● Note

অন্ধবধূ কবিতার নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

অন্ধবধূ কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “অন্ধবধূ” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য অন্ধবধূ কবিতার MCQ দেখুন।

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)

যতীন্দ্রমোহন বাগচী ও অন্ধবধূ কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

যতীন্দ্রমোহন বাগচী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

তিনি ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্মস্থান কোথায়?

তাঁর জন্মস্থান নদীয়া জেলার জামশেদপুর গ্রাম।

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিমানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

পল্লি-প্রীতি তাঁর কবিমানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

যতীন্দ্রমোহন বাগচী তাঁর অন্ধবধূ রচনায় কী প্রকাশে প্রয়াসী হয়েছেন?

তিনি গ্রামবাংলার শ্যামল স্নিগ্ধ রূপ প্রকাশে প্রয়াসী হয়েছেন।

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।

তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ লেখা রেখা।

যতীন্দ্রমোহন বাগচী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

কোন পাখির ডাক শুনে বধূ জন্মান্ধ মানুষের কষ্টের কথা বলেন?

‘চোখ গেল’ পাখির ডাক শুনে তিনি এই কষ্টের কথা বলেন।

জন্মান্ধ মানুষের কোন সুযোগ নেই বলে বধূ উল্লেখ করেন?

কাঁদার সুখও যার নেই— এই কথা উল্লেখ করেন।

নিচের কোনটি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাব্যগ্রন্থ নয়?

চতুষ্কোণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস; বাকিগুলো যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাব্যগ্রন্থ।

বধূ নিজের মৃত্যু হলে কী হবে বলে ননদকে সান্ত্বনা দেন?

বধূ বলেন, তার মৃত্যুতে সত্যিকারের দুঃখ নেই, কারণ ননদরা তো বেঁচে থাকবে, আর তার দাদা (স্বামী) তো আগেই আছে।

বধূর মৃত্যু-চিন্তা ও পরক্ষণেই জীবনের প্রতি আসক্তি— এই দ্বন্দ্ব থেকে তার মানসিক অবস্থার কোন দিকটি বোঝা যায়?

কঠিন যন্ত্রণা ও জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসা— এই দুই পরস্পরবিরোধী অনুভূতির মধ্যে দোলাচল একজন সংবেদনশীল মানুষের স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া, যা কবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্ধবধূ কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

কবিতাটি কার সাথে বধূর কথোপকথনের আকারে বর্ণিত?

কবিতাটি ননদের সাথে বধূর কথোপকথনের আকারে বর্ণিত।

বধূর শারীরিক সমস্যা কী?

বধূ দৃষ্টিহীন (অন্ধ)।

বধূ পায়ের তলায় কী অনুভব করেন?

বধূ পায়ের তলায় নরম বকুল ফুল অনুভব করেন।

কোন পাখির ডাক শুনে বধূ ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পান?

কোকিলের ডাক শুনে তিনি ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পান।

বধূ কোন স্থানের সিঁড়ির কথা বলেন?

বধূ দীঘির শ্যাওলা-পিছল সিঁড়ির কথা বলেন।

বধূ জলে ডুবে গেলে কী হবে বলে মন্তব্য করেন?

তার অন্ধত্বের যন্ত্রণা ঘুচে যাবে বলে মন্তব্য করেন।

বধূ নিজের অনুপস্থিতিতে কী নিয়ে কথা বলেন?

স্বামীর পুনর্বিবাহের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

বধূর কাছে দীঘির জলের স্পর্শ কীসের মতো সান্ত্বনাদায়ক?

মায়ের স্নেহের মতো সান্ত্বনাদায়ক।

‘ঠাকুরঝি’ শব্দের অর্থ কী?

ঠাকুরঝি অর্থ ননদ।

‘মধুমদির বাসে’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?

মধুমদির বাসে অর্থ মোহময় সুগন্ধে।

অন্ধবধূ কবিতার ভাষারীতি কেমন?

কবিতার ভাষা সহজ-সরল, কথ্য ঘরানার ও আন্তরিক সংলাপধর্মী।

অন্ধবধূ কবিতার মূল বার্তা কী?

শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গভীর অনুভূতিশীলতা ও জীবনের প্রতি মমত্ববোধ বজায় রাখা সম্ভব।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সমাজ দৃষ্টিহীনদের প্রতি কেমন আচরণ করে?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে, আর দৃষ্টিহীনরাও নিজেদের অসহায় ভাবে।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব কীসের মাধ্যমে?

ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব— নিজেকে অসহায় না ভেবে অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিত করা প্রয়োজন।

কবিতায় অন্ধবধূ কার সাথে কথা বলছেন?

