উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের নোট | SSC বাংলা ১ম পত্রের “উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন” প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের MCQ দেখুন।
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (ক)
কাজী নজরুল ইসলাম ও উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের পরিচিতি বিষয়ক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
তিনি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান কোথায়?
তাঁর জন্মস্থান বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রাম।
কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
তিনি ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
নজরুলকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।
লেখকের মতে ভদ্র সম্প্রদায়ের ‘জন্মগত অধিকার’ প্রসঙ্গে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কী?
লেখক প্রশ্ন তোলেন, “তোমার জন্মগত অধিকারটাই কি এত বড়?”— অর্থাৎ জন্মসূত্রে পাওয়া সামাজিক অবস্থানকে তিনি মানুষে-মানুষে বৈষম্যের যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি বলে মনে করেন না।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু নিয়ে জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
ছেলেবেলায় নজরুল কোন গানের দলে যোগ দেন?
তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
নজরুলকে কেন ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়?
সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়।
নজরুলের একটি প্রবন্ধগ্রন্থের নাম লেখো।
তাঁর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ ‘যুগবাণী’।
‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
এটি ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের শুরুতে লেখক কার উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করেন?
লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রবন্ধ শুরু করেন।
লেখকের মতে দেশের কত অংশ শক্তি অবহেলিত ‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভরশীল?
লেখকের মতে দেশের দশ আনা শক্তি এই সম্প্রদায়ের ওপর নির্ভরশীল।
লেখকের মতে অবহেলিত মানুষদের অন্তর কীসের মতো স্বচ্ছ?
তাদের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ।
লেখক কোন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের উদাহরণ দেন, মানুষের হৃদয় জয়ের ক্ষেত্রে?
লেখক মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দেন।
লেখকের মতে দেশ ও জাতি কীভাবে গঠিত?
দেশ ও জাতি গঠিত সকল মানুষের সমষ্টিতে।
লেখকের মতে সবার আত্মা কী?
লেখকের মতে সবার আত্মা একই মহা-আত্মার অংশ।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের শেষে লেখক কোন আহ্বান জানান?
তিনি উপেক্ষিত ভাইদের বুকে টেনে নিয়ে ‘বোধন-বাঁশি’তে সুর দেওয়ার আহ্বান জানান।
‘চণ্ডাল’ শব্দের অর্থ কী?
চণ্ডাল অর্থ নিম্নবর্গের লোক।
‘বোধন-বাঁশি’ শব্দবন্ধের অর্থ কী?
বোধন-বাঁশি অর্থ বোধ জাগানোর বাঁশি।
প্রবন্ধ অনুযায়ী ভদ্র সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধতা কী?
ভদ্র সম্প্রদায় দুর্দশা বোঝাতে পারে কিন্তু বাস্তবে কাজ করার শক্তি তাদের নেই।
অবহেলিত জনগোষ্ঠী বিদ্রোহ করলে কী ঘটে বলে লেখক উল্লেখ করেন?
তাদের বিদ্রোহ দমন করা হয়।
প্রবন্ধ অনুযায়ী মানুষকে ঘৃণা করা কার ধর্ম নয়?
মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করা আত্মার ধর্ম নয়।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের মূল আহ্বান কী?
সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান।
নজরুল কোথায় সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?
১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান, সেখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা ঘটে।
নিচের কোনটি নজরুলের কাব্যগ্রন্থ নয়?
সোনার তরী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ; বাকি তিনটি নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
কত বছর বয়সে নজরুল দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান?
মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
নজরুলকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
প্রবন্ধটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী অবিভক্ত ভারতবর্ষের পটভূমিতে প্রবন্ধটি রচিত হয়েছে।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধে নজরুলের কোন মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে?
আলোচ্য প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী মানসিকতার পরিচয় ফুটে উঠেছে— জাতি-ধর্ম-সমাজভেদের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের শুরুতে রবীন্দ্রনাথের যে উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে, তার মূল বক্তব্য কী?
উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, যাদের অপমান করা হয়েছে, সেই অপমানে দেশবাসী সবাইকে তাদের সমান হতে হবে— অর্থাৎ বৈষম্যের প্রতিবাদে সমতার আহ্বান।
‘ছোটোলোক’ নামকরণটি কারা দিয়েছে বলে লেখক উল্লেখ করেন?
লেখক বলেন, আমাদের আভিজাত্য-গর্বিত সম্প্রদায়ই এই হতভাগাদের এই নামকরণ করেছেন।
লেখকের মতে তথাকথিত ‘ছোটোলোক’-এর অন্তর কেমন?
