● MCQ

অন্ধবধূ কবিতার MCQ | বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

অন্ধবধূ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “অন্ধবধূ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য অন্ধবধূ কবিতার নোট দেখুন।

অন্ধবধূ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অন্ধবধূ কবিতার কবি কে?

যতীন্দ্রমোহন বাগচী (জন্ম ২৭ নভেম্বর ১৮৭৮, জামশেদপুর, নদীয়া; মৃত্যু ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮)। পল্লি-প্রীতি তাঁর কবিমানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রধান কাব্যগ্রন্থ: লেখা রেখা, অপরাজিতা, নাগকেশর, বন্ধুর দান, জাগরণী, নীহারিকা, মহাভারতী।

উৎস ও রূপ

দৃষ্টিহীন এক বধূর অনুভূতিময় জগৎ নিয়ে রচিত সংবেদনশীল কবিতা, ননদের সাথে বধূর কথোপকথনের আকারে বর্ণিত।

কবিতার মূল বিষয়বস্তু

  1. বধূ পায়ের তলায় নরম বকুল ফুল অনুভব করেন, রাতের সুবাসের স্মৃতি স্মরণ করেন।
  2. কোকিলের ডাক শুনে ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত অনুধাবন করেন— তার তীক্ষ্ণ ইন্দ্রিয়সচেতনতার প্রমাণ।
  3. দীঘির শ্যাওলা-পিছল সিঁড়ির কথা বলে জলে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এবং তা হলে অন্ধত্বের যন্ত্রণা ঘুচে যাবে বলে মন্তব্য করেন।
  4. নিজের অনুপস্থিতিতে স্বামীর পুনর্বিবাহের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, নিজের মৃত্যুকে গুরুত্বহীন মনে করার ভান করেন।
  5. ‘চোখ গেল’ পাখির ডাক শুনে জন্মান্ধ মানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরেন— কাঁদার সুযোগও যার নেই।
  6. গৃহকোণের একাকিত্বের চেয়ে দীঘির স্নিগ্ধ জলের স্পর্শকে মায়ের স্নেহের মতো সান্ত্বনাদায়ক বলে বর্ণনা করেন।

অন্ধবধূ কবিতার মূল ভাব কী?

দৃষ্টিহীন মানুষের প্রতি সমাজের অবজ্ঞা এবং তাদের নিজস্ব ইন্দ্রিয়সচেতনতা ও অন্তর্দৃষ্টির শক্তির এক সংবেদনশীল চিত্র— শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গভীর অনুভূতিশীলতা ও জীবনের প্রতি মমত্ববোধ বজায় রাখা সম্ভব, এই মানবিক বার্তাই কবিতার কেন্দ্রে।

অন্ধবধূ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ

ঠাকুরঝি (ননদ), মধুমদির বাসে (মোহময় সুগন্ধ), আকাশ-পাতাল (বিচিত্র ভাবনা), চোখ গেল (একটি পাখি), কাঁদার সুখ (কান্নার মাধ্যমে শোক লাঘব), অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব (অন্ধত্বের যন্ত্রণা)।

কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ

১। যতীন্দ্রমোহন বাগচী কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

  • ক. ১৮৭৬
  • খ. ১৮৭৭
  • গ. ১৮৭৮
  • ঘ. ১৮৭৯

উত্তর: গ। তিনি ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৭শে নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

২। যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্মস্থান কোথায়?

  • ক. ফরিদপুর
  • খ. ময়মনসিংহ
  • গ. জামশেদপুর, নদীয়া
  • ঘ. যশোর

উত্তর: গ। নদীয়া জেলার জামশেদপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

৩। যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিমানসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

  • ক. নগরপ্রীতি
  • খ. পল্লি-প্রীতি
  • গ. যুদ্ধপ্রীতি
  • ঘ. ধর্মীয় ভাবাবেগ

উত্তর: খ। পল্লি-প্রীতি তাঁর কবিমানসের একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য, তিনি নিসর্গ-সৌন্দর্যে চিত্ররূপময় রচনা করেছেন।

৪। যতীন্দ্রমোহন বাগচী তাঁর রচনায় কী প্রকাশে প্রয়াসী হয়েছেন?