কবিতায় অন্ধবধূ তার ঠাকুরঝি অর্থাৎ স্বামীর বোনের (ননদের) সাথে কথা বলছেন, যিনি তাকে হাত ধরে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

বকুল ফুল চিনতে পেরে বধূ কী স্মরণ করেন?

তিনি স্মরণ করেন, রাত্রে দোরের পাশে বসে মধুর গন্ধে মোহময় সুবাসে তার আকাশ-পাতাল নানা কথা মনে হয়েছিল।

বধূ ননদের কাছে জ্যৈষ্ঠ মাস সম্পর্কে কী জানতে চান?

বধূ জিজ্ঞেস করেন জ্যৈষ্ঠ আসতে আর কত দেরি, আর আমের গায়ে রং ধরেছে কিনা।

ননদ ‘অনেক দেরি’ বললে বধূর প্রতিক্রিয়া কী হয়?

বধূ অবাক হয়ে বলেন, কেমন করে অনেক দেরি হবে, তিনি তো সেই কবেই কোকিলের ডাক শুনেছেন।

এই অংশ থেকে অন্ধবধূ সম্পর্কে কী বোঝা যায়?

যদিও তিনি চোখে দেখতে পান না, কোকিলের ডাক, ফুলের গন্ধের মতো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি ঋতু পরিবর্তনের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ধরতে পারেন— তার প্রখর অনুভূতিশক্তির প্রমাণ।

বধূ দীঘির ঘাটের কোন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন?

তিনি বলেন, দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জেগেছে, যা শ্যাওলায় পিছল— এই নিয়ে তার শঙ্কা হয়।

শ্যাওলা-পিছল সিঁড়ি নিয়ে বধূর মনে কী আশঙ্কা জাগে?

তার আশঙ্কা হয়, পা পিছলিয়ে যদি তিনি জলে তলিয়ে যান।

ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার পরপরই বধূ কী বলেন, যা তার মনের গভীর কষ্ট প্রকাশ করে?

বধূ বলেন, ডুবে গেলে মন্দ হতো না, কারণ তাতে তার অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব বা যন্ত্রণা চুকে যেত— তার অন্ধত্বের গভীর মর্মবেদনার প্রকাশ এটি।

বধূর মতে তার স্বামীর আবার বিয়ে কবে হতে পারে?

বধূ বলেন, এই আষাঢ়েই আবার তার স্বামীর বিয়ে হবে।

‘চোখ গেল’ পাখির ডাক শুনে বধূ কী প্রশ্ন তোলেন?

বধূ প্রশ্ন তোলেন, জন্ম থেকেই যার চোখ নেই, তার জন্য এই পাখির চিৎকার আসলে অর্থহীন— তার কষ্টের গভীরতা কেউ বোঝে না।

বধূর মতে ‘কাঁদার সুখ’ কার জন্য বারণ?

বধূ বলেন, যার জন্ম থেকেই চোখ নেই (অর্থাৎ কাঁদার মতো চোখের জলও যার নেই), তার জন্য কাঁদার সুখও বারণ— এক গভীর করুণ পরিহাস।

বধূর মতে কাঁদতে পারলে কী হতো?

বধূ বলেন, কাঁদতে পারলে তিনি বাঁচতেন, তাতে তার শোকও কিছুটা কমত।

বধূ বলেন তিনি কোথায় ফিরে যাবেন?

বধূ বলেন, তিনি তো আবার তার গৃহকোণে ফিরে যাবেন, যেখানে তাকে একলা থাকতে হয়।

‘আকাশ-পাতাল’ বাক্যাংশটি এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

এখানে আকাশ-পাতাল শব্দবন্ধটি নানা বিষয় বা বিচিত্র ভাবনা-অনুভাবনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

‘কাঁদার সুখ’ বাক্যাংশটি দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

টীকা অনুযায়ী মানুষ দুঃখে-শোকে কাঁদে, কান্নার মধ্য দিয়ে তার দুঃখ-শোকের লাঘব ঘটে— তাই কান্নাও একধরনের সুখ বা স্বস্তির উৎস।

কবিতায় অন্ধবধূর চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে?

টীকা অনুযায়ী অন্ধবধূ অনুভববদ্ধ মানুষ— তার অনুভূতিশক্তি প্রখর, আত্মমর্যাদাবোধেও সমৃদ্ধ, এবং কবিতার সামগ্রিক চেতনা থেকে বোঝা যায় জীবনের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ আছে।

বধূর ইন্দ্রিয়সচেতনতার উদাহরণ হিসেবে অন্ধবধূ কবিতায় কী কী উল্লেখ আছে?

কবিতায় স্পর্শ (ফুল, শ্যাওলা), শ্রবণ (কোকিলের ডাক, চোখ গেল পাখির চিৎকার) ও ঘ্রাণ (বকুলের গন্ধ)— একাধিক ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বধূর জগৎ-উপলব্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি কী শিক্ষা দেয়?

