রানার কবিতার MCQ | SSC বাংলা ১ম পত্রের “রানার” কবিতা থেকে বোর্ড পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে কবিতার সারকথা ও ৪৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ) উত্তর ও ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো। জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য রানার কবিতার নোট দেখুন।
রানার কবিতার সারকথা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
রানার কবিতার কবি কে?
সুকান্ত ভট্টাচার্য (জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯২৬, কালীঘাট, কলকাতা; মৃত্যু ১৩ মে ১৯৪৭)। মাত্র ২০ বছর বয়সে প্রয়াত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও সামাজিক বৈষম্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। প্রধান কাব্যগ্রন্থ: ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল।
রানার কবিতার উৎস
ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
কবিতার মূল বিষয়বস্তু
- ডাক হরকরা রানার রাতের অন্ধকারে খবরের বোঝা নিয়ে নিরন্তর ছুটে চলে, কোনো বাধা মানে না।
- তার দ্রুত, নিঃশব্দ গতি (হরিণের উপমা) নিয়ে ভোরের আগেই শহরে পৌঁছানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা।
- রানারের ক্লান্তি, ঘাম, জীবনের বহু বছর উৎসর্গ করে অন্যের সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার চিত্র।
- রানারের ঘরে অপেক্ষমাণ প্রিয়া, দারিদ্র্য, অন্যের টাকা বহন করেও নিজে ছুঁতে না পারার বৈপরীত্য।
- রানারের নিজের দুঃখের কথা কেউ কোনোদিন জানবে না— শুধু পথের তৃণ ও তারাই তার সাক্ষী।
- কবির বেদনাদায়ক প্রশ্ন— এই বোঝা বয়ে কী লাভ, কবে এই দুঃখের অবসান হবে।
- উপসংহারে আশাবাদী আহ্বান— শপথের চিঠি নিয়ে অগ্রগতির পথে দুর্দম গতিতে এগিয়ে চলার।
রানার কবিতার মূল ভাব কী?
শ্রমজীবী মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও উপেক্ষিত কষ্টের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং একটি ন্যায্য, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদ— এই দুইয়ের সমন্বয়েই কবিতাটি এক অবিস্মরণীয় সামাজিক-মানবিক দলিল হয়ে উঠেছে।
রানার কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
রানার (ডাক হরকরা), দুর্বার (অপ্রতিরোধ্য), লণ্ঠন (তেলের বাতি), মাভৈঃ (ভয় নেই), দুর্দম (অদম্য), ‘ভোর হয়েছে আকাশ হয়েছে লাল’ (প্রতীকী— দুঃখের অবসান ও সুখের আগমন)।
কবি পরিচিতি বিষয়ক MCQ
১। সুকান্ত ভট্টাচার্য কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
- ক. ১৯২৫
- খ. ১৯২৭
- গ. ১৯২৬
- ঘ. ১৯২৪
উত্তর: গ। তিনি ১৫ই আগস্ট, ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে (৩০শে শ্রাবণ, ১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন।
২। সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মস্থান কোথায়?
- ক. ফরিদপুর
- খ. গোপালগঞ্জ
- গ. ঢাকা
- ঘ. কলকাতার কালীঘাট
উত্তর: ঘ। কলকাতার কালীঘাটে তিনি জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।
৩। কোন ঐতিহাসিক ঘটনা কিশোর সুকান্তকে দারুণভাবে স্পর্শ করে?
- ক. ভাষা আন্দোলন
- খ. দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের ধ্বংস ও মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা
- গ. স্বাধীনতা আন্দোলন
- ঘ. প্রথম মহাযুদ্ধ
উত্তর: খ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ধ্বংস ও মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা কিশোর সুকান্তকে দারুণভাবে স্পর্শ করে।
৪। সুকান্তের কবিতায় কী প্রকাশ পেয়েছে?
