সেইদিন এই মাঠ কবিতার নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “সেইদিন এই মাঠ” কবিতার জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য সেইদিন এই মাঠ কবিতার MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
জীবনানন্দ দাশ ও সেইদিন এই মাঠ কবিতাের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
জীবনানন্দ দাশ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবনানন্দ দাশের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান বরিশাল শহর।
জীবনানন্দ দাশের মাতার নাম কী?
তাঁর মাতার নাম কুসুমকুমারী দাশ, যিনি নিজেও একজন স্বভাবকবি ছিলেন।
জীবনানন্দ দাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন।
জীবনানন্দ দাশ কীভাবে মৃত্যুবরণ করেন?
কলকাতায় ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জীবনানন্দ দাশ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
কবি জানেন তাঁর মৃত্যুর পরও কী স্তব্ধ হবে না?
মাঠ, নদী ও প্রকৃতির স্বপ্ন দেখা স্তব্ধ হবে না।
জীবনানন্দ দাশ প্রধানত কোন ধরনের কবি হিসেবে পরিচিত?
তিনি প্রধানত আধুনিক জীবনচেতনার কবি হিসেবে পরিচিত।
জীবনানন্দ দাশের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ কেমন?
কবির দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এক অনন্য রূপসী, যার গাছপালা-লতাগুল্ম-ফুল-পাখি তাঁর আজন্ম প্রিয়।
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
অগ্নিবীণা কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ।
কবি নিজের মৃত্যুর পরও কী অব্যাহত থাকবে বলে প্রশ্ন তোলেন?
কবি প্রশ্ন করেন, তিনি চলে গেলেও চালতাফুল কি শিশিরের জলে ভিজবে না, লক্ষ্মীপেঁচা কি তার লক্ষ্মীটির জন্য গান গাইবে না— এই প্রশ্নগুলোর অন্তর্নিহিত উত্তর হলো, প্রকৃতি অবশ্যই চলতে থাকবে।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিপ্রেমের কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
কবি চালতাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, খেয়ানৌকার মতো প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষুদ্র উপাদান নিয়ে গভীর মমত্ব ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ প্রদর্শন করেছেন— তাঁর প্রকৃতিপ্রেমের এই বৈশিষ্ট্যই কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।
সেইদিন এই মাঠ কবিতাের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
এটি রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার মূল বিষয় কী?
ব্যক্তিমানুষের মৃত্যুর অনিবার্যতা ও প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ও সহাবস্থান।
কোন ফুল শিশিরে ভিজবে বলে কবি বলেন?
চালতাফুল শিশিরে ভিজবে।
কোন পাখি তার সঙ্গিনীর জন্য গান গাইবে?
লক্ষ্মীপেঁচা তার সঙ্গিনীর জন্য গান গাইবে।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় কোন সময়ের শান্ত পরিবেশের বর্ণনা আছে?
সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশের বর্ণনা আছে।
খেয়ানৌকা কোথায় ভিড়বে বলে সেইদিন এই মাঠ কবিতায় বলা হয়েছে?
নদীর চরে খেয়ানৌকা ভিড়বে।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় কোন দুটি প্রাচীন সভ্যতার উল্লেখ আছে?
এশিরিয়া ও ব্যাবিলন সভ্যতার উল্লেখ আছে।
এই সভ্যতাগুলোর বর্তমান অবস্থা কী বলা হয়েছে?
এশিরিয়া ধুলো হয়ে গেছে, ব্যাবিলন ছাই হয়ে আছে।
মানুষের সভ্যতার বিপরীতে প্রকৃতির কী অবস্থা বলা হয়েছে?
প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় থাকে।
‘স্তব্ধ’ শব্দের অর্থ কী?
স্তব্ধ অর্থ নীরব বা গতিহীন।
‘খেয়ানৌকা’ শব্দের অর্থ কী?
খেয়ানৌকা অর্থ পারাপারের নৌকা।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার মূল ভাব কী?
ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু অনিবার্য হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীবনের ধারাবাহিকতার কোনো মৃত্যু নেই।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার প্রথম পঙক্তিতে কবি কী জানেন বলে বলেন?