কবিতাটি শেখায়, দৃষ্টিহীন হলেই নিজেকে অসহায় না ভেবে, শুধু ঘরে আবদ্ধ না থেকে নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করা প্রয়োজন।

উদ্দীপকের নাসরীনের সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূর কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?

নাসরীন যেমন স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাকিত্ব ও বিরহে কাতর, অন্ধবধূও তেমনি তার একাকী গৃহকোণের নির্জনতা ও ভবিষ্যৎ বিচ্ছেদের আশঙ্কায় বিরহকাতর।

এই সাদৃশ্যের মূল কারণ কী?

উভয় নারীই প্রিয়জনের (স্বামীর) সাথে দূরত্ব বা বিচ্ছেদের আশঙ্কায় গভীর একাকিত্ব ও মানসিক কষ্ট অনুভব করছেন— এটাই তাদের মূল সাদৃশ্য।

কবিতাটি কোন সামাজিক মনোভাবের সমালোচনা করে, যদিও পরোক্ষভাবে?

স্বামীর পুনর্বিবাহের প্রসঙ্গ তুলে ধরার মধ্য দিয়ে কবিতাটি পরোক্ষভাবে দৃষ্টিহীন নারীদের প্রতি সমাজের অবহেলা ও তাদের সহজে ‘প্রতিস্থাপনযোগ্য’ মনে করার প্রবণতাকেই ইঙ্গিত করে।

অন্ধবধূ কবিতায় ‘প্রবাস’ শব্দটি কোন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?

বধূ ননদকে বলেন, বাড়ি আসার পথ খুঁজে না পেলে তখন বোঝা যাবে প্রবাস কেমন লাগে— এখানে রূপকভাবে অপরিচিত বা বিচ্ছিন্ন অবস্থার কথা বলা হয়েছে।

কবিতাটির ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?

কবিতাটির ভাষা সহজ-সরল, কথ্য ঘরানার ও আন্তরিক সংলাপধর্মী, যা বধূর অনুভূতিকে সরাসরি ও হৃদয়স্পর্শীভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়।

কবিতাটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্পর্কে কোন বার্তা দেয়?

পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সংবেদনশীল ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে— তাদের অনুভূতির জগৎও যে গভীর ও মূল্যবান তা কবিতাটি প্রমাণ করে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)

অন্ধবধূ কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

বধূর পায়ের তলায় বকুল ফুল অনুভব করার ক্ষমতা কী প্রকাশ করে— ব্যাখ্যা করো।

এটি বধূর তীক্ষ্ণ স্পর্শানুভূতি ও ইন্দ্রিয়সচেতনতার প্রমাণ— দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও তার অন্যান্য ইন্দ্রিয় অত্যন্ত সজাগ ও সংবেদনশীল, যা তাকে জগতের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত রাখে।

কোকিলের ডাক শুনে ঋতু পরিবর্তন অনুধাবনের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই ক্ষমতা প্রমাণ করে বধূ দৃষ্টিশক্তি ছাড়াও প্রকৃতির পরিবর্তন গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন— তার অন্তর্দৃষ্টি ও প্রকৃতির সাথে সংযোগ চোখে দেখার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে যায়।

জলে ডুবে অন্ধত্বের যন্ত্রণা ঘোচার মন্তব্যের গভীর অর্থ কী— ব্যাখ্যা করো।

এই মন্তব্যে বধূর দীর্ঘদিনের সঞ্চিত মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশা প্রকাশ পায়— মৃত্যুকে তিনি যন্ত্রণামুক্তির উপায় হিসেবে দেখেন, যা তার জীবনের কষ্টের গভীরতা নির্দেশ করে।

স্বামীর পুনর্বিবাহ নিয়ে বধূর মন্তব্যের পেছনে কোন মনস্তত্ত্ব লুকিয়ে আছে— ব্যাখ্যা করো।

নিজের মৃত্যুকে গুরুত্বহীন মনে করার ভান করলেও, এই মন্তব্যের গভীরে হয়তো নিজের প্রতি সমাজের অবহেলা ও নিজেকে বোঝা মনে করার একটি বেদনাদায়ক আত্মোপলব্ধি লুকিয়ে আছে।

‘চোখ গেল’ পাখির ডাকের প্রসঙ্গে বধূর মন্তব্যের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই পাখির ডাক শুনে বধূ জন্মান্ধ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরেন, যাদের কাঁদার সুযোগও নেই— এটি অন্ধত্বের এক গভীরতর, অস্তিত্বগত যন্ত্রণাকে প্রকাশ করে, যা সাধারণ মানুষ উপলব্ধি করতে পারে না।