- ক. ধর্মীয় ভাবাবেগ
- খ. প্রেমের আবেগ
- গ. প্রকৃতির বর্ণনা মাত্র
- ঘ. সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিপীড়িতদের প্রতি মমতা
উত্তর: ঘ। তাঁর কবিতায় সামাজিক অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ এবং নিপীড়িত গণমানুষের প্রতি গভীর মমতার প্রকাশ ঘটেছে।
৫। নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কাব্যগ্রন্থ নয়?
- ক. পূর্বাভাস
- খ. ছাড়পত্র
- গ. ঘুম নেই
- ঘ. চিন্তাতরঙ্গিণী
উত্তর: ঘ। চিন্তাতরঙ্গিণী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা; বাকি তিনটি সুকান্তের কাব্যগ্রন্থ।
৬। সুকান্ত ভট্টাচার্য কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
- ক. ১৯৪৮
- খ. ১৯৪৭
- গ. ১৯৪৬
- ঘ. ১৯৪৫
উত্তর: খ। ১৩ই মে, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে (২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রানার কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)
৭। ‘রানার’ কবিতাটি সুকান্তের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- ক. অভিযান
- খ. ঘুম নেই
- গ. পূর্বাভাস
- ঘ. ছাড়পত্র
উত্তর: ঘ। কবিতাটি কবির ছাড়পত্র কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
৮। কবিতাটি কাদের নিয়ে লেখা?
- ক. কৃষকদের নিয়ে
- খ. শিক্ষকদের নিয়ে
- গ. শ্রমজীবী মানুষ রানারদের (ডাক হরকরাদের) নিয়ে
- ঘ. জেলেদের নিয়ে
উত্তর: গ। কবিতাটি শ্রমজীবী মানুষ রানারদের নিয়ে লেখা, যাদের কাজ চিঠি ও সংবাদ পৌঁছে দেওয়া।
৯। ‘রানার’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. একজন সৈনিক
- খ. একজন কৃষক
- গ. একজন ক্রীড়াবিদ
- ঘ. ডাক হরকরা, যিনি চিঠি বহন করে পৌঁছে দেন
উত্তর: ঘ। ইংরেজি ‘runner’ শব্দের আভিধানিক অর্থ যিনি দৌড়ান, কিন্তু কবিতায় এটি ‘ডাক হরকরা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
১০। কবিতার শুরুতে রানারের ছুটে চলার সাথে কী শব্দ হয়?
- ক. বাঁশি বাজে
- খ. ঢোল বাজে
- গ. ঘণ্টা বাজে
- ঘ. শঙ্খ বাজে
উত্তর: গ। রানার ছুটেছে বলে ঝুমঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে।
১১। রানার হাতে কী নিয়ে চলেছে?
- ক. অর্থ
- খ. খবরের বোঝা
- গ. খাবার
- ঘ. অস্ত্র
উত্তর: খ। রানার খবরের বোঝা হাতে নিয়ে চলেছে।
১২। রাত্রির পথে চলতে রানার কী মানে না?
- ক. আইন
- খ. দূরত্ব
- গ. সময়
- ঘ. কোনো নিষেধ
উত্তর: ঘ। রাত্রির পথে পথে চলতে রানার কোনো নিষেধ মানার নিয়ম জানে না— নির্ভীক ও অবিচল তার যাত্রা।
১৩। রানার কী কাজ নিয়েছে বলে কবিতায় বলা হয়েছে?
- ক. রক্ষণাবেক্ষণের কাজ
- খ. নতুন খবর আনার কাজ
- গ. যাত্রী পরিবহনের কাজ
- ঘ. পণ্য পরিবহনের কাজ
উত্তর: খ। রানার নতুন খবর আনার কাজ নিয়েছে— দিগন্ত থেকে দিগন্তে সে ছোটে।
১৪। রানারের কাঁধে আজ কীসের বোঝা?
- ক. জানা-অজানার বোঝা
- খ. খাদ্যের বোঝা
- গ. শুধু চিঠির বোঝা
- ঘ. অর্থের বোঝা
উত্তর: ক। রানারের কাঁধে আজ জানা-অজানার বোঝা— অর্থাৎ মানুষের বিচিত্র সুখ-দুঃখের সংবাদের ভার।
১৫। রানারকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা চিঠি ও সংবাদ বহন করে চলেছে?
