প্রাণ কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “প্রাণ” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য প্রাণ কবিতার নোট দেখুন।
প্রাণ কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রাণ কবিতার কবি কে?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (জন্ম ৭ মে ১৮৬১, জোড়াসাঁকো, কলকাতা; মৃত্যু ৭ আগস্ট ১৯৪১)। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির জন্য নোবেল পুরস্কার (প্রথম এশীয়)। উল্লেখযোগ্য রচনা: মানসী, সোনার তরী, গোরা, ঘরে বাইরে, শেষের কবিতা, গল্পগুচ্ছ।
উৎস ও রূপ
কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত একটি সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা)— অষ্টক ও ষটকে বিভক্ত।
কবিতার মূল ভাব-বিন্যাস
- **অষ্টক (প্রথম ৮ চরণ):** কবি সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে মরতে চান না, মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চান— মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-অশ্রু দিয়ে সংগীত রচনা করে অমর-আলয় গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।
- **ষটক (শেষ ৬ চরণ):** তা সম্ভব না হলেও, যতদিন বাঁচেন মানুষের মাঝে ঠাঁই পেতে চান, প্রতিদিন নতুন সৃষ্টির (সংগীতের) ফুল ফোটাতে চান— বিনম্রভাবে বলেন, ফুল গ্রহণ বা বর্জন উভয়ই মেনে নেবেন।
প্রাণ কবিতার মূল ভাব কী?
মৃত্যুর চেয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার ও সৃষ্টির মাধ্যমে অমর হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা— জীবন একবারই বলে তা অর্থবহ করে তোলার দৃঢ় সংকল্পই কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব। কবির আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের সুন্দর সমন্বয় কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে।
প্রাণ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
সূর্যকরে (সূর্যের কিরণে), চিরতরঙ্গিত (সর্বদা বহমান), লভি (লাভ করি), অমর আলয় (অমর সৃষ্টি), জীবন্ত হৃদয় মাঝে (মানুষের হৃদয়ে)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮৬৫
- খ. ১৮৬৩
- গ. ১৮৬১
- ঘ. ১৮৫৯
উত্তর: গ। তিনি ২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দে (৭ই মে, ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন।
২। রবীন্দ্রনাথের পিতার নাম কী?
- ক. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- খ. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
- গ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ঘ. দ্বারকানাথ ঠাকুর
উত্তর: গ। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর; পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
৩। রবীন্দ্রনাথ কত বছর বয়সে বনফুল কাব্য প্রকাশ করেন?
- ক. ষোলো
- খ. চৌদ্দ
- গ. পনেরো
- ঘ. তেরো
উত্তর: গ। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়।
৪। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
- ক. ১৯১৫
- খ. ১৯১০
- গ. ১৯২০
- ঘ. ১৯১৩
উত্তর: ঘ। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে Gitanjali: Song Offerings সংকলনের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
৫। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কী কী ছিলেন?
- ক. শুধু কবি
- খ. শুধু গীতিকার
- গ. শুধু ঔপন্যাসিক
- ঘ. সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার ও নাট্যকার
উত্তর: ঘ। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার, নাট্য প্রযোজক ও অভিনেতা ছিলেন।
৬। নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা নয়?
- ক. আরণ্যক
- খ. গোরা
- গ. ঘরে বাইরে
- ঘ. শেষের কবিতা
উত্তর: ক। আরণ্যক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি রবীন্দ্রনাথের রচনা।
৭। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৪২
- খ. ১৯৩৯
- গ. ১৯৪১
- ঘ. ১৯৪০
উত্তর: গ। ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে (৭ই আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ) কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রাণ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৮। ‘প্রাণ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. ক্ষণিকা
- খ. সোনার তরী
- গ. কড়ি ও কোমল
- ঘ. মানসী
উত্তর: গ। কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
৯। কবিতাটির কাব্যরূপ কী?
- ক. মহাকাব্য
- খ. পয়ার
- গ. চতুর্দশপদী কবিতা (সনেট)
- ঘ. অমিত্রাক্ষর মহাকাব্য
উত্তর: গ। কবিতাটি চৌদ্দ চরণে রচিত, অর্থাৎ এটি একটি চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট।
১০। কবিতার মূল ভাব কী?