কবি বলেন, তিনি জানেন সেদিন (তিনি চলে যাওয়ার পরও) এই মাঠ স্তব্ধ হবে না— অর্থাৎ প্রকৃতি তার প্রাণবন্ততা হারাবে না।
নদী নক্ষত্রের তলে সেদিনও কী করবে বলে কবি বলেন?
কবি বলেন, নক্ষত্রের তলে এই নদীও সেদিন স্বপ্ন দেখবে— প্রকৃতির চিরন্তন জীবন্ততার প্রতীক।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার পুনরাবৃত্ত পঙক্তি (ধুয়া/রিফ্রেইন) কোনটি?
‘সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!’ পঙক্তিটি কবিতায় দুইবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে, একটি ধুয়ার মতো।
‘সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!’ পঙক্তিটির ভাবার্থ কী?
এটি একটি অলংকারিক প্রশ্ন, যার অন্তর্নিহিত অর্থ— পৃথিবীতে সুন্দর স্বপ্নের আকাঙ্ক্ষা কখনো শেষ হয় না, তা চিরন্তন।
‘লক্ষ্মীপেঁচা’ কার জন্য গান গায় বলে কবি উল্লেখ করেন?
কবি বলেন লক্ষ্মীপেঁচা তার লক্ষ্মীটির (সঙ্গিনী) তরে গান গায়— প্রকৃতির মধ্যে থাকা মমত্ব ও স্নেহের এক অনুপম চিত্র।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় ‘চারিদিকে শান্ত বাতি’র বর্ণনার সাথে আর কী উল্লেখ আছে?
কবি বলেন, চারিদিকে শান্ত বাতি, ভিজে গন্ধ, মৃদু কলরব— একটি প্রশান্ত, স্নিগ্ধ সান্ধ্য পরিবেশের বর্ণনা।
খেয়া নৌকাগুলো কোথায় এসে লেগেছে বলে কবি বর্ণনা করেন?
খেয়া নৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে লেগেছে— গ্রামবাংলার নিত্যদিনের চিত্র।
পৃথিবীর এইসব গল্প সম্পর্কে কবি কী বলেন?
কবি বলেন, পৃথিবীর এইসব গল্প (প্রকৃতির নিত্যকার ছোট ছোট ঘটনা) চিরকাল বেঁচে থাকবে।
এশিরিয়া ও ব্যাবিলন সভ্যতার বর্তমান অবস্থা কী বলে কবি বর্ণনা করেন?
কবি বলেন, এশিরিয়া আজ ধুলো, ব্যাবিলন ছাই হয়ে আছে— মানুষের তৈরি মহান সভ্যতাও কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে যায়।
মানুষের সভ্যতার ধ্বংসের বিপরীতে কবি কী তুলে ধরেন?
টীকা অনুযায়ী মানুষের গড়া সভ্যতা ধ্বংস হলেও প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময় থাকে— এই বৈপরীত্যই কবিতার মূল ভাবনা।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সভ্যতা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু, অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ (পুনর্গঠন)।
মরণশীল ব্যক্তিমানুষের বিপরীতে প্রকৃতিতে কী থাকে বলে পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে?
মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেও প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পৃথিবীর বহমানতা কী করতে পারে না?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী পৃথিবীর বহমানতা মানুষের সাধারণ মৃত্যু রহিত করতে পারে না— মৃত্যু অনিবার্য, তবু জগতের সৌন্দর্য অব্যাহত থাকে।
‘লক্ষ্মীপেঁচা’ কী?
লক্ষ্মীপেঁচা একটি পেঁচাজাতীয় পাখি, যা বাংলা সংস্কৃতিতে দেবী লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে শুভ বলে বিবেচিত।
কবিতাটি সামগ্রিকভাবে কোন সুর ধারণ করে— আশাবাদী নাকি হতাশাবাদী?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি গভীর জীবনতৃষ্ণা নিয়ে রচিত— নিজের মৃত্যুর অনিবার্যতা মেনে নিয়েও প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যে কবির যে গভীর তৃপ্তি ও আস্থা, তা কবিতাকে হতাশাবাদী নয় বরং এক গভীর জীবনমুখী তাৎপর্য দিয়েছে।
মিতালির উপলব্ধির সাথে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার কোন ভাবের মিল সবচেয়ে বেশি?