  • ক. গ্রামবাংলার স্নিগ্ধ রূপ
  • খ. রাজনৈতিক আন্দোলন
  • গ. শহুরে জীবনের জটিলতা
  • ঘ. ধর্মীয় দর্শন

উত্তর: ক। তিনি রচনায় গ্রামবাংলার শ্যামল স্নিগ্ধ রূপ উন্মোচনে প্রয়াসী হয়েছেন, সহজ-সরল ভাষায় গ্রামজীবনের সুখ-দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

৫। নিচের কোনটি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাব্যগ্রন্থ নয়?

  • ক. নাগকেশর
  • খ. লেখা, রেখা
  • গ. চতুষ্কোণ
  • ঘ. অপরাজিতা

উত্তর: গ। চতুষ্কোণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস; বাকিগুলো যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কাব্যগ্রন্থ।

৬। যতীন্দ্রমোহন বাগচী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

  • ক. ১৯৪৯
  • খ. ১৯৪৮
  • গ. ১৯৪৬
  • ঘ. ১৯৪৭

উত্তর: খ। ১লা ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অন্ধবধূ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

৭। কবিতার মূল বিষয় কী?

  • ক. ধর্মীয় উপদেশ
  • খ. দৃষ্টিহীন এক বধূর অনুভূতিময় জগৎ
  • গ. যুদ্ধের কাহিনি
  • ঘ. প্রকৃতির সাধারণ বর্ণনা

উত্তর: খ। কবিতায় দৃষ্টিহীন এক বধূর তীক্ষ্ণ অনুভূতিময় জগৎ ও জীবনের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ তুলে ধরা হয়েছে।

৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সমাজ দৃষ্টিহীনদের প্রতি কেমন আচরণ করে?

  • ক. বিশেষ সুবিধা দেয়
  • খ. অবজ্ঞা করে
  • গ. অত্যধিক সম্মান দেখায়
  • ঘ. সমান আচরণ করে

উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে, আর দৃষ্টিহীনরাও নিজেদের অসহায় ভাবে।

৯। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব কীসের মাধ্যমে?

  • ক. চিকিৎসার মাধ্যমে
  • খ. অর্থের মাধ্যমে
  • গ. আইনি সহায়তার মাধ্যমে
  • ঘ. ইন্দ্রিয়সচেতনতা ও অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে

উত্তর: ঘ। ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব— নিজেকে অসহায় না ভেবে অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিত করা প্রয়োজন।

১০। কবিতায় অন্ধবধূ কার সাথে কথা বলছেন?

  • ক. তার স্বামীর সাথে
  • খ. তার শাশুড়ির সাথে
  • গ. তার ভাইয়ের সাথে
  • ঘ. তার ননদ (ঠাকুরঝি)-এর সাথে

উত্তর: ঘ। কবিতায় অন্ধবধূ তার ঠাকুরঝি অর্থাৎ স্বামীর বোনের (ননদের) সাথে কথা বলছেন, যিনি তাকে হাত ধরে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

১১। ‘ঠাকুরঝি’ শব্দের অর্থ কী?

  • ক. শ্বশুর
  • খ. জা
  • গ. ননদ, স্বামীর বোন
  • ঘ. শাশুড়ি

উত্তর: গ। ঠাকুরঝি অর্থ ননদ বা স্বামীর বোন, শ্বশুরকন্যা।

১২। কবিতার শুরুতে বধূ পায়ের তলায় কী অনুভব করেন?

  • ক. পানি
  • খ. নরম কিছু, ঝরা বকুল ফুল বলে বোঝেন
  • গ. কাঁটা
  • ঘ. পাথর

উত্তর: খ। পায়ের তলায় নরম কিছু ঠেকলে তিনি বুঝতে পারেন সেটি ঝরা বকুল ফুল।

১৩। বকুল ফুল চিনতে পেরে বধূ কী স্মরণ করেন?

