পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “পল্লিসাহিত্য” প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রাম।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কলকাতা সিটি কলেজ থেকে কোন বিষয়ে বিএ অনার্স পাস করেন?
তিনি সংস্কৃতে বিএ অনার্স পাস করেন।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোথা থেকে ডি লিট লাভ করেন?
তিনি প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট লাভ করেন।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র একটি ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি গ্রন্থ ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন শিশু পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
তিনি ‘আঙুর’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
নিচের কোনটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র গ্রন্থ নয়?
পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র গ্রন্থ।
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত শিশু পত্রিকার নাম কী?
শিশু পত্রিকা আঙুর তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
রোমাঁ রোলাঁ কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
‘জাঁ ক্রিস্তফ’ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি কোথায় প্রদত্ত অভিভাষণের পুনর্লিখিত রূপ?
এটি ১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জে ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’তে প্রদত্ত সভাপতির অভিভাষণের পুনর্লিখিত রূপ।
মৈমনসিংহ গীতিকা কে সংগ্রহ করেন?
দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন।
মৈমনসিংহ গীতিকা পড়ে কোন বিদেশি সাহিত্যিক মুগ্ধ হন?
ফরাসি সাহিত্যিক রোমাঁ রোলাঁ মুগ্ধ হন।
লেখক কোন দেশীয় পল্লিসাহিত্য গল্পের জায়গায় বিদেশি গল্প জায়গা নেওয়ার আক্ষেপ করেন?
রাখালের পিঠা গাছ ও পক্ষিরাজ ঘোড়ার গল্পের জায়গায় আরব্য উপন্যাস ও Lamb’s Tales জায়গা নিচ্ছে।
পল্লিগানের কয়েকটি উদাহরণ দাও।
জারি, ভাটিয়ালি, রাখালি, মারফতি গান পল্লিগানের উদাহরণ।
লেখকের মতে বাংলাসাহিত্যের কত অংশ নাগরিক-কেন্দ্রিক?
লেখকের মতে বাংলাসাহিত্যের পনেরো আনাই নাগরিক-কেন্দ্রিক।
লেখক কোন বিদেশি সাহিত্যধারার উদাহরণ দিয়ে গেঁয়ো সাহিত্য পল্লিসাহিত্য রচনার আহ্বান জানান?
তিনি ইউরোপ-আমেরিকার Proletariat (শ্রমজীবী মানুষের) সাহিত্যের উদাহরণ দেন।
লেখকের মতে পল্লিসাহিত্য কাদের সাধারণ সম্পত্তি?
পল্লিসাহিত্য হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের সাধারণ সম্পত্তি।
‘কলগান’ শব্দের অর্থ কী?
কলগান অর্থ মধুর ধ্বনি।
‘নৃতত্ত্ব’ শব্দের অর্থ কী?
নৃতত্ত্ব অর্থ মানুষের উৎপত্তি-বিকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান।
‘ভূয়োদর্শন’ শব্দের অর্থ কী?
ভূয়োদর্শন অর্থ অভিজ্ঞতা।
প্রবাদ বাক্য ও খনার বচনে কী লুকিয়ে আছে বলে লেখক মনে করেন?
যুগযুগান্তরের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের প্রধান আহ্বান কী?
বাংলার লুপ্তপ্রায় পল্লিসাহিত্য (রূপকথা, প্রবাদ, ছড়া, পল্লিগান) সংগ্রহ ও সংরক্ষণের আহ্বান।
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি মূলত কী ছিল?
১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জে ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে প্রদত্ত অভিভাষণের পুনর্লিখিত রূপ এই প্রবন্ধ।
ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন কোন গ্রন্থ সংগ্রহ করে পল্লিসাহিত্যের সম্পদ প্রকাশ করেন?
ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন সাহিত্যের কী অমূল্য খনি পল্লিজননীর বুকে লুকিয়ে আছে।
ফরাসি সাহিত্যিক রোমাঁ রোলাঁ কার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন?
সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোমাঁ রোলাঁ পর্যন্ত ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
‘দেওয়ানা-মদিনা’ লোকগাথার প্রখ্যাত কবি কে ছিলেন?
মনসুর বয়াতি ছিলেন দেওয়ানা-মদিনা লোকগাথার প্রখ্যাত কবি, যিনি শহুরে চক্ষুর অগোচরে পল্লিতে আত্মগোপন করে ছিলেন।
আধুনিক শিক্ষিত মায়েরা এখন সন্তানদের কী শোনান বলে লেখক আক্ষেপ করেন?
আধুনিক শিক্ষিত মায়েরা এখন সন্তানকে রাখালের পিঠা গাছ বা পক্ষিরাজ ঘোড়ার কথা না শুনিয়ে আরব্য উপন্যাসের গল্প বা Lamb’s Tales from Shakespeare-এর অনুবাদ শোনান।
উপকথা সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য ইউরোপ-আমেরিকায় কোন সংস্থা কাজ করে?
Folklore Society এইসব উপকথা সংগ্রহ করে ও অন্য সভ্য দেশের উপকথার সাথে সাদৃশ্য বিচার করে থাকে।
‘Folklore’ শব্দটির উদ্ভাবক কে ছিলেন?
উইলিয়াম থমস ‘ফোকলোর’ কথাটির উদ্ভাবক এবং ১৮৪৮ সালে লন্ডনে সর্বপ্রথম এই সমিতি গঠিত হয়।
লেখকের মতে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
লেখক বলেন, ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ বা ‘ঠাকুরদার থলে’ যথেষ্ট নয়— বাংলাদেশের সমস্ত উপকথা জড়ো করলে কয়েক বালামেও তার সংকুলান হতো না।
লেখক কোন প্রবাদ বাক্যগুলোর উদাহরণ দেন?
লেখক ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’, ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’, ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ এই ধরনের প্রবাদ বাক্যের উদাহরণ দেন।
‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদটি কোন ঐতিহাসিক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়?
এই প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন পাণ্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
শিশুরা রোদের মধ্যে বৃষ্টি হলে কোন ছড়া কাটে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন?
রোদের সময় বৃষ্টি হলে ছেলেমেয়েরা সমস্বরে কাটে, “রোদ হচ্ছে, পানি হচ্ছে, খেঁকশিয়ালীর বিয়ে হচ্ছে।”
কপাটি (কাবাডি) খেলার সময় ছেলেরা কী বাঁধা বুলি ব্যবহার করত?
কপাটি খেলার সময় ছেলেরা বলত, “এক হাত বোল্লা বার হাত শিং, উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং।”
বিদেশি খেলার প্রচলনে কী লোপ পাবার উপক্রম হয়েছে বলে লেখক মনে করেন?
ফুটবল, ব্যাটবলের মতো বিদেশি খেলার প্রচলনের সাথে সাথে কপাটির মতো দেশীয় খেলার বাঁধা গৎ বা বুলি হারিয়ে যাচ্ছে।
শহুরে সমাজে পল্লিগানকে কী বলে অবজ্ঞা করা হয়?
শহুরে গানের প্রভাবে পল্লিগানগুলো ভদ্রসমাজে ‘বর্বর চাষার গান’ বলে আর বিকায় না বলে লেখক আক্ষেপ করেন।
‘মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে’ গানের উদাহরণ দিয়ে লেখক কী প্রমাণ করতে চেয়েছেন?
লেখক প্রশ্ন করেন এই গানের সাথে কোনো শহুরে গানের তুলনা হতে পারে কি না— অর্থাৎ পল্লিগানের গভীরতা ও সৌন্দর্য অতুলনীয় বলে তিনি মনে করেন।
নাগরিক সাহিত্যে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পায় বলে লেখক উল্লেখ করেন?
