● SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি অধ্যায়ের নোট | জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর

অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি অধ্যায়ের নোট | SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ১১তম অধ্যায় “অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি” জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর নিচে দেওয়া হলো। এই পোস্টে ৬৪টি জ্ঞানমূলক ও ৮টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর আছে। বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি অধ্যায়ের MCQ দেখুন।

অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি অধ্যায়ের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অনুন্নত-উন্নয়নশীল দেশ ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক

1। অধ্যাপক র‍্যাগনার নার্কসের মতে অনুন্নত দেশ কী?

যেসব দেশে জনসংখ্যা অত্যধিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় পুঁজি বা মূলধন কম।

2। অনুন্নত দেশে শিল্পখাতের অবদান সাধারণত কত শতাংশ?

মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ।

3। অনুন্নত দেশে মূলধন গঠন ও বেকারত্বের অবস্থা কেমন?

মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের হার নিম্ন এবং বেকারত্ব ব্যাপক, ফলে দারিদ্র্যের চক্র সৃষ্টি হয়।

4। অনুন্নত দেশে বৈদেশিক বাণিজ্য কেমন?

প্রতিকূল; রপ্তানি আয় সবসময়ই আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম থাকে।

5। উন্নয়নশীল দেশ কী?

যে দেশে অনুন্নত অর্থনীতির অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য থাকলেও পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

6। উন্নয়নশীল দেশ ও অনুন্নত দেশের মূল পার্থক্য কী?

উন্নয়নশীল দেশ পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে সম্পদ ব্যবহার করে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ধারা তৈরি করেছে।

7। উন্নয়নশীল দেশের একটি বৈশিষ্ট্য কী?

কৃষির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে দ্রুত শিল্পায়নের প্রচেষ্টা।

8। বাংলাদেশ কোন শ্রেণির দেশ হিসেবে বিবেচিত?

উন্নয়নশীল দেশ, কিছু আর্থসামাজিক সূচকের (জেন্ডার সমতা, শিশু-মাতৃমৃত্যু হ্রাস) উচ্চমানের কারণে।

9। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য কী কী?

তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য, চিংড়িমাছ, চা, চামড়া।

10। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার কোনটি?

যুক্তরাষ্ট্র; এরপরে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম।

11। বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির প্রধান দেশগুলো কী কী?

সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত।

12। বাংলাদেশের প্রধান আমদানি পণ্য কী কী?

মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, পেট্রোলিয়াম, ভোজ্যতেল, সার।

13। বাংলাদেশ পণ্য আমদানি করে এমন শীর্ষস্থানীয় দেশ কোনগুলো?

চীন ও ভারত।

14। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের পার্থক্য কী?

ঋণ সুদসহ বা সুদ ছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু অনুদান পরিশোধ করতে হয় না।

15। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কত?

১০২.৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

16। বাংলাদেশকে ঋণ ও অনুদান প্রদানকারী প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা কী কী?

বিশ্ব ব্যাংক, IMF, ADB, EU, জাতিসংঘ সংস্থাসমূহ, IDA।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও উন্নয়ন-প্রবৃদ্ধির ধারণা

17। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল ঐতিহাসিক কারণ কী?

প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও ২৪ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলের শোষণ।

18। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব কী ছিল?

জমিদারি প্রথা ও বাধ্যতামূলক নীলচাষের ফলে কৃষি ও কৃষকসমাজ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

19। ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের কারণ কী?

ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ফলে সস্তায় উৎপাদিত বস্ত্র দিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখল করে।

20। সুশাসনের দুই স্তম্ভ কী কী?

জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা।

21। কৃষিক্ষেত্রে অগ্রসরতার সবচেয়ে বড়ো প্রতিবন্ধক কী?

অবকাঠামোর দুর্বলতা— সেচ সুবিধা, বীজ-সারের অপর্যাপ্ততা ও বিদ্যুতের অভাব।

22। শিল্পক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার একটি বড় কারণ কী?

মৌলিক বা ভিত্তিমূলক শিল্পের (Basic Industries) অভাব।

23। আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?

