● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

সাংবিধানিক পদ কী? বাংলাদেশের ৫টি সাংবিধানিক পদ ও দায়িত্ব | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

যেসব পদের নিয়োগ, কার্যকাল ও কর্মপরিধি সংবিধানে লেখা থাকে, সেগুলোই সাংবিধানিক পদ। ৩৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় এ বিষয়ে প্রশ্ন এসেছে। এই পোস্টে পাবেন সাংবিধানিক পদের সংজ্ঞা, বাংলাদেশের পদগুলোর তালিকা এবং ৫টি পদের নাম ও দায়িত্ব।

যে সকল পদের নিয়োগ, কার্যকাল, কর্মের পরিধি প্রভৃতি সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে, সেসব পদকে সাংবিধানিক পদ বলে। এ সকল পদের মেয়াদ সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট থাকে। ফলে এসব পদের উপর সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ কম থাকে। সংবিধান অনুযায়ী এই পদকর্তাদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশে সাংবিধানিক পদগুলো নিম্নরূপ:

পদের নাম অনুচ্ছেদ
রাষ্ট্রপতি ৪৮
স্পিকার ৭৪
মন্ত্রী ৫৬
ডেপুটি স্পিকার ৭৪
সংসদ সদস্য ৬৬
প্রধান বিচারপতি ৯৪ (২)
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১১৮ (২)
মহা হিসাব-নিরীক্ষক ১২৭ (১)
সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ১৩৭
  • পিএসসির চেয়ারম্যানও সদস্যবৃন্দ
  • রাষ্ট্রপতি
  • মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  • স্পিকার
  • সাংবিধানিক পদসমূহ
  • প্রধান নির্বাচন কমিশনারও কমিশনারবৃন্দ
  • মন্ত্রীপরিষদের সদস্যবৃন্দ
  • সুপ্রিমকোর্টেরবিচারকবৃন্দ
  • ডেপুটি স্পিকার
  • সংসদ সদস্য

নিম্নে বাংলাদেশের ৫টি সাংবিধানিক পদের নাম ও সংক্ষেপে দায়িত্ব আলোচনা করা হলো:

  1. ১রাষ্ট্রপতি: রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত এবং তিনি সংবিধান ও আইনবলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। অধিকন্তু সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত রাষ্ট্রপতি সর্বদা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে কার্যনির্বাহ করেন। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় অধিকাংশ সংসদ-সদস্যের সমর্থন লাভে সক্ষম একজন সংসদ-সদস্যকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদেরও নিয়োগ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সার্ভিসের সর্বাধিনায়ক।
  2. ২প্রধানমন্ত্রী: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করবেন সেরূপ অন্যান্য মন্ত্রী নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তার এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মন্ত্রীপরিষদের মধ্যমণি। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে এবং বাংলাদেশ মন্ত্রীপরিষদের প্রধান হিসাবে তার গুরুত্ব ও পদমর্যাদা অনন্য। কেবিনেটের উত্থান ও পতন প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীল। তিনি পদত্যাগ করলে মন্ত্রীপরিষদ বিলুপ্ত হবে। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে, কেবিনেটের সভাপতি হিসেবে, সমকক্ষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের অধিকারী।
  3. ৩স্পিকার: সংসদে সভাপতিত্বকারী ব্যক্তি হলেন স্পিকার। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য হলো স্পিকারের সভাপতিত্ব। স্পিকার শুধু সভাপতিত্বকারী নন, তিনি পার্লামেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও। তাঁর কর্তৃত্ব সবাই মেনে চলেন ও শ্রদ্ধা করেন। স্পিকারকে পার্লামেন্টের অভিভাবক বলা হয়। স্পিকারের প্রধান দায়িত্ব সংসদে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এর মর্যাদা সংরক্ষণ করা। সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে স্পিকার যেকোনো সদস্যকে বহিষ্কার করতে পারেন। স্পিকার সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ন্ত্রণ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত আছে, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে বা তাঁর অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন। আধুনিক ব্যবস্থায় স্পিকার একটি দল থেকে নির্বাচিত হন।

তবে নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতে হয়। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরেই স্পিকারের মর্যাদার স্বীকৃতি রয়েছে।

  1. ১সংসদ সদস্য: আইনসভার নামানুসারে সদস্যদের বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। বাংলাদেশের আইনসভার সদস্যদের ‘সংসদ-সদস্য’ বলা হয় (অনুচ্ছেদ ৬৫ (২))। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনের মাধ্যমে বা মনোনয়ন পেয়ে অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে সংসদের সদস্য হতে পারেন। একজন সংসদ সদস্য আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন পূর্বক বিল উত্থাপন করতে পারবেন এবং তিনি অন্য কোন সংসদ সদস্য কর্তৃক উত্থাপিত বিলের উপর ভোট দিতে পারবেন। স্পিকারের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণমূলক বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন। ১৫ দিনের নোটিশ সাপেক্ষে তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবেন। আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও স্বার্থের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হয়। সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকা, পেশাগত অবস্থান, দলীয় বিবেচনা ও জাতীয় স্বার্থ-সবদিক বিবেচনা করতে হয়। জাতীয় স্বার্থে আইন প্রণয়ন, এলাকার অগ্রগতি ও ভোটারদের সন্তুষ্টি অর্জন এবং দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি মেনে চলতে হয়।
  2. ২প্রধান নির্বাচন কমিশনার: নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সকল নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের যার প্রধান দায়িত্বে থাকেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮(৪), অনুচ্ছেদ ১২৬ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা এবং দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