প্রত্যুপকার গল্পের MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “প্রত্যুপকার” গল্প থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে গল্পের সারকথা ও ৫৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য প্রত্যুপকার গল্পের নোট দেখুন।
প্রত্যুপকার গল্পের সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রত্যুপকার গল্পের লেখক কে?
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ, মেদিনীপুর; মৃত্যু ২৯ জুলাই ১৮৯১)। প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; ‘দয়ার সাগর’ নামেও পরিচিত। বাংলা গদ্যের জনক। প্রধান রচনা: বর্ণপরিচয় (১৮৫৫), বেতাল পঞ্চবিংশতি, ব্যাকরণ কৌমুদী, শকুন্তলা, সীতার বনবাস। বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে প্রস্তাব উত্থাপনকারী সমাজ-সংস্কারক।
প্রত্যুপকার গল্পের উৎস
আখ্যানমঞ্জরী দ্বিতীয় ভাগ (১৮৬৮) থেকে সংকলিত, বিশ্ব-ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনের ঘটনা অবলম্বনে রচিত গল্প।
প্রত্যুপকার গল্পের মূল চরিত্র কারা?
আলী ইবনে আব্বাস (কথক, খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র), অজ্ঞাতনামা আশ্রয়দাতা (ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি), খলিফা মামুন।
প্রত্যুপকার গল্পের কাহিনি সংক্ষেপে
- খলিফার সামনে এক বন্দিকে আনা হলে আলীকে তাকে নিজ গৃহে বন্দি রাখার আদেশ দেওয়া হয়।
- কথায় কথায় বন্দি ডেমাস্কাসের বাসিন্দা জানালে আলীর পুরনো স্মৃতি জাগে— বহু বছর আগে ডেমাস্কাসে বিপদে পড়ে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির আশ্রয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন তিনি।
- আশ্রয়দাতার অকৃপণ সাহায্যের (অশ্ব, অর্থ, পরিচয়) কথা স্মরণ করে আলী আক্ষেপ করেন তাঁকে আর কখনো খুঁজে পাননি।
- বন্দি নিজেই সেই আশ্রয়দাতা— এই সত্য প্রকাশ পেলে আলী আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে মুক্ত করেন, নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে পালাতে বলেন।
- আশ্রয়দাতা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন— নিজের প্রাণ বাঁচাতে আলীর প্রাণ বিপন্ন করতে রাজি নন তিনি।
- পরদিন আলী খলিফার কাছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেন; খলিফা মুগ্ধ হয়ে বন্দিকে ক্ষমা করে মহামূল্য উপহারসহ বিদায় দেন।
প্রত্যুপকার গল্পের মূল ভাব কী?
উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন ও প্রয়োজনে তার জন্য নিজের স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলার মহত্ত্ব, দুই ব্যক্তির পারস্পরিক ত্যাগ ও বিশ্বস্ততা, এবং একজন শাসকের ন্যায়পরায়ণতা ও যুক্তিগ্রাহ্যতা— এই গল্পের কেন্দ্রীয় বার্তা।
প্রত্যুপকার গল্পের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
প্রত্যুপকার (উপকারীর উপকার করা), অভিরুচি (ইচ্ছা), কোপানল (ক্রোধের আগুন), মৌনাবলম্বন (নীরবতা পালন), অব্যাহতি (মুক্তি), অবধারিত (নিশ্চিত), রোষারক্ত নয়নে (ক্রোধে লাল চোখে), খলিফা (মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান শাসনকর্তা)।
লেখক পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৮২০
- খ. ১৮১৯
- গ. ১৮২১
- ঘ. ১৮১৮
উত্তর: ক। তিনি ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
২। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. নদীয়া
- খ. বর্ধমান
- গ. বীরসিংহ, মেদিনীপুর
- ঘ. হুগলি
উত্তর: গ। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
৩। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রকৃত নাম কী ছিল?
- ক. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- খ. ঈশ্বরচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
- গ. ঈশ্বরচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
- ঘ. ঈশ্বরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ক। তাঁর মূল নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; ‘বিদ্যাসাগর’ তাঁর উপাধি।
৪। দানশীলতার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আর কী নামে পরিচিত?
