● SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ৭ম অধ্যায় “বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৭০টি জ্ঞানমূলক ও ৭টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

বিচারবিভাগের ক্ষমতা-কার্যাবলি ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন কাঠামো

1। বিচারবিভাগ কাকে বলে?

সরকারের যে বিভাগ আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করে, তাকে বিচারবিভাগ বলে।

2। বিচারবিভাগের প্রধান কাজ কী?

প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও আইন অমান্যকারীর ন্যায়বিচার করা।

3। বিচারবিভাগ কীভাবে সংবিধান রক্ষা করে?

সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে এবং সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়।

4। অধিকার সুরক্ষায় বিচারবিভাগের রিট পদ্ধতিগুলো কী কী?

ম্যানডেমাস, সার্টিওয়ারি, প্রহিবিশন, হেবিয়াস কর্পাস ও কোওয়ারেন্টো রিট।

5। হেবিয়াস কর্পাস রিট কী কাজ করে?

অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়।

6। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতি কে নিয়োগ করেন?

রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে অন্যান্য বিচারক নিয়োগ করেন।

7। অধস্তন আদালতের বিচারকগণ কীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন?

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে।

8। বিচারবিভাগ বিরোধ নিষ্পত্তিতে কী ভূমিকা রাখে?

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার বিরোধের মীমাংসা করে।

9। বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তরগুলো কী কী?

কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা।

10। সচিবালয় কী?

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার বিভাগসমূহের অফিসগুলোর যৌথ নাম; বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার স্নায়ুকেন্দ্র।

11। মন্ত্রণালয়ের প্রধান কে ও প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে?

মন্ত্রী প্রধান এবং সচিব প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

12। অধিদপ্তরের প্রধান কে?

মহাপরিচালক।

13। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তরের কর্মকর্তা কে?

সহকারী সচিব।

14। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পদসোপান ক্রম কী?

সহকারী সচিব → সিনিয়র সহকারী সচিব → উপসচিব → যুগ্ম সচিব → অতিরিক্ত সচিব → সচিব → সিনিয়র সচিব → মন্ত্রী।

15। বাংলাদেশের প্রশাসনের দুটি স্তর কী কী?

কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসন।

16। স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন ছিল?

পাকিস্তানের অধীনে প্রাদেশিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল, যা গণমুখী হয়ে ওঠেনি।

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের ক্ষমতা এবং শাসনবিভাগ নিয়ন্ত্রণ

17। বাংলাদেশে সরকারপ্রধান কে?

প্রধানমন্ত্রী; তিনি সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

18। প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নিযুক্ত হন?

রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিকাংশ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

19। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কী ঘটে?

সরকারের পতন ঘটে।

20। প্রধানমন্ত্রীর শাসন বিষয়ক ক্ষমতা কী?

সকল নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়; তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগ ও দপ্তর বণ্টন করেন।

21। প্রধানমন্ত্রীর আইনসংক্রান্ত ভূমিকা কী?

তিনি জাতীয় সংসদে সরকারি বিলের পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যাবলি তাঁকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

22। প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক ক্ষমতা কী?

তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপস্থাপন করেন।

23। প্রধানমন্ত্রী জাতির মুখপাত্র হিসেবে কী করেন?

বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করেন এবং জাতীয় সংকট সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

24। প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা হিসেবে কী ভূমিকা রাখেন?

সংসদ ও সংসদের বাইরে দলের নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

25। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী পদ সম্পর্কে কী আলোচনা হচ্ছে?

সংসদে প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা হ্রাস করার আলোচনা বিবেচনা করা হচ্ছে।

26। পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা কত?

৩৫০ জন; ৩০০ জন সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত।

27। জাতীয় সংসদের মেয়াদ কত?

৫ বছর।

28। ১৯৭২ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে কোন সরকার ব্যবস্থা ছিল?

১৯৭২ সালে সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ১৯৭৫ সাল থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়।

29। কত সালের সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি বাতিল হয়?

১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।

30। সংসদ প্রণীত আইনে রাষ্ট্রপতি কত দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন?

১৫ দিনের মধ্যে।

31। সংসদের অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা কী?

সংসদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যয় বা কর আরোপ করা যায় না।

32। সংসদ কাদের অভিশংসন বা অপসারণ করতে পারে?

রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও ন্যায়পালকে।

33। সংসদ কীভাবে শাসনবিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে?

মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব, প্রশ্ন ও অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে।

34। প্রধানমন্ত্রী সংসদের আস্থা হারালে কী হয়?

প্রধানমন্ত্রীসহ সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ ঘটে এবং নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের অঙ্গসমূহ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

35। সরকারের তিনটি বিভাগ কী কী?

নির্বাহী বা শাসনবিভাগ, আইনবিভাগ ও বিচারবিভাগ।

36। নির্বাহী বা শাসনবিভাগ কাকে বলে?

রাষ্ট্রের নিত্যদিনকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী বিভাগ।

37। বাংলাদেশের আইনসভার নাম কী?

জাতীয় সংসদ; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও ব্রিটেনের পার্লামেন্ট।

38। বাংলাদেশের আইনসভা কী ধরনের?

এক কক্ষবিশিষ্ট; ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট।

39। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী?

নিয়মতান্ত্রিক প্রধান; তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।

40। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগে কারো পরামর্শ নেন কি?

না, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না।

41। রাষ্ট্রপতি কাদের নিয়োগ দান করেন?

অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, পিএসসি চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার।

42। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা কখন প্রযোজ্য?

সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হলে।

43। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা কী?

যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার এবং যেকোনো দণ্ড মার্জনা করার ক্ষমতা।

44। সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন?

১৪১ এর ক (১) অনুচ্ছেদ, অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য।

45। রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা বিষয়ে কী ক্ষমতা রাখেন?