নাগরিক সাহিত্যে রাজ-রাজড়ার কথা, বাবু-বিবির কথা, মোটরগাড়ি, বিজলি বাতি, সিনেমা-থিয়েটারের কথাই প্রাধান্য পায়, পল্লির গৃহস্থ-কৃষক-জেলে-মাঝুরদের কথা সেখানে ঠাঁই পায় না।
কোন বিশ্ববরেণ্য কবির কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন তিনিও নাগরিক সাহিত্যেই ফিরে গিয়েছিলেন?
লেখক উল্লেখ করেন, বিশ্ববরেণ্য কবিসম্রাট (রবীন্দ্রনাথ) একবার ‘এবার ফিরাও মোরে’ বলেও পরে আবার পুরনো পথে নাগরিক সাহিত্য নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।
লেখক শহুরে সাহিত্যের ‘বালাখানা’র পাশে কী তোলার আহ্বান জানান?
লেখক বলেন, শহুরে সাহিত্যের বালাখানার (প্রাসাদের) পাশে গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর তোলা আজ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
লেখক ইউরোপ-আমেরিকায় কোন ধরনের সাহিত্যের উত্থানের কথা উল্লেখ করেন?
লেখক বলেন, ইউরোপ-আমেরিকায় Proletariat সাহিত্য অর্থাৎ অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্য ক্রমে আদরের আসন পাচ্ছে, বাংলাদেশেও তা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
লেখকের মতে পল্লিসাহিত্যে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সম্পর্কে কী সত্য?
লেখক বলেন, মাতৃস্তন্যে যেমন সন্তান মাত্রেরই অধিকার, তেমনি পল্লিসাহিত্যে পল্লীজননীর হিন্দু-মুসলমান সকল সন্তানেরই সমান অধিকার।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের শেষে লেখক কী প্রত্যাশা প্রকাশ করেন?
লেখক আশা প্রকাশ করেন, পল্লীজননীর সন্তানেরা যদি পল্লিসাহিত্যের দিকে মনোযোগ দেয় তবেই এই সাহিত্য সভার আয়োজন সার্থক হবে, নয়তো সব ফক্কিকার (ফাঁকিবাজি) হবে।
‘প্রত্নতাত্ত্বিক’ কাকে বলা হয়?
প্রত্নতাত্ত্বিক বা পুরাতত্ত্ববিদ হলেন তিনি, যিনি প্রাচীন লিপি, মুদ্রা বা ভগ্নাবশেষ থেকে পুরাকালের তথ্য নির্ণয় করেন।
‘নৃতত্ত্ব’ (Anthropology) কী বিষয়ক বিজ্ঞান?
নৃতত্ত্ব হলো মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান, যার মূল্যবান উপকরণ হিসেবে উপকথাকে গণ্য করা হয়।
খনার বচনের উদাহরণ হিসেবে লেখক কোন ছড়াটি উল্লেখ করেন?
লেখক খনার বচনের উদাহরণ হিসেবে দেন, “কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত”— কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ একটি বচন।
মায়ার এই উদ্যোগ ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন মূল আহ্বানের সাথে সংগতিপূর্ণ?
লেখক ঠিক এই ধরনের উদ্যোগেরই আহ্বান জানিয়েছেন— পল্লিগান, রূপকথা, ছড়া হারিয়ে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করে রাখা, যা মায়ার কাজের সাথে সরাসরি মিলে যায়।
মায়ার মতো উদ্যোগ না নেওয়া হলে লেখকের ভাষায় কী পরিণতি হতে পারে?
লেখকের আশঙ্কা অনুযায়ী, সময়মতো সংগ্রহ না করলে এই সম্পদ চিরতরে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে— যেমনটা ইতিমধ্যে রূপকথা ও ছড়ার ক্ষেত্রে ঘটছে বলে তিনি আক্ষেপ করেছেন।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
রোমাঁ রোলাঁ ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কীভাবে সংযুক্ত হয়েছেন প্রবন্ধে?