- ক. দয়ার সাগর
- খ. মমতার সাগর
- গ. জ্ঞানের সাগর
- ঘ. করুণার সাগর
উত্তর: ক। দানশীলতার জন্য তিনি ‘দয়ার সাগর’ নামেও পরিচিত।
৫। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কেন বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়?
- ক. সাহিত্যিক গদ্য রচনার জন্য
- খ. তিনি সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন বলে
- গ. তিনি সংস্কৃত পণ্ডিত ছিলেন বলে
- ঘ. তিনি প্রথম গদ্য রচনা করেন বলে
উত্তর: ক। সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস, যথাযথভাবে যতিচিহ্ন প্রয়োগ এবং সাহিত্যিক গদ্য রচনার জন্য তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
৬। বিদ্যাসাগর কত খ্রিষ্টাব্দে ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশ করেন?
- ক. ১৮৫৪
- খ. ১৮৫৬
- গ. ১৮৫৫
- ঘ. ১৮৫৩
উত্তর: গ। বাংলা বর্ণমালাকে নতুন বিন্যাসে সাজিয়ে ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শিশুপাঠ্য বই বর্ণপরিচয় প্রকাশ করেন।
৭। নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের গ্রন্থ নয়?
- ক. সীতার বনবাস
- খ. শকুন্তলা
- গ. বেতাল পঞ্চবিংশতি
- ঘ. বিষবৃক্ষ
উত্তর: ঘ। বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি বিদ্যাসাগরের রচনা।
৮। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন সামাজিক সংস্কারের পক্ষে প্রস্তাব রাখেন?
- ক. বিধবা বিবাহ প্রচলন
- খ. যৌতুক প্রথা রোধ
- গ. সতীদাহ প্রথা রদ
- ঘ. বাল্যবিবাহ রোধ
উত্তর: ক। ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ শীর্ষক গ্রন্থে তিনি বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
৯। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৮৮৯
- খ. ১৮৯১
- গ. ১৮৯০
- ঘ. ১৮৯২
উত্তর: খ। ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রত্যুপকার গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
১০। ‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?
- ক. শকুন্তলা
- খ. ভ্রান্তিবিলাস
- গ. বেতাল পঞ্চবিংশতি
- ঘ. আখ্যানমঞ্জরী দ্বিতীয় ভাগ
উত্তর: ঘ। ‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি আখ্যানমঞ্জরী দ্বিতীয় ভাগ থেকে সংকলন করা হয়েছে, যা ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়।
১১। আখ্যানমঞ্জরী গ্রন্থের রচনাগুলোর উপজীব্য কী?
- ক. প্রকৃতির বর্ণনা
- খ. বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনকাহিনি
- গ. ধর্মীয় উপদেশ
- ঘ. কাল্পনিক রূপকথা
উত্তর: খ। বিশ্বের নানা দেশের ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণের জীবনের গৌরবদীপ্ত ঘটনাই এ গ্রন্থের বিভিন্ন রচনার উপজীব্য।
১২। ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ক্ষমা করা
- খ. প্রতিশোধ নেওয়া
- গ. উপকারীর উপকার করা
- ঘ. অপকার করা
উত্তর: গ। প্রত্যুপকার অর্থ উপকারীর উপকার করা— যিনি একদিন উপকার করেছেন, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রতি-উপকার করা।
১৩। গল্পের কথক কে?
- ক. ডেমাস্কাসের শাসনকর্তা
- খ. আলী ইবনে আব্বাস
- গ. খলিফা মামুন
- ঘ. একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি
উত্তর: খ। গল্পের কথক আলী ইবনে আব্বাস, যিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
১৪। আলী ইবনে আব্বাস কার প্রিয়পাত্র ছিলেন?
- ক. বাগদাদের শাসনকর্তার
- খ. একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর
- গ. খলিফা মামুনের
- ঘ. ডেমাস্কাসের শাসনকর্তার
উত্তর: গ। আলী ইবনে আব্বাস মামুন নামক খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন।
১৫। খলিফা মামুনের সামনে একদিন কাকে আনা হয়?