লেখক বলেন, এদের অন্তর কাচের ন্যায় স্বচ্ছ— এমন সরল, মুক্ত, উদার প্রাণ নিয়েও তারা কিছু করতে পারছে না, ভদ্র সম্প্রদায়ের অত্যাচারের কারণে।
কেউ এই উৎপীড়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে ভদ্র সম্প্রদায় কী করে?
লেখক বলেন, কেউ বিদ্রোহাচরণ করলে ভদ্র সম্প্রদায় তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে।
লেখকের মতে দেশের এই অধঃপতনের মূল কারণ কী?
লেখক বলেন, এই হতভাগাদের— আমাদের এই সত্যিকার মানুষদের— এভাবে অবহেলা করে চলার কারণেই আজ আমাদের এত অধঃপতন।
লেখক ভদ্র সম্প্রদায়ের কোন দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন?
লেখক বলেন, ভদ্র সম্প্রদায় দুর্দশার কথা বুঝিয়ে কাঁদাতে পারলেও কার্যক্ষেত্রে নেমে কাজ করার শক্তি তাদের নেই— এটাই নিরেট সত্য।
জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে লেখক কী প্রতিশ্রুতি দেন?
লেখক বলেন, জনশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের ভাই বলে কোলে নিতে পারলে শত বছরের প্রচেষ্টায় যে কাজ হয়নি, তা একদিনে সম্পন্ন হবে।
গান্ধীর আহ্বানে কোন ভেদাভেদ ছিল না বলে লেখক উল্লেখ করেন?
লেখক বলেন, গান্ধীর আহ্বানে জাতিভেদ নাই, ধর্মভেদ নাই, সমাজ-ভেদ নাই— তা যেন প্রকৃত ভাইয়ের ডাক।
লেখক পাঠকদের কাছে কোন প্রশ্ন তোলেন মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করার অধিকার নিয়ে?
লেখক প্রশ্ন তোলেন, মানুষকে মানুষ হিসেবে ঘৃণা করার অধিকার কারো আছে কি— কারণ ইহা আত্মার ধর্ম নয়।
লেখকের মতে সকল মানুষের আত্মা কীসের অংশ?
লেখক বলেন, তাহাদের আত্মা তোমার আত্মার মতোই ভাস্বর, আর একই মহা-আত্মার অংশ— অর্থাৎ সব মানুষ মূলগতভাবে সমান।
লেখক পাঠককে কোন কল্পনা করতে বলেন যাতে তারা উপেক্ষিতদের বেদনা উপলব্ধি করতে পারে?
লেখক বলেন, যদি তুমি এই চণ্ডাল বংশে জন্মগ্রহণ করতে, তাহলে ভদ্রলোকদের দেওয়া এই অবহেলা-উপেক্ষার আঘাত কেমন লাগত তা কল্পনা করে দেখো।
লেখক শেষে ভদ্র সম্প্রদায়কে কী করতে আহ্বান জানান?
লেখক আহ্বান জানান, পতিত-চণ্ডাল-ছোটলোক ভাইদের বুকে করে আপন করে নিতে, তাদের মতো দীন বসন পরে, তাদের প্রাণে নিজের প্রাণ সংযোগ করে উচ্চশিরে দাঁড়াতে।
এভাবে দাঁড়ালে লেখকের প্রতিশ্রুতি কী?
লেখক বলেন, এভাবে উপেক্ষিতদের আপন করে নিয়ে দাঁড়ালে দেখবে বিশ্ব তোমাকে নমস্কার করবে।
‘বোধন-বাঁশি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
বোধন-বাঁশি অর্থ বোধ জাগিয়ে তোলার বাঁশি— উপেক্ষিতদের সুপ্ত চেতনা জাগ্রত করার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত।
গান্ধীর উদাহরণ ব্যবহার করে লেখক আসলে কোন বৃহত্তর যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন?
গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে লেখক প্রমাণ করতে চেয়েছেন, প্রকৃত আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ দিয়ে অবহেলিত জনশক্তিকে জাগ্রত করা গেলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
সাব্বিরের কর্মপদ্ধতির সাথে উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের কোন মহান ব্যক্তির সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
গান্ধী যেমন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়ে তাদের আপন করে নিয়েছিলেন, সাব্বিরও একইভাবে বস্তির মানুষদের সাথে মিশে তাদের আস্থা অর্জন করেছেন।
সাব্বিরের প্রতি এলাকাবাসীর এই সাড়া দেওয়ার কারণ উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের কোন মূল বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ?