  • ক. তার শৈশবের কথা
  • খ. রাত্রে দোরের পাশে বসে থাকার স্মৃতি
  • গ. তার বিয়ের কথা
  • ঘ. তার অসুস্থতার কথা

উত্তর: খ। তিনি স্মরণ করেন, রাত্রে দোরের পাশে বসে মধুর গন্ধে মোহময় সুবাসে তার আকাশ-পাতাল নানা কথা মনে হয়েছিল।

১৪। বধূ ননদের কাছে জ্যৈষ্ঠ মাস সম্পর্কে কী জানতে চান?

  • ক. জ্যৈষ্ঠ মাস কবে শেষ হবে
  • খ. জ্যৈষ্ঠ মাসে কী ফসল হয়
  • গ. জ্যৈষ্ঠ মাসে কী উৎসব হয়
  • ঘ. জ্যৈষ্ঠ আসতে কত দেরি

উত্তর: ঘ। বধূ জিজ্ঞেস করেন জ্যৈষ্ঠ আসতে আর কত দেরি, আর আমের গায়ে রং ধরেছে কিনা।

১৫। ননদ ‘অনেক দেরি’ বললে বধূর প্রতিক্রিয়া কী হয়?

  • ক. তিনি বিশ্বাস করেন
  • খ. তিনি রাগ করেন
  • গ. তিনি উদাসীন থাকেন
  • ঘ. তিনি অবাক হন, আগেই কোকিলের ডাক শুনেছেন বলে

উত্তর: ঘ। বধূ অবাক হয়ে বলেন, কেমন করে অনেক দেরি হবে, তিনি তো সেই কবেই কোকিলের ডাক শুনেছেন।

১৬। এই অংশ থেকে অন্ধবধূ সম্পর্কে কী বোঝা যায়?

  • ক. তিনি শব্দ-গন্ধে ঋতু পরিবর্তন অনুধাবন করতে পারেন
  • খ. তিনি প্রকৃতির প্রতি উদাসীন
  • গ. তিনি ঋতু সম্পর্কে কিছুই জানেন না
  • ঘ. তিনি সবসময় বিভ্রান্ত থাকেন

উত্তর: ক। যদিও তিনি চোখে দেখতে পান না, কোকিলের ডাক, ফুলের গন্ধের মতো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি ঋতু পরিবর্তনের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ধরতে পারেন— তার প্রখর অনুভূতিশক্তির প্রমাণ।

১৭। বধূ দীঘির ঘাটের কোন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন?

  • ক. ঘাট ভেঙে গেছে
  • খ. ঘাট মেরামত হয়েছে
  • গ. নতুন সিঁড়ি জেগেছে, শ্যাওলা-পিছল
  • ঘ. ঘাট শুকিয়ে গেছে

উত্তর: গ। তিনি বলেন, দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জেগেছে, যা শ্যাওলায় পিছল— এই নিয়ে তার শঙ্কা হয়।

১৮। শ্যাওলা-পিছল সিঁড়ি নিয়ে বধূর মনে কী আশঙ্কা জাগে?

  • ক. তিনি দেরি করে ফেলবেন
  • খ. তিনি পথ হারাবেন
  • গ. তার জামা ভিজে যাবে
  • ঘ. জলে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা

উত্তর: ঘ। তার আশঙ্কা হয়, পা পিছলিয়ে যদি তিনি জলে তলিয়ে যান।

১৯। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার পরপরই বধূ কী বলেন, যা তার মনের গভীর কষ্ট প্রকাশ করে?

  • ক. তিনি ননদকে সাহায্য চান
  • খ. তা মন্দ হতো না, চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যেত বলে
  • গ. তিনি খুব ভয় পান
  • ঘ. তিনি সাঁতার শিখতে চান

উত্তর: খ। বধূ বলেন, ডুবে গেলে মন্দ হতো না, কারণ তাতে তার অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব বা যন্ত্রণা চুকে যেত— তার অন্ধত্বের গভীর মর্মবেদনার প্রকাশ এটি।

২০। বধূ নিজের মৃত্যু হলে কী হবে বলে ননদকে সান্ত্বনা দেন?