- ক. একজন সৈনিককে
- খ. হাত-পা বাঁধা এক ব্যক্তিকে
- গ. একজন সাংবাদিককে
- ঘ. একজন ব্যবসায়ীকে
উত্তর: খ। একদিন অপরাহ্ণে খলিফার সম্মুখে হস্তপদবদ্ধ এক ব্যক্তিকে আনা হয়, যাঁর প্রতি খলিফা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন।
১৬। খলিফা আলী ইবনে আব্বাসকে কী আদেশ দেন?
- ক. তাকে নির্বাসনে পাঠাতে
- খ. তাকে মুক্তি দিতে
- গ. তাকে বিচার করতে
- ঘ. নিজ গৃহে বন্দি রাখতে
উত্তর: ঘ। খলিফা আলীকে ঐ ব্যক্তিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সাবধানে বন্দি করে রাখার এবং পরদিন উপস্থিত করার আদেশ দেন।
১৭। বন্দি ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন শহরকে নিজের জন্মস্থান বলে জানান?
- ক. ডেমাস্কাস
- খ. দামেস্কাসের বাইরের একটি গ্রাম
- গ. কায়রো
- ঘ. বাগদাদ
উত্তর: ক। বন্দি ব্যক্তি জানান, ডেমাস্কাস তাঁর জন্মস্থান, সেই নগরের বৃহৎ মসজিদের অংশে তাঁর বাস।
১৮। ডেমাস্কাস শোনামাত্র আলীর মনে কী স্মৃতি জাগে?
- ক. প্রাণরক্ষার পুরনো স্মৃতি
- খ. একটি বিবাহের স্মৃতি
- গ. একটি দুঃখজনক স্মৃতি
- ঘ. একটি যুদ্ধের স্মৃতি
উত্তর: ক। আলীর মনে পড়ে, ডেমাস্কাসের ঐ অংশের এক ব্যক্তি একসময় তাঁর প্রাণদান দিয়েছিলেন।
১৯। বহু বছর আগে ডেমাস্কাসে কী ঘটেছিল, যার কারণে আলী প্রাণভয়ে পালিয়েছিলেন?
- ক. একটি বিদ্রোহ
- খ. একটি মহামারি
- গ. পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণ
- ঘ. একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ
উত্তর: গ। ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তা বহুসংখ্যক সৈন্য নিয়ে আলী ও নতুন শাসনকর্তার দলকে আক্রমণ করেন, ফলে আলী প্রাণভয়ে পালান।
২০। পালিয়ে আলী কোথায় আশ্রয় নেন?
- ক. একটি মসজিদে
- খ. এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে
- গ. একটি গুহায়
- ঘ. একটি সরাইখানায়
উত্তর: খ। পালিয়ে আলী এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে প্রবেশ করে প্রাণ রক্ষার প্রার্থনা করেন।
২১। আশ্রয়দাতা আলীর প্রার্থনা শুনে কী করেন?
- ক. তাকে প্রত্যাখ্যান করেন
- খ. তাকে পুলিশে দেন
- গ. তাকে অর্থের বিনিময়ে সাহায্য করেন
- ঘ. তাকে অভয় প্রদান করেন এবং এক মাস আশ্রয় দেন
উত্তর: ঘ। আশ্রয়দাতা আলীকে অভয় প্রদান করেন এবং তাঁর বাড়িতে এক মাস নির্ভয়ে ও নিরাপদে থাকতে দেন।
২২। এক মাস পর আশ্রয়দাতা আলীকে কী পরামর্শ দেন?
- ক. আরও কিছুদিন থেকে যেতে
- খ. সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে
- গ. অন্য শহরে চলে যেতে
- ঘ. যাত্রীদের সাথে স্বদেশে ফিরে যেতে
উত্তর: ঘ। আশ্রয়দাতা বলেন, তখন অনেকে বাগদাদ যাচ্ছেন, স্বদেশে ফেরার জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো সুযোগ।
২৩। আলী কেন তাঁর অর্থাভাবের কথা আশ্রয়দাতাকে বলতে পারেননি?