কবি যেমন নিজের মৃত্যুর পরও চালতাফুল-লক্ষ্মীপেঁচার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকবে বলে বিশ্বাস করেন, মিতালিও তেমনি নিজের মৃত্যু মেনে নিয়েও প্রকৃতির চিরস্থায়ী সৌন্দর্যে গভীর আস্থা রাখেন— উভয়ের মধ্যেই এই সুন্দর মিল লক্ষণীয়।
কবিতাটি কোন কাব্যরীতিতে রচিত বলে মনে হয়?
কবিতাটি মুক্তক, আধুনিক গদ্যছন্দে রচিত, যেখানে পঙক্তির দৈর্ঘ্য অসম এবং ভাবের স্বাভাবিক প্রবাহ অনুসরণ করা হয়েছে— জীবনানন্দের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আধুনিক কাব্যশৈলীর পরিচায়ক।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার দুইবার ব্যবহৃত ধুয়া-পঙক্তিটির কাব্যিক কার্যকারিতা কী?
পুনরাবৃত্ত পঙক্তিটি কবিতার কেন্দ্রীয় জিজ্ঞাসা ও আবেগকে জোরালোভাবে পাঠকের মনে প্রতিধ্বনিত করে, কবিতাকে একটি সংগীতময় কাঠামো দেয়।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় ‘নক্ষত্রের তলে’ বাক্যাংশটি কী পরিবেশ তৈরি করে?
‘নক্ষত্রের তলে’ বাক্যাংশটি রাতের এক নির্জন, বিস্তৃত মহাজাগতিক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে নদী ও প্রকৃতি স্বপ্ন দেখে চলে— মহাকালের সাথে ক্ষুদ্র মানবজীবনের তুলনা এখানে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় ‘নরম গন্ধের ঢেউ’ বাক্যাংশটি কোন ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে?
‘নরম গন্ধের ঢেউ’ ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে— চালতাফুলের কোমল সুবাস তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ার কাব্যিক বর্ণনা।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় দৃশ্য, ঘ্রাণ ও শব্দের সমন্বয়ে কী তৈরি হয়েছে?
দৃশ্য (শান্ত বাতি, খেয়ানৌকা), ঘ্রাণ (ভিজে গন্ধ, চালতাফুলের সুবাস) ও শব্দ (মৃদু কলরব, পেঁচার গান)-এর সমন্বয়ে কবি প্রকৃতির এক সামগ্রিক, জীবন্ত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য চিত্র নির্মাণ করেছেন।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় ‘বাংলার প্রকৃতি’ ও ‘বিশ্ব-ইতিহাস’ (এশিরিয়া-ব্যাবিলন)-এর মধ্যে যে বৈপরীত্য দেখানো হয়েছে, তার কাব্যিক উদ্দেশ্য কী?
ক্ষুদ্র, স্থানীয় প্রকৃতির (চালতাফুল, পেঁচা, খেয়ানৌকা) নিরবচ্ছিন্ন স্থায়িত্বকে বিশাল বিশ্ব-সভ্যতার (এশিরিয়া, ব্যাবিলন) ধ্বংসের বিপরীতে স্থাপন করে কবি প্রকৃতির শাশ্বত মূল্যকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
কবিতাটি পাঠককে জীবন সম্পর্কে কোন গভীরতর প্রশ্নে ভাবিয়ে তোলে?
কবিতাটি পাঠককে ভাবায়— ব্যক্তিগত অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা ও ক্ষণস্থায়িত্বের মুখোমুখি হয়েও কীভাবে প্রকৃতির অসীম, চিরন্তন ধারাবাহিকতার মধ্যে অর্থ ও সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া যায়।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় ব্যবহৃত চিত্রকল্পগুলো (চালতাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, খেয়ানৌকা) কোন ধরনের জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে?
চালতাফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, খেয়ানৌকার মতো চিত্রকল্পগুলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী, প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে, যা জীবনানন্দের কবিতায় বারবার ফিরে আসা একটি বৈশিষ্ট্য।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
সেইদিন এই মাঠ কবিতাের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
কবির নিজের মৃত্যুর পরও প্রকৃতি অব্যাহত থাকার আশ্বাসের তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই আশ্বাসের মাধ্যমে কবি ব্যক্তিগত মৃত্যুর ভীতি অতিক্রম করে এক গভীর প্রশান্তি লাভ করেন— তিনি না থাকলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য অব্যাহত থাকবে এই উপলব্ধিই তাঁকে সান্ত্বনা দেয়।
কবিতাটি কীভাবে মৃত্যুচেতনা ও জীবনতৃষ্ণার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে— ব্যাখ্যা করো।
কবি নিজের মৃত্যুর অনিবার্যতা স্বীকার করেও তাতে হতাশ না হয়ে, বরং প্রকৃতির অব্যাহত সৌন্দর্যে গভীর আনন্দ ও তৃপ্তি খুঁজে পান— এই ভারসাম্যই কবিতাকে গভীরতা দিয়েছে।
কবিতাটি মৃত্যু নিয়ে প্রচলিত ভীতিকর দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ করে— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি মৃত্যুকে ভীতিকর বা অন্তিম বিপর্যয় হিসেবে না দেখিয়ে, বরং জীবনের বৃহত্তর, চিরন্তন ধারাবাহিকতার একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে, যা পাঠকের মনে এক প্রশান্ত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
এই ধরনের উপলব্ধি মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে কীভাবে সাহায্য করে?
ব্যক্তিগত অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেও প্রকৃতি ও জীবনের চিরন্তন ধারাবাহিকতায় নিজের অংশগ্রহণের উপলব্ধি মানুষকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে এক ধরনের গভীর প্রশান্তি ও অর্থবোধ এনে দিতে পারে।
সেইদিন এই মাঠ কবিতাের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
চালতাফুল ও লক্ষ্মীপেঁচার উল্লেখের কাব্যিক তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই ক্ষুদ্র, নিত্যকার প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোর মাধ্যমে কবি দেখান জীবনের সবচেয়ে সাধারণ মুহূর্তগুলোও কতটা সুন্দর ও মূল্যবান— এই বিবরণ কবিতাকে গভীর জীবনতৃষ্ণায় পূর্ণ করে তোলে।
সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশ ও খেয়ানৌকার বর্ণনা কী প্রভাব তৈরি করে— ব্যাখ্যা করো।
এই বর্ণনা গ্রামবাংলার নিত্যদিনের, চিরন্তন জীবনছন্দের এক প্রশান্ত চিত্র তুলে ধরে, যা মৃত্যুর অনিবার্যতার বিপরীতে জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
এশিরিয়া ও ব্যাবিলনের উদাহরণ দেওয়ার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই দুই প্রাচীন, শক্তিশালী সভ্যতার ধ্বংসের উদাহরণ দিয়ে কবি দেখান মানুষের সবচেয়ে গর্বিত কীর্তিও সময়ের কাছে পরাজিত হয়, কিন্তু প্রকৃতি তার সৌন্দর্য নিয়ে টিকে থাকে— এটাই কবিতার গভীরতম দার্শনিক উপলব্ধি।
মানুষের সভ্যতা ও প্রকৃতির মধ্যে কবি কোন বৈপরীত্য তুলে ধরেন— ব্যাখ্যা করো।