- ক. সৃষ্টির মাধ্যমে অমর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা
- খ. মৃত্যুর প্রতি আকর্ষণ
- গ. প্রকৃতির বর্ণনা
- ঘ. যুদ্ধের কথা
উত্তর: ক। কবিতায় কবি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার এবং নিজের সৃষ্টির মাধ্যমে অমর হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
১১। কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কবি কী চান না বলে বলেন?
- ক. তিনি সুন্দর ভুবনে মরতে চান না
- খ. তিনি বাঁচতে চান না
- গ. তিনি সৃষ্টি করতে চান না
- ঘ. তিনি মানুষের মাঝে থাকতে চান না
উত্তর: ক। কবি বলেন, ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে’— তিনি এই সুন্দর পৃথিবীতে মরতে চান না।
১২। কবি কোথায় বাঁচতে চান?
- ক. প্রকৃতির কোলে
- খ. মানবের মাঝে
- গ. নির্জনে
- ঘ. স্বর্গে
উত্তর: খ। কবি বলেন, ‘মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’— মানুষের মাঝেই তিনি বেঁচে থাকতে চান।
১৩। কবি কীসের মধ্যে স্থান পেতে চান?
- ক. সমুদ্রে
- খ. সূর্যকরে ও পুষ্পিত কাননে
- গ. রাজপ্রাসাদে
- ঘ. পাহাড়ে
উত্তর: খ। কবি বলেন, এই সূর্যকরে, এই পুষ্পিত কাননে, জীবন্ত হৃদয়ের মাঝে যদি তিনি স্থান পান।
১৪। কবির মতে ধরায় (পৃথিবীতে) কী চিরতরঙ্গিত?
- ক. সমুদ্রের ঢেউ
- খ. বাতাসের প্রবাহ
- গ. নদীর স্রোত
- ঘ. প্রাণের খেলা
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, ‘ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত’— পৃথিবীতে জীবনের খেলা চিরকাল বহমান।
১৫। মানবজীবন কীসে ভরা বলে কবি বর্ণনা করেন?
- ক. শুধু আনন্দে
- খ. বিরহ-মিলন, হাসি-অশ্রুতে
- গ. শুধু দুঃখে
- ঘ. শুধু শান্তিতে
উত্তর: খ। কবি বলেন, মানবজীবন বিরহ-মিলনের কত হাসি-অশ্রুময় অভিজ্ঞতায় ভরা।
১৬। কবি মানুষের সুখ-দুঃখ দিয়ে কী গাঁথতে চান?
- ক. একটি মালা
- খ. একটি চিঠি
- গ. সংগীত
- ঘ. একটি গল্প
উত্তর: গ। কবি বলেন, মানবের সুখে-দুঃখে সংগীত গেঁথে যদি তিনি অমর-আলয় রচনা করতে পারেন।
১৭। ‘অমর-আলয় রচিতে পারি’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
- ক. কালজয়ী, চিরস্থায়ী সৃষ্টিকর্ম রচনা করা
- খ. একটি ধর্মীয় স্থান নির্মাণ করা
- গ. স্বর্গে যাওয়া
- ঘ. একটি প্রকৃত বাড়ি তৈরি করা
উত্তর: ক। অমর-আলয় বলতে কবি এমন সৃষ্টিকর্মের কথা বলেছেন যা কালজয়ী হয়ে মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
**১৮। অষ্টক অংশে (প্রথম আট চরণ) প্রকাশিত ভাব নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. কবি সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মরতে চান না
ii. কবি মানুষের সুখ-দুঃখ দিয়ে সংগীত রচনা করে অমর হতে চান
iii. কবি জানেন তিনি অবশ্যই অমর হবেন, এতে কোনো শর্ত নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য অষ্টক অংশের সাথে মেলে, কিন্তু কবি স্পষ্ট শর্তসাপেক্ষে বলেন ‘যদি গো রচিতে পারি’— অর্থাৎ অমরত্ব অনিশ্চিত, শর্তযুক্ত; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
১৯। ষটক অংশে (শেষ ছয় চরণ) কবি কী বলেন যদি তিনি অমর সৃষ্টি রচনা করতে না পারেন?
