● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা ও জীবনমান উন্নয়নের উপায় | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

ঘন ঘন বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওরবাসীর জীবন বিশেষ ঝুঁকিতে, আর নারীর সংকট আরও গভীর। এই পোস্টে হাওর অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো এবং জীবনমান উন্নয়নে সম্ভাব্য পদক্ষেপ ভাগ করে লেখা আছে।

“হাওরে নারীর জীবন অনেক কঠিন। ঘন ঘন বন্যার কারণে নারীর সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের জায়গায় এত বেশি সন্তুষ্ট হয়ে গেছি যে এসব নিয়ে খুব বেশি গবেষণা করিনি। নারীর ভাগ্য উন্নয়নে কী করা যায়, সেটা নিয়ে গবেষণা করার প্রয়োজন আছে।” – জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি দিলরুবা হায়দার।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি জেলাজুড়ে বিস্তৃত হাওড়াঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্য কোনো অঞ্চলের তুলনা চলে না। এটা ঠিক, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ। এদেশে যেমন দিগন্ত বিস্তৃত সাগর রয়েছে, তেমনি রয়েছে আঁকাবাঁকা নদী। যেমন রয়েছে পার্বত্যাঞ্চল, তেমনি রয়েছে সমতলভূমি। যেমন রয়েছে বনভূমি, তেমনি রয়েছে বিল অঞ্চল। দেশের এসব ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যই নিজের মধ্যে ধারণ করে রয়েছে হাওড়াঞ্চল। আর এ হাওর ঘিরেই লাখ লাখ মানুষের জীবন আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু নানাবিধ সমস্যায় প্রায়ই বেহাল দশায় জর্জরিত হতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। তাঁদের সংকট চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের মানুষদের সমস্যা:

‘হাওড়ে ছয় মাস নাও, ছয় মাস পাও’।

কথায় আছে, এ অঞ্চল বছরের ছয় মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। আর ছয় মাস থাকে বিস্তীর্ণ প্রান্তর হয়ে। বর্ষায় যেখানে দিগন্তজুড়ে বড় বড় ঢেউ খেলা করে, শুকনো মৌসুমে সেখানে যতদূর চোখ যায় দেখা যায় হিল্লোলিত ধান ক্ষেত। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে হাওড়ের জীবন ও জীবিকা। এখানকার জনজীবন ও অর্থনীতি দেশের আর কোনো অঞ্চলের সঙ্গে মিলবে না।