- ক. লজ্জাবশত
- খ. আশ্রয়দাতা ব্যস্ত ছিলেন বলে
- গ. সময়ের অভাবে
- ঘ. ভাষার সমস্যার কারণে
উত্তর: ক। আলীর কাছে কোনো অর্থ ছিল না, কিন্তু লজ্জাবশত তিনি তা আশ্রয়দাতার কাছে ব্যক্ত করতে পারেননি।
২৪। আশ্রয়দাতা আলীর অর্থাভাব বুঝতে পেরে কী করেন?
- ক. তাকে আরও অপেক্ষা করতে বলেন
- খ. তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন
- গ. তাকে তিরস্কার করেন
- ঘ. নীরব থেকে গোপনে ব্যবস্থা করেন
উত্তর: ঘ। আশ্রয়দাতা আলীর আকার-প্রকার দেখে তা বুঝতে পারলেও তৎক্ষণাৎ কিছু না বলে মৌনাবলম্বন করেন।
২৫। প্রস্থানের দিন আলী কী দেখে বিস্মিত হন?
- ক. তাকে কিছুই দেওয়া হয়নি
- খ. আশ্রয়দাতা তাকে আটকে রাখেন
- গ. অশ্ব, ভৃত্য ও স্বর্ণমুদ্রা প্রস্তুত ছিল
- ঘ. তাকে অন্য পথে পাঠানো হয়
উত্তর: গ। প্রস্থান দিবসে আলী দেখেন একটি সুসজ্জিত অশ্ব, খাদ্যবাহী আরেকটি অশ্ব, পরিচর্যার জন্য এক ভৃত্য এবং একটি স্বর্ণমুদ্রার থলি তাঁর জন্য প্রস্তুত।
২৬। আশ্রয়দাতা আলীকে আর কী সাহায্য করেন যাত্রার আগে?
- ক. আত্মীয়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন
- খ. তাকে একটি মানচিত্র দেন
- গ. তাকে অস্ত্র দেন
- ঘ. তাকে একটি চিঠি দেন
উত্তর: ক। আশ্রয়দাতা আলীকে যাত্রীদের কাছে নিয়ে গিয়ে তাঁদের মধ্যে যাঁদের সাথে তাঁর আত্মীয়তা ছিল তাঁদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
২৭। এই উপকারের কারণে আলীর কাছে ডেমাস্কাসের সেই স্থান কেমন হয়ে ওঠে?
- ক. বিরক্তিকর
- খ. গুরুত্বহীন
- গ. পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় স্থান
- ঘ. ভীতিকর
উত্তর: গ। এই উপকারের জন্য পৃথিবীতে যত স্থান আছে, ঐ স্থান আলীর কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয় হয়ে ওঠে।
২৮। বন্দি ব্যক্তি কে বলে প্রকাশ পায়?
- ক. স্বয়ং সেই আশ্রয়দাতা
- খ. একজন বিদেশি বণিক
- গ. একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তি
- ঘ. খলিফার আত্মীয়
উত্তর: ক। বন্দি ব্যক্তি নিজেই আলীর সেই পুরনো আশ্রয়দাতা, যিনি এক মাস তাঁকে নিজ আলয়ে রেখেছিলেন।
২৯। প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরে আলীর প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি ভয় পান
- খ. আনন্দে তাঁকে আলিঙ্গন করেন
- গ. তিনি অবিশ্বাস করেন
- ঘ. তিনি উদাসীন থাকেন
উত্তর: খ। চিনতে পেরে আলী আহ্লাদে পুলকিত হয়ে অশ্রুপূর্ণ নয়নে তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁর হাত-পা থেকে লৌহশৃঙ্খল খুলে দেন।
৩০। বন্দি ব্যক্তি কেন খলিফার কোপে পড়েছিলেন বলে জানান?
- ক. তিনি সত্যিই অপরাধ করেছিলেন
- খ. কিছু নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত মিথ্যা দোষারোপ করেছিল
- গ. তিনি কর দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন
- ঘ. তিনি বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন
উত্তর: খ। তিনি জানান, কিছু নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করে খলিফার কাছে তাঁর ওপর উৎকট দোষারোপ করেছে।
৩১। বন্দি ব্যক্তি আলীর কাছে কী অনুরোধ করেন?
