিল— যা মুখুয্যে-গিন্নির ধুমধামপূর্ণ চিতার ধোঁয়ার সাথে করুণ বৈপরীত্য তৈরি করে।
৫০। ‘সগ্য’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সত্য
- খ. সঙ্গী
- গ. সংসার
- ঘ. স্বর্গ শব্দের কথ্যরূপ
উত্তর: ঘ। সগ্য হলো স্বর্গ শব্দের গ্রামীণ কথ্যরূপ।
৫১। ‘দুলে’ কাদের বলা হয়?
- ক. ব্রাহ্মণদের
- খ. জমিদারদের
- গ. শিক্ষকদের
- ঘ. পালকি বহনকারী সম্প্রদায়
উত্তর: ঘ। দুলে হলো পালকি বহনকারী হিন্দু সম্প্রদায়বিশেষ, যাদের সমাজে নিচু জাত বলে গণ্য করা হতো।
৫২। ‘হরিধ্বনি’ কী?
- ক. সমবেতকণ্ঠে হরিনাম উচ্চারণ
- খ. একটি উৎসবের নাম
- গ. একটি প্রার্থনার বই
- ঘ. একটি বাদ্যযন্ত্র
উত্তর: ক। মৃতদেহ বহন করার সময় হিন্দু সম্প্রদায় সমবেতকণ্ঠে দেবতা হরির নাম উচ্চস্বরে উচ্চারণ করে, একেই হরিধ্বনি বলে।
৫৩। ‘মুষ্টিযোগ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. অস্ত্রোপচার
- খ. টোটকা চিকিৎসা
- গ. আধুনিক চিকিৎসা
- ঘ. মন্ত্রপাঠ
উত্তর: খ। মুষ্টিযোগ অর্থ টোটকা বা প্রচলিত ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি।
৫৪। ‘ভুক্তাবশেষ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. খাবারের তালিকা
- খ. রান্নার আগের খাবার
- গ. পাতে ফেলে রাখা উচ্ছিষ্ট
- ঘ. রান্নাঘরের বাসন
উত্তর: গ। ভুক্তাবশেষ অর্থ ভোজনের পরে পাতে অবশিষ্ট থাকা খাবার।
৫৫। অভাগীর মৃত্যু-শয্যায় তার শেষ ইচ্ছা ও তা পূরণে সমাজের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে লেখক কী প্রকাশ করতে চেয়েছেন?
- ক. চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা
- খ. মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু-ভীতি
- গ. পারিবারিক কলহের প্রভাব
- ঘ. জাতিভেদ প্রথার নিষ্ঠুরতা
উত্তর: ঘ। ধনী মুখুয্যে-গিন্নি যে সম্মান ও আড়ম্বর নিয়ে বিদায় নিলেন, অভাগী শুধু নিচু জাতের হওয়ায় তার সিকিভাগও পায়নি— এই বৈষম্যই গল্পের কেন্দ্রীয় বার্তা।
৫৬। অধর রায়, ঠাকুরদাস মুখুয্যে ও ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কী সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়?
- ক. তাঁরা সবাই কাঙালীর আত্মীয় ছিলেন
- খ. তাঁরা সবাই আর্থিক সংকটে ছিলেন
- গ. তাঁরা সবাই কাঙালীকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন
- ঘ. সবাই শ্রেণিবৈষম্যের কারণে উদাসীনতা দেখিয়েছেন
উত্তর: ঘ। তিনজনই ভিন্নভাবে হলেও একই সামাজিক মানসিকতার প্রতিনিধি— নিচু জাতের একজন মানুষের কষ্টের প্রতি সম্পূর্ণ ঔদাসীন্য ও অবজ্ঞা তাঁদের সবার আচরণে প্রকাশ পেয়েছে।
৫৭। গল্পের শিরোনাম ‘অভাগীর স্বর্গ’-এর মধ্যে কোন বিদ্রূপাত্মক তাৎপর্য লুকিয়ে আছে?
- ক. গল্পটির কোনো গভীর অর্থ নেই
- খ. স্বর্গ শব্দটি নিছক রসিকতা
- গ. কল্পিত স্বর্গ বাস্তবে জাতিভেদের কারণে অধরাই থেকে যায়
- ঘ. অভাগী সত্যিই স্বর্গে গিয়েছিল
উত্তর: গ। শিরোনামের ‘স্বর্গ’ আসলে বিদ্রূপাত্মক— অভাগী যে সম্মানজনক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে স্বর্গে যাওয়ার শর্ত মনে করেছিল, বাস্তবে জাতিভেদের নিষ্ঠুরতায় তার ভাগ্যে তা জোটেনি, তাই তার নামের (অভাগী) মতোই তার পরিণতিও অভাগ্যপূর্ণ।
মিনতি একজন গৃহকর্মী, বহু বছর ধরে এক ধনী পরিবারে কাজ করেছে। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি সামান্য কিছু সাহায্য করলেও প্রকৃত সৎকারের সব খরচ বহন করতে হয় তার দরিদ্র ছেলেকে, যে ধারদেনা করে কোনোমতে মাকে দাহ করে।
৫৮। মিনতির পরিস্থিতির সাথে ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কোন দিকটির মিল রয়েছে?
- ক. মৃত্যুতেও সামাজিক বৈষম্যের চিত্র
- খ. চরিত্রের নাম
- গ. ধর্মীয় আচার
- ঘ. পারিবারিক সম্পর্ক
উত্তর: ক। অভাগীর মতোই মিনতির ছেলেকেও দারিদ্র্য ও সামাজিক অবহেলার মধ্যে দিয়ে মায়ের সৎকারের ভার বহন করতে হয়— এই শ্রেণিবৈষম্যের চিত্রই দুটি ঘটনার মূল সাদৃশ্য।
৫৯। এ ধরনের ঘটনা থেকে সমাজের কোন কাঠামোগত সমস্যা প্রকাশ পায়?
- ক. পারিবারিক অবহেলা মাত্র
- খ. দরিদ্রদের প্রতি বৈষম্য মৃত্যুতেও অব্যাহত থাকে
- গ. ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য
- ঘ. চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি মাত্র
উত্তর: খ। উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শ্রেণি ও সামাজিক অবস্থানের বৈষম্য শুধু জীবদ্দশায় নয়, মৃত্যুর মতো সর্বজনীন মুহূর্তেও অব্যাহত থাকে— এটি একটি গভীর কাঠামোগত সামাজিক অসাম্যের প্রতিফলন।