হাওরবাসীর সমস্যা

  1. ১হাওর অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এই জনপদের মানুষের জীবনধারাও দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বেশ ভিন্ন। বছরের বড় অংশ জুড়ে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকে বলে এখানে ভালো কোনো সড়ক অবকাঠামো নেই। মেঠো পথে গরুর গাড়িতে করে পণ্য পরিবহন করতে অন্যদিকে বর্ষায় নৌকা হয়ে উঠে যোগাযোগের একমাত্র বাহন। উপজেলা সদর, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া, এমনকি গ্রামীণ হাটে যাওয়ার জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না।
  2. ২হাওড়াঞ্চলের জীবন-জীবিকা এমন ছবির মতো সহজ নয়। সাত জেলার ২৯টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে আট হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় এক কোটি মানুষের প্রধান জীবিকা এক ফসলি বোরো ধান। কেউ কেউ মাছ ধরা বা গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি লালন-পালনে জড়িত। কিন্তু কারও হাতেই সারা বছর কাজ থাকে না। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো তিন ফসলি জমি থাকলে কিংবা বছরজুড়ে মাছ ধরা গেলে হয়তো জীবন সচ্ছল থাকত।
  3. ৩সময়ের বিবর্তনে একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়, অন্যদিকে নদী-বিল-খাল ভরাট হয়ে মাছের উৎপাদন কমে যায়।
  4. ৪কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও উৎপাদনও কমে গেছে। কৃত্রিম সেচের আওতায় বোরো ধান চাষ বাড়ায় গোচারণ ভূমিও কমে যায়।
  5. ৫এখনো বোরো মৌসুমে দেশের মোট উৎপাদিত ধানের এক-পঞ্চমাংশ আসে হাওড়াঞ্চল থেকে। কিন্তু সেটাও আর টেকসই জীবিকা হিসাবে থাকছে না। কারণ ক্রমাগত কৃষি উপকরণ তথা বীজ, সার, ডিজেল বা বিদ্যুৎ, কীটনাশক, সেচপাম্প, পাওয়ার টিলারসহ অন্য কৃষিযন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। এতে ধানের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। হাওড়াঞ্চলের মৎস্যজীবী ও চাষিরা ক্রমেই প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন।
  6. ৬সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ও আধুনিক ব্যবস্থা না থাকা এবং সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের অভাবে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় প্রতিবছর কোটি টাকার মাছ পচে নষ্ট হচ্ছে। বরফের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে নিকলী হাওর এলাকায় প্রতিবছর গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত মৌসুমে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ পচে যায়।
  7. ৭বর্ষাকালে হাওরাঞ্চলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ঘর বাড়ি ভেঙে নিয়ে জানমালের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে হলে গ্রাম প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু অত্র এলাকার দরিদ্র মানুষ প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করতে পারেনা।
  8. ৮বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের বেকারত্ব একটি যুগবাহিত সমস্যা। হাওর এলাকার অনেকে বছরের ছমাস বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নাই। অথচ উন্মুক্ত জলাশয়ে, খাড়িতে মৎস্য-মুক্তা চাষ, ভাসমান কৃত্রিম ভূমিতে, মাচায় সবজি চাষ, কুটির শিল্পের প্রসার, হাঁস পালন, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্প বিকাশের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।
  9. ৯হাওরাঞ্চলে স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক। কিশোরগঞ্জ জেলার হাওড়াঞ্চলের ৬ টি উপজেলার বর্তমানে ৩৫% পরিবার স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করছে। গড়ে ৬৫% পরিবার এখনও ঝুলন্ত টয়লেট বা কাঁচা টয়লেট ব্যবহার করছে।

করছে। বছরের ৬ মাস হাওর অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্ষেতখামার, ঝোপ-জঙ্গল, পুকুর পাড়, হাওড় বাওড়, নদীর পাড়, বর্ষা মৌসুমে খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে।

জীবনমান উন্নয়নের পদক্ষেপ

হাওর অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পদক্ষেপ: জলমগ্নতা এবং এক-ফসলি অর্থনীতির কারণে হাওর অঞ্চলের মানুষ বছরে প্রায় ছয় মাস কর্মহীন থাকে এবং তাদের জীবনযাত্রা তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