- ক. তাকে পালাতে সাহায্য করতে
- খ. তাকে অস্ত্র দিতে
- গ. তাকে টাকা দিতে
- ঘ. তাঁর পরিবারবর্গের কাছে সংবাদ পাঠাতে
উত্তর: ঘ। নিজের প্রাণদণ্ডের আশঙ্কায় তিনি আলীর কাছে অনুরোধ করেন তাঁর পরিবারবর্গের কাছে এই সংবাদ পাঠিয়ে দিতে।
৩২। আলী তাঁকে কী প্রতিশ্রুতি দেন?
- ক. খলিফার কাছে ক্ষমা চাইবেন
- খ. তাকে সাহায্য করতে অস্বীকার করেন
- গ. তাকে বন্দি রাখবেন
- ঘ. স্বাধীন ঘোষণা করে স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে সাহায্য করবেন
উত্তর: ঘ। আলী তাঁকে এই মুহূর্তেই স্বাধীন ঘোষণা করে পাথেয়স্বরূপ এক হাজার স্বর্ণমুদ্রার থলি দিয়ে অবিলম্বে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে বলেন।
৩৩। আলী এই সিদ্ধান্তের ফলে নিজের কী পরিণতির কথা স্বীকার করেন?
- ক. তিনি পুরস্কৃত হবেন
- খ. খলিফার ক্রোধ ও দ্বেষ জন্মাবে
- গ. তার কোনো প্রভাব পড়বে না
- ঘ. তিনি সম্মানিত হবেন
উত্তর: খ। আলী স্বীকার করেন এতে নিশ্চিতভাবে খলিফার মর্মান্তিক ক্রোধ ও দ্বেষ তাঁর ওপর জন্মাবে, তবু তিনি দুঃখিত হবেন না যদি বন্ধুর প্রাণ রক্ষা করতে পারেন।
৩৪। আলীর প্রস্তাব শুনে আশ্রয়দাতা কী জবাব দেন?
- ক. তিনি প্রত্যাখ্যান করেন
- খ. তিনি শর্ত দেন
- গ. তিনি সানন্দে গ্রহণ করেন
- ঘ. তিনি চিন্তা করার সময় চান
উত্তর: ক। আশ্রয়দাতা বলেন তিনি এত নীচাশয় ও স্বার্থপর নন যে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে যে প্রাণ তিনি একদিন রক্ষা করেছিলেন তার বিনাশের কারণ হবেন।
৩৫। আশ্রয়দাতা এর পরিবর্তে আলীর কাছে কী অনুরোধ করেন?
- ক. খলিফাকে তাঁর প্রতি সদয় করার চেষ্টা করতে
- খ. তার পরিবারকে খুঁজে বের করতে
- গ. তাকে পালাতে সাহায্য করতে
- ঘ. তার সম্পত্তি রক্ষা করতে
উত্তর: ক। তিনি অনুরোধ করেন, খলিফা যাতে তাঁর প্রতি অক্রোধ হন সেই যথোপযুক্ত চেষ্টা করতে, চেষ্টা ব্যর্থ হলেও তাঁর কোনো ক্ষোভ থাকবে না বলে জানান।
৩৬। পরদিন প্রাতঃকালে আলী খলিফার কাছে গিয়ে কী দেখেন?
- ক. খলিফা ঘাতককে প্রস্তুত হওয়ার আদেশ দেন
- খ. খলিফা ঘুমিয়ে ছিলেন
- গ. খলিফা অনুপস্থিত ছিলেন
- ঘ. খলিফা শান্ত ছিলেন
উত্তর: ক। আলী খলিফার কাছে গেলে তিনি বন্দির কথা জিজ্ঞেস করেন এবং ঘাতককে ডেকে প্রস্তুত হতে আদেশ দেন।
৩৭। আলী খলিফার চরণে পতিত হয়ে কী বলেন?
- ক. বন্দি ব্যক্তির বিষয়ে তাঁর কিছু বক্তব্য আছে বলে জানান
- খ. তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন
- গ. তিনি নিজের পদত্যাগের কথা বলেন
- ঘ. তিনি অন্য একটি বিষয়ে কথা বলতে চান
উত্তর: ক। আলী বিনীত ও কাতর বচনে খলিফাকে জানান, ঐ ব্যক্তির বিষয়ে তাঁর কিছু বক্তব্য আছে, অনুমতি পেলে তা জানাতে চান।
৩৮। আলীর নিবেদন শোনার পর খলিফার প্রতিক্রিয়া প্রথমে কেমন হয়?