লেখক দেখান, বিদেশি একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিকও যখন পল্লিগাথার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, তখন তা প্রমাণ করে পল্লিসাহিত্যের প্রকৃত মূল্য কতটা— এটি তাঁর মূল যুক্তিকে শক্তিশালী করে।
পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
পল্লিগ্রামে প্রকৃতি ও সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে লেখকের মূল বক্তব্য কী— ব্যাখ্যা করো।
লেখক মনে করেন পল্লিগ্রামে প্রকৃতিই সাহিত্যের প্রধান উপকরণ জোগায়— নদী, মাঠ, ঋতু পরিবর্তন সবকিছুই কাব্যিক উপাদান। কিন্তু পল্লিবাসীরা নিজেরাই এই সমৃদ্ধ সম্পদের মূল্য উপলব্ধি করতে পারে না বলে লেখক আক্ষেপ করেন।
রোমাঁ রোলাঁর মুগ্ধতার উদাহরণ দিয়ে লেখক কী প্রমাণ করতে চান— ব্যাখ্যা করো।
বিদেশি সাহিত্যিক রোমাঁ রোলাঁর মৈমনসিংহ গীতিকা পড়ে মুগ্ধ হওয়ার উদাহরণ দিয়ে লেখক প্রমাণ করতে চান যে পল্লিসাহিত্যের প্রকৃত সাহিত্যিক মূল্য আন্তর্জাতিক মানের, শুধু আমরা নিজেরাই তা অবহেলা করছি।
দেশীয় রূপকথার জায়গায় বিদেশি পল্লিসাহিত্য গল্পের প্রভাব নিয়ে লেখকের উদ্বেগ কী— ব্যাখ্যা করো।
লেখক আক্ষেপ করেন আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে রাখালের পিঠা গাছ, পক্ষিরাজ ঘোড়ার মতো দেশীয় রূপকথা হারিয়ে গিয়ে আরব্য উপন্যাস বা Lamb’s Tales-এর মতো বিদেশি গল্প শিশুদের মনে জায়গা করে নিচ্ছে, যা আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষতি করছে।
প্রবাদ বাক্য ও খনার বচনের গুরুত্ব কী— ব্যাখ্যা করো।
লেখকের মতে প্রবাদ বাক্য ও খনার বচনে যুগযুগান্তরের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও কৃষিভিত্তিক জ্ঞান লুকিয়ে আছে, যা শুধু ভাষিক সৌন্দর্যই নয়, বাস্তবিক জীবনদর্শনও বহন করে— তাই এগুলো সংরক্ষণযোগ্য।
জারি-ভাটিয়ালি-রাখালি-মারফতি গানের প্রতি সমাজের মনোভাব ও লেখকের মূল্যায়নের মধ্যে কী বৈপরীত্য আছে— ব্যাখ্যা করো।
শহুরে সমাজ এই পল্লিগানগুলোকে অবজ্ঞা করে, কিন্তু লেখক মনে করেন এগুলো ভাবে ও সৌন্দর্যে অতুলনীয়, নাগরিক সাহিত্যের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়— এই বৈপরীত্যের মাধ্যমে লেখক সমাজের ভুল মূল্যায়নকে চ্যালেঞ্জ করেন।
রবীন্দ্রনাথের উদাহরণ দিয়ে লেখক কী সমালোচনা করেন— ব্যাখ্যা করো।
লেখক উল্লেখ করেন এমনকি রবীন্দ্রনাথের মতো মহান সাহিত্যিকও শেষ পর্যন্ত নাগরিক সাহিত্যেই ফিরে গিয়েছিলেন— এই উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখান পল্লিজীবনভিত্তিক সাহিত্যের প্রতি অবহেলা কতটা গভীর ও ব্যাপক।
লেখক কেন ‘গেঁয়ো সাহিত্যের নতুন ঘর’ তোলার আহ্বান জানান— ব্যাখ্যা করো।
যেহেতু বাংলাসাহিত্যের অধিকাংশই নাগরিক-কেন্দ্রিক এবং কৃষক-জেলে-মাঝির জীবন উপেক্ষিত, তাই লেখক ইউরোপ-আমেরিকার Proletariat সাহিত্যের অনুকরণে পল্লিজীবনভিত্তিক নতুন সাহিত্যধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