- ক. একটি ট্রেনের সাথে
- খ. বোঝাই জাহাজের সাথে
- গ. একটি বিমানের সাথে
- ঘ. একটি নদীর সাথে
উত্তর: খ। রানারকে বোঝাই জাহাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যে চিঠি ও সংবাদ বহন করে নিরলস চলেছে।
১৬। রানারকে কী কী বিশেষণে বর্ণনা করা হয়েছে?
- ক. ভীত ও সংকুচিত
- খ. দুর্বল ও ক্লান্ত
- গ. দুর্বার দুর্জয়
- ঘ. অলস ও শান্ত
উত্তর: গ। রানারকে দুর্বার দুর্জয় (অপ্রতিরোধ্য, অপরাজেয়) বিশেষণে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৭। রানারের ছুটে চলার সাথে বনের কী হয় বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. বন স্থির থাকে
- খ. বন এগিয়ে আসে
- গ. বন তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায়
- ঘ. বন অদৃশ্য হয়ে যায়
উত্তর: গ। তার জীবনের স্বপ্নের মতো বন পিছে সরে যায়— রানারের দ্রুত গতির কাব্যিক বর্ণনা।
১৮। রানারের গতিকে কোন প্রাণীর সাথে তুলনা করা হয়েছে?
- ক. ঘোড়ার সাথে
- খ. খরগোশের সাথে
- গ. বাঘের সাথে
- ঘ. হরিণের সাথে
উত্তর: ঘ। রানারের দ্রুত, নিঃশব্দ গতিকে হরিণের সাথে তুলনা করা হয়েছে— ‘কেমন করে এ রানার সবেগে হরিণের মতো যায়!’
১৯। আকাশের তারারা রানারকে দেখে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?
- ক. বিরক্ত হয়
- খ. উদাসীন থাকে
- গ. আলো নিভিয়ে দেয়
- ঘ. অবাক হয়ে মিটমিট করে চায়
উত্তর: ঘ। অবাক রাতের তারারা আকাশে মিটমিট করে রানারের দিকে তাকিয়ে থাকে— তার অসাধারণ গতির প্রতি তাদের বিস্ময়।
২০। রানার কখন শহরে পৌঁছাবে বলে বলা হয়েছে?
- ক. দুপুরে
- খ. ভোরে
- গ. মধ্যরাতে
- ঘ. সন্ধ্যায়
উত্তর: খ। কত গ্রাম কত পথ পার হয়ে শহরে রানার ভোরে অবশ্যই পৌঁছাবে বলে বলা হয়েছে।
২১। রানারের হাতে কী থাকে, যা ঠনঠন করে বাজে?
- ক. একটি লাঠি
- খ. একটি বাঁশি
- গ. একটি ঘণ্টা
- ঘ. একটি লণ্ঠন
উত্তর: ঘ। রানারের হাতে লণ্ঠন থাকে, যা ঠনঠন করে বাজে; জোনাকিরাও তাকে সাথে আলো দেয়।
২২। ‘মাভৈঃ রানার!’ বলার অর্থ কী?
- ক. সাবধানে যাও
- খ. থেমে যাও
- গ. ভয় পেয়ো না
- ঘ. দ্রুত এসো
উত্তর: গ। মাভৈঃ অর্থ ভয় নেই বা ভয় পেয়ো না— রানারকে সাহস জোগানোর আহ্বান।
২৩। রানার তার ‘পৃথিবীর বোঝা’ কোথায় পৌঁছে দেয়?
