● বিসিএস লিখিত: বাংলাদেশ বিষয়াবলি

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের কৌশল ও অগ্রগতি | বিসিএস লিখিত

📌 এক নজরে

এসডিজির লক্ষ্যগুলো অর্জনে বাংলাদেশ কী কৌশল নিয়েছে এবং কতদূর এগিয়েছে, তা লিখিত পরীক্ষায় লক্ষ্যভিত্তিকভাবে লিখতে হয়। এই পোস্টে দারিদ্র্য বিলোপ সহ একেকটি লক্ষ্যের কৌশল ও পরিসংখ্যানভিত্তিক অগ্রগতি সাজানো আছে।

দারিদ্র্য, ক্ষুধা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা

১। দারিদ্র্য বিলোপ: জাতীয় উচ্চ দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর অনুপাতের ভিত্তিতে জাতীয় দারিদ্র্য পরিমাপ করা হয়। ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার কমে হয় ২৪.৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ এবং অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬ শতাংশ। সরকার দেশে দারিদ্র্যের বহুমাত্রিক প্রকৃতি চিহ্নিত করে তার বিলোপ সাধনে ত্বরান্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অভিবাসী সহিষ্ণু প্রবৃদ্ধি অর্জনসহ প্রয়োজনীয় নীতিমালা গ্রহণ করেছে। এসডিজি ১ অর্জনে যেসব প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য কর্মসূচির বিস্তার, জেন্ডার সমতা অর্জন, গ্রামীণ রূপান্তর জোরদারকরণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উৎসাহিতকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ।

২। ক্ষুধা মুক্তি: অপুষ্টিরোধে বাংলাদেশ কিছুটা অগ্রগতি সাধন করেছে। ২০১৭ সালে দেশে অপুষ্টির শিকার জনগোষ্ঠীর হার নেমে আসে ১৪.৭ শতাংশ। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুর ওজন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০০৭ সালে এ হার ছিল ৪১ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে তা ২২.৬ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৫ সালে সরকার জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে, যা ক্ষুধা মুক্তি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৩। সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ: দেশে মাতৃমৃত্যুর হার নিরবিচ্ছিন্নভাবে স্থিতিশীলভাবে কমে এসেছে এবং দক্ষ ধাত্রী ও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর হার ২০২৩ সালে প্রতি হাজারে ২৫ জনে নেমে এসেছে। যা ১৯৯৫ সালে ছিল ১২৫ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুমৃত্যুরোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মাইলফলক অর্জনের পরিক্রমায় অবস্থান করছে।

৪। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা: ব্যানবেইস ও MICS-এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরে জেন্ডার সমতা সূচকে (জিপিআই) বাংলাদেশ নির্ধারিত মানদণ্ড (১)-এর চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলগামিতা বাড়াতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্রদান এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তি ও টিউশন ফি কর্মসূচি। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে জিপিআই সূচকে উন্নতি করার জন্য সরকার এ ধরনের শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পূর্ণবয়স্ক সাক্ষরতার হার লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন

  1. ১জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন: ২০২৪ সালের বৈশ্বিক জেন্ডার গ্যাপ (Global Gender Gap Index-GGGI) সূচকে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯তম। তাছাড়া রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে টানা নয়বারের মতো বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। বিষয়টি নারীর ক্ষমতায়নে জোরালো অগ্রগতি নির্দেশ করে।
  2. ২নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন: ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে ৪৭.৯ শতাংশ মানুষ নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ পরিষেবার সুযোগ পেয়েছে এবং ৯৮.৫ শতাংশ থানার সদস্যদের ক্ষেত্রে অধিকতর উন্নত উৎস থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে।
  3. ৩সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া বিদ্যুতের প্রায় ৬৮.৮৪ শতাংশ উৎপাদিত হয় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ১৯.০৭ শতাংশ উৎপাদিত হয় বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল দিয়ে। এক্ষেত্রে জলবিদ্যুতের অবদান মাত্র ১.০৩ এবং সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসে মাত্র ০.১৭ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানি ব্যবহারের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসডিজির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাত্র ৩.১৫ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদিত হতো নবায়নযোগ্য উৎসের মাধ্যমে। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের পরিমাণ ১৩.৩১ মেগাওয়াট। এ অভীষ্টের অধীনে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হলো শতভাগ জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। সর্বশেষ হালনাগাদ উপাত্ত অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। ২০০০ সালে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ছিল ৭.২৪ শতাংশ মানুষের কাছে।
  4. ৪স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং শোভন কাজ: স্থিতিশীল উচ্চ প্রবৃদ্ধির হাত ধরে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে সফলভাবে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তিনটি সূচকেই প্রয়োজনীয় মান অর্জনে সক্ষম হয়েছে। দেশে মাথাপিছু প্রকৃত গড় বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি লক্ষণীয়।
  5. ৫শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো: দেশের জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মূল্য সংযোজনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে সরকার ক্রমাগতভাবে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। প্রবৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে প্রধান ভূমিকা পালন করে বড় ও মাঝারি শিল্পগুলো। দেশের টেলিযোগাযোগ পদ্ধতির আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সফলভাবে প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ করে। দেশের প্রায় শতভাগ মানুষ টু-জি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। ২০২০ সালে এ মাইলফলক অর্জনের লক্ষ্য ছিল, যা ২০১৯ সালের জুনেই অর্জিত হয়েছে। একই সময়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি সংযোগের হার ৭৯ শতাংশে উন্নীত হয়।
  6. ৬অসমতার হ্রাস: বাংলাদেশে ভোগের অসমতার তুলনায় আয়ের অসমতার মাত্রা অনেক বেশি এবং সময়ের সঙ্গে আয় বৈষম্য বাড়লেও ভোগ বৈষম্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। অসমতা কমানোর জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) ২০২০ সালে শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দেশের মোট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে মোট জিডিপির ১.২ ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ২.৩ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। অসমতা কমানোর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করা এবং এ লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অনেকগুলো উন্নয়ন কৌশল এসডিজির সঙ্গে সমন্বয় করেছে, যার উপর ভিত্তি করে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট পর্যায়গুলো ২০৩০ সাল পর্যন্ত অষ্টম ও নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আবর্তিত হবে।
  7. ৭টেকসই শহর ও জনপদ: শহরের পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে নগর পরিকল্পনার মৌলিক সুপারিশগুলো দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ ও দীর্ঘমেয়াদি বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে সন্নিবেশ করা হয়েছে। টেকসই নগর ও জনপদ গড়ে তোলার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০৩৫ সাল নাগাদ দেশের মোট জনসমষ্টির প্রায় অর্ধেক শহরে বাস করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে নগরাঞ্চলে বসবাসকারীদের ৬০ শতাংশই বাস করে চারটি বড় মহানগরে। এগুলো হলো: ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী। ঢাকা বর্তমানে মারাত্মক বায়ুদূষণের শিকার। এছাড়া জলাবদ্ধতা, বিলম্বে বর্জ্য অপসারণ ও যানজট সমস্যা তো আছেই।

পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন

  1. ১পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন: ভোগের পর্যায়ে খাদ্যক্ষতি ও অপচয় বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ পর্যায়ে খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ ৫.৫ শতাংশ। ৩ শতাংশ অপচয় হয় ক্রয় ও প্রস্তুতকরণ পর্যায়ে; ১.৪ শতাংশ অপচয় হয় পরিবেশন পর্যায়ে এবং ১ দশমিক ১ শতাংশ অপচয় হয় খাবারের থালায়। পাশাপাশি ফসল উত্তোলন ও উত্তোলন পরবর্তী পর্যায়ে নষ্ট হয় প্রায় ১০ শতাংশ ফসল।
  2. ২জলবায়ু কার্যক্রম: নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশে প্রতি লাখ মানুষের বিপরীতে মৃত্যুবরণ, নিখোঁজ ও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা বছরের পর বছর ধরে কমতির দিকে। বর্তমানে প্রতি লাখে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১২,৮৮১ জন। ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দেড় হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘দুর্যোগঝুঁকি প্রশমনে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০’ ও অনুস্বাক্ষর করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সঙ্গে সংগতি রেখে সরকার ‘বাংলাদেশের দুর্যোগঝুঁকি প্রশমন কৌশল (২০১৬-২০৩০)’ প্রণয়ন করেছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রশমনে গৃহীত National Determined Contribution (NDC) প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্ব-উদ্যোগে কার্বন নির্গমন ৫ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আরও ১৫ শতাংশ কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অধিকন্তু সরকার জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে সবুজ জলবায়ু তহবিল (Green Climate Fund-GCF) থেকে অর্থায়ন পেয়েছে। এ তহবিল পরিচ্ছন্ন (ধোঁয়াবিহীন) রান্না কর্মসূচি, উপকূলীয় এলাকার অধিবাসীদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ুর অভিঘাতসহিষ্ণু অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। তবে দুই দশক ধরে এসবক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
  3. ৩জলজ জীবন: বঙ্গোপসাগরের ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ অঞ্চলে চারটি এলাকা চিহ্নিত করে বাংলাদেশ সফলভাবে উপকূলীয় সংরক্ষিত এলাকার আওতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এ সকল এলাকায় সমুদ্রসম্পদ সুরক্ষা ও মাছ ধরার অবৈধ নৌযান পাকড়াও করার পাশাপাশি উপকূলে সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ ও সরঞ্জাম প্রয়োজন। ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোর সুরক্ষায়ও তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে যখন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, তখন এসব জেলে সম্প্রদায়ের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
  4. ৪স্থলজ জীবন: বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় অর্ধেক নিমজ্জিত ভূমি। জলাভূমি বাদে মোট আয়তনের ১৫ শতাংশ বনভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত। ২০৩০ সাল নাগাদ বনভূমির পরিমাণ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল বনভূমিতে বৃক্ষের ঘনত্ব বাড়ানো। সাম্প্রতিক এক হিসাবে দেখা গেছে, সংরক্ষিত এলাকায় স্থলজ ও স্বাদুপানির জীববৈচিত্র্যের অনুপাত ক্রমাগত বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে শকুনের জন্য অভয়াশ্রম স্থাপন করেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
  5. ৫শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা ও তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মতো উদ্যোগ এসডিজি ১৬ অর্জনে সরকারের প্রচেষ্টার পরিচয় বহন করে। দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। মানব পাচারের সংখ্যাও কমে এসেছে। মানব পাচারের সংখ্যাও ২০১৫ ভিত্তি বছরের তুলনায় কমে এসেছে। সরকারি দপ্তরগুলোতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, সিটিজেন চার্টার ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল চালু করা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় অভিযোগ নিষ্পত্তি পদ্ধতি (জিআরএস) অনুসরণ করা।
  6. ৬টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব: এসডিজি-১৭ অভীষ্টের বেশিরভাগ সূচকের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে এবং এক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে রয়েছে। জিডিপির অনুপাতে যে মাত্রায় প্রয়োজনীয় সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব প্রাপ্তি তার চেয়ে বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহায্য লাগবে?
BCS Journey Support
● Online
×
💬Messenger ✈Telegram
BCS JOURNEY
BCS Journey
চ্যাট শুরু করুন ➜