  • ক. সবাই তাকে মনে রাখবে
  • খ. সংসার ভেঙে পড়বে
  • গ. দুঃখ নেই, ননদ ও স্বামী তো থাকবেই
  • ঘ. সবাই দুঃখ পাবে

উত্তর: গ। বধূ বলেন, তার মৃত্যুতে সত্যিকারের দুঃখ নেই, কারণ ননদরা তো বেঁচে থাকবে, আর তার দাদা (স্বামী) তো আগেই আছে।

২১। বধূর মতে তার স্বামীর আবার বিয়ে কবে হতে পারে?

  • ক. এই আষাঢ়েই
  • খ. এই কার্তিকেই
  • গ. এই বৈশাখেই
  • ঘ. এই মাঘেই

উত্তর: ক। বধূ বলেন, এই আষাঢ়েই আবার তার স্বামীর বিয়ে হবে।

২২। ‘চোখ গেল’ কী?

  • ক. একটি প্রবাদ
  • খ. একটি রোগের নাম
  • গ. একটি পাখির নাম, যার ডাক এমন শোনায়
  • ঘ. একটি খেলার নাম

উত্তর: গ। ‘চোখ গেল’ একটি পাখিবিশেষ, যার ডাক শুনতে ‘চোখ গেল’ শব্দের মতো মনে হয়।

২৩। ‘চোখ গেল’ পাখির ডাক শুনে বধূ কী প্রশ্ন তোলেন?

  • ক. পাখিটি কতদিন বাঁচে
  • খ. পাখিটির ডাক কেন এমন
  • গ. জন্মান্ধের জন্য এই পাখি কী করবে
  • ঘ. পাখিটি কোথায় থাকে

উত্তর: গ। বধূ প্রশ্ন তোলেন, জন্ম থেকেই যার চোখ নেই, তার জন্য এই পাখির চিৎকার আসলে অর্থহীন— তার কষ্টের গভীরতা কেউ বোঝে না।

২৪। বধূর মতে ‘কাঁদার সুখ’ কার জন্য বারণ?

  • ক. যে অসুস্থ তার জন্য
  • খ. জন্মান্ধের জন্য
  • গ. যে সুখী তার জন্য
  • ঘ. যে ধনী তার জন্য

উত্তর: খ। বধূ বলেন, যার জন্ম থেকেই চোখ নেই (অর্থাৎ কাঁদার মতো চোখের জলও যার নেই), তার জন্য কাঁদার সুখও বারণ— এক গভীর করুণ পরিহাস।

২৫। বধূর মতে কাঁদতে পারলে কী হতো?

  • ক. কিছুই হতো না
  • খ. তিনি আরও অসুস্থ হতেন
  • গ. শোক কিছুটা কমত
  • ঘ. তার আরও কষ্ট বাড়ত

উত্তর: গ। বধূ বলেন, কাঁদতে পারলে তিনি বাঁচতেন, তাতে তার শোকও কিছুটা কমত।

২৬। ‘চোখ গেল’ পাখির ডাকের সাথে সত্যিকারের অন্ধত্বের তুলনায় বধূ কী বলেন?

  • ক. উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই
  • খ. পাখির তবু আশা আছে, কিন্তু চক্ষুহীনীর কথা কেউ বোঝে না
  • গ. পাখির কষ্ট বেশি
  • ঘ. উভয়ই সমান কষ্টের

উত্তর: খ। বধূ বলেন, ‘চোখ গেল’ পাখির চিৎকারেও তবু একধরনের আশা আছে (চোখ ফিরে পাওয়ার প্রতীকী অর্থে), কিন্তু প্রকৃত চক্ষুহীনীর অসীম বেদনার কথা কারো কাছে বলার নেই।

২৭। বধূকে কেউ কেন টানছিল বলে মনে হয়?