দীঘির জলের স্পর্শকে মায়ের স্নেহের সাথে তুলনার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।

এই তুলনা বধূর গভীর একাকিত্ব ও ভালোবাসার অভাব প্রকাশ করে— জীবনে প্রকৃত মানবিক স্নেহের অভাবে সে প্রকৃতির স্পর্শেই মাতৃস্নেহের সান্ত্বনা খুঁজে নেয়।

কবিতাটি অন্ধ মানুষের প্রতি প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ করে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি দেখায় যে দৃষ্টিহীন মানুষের অনুভূতির জগৎ কতটা গভীর ও সমৃদ্ধ হতে পারে— এটি প্রচলিত করুণাসর্বস্ব দৃষ্টিভঙ্গির বদলে তাদের প্রকৃত মানবিক ক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করে।

অন্ধবধূ কবিতার সংলাপধর্মী কাঠামো এর আবেগ প্রকাশে কীভাবে সহায়ক হয়েছে— ব্যাখ্যা করো।

ননদের সাথে সরাসরি কথোপকথনের আকারে রচিত হওয়ায় বধূর অনুভূতি ও চিন্তা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যা পাঠকের কাছে তার মানসিক জগৎকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

কবিতাটি সামগ্রিকভাবে কোন সাহিত্যিক উদ্দেশ্য পূরণ করে— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের (এখানে দৃষ্টিহীন নারীর) গভীর, জটিল ও মানবিক অন্তর্জগৎকে সংবেদনশীল ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরে, যা সহানুভূতি ও সচেতনতা জাগ্রত করার সাহিত্যিক উদ্দেশ্য পূরণ করে।

কবিতাটি পাঠককে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।

কবিতাটি শেখায়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন— তাদের অনুভূতির জগৎও যে গভীর ও মূল্যবান, তা উপলব্ধি করে তাদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা উচিত।

‘চোখ গেল’ পাখির ডাকের সাথে সত্যিকারের অন্ধত্বের তুলনায় বধূ কী বলেন?

বধূ বলেন, ‘চোখ গেল’ পাখির চিৎকারেও তবু একধরনের আশা আছে (চোখ ফিরে পাওয়ার প্রতীকী অর্থে), কিন্তু প্রকৃত চক্ষুহীনীর অসীম বেদনার কথা কারো কাছে বলার নেই।

বধূকে কেউ কেন টানছিল বলে মনে হয়?

বধূ জিজ্ঞেস করেন কেন টানা হচ্ছে, কিসের তাড়া— বোঝা যায় ননদ তাকে দ্রুত পথ চলতে সাহায্য করছিলেন।

গৃহকোণের একাকিত্বের তুলনায় বধূ কী পছন্দ করেন?

তিনি বলেন, গৃহকোণের একাকিত্বের চেয়ে স্নিগ্ধ শীতল জলের স্পর্শ যেন দুটি প্রাণের দরদভরা দুঃখের আলাপন— এটিই তার কাছে বেশি প্রিয়।

জলের স্পর্শকে বধূ কীসের সাথে তুলনা করেন?

বধূ বলেন, জলের পরশ যেন মায়ের স্নেহের মতো, যা তার মনের ব্যথা কিছুটা ভুলিয়ে দেয়।

বধূ কেন ননদের সাহায্যে পথ চলছেন?

বধূ দৃষ্টিহীন বলেই তাকে ননদের হাত ধরে বা সাহায্যে পথ চলতে হচ্ছে, যা কবিতার শিরোনাম ‘অন্ধবধূ’ থেকেই স্পষ্ট।

অন্ধবধূ কবিতায় বধূর প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

দৃষ্টিহীন হয়েও বধূ ফুলের গন্ধ, পাখির ডাক ও ঋতু পরিবর্তনের প্রতি গভীর কৌতূহল ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেন— তার প্রকৃতিপ্রেম অটুট।

অন্ধবধূ কবিতায় জলের সাথে বধূর সম্পর্ককে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

কবিতায় জল একদিকে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার প্রতীক, আবার অন্যদিকে তার স্নিগ্ধ স্পর্শ মায়ের স্নেহের মতো সান্ত্বনাদায়ক— এই দ্বৈত ভূমিকাই কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে।

কবি কীভাবে অন্ধবধূর অভিজ্ঞতাকে পাঠকের কাছে জীবন্ত করে তুলেছেন?

কবি স্পর্শ (ফুল, শ্যাওলা, জল), ঘ্রাণ (বকুলের সুবাস) ও শ্রবণ (কোকিলের ডাক, পাখির চিৎকার)-এর সূক্ষ্ম বিবরণের মাধ্যমে বধূর ইন্দ্রিয়নির্ভর জগৎকে পাঠকের কাছে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছেন।

উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে অন্ধবধূ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