- ক. ‘মেলে’ (ডাকঘরে)
- খ. মন্দিরে
- গ. ঘরে
- ঘ. থানায়
উত্তর: ক। ক্ষুধিত রানার তার জীবনের বহু বছর পিছনে ফেলে পৃথিবীর বোঝা ‘মেলে’ (ডাকঘরে) পৌঁছে দিয়েছে।
২৪। রানারের ক্লান্ত অবস্থা কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. সে সহজেই কাজ শেষ করে
- খ. সে সবসময় হাসিখুশি থাকে
- গ. ক্লান্তশ্বাস আকাশ ছুঁয়েছে, মাটি ঘামে ভিজে গেছে
- ঘ. তার কোনো ক্লান্তি নেই
উত্তর: গ। রানারের ক্লান্তশ্বাস আকাশ ছুঁয়েছে, তার ঘামে মাটি ভিজে গেছে— তীব্র পরিশ্রমের চিত্র।
২৫। রানারদের জীবনের সব রাত্রি সম্পর্কে কবি কী বলেন?
- ক. তারা জীবনের সব রাত্রিকে অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে
- খ. তাদের কোনো রাত্রি নেই
- গ. তাদের রাত্রি বিশ্রামের
- ঘ. তারা প্রচুর অর্থ পায়
উত্তর: ক। কবি বলেন, জীবনের সব রাত্রিকে তারা অল্প দামে ‘কিনেছে’ (বিক্রি করে দিয়েছে)— তাদের শ্রমের অবমূল্যায়নের প্রতি ইঙ্গিত।
২৬। রানারের ঘরে কে অপেক্ষা করে?
- ক. তার বন্ধুরা
- খ. তার প্রিয়া, একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে
- গ. তার প্রতিবেশীরা
- ঘ. তার সন্তান
উত্তর: খ। ঘরে রানারের প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে— অনেক দুঃখ, বেদনা, অভিমান ও অনুরাগে।
২৭। কবি রানারকে কোন প্রশ্ন করেন এই বোঝা বহন সম্পর্কে?
- ক. সে কেন এই কাজ বেছে নিয়েছে
- খ. তার পরিবার কোথায়
- গ. এই বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে
- ঘ. কত টাকা আয় হয়
উত্তর: গ। কবি প্রশ্ন করেন, এই বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে, রাত শেষ হয়ে সূর্য কবে উঠবে।
২৮। রানারের ঘরে কী অবস্থা বিরাজ করে?
- ক. আনন্দ-উৎসব
- খ. প্রাচুর্য
- গ. অভাবের কারণে পৃথিবী তার কাছে কালো ধোঁয়ার মতো লাগে
- ঘ. সুখ-শান্তি
উত্তর: গ। রানারের ঘরে অভাব থাকায় পৃথিবীটা তার কাছে কালো ধোঁয়ার মতো মনে হয়।
২৯। রানারের পিঠে কীসের বোঝা থাকে, যা সে ছুঁতে পারে না?
- ক. বইয়ের বোঝা
- খ. খাদ্যের বোঝা
- গ. অস্ত্রের বোঝা
- ঘ. টাকার বোঝা
উত্তর: ঘ। রানারের পিঠে টাকার বোঝা থাকে (মানি-অর্ডার), তবু এই টাকা সে ছুঁতে পারে না— নিজের দারিদ্র্যের বৈপরীত্যে অন্যের অর্থ বহন করার করুণ চিত্র।
৩০। রাতের পথে রানারের কী কী ভয় থাকে?
- ক. কোনো ভয় নেই তার
- খ. দস্যুর ভয়, আর তার চেয়েও বড় ভয় কখন সূর্য উঠবে
- গ. শুধু অন্ধকারের ভয়
- ঘ. শুধু পশুর ভয়
উত্তর: খ। রানারের দস্যুর ভয় আছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভয় সময়মতো পৌঁছাতে না পারার— কখন সূর্য উঠবে সেই দুশ্চিন্তা তাকে আরও তাড়া করে।
৩১। মানুষ কী কী বিষয়ে চিঠি লেখে বলে কবিতায় উল্লেখ আছে?