  • ক. তাকে বিরক্ত করতে
  • খ. তাকে শাস্তি দিতে
  • গ. পথ চলতে সাহায্য করতে
  • ঘ. তাকে আটকাতে

উত্তর: গ। বধূ জিজ্ঞেস করেন কেন টানা হচ্ছে, কিসের তাড়া— বোঝা যায় ননদ তাকে দ্রুত পথ চলতে সাহায্য করছিলেন।

২৮। বধূ বলেন তিনি কোথায় ফিরে যাবেন?

  • ক. তার বাপের বাড়িতে
  • খ. তার গৃহকোণে
  • গ. প্রতিবেশীর বাড়িতে
  • ঘ. দীঘির ঘাটে

উত্তর: খ। বধূ বলেন, তিনি তো আবার তার গৃহকোণে ফিরে যাবেন, যেখানে তাকে একলা থাকতে হয়।

২৯। গৃহকোণের একাকিত্বের তুলনায় বধূ কী পছন্দ করেন?

  • ক. বাইরে বেড়ানো
  • খ. ঘুমিয়ে থাকা
  • গ. অন্যদের সাথে ঝগড়া করা
  • ঘ. স্নিগ্ধ শীতল জলের সংস্পর্শ

উত্তর: ঘ। তিনি বলেন, গৃহকোণের একাকিত্বের চেয়ে স্নিগ্ধ শীতল জলের স্পর্শ যেন দুটি প্রাণের দরদভরা দুঃখের আলাপন— এটিই তার কাছে বেশি প্রিয়।

৩০। জলের স্পর্শকে বধূ কীসের সাথে তুলনা করেন?

  • ক. বন্ধুর স্নেহের সাথে
  • খ. স্বামীর স্নেহের সাথে
  • গ. ননদের স্নেহের সাথে
  • ঘ. মায়ের স্নেহের সাথে

উত্তর: ঘ। বধূ বলেন, জলের পরশ যেন মায়ের স্নেহের মতো, যা তার মনের ব্যথা কিছুটা ভুলিয়ে দেয়।

**৩১। অন্ধবধূর মৃত্যু-আকাঙ্ক্ষা প্রসঙ্গে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. বধূ সরাসরি আত্মহত্যার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন
ii. বধূ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অন্ধত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির কথা ভাবেন
iii. কবিতার সামগ্রিক চেতনা থেকে বোঝা যায় বধূ জীবনের প্রতি গভীর মমত্ববোধ পোষণ করেন

নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: গ।** পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী বধূ নৈরাশ্যবাদী নন, তিনি সরাসরি আত্মহত্যার পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি বরং ক্ষণিকের যন্ত্রণাবোধ থেকে এমন কথা বলেছেন— তাই প্রথম তথ্যটি ভুল; বাকি দুটি কবিতার মূল ভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ।

৩২। ‘মধুমদির বাসে’ বাক্যাংশের অর্থ কী?

  • ক. মধুর সুগন্ধে আচ্ছন্ন
  • খ. কোনো গন্ধ না থাকা
  • গ. তিক্ত গন্ধে
  • ঘ. দুর্গন্ধে

উত্তর: ক। মধুমদির বাসে অর্থ মধুর গন্ধে মোহময় সুগন্ধে আচ্ছন্ন অবস্থা।

৩৩। ‘আকাশ-পাতাল’ বাক্যাংশটি এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

  • ক. নানা বিষয়, নানা ভাবনা-অনুভাবনা
  • খ. একটি ধর্মীয় ধারণা
  • গ. প্রকৃত আকাশ ও পাতাল
  • ঘ. একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব

উত্তর: ক। এখানে আকাশ-পাতাল শব্দবন্ধটি নানা বিষয় বা বিচিত্র ভাবনা-অনুভাবনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

৩৪। ‘কাঁদার সুখ’ বাক্যাংশটি দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

  • ক. কান্না নিষিদ্ধ
  • খ. কান্না দুর্বলতার লক্ষণ
  • গ. কান্না সবসময় দুঃখের
  • ঘ. কান্নায় দুঃখের লাঘব হয়, তাই তা স্বস্তি

উত্তর: ঘ। টীকা অনুযায়ী মানুষ দুঃখে-শোকে কাঁদে, কান্নার মধ্য দিয়ে তার দুঃখ-শোকের লাঘব ঘটে— তাই কান্নাও একধরনের সুখ বা স্বস্তির উৎস।

৩৫। কবিতায় অন্ধবধূর চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে?