দেশের ব্যাপক জনগণের নিরক্ষরতা।

24। জনসংখ্যাধিক্য থেকে সৃষ্ট বড় সমস্যা কী?

বেকারত্ব; শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ বেকার বা অর্ধবেকার।

25। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ কী কী?

বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, নদীভাঙন।

26। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কী?

কোনো দেশের জাতীয় আয়ের বার্ষিক বৃদ্ধির হার।

27। প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন এক নয় কেন?

প্রবৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সমান হলে মাথাপিছু আয় বাড়ে না, তাই শুধু প্রবৃদ্ধি হলেই উন্নয়ন হয় না।

28। অর্থনৈতিক উন্নয়ন কী?

মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধির সাথে দীর্ঘ সময় ধরে মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের বৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলে।

29। অর্থনীতির প্রকৃতিগত পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?

কৃষিপ্রধান অবস্থা থেকে শিল্পপ্রধান অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হওয়া।

30। উন্নত দেশ কাকে বলে?

যে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে ও দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত আছে, এমন দেশকে উন্নত দেশ বলে।

31। ২০২৩ সালের বিশ্বব্যাংক রিপোর্ট অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু আয় কত?

বার্ষিক ৩৯,০০০ থেকে ১,০২,৪৬০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।

32। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি কেমন?

শিল্পনির্ভর; কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত হয়েছে।

33। উন্নত দেশগুলোতে সঞ্চয়ের হার বেশি হওয়ার কারণ কী?

উচ্চ মাথাপিছু আয়ের কারণে ভোগব্যয়ের পরও উদ্বৃত্ত আয় সঞ্চয় হিসেবে জমা হয়।

34। উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য কী?

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম।

অর্থনীতির খাতসমূহ, দেশভিত্তিক তুলনা ও বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য

35। বিশ্বের যেকোনো অর্থনীতিকে প্রধান কয়টি খাতে ভাগ করা হয়?

তিনটি খাতে— কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত।

36। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মোট কতটি উপখাতে ভাগ করা হয়?

১৯টি প্রধান উপখাতে।

37। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে GDP-তে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতের অবদান কত?

কৃষিখাত ১১.৩০%, শিল্পখাত ৩৭.৬৫% এবং সেবাখাত ৫১.০৫%।

38। বিশ্বব্যাংক মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দেশগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করেছে?

তিন প্রধান ভাগে— উচ্চ আয়ের দেশ, মধ্য আয়ের দেশ ও নিম্ন আয়ের দেশ।

39। মধ্য আয়ের দেশ আবার কয় ভাগে বিভক্ত?

দুই ভাগে— উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ ও নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ।

40। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বাংলাদেশ কোন শ্রেণিতে?

নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ; মাথাপিছু আয় ২৮৬০ ডলার।

41। উচ্চ আয়ের দেশের উদাহরণ দাও।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, জাপান, সিঙ্গাপুর।

42। নিম্ন আয়ের দেশের উদাহরণ দাও।

নাইজার ও উগান্ডা।

43। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কী ধরনের অর্থনীতি বলা হয়?

কৃষিপ্রধান বা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি।

44। দেশের শ্রমশক্তির কত শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত?

প্রায় ৪৫.০০ শতাংশ।

45। বাংলাদেশের কৃষি এখনও কেন সম্পূর্ণ আধুনিক হয়ে ওঠেনি?

চাষাবাদের অধিকাংশ জমিতে এখনও সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ চলছে, ফলে উৎপাদনশীলতা কম।

46। বাংলাদেশের কৃষি কেন প্রকৃতিনির্ভর?

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৃষ্টিপাতের সময়-পরিমাণ কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

47। ১৯৮০-৮১ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে শিল্পখাতের অবদান কেমন পরিবর্তিত হয়েছে?

১৯৮০-৮১ সালে ১৭.৩১% থেকে বেড়ে ২০২২-২০২৩ সালে ৩৭.৬৫% এর বেশি হয়েছে।

48। বাংলাদেশের শিল্পখাতে কী নেই বললেই চলে?