লেখকের মতে, প্রকৃত হৃদয়ের ডাকেই উপেক্ষিত মানুষ সাড়া দেয়— কারণ তাদের এমন আন্তরিক স্নেহ দিয়ে আর কেউ কখনো আহ্বান করেনি, এই একই নীতি সাব্বিরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধে লেখক ‘পতিত’ শব্দটি কাদের বোঝাতে ব্যবহার করেছেন?
লেখক ‘পতিত, চণ্ডাল, ছোটলোক ভাই’ বলতে সমাজে অবহেলিত ও নিম্নবর্গ হিসেবে গণ্য মানুষদের বুঝিয়েছেন, যাদের তিনি ভাই বলে বুকে টেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
লেখক উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধে কোন ধরনের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে পাঠকের বিবেককে নাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন?
লেখক বারবার পাঠককে সরাসরি প্রশ্ন করেন (যেমন মানুষকে ঘৃণা করার অধিকার আছে কিনা), যা এক ধরনের আত্মজিজ্ঞাসা ও নৈতিক আত্মপরীক্ষার আহ্বান।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের সামগ্রিক সুর কেমন বলে চিহ্নিত করা যায়?
প্রবন্ধ জুড়ে লেখকের তীব্র আবেগ, প্রত্যক্ষ আহ্বান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহাত্মক সুর স্পষ্ট— যা নজরুলের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন।
লেখকের মতে ‘ছোটোলোক’দের প্রতি সমাজের আচরণ ও তাদের সুপ্ত শক্তির মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে?
লেখকের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের ভেতরে সরলতা-উদারতার বিপুল শক্তি থাকা সত্ত্বেও সমাজের ঘৃণা-অবহেলাই তা প্রকাশ পেতে বাধা দিচ্ছে— সেই শক্তিকেই জাগানোর ডাক দেন লেখক।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (খ)
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের লেখক ও পটভূমি বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
জন্ম থেকে পাওয়া ঘৃণা-উপেক্ষা মানুষের মনে কী প্রভাব ফেলে বলে লেখক মনে করেন— ব্যাখ্যা করো।
লেখক মনে করেন, ক্রমাগত ঘৃণা-উপেক্ষার শিকার হয়ে এই মানুষেরা নিজেদের মানুষ হিসেবেই ভুলে যায়, নিজেদের সম্ভাবনা ও ক্ষমতা সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়ে— এটাই তাদের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধের চরিত্র ও মূলভাব বিষয়ক অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
লেখক কেন রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রবন্ধ শুরু করেন— ব্যাখ্যা করো।
রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতিতে অপমানিতদের সাথে সমান হওয়ার আহ্বান ছিল, যা লেখকের নিজের বক্তব্যের ভিত্তি স্থাপন করে। এর মাধ্যমে তিনি প্রবন্ধের মূল থিমের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায়ের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ বলার তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই তুলনার মাধ্যমে লেখক দেখাতে চান, সামাজিকভাবে অবহেলিত হলেও এই মানুষদের হৃদয়ে কোনো ছলচাতুরি নেই, তারা সরল ও সৎ— অথচ ভদ্র সমাজের অত্যাচারে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
লেখক কেন বলেন এই অবহেলা জাতির অধঃপতনের মূল কারণ— ব্যাখ্যা করো।
যেহেতু দেশ ও জাতি সকল মানুষের সমষ্টিতে গঠিত, তাই সমাজের একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে বা অবহেলা করে জাতীয় উন্নতি সম্ভব নয়— এই যুক্তিতেই লেখক অবহেলাকে অধঃপতনের মূল কারণ বলে চিহ্নিত করেন।
ভদ্র সম্প্রদায়ের ভূমিকা সম্পর্কে লেখকের সমালোচনা কী— ব্যাখ্যা করো।
লেখক মনে করেন ভদ্র সম্প্রদায় সমাজের দুর্দশা নিয়ে আলোচনা ও সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারলেও বাস্তবে পরিবর্তন আনার প্রকৃত কর্মশক্তি তাদের নেই— প্রকৃত পরিবর্তনের শক্তি নিহিত আছে অবহেলিত জনগণের মধ্যেই, যাদের জাগ্রত করা প্রয়োজন।
মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে লেখক কী প্রমাণ করতে চান— ব্যাখ্যা করো।