  • ক. তার হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা
  • খ. তীক্ষ্ণ অনুভূতিশক্তি ও জীবনের প্রতি মমত্ববোধ
  • গ. তার রাগ ও ক্ষোভ
  • ঘ. তার উদাসীনতা

উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী অন্ধবধূ অনুভববদ্ধ মানুষ— তার অনুভূতিশক্তি প্রখর, আত্মমর্যাদাবোধেও সমৃদ্ধ, এবং কবিতার সামগ্রিক চেতনা থেকে বোঝা যায় জীবনের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ আছে।

৩৬। বধূর ইন্দ্রিয়সচেতনতার উদাহরণ হিসেবে কবিতায় কী কী উল্লেখ আছে?

  • ক. ফুলের স্পর্শ, কোকিলের ডাক, শ্যাওলার স্পর্শ চেনা
  • খ. শুধু ঘ্রাণের অনুভূতি
  • গ. শুধু শ্রবণের অনুভূতি
  • ঘ. শুধু স্পর্শের অনুভূতি

উত্তর: ক। কবিতায় স্পর্শ (ফুল, শ্যাওলা), শ্রবণ (কোকিলের ডাক, চোখ গেল পাখির চিৎকার) ও ঘ্রাণ (বকুলের গন্ধ)— একাধিক ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে বধূর জগৎ-উপলব্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।

৩৭। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি কী শিক্ষা দেয়?

  • ক. দৃষ্টিহীনতাকে অসহায়ত্ব না ভাবা উচিত
  • খ. দৃষ্টিহীনদের ঘরে আবদ্ধ রাখা উচিত
  • গ. দৃষ্টিহীনতা নিরাময়যোগ্য
  • ঘ. দৃষ্টিহীনদের প্রতি করুণা দেখানো উচিত নয়

উত্তর: ক। কবিতাটি শেখায়, দৃষ্টিহীন হলেই নিজেকে অসহায় না ভেবে, শুধু ঘরে আবদ্ধ না থেকে নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করা প্রয়োজন।

নাসরীনের স্বামী চাকরির সুবাদে প্রবাসজীবন যাপন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে স্বামীর কোনো খোঁজ-খবর নেই, অন্যরা মাঝে মাঝে দেশে আসা-যাওয়া করলেও তাঁর স্বামী যেন সবার থেকে আলাদা। নাসরীন দিনের পর দিন স্বামীর জন্য অপেক্ষার প্রহর গোনেন।

৩৮। উদ্দীপকের নাসরীনের সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূর কোন দিকটির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?

  • ক. স্মৃতিকাতরতা
  • খ. আত্মমর্যাদাবোধ
  • গ. বিরহকাতরতা ও একাকিত্ব
  • ঘ. প্রতিবন্ধকতা

উত্তর: গ। নাসরীন যেমন স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাকিত্ব ও বিরহে কাতর, অন্ধবধূও তেমনি তার একাকী গৃহকোণের নির্জনতা ও ভবিষ্যৎ বিচ্ছেদের আশঙ্কায় বিরহকাতর।

৩৯। এই সাদৃশ্যের মূল কারণ কী?

  • ক. উভয়েই অসুস্থ
  • খ. উভয়ের বয়স একই
  • গ. উভয়ই আর্থিক সংকটে আছেন
  • ঘ. উভয়েই একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন

উত্তর: ঘ। উভয় নারীই প্রিয়জনের (স্বামীর) সাথে দূরত্ব বা বিচ্ছেদের আশঙ্কায় গভীর একাকিত্ব ও মানসিক কষ্ট অনুভব করছেন— এটাই তাদের মূল সাদৃশ্য।

৪০। কবিতার শিরোনাম ‘অন্ধবধূ’ কেমন একটি নির্মাণশৈলী অনুসরণ করে?