- ক. শুধু ব্যবসায়িক বিষয়ে
- খ. সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, দুঃখে ও শোকে
- গ. শুধু রাজনৈতিক বিষয়ে
- ঘ. শুধু সরকারি বিষয়ে
উত্তর: খ। মানুষ সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, দুঃখে ও শোকে— নানা বিষয়ে চিঠি লেখে বলে কবি উল্লেখ করেন।
৩২। রানারের নিজের দুঃখের চিঠি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
- ক. সেটি কেউ পড়বে
- খ. সেটি প্রকাশিত হবে
- গ. সেটি হারিয়ে যাবে
- ঘ. তা কেউ কোনোদিনও পড়বে না, শুধু পথের তৃণ জানবে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, রানারের নিজের দুঃখের চিঠি কেউ কোনোদিনও পড়বে না— তার জীবনের দুঃখ শুধু পথের তৃণই জানবে।
৩৩। রানারের দুঃখের কথা কোথায় ঢাকা পড়ে থাকবে বলে কবি বলেন?
- ক. একটি সংবাদপত্রে
- খ. একটি ডায়েরিতে
- গ. একটি বইয়ের মধ্যে
- ঘ. কালো রাত্রির খামে
উত্তর: ঘ। কবি বলেন, রানারের দুঃখের কথা কালো রাত্রির খামে চিরকাল ঢাকা পড়ে থাকবে— তার নিজের কষ্ট কারো জানার নয়।
**৩৪। রানারের প্রতি সহানুভূতি নিয়ে নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করো —**
i. তারার চোখে দরদ কাঁপে, মিটিমিটি করে
ii. রানারের দুঃখের কথা শহর ও গ্রামের মানুষ জানে
iii. কবি প্রশ্ন তোলেন কে রানারকে সহানুভূতির চিঠি পাঠাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
**উত্তর: খ।** প্রথম ও তৃতীয় তথ্য কবিতার বর্ণনার সাথে মেলে, কিন্তু কবি স্পষ্ট বলেছেন রানারের দুঃখের কথা শহরে-গ্রামে কেউ জানবে না— তাই দ্বিতীয় তথ্যটি ভুল।
৩৫। কবি রানারকে জিজ্ঞেস করেন এই বোঝা বয়ে কী লাভ?
- ক. এটি একটি সহজ কাজ বলে
- খ. এই প্রশ্নটি রানারের কষ্টের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করে
- গ. এটি রানারের পছন্দের কাজ বলে
- ঘ. প্রচুর অর্থ পাওয়া যায় বলে
উত্তর: খ। ‘কী হবে এ বোঝা বয়ে? কী হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে?’— এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়ে কবি রানারের নিরন্তর কষ্টের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
৩৬। কবিতার শেষাংশে ‘ভোর হয়েছে, আকাশ হয়েছে লাল’ বলার প্রতীকী অর্থ কী?
- ক. একটি যুদ্ধের সূচনা
- খ. শুধু সূর্যোদয়ের বর্ণনা
- গ. কষ্টের কালিমা দূর হয়ে সুখের সোনালি আলোর আগমনের প্রতীক
- ঘ. একটি বিপদের সংকেত
উত্তর: গ। টীকা অনুযায়ী বাচ্যার্থে এটি সূর্যোদয় বোঝালেও প্রতীকী অর্থে এটি কষ্টের কালিমা দূরীভূত হয়ে সুখের সোনালি আলোর আগমনকে নির্দেশ করে।
৩৭। কবিতার শেষে রানারকে কোন নতুন খবর আনার কথা বলা হয়েছে?
- ক. দুর্ভিক্ষের খবর
- খ. শপথের চিঠি, অগ্রগতির দিকে যাওয়ার বার্তা
- গ. ব্যক্তিগত কোনো খবর
- ঘ. যুদ্ধের খবর
উত্তর: খ। কবিতার শেষে রানারকে শপথের চিঠি নিয়ে, ভীরুতা পিছনে ফেলে অগ্রগতির ‘মেলে’ নতুন খবর পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে— এটি একটি প্রতীকী, আশাবাদী আহ্বান।
৩৮। কবিতার একেবারে শেষ পঙক্তিতে রানারকে কোন বিশেষণে সম্বোধন করা হয়েছে?