কবি দেখান মানুষের নির্মিত সভ্যতা যতই শক্তিশালী হোক না কেন তা ক্ষণস্থায়ী ও ধ্বংসের অধীন, কিন্তু প্রকৃতি— তার ফুল, পাখি, নদী— চিরন্তন ও অক্ষয়— এই বৈপরীত্যই কবিতার কেন্দ্রীয় দার্শনিক বার্তা।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় ব্যবহৃত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিবরণ (গন্ধ, দৃশ্য, শব্দ) এর কার্যকারিতা কী— ব্যাখ্যা করো।
শিশির, ভিজে গন্ধ, পাখির ডাক ইত্যাদি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিবরণ পাঠককে প্রকৃতির সাথে সরাসরি সংযুক্ত করে, যা কবিতার আবেগীয় গভীরতা ও বাস্তবতাকে আরও জোরালো করে তোলে।
কবিতাটি সামগ্রিকভাবে পাঠকের মনে কোন অনুভূতি জাগিয়ে তোলে— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি পাঠকের মনে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও প্রকৃতি ও জীবনের ধারাবাহিকতার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশান্ত আস্থা জাগিয়ে তোলে— এটিই কবিতার সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক অর্জন।
কবিতাটি পাঠককে কোন জীবনদর্শন শেখায়— ব্যাখ্যা করো।
কবিতাটি শেখায়, ব্যক্তিগত মৃত্যুর ভয়ে আচ্ছন্ন না থেকে প্রকৃতি ও জীবনের চিরন্তন সৌন্দর্যে আস্থা রাখা এবং বর্তমান মুহূর্তের ক্ষুদ্র সৌন্দর্যগুলোকেও গভীরভাবে উপলব্ধি করা প্রকৃত প্রজ্ঞার পরিচয়।
‘চালতাফুল’ শিশিরের জলে ভেজার বর্ণনা কী প্রকাশ করে?
টীকা অনুযায়ী শিশিরের জলে চালতা ফুল ভেজার মধ্য দিয়ে যে রহস্যময় সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়, যুগ-যুগান্তে তার কোনো শেষ নেই— এটি প্রকৃতির শাশ্বত সৌন্দর্যের প্রতীক।
সেইদিন এই মাঠ কবিতায় সভ্যতার ধ্বংস ও প্রকৃতির স্থায়িত্বের তুলনা করার মধ্য দিয়ে কবি কোন গভীর দর্শন তুলে ধরেন?
মানবসৃষ্ট বস্তুগত সভ্যতা (এশিরিয়া, ব্যাবিলন) কালের প্রবাহে ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীবনের ধারাবাহিকতা চিরন্তন— এই গভীর জীবনদর্শনই কবিতার কেন্দ্রীয় বার্তা।
‘আমি চলে যাব বলে’ পঙক্তিটি সেইদিন এই মাঠ কবিতায় কোন ব্যক্তিগত উপলব্ধির ইঙ্গিত দেয়?
এই পঙক্তিতে কবি নিজের মরণশীলতা তথা মৃত্যুর অনিবার্যতা সম্পর্কে গভীর সচেতনতা প্রকাশ করেছেন, যদিও তা কোনো হতাশা নয়, বরং প্রকৃতির স্থায়িত্বের প্রতি এক গভীর তৃপ্তির স্বীকৃতি।
কবিতার নামকরণ ‘সেইদিন এই মাঠ’-এর তাৎপর্য কী?
‘সেইদিন’ (ভবিষ্যতের অনির্দিষ্ট সময়, যখন কবি থাকবেন না) ও ‘এই মাঠ’ (বর্তমানের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতা)-এর সংযোগ শিরোনামেই কবিতার মূল ভাবকে ধারণ করে— কালের প্রবাহে প্রকৃতির স্থায়িত্ব।
সেইদিন এই মাঠ কবিতার শেষ পঙক্তিতে ‘এশিরিয়া ধুলো আজ, ব্যাবিলন ছাই হয়ে আছে’ বলার পেছনে কী তাৎপর্য কাজ করে?
এই পঙক্তির মাধ্যমে কবি দেখান, মানুষের সবচেয়ে গর্বিত, শক্তিশালী সভ্যতাও শেষ পর্যন্ত সময়ের কাছে পরাজিত হয় ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, অথচ প্রকৃতি তার সৌন্দর্য নিয়ে অক্ষত থেকে যায়— এটাই কবিতার গভীরতম দার্শনিক উপলব্ধি।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে সেইদিন এই মাঠ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