- ক. যতকাল বাঁচেন, মানুষের মাঝে ঠাঁই চান
- খ. তিনি সৃষ্টি করা ছেড়ে দেবেন
- গ. তিনি নিরাশ হয়ে পড়বেন
- ঘ. তিনি হতাশ হবেন
উত্তর: ক। কবি বলেন, তা যদি না পারেন, তবু যতকাল বাঁচেন, মানুষের মাঝখানে যেন ঠাঁই পান— এটাই তাঁর প্রার্থনা।
২০। কবি প্রতিদিন কী ফোটাতে চান?
- ক. নব নব সংগীতের কুসুম
- খ. তারা
- গ. ফুল
- ঘ. গাছপালা
উত্তর: ক। কবি বলেন, সকাল-বিকাল তিনি নব নব সংগীতের কুসুম ফোটাতে চান, যাতে মানুষ তা তুলে নিতে পারে।
২১। কবি মানুষকে তাঁর সৃষ্টি (ফুল) নিয়ে কী করার আহ্বান জানান?
- ক. হাসিমুখে নিতে, শুকালে ফেলে দিতে
- খ. তা সংরক্ষণ করতে
- গ. তা লুকিয়ে রাখতে
- ঘ. তা বিক্রি করতে
উত্তর: ক। কবি বিনম্রভাবে বলেন, হাসিমুখে ফুল নিয়ো, তারপর সে ফুল শুকিয়ে গেলে ফেলে দিয়ো— তাঁর সৃষ্টির প্রতি কোনো জোরাজুরি নেই, শুধু আন্তরিক নিবেদন।
২২। কবিতার শেষ পঙক্তির মধ্য দিয়ে কবির কোন মানসিকতা প্রকাশ পায়?
- ক. রাগ ও ক্ষোভ
- খ. অহংকার
- গ. বিনয় ও নিরাসক্তি, অভিযোগহীনতা
- ঘ. উদাসীনতা
উত্তর: গ। ‘ফেলে দিয়ো ফুল, যদি সে ফুল শুকায়’ পঙক্তিতে কবির গভীর বিনয় ও নিরাসক্তি প্রকাশ পায়— তাঁর সৃষ্টি গৃহীত না হলেও তিনি কোনো অভিযোগ করবেন না।
২৩। ‘সূর্যকরে’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. সূর্যোদয়ে
- খ. সূর্যের কিরণে
- গ. সূর্যাস্তে
- ঘ. সূর্যগ্রহণে
উত্তর: খ। সূর্যকরে অর্থ সূর্যের কিরণে।
২৪। ‘চিরতরঙ্গিত’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. স্থির
- খ. সর্বদা কল্লোলিত, বহমান
- গ. ক্ষণস্থায়ী
- ঘ. নীরব
উত্তর: খ। চিরতরঙ্গিত অর্থ সর্বদা কল্লোলিত বা বহমান।
২৫। ‘লভি’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. হারাই
- খ. খুঁজি
- গ. দিই
- ঘ. লাভ করি
উত্তর: ঘ। লভি অর্থ লাভ করি।
২৬। ‘অমর আলয়’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?
- ক. অমর সৃষ্টি
- খ. একটি স্মৃতিসৌধ
- গ. একটি প্রকৃত বাসস্থান
- ঘ. একটি মন্দির
উত্তর: ক। অমর আলয় অর্থ অমর সৃষ্টি— এমন রচনা যা কালজয়ী হয়ে টিকে থাকবে।
২৭। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি কেন মৃত্যুবরণ করতে চান না?
- ক. তিনি মৃত্যুতে ভীত বলে
- খ. তাঁর কাজ অসম্পূর্ণ বলে
- গ. জগতের মায়া ত্যাগ করতে চান না বলে
- ঘ. তাঁর পরিবার তাঁকে প্রয়োজন বলে
উত্তর: গ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জগতের মায়া ত্যাগ করে অন্য কিছুর আহ্বানে প্রলুব্ধ হয়ে কবি মৃত্যুবরণ করতে চান না— এই সুন্দর, আকর্ষণীয় পৃথিবীতেই তিনি থাকতে চান।
২৮। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি কীভাবে অমর হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন?