- ক. দুর্দম
- খ. দুর্বল
- গ. ভীত
- ঘ. ক্লান্ত
উত্তর: ক। কবিতার শেষে রানারকে ‘দুর্দম’ (যাকে দমন করা যায় না) বিশেষণে সম্বোধন করে আরও বেগে ছুটে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩৯। ‘দুর্বার’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. দুর্বল
- খ. ক্লান্ত
- গ. যাকে নিবারণ করা যায় না
- ঘ. ভীত
উত্তর: গ। দুর্বার অর্থ যাকে নিবারণ বা থামানো যায় না।
৪০। ‘হরিণের মতো যায়’ উপমাটি কী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
- ক. রানারের সৌন্দর্য
- খ. হরিণের মতো নিঃশব্দে কিন্তু অতি দ্রুত রানারের চলা
- গ. রানারের ভীরুতা
- ঘ. রানারের ক্ষুধা
উত্তর: খ। টীকা অনুযায়ী হরিণ যেমন নিঃশব্দে কিন্তু অতি দ্রুত দৌড়ায়, রানারও তেমনি— এই উপমার মাধ্যমে রানারের গতির বৈশিষ্ট্য বোঝানো হয়েছে।
৪১। ‘লণ্ঠন’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. হারিকেন বা তেল দিয়ে চালিত আলোর আধার
- খ. একটি বাদ্যযন্ত্র
- গ. একটি অস্ত্র
- ঘ. একটি পাত্র
উত্তর: ক। লণ্ঠন অর্থ হারিকেন বা তেল দিয়ে চালিত আলোর আধার।
৪২। ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী?
- ক. ভয় নেই
- খ. থামো
- গ. ফিরে এসো
- ঘ. দ্রুত যাও
উত্তর: ক। মাভৈঃ অর্থ ভয় নেই— রানারকে সাহস জোগানোর আহ্বানসূচক শব্দ।
৪৩। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী রানারদের কাজ কী?
- ক. গ্রাহকদের কাছে ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় চিঠি পৌঁছে দেওয়া
- খ. খাদ্য সরবরাহ
- গ. যাত্রী পরিবহন
- ঘ. পণ্য পরিবহন
উত্তর: ক। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী রানারদের কাজ গ্রাহকদের কাছে ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় চিঠি পৌঁছে দেওয়া।
৪৪। রানাররা কেন এতটা দায়িত্বশীল বলে বর্ণিত হয়েছে?
- ক. তারা বেশি বেতন পায় বলে
- খ. তাদের কোনো পরিবার নেই বলে
- গ. তারা প্রতিযোগিতায় জড়িত বলে
- ঘ. রাত বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কাজের বাধা হয় না বলে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী রাত হোক, দুর্গম পথ হোক, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হোক— কোনো কিছুই রানারদের কাজের বাধা হয়ে ওঠে না, নিরন্তর তাদের এই কাজ করে যেতে হয়।
৪৫। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী চিঠি মানে কী?
- ক. শুধু সরকারি নথি
- খ. শুধু আইনি কাগজপত্র
- গ. শুধু ব্যবসায়িক লেনদেন
- ঘ. সুখ-দুঃখের সংবাদ, যার জন্য প্রিয়জনরা অপেক্ষা করে
উত্তর: ঘ। পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী চিঠি মানেই সুখে-আনন্দে, দুঃখে-শোকে ভরা সংবাদ, যার জন্য প্রিয়জনরা অপেক্ষায় থাকে।
৪৬। কবিতায় রানারের ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ ও তার পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে কী বৈপরীত্য দেখানো হয়েছে?