  • ক. এটি একটি সনেট
  • খ. এটি একটি দীর্ঘ বর্ণনামূলক কবিতা
  • গ. এটি সংলাপ-নির্ভর, বধূর কণ্ঠস্বরে বর্ণিত
  • ঘ. এটি একটি মহাকাব্যিক রচনা

উত্তর: গ। কবিতাটি মূলত অন্ধবধূর নিজের কণ্ঠস্বরে বর্ণিত এক ধরনের সংলাপ, যেখানে তিনি তার ননদের সাথে কথা বলতে বলতে নিজের অনুভূতির জগৎ প্রকাশ করেন।

৪১। বধূ কেন ননদের সাহায্যে পথ চলছেন?

  • ক. তিনি দৃষ্টিহীন বলে
  • খ. তিনি অসুস্থ বলে
  • গ. তিনি ক্লান্ত বলে
  • ঘ. রাস্তা অপরিচিত বলে

উত্তর: ক। বধূ দৃষ্টিহীন বলেই তাকে ননদের হাত ধরে বা সাহায্যে পথ চলতে হচ্ছে, যা কবিতার শিরোনাম ‘অন্ধবধূ’ থেকেই স্পষ্ট।

৪২। কবিতায় বধূর প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

  • ক. তিনি প্রকৃতিকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন
  • খ. তিনি প্রকৃতি নিয়ে উদাসীন
  • গ. তিনি প্রকৃতি নিয়ে ভয় পান
  • ঘ. ফুলের গন্ধ ও পাখির ডাকে গভীর সংবেদনশীলতা দেখান

উত্তর: ঘ। দৃষ্টিহীন হয়েও বধূ ফুলের গন্ধ, পাখির ডাক ও ঋতু পরিবর্তনের প্রতি গভীর কৌতূহল ও সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেন— তার প্রকৃতিপ্রেম অটুট।

৪৩। বধূর মৃত্যু-চিন্তা ও পরক্ষণেই জীবনের প্রতি আসক্তি— এই দ্বন্দ্ব থেকে তার মানসিক অবস্থার কোন দিকটি বোঝা যায়?

  • ক. তিনি প্রতারণা করছেন
  • খ. তিনি সিদ্ধান্তহীন মানুষ
  • গ. তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ
  • ঘ. যন্ত্রণা ও জীবনের ভালোবাসার মধ্যে দোদুল্যমানতা

উত্তর: ঘ। কঠিন যন্ত্রণা ও জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসা— এই দুই পরস্পরবিরোধী অনুভূতির মধ্যে দোলাচল একজন সংবেদনশীল মানুষের স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া, যা কবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।

৪৪। কবিতায় জলের সাথে বধূর সম্পর্ককে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

  • ক. জল একদিকে বিপদ, অন্যদিকে সান্ত্বনার প্রতীক
  • খ. জল তাকে সবসময় ভয় দেখায়
  • গ. জল তার কাছে শুধু বিপদের প্রতীক
  • ঘ. জলের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই

উত্তর: ক। কবিতায় জল একদিকে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কার প্রতীক, আবার অন্যদিকে তার স্নিগ্ধ স্পর্শ মায়ের স্নেহের মতো সান্ত্বনাদায়ক— এই দ্বৈত ভূমিকাই কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে।

৪৫। কবি কীভাবে অন্ধবধূর অভিজ্ঞতাকে পাঠকের কাছে জীবন্ত করে তুলেছেন?