- ক. তিনি শান্তভাবে শোনেন
- খ. তিনি হাসেন
- গ. ক্রুদ্ধ হয়ে হুমকি দেন
- ঘ. তিনি নীরব থাকেন
উত্তর: গ। এই কথা শুনে খলিফার কোপানল প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে, তিনি রোষারক্ত নয়নে বলেন আলী যদি তাকে ছেড়ে দিয়ে থাকেন তবে আলীরও প্রাণদণ্ড হবে।
৩৯। খলিফার প্রাণদণ্ডের হুমকি সত্ত্বেও আলী কী করেন?
- ক. ঝুঁকি নিয়েও কথা বলার অনুমতি চান
- খ. তিনি চুপ হয়ে যান
- গ. তিনি অন্য কাউকে দোষারোপ করেন
- ঘ. তিনি পালিয়ে যান
উত্তর: ক। আলী বলেন, খলিফা ইচ্ছা করলে এই মুহূর্তেই তাঁদের দুজনের প্রাণদণ্ড করতে পারেন, তবু তিনি তাঁর নিবেদন করতে চান।
৪০। আলী খলিফার কাছে কোন দুটি বিষয় তুলে ধরেন?
- ক. বন্দির রাজনৈতিক সংযোগ
- খ. আশ্রয়দানের ঘটনা ও নিজের বিপদের কথা
- গ. বন্দির পারিবারিক ইতিহাস
- ঘ. বন্দির সম্পদ ও ক্ষমতার কথা
উত্তর: খ। আলী খলিফাকে জানান, কীভাবে ডেমাস্কাসে এই ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় ও প্রাণরক্ষা করেছিলেন, এবং এখন তাঁকে ছেড়ে দিতে চাইলে নিজে অবধারিত বিপদে পড়বেন জেনেও তিনি এ কথা বলছেন।
৪১। আলী বন্দি ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে খলিফাকে কী বলেন?
- ক. তার চরিত্র গুরুত্বহীন
- খ. এমন দয়াশীল ব্যক্তি দুরাচার হতে পারেন না
- গ. তিনি সন্দেহজনক চরিত্রের
- ঘ. তার চরিত্র সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন
উত্তর: খ। আলী বলেন, এমন দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক ব্যক্তি কখনো দুরাচার হতে পারেন না; নীচপ্রকৃতির পরহিংসুকরাই তাঁর সর্বনাশ করতে উদ্যত হয়েছে।
৪২। আলীর কথা শুনে খলিফার প্রতিক্রিয়া কী হয়?
- ক. তিনি সিদ্ধান্ত এড়িয়ে যান
- খ. মৌন থেকে বন্দির মুক্তি ঘোষণা করেন
- গ. তিনি আরও ক্রুদ্ধ হন
- ঘ. তিনি আলীকে বহিষ্কার করেন
উত্তর: খ। খলিফা কিছুক্ষণ মৌনাবলম্বন করে অতঃপর প্রসন্ন বদনে বলেন, এমন দয়াশীল ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কথা জেনে তিনি আহ্লাদিত, এবং তাঁকে প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেন।
৪৩। খলিফা বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কৃতিত্ব কাকে দেন?
- ক. মন্ত্রীদের
- খ. আলীকে
- গ. প্রহরীদের
- ঘ. নিজেকে
উত্তর: খ। খলিফা বলেন, বলতে গেলে আলীর কারণেই তাঁর প্রাণরক্ষা হলো।
৪৪। খলিফা মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বিদায়ের সময় কী কী উপহার দেন?