গান্ধীজি প্রাণ খুলে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগী হয়ে, জাতি-ধর্ম-সমাজভেদহীনভাবে ডাক দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন— এই উদাহরণ দিয়ে লেখক দেখান, প্রকৃত নেতৃত্ব মানুষের সাথে মিশে গিয়েই সম্ভব, দূরত্ব বজায় রেখে নয়।
‘সবার আত্মা একই মহা-আত্মার অংশ’ উক্তিটির তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
এই উক্তির মাধ্যমে লেখক মানুষে মানুষে ভেদাভেদের অসারতা প্রমাণ করেন— যেহেতু সবার আত্মা একই উৎস থেকে উদ্ভূত, তাই জাতি-ধর্ম-শ্রেণির ভিত্তিতে বৈষম্য করা অযৌক্তিক ও অনৈতিক।
প্রবন্ধের শিরোনাম ‘উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন’-এর তাৎপর্য কী— ব্যাখ্যা করো।
শিরোনামেই প্রবন্ধের মূল বার্তা স্পষ্ট— সমাজের উপেক্ষিত, অবহেলিত অংশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিপুল সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার (উদ্বোধন) আহ্বানই এই রচনার প্রাণকেন্দ্র।
লেখকের মতে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শক্তি ও সমাজের আচরণের মধ্যে কী সম্পর্ক— ব্যাখ্যা করো।
লেখকের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের ভেতরে সরলতা-উদারতার বিপুল শক্তি থাকা সত্ত্বেও সমাজের ঘৃণা-অবহেলাই সেই শক্তিকে প্রকাশ পেতে বাধা দিচ্ছে— এই বাধা দূর করে শক্তিকে জাগানোর ডাক দেন লেখক।
প্রবন্ধটি সমাজকে কোন শিক্ষা দেয়— ব্যাখ্যা করো।
প্রবন্ধটি শেখায়, প্রকৃত জাতীয় উন্নতি সম্ভব শুধু তখনই যখন সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সমান মর্যাদা দিয়ে তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত হতে দেওয়া হয়— জাতি-ধর্ম-শ্রেণিনির্বিশেষে মানবিক সাম্যই প্রকৃত জাগরণের মূল ভিত্তি।
‘ছোটোলোক’ সম্প্রদায় কেন নিজেদের এত ছোটো মনে করে?
জন্ম থেকে ঘৃণা ও উপেক্ষা পেয়ে সঙ্কোচ-জড়তা তাদের স্বভাবের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে তারা নিজেদের মানুষ হওয়ার অধিকারের কথাই ভুলে যায়।
জাতির উন্নতির আশাকে লেখক কীসের সাথে তুলনা করেছেন, যদি দেশের সবাই তা বুঝতে না পারে?
লেখক বলেন, দেশ-জাতিকে সকলে না বুঝলে তার উন্নতির আশা করা আর আকাশে অট্টালিকা নির্মাণের চেষ্টা করা একই কথা— অর্থাৎ তা অসম্ভব।
লেখক কোন মহান ব্যক্তির উদাহরণ দিয়ে জনশক্তির প্রভাব ব্যাখ্যা করেন?
লেখক মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে দেখান, ভারতে তিনি কী অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিলেন।
গান্ধী কীভাবে সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন বলে লেখক বর্ণনা করেন?
গান্ধী তাদের সাথে প্রাণ খুলে মিশেছেন, সুখ-দুঃখের ভাগী হয়েছেন, তারা খেতে না পেলে নিজেও উপবাস করেছেন— এভাবেই তাদের আপন করে তুলেছেন।
উপেক্ষিত মানুষেরা কেন গান্ধীর দিকে ব্যগ্র বাহু মেলে ছুটে গিয়েছিল?
লেখক বলেন, তাদের যে আর কেউ কখনো এমন করে বুকভরা স্নেহ দিয়ে আহ্বান করেনি, তাই এই মহা-আহ্বানে তারা সাড়া না দিয়ে পারেনি।
লেখকের যুক্তি অনুযায়ী ‘ছোটোলোক’ ও ‘ভদ্রলোক’-এর মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য কী?
লেখকের যুক্তি অনুযায়ী উভয়েই সমান মানুষ, একই আল্লাহর সৃষ্টি— সমাজের অবিচার ও অবহেলাই তথাকথিত ‘ছোটোলোক’দের এই অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, এটি কোনো সহজাত পার্থক্য নয়।
‘সেও-যে আমাদেরই মতো মানুষ— সেও যে সেই এক আল্লাহ্-এর সৃষ্টি’— এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য কী?
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লেখক প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, জাত-পাত বা শ্রেণিনির্বিশেষে সকল মানুষ মৌলিকভাবে সমান— এটাই সাম্যবাদী চিন্তার মূল ভিত্তি।
উপরের জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন-উত্তরগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন প্রবন্ধ থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের ক ও খ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