মৌলিক ও ভারী শিল্প (Basic and Heavy Industries)।

49। বাংলাদেশের প্রধান শিল্পগুলো কী কী?

সার কারখানা, চিনি ও খাদ্যশিল্প, বস্ত্রশিল্প, পাটশিল্প, চামড়াশিল্প, তৈরি পোশাকশিল্প।

50। জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের জনঘনত্ব কত?

প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১১৯ জন।

51। প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের অপূর্ণ ব্যবহারের কারণ কী?

জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় তাদের মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি।

GNP, GDP ও মাথাপিছু আয়

52। মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) কী?

এক বছরে কোনো দেশের নাগরিকেরা দেশে ও দেশের বাইরে মোট শ্রম-মূলধন নিয়োগ করে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার আর্থিক মূল্য।

53। GNP পরিমাপের কয়টি পদ্ধতি আছে?

তিনটি— উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা পদ্ধতি, উৎপাদনের উপকরণের অর্জিত আয় পদ্ধতি ও সমাজের মোট ব্যয় পদ্ধতি।

54। চূড়ান্ত দ্রব্য কেন গণনা করা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্য নয় কেন?

শার্টের দামের মধ্যেই তুলা-সুতা-কাপড়ের দাম অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই সবগুলো পর্যায়ে গণনা করলে দ্বৈত গণনা হয়ে ভুল হিসাব হবে।

55। উৎপাদনের উপকরণের আয় পদ্ধতিতে GNP কীভাবে পরিমাপ হয়?

উৎপাদনের চারটি উপাদানের অর্জিত মোট খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফার সমষ্টি হিসাব করে।

56। সমাজের মোট ব্যয় পদ্ধতিতে ব্যয়কারীদের কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?

তিন শ্রেণিতে— সরকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণ।

57। GNP ও GNI (মোট জাতীয় আয়) এক নয় কেন?

মূলধন সামগ্রীর ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য কিছু অংশ GNP থেকে পৃথক করে রাখা হয়, যা উপাদানসমূহের আয়ে অন্তর্ভুক্ত হয় না।

58। মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) কী?

কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভিতরে বসবাসকারী সকল জনগণ (নাগরিক ও বিদেশি) কর্তৃক উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টি।

59। GNP ও GDP এর মূল পার্থক্য কী?

GNP শুধু দেশের নাগরিকদের উৎপাদন গণনা করে (দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক), আর GDP শুধু দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যকার উৎপাদন গণনা করে (নাগরিক বা বিদেশি যে-ই হোক)।

60। GNP ও GDP এর সম্পর্ক কী সংকেতে প্রকাশ করা যায়?

GNP = GDP + (X-M), যেখানে X = বিদেশে অবস্থানরত দেশি জনগণের আয় এবং M = দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের আয়।

61। মাথাপিছু আয় কী?

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়; মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায়।

62। মাথাপিছু আয় বাড়লেই কি জীবনযাত্রার মান বাড়ে?

না, দ্রব্যমূল্যও একই হারে বাড়লে প্রকৃত আয় বাড়ে না, তাই জীবনযাত্রার মান একই থাকে।

63। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত ছিল?

২,৭৩,০০০ টাকা বা ২,৭৪৯ মার্কিন ডলার।

64। জাতীয় আয়ের অসম বণ্টনে মাথাপিছু আয়ের কী সমস্যা দেখা দেয়?

মাথাপিছু আয় একটি গড় মান হওয়ায় অসম বণ্টনে বেশিরভাগ মানুষের প্রকৃত আয় এই গড়ের চেয়ে কম হয়, ফলে জীবনযাত্রার প্রকৃত উন্নতি হয় না।

অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি অধ্যায়ের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

অনুন্নত-উন্নয়নশীল দেশ ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক

1। অনুন্নত দেশ দারিদ্র্যের চক্রে আবর্তিত হয় কীভাবে— ব্যাখ্যা করো।

কম মাথাপিছু আয়ের কারণে জনগণের প্রায় পুরো আয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ভোগেই ব্যয় হয়ে যায়, ফলে সঞ্চয় ও মূলধন গঠন কম হয়, বিনিয়োগ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না এবং বেকারত্ব বাড়ে, যা আবার মাথাপিছু আয় কমিয়ে দেয়, এভাবে একটি দুষ্টচক্রে দেশটি আবর্তিত হতে থাকে।