- ক. কোনো উপহার দেননি
- খ. শুধু অর্থ
- গ. শুধু একটি অশ্ব
- ঘ. পরিচ্ছদ, অশ্ব, খচ্চর ও পাথেয়
উত্তর: ঘ। খলিফা তাঁকে মহামূল্য পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত দশ অশ্ব, দশ খচ্চর, দশ উষ্ট্র, ডেমাস্কাসের রাজপ্রতিনিধির নামে অনুরোধপত্র এবং পাথেয়স্বরূপ বহু অর্থ দিয়ে বিদায় করেন।
৪৫। ‘খলিফা’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. প্রতিনিধি বা সর্বপ্রধান শাসনকর্তা
- খ. রাজা
- গ. বিচারক
- ঘ. সেনাপতি
উত্তর: ক। খলিফা অর্থ প্রতিনিধি; হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পরে মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান শাসনকর্তাকে খলিফা বলা হতো, যিনি একাধারে শাসক ও ধর্মনেতা ছিলেন।
৪৬। খলিফা মামুন কে ছিলেন?
- ক. একজন সাধারণ শাসনকর্তা
- খ. প্রথম আব্বাসীয় খলিফা
- গ. একজন সেনাপতি
- ঘ. সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা
উত্তর: ঘ। মামুন (পূর্ণ নাম আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুন, ৭৮৬-৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) ছিলেন সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা এবং খলিফা হারুনর রশীদের দ্বিতীয় পুত্র।
৪৭। ডেমাস্কাস বর্তমানে কোন দেশের রাজধানী?
- ক. লেবানন
- খ. সিরিয়া
- গ. জর্ডান
- ঘ. ইরাক
উত্তর: খ। ডেমাস্কাস (দামেস্ক) বর্তমানে সিরিয়ার রাজধানী।
৪৮। বাগদাদ শহর কে প্রতিষ্ঠা করেন?
- ক. আব্বাসীয় খলিফা মনসুর
- খ. খলিফা হারুনর রশীদ
- গ. খলিফা মামুন
- ঘ. আলী ইবনে আব্বাস
উত্তর: ক। আব্বাসীয় খলিফা মনসুর ৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদ নগরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
৪৯। ‘কোপানল’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. জ্ঞানের আলো
- খ. আনন্দের আগুন
- গ. ক্রোধ বা রাগের আগুন
- ঘ. ভালোবাসার আগুন
উত্তর: গ। কোপানল (কোপ+অনল) অর্থ ক্রোধ বা রাগের আগুন।
৫০। ‘মৌনাবলম্বন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. নীরবতা পালন
- খ. রাগ প্রকাশ করা
- গ. আনন্দ প্রকাশ করা
- ঘ. কথা বলা
উত্তর: ক। মৌনাবলম্বন (মৌন+অবলম্বন) অর্থ নীরবতা পালন করা।
৫১। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই গল্পে কয়জন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
- ক. চারজন
- খ. দুজন মহৎ ব্যক্তি
- গ. তিনজন
- ঘ. একজন
উত্তর: খ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী এই রচনায় দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে— একজন নিঃস্বার্থ উপকারী (আশ্রয়দাতা), অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী (আলী ইবনে আব্বাস)।
৫২। গল্পে খলিফার কোন গুণের পরিচয় পাওয়া যায়?
- ক. তাঁর মহত্ত্ব ও ন্যায়পরায়ণতা
- খ. তাঁর অজ্ঞতা
- গ. তাঁর দুর্বলতা
- ঘ. তাঁর নিষ্ঠুরতা
উত্তর: ক। যদিও প্রথমে ক্রুদ্ধ ছিলেন, আলীর যুক্তিসংগত নিবেদন শুনে খলিফা ক্রোধ সংবরণ করে ন্যায়বিচার করেন— তাঁর এই মহানুভবতা ও উন্নতচিত্ততাই তাঁর মহত্ত্বের পরিচয়।
৫৩। গল্পের মূল শিক্ষা কী?
- ক. সবসময় নিজের স্বার্থ রক্ষা করা উচিত
- খ. বিপদে অন্যকে সাহায্য করা উচিত নয়
- গ. ক্ষমতাবানদের সবসময় ভয় পাওয়া উচিত
- ঘ. উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা উচিত
উত্তর: ঘ। গল্পের মূল শিক্ষা— যিনি একদিন উপকার করেছেন, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা এবং প্রয়োজনে নিজের স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলেও তাঁর পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।