লেখক কেন বলেন পল্লিসাহিত্য হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের সাধারণ সম্পত্তি— ব্যাখ্যা করো।
পল্লিগান, রূপকথা, প্রবাদ ধর্ম-নির্বিশেষে বাংলার সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত, তাই লেখক এটিকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রেখে সকলের সাধারণ সম্পত্তি হিসেবে দেখেন, যা সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণ না করলে কী পরিণতি হতে পারে বলে লেখক মনে করেন— ব্যাখ্যা করো।
লেখকের আশঙ্কা, সময়মতো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ না করলে এই অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদ চিরতরে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে, যেমনটা ইতিমধ্যে বহু রূপকথা ও ছড়ার ক্ষেত্রে ঘটে গেছে।
প্রবন্ধটির সামগ্রিক শিক্ষামূলক বার্তা কী— ব্যাখ্যা করো।
প্রবন্ধটি শেখায়, নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল্য উপলব্ধি করে তা সংরক্ষণ করা জরুরি— নাগরিক সাহিত্যের পাশাপাশি পল্লিজীবনভিত্তিক সাহিত্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত, নইলে আমাদের শিকড়ের সাথে সংযোগ হারিয়ে যাবে।
লেখকের মতে পল্লিগ্রামে শহরের অভাব কীভাবে পূরণ হয়?
কোকিল, দোয়েল, পাপিয়ার কলগান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর ও শ্যামল শস্যের হিলাদুলা— এসবই শহরের গায়ক-বাদক-নর্তকের অভাব পূরণ করে বলে লেখক মনে করেন।
লেখক পল্লিবাসীদের সাহিত্য সম্পদ সম্পর্কে অসচেতনতাকে কীসের সাথে তুলনা করেছেন?
লেখক বলেন, বাতাসের মধ্যে বাস করে যেমন আমরা ভুলে যাই আমরা বায়ু-সাগরে ডুবে আছি, তেমনি পাড়াগাঁয়ে থেকে আমরা বুঝিই না কত বড়ো সাহিত্য সম্পদ চারপাশে ছড়িয়ে আছে।
লেখকের মতে দেশি রূপকথার তুলনা কোন বিদেশি পল্লিসাহিত্য গল্পের সাথে করা যায়?
লেখক বলেন, পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ বা আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যুর চেয়ে কম নয়।
শেক্সপিয়রের রাক্ষসদের বাঁধাবুলি ‘Fie, Fie, foh, fun’-এর সাথে লেখক পল্লির কোন বুলির তুলনা করেছেন?
লেখক এই সাদৃশ্য দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে কি একদিন ইংরেজ ও বাঙালির পূর্বপুরুষরা এক তাঁবুর নিচে বাস করতেন?
একদা বাংলায় থাকা বিরাট পল্লিসাহিত্যের বর্তমান অবস্থা লেখক কীভাবে বর্ণনা করেছেন?
লেখক বলেন, এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলায় ছিল, তার কঙ্কালবিশেষ এখনও আছে, কিন্তু সময় ও রুচির পরিবর্তনে তা অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে।
শেক্সপিয়রের রাক্ষসের বুলি ও পল্লির বুলির তুলনা করে লেখক প্রকৃতপক্ষে কী প্রশ্ন তোলেন?
এই আশ্চর্য মিল দেখিয়ে লেখক জিজ্ঞাসা তোলেন, ইংরেজ ও বাঙালির পূর্বপুরুষরা কোনো একদিন একসূত্রে বাঁধা ছিলেন কিনা— এটি পল্লিসাহিত্যের নৃতাত্ত্বিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