- ক. অন্যের খবর বহন করলেও রানারের নিজের দুঃখ কেউ জানে না
- খ. কোনো বৈপরীত্য নেই
- গ. রানার নিজের দুঃখ প্রকাশ করে বেড়ায়
- ঘ. রানারের কোনো ব্যক্তিগত দুঃখ নেই
উত্তর: ক। কবিতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী বৈপরীত্য এখানেই— রানার প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সুখ-দুঃখের খবর বহন করে, অথচ তার নিজের গভীর দুঃখ-বেদনার কথা কেউ কোনোদিন জানে না বা শোনে না।
৪৭। রানারের পিঠে বহন করা ‘টাকার বোঝা’ ছুঁতে না পারার বিষয়টি কী প্রতিফলিত করে?
- ক. টাকা তার কাছে গুরুত্বহীন
- খ. শ্রমজীবী মানুষ যা বহন করে তার ভোগের অধিকার তার থাকে না
- গ. রানার সৎ নয়
- ঘ. এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা মাত্র
উত্তর: খ। এই চিত্রটি শ্রমজীবী মানুষের এক গভীর সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে— যে সম্পদ তারা বহন করে বা উৎপাদন করে, তার ভোগের অধিকার প্রায়ই তাদের নিজেদের থাকে না।
৪৮। কবিতার শেষাংশের আশাবাদী আহ্বান (‘অগ্রগতির মেলে’) দিয়ে কবি কী বার্তা দিতে চেয়েছেন?
- ক. অগ্রগতি কখনো আসবে না
- খ. রানারদের কষ্ট কখনো শেষ হবে না
- গ. শ্রমজীবীদের ত্যাগের মধ্য দিয়েই অগ্রগতি ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে
- ঘ. রানারদের পেশা পরিবর্তন করা উচিত
উত্তর: গ। কবি আশাবাদী বার্তা দেন যে, শ্রমজীবী মানুষের এই নিরলস ত্যাগ ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই একদিন সামাজিক অগ্রগতি, ন্যায্যতা ও একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হবে।
জামাল একজন ডেলিভারি কর্মী, প্রতিদিন রাত-দিন ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের কাছে জরুরি পণ্য পৌঁছে দেন। মানুষ তার সেবা ভোগ করলেও তার নিজের কষ্ট, পরিবারের প্রতি অবহেলার কথা কেউ জানে না বা ভাবে না।
৪৯। জামালের পরিস্থিতির সাথে ‘রানার’ কবিতার রানারের কোন দিকটির মিল সবচেয়ে বেশি?
- ক. তার আর্থিক স্বচ্ছলতা
- খ. তার কর্মঘণ্টা কম হওয়া
- গ. অক্লান্ত পরিশ্রম করেও নিজের কষ্ট ও ত্যাগ অগোচরে থেকে যাওয়া
- ঘ. তার সামাজিক মর্যাদা
উত্তর: গ। জামাল যেমন রাত-দিন পরিশ্রম করেও তার নিজের কষ্ট ও ত্যাগ কারো নজরে পড়ে না, রানারও তেমনি অন্যের সংবাদ বহন করেও নিজের দুঃখ-বেদনা চিরকাল অগোচরেই থেকে যায়।
৫০। জামাল ও রানারের এই সাদৃশ্য থেকে আধুনিক সমাজ সম্পর্কে কোন সত্য উঠে আসে?
- ক. প্রযুক্তির উন্নতিতে এই সমস্যা দূর হয়েছে
- খ. সব পেশার মানুষ সমানভাবে মূল্যায়িত হয়
- গ. এই সমস্যা শুধু অতীতের
- ঘ. শ্রমজীবীদের অবদান অদৃশ্য থাকলেও সমাজ তাদের ওপর নির্ভরশীল
উত্তর: ঘ। জামাল ও রানারের সাদৃশ্য প্রমাণ করে, যুগ পরিবর্তন হলেও শ্রমজীবী মানুষদের নিরলস অবদান প্রায়ই সমাজে অদৃশ্য বা অস্বীকৃত থেকে যায়, যদিও সমাজের প্রতিটি স্তর তাদের সেবার ওপর নির্ভরশীল— এই সত্য কালোত্তীর্ণ।