2। বাংলাদেশ একটি ঘাটতির দেশ হিসেবে পরিচিত কেন— ব্যাখ্যা করো।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দীর্ঘ সময় ধরেই আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম থেকেছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনে সবসময় একটি ঘাটতি থেকে যায়, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে এই ঘাটতি কমে আসছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও উন্নয়ন-প্রবৃদ্ধির ধারণা

3। ঔপনিবেশিক শাসন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল কারণ— ব্যাখ্যা করো।

প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও বাধ্যতামূলক নীলচাষের মাধ্যমে কৃষি ধ্বংস করা হয় এবং সস্তা ব্রিটিশ বস্ত্রের কারণে দেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যায়, এরপর পাকিস্তান আমলেও বৈষম্যমূলক নীতির শিকার হয়ে বাংলাদেশ একটি পরনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করে, তাই এই দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শোষণই বর্তমান অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল কারণ।

4। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এক নয়— উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

যদি কোনো দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২% হয় এবং জনসংখ্যাও ২% হারে বৃদ্ধি পায়, তাহলে মাথাপিছু আয় একই থাকবে এবং প্রকৃত উন্নয়ন ঘটবে না; কিন্তু প্রবৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হলে এবং মূল্যস্তর স্থিতিশীল থাকলে মাথাপিছু প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পাবে, যাকেই প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা যায়, তাই শুধু প্রবৃদ্ধি হলেই তা উন্নয়নের প্রতিশব্দ নয়।

অর্থনীতির খাতসমূহ, দেশভিত্তিক তুলনা ও বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য

5। শুধু মাথাপিছু আয় দিয়ে একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন অবস্থা বোঝা যায় না কেন— ব্যাখ্যা করো।

একটি দেশ উন্নত না উন্নয়নশীল তা নির্ধারণে অর্থনীতির প্রকৃতি (কৃষিপ্রধান নাকি শিল্পায়িত), সাক্ষরতার হার, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়, শুধু মাথাপিছু আয় এই সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে পারে না।

6। বাংলাদেশের কৃষিখাত এখনও দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

কৃষিখাত শুধু খাদ্যশস্য উৎপাদন করে না, দেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ এখানে নিয়োজিত এবং পাট-চা-চামড়ার মতো শিল্পের কাঁচামালও কৃষি থেকে আসে, তাই GDP-তে সরাসরি অবদান কম হলেও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে এর ভূমিকা অপরিহার্য বলে একে এখনও গুরুত্বপূর্ণ খাত মনে করা হয়।

GNP, GDP ও মাথাপিছু আয়

7। GNP পরিমাপে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্যের হিসাব করা হয় কেন— ব্যাখ্যা করো।

তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড় এবং কাপড় থেকে শার্ট তৈরির প্রতিটি ধাপে দাম হিসাব করলে শার্টের দামের মধ্যেই আগের সব উপকরণের দাম দ্বিতীয়বার গণনা হয়ে যাবে, এই দ্বৈত গণনা এড়াতে শুধু ভোগকারীর কাছে বিক্রিত চূড়ান্ত দ্রব্যের দামই হিসাব করা হয়।

8। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলেই জীবনযাত্রার মান বাড়ে না কেন— ব্যাখ্যা করো।

মাথাপিছু আয়ের সাথে দ্রব্যমূল্যও একই হারে বৃদ্ধি পেলে মানুষ আগের সমান পরিমাণ দ্রব্য-সেবাই কিনতে পারবে, অর্থাৎ আর্থিক আয় বাড়লেও প্রকৃত আয় বাড়েনি, তাই শুধু মূল্যস্তর স্থির থাকলে বা তার চেয়ে কম হারে বাড়লেই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে জীবনযাত্রার মান বাড়ায়।

আরও পড়ুন

SSC বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-এর সব পোস্ট

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