  1. ১শুধু বোরো ধানের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভাসমান সবজি চাষ (ভাসমান বেড বা ধাপে ধাপে চাষ), শুষ্ক মৌসুমে বিকল্প ফসল (যেমন সূর্যমুখী, মসুর ডাল) চাষে প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকি দেওয়া।
  2. ২টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওরের মতো স্থানগুলোতে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো। স্থানীয়দের এই শিল্পে প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ তৈরি করা।
  3. ৩মৎস্য সংরক্ষণ ও চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে উৎসাহিত করা যেতে পারে। একইসঙ্গে উন্নত জাতের গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালনে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সুবিধা দেওয়া উচিত।
  4. ৪বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু হওয়ায় হাওড়াঞ্চলে শিক্ষার হার এবং সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ছেলে মেয়ে উভয় যেন আরো উচ্চ শিক্ষার চেষ্টা করতে পারে তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম চালু করা যেতে পারে।
  5. ৫শিক্ষার হার বৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পাওয়ায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। বেকার জনশক্তির একটি ক্ষুদ্রাংশ শহরে ও শিল্পাঞ্চলে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী হচ্ছে। হাওড়াঞ্চলে শিল্পাঞ্চল ও ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে তারা নিজ ভূমিতেই থেকে যেত। এমন উদ্যোগ নেওয়া খুবই জরুরি।
  6. ৬হাওড়াঞ্চলের কোথাও কোনো ধরনের কারিগরি শিক্ষা বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান না থাকায় দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। হাওড়াঞ্চলের প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে কারিগরি বিদ্যালয় বা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করা যেতে পারে।
  7. ৭প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন করা যেতে পারে। হাওড়াঞ্চলের কিশোরগঞ্জে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় এভাবে একটি করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
  8. ৮তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। হাওড়াঞ্চলে উদ্বৃত্ত শ্রম বিবেচনায় পোশাক কারখানা স্থাপন করা যেতে পারে।
  9. ৯টোমেটিক রাইসমিল এবং আধুনিক মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি ও পশুসম্পদ পালন ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এসব শিল্পের ফিডমিল স্থাপনেও হতে পারে কর্মসংস্থান।
  10. ১০বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক ও অর্থকরী প্রতিষ্ঠান, পিকেএসপি, ইডকল, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতে পারে হাওড়াঞ্চলের জন্য বিশেষায়িত কর্মসংস্থান প্রকল্প নিয়ে। সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কেন্দ্র খোলা যেতে পারে।
  11. ১১ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ ঋণ ও তদারকির মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে সহায়তা করা যেতে পারে।
  12. ১২হাওড়াঞ্চলে পর্যটন শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি মেরামত এবং সংযোজন, কৃষি ও মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাছ ধরার জাল, মশারি, জানালার নেট ও পর্দা তৈরি, হোসিয়ারি শিল্প, সোলার প্যানেল, এনার্জি সেভিং ল্যাম্প, যান্ত্রিক নৌযান তৈরি ও মেরামত, উন্নত ও দ্রুতগামী ও আরামদায়ক নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন শিল্প, চারকোল ব্লক ইত্যাদি শিল্প স্থাপন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
  13. ১৩হাওড়াঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য ও পর্যটন সম্পর্কের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, সেটার পূর্ণ সদ্ব্যবহার যদি সম্ভব হয়, তাহলে হাওড়াঞ্চল হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যকেন্দ্র। তাই সরকারের উচিত এইদিকে একটু মনোযোগী হওয়া।
  14. ১৪হাওড়াঞ্চলের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির মডেল সূচিত হতে পারে হাওড়াঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সুনামগঞ্জ থেকে। এসব বিষয়ে এলাকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, অন্যান্য পেশাজীবী এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা হওয়া দরকার।
  15. ১৫নারীদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। হাস, মুরগি, কবুতরসহ গৃহপালিত পশু পালন, সবজি উৎপাদন, মুড়ি, চিড়া, খৈ তৈরি ও প্যাকেটজাতকরণ, শুঁটকি তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্ত ও কুটিরশিল্প খাতে নারীদের নিয়োজিত করা যেতে পারে।
  16. ১৬বর্ষা মৌসুমে শিশুদের পড়াশোনা নিশ্চিত করতে ভাসমান স্কুল ও নৌকা-ভিত্তিক পাঠাগার চালু করা যেতে পারে।
  17. ১৭প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে টেলিমেডিসিন সেবার প্রসার ঘটানো এবং সব ঋতুর জন্য উপযোগী স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা খুব জরুরী।
  18. ১৮বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বন্যার ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ভিটা উঁচু করা বা জলবায়ু সহনশীল উঁচু কাঠামো নির্মাণে সরকারি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
  19. ১৯হাওর অঞ্চলে দ্রুত ও কার্যকর আগাম বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের কাছে সেই তথ্য দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

হাওরের গুরুত্ব

হাওর অঞ্চল বাংলাদেশের এক স্বতন্ত্র ভূ-প্রাকৃতিক সম্পদ, যা দেশের মাছ, চাল এবং জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কেবল ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা যথেষ্ট নয়। বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

“আমরা আশা করছি ‘হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ প্রকল্পে আমাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১১টি হাওরে ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হলে হাওরে কৃষি উৎপাদনে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি হাওর এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

– পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