- ক. মানুষের মনজয়ী রচনা সৃজনের মাধ্যমে
- খ. দীর্ঘজীবন লাভ করে
- গ. ধনসম্পদ অর্জন করে
- ঘ. রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করে
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবি মানুষের মনজয়ী রচনা সৃজনের মাধ্যমে সবার কাছে আদৃত হয়ে অমর হতে চান।
২৯। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবির রচনা যদি মানুষের সুখ-দুঃখ ধারণ করতে না পারে তবে কী হবে?
- ক. তা ইতিহাসে স্থান পাবে
- খ. কোনো প্রভাব পড়বে না
- গ. তা আরও জনপ্রিয় হবে
- ঘ. তা শুকনো ফুলের মতো অনাদৃত হয়ে পড়বে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী তা না হলে তাঁর রচনা শুকনো ফুলের মতোই সবার কাছে অনাদৃত হয়ে পড়বে।
৩০। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য কী প্রয়োজন?
- ক. সৎ ও শুভকর্মের দৃঢ় সংকল্প
- খ. প্রচুর অর্থ
- গ. সামাজিক মর্যাদা
- ঘ. রাজনৈতিক ক্ষমতা
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সৎ ও শুভকর্ম করে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য দৃঢ় সংকল্প প্রয়োজন, কবিতাটিতে এই প্রত্যয়ই প্রতিফলিত হয়েছে।
৩১। কবিতাটি জীবন সম্পর্কে কোন মৌলিক সত্য তুলে ধরে?
- ক. জীবন বহুবার পাওয়া যায়
- খ. জীবনের কোনো মূল্য নেই
- গ. মৃত্যুই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য
- ঘ. জীবন একবারই, তাই অর্থবহ করা প্রয়োজন
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী জীবন তো একবারই— তাই জীবনে নেতিবাচকতা পরিহার করে অর্থবহ কর্মের মধ্য দিয়ে তা উদযাপন করা প্রয়োজন, এই শিক্ষাই কবিতায় উচ্চকিত হয়েছে।
৩২। কবিতাটি কোন ধরনের মানসিকতাকে উৎসাহিত করে?
- ক. জীবনমুখী ও ইতিবাচক মানসিকতা
- খ. উদাসীনতা
- গ. পলায়নপরতা
- ঘ. নৈরাশ্যবাদ
উত্তর: ক। কবিতাটি জীবনমুখী, ইতিবাচক ও সৃজনশীল মানসিকতাকে উৎসাহিত করে— মৃত্যুর পরিবর্তে জীবন ও সৃষ্টির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে।
**৩৩। কবিতার ‘সোনেট’ কাঠামো নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. কবিতাটি চৌদ্দ চরণে রচিত
ii. অষ্টকে ভাবের প্রবর্তনা, ষটকে ভাবের পরিণতি থাকে
iii. কবিতায় কোনো অষ্টক-ষটক বিভাজন নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: ক।** প্রথম দুটি তথ্য সঠিক— কবিতাটি সনেট রীতিতে চৌদ্দ চরণে রচিত এবং অষ্টক-ষটক কাঠামো অনুসরণ করে; তাই তৃতীয় তথ্যটি ভুল।
৩৪। কবিতায় ‘ফুল’ প্রতীকটি কী বোঝায়?
- ক. প্রকৃত ফুল মাত্র
- খ. একটি ঋতুর প্রতীক
- গ. একটি উপহার
- ঘ. কবির সৃষ্টিকর্ম, যা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা যায়
উত্তর: ঘ। কবিতায় ফুল কবির সৃষ্টিকর্মের প্রতীক— যা তিনি বিনম্রভাবে মানুষের কাছে নিবেদন করেন, গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান উভয়ই মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে।
৩৫। কবিতায় কবির আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের মধ্যে কোন ভারসাম্য দেখা যায়?