  • ক. স্পর্শ, ঘ্রাণ ও শ্রবণের বিবরণে ইন্দ্রিয়ঘন জগৎ তুলে ধরে
  • খ. পরিসংখ্যানের মাধ্যমে
  • গ. দীর্ঘ ব্যাখ্যামূলক বর্ণনার মাধ্যমে
  • ঘ. ঐতিহাসিক তথ্যের মাধ্যমে

উত্তর: ক। কবি স্পর্শ (ফুল, শ্যাওলা, জল), ঘ্রাণ (বকুলের সুবাস) ও শ্রবণ (কোকিলের ডাক, পাখির চিৎকার)-এর সূক্ষ্ম বিবরণের মাধ্যমে বধূর ইন্দ্রিয়নির্ভর জগৎকে পাঠকের কাছে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছেন।

৪৬। কবিতাটি কোন সামাজিক মনোভাবের সমালোচনা করে, যদিও পরোক্ষভাবে?

  • ক. পরিবেশের প্রতি অবহেলা
  • খ. দৃষ্টিহীনদের প্রতি অবহেলার প্রবণতা
  • গ. শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবহেলা
  • ঘ. কৃষিব্যবস্থার প্রতি অবহেলা

উত্তর: খ। স্বামীর পুনর্বিবাহের প্রসঙ্গ তুলে ধরার মধ্য দিয়ে কবিতাটি পরোক্ষভাবে দৃষ্টিহীন নারীদের প্রতি সমাজের অবহেলা ও তাদের সহজে ‘প্রতিস্থাপনযোগ্য’ মনে করার প্রবণতাকেই ইঙ্গিত করে।

৪৭। কবিতায় ‘প্রবাস’ শব্দটি কোন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?

  • ক. তীর্থযাত্রার প্রসঙ্গে
  • খ. ব্যবসায়িক ভ্রমণের প্রসঙ্গে
  • গ. বধূ চলে গেলে ননদের ভবিষ্যৎ বোঝাতে
  • ঘ. বিদেশ ভ্রমণের প্রসঙ্গে

উত্তর: গ। বধূ ননদকে বলেন, বাড়ি আসার পথ খুঁজে না পেলে তখন বোঝা যাবে প্রবাস কেমন লাগে— এখানে রূপকভাবে অপরিচিত বা বিচ্ছিন্ন অবস্থার কথা বলা হয়েছে।

৪৮। কবিতাটির ভাষারীতি সম্পর্কে কী বলা যায়?

  • ক. সংস্কৃতঘেঁষা সাধু ভাষা
  • খ. সহজ-সরল, কথ্য ঘরানার, আন্তরিক সংলাপধর্মী
  • গ. সম্পূর্ণ প্রতীকী ও দুর্বোধ্য
  • ঘ. অত্যন্ত জটিল ও দুর্বোধ্য

উত্তর: খ। কবিতাটির ভাষা সহজ-সরল, কথ্য ঘরানার ও আন্তরিক সংলাপধর্মী, যা বধূর অনুভূতিকে সরাসরি ও হৃদয়স্পর্শীভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়।

৪৯। কবিতাটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্পর্কে কোন বার্তা দেয়?

  • ক. তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন
  • খ. তাদের সবসময় সাহায্যের প্রয়োজন নেই
  • গ. তাদের প্রতি করুণা দেখানো উচিত
  • ঘ. তাদের এড়িয়ে চলা উচিত

উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সংবেদনশীল ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে— তাদের অনুভূতির জগৎও যে গভীর ও মূল্যবান তা কবিতাটি প্রমাণ করে।

৫০। সামগ্রিকভাবে কবিতাটি কোন সাহিত্যিক উদ্দেশ্য পূরণ করে?

  • ক. ঐতিহাসিক তথ্য সংরক্ষণ
  • খ. শুধু বিনোদন প্রদান
  • গ. ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
  • ঘ. প্রান্তিক মানুষের ভেতরের জগৎ সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা

উত্তর: ঘ। কবিতাটি প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের (এখানে দৃষ্টিহীন নারীর) গভীর, জটিল ও মানবিক অন্তর্জগৎকে সংবেদনশীল ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরে, যা সহানুভূতি ও সচেতনতা জাগ্রত করার সাহিত্যিক উদ্দেশ্য পূরণ করে।

আরও পড়ুন

SSC বাংলা ১ম পত্র-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