প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত।

46। রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন কি?

প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।

স্থানীয় প্রশাসন — বিভাগ ও জেলা

47। বাংলাদেশে কতটি বিভাগ আছে ও কী কী?

৮টি— ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ।

48। বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষে কে থাকেন?

বিভাগীয় কমিশনার, যিনি অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তা।

49। বিভাগীয় কমিশনারের কাজ কী?

জেলা প্রশাসকদের কার্যাবলি তদারকি, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং জনকল্যাণমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ।

50। বাংলাদেশে বর্তমানে কতটি জেলা আছে?

৬৪টি জেলা।

51। জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার কী পদমর্যাদার কর্মকর্তা?

উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

52। জেলা প্রশাসকের ভূমিকা কী?

জেলার সমগ্র শাসন তাঁকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন পরিচালনা করেন।

53। স্থানীয় শাসনের মুখ্য উদ্দেশ্য কী?

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।

54। স্থানীয় শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের কী হিসেবে গণ্য করা হয়?

সরকারের এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয়।

55। বিভাগীয় কমিশনার মূলত কী বিষয়ক কর্মকর্তা?

বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বিষয়ক কর্মকর্তা।

56। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পরিচয় কী?

মাঠ প্রশাসনে উপজেলা পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা কর্মকর্তা।

57। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়কে কী বলা হয়?

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।

58। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান কাজ কী?

জেলার সার্বিক প্রশাসন, রাজস্ব আদায় ও আইন-শৃঙ্খলা তদারকি করা।

স্থানীয় সরকার — ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন

59। বাংলাদেশে সর্বমোট কতটি ইউনিয়ন পরিষদ আছে?

৪,৫৭৮টি।

60। ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ কত?

৫ বছর।

61। উপজেলা পরিষদ প্রথম কবে প্রবর্তন করা হয়?

১৯৮৩ সালে; পরে ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ আইন পাশ হয়।

62। উপজেলা পরিষদ কাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়?

চেয়ারম্যান, ২ জন ভাইস চেয়ারম্যান (একজন নারী), ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, পৌরসভার মেয়র এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যগণ।

63। দেশে বর্তমানে কতটি উপজেলা আছে?

৪৯২টি উপজেলা।

64। জেলা পরিষদ আইন কবে প্রবর্তিত হয়?

৬ জুলাই ২০০০ সালে।

65। জেলা পরিষদ কাদের নিয়ে গঠিত?

একজন চেয়ারম্যান, পনেরো জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন নারী সদস্য।

66। বাংলাদেশে বর্তমানে কতটি পৌরসভা আছে?

৩৩১টি পৌরসভা।

67। পৌরসভা কাদের নিয়ে গঠিত হয়?

প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন মেয়র এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ।

68। বাংলাদেশে বর্তমানে কতটি সিটি কর্পোরেশন আছে?

১২টি সিটি কর্পোরেশন।

69। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কবে ও কীভাবে বিভক্ত করা হয়?

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুসারে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ নামে দুটি কর্পোরেশনে বিভক্ত করা হয়।

70। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের শ্রেষ্ঠত্ব কী?

কেন্দ্রের মুখাপেক্ষিতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত হওয়া, যা স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব করে।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

বিচারবিভাগের ক্ষমতা-কার্যাবলি ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন কাঠামো

1। বিচারবিভাগকে ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

বিচারবিভাগ নাগরিকদের নাগরিক অধিকার ও সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার রক্ষা করে এবং হেবিয়াস কর্পাসের মতো বিভিন্ন রিটের মাধ্যমে অধিকারবঞ্চিত ব্যক্তির অধিকার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে, তাই বিচারবিভাগকে ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ বলা হয়।

2। সচিবালয়কে বাংলাদেশ প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

সরকারি যাবতীয় সিদ্ধান্ত সর্বপ্রথম সচিবালয়ে গৃহীত হয় এবং এই সিদ্ধান্তগুলো ক্রমান্বয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে প্রেরিত হয়, সকল বিভাগ-দপ্তর-সংস্থা সচিবালয়ের কাছে দায়ী থাকে, তাই একে প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের ক্ষমতা এবং শাসনবিভাগ নিয়ন্ত্রণ

3। প্রধানমন্ত্রীকে শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

প্রধানমন্ত্রী একই সাথে সংসদ নেতা, মন্ত্রিসভার প্রধান এবং সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন, অর্থব্যবস্থার তদারকি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার মতো সর্বক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন, তাই তাঁকে শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়।

4। ১৯৯১ সালের পর সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি বাতিল করে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়, ফলে ক্ষমতার কেন্দ্র রাষ্ট্রপতি থেকে সরে গিয়ে সংসদের হাতে চলে আসে, এতে আইন প্রণয়ন, শাসনবিভাগের নিয়ন্ত্রণ, অর্থসংক্রান্ত তদারকি প্রভৃতি ক্ষেত্রে সংসদের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

সরকারের অঙ্গসমূহ ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা

5। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রধান বলা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির হাতে সরাসরি কোনো নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না, প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হলেও প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে, তাই প্রতীকী বা নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিবেচনা করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন — বিভাগ ও জেলা

6। জেলা প্রশাসকের ভূমিকা জেলার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কেন— ব্যাখ্যা করো।

সচিবালয়ে গৃহীত জেলাসংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরিত হয় এবং তিনি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন পরিচালনা করেন, জেলার সমগ্র শাসন তাঁকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তাই জেলা প্রশাসকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সরকার — ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন

7। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করে কীভাবে— ব্যাখ্যা করো।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণ সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়, এতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও নেতৃত্ব সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, ফলে সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় হয়।

আরও পড়ুন

SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