- ক. শুধু বিনয় প্রকাশ পেয়েছে
- খ. অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা শর্তসাপেক্ষ ও বিনম্রভাবে প্রকাশ করেছেন
- গ. শুধু আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে
- ঘ. কোনো ভারসাম্য নেই
উত্তর: খ। কবি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে অমর হওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেও তা ‘যদি’ শব্দের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষ ও বিনম্রভাবে উপস্থাপন করেছেন— এই আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের সুন্দর ভারসাম্যই কবিতাকে হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছে।
একজন বৃদ্ধ শিক্ষক তাঁর শেষ জীবনে বলেছিলেন, ‘আমি মরে যাব, কিন্তু আমার ছাত্রদের মাঝে আমি বেঁচে থাকব। তারা যদি আমার শেখানো ভালো কাজগুলো মনে রাখে, তবেই আমার শিক্ষকতা সার্থক হবে।’
৩৬। শিক্ষকের এই উক্তির সাথে ‘প্রাণ’ কবিতার কবির ভাবনার কোন দিকটির মিল পাওয়া যায়?
- ক. নিজের অবদানে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা
- খ. মৃত্যুভীতি
- গ. একাকিত্বের বেদনা
- ঘ. জাগতিক সম্পদের প্রতি আসক্তি
উত্তর: ক। কবি যেমন তাঁর সৃষ্টিকর্মের (সংগীত/কবিতা) মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চান, শিক্ষকও তেমনি তাঁর শিক্ষাদানের মাধ্যমে ছাত্রদের মাঝে বেঁচে থাকতে চান— উভয়ের আকাঙ্ক্ষার মূলে রয়েছে নিজের অবদানের মাধ্যমে অমরত্ব লাভের একই আকুতি।
৩৭। উভয় ক্ষেত্রেই এই আকাঙ্ক্ষা কীসের ওপর নির্ভরশীল?
- ক. সৃষ্টির প্রকৃত মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর
- খ. অর্থ ও সম্পদের ওপর
- গ. রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর
- ঘ. ভাগ্যের ওপর
উত্তর: ক। উভয় ক্ষেত্রেই এই অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা নির্ভর করে অন্যদের কাছে নিজের সৃষ্টি বা অবদান কতটা প্রকৃত মূল্য বহন করে এবং তা গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে তার ওপর— কবির ভাষায় এটি শর্তসাপেক্ষ (‘যদি’), শিক্ষকের ক্ষেত্রেও তাই।
৩৮। কবিতায় ব্যবহৃত ‘ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত’ পঙক্তিটি কী প্রকাশ করে?
- ক. জীবনের চিরন্তন, অবিরাম গতিময়তা
- খ. জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব
- গ. জীবনের স্থবিরতা
- ঘ. মৃত্যুর অনিবার্যতা
উত্তর: ক। এই পঙক্তিতে জীবনের চিরন্তন, অবিরাম গতিময়তা ও প্রাণচাঞ্চল্যের কথা প্রকাশ পেয়েছে— জীবন যেন এক নিরন্তর প্রবহমান তরঙ্গ।
৩৯। কবিতায় ‘হাসি-অশ্রুময়’ শব্দবন্ধটি মানবজীবনের কোন দিকটি তুলে ধরে?
- ক. আনন্দ ও বেদনার সহাবস্থান
- খ. শুধু আনন্দময় দিক
- গ. শুধু দুঃখময় দিক
- ঘ. জীবনের একঘেয়েমি
উত্তর: ক। এই শব্দবন্ধ মানবজীবনের আনন্দ ও বেদনার সহাবস্থান তুলে ধরে— জীবন যে একরৈখিক নয়, বরং বহুমুখী অভিজ্ঞতায় পূর্ণ, তারই ইঙ্গিত এতে নিহিত।
৪০। কবি কেন সরাসরি ‘আমি অমর হবই’ না বলে ‘যদি রচিতে পারি’ বলেছেন?
- ক. অমরত্ব সৃষ্টির গুণ ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল বলে
- খ. তিনি নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে অনিশ্চিত ছিলেন বলে
- গ. তিনি সৃষ্টিকর্মে আগ্রহী ছিলেন না
- ঘ. এটি নিছক ছন্দের প্রয়োজনে
উত্তর: ক। প্রকৃত অমরত্ব শুধু ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না, বরং সৃষ্টিকর্মের প্রকৃত মান ও মানুষের হৃদয়ে তার গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল— এই গভীর বিনম্র উপলব্ধি থেকেই কবি শর্তসাপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করেছেন।
৪১। কবিতায় ‘নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই’ পঙক্তিটি কবির সৃজনশীলতার কোন দিক তুলে ধরে?
- ক. তাঁর সৃষ্টি সীমিত ও একঘেয়ে
- খ. তাঁর সৃষ্টিশীলতা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রূপে প্রকাশিত হয়
- গ. তাঁর সৃষ্টি শুধু অতীতের পুনরাবৃত্তি
- ঘ. তিনি সৃষ্টিকর্ম বন্ধ করে দিতে চান
উত্তর: খ। এই পঙক্তি কবির অক্ষয় সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়— তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন রূপে (কবিতা, গান) নিজের ভাবনাকে প্রকাশ করে যেতে চান, যা কখনো ফুরায় না।
৪২। কবিতায় প্রকৃতির উপাদান (সূর্যকর, পুষ্পিত কানন) ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী?
- ক. পৃথিবীর সৌন্দর্য তুলে ধরে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা জোরালো করা
- খ. শুধু সৌন্দর্য বর্ণনা
- গ. ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া
- ঘ. একটি ভৌগোলিক বর্ণনা প্রদান
উত্তর: ক। সূর্যকর ও পুষ্পিত কাননের মতো প্রকৃতির সুন্দর উপাদানগুলো ব্যবহার করে কবি পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য ও আকর্ষণকে তুলে ধরেছেন, যা তাঁর এই জগতে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরালো করে তোলে।
৪৩। কবিতাটি কোন সর্বজনীন মানবিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে?
- ক. মৃত্যুর পরও স্মরণীয় হয়ে থাকার সর্বজনীন আকাঙ্ক্ষা
- খ. শুধু আর্থিক সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা
- গ. রাজনৈতিক ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা
- ঘ. শুধু ব্যক্তিগত খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা
উত্তর: ক। কবিতাটি এক সর্বজনীন মানবিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে— মৃত্যুর অনিবার্যতা মেনে নিয়েও নিজের সৃষ্টি বা অবদানের মাধ্যমে মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকার আকুতি, যা কবি ছাড়িয়ে প্রতিটি মানুষের হৃদয়েই কমবেশি বিদ্যমান।
৪৪। কবিতার সুর কেমন— বিষণ্ণ নাকি প্রাণবন্ত?
- ক. রাগান্বিত
- খ. প্রাণবন্ত ও আশাবাদী, তবে বিনম্র অনিশ্চয়তার সুরও আছে
- গ. সম্পূর্ণ বিষণ্ণ ও হতাশাব্যঞ্জক
- ঘ. সম্পূর্ণ নিরাসক্ত
উত্তর: খ। কবিতার সুর মূলত প্রাণবন্ত, জীবনমুখী ও আশাবাদী— জীবন ও সৃষ্টির প্রতি গভীর ভালোবাসা এতে প্রকাশ পেয়েছে, যদিও শেষে একটি বিনম্র অনিশ্চয়তা ও গ্রহণ-বর্জনের প্রস্তুতিও লক্ষণীয়।
৪৫। কবিতাটি ‘জুতা-আবিষ্কার’ বা ‘সেইদিন এই মাঠ’-এর মতো অন্যান্য কবিতা থেকে বিষয়বস্তুর দিক থেকে কীভাবে ভিন্ন?
- ক. এটি সম্পূর্ণ ঐতিহাসিক
- খ. এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, সম্পর্কহীন বিষয়
- গ. এটি কবির ব্যক্তিগত জীবনদর্শন প্রকাশ করে, ব্যঙ্গ নয়
- ঘ. এটি একটি অনুবাদ কবিতা
উত্তর: গ। ‘জুতা-আবিষ্কার’ যেখানে ব্যঙ্গাত্মক আখ্যান এবং ‘সেইদিন এই মাঠ’ প্রকৃতির স্থায়িত্ব নিয়ে, সেখানে ‘প্রাণ’ কবিতা সরাসরি কবির ব্যক্তিগত জীবনদর্শন, মৃত্যুচেতনা ও সৃষ্টিকর্মের প্রতি তাঁর নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে— এটি অনেক বেশি আত্মমুখী ও দার্শনিক।
৪৬। কবিতায় ‘তোমরা’ সম্বোধনটি কাদের উদ্দেশে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. শুধু কবির পরিবার
- খ. পাঠক বা মানবসমাজের উদ্দেশে
- গ. শুধু সমালোচকগণ
- ঘ. শুধু অন্য কবিরা
উত্তর: খ। ‘তোমরা’ সম্বোধনটি ব্যাপক অর্থে পাঠক বা মানবসমাজকে নির্দেশ করে, যাদের কাছে কবি বিনম্রভাবে নিজের সৃষ্টিকর্ম (গানের ফুল) নিবেদন করতে চান।
৪৭। কবিতাটির প্রথম ও শেষ পঙক্তির ভাবের মধ্যে ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় আছে?
- ক. প্রথম পঙক্তি আশাবাদী, শেষ পঙক্তি হতাশাব্যঞ্জক
- খ. দুটির মধ্যে সরাসরি বিরোধ আছে
- গ. উভয়ই জীবন ও সৃষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত
- ঘ. কোনো ধারাবাহিকতা নেই
উত্তর: গ। প্রথম পঙক্তিতে জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষা আর শেষ পঙক্তিতে সৃষ্টির প্রতি বিনম্র নিবেদন— উভয়ই মূলত জীবন ও সৃষ্টির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত, তাই কবিতা জুড়ে একটি সংগত ভাবধারা বজায় থাকে।
৪৮। কবিতাটি শিক্ষার্থীদের জীবন সম্পর্কে কোন ব্যবহারিক শিক্ষা দিতে পারে?
- ক. শুধু ব্যক্তিগত সুখের কথা ভাবা উচিত
- খ. মৃত্যু নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়
- গ. নিজের কর্মে ইতিবাচক প্রভাব রেখে যাওয়া উচিত
- ঘ. জীবনে কিছু অর্জনের চেষ্টা না করা উচিত
উত্তর: গ। কবিতাটি শেখায়, জীবনে থাকাকালীন নিজের কর্ম, সৃষ্টি বা অবদানের মাধ্যমে অন্যদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত, যাতে তা মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৪৯। ‘প্রাণ’ কবিতাটি ও পূর্বে পঠিত ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতার মধ্যে ভাবগত কোন সাদৃশ্য লক্ষণীয়?
- ক. কোনো সাদৃশ্য নেই
- খ. উভয়ই জীবন অর্থবহভাবে যাপনের আহ্বান জানায়
- গ. উভয়ই মৃত্যুর প্রশংসা করে
- ঘ. উভয়ই যুদ্ধের কথা বলে
উত্তর: খ। উভয় কবিতাই জীবনকে নিষ্ক্রিয়ভাবে না কাটিয়ে অর্থবহ, সৃষ্টিশীল ও সক্রিয়ভাবে যাপনের আহ্বান জানায়— জীবনের প্রতি এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই উভয় কবিতার মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবধারা তৈরি করে।
৫০। সামগ্রিকভাবে ‘প্রাণ’ কবিতাটি পাঠকের মনে কোন প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে?
- ক. জীবদ্দশায় কী অবদান রেখে যাওয়া যায় যা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে
- খ. মৃত্যু কখন আসবে
- গ. প্রকৃতি কেন সুন্দর
- ঘ. জীবনের কোনো অর্থ নেই কেন
উত্তর: ক। কবিতাটি পাঠকের মনে এই গভীর প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে— নিজের জীবদ্দশায় এমন কী সৃষ্টি বা অবদান রেখে যাওয়া যায় যা মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী, ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
